

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে সকলের
মানবাধিকার নিশ্চিত করতে গোটা বিশ্বের সম্মিলিত অঙ্গীকারের সঙ্গে বাংলাদেশের একাত্মতা
জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমন একটি বিশ্ব
গড়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবিক মর্যাদা সবার
জন্য সমুন্নত থাকবে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে
আজ বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ অঙ্গীকার করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের অধিকার,
আমাদের ভবিষ্যৎ, এখনই’
এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর মানবাধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে মৌলিক
স্বাধীনতার অবক্ষয়, ক্রমাগত বাড়তে থাকা অসমতা, অসহিষ্ণুতা, জলবায়ু সংকট, কর্তৃত্ববাদ
এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উত্থানের চ্যালেঞ্জের মুখে এই প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী
এবং প্রাসঙ্গিক।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র মর্যাদা,
সমতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে একটি মৌলিক দলিল, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মানবাধিকার
সার্বজনীন, অবিচ্ছেদ্য এবং সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য।
৭৬ বছর আগে মানবাধিকারের সার্বজনীন
ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়ার পর থেকে বিশ্বে নাগরিক মর্যাদার অগ্রগতি ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি
বলেন, ‘তবে, বিশ্বের বিভিন্ন অংশের দীর্ঘস্থায়ী সংকট নির্দেশ করে যে বিশ্বমানবতা সৃষ্টির
জন্য আমাদের এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এটি অত্যন্ত
দুঃখজনক যে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশার দিকে খুব কমই দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে
ফিলিস্তিনের জনগণের বিরুদ্ধে চলমান বর্বর নিপীড়নের অর্থ হলো আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে
ব্যর্থ। ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য একটি ন্যায্য, দীর্ঘস্থায়ী এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের
জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, আমরা গর্বিত যে, নয়টি মূল
মানবাধিকার চুক্তিতে সই করা দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকারের
সার্বজনীন ঘোষণাপত্রে নিহিত মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে অদম্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্বাধীনতা
ও মর্যাদার জন্য আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা কতটা দৃঢ় তা প্রমাণ করে উল্লেখ করে ড. ইউনূস
বলেন, ন্যায্য অধিকারের জন্য আমাদের জনগণ তাদের দৃঢ় প্রত্যয়কে পুনর্ব্যক্ত করেছে। আমাদের
তরুণ সমাজ যে সাহস নিয়ে মানুষের অধিকার রক্ষায় ব্রত হয়েছে তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা
আমাদের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করার যাত্রা শুরু করেছি।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের
সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ সর্বত্র মানবাধিকার রক্ষা ও প্রচারে অবদান রাখবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে আমাদের গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে থাকবে।
জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সুশাসন
সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ উল্লেখ করে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের সেই ঐকান্তিক প্রত্যাশার ভিত্তিতে সার্বিক কার্যক্রমে
সহায়তা করতে ২৯-৩০ অক্টোবর ঢাকা সফরকালে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার বাংলাদেশে
মানবাধিকার সংক্রান্ত একটি মিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সাংস্কৃতিক
ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, আর্থ-সামাজিক কাঠামো এবং বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার
প্রস্তাবিত ধারণাটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ সরকারের
সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রস্তাবিত এই মিশনের
লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্ম-পরিধি, গঠন কাঠামো ও পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যে পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয় সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
প্রস্তাবিত মিশনটি স্থাপনপূর্বক এটিকে কার্যকরী করার প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে সরকার আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে
যে সব এখনই বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার অতিদ্রুত কার্যকরের উদ্যোগ নেবে।
আজ শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে যে সব এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো আমরা দ্রুত
বাস্তবায়ন করে ফেলতে চাই। সে জন্য আমি চাইবো সংস্কার কমিশন আশু করণীয় বা দ্রুত বাস্তবায়ন
করা যায় এমন সুপারিশগুলো তাড়াতাড়ি আলাদাভাবে আমাদের কাছে পেশ করুক।
সিনিয়র সাংবাদিক কামাল আহমেদের নেতৃত্বাধীন
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের কাজকে অমূল্য উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা এ প্রতিবেদন যেন
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য মানুষ পড়তে পারে সে লক্ষ্যে
কাজ করার পরামর্শ দেন।
দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো একটি নির্দিষ্ট
স্যাটেলাইট ব্যবহারে বাধ্য বলে বিদেশ থেকে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো দেখা যায়
না, কমিশনের পক্ষ থেকে এমন তথ্য পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের টেলিভিশন
চ্যানেলগুলো যাতে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা এবং আগ্রহী বিদেশিরা দেখতে পারেন সেজন্য
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সরকার।
কমিশন প্রধান কামাল আহমেদসহ অন্যান্য
সদস্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।
কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের
সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের প্রতিনিধি শামসুল হক জাহিদ, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স
(অ্যাটকো) প্রতিনিধি মাছরাঙা টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী, নিউজ পেপার
ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সচিব আখতার হোসেন খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের
সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
ও ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের ট্রাস্টি ফাহিম আহমেদ, মিডিয়া সাপোর্ট নেটওয়ার্কের
আহ্বায়ক সাংবাদিক জিমি আমির, ডেইলি স্টারের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি মোস্তফা সবুজ, বিজনেস
স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর টিটু দত্ত গুপ্ত এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ
আল মামুন।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, ‘আজকে থেকে আমাদের কাজ হবে একটাই, সেটা হচ্ছে দেশ গঠন, রাষ্ট্র
পুনর্গঠন। এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
তিনি
বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই। আমরা শুধু স্বপ্ন দেখতে চাই
না। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের উপকার
হবে।’
আজ
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের
খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী
যখন খোর্দ্দ খাল খননকাজের উদ্বোধন শেষে পাশেই তৈরি সমাবেশ মঞ্চে ওঠেন, সেসময় খালের
দু’পাশে কয়েক হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তুমুল স্লোগান ও করতালি
দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশ সামনের দিকে
এগিয়ে যাবে। আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই, যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের
ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’
খাল
খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪৮ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর
রহমান শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই খাল পুনঃখননের এই অনুষ্ঠান। আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা
করি, কী প্রতিজ্ঞা প্রতিজ্ঞা? সেটা হচ্ছে-
দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।’
তিনি
বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোরআন শরীফে বলে দিয়েছেন, যে জাতি নিজেদেরকে সাহায্য
করে, আমি তাকে সাহায্য করি। এই খাল (খোর্দ্দ খাল) যদি খনন না করি কৃষক ভাইয়েরা কি পানি
পাবে? পাবে না। কাজেই খাল খনন করলে কৃষক ভাইয়েরা পানি পাবে। ঠিক একইভাবে আমরা যদি কাজ
করি, হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি, বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসাথে
কাজ করে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশকে আমরা পৃথিবীর বুকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত
করতে সক্ষম হবো।’
বিএনপি
জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আগামীতে সকল প্রতিশ্রুতি
আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করব।’
বিএনপির
শক্তির উৎস বাংলাদেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যারা
বিএনপি করি, আমরা যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল করি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার
নেতৃত্বে আমরা দল করেছি, আমরা সকলে বলি- জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
আপনাদের শক্তি হচ্ছে আমাদের শক্তি। আপনারা যতক্ষণ আমাদের পাশে থাকবেন, আপনাদের সমর্থন
যতক্ষণ থাকবে, আমাদের দেশ গড়ার কাজ ইনশাআল্লাহ চলতে থাকবে।’
দেশকে
সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘আজকে এই খাল কাটা অনুষ্ঠানে আসুন আমাদের প্রতিজ্ঞা হোক- ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার
আগে বাংলাদেশ।’
এ
সময় তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনারা আছেন নাকি আমার সঙ্গে দেশ
গড়ার কাজে?’ এমন প্রশ্ন শুনে জনগণ হাত নেড়ে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আছি আছি। এ কথা শুনে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলহামদুলিল্লাহ।
এর
আগে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ
খাল’ পুনঃখনন স্থলে পৌঁছে ফলক উন্মোচন করে কর্মসূচির উদ্বোধন
করেন প্রধানমন্ত্রী।
ফলক
উন্মোচনের পরে খালের তীরে নেমে কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন প্রধানমন্ত্রী। পরে খালের তীরে
বৃক্ষরোপণ করেন তিনি।
এই
সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোমিনুল
হক, জেলা সদস্য সচিব সলিম উল্যা সেলিম, শাহরাস্তি উপজেলা সভাপতি আয়াত আলী ভূঁইয়া, সহসভাপতি
আবু ইউসুফ রুপম উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭৮
সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খোর্দ্দ খাল খনন করেছিলেন। ৪৮ বছর পর সেই খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রয়াত জিয়াউর
রহমানের ছেলে তারেক রহমান।
মন্তব্য করুন


২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে আজ।
বেলা ১১টায় ফল স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফল প্রকাশিত হবে।
এ বছর ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। কয়েকটি পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে কয়েক দফায় স্থগিত করা হয়। পরে সংশোধিত সময়সূচি করেও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বাকি পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়। এরপর শুরু হয় বাতিল পরীক্ষাগুলো ফলাফল নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা। শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি ও জেএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা পরিমার্জন করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে শুধু এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলোর ফল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলাফল এবার নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হবে। তাছাড়া ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে কলেজ ছুটি থাকায় ফলাফল জানতে শিক্ষার্থীদের অনেকটা অনলাইন-নির্ভর থাকতে হবে।
শিক্ষা বোর্ড থেকেও অনলাইনে, এসএমএসে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে ফলাফল পাওয়া যাবে, তা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার কোনো অনুষ্ঠান না থাকায় সবার নজর অনলাইনের দিকে।
তবে এবার এসএমএসে ফল জানানোর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী—ফল প্রকাশের আগেই শিক্ষার্থীরা প্রি-রেজিস্ট্রেশন অর্থাৎ, আগেই এসএমএস পাঠিয়ে রাখতে পারবেন। যে যত আগে এসএমএস পাঠাবেন, তিনি তত আগে ফলাফল পাবেন।
যেকোনো অপারেটরের সিম ব্যবহার করা মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC<>Board Name (First 3 Letter) <> Roll <> Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে। যেমন: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের জন্য HSC <>DHA<> Roll <> 2023 লিখে 16222 নম্বরে সেন্ড করতে হবে।
জেএসসির ২৫, এসএসসির ৭৫ নম্বরের সমন্বয়ে তৈরি করা হবে ফল।
এইচএসসির ফল তৈরিতে সাবজেক্ট ম্যাপিং শুরু
ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাবে।
ফল প্রকাশের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে কলেজ ছুটি। দুর্গাপূজার যে ছুটি চলমান তা এদিনও থাকবে। ফলে কলেজে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকবে না। সেদিক বিবেচনায় অনলাইনে কীভাবে ফলাফল জানা যাবে, তা বিস্তারিত জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের ফল বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে Result sheet download করা যাবে। যেমন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট www.dhakaeducationboard.gov.bd, www.educationboardresults.gov.bd ও www.eduboardresults.gov.bd-এ Result কর্নারে ক্লিক করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের EIIN এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক Result sheet download করা যাবে এবং রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে Result sheet download করতে পারবে। সেখানে থাকা ফলাফল অপশনে ক্লিক করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই শিক্ষার্থীরা তার পুরো রেজাল্ট শিট দেখতে পাবেন।
এছাড়া SMS-এর মাধ্যমেও নিম্নোক্ত উপায়ে ফল সংগ্রহ করা যাবে: HSC Board name (first 3 letters) Roll Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: HSC Dha 123456 2024 লিখে 16222-তে পাঠাতে হবে।
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর ফলাফলের শিট পাবে, সেটাও জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়, স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঢুকে ইংরেজি অক্ষরে লেখা রেজাল্ট কর্নারে ক্লিক করতে হবে। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর অ্যান্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট ডাউনলোড করা যাবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, ‘ঠিক বেলা ১১টায় সব বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গেলেও শিক্ষার্থীরা ফল পাবেন। আর ১১টি বোর্ডের সমন্বিত যে ফল, তার সংক্ষিপ্তসার ঢাকা বোর্ড থেকে দেওয়া হবে। কোনো সংবাদ সম্মেলন বা ব্রিফিং করবো না আমরা। শুধু ফলাফলের সারসংক্ষেপটা আমরা সাংবাদিকদের দিয়ে দেবো।
গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। প্রথম প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী—৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।
সূচি অনুযায়ী—মোট ৬১ বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ বাকি ছিল। বিভিন্ন বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য) বিভিন্ন বিষয় থাকায় এতগুলো পরীক্ষা স্থগিত এবং পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তা বাতিল করা হয়।
এতে কারও পাঁচ বিষয়, আবার কারও ছয় বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। সেগুলোতে এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ করা হবে। আর যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর খাতা মূল্যায়ন করে নম্বর ও গ্রেড পয়েন্ট নির্ধারণ হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধান উপদেষ্টাকে তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর সম্পর্কে অবহিত করেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর শেষে গতকাল শুক্রবার দেশে ফিরেন। তিনি ১৫ অক্টোবর সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় যান।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশ গঠন করতে চেয়েছিলেন, বর্তমান সরকার সেভাবেই
চলার চেষ্টা করছে। মানুষ তাদের কাছেই প্রত্যাশা করে, যাদের কাছে কিছু পেতে পারে।
শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার (৩১ মে) ঢাকার কৃষিবিদ
ইনস্টিটিউটে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এই সময় হেসেখেলে কাটিয়ে
দিলে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
তারেক
রহমান বলেন, ‘জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন স্থানে নিয়ে গিয়েছেন,
তাতে মানুষ জিয়া ও বাংলাদেশকে এক রকম মনে করত।
কঠোর
পরিশ্রম, সততার মাধ্যমে দেশে অনেক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমানের সেই পথ অনুসরণ
করতে হবে।’
এ
সময় সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেশে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
বিষয়গুলো কিভাবে শিশুদের মাঝে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা
দেওয়া হয়েছে।
তারেক
রহমান এ সময় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগের মতো পরিশ্রম জারি রাখতে হবে। ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে
সরকারকে সফল করতে হবে।’
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।
বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাদের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাৎকালে
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং জাতীয় স্বার্থ
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ
সময় প্রধানমন্ত্রী বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধানের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সাফল্যের
প্রশংসা করেন। তিনি নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন, পেশাগত উৎকর্ষ সাধন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি
দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে নৌবাহিনীকে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে নৌবাহিনী
প্রধানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
দেশের
সংকটকালে নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে এডমিরাল নাজমুল হাসান দেশ ও জাতির কল্যাণে যে পদক্ষেপ
গ্রহণ করেছেন, তা ছিল সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর।
অস্থিতিশীল
পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে
সহায়তা ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে নৌবাহিনীর অনবদ্য ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী
ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে তিনি বিদায়ি নৌবাহিনী প্রধান ও তার পরিবারের সুস্থতা,
দীর্ঘায়ু ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেন।
বিদায়ি
নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান তার দায়িত্ব পালনকালে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন
ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা, দিকনির্দেশনা ও আন্তরিক সমর্থনের
জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর
এ সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন


দায়িত্ব
গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী।
সোমবার
(২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগ করছেন।
এর
আগে গত রোববার (২১ জুন) রাতে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি
রেগুলার ফ্লাইটে মালয়েশিয়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা
রহমান।
বিমানবন্দরে
মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর
এই সফরসঙ্গী দলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১০ জনসহ মোট ২৩ জন অফিশিয়াল
ডেলিগেশন ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার এই সফল সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের
ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মালয়েশিয়ার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান ও তার প্রতিনিধি দল সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
চীনেও
দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
মন্তব্য করুন


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান
উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ (৬ অক্টোবর ২০২৪) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান
অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে 'সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৪' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
করেন।
১ম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল ও
লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত
হবেন।
পদোন্নতি পর্ষদের মূল্যবান বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা
ছাত্র-জনতার বিপ্লবে সিক্ত নতুন বাংলাদেশে সকলকে স্বাগত জানান। এসময় তিনি গভীর
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সকলের
প্রতি।
তিনি আরও স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী
সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনাবাহিনীর শহিদসহ সকল বীর সেনানীদের যাঁদের আত্মত্যাগ জাতি
চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা পদোন্নতির জন্য অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা,
নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি
নিযুক্তিগত উপযুক্ততার উপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা
প্রদান করেন। এছাড়াও সৎ, নীতিবান এবং নেতৃত্বের অন্যান্য গুণাবলী সম্পন্ন
অফিসারগণই উচ্চতর পদোন্নতির দাবিদার বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাছাড়া রাজনৈতিক
মতাদর্শের উর্দ্ধে থেকে যে সমস্ত অফিসার সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য
নেতৃত্ব প্রদানে সফল হয়েছেন সেই সকল অফিসারদেরকে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করার
নির্দেশনা প্রদান করেন।
তিনি বলেন, দেশের ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের
মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে
ত্বরান্বিত করে দেশকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা করেছে। ফলশ্রুতিতে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আবারও দেশের মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ
করেছে বলে তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি; প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারি, চীফ অব জেনারেল স্টাফ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় সেনাবাহিনী প্রধান প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সচিব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাগণের সাথে ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
মন্তব্য করুন


সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শোক বার্তায় তিনি বলেন, জাতি একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদকে হারালো।
আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান- জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
বার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। চিকিৎসক ও জনসেবক হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সুদীর্ঘ ও বহুল সম্মানিত কর্মজীবনের কথা স্মরণ করেন তিনি।
ডা. বদরুদ্দোজা দেশের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক হিসেবে সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিটিভিতে তার ‘আমার ডাক্তার’ অনুষ্ঠানটি কোটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় ছিল।
‘রাজনীতিতেও একই নিষ্ঠা নিয়ে এসেছিলেন ডা. বদরুদ্দোজা। পাঁচবারের সংসদ সদস্য হিসেবে নব্বইয়ের দশকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সংসদে তার বক্তব্য সব মতের রাজনীতিবিদদের কাছে প্রশংসনীয় ছিল,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
ডা. বদরুদ্দোজা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করেছেন। তিনি তার উদারতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
ডা. বদরুদ্দোজার জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সবাইকে জনগণ ও গণতন্ত্রের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৫ জুন) পবিত্র হজ আজ। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে আজ মুখর আরাফাতের ময়দান।
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানে অবস্থান করবেন বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশ থেকে আগত লাখ লাখ মুসলমান। আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
শুক্রবার (১৪ জুন) মিনায় অবস্থান করেছেন হজযাত্রীরা। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরে হজের নিয়ত করে তাঁরা মক্কা থেকে মিনায় যান। মিনায় নিজ নিজ তাঁবুর মধ্যে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করেন। আজ ফজরের নামাজ আদায় করেই তাঁরা যাবেন আরাফাতের ময়দানে।
লাখো কণ্ঠে আরাফাতের ময়দানে ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।
পবিত্র হজ মহান আল্লাহর একটি বিশেষ বিধান। হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘ইচ্ছা করা’।
হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান সব মুসলমান পুরুষ ও নারীর ওপর হজ ফরজ।
আরাফাতের ময়দান মক্কা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এটি দৈর্ঘ্যে দুই কিলোমিটার, প্রস্থেও দুই কিলোমিটার। এই ময়দানের তিন দিক পাহাড়বেষ্টিত।
আরাফাতে রয়েছে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়। এই ময়দানে উপস্থিত হাজিদের উদ্দেশে খুতবা দেওয়া সুন্নত। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এখানকার মসজিদে নামিরা থেকে বিখ্যাত বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।
আরাফাতে অবস্থান হজের শ্রেষ্ঠ রুকন। কারণ আরাফাতের ময়দান যেন বিশ্ব সম্মিলন। লাখ লাখ হাজির এ ময়দানে মুসলিমদের একতার ইঙ্গিত বহন করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে এই নামাজ আদায় করেছে আর এর আগে আরাফায় অবস্থান করেছে দিনে বা রাতে, তার হজ পূর্ণ হয়েছে এবং সে তার ইহরাম শেষ করেছে। ’ (সুনানে নাসায়ি)
আরাফাতের ময়দান থেকে মুসলিমদের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শান্তির বার্তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মহান আল্লাহ আরাফাতের দিন ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বিন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলাম তোমাদের দ্বিন মনোনীত করলাম। ’(সুরা : মায়েদা, আয়াত: ৩)
আজ মসজিদে নামিরা থেকে খুতবা দেবেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ মাহের বিন হামাদ আল-মুয়াইকিলি। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানারাতুল হারামাইন (manaratal haramain) ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে তা সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।
এদিকে কয়েক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এ খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হচ্ছে। টানা পাঁচ বছরের মতো এবারও বাংলাসহ ২০টির বেশি ভাষায় আরাফাতের খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হবে। এ বছর এর বাংলা অনুবাদ উপস্থাপন করবেন মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. খলীলুর রহমান।
হজের অংশ হিসেবে জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ এই পাঁচ দিনে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও মক্কায় অবস্থান করে হজযাত্রীরা হজের কার্যক্রম পালন করবেন। এর মধ্যে আজ শনিবার (০৯ জিলহজ) আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আসর নামাজ একসঙ্গে পড়বেন। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন। সূর্যাস্তের পর সবাই আরাফাত থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে একসঙ্গে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ে রাত্রিযাপন করবেন। মুজদালিফা থেকে তিন জামারার জন্য তাঁরা পাথর সংগ্রহ করবেন।
পরদিন রোববার (১০ জিলহজ) মিনায় বড় জামারায় গিয়ে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর কোরবানি করে মাথা ন্যাড়া করবেন। তখন ইহরামের কাপড় বদলে স্বাভাবিক পোশাক পরে মিনা থেকে মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ সাতবার তাওয়াফ করবেন। কাবার সামনের দুই পাহাড় সাফা ও মারওয়ায় সাঈ (সাতবার দৌড়ানো) করবেন। সেখান থেকে তাঁরা আবার মিনায় ফিরে যাবেন। সেখানে তাঁরা দুই দিন বা তিন দিন (১১ থেকে ১২ বা ১৩ জিলহজ) (বড়, মধ্যম, ছোট) জামারায় সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মক্কায় বিদায়ি তাওয়াফ করে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
সৌদি আরবের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এবার হজে অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ থেকে ১৫ লাখের বেশি হজযাত্রী দেশটিতে গেছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশসহ ৮৮টি দেশের এক হাজার ৩২২ জন হজ করছেন। তা ছাড়া এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বা আহত ফিলিস্তিনি পরিবারের আরও এক হাজার জন হজ করছেন। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের ৪ হাজার ২০০ জন ফিলিস্তিনি এবার হজ করছেন। এদিকে দীর্ঘ এক যুগ পর সিরিয়া থেকে সৌদি আরবের হজ ফ্লাইট চালু হয়। এবার দেশটি থেকে ১৭ হাজারের বেশি মুসল্লি হজে অংশ নিচ্ছেন।
হজের স্থানগুলোর আশপাশে ৩২টি হাসপাতালসহ ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক আছে। এসব স্থানে পাঁচ হাজারের বেশি চিকিৎসকসহ ৩২ হাজারের বেশি চিকিৎসাকর্মী রয়েছেন। তা ছাড়া সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাকর্মীসহ দুই হাজার ৫৪০ জনের বেশি জরুরি সেবা দিচ্ছেন। আল্লাহর মেহমানদের যাতে কষ্ট না হয়, সে জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ হাজিদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। হজের সময় তীব্র তাপমাত্রা নিয়ে সতর্ক করে হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন