

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)-এর অভিযানে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় চোরাচালানের মালামাল জব্দ করা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন, কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ।
বিজিবি সূত্র জানায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় যৌথ অভিযানও পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাফিদ খান-এর উপস্থিতিতে অত্র ব্যাটালিয়নের অ্যাডজুটেন্টের নেতৃত্বে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
টাস্কফোর্স দলটি রাত সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রসুলপুর রেলওয়ে স্টেশনে চট্টগ্রামগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৬৭০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার অবৈধ ভারতীয় বাজি, কসমেটিক্স সামগ্রী, শাড়ি, বাসমতি চাল ও ফুচকা জব্দ করা হয়।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, জব্দকৃত চোরাচালানের মালামালসমূহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


১ম
রোজার ইফতার আপনজনের সঙ্গে করতে অফিস শেষে ছুটে চলে মানুষ। তাই ঢাকায়
দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। এ অবস্থায় মানুষের
নির্বিঘ্নে ঘরে পৌঁছাতে অফিস শেষে রাস্তায় নেমে পড়েন খোদ । যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি। এ অবস্থায় ইফতারের
সময় হলে তিনি রাস্তায় ইফতার করেন।
মঙ্গলবার
(১২ মার্চ) সোনারগাঁও ক্রসিংয়ে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে তাকে ইফতার করতে দেখা যায়।
ট্রাফিক
ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নগরবাসী কর্মস্থল থেকে নিরাপদে বাসায় ফিরে তাদের পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারেন, এজন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সদস্যদের সঙ্গে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। সোনারগাঁও ক্রসিং ঢাকা শহরের ব্যস্ততম একটি স্থান। এখান থেকে উত্তর-দক্ষিণ, পূর্ব-পশ্চিম সবদিকে গাড়ি যায়। সেই হিসেবে এখানকার অবস্থা সন্তোষজনক। ইফতারের ২০ মিনিট আগে
দেখা গেছে রাস্তায় তেমন কোনো চাপ নেই।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন, ডিএমপির
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবুর রহমান, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
(অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মোস্তাক আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরো ১৫৮ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) একযোগে বদলি করেছে সরকার। বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি
প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তার আগে দুপুরে একযোগে ৬৪ জেলার এসপি
পরিবর্তন করা হয়েছে।
এসব
কর্মকর্তা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে
বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তিনি ৩০
নভেম্বর বর্তমান কর্মস্থল হতে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত গণ্য হবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরো বলা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তার দপ্তর/ কর্মস্থল ইতিমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম/ঠিকানা উল্লেখ করে তিনি যোগদানপত্র দাখিল করবেন। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে
কার্যকর হবে।
বুধবার
সন্ধ্যায় ১৬৬ উপজেলায় নতুন ইউএনও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তার আগে দুপুরে একযোগে ৬৪ জেলার এসপি
পরিবর্তন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কোনো
পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর বা পত্রিকা বন্ধে চাপ প্রয়োগ সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।
আজ
সোমবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক
সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
সংবাদ
সম্মেলনে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল
আলম উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা
নাহিদ ইসলাম বলেন, কোনো
পত্রিকার বিরুদ্ধে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা জানাতে পারে। তবে তা শান্তিপূর্ণ হতে হবে। কোনো
পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর করা,
পত্রিকা বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা আমরা সমর্থন করি না। এ ধরনের ঘটনা
পরবর্তীতে ঘটলে টলারেট করা হবে না।
ভাঙচুরের ঘটনায় যারা জড়িত,
তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের আহ্বান থাকবে, মানুষের যদি
ক্ষোভ থাকে তাহলে যেন শান্তিপূর্ণভাবে প্রকাশ করে।
উপদেষ্টা
নাহিদ আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট
অভিযোগ থাকলে সেটার জন্য আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। আমরা আহ্বান জানাব যেন কোনো
অনাকাঙ্ক্ষিত বা নৈরাজ্যকর বিষয়ে জনগণ অংশ না নেয়। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়
এমন কাজ থেকে আমরা বিরত থাকব।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম, পরিচিত হিরো আলম। তিনি আমজনতা দলের মনোনয়নপত্র সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের কাছে থেকে তিনি নিজে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন। হিরো আলম জানিয়েছেন, বিকেল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র পূরণ করে জমা দেবেন।মনোনয়ন উত্তোলনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে হিরো আলম বলেন, “আমি সবসময় হামলা এবং মামলার শিকার হয়ে আসছি। তাই আমার নিরাপত্তার জন্য গানম্যান প্রয়োজন। অনেক প্রার্থীই নিরাপত্তার অভাবের কারণে গানম্যান চাইছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা সবাই চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, যা বিগত কয়েকটি নির্বাচনে হয়নি।”তিনি বলেন, “অনেকে আমাকে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে নির্বাচন করতে বলেছিলেন। তবে ওই আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অংশগ্রহণ থাকায় তার প্রতি সম্মান রেখে আমি বগুড়া-৪ আসন থেকেই নির্বাচন করছি।” হিরো আলম আরও জানিয়েছেন, আগেও বগুড়া-৪ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং এবারও একই আসন থেকেই ভোটের মাঠে থাকবেন।উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে হিরো আলম বগুড়া-৪ আসন থেকে এবং ২০২৩ সালে বগুড়া-৪ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
মন্তব্য করুন


চব্বিশের
জুলাইয়ে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আগের ১৫ বছরে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের
অন্যান্য সংগঠনের সন্ত্রাসীদের হামলা ও তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী
কর্তৃক নিহতদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর
মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলায় শহীদ বুয়েট শিক্ষার্থী
আবরার ফাহাদের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ ও মামা মোহাম্মদ মোফাজ্জল
হোসেন।
প্রধান
উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের
দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের তালিকা করে প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্তের অনুরোধ জানান
শহীদ আবরার ফাহাদের পরিবার।
এসময়
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারকাজ ত্বরান্বিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিতে
প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ জানান মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ।
মোহাম্মদ
বরকত উল্লাহ বলেন, দেশের জন্য কথা বলার কারণে তাঁকে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে পিটিয়ে
হত্যা করে। সে দেশের স্বার্থে কথা বলেছিল, অসম পানি বণ্টনের বিরুদ্ধে বলেছিল,বলেন তিনি।
আবরার
ফাহাদের বাবা আরও বলেন, তাঁর মা এখনো ছেলের জন্য আর্তনাদ করেন। আর কোনো মায়ের যেন সন্তান
হারানোর কষ্ট পেতে না হয়, আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।
তিনি
আরও জানান, কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপরে একটি সেতু তৈরির জন্য এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে
দাবি জানিয়ে আসছেন। সেতু না থাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে উল্লেখ করে
সেখানে একটি সেতু তৈরির জন্য উদ্যোগ নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন মোহাম্মদ বরকত
উল্লাহ।
সকল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ জানান
আবরার ফাহাদের ছোটভাই আবরার ফাইয়াজ।
বুয়েটের
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজ বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো শিক্ষার্থী
বান্ধব নয়। পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব, সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যবস্থার সংকট রয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই এ সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে
শিক্ষার্থী বান্ধব করতে পদক্ষেপ নেবে।
পাশাপাশি,
বুয়েটে র্যাগিং বন্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতেও অনুরোধ জানান তিনি।
আবরার
ফাইয়াজ বলেন, বুয়েটে নিপীড়নের ঘটনা এটাই প্রথম না। আগেও ঘটেছে। আগে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে
সেগুলোর তদন্ত ও বিচার করা প্রয়োজন।
প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারার ঘটনাটি পুরো
জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হবেই। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের
আগে আওয়ামী লীগ ও এর সংগঠনের দলীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহতের তালিকা করে প্রত্যেকটি
ঘটনা তদন্ত করা হবে। এর পাশাপাশি তৎকালীন সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার
করে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেগুলো নিয়েও তদন্তকাজ চলছে। সরকার ইতোমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে।
(সূত্র-
বাসস)
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন মুন্সীগঞ্জের গুয়াগাছিয়ায়
অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত নৌ-ডাকাত নয়ন-পিয়াসসহ একাধিক
আসামি পাশের দেশে পালিয়ে গেছে। ওরা দেশে ফিরলে ঠিকানা হবে কেরানীগঞ্জ কারাগার।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর)
বিকেলে গজারিয়ার দুর্গম অঞ্চল গুয়াগাছিয়ার জামালপুর গ্রামে নবনির্মিত অস্থায়ী পুলিশ
ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
আরও বলেন যে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নৌ-ডাকাতদের
তৎপরতা ছিল। আমি নিজেও মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা হিসেবে তাদের সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবহিত।
থানায় হামলার সময় তারা অস্ত্র লুট করেছিল ধারণা করা হচ্ছে সেই অস্ত্রগুলো এখনো তাদের
কাছেই রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন প্রাথমিকভাবে
অস্থায়ী ভিত্তিতে এ ক্যাম্পটি স্থাপন করা হলেও স্থায়ীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের
কাজ শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সদর উপজেলার টিএ রোড বাজার এলাকায় প্যাটিসে তেলাপোকা পাওয়ার অভিযোগে মেসার্স শাহী বেকারিকে
১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জানা
যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সিরাজুল উলুম তালিমুল কুরআন মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য শাহী
বেকারি থেকে প্যাটিস কেনার পর তাতে তেলাপোকা পাওয়া যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে
অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। কর্মকর্তারা দেখতে পান, বেকারিটিতে অস্বাস্থ্যকর ও অরক্ষিত
পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং রান্নাঘরে যত্রতত্র তেলাপোকা ঘোরাফেরা করছে।
এ
অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ৪০
হাজার টাকা এবং অস্বাস্থ্যকর প্রক্রিয়ায় খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে অতিরিক্ত ৬০ হাজার টাকা,
মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। এ সময় কর্তৃপক্ষ বেকারিকে
নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুতের নিয়ম মেনে উৎপাদন চালানোর নির্দেশ দেয় এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের
অনিয়ম করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা প্রদান করে।
জনস্বার্থে
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এমন তদারকি ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে
জানানো হয়।
মন্তব্য করুন


দেশের
২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান
চৌধুরী। দেশের বিচারাঙ্গণের শীর্ষ পদে তিনি বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের স্থলাভিষিক্ত
হবেন।
আজ
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর)
এই নিয়োগ চূড়ান্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
চব্বিশের
অভ্যুত্থানের ধাক্কায় রাষ্ট্রের সব অঙ্গে পরিবর্তনের মধ্যে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব
নিয়েছিলেন বিচারপতি রেফাত আহমেদ। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় আগামী ২৭ ডিসেম্বর তিনি অবসরে
যাচ্ছেন। বিচারক জীবনের ইতি টেনে বর্তমানে তিনি ওমরাহর জন্য অবস্থান করছেন সৌদি আরবে।
তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিচারপতি
জুবায়ের। তাকেই নতুন প্রধান বিচারপতি করে বুধবার গেজেট জারি করেছে সরকার। বঙ্গভবনে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে তিনি শপথ নেবেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে
জ্যেষ্ঠতার ক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ছিলেন তিন নম্বরে। বিচারপতি মো. আশফাকুল
ইসলামকে ডিঙিয়ে তাকে সর্বোচ্চ পদ দেওয়া হল।
১৯৬১
সালের ১৮ মে জন্মগ্রহণ করা জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বাবা প্রয়াত এ এফ এম আবদুর রহমান
চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম করার
পর যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর আরেকটি মাস্টার্স করেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
১৯৮৫ সালে তিনি জজ কোর্টে এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে আইনজীবী
হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩
সালের ২৭ অগাস্ট তিনি অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে হাই কোর্টে নিয়োগ পান। দুই বছর পর হাই
কোর্ট বিভাগে তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে তাকে আর আপিল বিভাগে নেওয়া
হয়নি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনকারীদের
দাবির মুখে ১০ অগাস্ট পদত্যাগ করেন তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
ওইদিনই
হাই কোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে পরবর্তী প্রধান বিচারপতি হিসেবে
নিয়োগ দেওয়া হয়। দুই দিন পর বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ চারজনকে হাই কোর্ট বিভাগ
থেকে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৩ অগাস্ট তারা শপথ নেন। বয়সের নিয়ম অনুযায়ী, বিচারপতি
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০২৮ সালের ১৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
তার
সঙ্গে আপিল বিভাগে এখন বিচারক হিসেবে আছেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো.
রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি
ফারাহ মাহবুব।
মন্তব্য করুন


ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম রাতেই ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে তাদের জালে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ভালো পরিমাণ মাছ পেয়ে ভোরেই ঘাটে ফিরেছেন অনেকে। এতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ইলিশ ঘাটগুলোতে।
আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বুড়িরচর সূর্যমুখী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটজুড়ে চলছে ব্যাপক বেচাকেনা। শ্রমিকরা টুকরি ভর্তি ইলিশ মাথায় নিয়ে দৌড়াচ্ছেন নৌকা থেকে বাজারে। পাইকার ও ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। কেউ দরদাম করছেন, কেউ ট্রলারে মাছ তুলছেন।
সূর্যমুখী ঘাট মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি “আলাউদ্দিন” বলেন, ভোর থেকেই মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে। জেলেরা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সাগর থেকে ভালো মানের ইলিশ ধরে এনেছেন। বহুদিন পর এমন জমজমাট বাজার দেখছি।
স্থানীয় জেলে ও নৌকার মাঝি আব্দুল কাদের বলেন, রাত ১২টার পর নদীতে গিয়েছিলাম, সকালে ঘাটে ফিরে এসেছি তিন মণ মাছ নিয়ে। যদিও মাছগুলো একটু ছোট, তবুও দাম ভালো থাকায় লাভ হয়েছে। এখন আবার সাগরে যাচ্ছি। কয়েক দিন এমন মাছ পেলে আগের ক্ষতি পুষিয়ে যাবে।
নিষেধাজ্ঞার সময়কাল নিয়ে কিছু জেলের ছিল ক্ষোভ। তারা বলছেন, ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে যদি ১৩ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু করা হতো, তাহলে ক্ষতি কিছুটা কমে আসত। কারণ নিষেধাজ্ঞার আগেই সাগরে প্রচুর ইলিশ মিলছিল। তবুও সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে ৪ অক্টোবর বিকেলেই তারা ঘাটে ফিরে আসেন। এখন হাতিয়ার ঘাটগুলো কর্মচঞ্চল, জেলেদের জালে রুপালি ইলিশের নাচন, আর তীরে উঠছে আশা আনন্দে ভরা মাছভর্তি ঝুড়ি। ২২ দিনের অপেক্ষা শেষে আবারও রুপালি স্বপ্নের সন্ধানে সাগরে নেমে হাসি ফিরে এসেছে জেলেদের মুখে। এভাবে যদি মাছ পাওয়া যায়, তবে অতীতের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখা যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী এবং জেলেরা।
মন্তব্য করুন


আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে বাজারে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি ১১টি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যপণ্য আমদানিতে বিলম্বে বিল পরিশোধের সুবিধা দিয়েছে।
এই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— চাল, গম, পেঁয়াজ, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনি, ডিম, ছোলা, মটর, মসলা এবং খেজুর। এগুলো এখন ৯০ দিনের সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিটে আমদানি করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার (১১ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা ও রমজানের আগে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশনাটি কার্যকর থাকবে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
মার্জিন নীতিতেও শিথিলতা
এর আগে, গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানি এলসি খোলার ক্ষেত্রে আগের ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন রাখার বাধ্যবাধকতা শিথিল করে। এখন ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারিত হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে এসব পণ্যের আমদানি সহজ করা হচ্ছে, যাতে বাজারে সরবরাহ বজায় থাকে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে এসব পণ্যের আমদানি ঋণপত্রে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের স্বস্তি
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, নগদ মার্জিন কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক অর্থের চাপ কমবে। এতে আমদানি ব্যয়ও হ্রাস পাবে, যা ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। সাম্প্রতিক ডলার সংকটে ডাল, ভোজ্যতেল, খেজুর, ছোলা ও মসলা আমদানিতে যে বাধা ছিল, নতুন এই উদ্যোগ তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
সরকারের আগাম প্রস্তুতি
এর আগে, গত ৩১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির অনুমোদন দেয়। বৈঠকে চিনি, ছোলা ও সয়াবিন তেল আমদানির পাশাপাশি ৯০ হাজার টন ইউরিয়া সার এবং দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, রোজার সময় ছোলা ও সয়াবিনের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই এসব পণ্য আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারে সংকট না হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এই পণ্যগুলো আমদানি করবে। পাশাপাশি, খেজুর আমদানির বিষয়েও শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাব
সরকারি বৈঠকে স্থানীয় দরপত্রের মাধ্যমে ৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি প্রতি কেজি ১২০ টাকা ৯২ পয়সা দরে মোট ৬০ কোটি ৪৬ লাখ টাকায়,
১০ হাজার মেট্রিক টন ছোলা প্রতি কেজি ১০৭ টাকা ৩৯ পয়সা দরে মোট ১০১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা,
এবং ৩২ লাখ ৬০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৬৩ টাকা ১৫ পয়সা দরে ৫৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
সব মিলিয়ে, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ঘাটতি এড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক আর্থিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে আমদানিকারকরা স্বস্তি পাবেন এবং সাধারণ ভোক্তাও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন