ডে-কেয়ারে ওয়াশিং মেশিনে শিশুদের আটকে নির্যাতন

ডে-কেয়ারে ওয়াশিং মেশিনে শিশুদের আটকে নির্যাতন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বেঙ্গালুরুতে তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাপজেমিনির’ ডে-কেয়ার বা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশুদের ওপর নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা সামনে এসেছে। ওই কেন্দ্রের কেয়ারগিভার বা আয়াদের বিরুদ্ধে দুই বছর বয়সী শিশুদের কান্নাকাটি থামানোর জন্য সচল ওয়াশিং মেশিনের ভেতর ঢুকিয়ে পানি ছিটানো ও বাথরুমে আটকে রাখার মতো রোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলা শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা তিলকেশ কুমার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রবেশন অফিসার তিলকেশ কুমার জানান, এই ডে-কেয়ার কেন্দ্রটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু নিবন্ধিত রয়েছে। যার মধ্যে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন শিশু আসত। এই নির্যাতন দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। এর আগেও একজন কর্মকর্তা বিষয়টি সুপারভাইজারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; উল্টো সেই হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্যফাঁসকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে শিশু নির্যাতনের সন্দেহ থাকলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চলতি সপ্তাহে এক অভিযোগকারীর প্রকাশ করা বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর মাধ্যমে এই নির্মম নির্যাতনের সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, মাত্র দুই বছর বয়সী অবুঝ শিশুদের ওয়াশিং মেশিনের ভেতরে বসিয়ে ওয়াটার জেট দিয়ে তীব্র গতিতে পানি স্প্রে করা হচ্ছে। অন্য কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের দীর্ঘ সময় অন্ধকার বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে।

তিলকেশ কুমার জানান, যেসব মানুষের ওপর শিশুদের যত্নের দায়িত্ব ছিল, তারাই শিশুদের কান্নাকাটি বা সামান্য শব্দ করার কারণে এই নির্যাতন চালাত। শিশুদের মুখ বন্ধ করতে তারা ওয়াশিং মেশিন ও বাথরুমকে শাস্তির জায়গা হিসেবে ব্যবহার করত। চাইল্ড হেল্পলাইনের মাধ্যমে এই অভিযোগ ও ভিডিও হাতে পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রুত থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করি।

এই রোমহর্ষক ঘটনায় ইতোমধ্যেই পাঁচ জন কেয়ারগিভারের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ড (ভুলবশত পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে না ভেবে) বেঙ্গালুরু পুলিশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগৃহীত সব ভিডিও প্রমাণ হিসেবে ‘কর্ণাটক রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের’ কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এক বিবৃতিতে ক্যাপজেমিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমাদের কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আপাতত ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

global fast coder

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ডেলিভারির ব্যথা উঠলে সাংবাদিকদের কাছে যাবেন: ফেসবুক পোস্টে চিকিৎসক

১

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার তরুণী

২

অডিট চলাকালে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তার বিষপানে মৃত্যু

৩

‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’— প্রচারাভিযান ১ ডিসেম্বর থেকে

৪

স্বামীকে দাফনের এক ঘণ্টা পরই স্ত্রীর মৃত্যু, একই কবরস্থানে পাশাপাশি চিরনিদ্রায়

৫

পরকীয়া প্রেমিক ও তার বন্ধুকে ডেকে স্বামীকে হত্যা, পরিবার জানতো হৃদরোগে মৃত্যু

৬

ধর্ষণের পর রক্তক্ষরণে প্রেমিকার মৃত্যু, প্রেমিক গ্রেপ্তার

৭

পুজোর উপহার পদ্মার ইলিশ না পেয়ে হতাশ কলকাতাবাসী

৮

ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন চার বিষয়: কুমিল্লায় শিক্ষামন্ত্রী মিলন

৯

কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল কুমিল্লার তরুণীর

১০

টাকা না দেওয়ায় মেলেনি ট্রলি, অক্সিজেন নিয়ে ছোটাছুটির পর শিশুর মৃত্যু

১১