

নিজের হাতে থাকা ২৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের
জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (১২) সচিবালয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফ
করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।
জনপ্রশাসন সচিব জানান, সব মন্ত্রণালয়ের
কাজ দ্রুত চালু করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ জন্য সাত দিন সময় দিয়ে এখন
থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। গত কয়েক বছর যারা পদোন্নতি থেকে
বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের দাবিগুলো শুনে শিগগিরই সিদ্ধান্ত হবে। মন্ত্রণালয় এবং দপ্তরগুলোকে
দ্রুত ফাংশনাল করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
জনপ্রশাসন সচিব বলেন, যেসব মন্ত্রণালয়ে
আগে মন্ত্রী ছিলেন সেসব মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে স্থবির হয়ে না যায়, সচিবরা সেসব কাজ
নিজ উদ্যোগে যাতে শুরু করেন তা নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, সার, বিদ্যুৎ, কৃষি, জ্বালানি,
বন্দর, খাদ্যসহ জরুরি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে সাত দিনের মধ্যে তালিকা করে কাজ শুরু করতে
হবে এবং তালিকাগুলো প্রধান উপদেষ্টাকে দিতে হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো ভোটের আগে কম সংস্কার চায় তাহলে ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর একটু বেশি সংস্কার চাইলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাবেক দুই মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মিলাম ও ড্যানিলোভিচ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে ড. ইউনূস সাবেক রাষ্ট্রদূতদের বলেন, ছয়টি কমিশনের সুপারিশ করা সংস্কারের বিষয়ে সংলাপ শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই মাসের সনদে সই করবে। জুলাই সনদ আমাদের পথ দেখাবে। অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই মাসের সনদে প্রদত্ত সুপারিশের কিছু অংশ বাস্তবায়ন করবে। বাকিগুলো রাজনৈতিক সরকারগুলো বাস্তবায়ন করবে।
এ সময় ড. ইউনূস অলাভজনক গোষ্ঠীর কাজ এবং বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমর্থন করার জন্য দুই কূটনীতিকের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাধীনতা অধিকারের কাজ এবং দেশকে গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এর কাজ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন দুই সাবেক রাষ্ট্রদূত।
১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন মিলাম। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশে ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বড় সুযোগ এনে দিয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ভুয়া সংবাদ এবং বিভ্রান্তির হুমকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের ইতিবাচক বক্তব্য ও গুরুতর প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তারা বর্তমান বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং তাদের জন্য সাহায্য হ্রাসের প্রভাব,সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রচেষ্টা এবং আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নিয়েও আলোচনা করেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের চার্জ
দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) হেলেন লাফেভ।
আজ বুধবার (অক্টোবর ২৩) রাষ্ট্রীয় অতিথি
ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট
বিভিন্ন বিষয় এবং সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি
ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকের প্রধান পয়েন্টগুলো নিয়ে আলাপ করেন।
হেলেন লাফেভ প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন,
আগামী সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবেন।
অধ্যাপক ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের
সংস্কার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এরই মধ্যে ছয়টি
প্রধান সংস্কার কমিশন তাদের কাজ শুরু করেছে এবং তারা অংশীজনদের সঙ্গে সংস্কার বিষয়ে
পরামর্শ করছেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন
কমিশন (ইসি) আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ
করছে। আইন অনুযায়ী নির্বাচনের ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশের করার বিধান রয়েছে।
আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশ
সরকারি মুদ্রণালয়ে ধারাবাহিকভাবে গেজেট ছাপানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
ইসির
অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, এবার ৪ হাজার ১০৩টি ভোটকেন্দ্রে চূড়ান্ত করা
হয়েছে।
কর্মকর্তারা
জানান, গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ শুরু হয়। এটি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন
করা হবে।
ইসির
উপসচিব (নির্বাচন সমন্বয় ও সহায়তা শাখা) মো. মাহবুব আলম শাহ স্বাক্ষরিত ভোটকেন্দ্রের
গেজেট সকলের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করছে ইসি সচিবালয়। এতে ভোটকেন্দ্রের ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের
নাম ও অবস্থান, ভোটকক্ষের সংখ্যা, ভোটার এলাকা, পুরুষ, নারী, হিজড়া ভোটার এবং মোট ভোটার
সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসির
অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল ২ হাজার
৭১৬টি। তারমধ্যে বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন ৭৩১টি, যা মোট দাখিলকৃত
মনোনয়নপত্রের ২৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বা ২৭ শতাংশ। আর বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৯৮৫টি মনোনয়নপত্র,
যা দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের ৭৩ দশমিক ০৮শতাংশ বা ৭৩ শতাংশ।
ইসি
সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৬১টি আপিল
আবেদন জমা পড়েছে। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর শুনানি আপিল আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন
কমিশন।
ইসি
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা
প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।
আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার
৬৩৩ জন।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি
আজ মঙ্গলবার (১২ মে)সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
'ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’
শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা
এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে
শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন
এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো
নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর
হয়ে পড়বে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ
শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার
সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল
সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি
একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র
বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরির বাজারে বেকারত্ব
বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।'
তারেক
রহমান বলেন, 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে
প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং
সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা
অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর
শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা
তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের
মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।'
তিনি
বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা
কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা
কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি
বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের
সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের
নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’
শিক্ষা
কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়।
অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না
পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।'
তিনি
বলেন, 'প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে
সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন
সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।'
বিশেষ
করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ
এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ
করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু
করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ
করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে
তাকে আর বেকার থাকতে হবে না '
তিনি
বলেন, 'কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক
প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য
হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং
সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরির
জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা
হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’,
সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের
ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ
এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার
ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলপর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। '
প্রধানমন্ত্রী
বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ
লেখক 'গুডউইন' যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে 'বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট'
হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই।
বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া 'ফেসবুক' নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের
বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম 'আলিবাবা'র কোনো 'মজুদ পণ্য' নেই।
বিশ্বের
সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার 'এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।'
অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো
মূলত: এক একটি 'স্মার্ট ইন্টারফেস'। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং
যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।
শিক্ষার্থীদের
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা
গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি,
ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের
'গবেষণা এবং উদ্ভাবন' কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে
বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।'
তিনি
বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে
প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা' উন্নয়নে সম্পৃক্ত
করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।'
মেধাভিত্তিক
দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও
সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের
পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন
করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। '
ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের
বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'স্বাধীনতাপ্রিয়
গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের
বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ
বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং
সমাজ গড়তে চায়।'
তিনি
বলেন, 'জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে
শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের
সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা
চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।'
তিনি
বলেন, 'তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক
মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা
সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।'
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসির
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল
হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক,
ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, বরং মানুষ
হিসেবে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে সাংবিধানিক অধিকার চাওয়ার আহ্বান
জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে হিন্দু
সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী
মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা করতে যাচ্ছি, যেখানে সবাই এক পরিবার। এটা হলো মূল জিনিস। এখানে
পরিবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা, বিভেদ করা, এটার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা মুসলমান,
হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে বিবেচিত নই; মানুষ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত
হোক। আপনারা যদি টেনে টেনে নিয়ে আসেন আমি ওমুক, আমি তমুক, এটা আবার পুরোনো জায়গায় চলে
গেলো। আপনারা বলেন যে আমি মানুষ, আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমার সাংবিধানিক অধিকার এই,
আমাকে দিতে হবে। সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন। সব সমস্যার গোড়া হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো
পচে গেছে। এ কারণেই এসব গোলমাল হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে হবে। ন্যায়বিচার
হলে কে বিচার পাবে না আমাকে বলেন। কোন ধর্মের, কোন জাতের, আইনে কি বলা আছে যে মুসলমান
সম্প্রদায় হলে এই আদালতে হবে, হিন্দু হলে ওই আদালতে যাবে। সবার জন্য আইন একটা, কার
সাধ্য আছে সেখানে বিভেদ করে যে এ রকম একটা, ওই রকম একটা। এটা এমন রোগ, মূলে যেতে হবে।
আপনারা যদি বলেন আমাদের সংখ্যালঘুরা, এটা বললে মূল সমস্যা থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।
আমাদের বলতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটা পেলে বাকস্বাধীনতা
প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটিই হলো আমাদের মূল লক্ষ্য।
সনির্বন্ধ অনুরোধ আপনারা বিভিন্ন খোপের (বিভেদ) মধ্যে চলে যাইয়েন না। এই খোপ হলে, খোপের
মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি লেগে যাবে। এক হয়ে আসেন। এক আইন, আমাদের আইনি অধিকার দিতে
হবে। বলেন, আপনারা আইনি অধিকার পান না, বিচার হয় না। এটাই হলো আসল জিনিস। বিচারব্যবস্থা
আমাদের দিকে তাকায় না, পুলিশ আমাদের দিকে তাকায় না। কারণ, আমি অধিকারটা … করতে পারি
নাই। আমাদের নীতিটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। খোপ খোপ করতে আরম্ভ করবেন, তারাও
মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলাতে আমাদের আর নিয়ে যাইয়েন না। আমরা এসেছি, আমরা এক মানুষ,
আমাদের এক অধিকার। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। একটু সহযোগিতা করেন আমাদের,
একটু ধৈর্য্য ধরেন। কী করতে পারলাম, কী পারলাম না সেটা পরে বিচার কইরেন। যদি না পারি
আমাদের দোষ দেবেন।
এর আগে সনাতন ধর্মের ধর্মীয় নেতারা
বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলার কথা তুলে ধরেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কাছে এসব
সমস্যার স্থায়ী প্রতিকার চান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়
প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তাদের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন


মাতৃভাষার জন্য জীবন
দেওয়ার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২১
ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার
স্বীকৃতি এনে দিতে আমাদের আত্মত্যাগ করতে হয়েছে অনেক। জাতির মুক্তি সংগ্রামের
ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই একটি
অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ভাষাভিত্তিক জাতিসত্তা ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের ভিত
রচিত হয়।
তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর
প্রায় সব দেশে নানান দেশের নানান ভাষার কিংবা হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কিছু মানুষ
নাগরিকত্ব গ্রহণ করে কয়েক প্রজন্ম ধরে বসবাস করে। নতুন দেশের ভাষা তাদের দৈনন্দিন
জীবনে চব্বিশ ঘণ্টার ভাষায় পরিণত হয়ে যায়, কিন্তু তবু সে ভাষা তার মাতৃভাষায় পরিণত
হয় না। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃভাষার চেতনা ও মর্যাদা
রক্ষার প্রেরণা ও এ চেতনার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকতার সূত্রে ২০০১ সালের ১৫ মার্চ
ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। বিশ্বের সব
মাতৃভাষার সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও গবেষণার ইতিবৃত্তকে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা
ইনস্টিটিউট তার যাত্রা শুরু করে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, একটি নতুন ভাষা শিখলেই পুরনো ভাষায় দুর্বল হয়ে পড়বে এই ধারণার কোনো ভিত্তি
নেই। পৃথিবীর বহু দেশে একই নাগরিক সাবলীলভাবে কয়েকটি ভাষায় কথা বলবে এটা খুবই
স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। তারা শৈশব থেকে নানান ভাষায় অভ্যস্ত হয়ে যায়।
স্কুলে পড়ার সময় প্রত্যেক ছাত্রকে অন্তত একটি ভিন্ন ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা
হয়। ছাত্ররাও আনন্দ সহকারে সেটা করে থাকে। ইংরেজি শিখলেই বাংলা ভুলে যেতে হবে এমন
কোনো চিন্তা তাদের কারও মাথায় আসে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
আমরা দ্রুত গতিতে নতুন পৃথিবী সৃষ্টি করে যাচ্ছি। এর জন্য মূলত নিত্যনতুন
প্রযুক্তি প্রধানত দায়ী। প্রযুক্তির প্রাধান্যের সঙ্গে আসে ভাষার প্রাধান্য। যে
দেশের প্রযুক্তি পৃথিবীতে প্রাধান্য অর্জন করতে থাকবে তার সঙ্গে প্রাধান্য অর্জন
করতে থাকবে প্রযুক্তিদাতা দেশের ভাষা। সারা পৃথিবী এই ভাষা শেখার জন্য ঝাঁপিয়ে
পড়বে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, ভাষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির সঙ্গে সাহিত্য, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান- সরাসরি জড়িত। আমরা যখন মাতৃভাষায় কথা বলি তখন যেন মনে রাখি মাতৃভাষা মানুষের প্রাথমিক ভাষা। সেই ভাষা প্রথম শ্রবণে যতই রূঢ় মনে হোক না কেন তা একদিন তার প্রাথমিক স্তর পার হয়ে বহু দেশের বহু মানুষের অত্যন্ত নমস্য ভাষায় পরিণত হতে পারে। যদি সে ভাষা পৃথিবীর অগ্রযাত্রায় কৌশলগত ভূমিকা দখল করে নিতে পারে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিধি আরও বড় হচ্ছে।
নতুন করে ৫ উপদেষ্টা যুক্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, লে.ক. (অব.) জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, আগামীকাল শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথ পাঠ করাবেন।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে নতুন উপদেষ্টাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য উপদেষ্টাগণ উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে, গত ৮ আগস্ট রাতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় গঠিত হলো দেশের বহুল আলোচিত অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সময় আরও ১৩ জন উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকেরা দরবার হলে উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে ১১ ও ১৩ আগস্ট আরও তিন জন উপদেষ্টা শপথ নেন। তারা ঢাকার বাইরে থাকায় পরে শপথ নেন।
অন্তর্বর্তী
সরকারের উপদেষ্টারা হলেন- ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত
হোসেন, ড. আসিফ নজরুল, হাসান আরিফ, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শারমিন মুরশিদ,
ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক), আদিলুর রহমান খান, সুপ্রদীপ চাকমা, ফরিদা আখতার, বিধান রঞ্জন
রায়, আ ফ ম খালিদ হাসান, নুরজাহান বেগম, মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকার
ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারের সন্তানদের সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করেছে ।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ রবিবার জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর।
আদেশ বাস্তবায়নে স্কুল ও কলেজ অধ্যক্ষদের নির্দেশনা দিয়ে আদেশে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
আরো বলা হয়, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ বা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের গেজেট যথাযথভাবে যাচাই করে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা
বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের আসন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র বা গেজেটের সত্যায়িত কপি আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে এবং ভর্তির সময় মূল কপি প্রদর্শন করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা
বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে ওই আসনে ভর্তি করতে হবে। কোনো অবস্থায় আসন শূন্য রাখা যাবে না।
মন্তব্য করুন


সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে সংবর্ধনা প্রদান করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি এ সংবর্ধনা প্রদান করেন।
এ সময় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা তাঁদের স্বপ্ন ও খেলোয়াড় জীবনের প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টার সামনে তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বিজয়ী খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দাবি ও কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ৩০ অক্টোবর কাঠমান্ডুতে সপ্তম সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে পরাজিত করে শিরোপ জিতে নেয় বাংলাদেশ দল।
নারী ফুটবলারদের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই সাফল্যের জন্য আমি পুরো জাতির পক্ষ থেকে তোমাদেরকে অভিনন্দন জানাই। জাতি তোমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশের মানুষ সাফল্য চায়, আর তোমরা সেই সাফল্য এনে দিয়েছ।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।
তিনি বলেন, অনেক বাধা পেরিয়ে আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। শুধু নারী ফুটবল দলই নয়, বাংলাদেশের নারীদের সামগ্রিকভাবে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
২০০৯ সালে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সাবিনা তাঁর আগের প্রজন্মের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, আগের প্রজন্ম
ফুটবলকে তাঁদের ভালবাসা হিসেবে বেছে নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
সাবিনা আরো বলেন, আমাদের অনেকে সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে এবং তার পরিবারকে আর্থিকভাবে
সাহায্য করতে হয়।
তিনি বলেন, আমাদের বেতন খুব বেশি নয়। এই বেতন দিয়ে পরিবারকে তেমন কোন সাহায্য করতে পারি না।
এই তারকা স্ট্রাইকার তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধার সংগ্রামের গল্প, যেমন মারিয়া মান্দারের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ময়মনসিংহের বিখ্যাত কলসিন্দুর গ্রামের মারিয়া, যেখান থেকে সাফ বিজয়ী দলের ছয়জন খেলোয়াড় এসেছেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবাকে হারান এবং মা তাকে বড় করেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা রানী সরকার ঢাকায় তাঁদের আবাসন সমস্যার কথা উল্লেখ করেন, আর মিডফিল্ডার মানিকা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলার দূরবর্তী লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ফুটবলার হিসেবে উঠে আসার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
মিডফিল্ডার স্বপ্না রানী তাঁর নিজ জেলা দিনাজপুরের রানীশংকৈল উপজেলায় তার গ্রামের দূর্বল অবকাঠামোর কথা বলেন।
উইঙ্গার কৃষ্ণা প্রধান উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করেন যেন তাঁদের জন্য এশিয়ার বাইরে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়, বিশেষ করে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বিজয়ী বার্সেলোনার সঙ্গে।
প্রধান উপদেষ্টা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তাদের ব্যক্তিগত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সংগ্রাম ও তাদের বিভিন্ন দাবি আলাদাভাবে কাগজে লিখে তাঁর কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য বলেন।
অধ্যাপক ইউনুস বলেন, ‘তোমরা যা কিছু চাও তা লিখতে দ্বিধা করো না আমরা তোমাদের দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। যদি কিছু এখনই করা সম্ভব হয়, আমরা তা করব’।
কোচ পিটার বাটলার এবং ম্যানেজার মাহমুদা আক্তারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া, সুপ্রদীপ চাকমা, অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং নূরজাহান বেগম।
মন্তব্য করুন


নিষ্ঠা,
শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও গভীর দেশপ্রেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা
বাহিনী ভবিষ্যতে একটি ‘প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক সামাজিক বাহিনী’
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার
(২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষ্যে দেওয়া
এক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
যেকোনো
সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’
মেনে চলা অপরিহার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দুটি বিষয়ে সামান্যতম
অবহেলা পরিলক্ষিত হলেও কোনো বাহিনী সুশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে না। কোনো বাহিনীর মধ্যে
ডিসিপ্লিনের অভাব দেখা দিলে তাদের সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়, এ বিষয়ে
খেয়াল রাখা জরুরি।
মহান
মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর গৌরবজনক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, প্রায়
৪০ হাজার রাইফেল নিয়ে আনসার সদস্যরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে
এ বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদ হয়েছেন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে মাগফেরাত কামনা
করেন তিনি।
স্বাধীনোত্তর
বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ
করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে
তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
এরই
অংশ হিসেবে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) ও আনসার বাহিনী একীভূত করা হয়। স্বাধীনতার
ঘোষকের সেই দূরদর্শী পদক্ষেপই আনসার ও ভিডিপিকে আজকের বহুমাত্রিক ও গণপ্রতিরক্ষায়
সক্ষম বাহিনীতে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করেছে।’
তিনি
আরও বলেন, পরবর্তীতে খালেদা জিয়া সরকারের সময় ১৯৯৫ সালে আনসার-ভিডিপি আইন প্রণয়নের
মাধ্যমে এ বাহিনীকে স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো থেকে একটি স্বতন্ত্র শৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা
দেওয়া হয়, যা এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মাইলফলক।
২০২৪
সালের ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে
তারেক রহমান বলেন, দেশের সব থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়
নিরাপত্তা সহায়তায় এ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
বাহিনীর
বর্তমান কাঠামোর প্রশংসা করে তিনি জানান, আনসার ও ভিডিপির চারটি প্রধান স্তম্ভ–
ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি সমন্বিতভাবে
দেশের নিরাপত্তায় কাজ করছে। বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য
চট্টগ্রামে নিয়োজিত। ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও শিল্পকারখানায়
নিরাপত্তা দিচ্ছে। এছাড়া ১৩ হাজারেরও বেশি হিল আনসার ও ভিডিপি সদস্য পাহাড়ে সম্প্রীতি
জোরদারে কাজ করছেন। তৃণমূল পর্যায়ে ভিডিপি ও টিডিপি সদস্যরা বাল্যবিবাহ রোধ, নারী
নির্যাতন মোকাবিলা, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং নগর নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রাখছেন।
আনসার-ভিডিপি
নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে
জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সঞ্জীবন প্রকল্পের’ মাধ্যমে গ্রামভিত্তিক উদ্যোক্তা সৃষ্টি
এবং ব্যাংক ও ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হচ্ছে।
এভিজবস
(আনসার অ্যান্ড ভিডিপি জব পোর্টাল) সফটওয়্যার এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)
ব্যবহার করে দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে তারেক
রহমান বলেন, ‘প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নিয়ে আনসার
ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ সদস্যদের জন্য সম্ভাবনার
দ্বার উন্মোচন করবে।’
জাপানি
ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স-জি (6G) ওয়েল্ডিংয়ের মতো
আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বাহিনীকে ক্রমান্বয়ে একটি ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট
প্ল্যাটফর্মে’ রূপান্তর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’
স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
বন্যা-অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এ বাহিনীর সাহসিকতা দৃষ্টান্তমূলক। পাশাপাশি রেইন
ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব
উদ্যোগ টেকসই উন্নয়নের পথে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
ক্রীড়া
ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ
গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে এ বাহিনী ‘স্বাধীনতা
পদক’ অর্জন করে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজনে
দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোয়েন করা
হয়েছে। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের জন্য স্পোর্টস
কার্ড ও বেতন কাঠামো চালু করেছে, যার আওতায় আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদও স্পোর্টস
কার্ড পেয়েছেন।
বাহিনীর
কাঠামোগত ও প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা ২০২৬’,
‘ভিডিপি প্রবিধানমালা ২০২৬’, ‘অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা ২০২৬’
এবং ‘আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৬’-এর
খসড়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম শক্তিশালী করতে
‘উপজেলা আনসার প্রবিধানমালা ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক
স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা জোরদারে সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করাকে
জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
দীর্ঘ
অভিজ্ঞতা ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি ভবিষ্যতে আরও দক্ষ এবং
গতিশীল বাহিনী হিসেবে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
মন্তব্য করুন