

কুমিল্লার
বুড়িচংয়ে ৩০ কেজি গাঁজা পাচারকালে মা-মেয়েসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে
স্থানীয়রা।
আজ
শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের কোদালিয়া-ছিনাইয়া এলাকা থেকে তাদের
আটক করা হয়েছে।
আটককৃতরা
হলেন- একই ইউনিয়নের উত্তর আনন্দপুরের বাসিন্দা
জেনারুল হোসাইন জেনু (৩৪), দক্ষিণ আনন্দপুরের বাসিন্দা মো. রুবেল (৩৫), পাঁচোড়া গ্রামের
বাসিন্দা আব্দুল ওয়াসেদ মিয়ার মেয়ে আসমা আক্তার (২০), মাশরা গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের
মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৬) ও একই গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া (৫০)।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে বাকশীমূল ইউনিয়নের কোদালিয়া-ছিনাইয়া
এলাকায় মাদক পাচারকালে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে স্থানীয়রা।
পরে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ কেজি গাঁজাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে
একই পরিবারের মা ও মেয়ে রয়েছে।
আটকের
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক।
বুড়িচং
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক জানান, আটকদের মাদক আইনে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লায় ১০২ কেজি গাঁজাসহ ৫ জন মাদক
ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাতে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি
থানাধীন হোসেনপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। মোঃ দেলোয়ার হোসেন,
২। সুমন, ৩। মোঃ আব্দুল হালিম, ৪। মোঃ জাহিদ হাসান রতন এবং ৫। আব্দুর রব হাওলাদার নামের
৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ১০২ কেজি গাঁজা ও মাদক
পরিবহন কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ১নং আসামী মোঃ দেলোয়ার
হোসেন (৩০) খাঁগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা থানাধীন মাটিরাঙ্গা গ্রামের মৃত বাবুল মিয়া
এর ছেলে, ২নং আসামী সুমন (৩৭) কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানাধীন আলমপুর গ্রামের মৃত
জসীম এর ছেলে, ৩নং আসামী মোঃ আব্দুল হালিম (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানাধীন
মাদলা গ্রামের মৃত সিরাজ আলী এর ছেলে, ৪নং আসামী মোঃ জাহিদ হাসান রতন (৪৫) ঢাকা জেলার
বংশাল থানাধীন আলু বাজার গ্রামের আব্দুল ছাত্তার এর ছেলে এবং ৫নং আসামী আব্দুর রব হাওলাদার
(৭০) ঝালকাঠি জেলার নলসিটি থানাধীন বিন নারায়ণ গ্রামের মৃত আব্দুল আজীজ হাওলাদার এর
ছেলে।
র্যাব জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত
প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য
গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি
ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ
হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১
এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন
মন্তব্য করুন


দেশ ও জাতি গঠনে সুস্থ রাজনৈতিক বিকাশ অপরিহার্য— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লা নামে বিভাগ ঘোষণার দাবীতে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো সুধীজনের মতবিনিময় সভা।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউটে এ সভার আয়োজন করে সচেতন রাজনৈতিক ফোরাম, কুমিল্লা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ড. শাহ মোঃ সেলিম।
সভায় বক্তারা বলেন— ঐতিহাসিক, ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে কুমিল্লা একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই কুমিল্লাকে প্রশাসনিক কাঠামোয় বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তাই অবিলম্বে কুমিল্লা নামেই কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণার দাবি জানান তাঁরা।
এসময় কুমিল্লার উন্নয়ন ও নাগরিক স্বার্থে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন: ২৪’ গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক নাভিদ নওরোজ শাহ্, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সমবায়ী ও সমবায় ব্যাংকের সভাপতি সিরাজুল হক, ড. আলী হোসেন চৌধুরী— নজরুল গবেষক ও সাহিত্যিক, সাহিত্যিক ও ছড়াকার জহিরুল হক দুলাল, সাবেক সভাপতি কুমিল্লা প্রেসক্লাব, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাসনাত বাবুল।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন— বদরুল হুদা জেনুয়া, সাইদুল রহমান তামান্না, লায়ন শেখ ফরিদ উদ্দিন, লায়ন মাহবুব আলম ইকবাল, এনামুল হক বাবলু, সাজ্জাদুর কবীর, নিখিল রায়, আবুল কাশেম, কাজী শারমিন আক্তার— শহীদ সাদমানের মাতা, মিয়া মোঃ তৌফিক, জুনায়েদ রায়হান, রাসেল খান, খায়রুল আনাম রায়হান এবং শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।
এছাড়াও মতবিনিময় সভায় কুমিল্লার সামাজিক-রাজনৈতিক উন্নয়নে একাত্মতা ঘোষণা করেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং ফেনী জেলার প্রতিনিধিবৃন্দ।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন— “বঞ্চিত কুমিল্লার অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কুমিল্লার ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষায় কুমিল্লা নামেই বিভাগ ঘোষণা করতে হবে।”
সভায় মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সচেতনতার সমন্বয়ে কুমিল্লাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা:
কুমিল্লা চান্দিনা উপজেলাধীন ডুমুরিয়া গ্রামের সন্তান অমিত কুমার সরকার। পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় অমিত। ছোটভাই আশিক সরকার গেলো তিন বছর আগে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বাবা দিলীপ সরকার একজন প্রবাসী এবং মা রাধা রাণী সরকার গৃহিণী। তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন অমিত। তাকে আঁকড়ে ধরে ছোট ছেলের শোক প্রতিনিয়ত ভুলার চেষ্টা বাবা-মার।
এদিকে, একমাত্র ছেলে অমিতকে ধুমধাম করে বিয়ে করানোর স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রবাসী জীবনের ইতি টেনে দেশে ফেরেন বাবা দিলীপ। অবশেষে বিয়ে ঠিক হয় নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের ভিংরাব গ্রামে।
পঞ্জিকার তিথি অনুযায়ী ১৫ শ্রাবণ (৩১ জুলাই ২০২৫) বৃহস্পতিবার অমিতের বিয়ের দিন পাকা হয় গত তিন মাস আগে। সেই অনুযায়ী বুধবার গ্রামের বাড়িতে চলে অমিতের গাঁয়ে হলুদ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ে বাড়িতে বাদ্যযন্ত্রের সাথে সানাইয়ের সুর। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ অতিথিদের উপস্থিতিতে যেন ভরপুর ছোট্ট বাড়ি।
বিকেলে মঙ্গল ঘট স্থাপন করে সন্ধ্যায় ধুতি ও পাঞ্জাবির সাথে মাথায় মুকুট পড়ে চন্দনের ফোঁটায় বর সেঁজে মায়ের কোল ছেড়ে রওয়ানা হন অমিত। বরযাত্রী নিয়ে রূপগঞ্জের উদ্দেশে ছুটে অমিতের গাড়িবহর। নতুন বউ নিয়ে ছেলে বাড়ি ফিরবে এ স্বপ্ন নিয়ে বসে প্রহর গুণছেন মা রাধা রাণী।
রাত তখন ১০টা। বরযাত্রীর গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুর পৌঁছার পর বুকের প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয় অমিতের। দ্রুত গৌরীপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে রাত ২টার দিকে কনে বাড়ি পৌঁছার আগেই পরপারে পাড়ি জমান অমিত।
অপরদিকে, কনে বাড়িতে চলছিল বিয়ের ব্যাপক আয়োজন। বরযাত্রী আসছে সেই অপেক্ষার প্রহর গুণছে কনেসহ সবাই। রাত গভীর হওয়ার সাথে বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু হয় সবার। মোবাইলফোনে কল আসতে থাকে কনের অভিভাবকদের কাছে।
ওপাশ থেকে কান্নার ভারী কণ্ঠ। নেই অমিত। নিস্তব্ধ গুটা পরিবার। গুটগুটে অন্ধকারে যেন মিশে গেছে শোকের কালো ছায়া। নিমিষেই গড়িয়ে পড়ে কনের দু’চোখ বেয়ে শত ফোটা আর্তনাদ।
সব কিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার (১ আগস্ট) ভোরে সুসজ্জিত প্রাইভেটকারযোগে নতুন বউ নিয়ে বাড়ি ফিরতো অমিত। মা-বাবার দেখা হতো আদুরি বউয়ের মুখ। কিন্তু নিয়তির নির্মমতায় শুক্রবার ভোরে সুসজ্জিত প্রাইভেটকারের জায়গায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিথর দেহে একাই বাড়ি ফেরেন অমিত! তখনও মুছেনি কপালে থাকা চন্দনের ফোঁটা। বরবেশে ছেলের সাদা কাপড়ে মোড়ানো দেহ দেখে বাকরূদ্ধ বাবা-মা। শোকে বিহ্বল গোটা পরিবার।
দুপুরে অমিতকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে করানো হয় গোসল। আবারো সাজানো হয় নতুন সাজে। ধর্মীয় রীতি অনুস্মরণ করে পারিবারিক সমাধিস্থলে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।
তিন বছরের মধ্যে দুই ছেলেকেই হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা রাধা রাণী। আর্তনাদের চিৎকারে বলছেন, ‘বাবা তোরা আমাকে কোথায় রেখে গেলি। আমরা এখন কারে নিয়ে বাঁচবো। কী অপরাধ ছিল আমাদের, কেন বুকের ধনকে কেড়ে নিল!
এদিকে, অমিতের মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আবেগতায়িত হয়ে পড়েন স্বজনসহ শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একই বাড়ির গুরুপদ সরকার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বরযাত্রীর গাড়ি বহরে আমিও ছিলাম। বরের গাড়ি অতিক্রম করে আমরা সামনে চলে যাই। কিছুক্ষণ পর বরের প্রাইভেটকারচালক আমাদের গাড়ি চালককে কল করে বলেন গাড়ি ঘুরিয়ে গৌরীপুর আসতে। বর অসুস্থ। রাজধানীর ল্যাবএইডে নেয়ার পর আর বিয়ে বাড়িতে যাওয়া হয়নি...!
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় অবৈধ শাড়ি ও শাল জব্দ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) গভীর রাতে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে এসব চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়। কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
লে. কর্নেল মীর আলী এজাজ জানান, আন্তসীমান্ত চোরাচালান ও অবৈধ মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিবিরবাজার বিওপির কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল অভিযান শুরু করে।
অভিযান চলাকালে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালপাড়া এলাকায় একটি মিনি পিকআপ পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পান বিজিবির সদস্যরা। গাড়িটি তল্লাশি করে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শাড়ি ও শাল জব্দ করা হয়। জব্দ মালপত্রের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্র জানায়, মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দ করা এসব পণ্য যে পথে আনা হয়েছে, সেটি ফেনসিডিল, গরু, সোনা, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত একটি সক্রিয় পয়েন্ট। চোরাচালান প্রতিরোধে ওই এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।
জব্দ মালপত্র পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দেবিদ্বারে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭১ পিস গুলি উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।
গত বুধবার বিকালে উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বখরিকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। যৌথবাহিনী সূত্র জানা যায়, বুধবার সকালে দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বখরিকান্দি গ্রামের পূর্ব পাড়ার মোঃ রশীদুল ইসলামের বসত ঘরের সামনে রান্না ঘরের পাশে মাটির চুলা তৈরী করার জন্য ২ ফিট মাটি খুড়লে একটি সাদা পলিথিন এর ভিতরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় গুলি দেখতে পায়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেবিদ্বার সেনা ক্যাম্পে জানায়। খবর পেয়ে দেবিদ্বার সেনা ক্যাম্প ও দেবিদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিকাল ৩ ঘটিকায় ৭১ পিস গুলি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
যৌথবাহিনী প্রাথমিক ভাবে ধারনা করছে উদ্ধারকৃত গুলি গুলো নষ্ট এবং এগুলো মেশিন গানের হতে পারে। এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) “মোঃ মাইনউদ্দিন” বলেন, পরিত্যক্ত অবস্থায় মাটির নিচে পলিথিনে ব্যাগে ৭১ পিস গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লায়
র্যাব-১১ এর অভিযানে ১০ কেজি গাঁজা ও ১৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ী
গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর কোতয়ালী মডেল থানাধীন শাসনগাছা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে উক্ত অভিযানে ১। পারভীন আক্তার (৪৫), ২। জান্নাতুল ফেরদৌসী (২০) এবং ৩। আফরোজা (১৮) নামক তিনজন মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীদের কাছ থেকে ১০ কেজি গাঁজা ও ১৯৭০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন ১। পারভীন আক্তার (৪৫) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার পাহাড়পুর গ্রামের মোঃ খোকন এর স্ত্রী, ২। জান্নাতুল ফেরদৌসী (২০) এবং ৩। আফরোজা (১৮) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার অশোকতলা গ্রামের মকবুল হোসেন এর মেয়ে।
র্যাব জানান, তারা পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট সংগ্রহ করে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীর রাজনৈতিক আবহ এখন যেন কেবলই এক অনুভূতিতে সিক্ত—সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা। গত কয়েকদিন ধরে কান্দিরপাড় থেকে বিভিন্ন মাদ্রাসা, দলীয় কার্যালয় থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঘর—সব জায়গায় প্রতিফলিত হচ্ছে এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রার্থনার ধ্বনি। আর এই নিরন্তর দোয়ার আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কুমিল্লা–৬ আসনের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং ধর্মপ্রাণ এক মানুষ হিসেবে তার এই দোয়ার ধারাবাহিক প্রয়াস যেন কুমিল্লার বহু মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ছিল এই কর্মসূচির টানা ৬ষ্ঠ দিন। দুপুরের পর এতিম ও দুস্থ শিশুদের জন্য খাবার বিতরণ করা হয়। এরপর বিকেলে কান্দিরপাড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর জমকালো কোনো আয়োজন নয়—সরল কিন্তু গভীর এক ধর্মীয় পরিবেশ। ছোট্ট জায়গার ভেতরে মানুষের কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত এবং পরে সম্মিলিত দোয়া—“হে আল্লাহ… আমাদের নেত্রীকে সুস্থতা দান করো…”
এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএ বারী সেলিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান ছুটি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রুমান হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিরুল পাশা সিদ্দিকী রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য–সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, যুগ্ম-আহবায়ক সালমান সাইদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য–সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমানসহ অঙ্গ–সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দোয়ার অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাজী ইয়াছিনের এই ধারাবাহিক দোয়ার আয়োজন কেবল রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ নয়—এটি একজন মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। হাজী ইয়াছিনের এই ব্যাকুলতা নিছক আনুষ্ঠানিক আহবান নয়—এটি হৃদয়ের তাগিদ থেকে উৎসারিত। তিনি নিজের ব্যক্তিগত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে যেভাবে এতিম শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছেন এবং প্রতিদিন দোয়া–কোরআনখানি আয়োজন করছেন—তা আমাদের সকলের কাছে অনুপ্রেরণামূলক।
এদিকে বিকালে নগরীর কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ মসজিদে জেলা ছাত্রদল এবং দলীয় কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর যুবদল দেশনেত্রী বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার আয়োজন করেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে শ্বশুরবাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে মরদেহ উদ্ধার হওয়া করিম ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, স্ত্রী তাছলিমা বেগমের পরিকল্পনায় তার তিন ভাই ইসরাফিল, গোলাম হাক্কানী ও মোজাম্মেল হক মিলে করিম ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহ সেপটিক ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখেন।
আজ রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার আমলী আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন চার ঘাতক।
পুলিশ জানায়, নিখোঁজের একমাস পাঁচদিন পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়ির একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় করিম ভূঁইয়ার (৪৮) গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত করিম ভূঁইয়া উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের মন্ত্রীবাড়ি এলাকার মৃত আবুল কাশেম ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি গত ১৩ আগস্ট সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
গ্রেপ্তারদের জবানবন্দী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাতে স্ত্রী তাছলিমা বেগমের পরিকল্পনায় মাদক সেবনের লোভ দেখিয়ে করিমকে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেন শ্যালক ইসরাফিল। সেখানে প্রথমে তিন ভাই মিলে তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন। এ সময় তার মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় স্ত্রী তাছলিমা সেই রক্ত মুছে ফেলেন। পরে বড় ভাইয়ের বিল্ডিংয়ের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্কে মরদেহ ফেলে দেওয়ার কথা বলা হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় প্রথমে মরদেহ বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়। সকালে মরদেহ ভেসে উঠলে আবারও স্ত্রী এবং ভাইয়েরা মিলে খাল থেকে তুলে এনে হাত-পা বেঁধে বড় ভাইয়ের টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় ঘাতক স্ত্রী তাছলিমা বেগম ও তার তিন ভাই ইসরাফিল, গোলাম হাক্কানী ও মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তারা শনিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দী দেন।
দেবিদ্বার থানার ওসি সামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, স্ত্রী তাছলিমার পরিকল্পনায় মাদক সেবনের লোভ দেখিয়ে ভালো ব্যবহার করে ডেকে নিয়ে তিন ভাইসহ চারজনে মিলে করিম ভূঁইয়াকে হত্যা করে। নিহতের ভাই আমির হোসেন থানায় সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নামে। পরে সন্দেহভাজন আসামিদের ওপর নজরদারি ও গ্রেপ্তারের ভিত্তিতেই মরদেহ উদ্ধার এবং হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়। নিহত করিম ভুইয়া প্রায় স্ত্রী তাছলিমা বেগম ও মেয়েকে পাশবিক নির্যাতন করতেন। এতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে এ হত্যাকান্ডটি ঘটায়।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
এসএসসি
(মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফলাফলে এবছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে সর্বোচ্চ
নম্বর অর্জনের কৃতিত্ব গড়লেন তাসনুবা ইসলাম তোহা।
নগরীর
নবাব ফয়েজুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে এসএসসি পরীক্ষায়
অংশ নেয় তাসনুবা।
পরীক্ষার
সর্বমোট ১৩০০ নম্বরের মধ্যে ১২৬১ নম্বর পেয়ে কুমিল্লা বোর্ডে সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়ার
রেকর্ড অর্জন করে।
কুমিল্লা
দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার গ্রামের মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার কন্যা তাসনুবা
ইসলাম তোহা।
তোহার
এ অর্জনে পুরো পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী সকলে খুশি। স্কুল জুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে।
তাসনুবা
ইসলাম তোহা বলেন, আল্লাহর নিকট শুকরিয়া। পরিশ্রমের প্রতিদান পেয়েছি। আমার এ অর্জনের
পেছনে মা-বাবা স্কুলের শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। আমি ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে দেশের
সেবায় নিয়োজিত হতে চাই।
মন্তব্য করুন


জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), কুমিল্লা কর্তৃক হারিয়ে যাওয়া ২৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার পূর্বক প্রকৃত মালিকের নিকট হস্তান্তর।
কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় অফিসার ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে হারিয়ে যাওয়া ২৬টি মোবাইল ফোন জিডি মূলে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা।
সোমবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও অফিসার ইনচার্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা রাজেস রড়ুয়া পিপিএম প্রকৃত মালিকগণের কাছে মোবাইল গুলো হস্তান্তর করে।
মোবাইল ফোন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিকটিমগণ তাদের হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন ফেরত পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কুমিল্লা পুলিশ সুপার, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মন্তব্য করুন