

কুমিল্লার তিন উপজেলার পৃথক স্থান থেকে বীমা কর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আবাসিক ড্রিম হোটেল থেকে এক বীমা কর্মী এবং রবিবার
রাতে সদর দক্ষিন ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা থেকে এক নারীসহ আরো
দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত
করেন।
লাকসাম থানা পুলিশ ও স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আবাসিক ড্রিম হোটেল থেকে আলতাফ হোসেন (৩৭) নামের এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি প্রগতি ইন্সুরেন্সের রায়পুর শাখার ইনচার্জ ও হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরি করতেন। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে সদর উপজেলার ষোলনল শাকচর গ্ৰামে।
অন্যদিকে কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বান্দুয়াইন গ্রামের সড়কের পাশে স্থানীয় কমলা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার বান্দুয়াইন গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর স্ত্রী। রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বান্দুইয়ান গ্রামের সড়কের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার জেলখানা বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের একটি খাল থেকে অজ্ঞাতনামা এ পুরুষের ভাসমান মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় বাসের মালিক ইউসুফ মাঝিকে (৫১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে তাঁকে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউসুফ মাঝির বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সিডিএম পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। বাসে আগুন লেগে যায় এবং পাশের মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে, বাসের যাত্রী এক শিশু ও এক নারী নিহত হন। আরও ২৬ জন যাত্রী আহত হন।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ইউসুফ মাঝিকে রোববার কুমিল্লা আদালতে নেওয়া হয়। এরপর আদালতের বিচারক তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক মানবকল্যাণমূলক সংগঠন রোটারি ইন্টারন্যাশনাল-এর নতুন বছরের শুভ সূচনা উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) কুমিল্লা এরিয়ার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
র্যালিটির উদ্বোধন করেন রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮১ (ডি ৬৫ বাংলাদেশ) এর এসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ডা. তৃপ্তিশ চন্দ্র ঘোষ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, "রোটারি ইন্টারন্যাশনালের মূল লক্ষ্যই হলো মানবসেবাকে প্রাধান্য দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। কুমিল্লা রেনেসাঁস ক্লাব সেই পথেই নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।"
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব অব রেনেসাঁস কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল ইসলাম রিপন, বর্তমান ক্লাব সভাপতি জীবন কুমার সাহা, আইপিপি আবু তানভীর, সেক্রেটারি আতিকুল ইসলাম, ক্লাব সদস্য ডা. সিমা আক্তার, ডা. আনোয়ার হোসেন, আবুল কালাম জুয়েল, মোশারফ হোসেন সহ কুমিল্লা অঞ্চলের বিভিন্ন রোটারি ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে রোটারি ক্লাব অব রেনেসাঁস কুমিল্লার পক্ষ থেকে এক শারীরিক প্রতিবন্ধীকে একটি হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। এতে করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি ক্লাবের সহানুভূতি ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটে।
নতুন রোটারি বর্ষের এই আয়োজন কুমিল্লা শহরে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়—রোটারি কেবল একটি সংগঠন নয়, এটি একটি মানবতার আন্দোলন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার হোমনায় একই দিনে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে হোমনা থানা পুলিশ।
রোববার (১৭ আগস্ট) পৃথক স্থান হতে সকালে নৌকাতে ভাসমান অবস্থায় একজনের মৃতদেহ ও দুপুরে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় আরেকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের তিতিয়া রঘুনাথপুর এলাকায় তিতাস নদীতে ভাসমান একটি নৌকা থেকে কবির হোসেন ওরফে আরশ মিয়া (৬১) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সবদর আলীর ছেলে।
অপরদিকে দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামে মো.নজরুল ইসলামের ছেলে সাইজুদ্দিন (৩৫) এর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, উভয়েই মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। একাধিকবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাগুলো আত্মহত্যা। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর আসল কারন জানা যাবে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লার শাহাপুর দরবার শরীফে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর আয়োজিত এ দোয়া মাহফিলে অংশ নেন কুমিল্লা-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ (ভিপি ওয়াসিম), সদর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইনসহ দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আয়োজিত দোয়া মাহফিলে কুমিল্লা জেলা ও মহানগরের হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজন মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব -১১, সিপিসি-২।
১৮ এপ্রিল রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক
দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন কোটেশ্বর এলাকায় মাদক
বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ রাশেদুল রিমন (২৪) ও ২। মোঃ ওয়াসিম আকরাম
(২১) নামক দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদ্বয়ের কাছ থেকে ১০ কেজি
গাঁজা ও মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ রাশেদুল রিমন (২৪) কুমিল্লা জেলার
চান্দিনা থানার সুহিলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব এর ছেলে এবং ২। মোঃ ওয়াসিম আকরাম
(২১) বি.বাড়িয়া জেলার সদর থানার সুলতানপুর গ্রামের শেখ ভানু মিয়া এর ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত মোটরসাইকেল ব্যবহার
করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদক দ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লা জেলায়
মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১
এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের
মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন


আজ রবিবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। চলমান তাপপ্রবাহে শিক্ষার্থীরা যাতে পানি খেতে ভুলে না যায় সেই লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতি ঘণ্টায় ‘পানি ঘণ্টা’ চালু ও পানি সরবরাহের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ চিঠি প্রাথমিক ও জেলা শিক্ষা অফিসার এবং সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়াও সব গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ পানি ঘণ্টা চালু করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান জানান, প্রচণ্ড তাপদাহে শিক্ষার্থীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে আমরা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এ পানি ঘণ্টা চালু করেছি। যতদিন তাপপ্রবাহ অধিক থাকবে, পানি ঘণ্টা ততদিন চালু থাকবে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ২৮ টি অস্ত্র ও ৬৬৭ টি গুলি উদ্ধার করছে আনসার ভিডিপি কুমিল্লার কমান্ড্যান্ট রাশেদুজ্জামান ।
তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে এসব উদ্ধার হওয়া অস্ত্র সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে কুমিল্লা পুলিশ লাইন্সে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আনসার জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ তারিখে কুমিল্লার বিভিন্ন থানা ও কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স থেকে অস্ত্র লুট হয়। পরে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আনসার ভিডিপি সদস্যরা এসব অস্ত্র উদ্ধারে কাজ শুরু করে। কুমিল্লা জেলা অফিসের তত্ত্বাবধানে ২৮ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৬৭ রাউন্ড গুলি, ১১ টি খালি ম্যাগজিন, হ্যান্ডকাফ ও চাবি উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা কমান্ডেন্ট আরো জানান, আমাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পরিত্যক্ত অবস্থায়- ড্রেনের ভেতর, বন জঙ্গল থেকে খোঁজাখুঁজি করে এবং এলাকার মসজিদের মাইকে জানান দিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে এসব অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার সাথে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আনসার ভিডিপি কুমিল্লা রেঞ্জ পরিচালক আশীষ কুমার ভট্টাচার্য জানান,শুধু কুমিল্লায় নয় নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চাঁদপুরেও বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, থানা পাহারা এবং ট্রাফিকিংয়ের কাজে আনসার ভিডিপি সদস্যরা সচেষ্ট রয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন,কুমিল্লা প্রতিনিধি:
২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এ কুমিল্লার দেবীদ্বার পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মী ও পুলিশের হামলায় নিহত হন পৌর সেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাদশা রুবেল (৪৩), স্কুলছাত্র আমিনুল ইসলাম সাব্বির (১৮) ও আব্দুস সামাদসহ মোট ১২ জন। আহত হন অর্ধশতাধিক, এদের মধ্যে স্কুলছাত্র আবুবকর মানসিক ভারসাম্য হারান।
৪ আগস্ট বানিয়াপাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রুবেল। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার স্ত্রী হ্যাপি আক্তার তখন ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত¦া। নিহতের এক মেয়ে ও পরবর্তীতে জন্ম নেওয়া এক ছেলে রয়েছে। রুবেল দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। রুবেল পেশায় বাস টালক ছিলেন।
৫ আগস্ট থানা ঘেরাওয়ের সময় পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন সাব্বির। ৪০ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির পরিবার চালাতেন ভ্যান চালিয়ে। সিএনজি চালক আমিনুল ইসলাম ছাব্বির দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের পুত্র। একই ঘটনার জেরে গুলিবিদ্ধ হন আব্দুস সামাদ। তিনি দীর্ঘ সাত মাস চিকিৎসা নিয়ে ৪ মার্চ ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মারা যান।
আহত শিক্ষার্থী আবুবকর এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তার পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করছে।
দেবীদ্বারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ১২ শহীদের রক্তে লালিত গণআন্দোলন। সংগ্রামী ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো কুমিল্লার দেবীদ্বারও জেগে উঠেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু সে জাগরণ থেমে গেছে গুলির আওয়াজে, রক্তাক্ত হয়েছে শহরের রাজপথ। এ পর্যন্ত দেবীদ্বার উপজেলার ১২ জন শহীদ গণআন্দোলনের অংশ নিয়ে শাহাদাৎ বরণ করেছেন। তাঁদের রক্তে লেখা হয়েছে আন্দোলনের করুণ ইতিহাস।
নিম্নে উল্লেখিত ৩ জন ছাড়া বাকী ৯ জনের শহীদদের নাম, পরিচয় ও শাহাদাতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের কাচিসাইর গ্রামের মো. সফিকুল ইসলাম সরকার’র পুত্র ফয়সাল সরকার (২৪)। সে ঢাকায় একটি পলিটেকনিক্যাল ইনিস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৯ জুলাই বিকেলে ঢাকা আব্দুল্লাহপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে ফয়সালের মাথার খুলি উড়ে যায়, পরে হসপিটালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। তাকে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে ঢাকায় অজ্ঞাত স্থানে দাফন করা হয়।
উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মো. হানিফ মোল্লা’র পুত্র মো. সাগর মিয়া(১৯), তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। ১৯ জুলাই ঢাকা মিরপুর ১০ নম্বরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ২০ জুলাই তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের মো. মানিক মিয়ার পুত্র মোঃ হোসাইন মিয়া (১০), সে পেশায় পপকর্ন বিক্রেতা ছিলেন। ২০ জুলাই বিকেলে চিটাগং রোডে তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ২২ জুলাই নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুর গ্রামের মৃত: মোহাম্মদ আলীর পুত্র কাদির হোসেন সোহাগ (২২), তিনি পেশায় চাকরি জিবী(পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিস)। ২০ জুলাই ঢাকা গোপীবাগে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ২২ জুলাই নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়। উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের মৃত শাহআলম সরকার’র পুত্র জহিরুল ইসলাম রাসেল। তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন। ৪ আগস্ট ঢাকা গুলিস্তান এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।
উপজেলার ৪ নং সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর গ্রামের মোঃ ইদ্রিস মিয়ার পুত্র মোঃ রবিন মিয়া (৩৫)। পেশায় একজন ব্যবসায়ি ছিলেন। ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ি গুলিতে নিহত হন। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে দাফন হয়।
উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের খয়রাবাদ গ্রামের ফজর আলীর পুত্র মোঃ রায়হান রাব্বি। তিনি শিক্ষার্থী ছিলেন। ৫ আগস্ট খিলগাঁও তালতলা মার্কেটে গুলিতে নিহত হন। ৬ আগস্ট নিজ বাড়িতে দাফন হয়। উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামের মো. সফিকুল ইসলাম রানার পুত্র সাইফুল ইসলাম তন্ময়। উপজেলার রসুলপুর গ্রামের সৈয়দ আবুল কায়েসের ছেলে নাজমুল হাসান। ঢাকার মধ্য বাড্ডায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করতেন তিনি। গত ১৯ জুলাই দুপুরের বাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। পরদিন মরদেহ মাদারীপুরে তার মামার বাড়িতে দাফন করা হয়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, কুমিল্লা:
গাজীপুরে
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার
প্রতিবাদে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা এনসিপি ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক
ছাত্রসংস।
রোববার রাত ৮ টায় দেবীদ্বার নিউ মার্কেট চত্তর থেকে বিক্ষোভ মিছিল টি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিক্ষোভ জাতীয় নাগরিক পার্টির উপজেলা নেতা নাজমুল হাসান নাহিদ, শামীম কাউসার, ফয়সাল
হোসেন, এমরান হোসেন, আবদুল্লাহ সামি, ফয়সাল মির্জা, জালাল হোসেন, জামাল হোসেন, শাহাদাত
হোসেন শ্যামল, বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের নেতা রাকিবুল হাসান হৃদয়, মোক্তাদির জারিফ সিক্ত,
সাজেদুল রাফসান ও মোঃ হাসান আরও অনেকে।
বক্তারা হাসনাত আবদুল্লাহর উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী করেন।
মন্তব্য করুন