

কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে দেবীদ্বার সরকারী রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
পৌর বিএনপির আহবায়ক মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বেলজিয়াম বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুর রহমান লিটন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রেজবিউল আহসান মুন্সী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাঠান ভুলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুলতান কবির আহম্মেদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সুফিয়া বেগম।
ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি সামরিক বাহিনীর একজন মেজর হিসাবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ডাক দিলে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। আর না হয় দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যে লড়াই করেছিল সে লড়াই বাস্তবায়ন হতো না।
তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভূয়া মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে আটকে রেখেছিলো। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা গায়েবি মামলা দিয়েছে। অনেকেই হাতকড়া পড়ে বাবা-মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নানাভাবে স্বৈরাচার সরকার হয়রানি করেছে। কাউকে হত্যা করে, কাউকে আহত করে, আবার কারো ব্যবসার ক্ষতি করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি করেছে। এ সব কিছুর জবাব আমরা তাদের মত করে দিবোনা। আমরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এসবের জবাব দিবো।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
১৪ উপজেলাতেই লেগেছে বন্যার ছোবল। স্মরণকালের ভয়াবহতার শিকার হয়েছেন কুমিল্লাবাসী।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বুড়িচং, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা অন্তত
আড়াই শ’ গ্রাম।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলাজুড়ে ৭২৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭০ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে গোমতী, সালদা ও ঘুংঘুর নদীর ভাঙনের মাঝে পড়ে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ এখন পানির তলায়। ডুবছে দেবিদ্বারও। লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, তিতাস উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। বন্যায় বাড়ছে প্রাণহানি, ভাঙনের তোড়ে ভেসে গেছে বাড়িঘর খেত খামার, মাছের প্রজেক্ট।
সরকারি হিসেবে, বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ শিশুসহ ৪ জন। বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার। বেসরকারি হিসেবে, এসব সংখ্যা ছাড়িয়েছে বহু গুণ।
বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যাহত হওয়ায় খোঁজও নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না দুর্গত এলাকাগুলোর।
এ দিকে কৃষি বিভাগের তথ্য, ৬০ হেক্টর কৃষি জমি আক্রান্ত হয়েছে বন্যায়। পনিতে তলিয়ে যাওয়া সবজির আবাদ সবই বিনষ্ট হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বেচ্ছাসবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। তবে নৌকা ও স্পিডবোট কম থাকার কারণে সেসব ত্রাণও সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে উদ্ধার কাজও ব্যাহত হচ্ছে প্রকটভাবে।
পানি
উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, বিপৎসীমার
১ সেন্টিমিটার ওপরের পানিও ঝুঁকির। বর্তমানে গোমতীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার
ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘণ্টায় দেড় থেকে ২ সেন্টিমিটার পানি কমছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা।
শনিবার (৬ জুন) উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় একদল ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা ও অবস্থান করছিল। তাদের আচরণে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী তাদের আটক করেন।
পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটক ব্যক্তিদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় অভিনব কৌশলে পিকআপে করে মাদক পরিবহনকালে ৮৯ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২।
আজ (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল
থানাধীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কৌশলে পিকআপের
পিছনে মালামাল পরিবহণের ক্যারেটের মধ্যে লুকিয়ে গাঁজা পরিবহণের সময় আসামী ১। জুয়েল
রানা এবং ২। মোঃ আকাশ নামক দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামী’দ্বয়ের
কাছ থেকে ৮৯ কেজি গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। জুয়েল রানা (৩১) দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার চন্ডীপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এর ছেলে এবং ২। মোঃ আকাশ (৩২) একই থানার উত্তর বাসুদেরপুর গ্রামের মোঃ খোকন এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে দিনাজপুর সহ অন্যান্য জেলায় মাদক
ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা
বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে মাদকদ্রব্য পরিবহণ
করতো। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা
করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত
আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের রশিদ দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী। এসময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা, সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত অবৈধ ভুয়া রসিদ বহি জব্দ করা হয়।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ২৩ বীর সেনাবাহিনী ক্যাপ্টেন রাকিন।
সেনাবাহিনী জানায়, কুমিল্লা নগরীর চকবাজার থেকে তেলিকোনা ও জাঙ্গালিয়া বাসট্যান্ড থেকে টমছমব্রীজ সড়কের উপর অবস্থান করে বাস, মিনিবাস, মিনি ট্রাক, ইজিবাইক, মিশুকসহ যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহন চালকদের হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে গতিরোধ করে অবৈধ রশিদের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাঙ্গালিয়া বাসট্যান্ড সড়কে চাঁদা নেয়ার সময় একজন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী টহল দল।
গ্রেফতারকৃত আসামী হলো কুমিল্লা সদর দৌলতপুর গ্রামের মান্নান এর ছেলে মোঃ জুলহাস (২৪)।
এসময় সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ২/৩ জন চাঁদাবাজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেনাবাহিনী গ্রেফতারকৃত আসামীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ৩টি,সীল প্যাড ২টি, গোলাপি ও হলুদ রঙের চাঁদা আদায়ের ভুয়া ৩৫ টি রসিদ বই জব্দ করে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ পরস্পর যোগসাজশে কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে অবৈধ চাঁদা উত্তোলন করে আসছে।
পরে গ্রেফতারকৃত আসামীকে সদর দক্ষিণ পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লা জেলা পরিষদের বার্ষিক বাজেটের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার জেলা পরিষদের হলরুমে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোস্তাক মিয়ার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ গোলাম জাকারিয়া, নির্বাহী কর্মকর্তা রাবেয়া আসফার সায়মা, কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তরপ্রধানগণ ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তাগণ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা
সদর উপজেলার রঘুরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি নোহা মাইক্রোবাস থেকে প্রায় আড়াই
মণ (১০০ কেজি) গাঁজা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। এ সময়
মাদক পরিবহণের অভিযোগে দুই কারবারিকে আটক এবং গাঁজা বহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ
করা হয়।
আটকরা
হলেন- কুমিল্লা নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. অন্তর (২৫) ও নারায়ণগঞ্জের
রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. বাঁধন (২৩)।
আজ
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি
কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম।
সাদমান
ইবনে আলম বলেন, বুধবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল
রঘুরামপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন একটি নোহা মাইক্রোবাসে তল্লাশি
চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব
জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার
সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে নোহা মাইক্রোবাস যোগে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন
অঞ্চলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ করে আসছিল।
মন্তব্য করুন


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয়
উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
আজ রবিবার (৭ জুলাই) আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের
দ্বিতীয়া তিথিতে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) কুমিল্লা জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী
জগন্নাথ দেবের মন্দির ও নগরী ঠাকুরপাড়া রামকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দিরের যৌথ আয়োজনে শ্রী
শ্রী জগন্নাথপুর মন্দিরে সকাল ৭টা হতে যথাক্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের পূজা ও দর্শন
আরতী, বিশ্ব শান্তি কামনায় অগ্নিহোম যজ্ঞ, ভজন কীর্তন, বাউল সংগীত ও পদাবলী কীর্তন
এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ ও দুপুর ২টায় ধর্মসভা শেষে ভক্ত সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
পৃথক পৃথক রথারোহণ, শুভ আরতি ও মহা হরিনাম সংকীর্তন সহযোগে জগন্নাথ মন্দির হতে চকবাজার-রাজগঞ্জ-কান্দিরপাড়
হয়ে ঠাকুরপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দির এসে শেষ হয় বর্ণাঢ্য শুভ রথযাত্রা।
ওই শোভাযাত্রায় লাখো পূণ্যার্থী ও ভক্তের সমাগম ঘটে। এতে সকল ধর্মের মানুষের উপস্থিতি
ছিলো চোখে পড়ার মতো। এরপর সন্ধ্যায় গুন্ডিচা মন্দিরে সন্ধ্যারতি কীর্তন ও ভজন কীর্তন
এবং রাত ৮টায় ঠাকুরপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দিরে শ্রী শ্রী জগন্নাথ লীলামৃত
ও মহাপ্রসাদ বিতরণ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জগন্নাথদেব
হলেন জগতের নাথ বা অধীশ্বর। জগৎ হচ্ছে বিশ্ব আর নাথ হচ্ছেন ঈশ্বর। তাই জগন্নাথ হচ্ছেন
জগতের ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ হয়। জীবরূপে তাকে আর জন্ম নিতে হয়
না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথ দেবের প্রতিমূর্তি রেখে রথ নিয়ে যাত্রা করেন
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
আজ কুমিল্লা জগন্নাথ মন্দিরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর দুইটায় ধর্ম সভা শেষে সাড়ে ৪টায় বেলুন উড়িয়ে রথযাত্রার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম । এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা-৭ সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।
রথযাত্রা মহোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম
বলেন- অসম্প্রদায়িক দেশ গড়তেই বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল দেশের
হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকল ধর্ম জাতির মানুষ সম্মিলিতভাবে স্বপ্নের সোনার বাংলা
বিনির্মাণ করবে। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫আগস্ট নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধুকে হত্য্যা করে এই
স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী চক্র৷ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিলো
ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে৷ এই বিভাজন আমরা মানতে পারিনি বলে পরবর্তীতে অসম্প্রদায়িক
চেতনাকে বুকে ধারণ করে দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশে তাই কোন ধর্মীয় বৈষম্য থাকবে না৷
শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সভাপতি
শ্রীমান সুদর্শন দাশ ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে ধর্মসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাবলু, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার
মু. মুশফিকুর রহমানসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুরের শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির হতে রথযাত্রার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে শ্রী জগন্নাথদেব, বলদেব ও শুভদ্রাদেবের ৩টি পৃথক রথারোহনের মাধ্যমে মাসির বাড়ি পাথুরিয়া পাড়া আগমন করেন। সেখান তিনি প্রায় আটদিন অবস্থান করার পর পুনরায় উল্টো রথে নিজ বাড়ীতে ফিরে যাবেন। প্রতি বছর হাজার হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমাগম ঘটে থাকে রথযাত্রা উৎসবে।
এদিকে, আগামী ১৪ জুলাই রবিবার (উল্টো
রথযাত্রা) গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল ৭টা হতে যথাক্রমে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেব এর পূজা ও
দর্শন আরতি, বিশ্ব শান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন কীর্তন ও মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং
দুপুর ২টায় ধর্মসভা শেষে ভক্ত সমাবেশ ও পৃথক পৃথক রথারোহণ, শুভ আরতি ও মহাহরিনাম সংকীর্তন
সহযোগে ঠাকুরপাড়া শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর নিতাই মন্দির হতে কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ ও
চকবাজার হয়ে জগন্নাথপুর মন্দির পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা'র মধ্যদিয়ে শেষ হবে রথযাত্রা
মহোৎসব।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুর নাম সিমরান (৬ মাস)। সে কুমিল্লা নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিমুল মিয়ার কন্যা। এই সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে সিমরানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত ও সময়মতো টিকা গ্রহণ না করানো এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই মূলত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আগের তুলনায় বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চিকিৎসকরা শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি বা র্যাশ, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


মৎস্য
ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহাকে
কেন্দ্র করে কোরবানির পশু পালন এখন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের বছরের অন্যতম বড় আয়ের
উৎসে পরিণত হয়েছে।
আজ
মঙ্গলবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নেউরা পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে
মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রাণিসম্পদ
মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু পালন ও বিক্রির মাধ্যমে দেশের লাখো পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত
হচ্ছে। ধীরে ধীরে এই খাত শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকা-ে রূপ নিচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি
বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু কোরবানি হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ
কোরবানির আয়োজন। এই ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও খামারিরা এক থেকে
দুই বছর ধরে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ লালন-পালন করে বাজারজাত করেন। ফলে কোরবানির মৌসুম
প্রান্তিক খামারিদের জন্য একটি বড় অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
মন্ত্রী
বলেন, সরকার প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা
করছে। গবাদিপশু পালন সম্প্রসারণে প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও খামারভিত্তিক উৎপাদন
বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনের প্রবণতা বাড়ছে
এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হচ্ছে।
কোরবানির
পশুর হাটে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের
জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রাণিসম্পদ
বিভাগের সমন্বয়ে নিবিড় নজরদারি চলছে। হাটগুলো পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হয়েছে।
তিনি
জানান, প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম দায়িত্ব পালন করছে। তারা পশুর স্বাস্থ্য
পরীক্ষা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করছেন। একইসঙ্গে খামারি ও ব্যাপারিদের সেবা
নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
মন্ত্রী
বলেন, চাঁদাবাজি, অনিরাপত্তা কিংবা অব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ
পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোরবানির সময় জাল নোটের ঝুঁকি
মোকাবিলায় বিভিন্ন পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে ক্রেতা
ও বিক্রেতারা নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন।
তিনি
আরও বলেন, ঈদের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে থেকে পশুর হাট পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত
থাকবে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে পারেন।
এ
সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
মো. সামছুল আলম, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ
কর্মকর্তা ডা. মো. মাহে আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


৫ অক্টোবর , শনিবার কুমিল্লা শহরের নিউমার্কেট, ঝাউতলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা এ অভিযান পরিচালনা করে ।
বাজার তদারকির এ অভিযানে ভোক্তা অধিকার বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় এবং অন্যদের সতর্ক করা হয়।
জনস্বার্থে
এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন