

উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন থামিয়ে নিশ্চিত
দুর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা করেছেন এনামুল হক (৬৫) নামে দিনমজুর। এতে কয়েকশ যাত্রী প্রাণে
রক্ষা পেয়েছেন।
ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দিনাজপুরের
ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এনামুল হক ওই এলাকার পূর্ব
চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলওয়ের মধ্যবর্তী
স্থান পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায় এনামুল হক রেললাইনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী-ঢাকা
রেলপথের প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান। তাৎক্ষণিক তিনি আশপাশের লোকজনকে ডেকে রেলওয়ের
অফিসে ফোন করতে বলেন। সেই সঙ্গে দ্রুত পাশের একটি কলাবাগান থেকে কলার মোচা ভেঙে এনে
পাপড়ি (মোচার অংশ) লাঠিতে বেঁধে রেললাইনে দাঁড়িয়ে যান। পরে মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসে।
কিন্তু এনামুলের হাতে ‘লাল পতাকা’ ভেবে ট্রেনটি দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে
যায়।
প্রতিদিন ওই পথে ঢাকা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, পার্বতীপুর,
চিলাহাটিসহ উত্তরাঞ্চলে ১৫-২০টি ট্রেন যাতায়াত করেন। এনামুলের উপস্থিত বুদ্ধিতে কয়েকশ
যাত্রী ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে যান।
এদিকে এনামুল হকের কথায় ওই গ্রামের একরামুল হকের ছেলে শাহিনুর পার্বতীপুর
রেলওয়ে অফিসে ফোন করেন। খবর পেয়ে ৩০ মিনিট পর রেলওয়ের প্রকৌশলী টিম ও শ্রমিকরা এসে
বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে রেললাইন সম্পূর্ণ মেরামত সম্পন্ন
হয়েছে এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
মন্তব্য করুন


জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্ত করতে, রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে
লাশ উত্তোলন করা শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আজ রবিবার সকাল সাড়ে
৯টার দিকে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এ তথ্য জানান।
আজ
রবিবার ( ০৭ ডিসেম্বর ) সকাল থেকে মরদেহ উত্তোলনের
কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। মরদেহগুলো তোলার পর ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা নিয়ে আবার যথাযথ
প্রক্রিয়ায় দাফন করা হবে।
ছিবগাত
উল্লাহ বলেন, ‘এই কবরস্থানে যারা নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় শুয়ে আছেন, তাদের পরিচয় তখন
যাচাই-বাছাই করা হয়নি। তাদের পরিচয় উদঘাটন করা জাতির প্রতি আমাদের একটি দায়িত্ব। আজ
সেই মহান কাজের সূচনা হলো।’
জাতিসংঘের
মানবাধিকার সংস্থার (ওএইচসিএইচআর) মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস
ফন্ডিব্রাইডার ঢাকায় এসে পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এ ব্যাপারে অজ্ঞাত শহীদদের পরিবার
আবেদন করেছে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে এসব কাজ পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ
করে কবরস্থান থেকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।
সিআইডি
প্রধান বলেন, ‘লাশ শনাক্তের জন্য ইতিমধ্যে ১০ জন আবেদন করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা
করা হচ্ছে, এখানে শহীদের সংখ্যা ১১৪ জনের বেশি। প্রকৃত সংখ্যা লাশ উত্তোলনের পর জানা
যাবে।
তিনি
আরো বলেন, ‘লাশগুলোর পোস্টমর্টেম করা হবে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরে ডিএনএ
প্রোফাইল তৈরি করে ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে পুনঃদাফন করা হবে।
মো.
ছিবগাত উল্লাহ বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় শনাক্ত হলে, পরিবার চাইলে
লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ডিএনএ সংগ্রহের পর, যে কেউ আবেদন করলে সহজেই শনাক্ত
করা যাবে। সিআইডির হটলাইন নম্বরগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন।’
গত
৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১১৪টি মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ
দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের
পরিচয় শনাক্তের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত
১১৪ জন শহিদকে অজ্ঞাত পরিচয়ে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়া
শহরের বাইপাস সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাঁচযাত্রী নিহত হয়েছেন।
তবে নিহতদের নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
আজ
শনিবার ( ২১ ফেব্রুয়ারি ) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে শহরের বাইপাস সড়কের কুষ্টিয়া
স্টোরের সামনে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের
মধ্যে সিএনজির চালক, অপর একজন পুরুষ ও তিনজন নারী যাত্রী রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে
নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, সিএনজিটি শহরের কবুরহাট থেকে বাইপাস হয়ে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা
একটি ট্রাক সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন
এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর
পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার
পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
২৫০
শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, দুপুর
২টা ২৫ মিনিটের দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুজন পুরুষের মরদেহ হাসপাতালে এসে পৌঁছেছে।
কুষ্টিয়া
হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি
নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে,
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মন্তব্য করুন


হুমায়ুন
কবীরের বাড়িতে চলছে বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য অনুদানে পাওয়া টাকার গণনা। শনিবার, ৬ ডিসেম্বর
অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনই মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে বাবরি মসজিদের ভিত্তি প্রস্থর
স্থাপন করেন হুমায়ুন কবীর।
সেইদিনই
তিনি জানিয়েছিলেন যে, বাবরি মসজিদ তৈরি করতে খরচ হবে আনুমানিক ৩০০ কোটি টাকা। তবে টাকা
নিয়ে চিন্তা করছেন না হুমায়ুন, কারণ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তিই নাকি ৮০ কোটি
টাকা অনুদান দেন বাবরি মসজিদ তৈরির জন্য। আরও বহু মানুষ টাকা দিচ্ছেন। এরই মধ্যে অনলাইনে
প্রায় ৯৩ লাখ টাকা এবং নগদ অর্থে ১১টি ট্রাংকভর্তি অর্থ জমা পড়েছে নির্মাণ ব্যায়ের
জন্য। এত বিপুল পরিমাণ অর্থ নির্ভুলভাবে গোনার জন্য ৩০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং
আধুনিক মেশিনের ব্যাবহার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন,পুরো গোনার কাজ চলছে সিসিটিভির
কড়া নজরদাড়িতে।
বিধায়ক
হুমায়ুন কবির জানান, স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই টাকা গোনার সম্পূর্ণ কাজ ফেসবুকে লাইভে
দেখিয়েছি। তিনি বলেন,মানুষের দানেই তৈরি হবে আমার বাবরি মসজিদ। কারো রাজনৈতিক দলের
ফান্ডিং এ নয়। তাই সব প্রমাণ নিয়েই লাইভ করেছি। এখন পর্যন্ত ৭টি ট্রাংক খোলা
হয়েছে, যেগুলো থেকে ৩৭ লাখ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। উপস্থিত আলেম-উলামা এবং ৩০ জন গণকর্মী
সাঁট মেশিন ব্যবহার করে টাকা গণনা করছেন।
হুমায়ুন
দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ হয়েছে এবং আরও অনেকে এই
প্রচেষ্টায় যুক্ত হচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


দেশের
সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
প্রধান
উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে
আর্থিক খাত স্থিতিশীল ও সংস্কার এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার
চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিদ্ধান্তগুলো
হলো-
১।
চাহিদা ও জোগানের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে
হবে। এজন্য মুদ্রানীতিকে সংকোচমূলক অবস্থায় ধরে রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতির
উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ
থেকে স্বস্তি পেতে সবাইকে আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরতে হবে।
২।
বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে তারল্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা
লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যান্ড ১ শতাংশ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
৩।
ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারের
বিষয়টি চলে এসেছে। ব্যাংকিং খাতে টেকসই সংস্কারের জন্য একটি ব্যাংকিং কমিশন গঠন করে
দ্রুত কার্যক্রম নেওয়া হবে।
৪।
আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংস্কারের বিষয়ে একটি রূপকল্প তৈরি করা হবে, যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এইচএসসি পরীক্ষা এক মাস পেছানোর বিষয়ে একটি নোটিশ ঘুরছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে। নোটিশটি ভুয়া।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া নোটিশটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আবুল বাশারের স্বাক্ষর ব্যবহার করে শুক্রবারে ছড়ানো হয়।
নোটিশটিতে বলা হয়, ‘আগাম ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও দুই দফা ছাত্র-ছাত্রীদের দেশব্যাপী আন্দোলোনের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৩০ শে জুন অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষা আগামী ৩০ শে জুলাই বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত শর্ট সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, শিগগিরই ২০২৪ সালের ৩০ শে জুলাই অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশিত হবে। ’
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের বলেন, পরীক্ষা আগের রুটিন অনুযায়ী হবে। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে।
মন্তব্য করুন


দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব
পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়েও। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে মিলছে না তেল। দৈনিক একটি পাম্পে
সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও সড়কজুড়ে লম্বা লাইন।
দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে উত্তরাঞ্চলের
জেলাগুলোতেও। ঠাকুরগাঁওয়ে অনেক ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ
মানুষ। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে জ্বালানি মিললেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে
ভোক্তাদের।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই জেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখা গেল ভিন্নরকম
এক উপহার। সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে বরকে উপহার
হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৫ লিটার অকটেন। যা উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে সৃষ্টি করে হাস্যরস ও
কৌতূহল। অনেকেই এটিকে সময়োপযোগী ও বাস্তবধর্মী উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাসান রায়হান নামে এক অতিথি বলেন, এখনকার সময়ে
জ্বালানি তেলই সবচেয়ে দামি ও প্রয়োজনীয় জিনিস। তাই এমন উপহার সত্যিই ব্যতিক্রমী। জামাল
নামে আরেকজন বলেন, এটা যেমন মজার, তেমনি বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিফলনও বটে।
এই ঘটনা শুধু হাসির খোরাক নয়, বরং চলমান জ্বালানি সংকটের চিত্রও
তুলে ধরে। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি এখন মানুষের কাছে প্রায় ‘সোনার হরিণে’ পরিণত
হয়েছে।
অকটেন উপহার দেওয়া ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, পেট্রোল-অকটেন পেতে
ভোগান্তি চরমে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি তেল মিলছে না। মানুষ দৈনন্দিন
কাজগুলো করতে পারছেন না। এমন সময়ে বর-কনে যাতে স্বস্তি আর স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে
পারেন সেজন্য অকটেন উপহার দেওয়া হয়েছে। এটি সংকটের প্রতীকও বটে।
বর রাতুল হাসান সাফি বলেন, বিয়েতে এটি খুবই ব্যতিক্রমী উপহার। অকটেন
হলেও এটি সংকটময় মুহূর্তে কাজে লাগবে। যারা দিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
জ্বালানি তেলের এমন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়বে পরিবহন,
কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই বিয়ের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্ম
দিয়েছে। ব্যতিক্রমী এই উপহার যেমন আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে, তেমনি বর্তমান বাস্তবতার
একটি স্পষ্ট বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে সবার মাঝে।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সদর উপজেলার টিএ রোড বাজার এলাকায় প্যাটিসে তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগে মেসার্স শাহী বেকারিকে
১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা
যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সিরাজুল উলুম তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য শাহী
বেকারি থেকে প্যাটিস কেনার পর তাতে তেলাপোকা পাওয়া যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা দেখতে পান, বেকারিটিতে অস্বাস্থ্যকর ও অরক্ষিত
পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং রান্নাঘরে যত্রতত্র তেলাপোকা ঘোরাফেরা করছে।
এ
অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ৪০
হাজার টাকা এবং অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা,
মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ বেকারিকে
নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতের নিয়ম মেনে উৎপাদন চালানোর নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের
অনিয়ম করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা প্রদান করে।
জনস্বার্থে
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এমন তদারকি ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে
জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


পুরান
ঢাকার বেশির ভাগ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এখানে কোনো প্ল্যান ছাড়া এক কাঠার কম
জমিতেও ৬-৭ তলা
বাড়ি করা হয়েছে।
শনিবার
(২২ নভেম্বর) পুরান ঢাকার বংশালের বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এসময়
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভূমিকম্পে রাজধানীর কসাইটুলীর রেলিং ভেঙে পড়া ভবনটির নকশা আগামী সাত দিনের মধ্যে দেখাতে ব্যর্থ হলে ভবনটি সিলগালা করে হবে।
তিনি
বলেন, ‘এক কাঠার নিচে
আমরা কোনো প্ল্যান দিই না। যারা জোর করে করতেছে, আমরা তাদের মিটার কেটে দিচ্ছি। তারপরও আবার চোরাই মিটার নিয়ে বা জেনারেটর দিয়ে
তারা করতেছে।’
তিনি
জানান, পুরান ঢাকার শত বছরের পুরাতন
ভবনের ঐতিহ্য রক্ষা করেই নতুন পরিকল্পিত নগরায়ণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন


গাম্বিয়ায় অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি: নিহত অন্তত ৭, নিখোঁজ অনেকে
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজনের প্রাণহানি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নৌকাটিতে দুই শতাধিক মানুষ ছিলেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যাদের অনেকেই এখনো নিখোঁজ।
গাম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যরাতের দিকে নর্থ ব্যাংক অঞ্চলের একটি গ্রামের উপকূলের কাছে নৌকাটি উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে সেটিকে একটি বালুচরে আটকে থাকা অবস্থায় শনাক্ত করা হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই নৌবাহিনীর তিনটি স্পিডবোট, একটি উপকূলীয় টহল জাহাজ এবং স্থানীয় জেলেদের একটি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো উদ্ধারকৃতদের জাতীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই দুর্ঘটনাটি আবারও পশ্চিম আফ্রিকা থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথের ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ৪৬ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছান।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন ‘কামিনান্দো ফ্রোনতেরাস’ জানিয়েছে, একই পথে যাত্রা করতে গিয়ে গত বছরে ১০ হাজারেরও বেশি অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৫৮ শতাংশ বেশি।
মন্তব্য করুন


খাগড়াছড়িতে একটি বাসা থেকে বিলুপ্তপ্রায় এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার (কালো ভালুক), মায়া হরিণ ও বানরসহ মোট নয়টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় বন বিভাগ এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের যৌথ অভিযানে প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে একটি কালো ভালুক, ছয়টি মায়া হরিণ এবং দুটি বানর। পরে এসব প্রাণীকে নিরাপদ আবাসে রাখার জন্য কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে এগুলো অবমুক্ত করা হবে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রাণীগুলো খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাড়িতে রাখা ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনিই বন বিভাগকে অবহিত করেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় শিকারিদের কাছ থেকে প্রাণীগুলো কিনে তিনি সেগুলো লালন-পালন করছিলেন।
এ বিষয়ে নবদ্বীপ চাকমা বলেন, বনে শিকার হওয়া প্রাণীগুলোর খবর পেয়ে তিনি সেগুলো শিকারিদের কাছ থেকে কিনেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, এভাবে বন্য প্রাণী রাখা আইনত অপরাধ। প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি বন বিভাগকে বিষয়টি জানান।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বন্য প্রাণী ধরা ও লালন-পালন করা আইনবিরোধী। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ভুল বুঝতে পেরে প্রাণীগুলো হস্তান্তর করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজে জড়াবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মতো বন্য প্রাণীরও প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের কারণে এসব প্রাণী আজ বিলুপ্তির মুখে। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতিতে এসব প্রাণী দেখার সুযোগ হারাবে।
মন্তব্য করুন