

শাহানাজ পারভিন চৌধুরী
পরিচালক, ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ
আজ ২১ মার্চ। বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস।পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও ভালোবাসার একটি শব্দ হচ্ছে মা। মায়ের কাছে একটি সন্তান যেমন তার জগৎ তেমনি সন্তানের কাছে তার মা-ই সব। আর এজন্য মা এবং সন্তানের মধ্যকার সম্পর্কটি সবচেয়ে মধুর ও মমতাময়। একটি সন্তান যখন ঠিক মতো খেতে পারে না কথা বলতে পারে না এমন কি নিজের কাজ নিজেও করতে পারে না তখন তাকে আগলে রাখেন মা। তার পরম মমতার চাদরের উষ্ণতায় তাকে বড় করে তোলে। সন্তানের সব আবদার মা হাসি মুখে মেনে নেয়। সেই ভালোবাসা মাখা মা ডাক মায়ের কাছে যেন মধুর থেকেও মধুর হয়ে যায়। এই ভাবেই মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক সুন্দর আর ভালোবাসা পূর্ণ হয়ে ওঠে। ডাউন সিনড্রোম শিশুরা সময়ের সাথে সাথে বয়সে বড় হলেও তাদের হৃদয় থাকে শিশুদের মতো কোমল। ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিরা মা-বাবা,আত্মীয়-স্বজন,প্রতিবেশী সকলের কাছ থেকে সব সময় শুধু একটা জিনিস ই চায় আর তা হলো - ভালোবাসা ।
প্রতি বছরের মতো ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ- দেশব্যাপী ডাউন সিনড্রোম কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে যথাযথ মর্যাদায় এ বিশেষ দিবসটি উদযাপন করছে। এ বছর জাতীয়ভাবে ১১তম ও আন্তর্জাতিকভাবে ১৯তম বারের মতো বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবসটি পালিত হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘ সারাবিশ্বে বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবসটি উদযাপন করে আসছে। এরই মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিরা সমাজে তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে একীভূত সমাজ গঠনে কার্যকরী অবদান রাখবে বলে আশা রাখি।
ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু ও ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমাকে প্রায়শই মায়েদের কাছ থেকে একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। তা হলো- ‘আপা, আমি আমার ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর যত্ন কিভাবে করবো? এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমার আজকে এই প্রবন্ধটি লেখা। যাতে করে মায়েরা তাদের শিশুকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারেন।
ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর যত্নে পিতামাতার ভূমিকা মুখ্য। কারণ শিশু স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় বাবা-মার সাথেই বেশি সময় অতিবাহিত করে থাকে।
আমি আমার সন্তান রাফানকে যেভাবে গড়ে তুলেছি তাই আজকে আমি আপনাদের কাছে তুলে ধরবো। নিম্নে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুকে বাবা-মা কিভাবে লালনপালন করবে তার একটি বয়সভিত্তিক সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হলো। উপস্থাপনাটি কোন গবেষণা বা প্রমিত মানদন্ডের ভিত্তিতে প্রণীত হয়নি। তাই এটি স্থান, কাল, পাত্রভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
৬-১২ সপ্তাহ
কিছুর প্রয়োজন হলে কান্না করা, শিশুর মাথা স্থির রাখা ও কোন জিনিসের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা এই বয়সে শিশুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিকাশ অন্যদের থেকে তুলনামূলক দেরিতে হওয়ায় মা-বাবাকে অল্প বয়স থেকেই ঘাড়, মেরুদণ্ড, শরীরের পেশীসমূহে দিনে দুইবার করে ম্যাসাজ করতে হবে। শিশুর সামনে ঝুনঝুনি বা হালকা রকমারি আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যাতে করে তার দৃষ্টির স্থিরতা আসে।
৩ মাস
বিভিন্ন ধরণের কু-ধ্বনি উচ্চারণ করা, মাকে চিনতে পারা, তার গলার আওয়াজ শুনে খোঁজা ও কিছুক্ষণ মাথা সোজা রাখা এই বয়সে সাধারণ শিশুদের বৈশিষ্ট্য। সেক্ষেত্রে মা শিশুকে কোলে নিয়ে আধবোলে কথা বলা, তালি বা শব্দের মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও নিয়মিত পেশীর ম্যাসাজ- এই বয়সে ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত করতে হবে।
৬ মাস
আধবুলি (বা…বা, দাদা….দা, মা…মা, মা…ম) করা, আশেপাশের শব্দে মাথা ঘোরানো, ঠেকা দিয়ে অল্প সময়ের জন্য বসা, চিত ও উপুড় হতে পারা এই সময়ের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। এই সময়ে বাবা-মা শিশুকে নরম বালিশে শোয়ানো ও নরম কিছু দিয়ে ঠেকা দেওয়ার মাধ্যমে বসানোর চেষ্টা করতে পারে।
৯ মাস
কিছু না ধরে বসা ও হামাগুড়ি দেওয়া এই বয়সে শিশুর মধ্যে না দেখলে বাবা-মা শিশুর চারপাশে বালিশ দিয়ে বসানোর চেষ্টা করবে এবং নিয়মিত পেশীর ম্যাসাজ করাবে।
১২ মাস
সব শেষ/আরো দাও বলতে পারে, দাঁড়ানোর চেষ্টা করা এবং আসবাবপত্র ধরে হাঁটা এই বয়স থেকেই একজন সাধারণ শিশু শুরু করে। কিন্তু এই বৈশিষ্ট্যগুলো একজন ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর মধ্যে না দেখা দিলে শিশুকে একটি ওয়াকার কিনে দিতে হবে এবং সাথে সাথে পেশীর ব্যায়ামগুলো চলমান রাখতে হবে।
১৮ মাস
কুকুরকে কুকুল, দুই শব্দে কথা বলা, গ্লাস ধরে পানি পান করা এবং হাঁটা এ বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর বিকাশ ধীরে হয়। তাই বাবা-মা শিশু কিছু না ধরতে পারলে শিশুর আঙ্গুল ও কব্জির সংযোগস্থলে নিয়মিত দুইবেলা ম্যাসাজ করবে এবং ওয়াকারের মাধ্যমে হাঁটানোর চেষ্টা করাতে হবে। এই বয়সেও সে এক শব্দের কথা না বললে, মা শিশুকে নিয়ে আয়নার সামনে বসে ধীর লয়ে কথা বলানোর চেষ্টা করবে।
২ বছর
সীমিত বহুবচনের ব্যবহার, কি/কোথায় জাতীয় প্রশ্ন ও এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, দৌঁড়াতে পারা, কিছু চাওয়া, পায়জামা ধরণের জামাকাপড় খুলে ফেলা এই বৈশিষ্ট্যগুলো দুই বছর বয়সে স্বাভাবিক। অন্যথায় বাবা-মা শিশুকে কোন কিছুতে দড়ি বেঁধে দিয়ে বা আসবাবপত্র ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করাতে হবে এবং ধীরেধীরে হাঁটানোর চেষ্টা করাতে হবে।
৩ বছর
প্রায় ৮০০০ শব্দ বলতে পারে, স্মৃতি হতে ৫ পর্যন্ত সংখ্যা, মৌলিক রংয়ের নাম, ক্রিয়ার অতীতকালের রূপ, তিন শব্দ বিশিষ্ট বাক্য যেমন, আমি ভাত খাই, বাবা কই যাও?, হাত তুলে কাঁধের উপর থেকে কিছু ছোঁড়া, কিছু সরিয়ে রাখা এই বয়সের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে তিন বছর বয়সে এই বৈশিষ্ট্যগুলো নাও পরিলক্ষিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বাবা-মা পরিচিত জিনিসপত্রের নাম বলা, শিশু যে শব্দগুলো বলে তা পুনরাবৃত্তি করা, বিভিন্ন রংয়ের সাথে পরিচয় করানোর চেষ্টা করতে হবে।
৪ বছর
নিজের নাম ও বয়স বলা, বস্তুর ব্যবহার সম্পর্কে জানা, সাইকেলে প্যাডেলিং করা, বই বা ম্যাগাজিন দেখে ছবির নাম বলা এই বয়সে শিশুদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। সেক্ষেত্রে বাবা-মা উক্ত ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু যদি এগুলো না করতে পারে তাহলে তাকে নিয়মিত বিভিন্ন রঙিন বই বা ছবিযুক্ত ম্যাগাজিন নিয়ে নিয়ম করে সকাল ও সন্ধ্যা দুইবেলা পড়ার টেবিলে বসাতে হবে। এর মাধ্যমে শিশুর যেমন বসার অভ্যাস তৈরি হবে তেমনি সে পড়ালেখার প্রতিও আগ্রহী হবে। এছাড়া বাংলা ও ইংরেজি বর্ণমালা শিশুকে লিখানোর চেষ্টা করাতে হবে এবং ধীরে ধীরে তাকে প্রি-স্কুলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
৫ বছর
১৫০০-২০০০ শব্দ বলতে পারা, শব্দের অনিয়মিত বহুবচনের ব্যবহার, বিভিন্ন জটিল বাক্য যেমন, আমরা নানা বাড়িতে এত সুন্দর ঘুরেছি যে খুব মজা হয়েছিলো, জামাকাপড়ের বোতাম লাগানো, কয়েকটি রংয়ের নাম বলা, সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারা, পা ফাঁকা করে লাফানো পাঁচ বছর বয়সী শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ।
মন্তব্য করুন


গণভবনকে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের
জাদুঘর নির্মাণের জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ
ইউনূস।
আজ সোমবার (২৮ অক্টোবর) গণভবন পরিদর্শনের
সময় এই নির্দেশ দেন তিনি।
‘‘গণভবনে ক্ষমতাচ্যুত ‘স্বৈরশাসক’ শেখ
হাসিনা গত ১৫ বছর ধরে বাস করেছিলেন, যা দমন ও তার নৃশংস শাসনের প্রতীক হয়ে উঠেছে’’
বলে উল্লেখ করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
গণভবনের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শনকালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) দুঃশাসনের স্মৃতি এবং জনগণ যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল, যখন তারা তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছিল, সেসব জাদুঘরের রাখা উচিত হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার কয়েক মুহূর্ত পর ৫ আগস্ট গণভবনে কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীরা গণভবনের দেয়াল ও কক্ষে গ্রাফিতি এঁকে এবং খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নোট লিখে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আয়নাঘর, যেখানে হাসিনার কুখ্যাত নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গোপনে শত শত ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধী কর্মীকে আটক করেছিল, তার একটি রেপ্লিকাও গণভবনের জাদুঘরে নির্মাণ করা উচিত। আয়নাঘরের উচিত দর্শকদের গোপন বন্দিদের নির্যাতনের কথা মনে করিয়ে দেওয়া।
গণভবন পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ।
এসময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী
মাহফুজ আলমও উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূস উপদেষ্টাদের জাদুঘর বিশেষজ্ঞদের
সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাদুঘরের জন্য প্রস্তাব চূড়ান্ত
করতে বলেন তিনি।
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০০৯ সাল
থেকে শুরু হওয়া হাসিনার শাসনের অপকর্মগুলো জাদুঘরে যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে; প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্ব মানবতার জন্য অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় শিক্ষা ও আদর্শ রেখে গেছেন; যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারি হিসেবে পথ দেখাবে।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম ও ওফাতের পবিত্র স্মৃতিবিজড়িত ১২ রবিউল আউয়াল ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) বিশ্ববাসী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত দিন। এ উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে বিশ্বজগতের হেদায়েত ও নাজাতের জন্য ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন’ তথা সারা জাহানের রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। নবী করিম (সা.) সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে নবী, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমতরূপে প্রেরণ করেছি’ (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)। মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তওহিদের মহান বাণী নিয়ে। সব ধরনের কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, পাপাচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তি, শান্তি, প্রগতি ও সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। বিশ্ববাসীকে তিনি মুক্তি ও শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছিলেন এবং সত্যের আলো জ্বালিয়েছেন। আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে মহানবীর (সা.) অনুপম জীবনাদর্শ, তার সর্বজনীন শিক্ষা ও সুন্নাহর অনুসরণ এবং ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকৃষ্টতম অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় এবং এর মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)’ উপলক্ষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহ তথা বিশ্ববাসীর শান্তি, মঙ্গল ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.) এর সুমহান আদর্শ ও সুন্নাহ যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তার
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার
(১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ারের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
জাহিদ হোসেন
বলেন, বেগম জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন। চিকিৎসকরাসহ
সবাই অত্যন্ত আশাবাদী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে যাবেন।
বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র
ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন তারা বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য
পরীক্ষা করছেন।
বিএনপির স্থায়ী
কমিটির এ সদস্য আরও জানান, ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। তার (বেগম
জিয়ার) ছোট ভাই, বোন সবাই খোঁজ নিচ্ছেন।
চলতি বছরের
২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবসে অংশ নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
সেদিন স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বেগম জিয়াকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।
তার একদিন পরেই
শ্বাসকষ্টের জটিলতা প্রকট হওয়ায় ঘটে স্বাস্থ্যের অবনতি। ২৩ নভেম্বর ভর্তি হন রাজধানীর
এভারকেয়ার হাসপাতালে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে হার্ট এবং ফুসফুসে। অবস্থার আরও অবনতি হলে
তাকে স্থানান্তর করা হয় সিসিইউতে। এখন পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ডাক্তারদের সমন্বয়ে গঠিত
একটি বিশেষায়িত মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


আবহাওয়া অধিদপ্তর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের চার বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে ।
মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
সেই কারণে সংস্থাটি জানিয়েছে, আজ শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলাসহ খুলনা, বরিশাল এবং ঢাকা বিভাগের দুই-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, দেশের অন্যান্য জায়গায় আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
পাশাপাশি আবহাওয়া অফিস বলছে, শুক্রবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া, শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা কমতে পারে। পরদিন রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এছাড়া আগামী কয়েক দিন শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
আর পরবর্তী বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
মন্তব্য করুন


প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর বা
ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে
দায়িত্ব পেয়েছেন মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম।
অন্যদিকে ডিজএফআই’র বর্তমান ডিজি মেজর
জেনারেল ফয়জুর রহমানকে লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল করা
হয়েছে।
আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) ডিজিএফআই’র প্রধান পদে পরিবর্তন আনা হয়।
২৪ ইনফ্রেন্টি ডিভিশনের জিওসি মেজর
জেনারেল মাইনুর রহমানকে লে. জেনারেল পদোন্নতি দিয়ে আর্টডক-এর জিওসির দায়িত্ব দেওয়া
হয়েছে। এ ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি পদে রদবদল করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল
চার্টার) বিষয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার
বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
আজ
শনিবার ( ৩১ জানুয়ারি ) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা
(ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এর
পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২
জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
এ
নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩০ জন, যা ২০২৪ সালের
৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক
পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
এর
আগে ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম জাতীয় নির্বাচনে ১২৫ জন এবং ১০ম নির্বাচনে
মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন।
ওআইসি’র
দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের
প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে
২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান
ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে
একজন পর্যবেক্ষক আসবেন।
পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল,
এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল
অ্যাফেয়ার্স-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী
কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক
পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ
বলেন, আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরো বাড়বে। আমন্ত্রণ জানানো কয়েকটি
দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।
যেসব
দেশ এখনো প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি— তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া,
ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ
এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের
নাম ঘোষণা করতে পারে।
এবারের
নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী
৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে
অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট।
মন্তব্য করুন


মৌসুমের শুরুতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁয়।
রোববার (১৭ নভেম্বর) সকালে নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
গতকাল শনিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় নওগাঁয়।
রোববার সকাল ১১টায় এ তথ্য জানা গেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর ওয়েবসাইট থেকে।
গতকাল থেকেই নওগাঁ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বেশ শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত শীতের প্রকোপ থাকছে বেশি।
অন্যদিকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের দাপট থাকছে বেশ। যদিও পুরোদমে শীতের আগমন আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে
পারবে না।
আজ শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর
কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’
শীর্ষক জাতীয় সংলাপে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, আপনারা এই সংলাপে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন; ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’।
সংস্কার বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন। এই তিন লক্ষ্যের কোনোটিকে ছাড়া কোনোটি
সফল হতে পারবে না। ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে
নিতে পারবে না।
সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একই
সঙ্গে চলতে থাকবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচনের
প্রস্তুতির কাজ মূলত নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু সংস্কারের কাজে সকল নাগরিককে অংশগ্রহণ
করতে হবে। যারা ভোটার তারা তো অংশগ্রহণ করবেনই, তার সঙ্গে যারা ভবিষ্যতে ভোটার হবেন
তারাও সর্বাত্মকভাবে সংস্কারের কাজে নিজেদেরকে
নিয়োজিত করুন। সংস্কারের কাজটা নাগরিকদের
জন্য সহজ করতে আমরা ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করে দিয়েছিলাম। তাদের প্রতিবেদন জানুয়ারি
মাসে পেয়ে যাব। প্রত্যেক সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রধান বিকল্পগুলো চিহ্নিত
করে তার মধ্য থেকে একটি বিকল্পকে জাতির জন্য সুপারিশ করা। যার যার ক্ষেত্রে সংস্কারের
মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কীভাবে রচিত হবে তা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশমালা তৈরি করে
দেওয়া, নাগরিকদের পক্ষে মতামত স্থির করা সহজ করে দেওয়া। কমিশনের প্রতিবেদনে সুপারিশ
করলেই আমাকে-আপনাকে তা মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এজন্য সর্বশেষ পর্যায়ে জাতীয়
ঐকমত্য গঠন কমিশন গঠন করা হয়েছে। যেমন একটা উদাহরণ দেই। কোন বয়সে একজন নাগরিক ভোটার
হতে পারবে তার জন্য নানা দেশে নানা বয়স নির্ধারণ করা আছে। নির্বাচন সংস্কার কমিশন
নিশ্চয়ই এরকম একটা বয়স সুপারিশ করবে। সে বয়স আমার পছন্দ হতেও পারে না-ও হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ধরুন আমি
তরুণদের তাড়াতাড়ি ভোটার করার পক্ষে। যে যত তরুণ, পরিবর্তনের প্রতি তার আগ্রহ তত বেশি-এই
হলো আমার যুক্তি। তরুণরা সংখ্যায়ও বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী। নিজের ভবিষ্যৎ
নিয়ে তার মতামত নেওয়ার জন্য আমি মনে করি ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।
নির্বাচন সংস্কার কমিশন কী সুপারিশ করবেন তা আমার জানা নেই। কিন্তু দেশের বেশিরভাগ
মানুষ যদি কমিশনের সুপারিশ করা বয়স পছন্দ করে, ঐকমত্যে পৌঁছার জন্য আমি তা মেনে নেব।
সবকটা কমিশন মিলে আমাদের সামনে বহু সুপারিশ তুলে ধরবে। আমরা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছি
যে যার যাই মতামত হোক না কেন আমরা দ্রুত একটা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত করে সংস্কারের কাজগুলো
করে ফেলতে চাই। নির্বাচনের পথে যেন এগিয়ে যেতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে চাই।
মন্তব্য করুন


পেশাদারত্ব ও ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ায়
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সাধুবাদ পেয়েছেন ক্যাপ্টেন
আশিক।
রোববার (১৮ আগস্ট) সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে
এক সাক্ষাতে এই সাধুবাদ জানান সেনাপ্রধান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিকূল
পরিস্থিতিতেও পেশাদারত্ব বজায় রাখায় ক্যাপ্টেন আশিককে সাধুবাদ জানান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।
ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের জন্য অনুপ্রাণিত করেন তিনি।
এসময় আরও দুই সেনা কর্মকর্তা উপস্থিত
ছিলেন। সেনাপ্রধানের সঙ্গে এক ফটোসেশনে অংশ নিতেও দেখা গেছে আশিককে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি
একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে শাহবাগ থানায় এক নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চবাচ্য করতে
দেখা যায়। এরকম পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন আশিক অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতির
সামাল দেন এবং সেটির সমাধান করেন। ক্যাপ্টেন আশিকের এই ধৈর্য ও পেশাদারত্ব দেখে নেটিজেনরা
প্রশংসা করছেন।
মন্তব্য করুন


ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
বলেছেন, দেশের দুর্যোগ দুর্দিনে এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশবাসীর কল্যাণে পাশে আছে
এবং থাকবে। বন্যায় যাদের ঘর ভেসে গেছে, তাদের নতুনভাবে ঘর করে দেওয়া হবে।
আজ (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর
জেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমটুয়া আল আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা মাঠে বানভাসিদের
মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, বন্যায় যারা অত্যন্ত
ক্ষতিগ্রস্ত, যাদের ঘর পানিতে মিশে গেছে, যারা রাস্তার ওপর থাকছেন তাদের ছোটখাটো বাড়ি
করে দেওয়া হবে।
ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, লক্ষ্মীপুর,
ফেনী ও নোয়াখালীতে বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে আলেম সমাজ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা মাঠে ময়দানে
গিয়ে সাহায্য করছেন। ফেনী মুহুরি নদীর দিকে বেসরকারি উদ্যোগে এক কোটি টাকা খরচ করে
বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগেও কাজ চলছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা এ বিপদ থেকে উদ্ধার
হতে পারবো। আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করি।
আল-মানাহিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ আয়োজন
করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের জামিয়া ইসলামিয়া জিরির মুতামিম মাওলানা
খোবাইন বিন তৈয়ব, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ
তারেক বিন রশিদ ও কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ
প্রমুখ।
আয়োজকরা জানায়, আল-মানাহিল ফাউন্ডেশনের
উদ্যোগে বন্যায় দুর্গত ৫০০ পরিবারে মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুই শতাধিক
মানুষের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।
মন্তব্য করুন