

মো: মাসুদ মিয়া ,কচুয়া:
জীবনযুদ্ধে হার না মানা এক যোদ্ধা আজগর হোসেন (৩০)। তিনি একজন দিনমজুর। দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন একটি হাত। পুরো পরিবার এখন নির্ভরশীল তার এক হাতের ওপর। ঘরে ২ মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আজগর হোসেনের সংসার। তার আয়ে কোনোরকম চলছে পরিবারটি।
এলাকায় কাজ না থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাঁচাইয়া মেসার্স এসএবি বিকস ফিল্ডে শ্রমিকের কাজ করের তিনি। ওই ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে চলে পরিবারটি।
জানা যায়, ২০ বছর আগে ইটভাটায় এক দুর্ঘটনায় আজগর হোসেন হারিয়ে ফেলেন তার ডান হাতটি। এক হাত না থাকলেও জীবন সংগ্রামে ঠিকে থাকার প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কোনো ভিক্ষাবৃত্তি না করে আত্মনির্ভরশীল হতে কাজ করছেন সে। তবে এমন বাস্তবতায় তিনি থেমে থাকেননি। এক হাত নিয়েই ধরেন সংসারের হাল। যদিও আগের চেয়ে তার উপার্জন কমেছে, তবুও পরিবারকে বাঁচাতে দিন রাত পরিশ্রম করে চলছেন আজগর হোসেন। আজগর হোসেন নোয়াখালী জেলার সুবর্নচর উপজেলার চররশিদ গ্রামের অধিবাসী আব্দুল মালেকের ছেলে। বর্তমানে সে কচুয়ার বাচাঁইয়া ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছেন।
শ্রমিক মো. আজগর হোসেন বলেন, আমার জায়গা জমি বলতে ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই। ২০০৫ সালে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়ে দূর্ঘটনায় আমার ডান হাতটি নষ্ট হয়ে কাটা পড়ে । আমি এই এক হাত দিয়ে ইটভাটায় মাটি কাটা, ইট সারিবদ্ধ সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকি। তবে আমার এক হাত নেই বলে আগের মতো কেউ আর কাজে নিতে চায় না। শরীরে যতক্ষণ দম আছে এক হাতেই কাজ করে যাব, তবুও ভিক্ষার মতো নিচু কাজ করব না।
অন্য শ্রমিকরা বলেন, আজগর হোসেন ও তার পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এক হাতের ওপর চলছে পুরো সংসার। মেয়ে ও পরিবারের খরচ যোগান দিতে না পারায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এ বিষয়ে মের্সাস এসএবি বিকস্ এর পরিচালক মো. এমরান হোসেন জনি বলেন, এ ইটভাটায় প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করে। কেউ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন। তারই মধ্যে আজগর হোসেন তার এক হাত নেই, তবুও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তার মতো অন্যরা এভাবে কাজ করলেও হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি রোধ করা যেত। আজগর হোসেন অনেক মানুষের অনুপ্রেরনা।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার বিশেষ অভিযানে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নামা শ্রীপুর দক্ষিণ রামপুর এলাকা হতে ২৫,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত বুধবার (৮ নভেম্বর) রাতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নামা শ্রীপুর দক্ষিণ রামপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২৫,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলোঃ ১। কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার দক্ষিণ বাগালপুর গ্রামের মৃত আবু তাহের এর ছেলে মোঃ নুর ইসলাম (৪২) এবং ২। একই থানার টংগীর পাড় গ্রামের মৃত ছফি আলী এর ছেলে মোঃ ফারুক হোসেন (২৬)।
র্যাব জানান,তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে।গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সপ্তাহব্যাপী সমরাস্ত্র প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কুমিল্লা অঞ্চলের উদ্যোগে ২৪ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত কুমিল্লা বিমানবন্দর এলাকায় সমরাস্ত্র প্রদর্শনী শুরু হতে যাচ্ছে।
আগামী ২৪ মার্চ বেলা ১১ টায় সপ্তাহব্যাপি এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন জিওসি ৩৩ পদাতিক ডিভিশন এবং এরিয়া কমান্ডার বিএ-৪৩২৩ মেজর জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, বিএসপি, এনডিসি, পিএসসি।
উক্ত প্রদর্শনী সর্বসাধারণের জন্য আগামী ২৫ ও ২৬ মার্চ দুপুর ২ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এবং ২৭ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ ২০২৪ তারিখ সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন অত্যাধুনিক স্টল স্থাপন করা হবে।
এ স্টলগুলোতে সাঁজোয়া যান, কামানসহ সেনাবাহিনীর বিবিধ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হবে।
পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর অবদান, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও সেনাবাহিনীর নানাবিধ কার্যক্রম বিষয়ক স্টলও রাখা হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও দৈনিক আজকের জীবন কুমিল্লা প্রতিনিধি সাংবাদিক নেকবর হোসেন এর বাবা বিশিষ্ট সমাজসেবক মো.আবুল হোসেন এর দশম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৩০ নভেম্বর।
মো.আবুল হোসেন হঠাৎ করে ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৬৪ বছর বয়সে দুনিয়ার সকল মায়া ত্যাগ করে আল্লাহর ডাকে চলে গেছেন। তিনি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এর ১৩নং ওয়ার্ডের একজন স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। দক্ষিন চর্থার স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান সহ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। তিনি সততা আর সাদামাটা জীবন কাটিয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছেন।
কর্মজীবনে মো. আবুল হোসেন একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। অবসর সময় তিনি নানা ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন নিজেকে।
মো. আবুল হোসেন এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার পরিববারে পক্ষ থেকে তার নিজ এলকায় বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসায় কোরআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া তিনটি এতিমখানাতে ছাত্রদের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হবে। এছাড়াও সমাজসেবামূলক সংস্থা মুভ ফর চেঞ্জ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাদ আসর দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রয়াত মো.আবুল হোসেনের রূহের মাগফেরাতের জন্য দোয়া চেয়েছেন তাঁর স্বজনরা।
মন্তব্য করুন


মো:
মাসুদ রানা,কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
মুড়ি ভাজার কারখানা চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা গ্রাম। মাহে রমজানকে সামনে রেখে দেশীয় মুড়ি ভাজার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই গ্রামের পালবাড়ির বাসিন্দারা। এ যেন কারিগরদের ধম নেয়ারও সময় নেই।
সরেজমিনে কাদলা গ্রামের পাল বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন মুড়ি ভাজার কারিগরদের সাথে কথা হয়। ওই গ্রামের বিমল পাল,শ্যামল পাল, যুবরাজ,অমর পাল ও অজয় পাল জানান,মুড়ি ভাজা আমাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্যগত পেশা হিসেবে মুড়ি ভাজার কাজে আছি। সংসারের হাল ধরার একমাত্র উপার্জনক্ষন ব্যক্তি হিসেবে তারা বংশগত এ পেশার উপরেই নির্ভরশীল রয়েছেন বলেও তারা জানান।
তারা আরো জানান, মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয়। বর্তমান যুগে মুড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় তাদের এখানে আগের মতো এখন আর কেউ মুড়ি ভাজতে আসে না। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ কেজি মুড়ি ২০ টাকা প্রতি কেজি ধরে ভাজা হয় প্রতিটি পরিবারে। প্রতি কেজি মুড়ি তারা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি করেন। এক সময় এ গ্রামে ২৫টি পরিবার মুড়ি ভাজার কাজে থাকলেও বর্তমানে ৩/৪টি পরিবার মুড়ি ভাজার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় এবং আধুনিক মেশিনে মুড়ি ভাজায় হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। তবে রমজান আসলে একটু চাহিদা থাকলেও বছরের অন্যান্য সময় অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয় তাদের। মুড়ি ভাজতে লবন, বালু লাগলেও এতে সহায়ক হিসেবে মাটির চুলা, লাকরি ও মাটির কড়াইয়ে মুড়ি ভাজা হয়। এতে এক একটি পরিবারের ৪ থেকে ৫ জন সদস্য সার্বক্ষনিক মুড়ি ভাজার কাজে সহায়তা করে থাকেন।
এমনি ভাবে কাদলা পাল বাড়ির অজয় পাল, যুবরাজ পাল, বিমল পাল, দিলিপ পাল, বিষ্ণু পদ পাল, বিমল পালের পরিবারও এ মুড়ি ভাজার কাজ করে তাদের সংসার চালিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তবে তারা জানান, এ পেশায় আগের মতো চাহিদা না থাকায় এবং লোকজন আগের মতো মুড়ি না ভাজায় বাধ্য হয়ে বংশগত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে অনেকে।
তাদের দাবি বাপ-দাদার ঐতিহ্যগত এ পেশা বদল করতে চাইলেও পারছে না এবং কাছা-কাছি এলাকায় বৃহৎ বাজার না থাকায় ইচ্ছা করলেও ব্যবসা করতে পারছে না তারা।
বিমল পাল,শ্যামল পাল ও অমর পাল জানান, চলতি বছর এক মন ধান ১৭-১৮শ টাকায় ক্রয় করতে হয়। মুড়ির দাম কম হওয়ায় এবং আগের মতো মানুষের হাতে ভাজা মুড়ি ক্রয়ে আগ্রহ না থাকায় এ পেশায় আমাদের এখন আর পোষে না। আমরা বাপ দাদার ঐতিহ্য পেশায় ধরে রাখলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের ছেলেরা এ পেশায় থাকবে না। তারা আরো জানান, ইচ্ছা করলেই এ পেশা বদল করা যায় না। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা এনজিও সংস্থার ঋণ সহায়তা নিয়ে এ পেশাকে এগিয়ে নিতে চান কাদলা গ্রামের মুড়ি ভাজার কারিগড়রা ।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল,প্রতিবেদক:
কুমিল্লা
শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলে পিঠা উৎসবের আয়োজন
করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসবকে ঘিরে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উক্ত পিঠা উৎসবে সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পদচরণায় মুখরিত হয়ে ওঠে স্কুল প্রাঙ্গণ।
এ
পিঠা উৎসবে প্রায় ৩০ এর অধিক স্টলের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯ টায় উৎসবমুখর পরিবেশে সাংস্কৃতিক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অধ্যাপক জামাল নাসেরের সভাপতিত্বে কুমিল্লা মর্ডান হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কে এম আখতার হোসেনের উপস্থিতিতে পিঠা উৎসবের সূচনা করা হয়।
শিক্ষার্থীরা
নানা ধরণের মুখরোচক পিঠা বানিয়ে নিয়ে এসে সেগুলোকে স্টলে সাজিয়ে পরিবেশন করে।
কয়েক ঘন্টা ব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে চলে শিক্ষক শিক্ষার্থীবৃন্দের অংশগ্রহণে কেনা বেচা।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা, কচুয়া প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের কচুয়ায় সেচ কাজের সুবিধার্থে খাল পুন:খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কৃষকরা আবারো নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে এর ফলে জমিতে সেচকাজ পরিচালনা সহজলভ্য হবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কৃষি মন্ত্রনালয়ের আওতায় কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পালাখাল মডেল ইউনিয়নের মনসামূড়া সুন্দরী খালের ১.৭ কিলোমিটার দৈঘ্যের পুন:খনন কাজ শুরু হয়। যার ৮মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার গভীরতা হবে। এছাড়াও ওই ইউনিয়নের মনসামূড়া মন্দির থেকে পালাখাল পর্যন্ত খাল পুন:খননের কাজ শুরু করা হয়েছে।
ভূঁইয়ারা গ্রামের কৃষক সফিউল্যাহ,ফারুক মিয়া,জমির হোসেন ও কবির হোসেন জানান, এই জনগুরুত্বপূর্ণ খালের পানির ওপর এখানকার ইরি-বোরো ব্লকের প্রায় এক হাজার একর জমি নির্ভরশীল। এই খালটি কখনও পুনঃখনন করা হয়নি। ফলে খরস্রোতা খালটি দুইপাশের মাটি জমে মরে যায়। পানির অভাবে অনেক জমির বোরো চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। খালটি পুন:খননে কাজ শুরু করায় খুশি তারা।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান জয় বলেন,এ অঞ্চলের কৃষকরা রবি শস্যের পাশাপাশি বোরো ও সবজির আবাদ করে বেশি। তাই পানির পরিমান বেশি প্রয়োজন। খালটির নাব্যতা সংকটের কারণে চাষীরা চরম সংকটের মধ্যে দিন পার করছিলেন। তবে, খাল খনন হয়ে গেলে ও পানির প্রবাহ ঠিক থাকলে আগামীতে আবারও ক্ষেতগুলো বছরজুড়ে ফসলে ভরে থাকবে। কৃষকের মুখেও হাসি ফুটবে। দীর্ঘদিন পরে হলেও বর্তমান সরকারের মহতী উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়েছে। খাল খননের ফলে পাঁচ শতাধিক কৃষক উপকৃত হবেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুমিল্লা বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুবায়েত ফয়সাল আল মাসুম বলেন,এ খাল খননের মাধ্যমে কৃষকরা প্রধান প্রধান শস্য (রবিশস্য) গুলো আছে সেগুলো পানি সেচের প্রয়োজন হয় এটা কৃষকরা সহজেই পাবে। তাছাড়া আমন মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের অভাবে অনেকে দেরীতে আমন চাষ করে থাকেন কিন্তু খাল খননের পলে সহজেই পানিগুলো সরে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হাসান বলেন, এ খালের প্রায় ১. ৭ কি.মি. দৈঘ্য যার ৮ মিটার প্রস্থ ও ৩ মিটার গভীরে খালটি সুন্দরী খালের সাথে সংযোগ হবে। দীর্ঘদিও ধরে চরতে থাকা কৃষকের কান্নার আরেকনাম জমিতে জলাবদ্ধতা সেটি নিরসন হবে। পাশাপাশি খালের পানির পর্যাপ্ততা এবং প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেবে। সেচ কাজের জন্যে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের নির্ভরতা কমবে। উপকৃত হবে কৃষক পরিবার ও বৃদ্ধি পাবে কৃষির আবাদ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলায় সংসারের খরচ চাওয়ায় মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৮ জুন) রাতে উপজেলার সাতানি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত মঞ্জুরা বেগম (৬৫) ওই গ্রামের শান্তি মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তি মিয়ার দুই ছেলে তিন মেয়ে। ছোট ছেলে প্রবাসী বাবুল মিয়া বাহরাইনে থাকেন। আর বড় ছেলে নবীর হোসেন স্থানীয় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। শান্তি মিয়ার বয়স হয়েছে, উপার্জন করতে পারেন না। সাংসারিক খরচের জন্য তাকিয়ে থাকেন দুই ছেলের দিকে। ছোট ছেলে প্রবাস থেকে মাস শেষে টাকা পাঠালেও বড় ছেলে খুব একটা সংসার খরচ দেন না। এতে করে কয়েকদিন পর পরই বড় ছেলে নবীর হোসেনের সঙ্গে তার বাবা মায়ের ঝগড়া লাগতো। এর আগেও কয়েকবার সাংসারিক খরচ নিয়ে নবীর হোসেনের সঙ্গে তার মায়ের কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয়রা বসে সমস্যার সমাধান করেন।
মঙ্গলবার রাতে সংসারের খরচ চাওয়ায় নবীর হোসেন তার মাকে গালিগালাজ করেন। শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে চেয়ার দিয়ে মাকে মারধর করতে শুরু করেন। এই সময় তার বাবা শান্তি মিয়া বাধা দিলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মা মঞ্জুরা বেগমকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে মা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাতেই ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সকালে পুলিশ এসে মঞ্জুরা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
কুমিল্লা তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষ্ণ কান্তি দাস বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আমরা পাইনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মূল ঘটনা জানা যাবে। আমরা এই বিষয়ে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় সাদ্রা
দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোববার (১৬ জুন)
ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।
গ্রামগুলোতে ঈদ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ
বিরাজ করছে।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, শাহরাস্তি
এবং মতলব উত্তর উপজেলা মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত গ্রামে আগাম রোজা ও ঈদ উদযাপন হয়ে আসছে।
জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবসহ
আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে এসব গ্রামে।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পির মাওলানা ইসহাক (রহ.) প্রথমে তার নিজ
গ্রামে এবং পরে তার অনুসারীরা এমন নিয়ম মেনে রোজা রাখা শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায়
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।
সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠের পিরজাদা জাকারিয়া
চৌধুরী আল মাদানী জানান, দরবার শরিফ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে আমি
নিজেই ইমামতি করবো।
সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা
মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর
রশিদ ও ফরিদগঞ্জ থানার ওসি সাইদুল ইসলাম জানান, ঈদুল ফিতর ও
ঈদুল আজহা এসব গ্রামে একদিন আগে হয়ে আসছে। ঈদের জামাতসহ সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুর নাম সিমরান (৬ মাস)। সে কুমিল্লা নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিমুল মিয়ার কন্যা। এই সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে সিমরানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত ও সময়মতো টিকা গ্রহণ না করানো এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই মূলত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আগের তুলনায় বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চিকিৎসকরা শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি বা র্যাশ, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে একুশে পরিবহনের একটি বাস উল্টে যায়। সায়েদাবাদ টোল প্লাজার অবকাঠামোতে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে যায়। পরে বাসটি মেরামত করে বাস টার্মিনালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বাসটির চালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জানা যায়, একুশে পরিবহন নামের বাসটি ব্রেক ফেল করে টোল প্লাজার অবকাঠামোতে ধাক্কা দেয়। একপর্যায়ে বাসটি উল্টে যায়।
একুশে পরিবহনের এক কর্মী জানিয়েছেন, বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। দুপুর ২টার কিছু আগে বাসটি শনিরআখড়ার একটি গ্যারেজ থেকে মেরামত শেষে বাস টার্মিনালের দিকে নেয়া হচ্ছিল।
এরপর সায়েদাবাদ টোল প্লাজার কাছাকাছি আসলে বাসটি ব্রেক ফেল করে টোল প্লাজার অবকাঠামোতে ধাক্কা লাগে। একপর্যায়ে উল্টে যায় বাসটি। এতে বাসচালকের হাতে প্রচণ্ড আঘাত পান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার কারণে টোল প্লাজার চার লেনের একটি লেন বন্ধ হয়ে যায়। বাকি তিনটি লেন দিয়ে যানবাহন পারাপার হতে থাকে। ২ ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টার পরে বিকেল ৪টার দিকে রেকার দিয়ে বাসটি দুর্ঘটনা স্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন