

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনপ্রত্যাশিত গণতন্ত্রকে
রক্ষা করার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের। ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের প্রত্যাবর্তন এবং ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় ও অটুট রাখার
আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত "গণঅভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন" শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী
তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের প্রথমদিকের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৫ জুলাই যখন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে?
রাজাকার রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে কে
বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল
এই আন্দোলনের সাথে।" দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার
প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো এ
দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সেজন্য
আমরা রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই। এই লক্ষ্যে আমাদের
প্রণীত ৩১ দফার আলোকেই
নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে
‘জাতীয় জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী
সংবিধান ও অন্যান্য আইন-কানুনের প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করা আমাদের অঙ্গীকার।”
বিগত
স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।” তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে
আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই প্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আওয়ামী
লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ
বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার
(Judicial Process) মাধ্যমে
ফ্যাসিবাদের দোসর এই সংগঠনের রাজনৈতিক
ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে, যার ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের
কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী
গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের
দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের
মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ
ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার
মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা
চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।”
সালাহউদ্দিন
আহমদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এত বড় ম্যাসাকার
বা হত্যাকাণ্ডের পরেও আওয়ামী লীগ ও তার নেত্রীর
মনে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার
বালাই নেই, উল্টো তারা জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের ‘জঙ্গিবাদী’ আখ্যা দিয়ে পুনরায় রাজনীতিতে ফেরার ঘৃণ্য স্বপ্ন দেখছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই রক্ষীবাহিনী দিয়ে ৩০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে
হত্যা, ধর্ষণের সেঞ্চুরি, একদলীয় বাকশাল কায়েম এবং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার ইতিহাস।
জুলাই
আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা ব্যবসা না
করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই জুলাই বিপ্লবের
কৃতিত্ব কারো একার নয়। এ দেশের সাধারণ
মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, কৃতিত্ব কেবলই তাদের।” তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পরিণতি কেমন হয় তা ভবিষ্যৎ
সরকারগুলোর শিক্ষা নেওয়ার জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করা
হচ্ছে। মন্ত্রী '৭১ ও '২৪-এর শহীদদের স্বপ্নের
একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ
বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিএনপি'র যুগ্ম-মহাসচিব
হাবিব উন নবী খান
সোহেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা
করা হয়।
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত চার বিচারপতি আজ শপথগ্রহণ করেছেন।
শপথগ্রহণ করা আপিল বিভাগের চার বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আপিল বিভাগের চার নবনিযুক্ত বিচারককে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
শপথ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং অন্যান্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
চার বিচারপতি নিয়োগ কার্যকরের মধ্য দিয়ে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৬ জনে।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চার বিচারপতিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (১২ আগস্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত চারজন বিচারককে তাদের শপথগ্রহণের তারিখ থেকে আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। শপথগ্রহণের দিন থেকে এই নিয়োগ কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত শনিবার (১০আগস্ট) দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এবং আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ৭। শনিবার রাতে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পরদিন রোববার (১২ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৬ সালের ২৩ আগস্ট এই তিন বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
মন্তব্য করুন


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে প্রথমবার সচিবালয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আসেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ড. ইউনূসকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে এখন অনুষ্ঠিত পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে হয়েছে। এই প্রথম সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, যারা টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মাঠ নিয়ন্ত্রণকে
কেন্দ্র করে হতাহতের ঘটনায় জড়িত, তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। এতে ছাড় দেওয়ার
কোনো অবকাশ নেই। খুনিদের কোনো অবস্থায় ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। যারা প্রকৃত দোষী তাদেরকে
আইনের আওতায় আনা হবে।
আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে টঙ্গীতে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের
লক্ষ্যে তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের (জোবায়ের ও সাদ) সাথে বিশেষ আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম
চৌধুরী বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অন্যায়কারীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সঠিক তদন্ত
করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে অনমনীয় অবস্থান থেকে সরে এসে
ছাড় দিতে হবে। তবেই আমরা একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিশ্ব ইজতেমা উপহার দিতে পারব। উপদেষ্টা এ সময় বিশ্ব ইজতেমার মাঠে অনাকাঙ্ক্ষিত
ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফেরাত এবং আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার
প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ
(অব.), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরীসহ
আরও অনেকে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন কাতার সফরে
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হচ্ছেন বাংলাদেশের চার জাতীয় নারী
ক্রীড়াবিদ। তাঁরা হলেন ফুটবলার আফিদা খন্দকার ও শাহেদা আক্তার রিপা, ক্রিকেটার সুমাইয়া
আক্তার ও শারমিন সুলতানা।
এবারই প্রথম কোনো
সরকার প্রধানের রাষ্ট্রীয় সফরে সঙ্গী হতে যাচ্ছেন নারী ক্রীড়াবিদদের একটি দল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা
৬টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁর সফরসঙ্গী
হতে যাওয়া এই চার ক্রীড়াবিদ। বাংলাদেশের এই নারী ক্রীড়াবিদদের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে
কাতার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে কাতার ফাউন্ডেশন।
প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চার নারী ক্রীড়াবিদ।
তারা বলেন, ‘আমরা
এ সফরের আমন্ত্রণ পেয়ে ভীষণ আনন্দিত এবং আমাদের টিমমেটরাও আমাদের এ আমন্ত্রণে উচ্ছ্বসিত।’
নারী ফুটবলাররা জানান,
‘দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে এশিয়ার অন্য দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলার খুব একটা সুযোগ আমাদের হয়
না। আমরা কাতার নারী টিমকে আমাদের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানাতে চাই। এ
সফরে আমরা তাদের স্পোর্টস ফ্যাসিলিটিসগুলো ঘুরে দেখতে চাই। তাদের প্রফেশনাল চিন্তাভাবনাগুলো
জানতে চাই।’
নারী ক্রিকেটাররা
প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, ‘কাতারে ক্রিকেট তেমনটা জনপ্রিয় নয়। আমরা এ সফরে ক্রিকেট নিয়ে
তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরির চেষ্টা করব। আমাদের পুরুষ ক্রিকেট দল ও নারী ক্রিকেট দলের
গল্পগুলো তুলে ধরব। আমরা একটি প্রেজেন্টেশন তৈরি করে নিয়ে যাব।’
বৈঠকে নিজেদের জীবন
সংগ্রামের কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানান চার নারী ক্রীড়াবিদ। সরকার প্রধানের সঙ্গে রাষ্ট্রীয়
সফরের সুযোগ দেওয়ায় প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান তারা।
তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা
ও কাতার সফর নিয়ে পরিকল্পনা শুনে ব্যাপক উৎসাহ ও সমর্থন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘আমি চাই,
তোমরা তোমাদের জীবনের সত্যিকারের কথাগুলো তাদের কাছে তুলে ধরবে। তোমরাই এদেশের স্পোর্টস
অ্যাম্বাসেডর। সেখানে তোমরা এদেশের স্পোর্টসকে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমাদের এ রাষ্ট্রীয়
সফরে সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে আমিও ভীষণ আনন্দিত।’
নারী ক্রীড়াবিদদের
এ সফর সফল করতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস
দেন মুহাম্মদ ইউনূস।
আর্থনা সম্মেলনে যোগ
দিতে আগামী সোমবার চারদিনের সফরে কাতার যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিজিবির সঙ্গে স্থানীয় জনগণের শক্ত অবস্থানের কারণে সীমান্তে ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
রোববার (১২ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ কথা জানান।
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি সীমান্তের ৫টি জায়গায় ভারত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণকাজ শুরু করেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে স্থানীয় জনগণের শক্ত অবস্থানের কারণে ভারত ওইসব স্থানে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হচ্ছে। এ মুহূর্তে কাজ বন্ধ আছে। ভারতের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়টি জানানো হবে।
মন্তব্য করুন


মেট্রোরেল নির্বাচনের দিনেও যথা নিয়মে চলবে বলে জানিয়েছেন মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল)।
শনিবার(৬ জানুয়ারি) সকালে ডিএমটিসিএল জেনারেল ম্যানেজার (অপারেশন) মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মোহাম্মদ ইফতিখার হোসেন বলেন, আমরা এই বিষয়ে কোনো ঘোষণা দিইনি। যেহেতু দিইনি, সেহেতু মেট্রোরেল চলবে। যদি না চলতো, তহালে আমরা নোটিশ দিতাম, ঘোষণা দিতাম। শুক্রবার মেট্রোরেলের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন নিময় অনুযায়ী মেট্রোরেল সাভাবিক ভাবে চলাচল করবে।
মন্তব্য করুন


লন্ডনে
চার মাস চিকিৎসা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী মঙ্গলবার (৬ মে) সকালে
ঢাকায় ফিরছেন। তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন দুই পুত্রবধূ। এদিন সকালে কাতারের আমিরের পাঠানো একটি বিশেষ এয়ার
অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পৌঁছাবেন তিনি।
বেগম
খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বলছে, বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে
ফেরা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, পাশাপাশি
থাকবে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা।
ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার
(ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা
উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তার বাসভবন
পর্যন্ত যাত্রা সুগম করতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাও
থাকবে।
ঢাকা
মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়ার ঢাকায় ফেরার উপলক্ষে
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তার জন্য
কাজ করছে। একইরকম তথ্য দিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি
জানান, আগামীকাল সোমবার (৫ মে) যাত্রা শুরু করে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হযরত
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহন করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি অবতরণ করবে। এদিন
বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা পর্যন্ত খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে থাকবে নিশ্ছিদ্র
নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া নেতাকর্মীদের জন্যও জারি করা হয়েছে কড়া নির্দেশনা।
নির্দেশনাগুলো
হলো: অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে কোনো যানজট সৃষ্টি না করে একহাতে
জাতীয় পতাকা এবং আরেক হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে দেশনেত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
এছাড়া
সাধারণের চলাচলের জন্য ওইদিন বিমানবন্দর থেকে কাকলী পর্যন্ত মূল সড়ক এড়িয়ে এলিভেটেড
এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।
আরও
বলা হয়েছে, বিমানবন্দর ও চেয়ারপারসনের বাসভবনে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সব নেতাকর্মী
দলীয় পতাকা এবং জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তার একপাশে দাঁড়াবে। চেয়ারপারসনের গাড়ির সঙ্গে
মোটরসাইকেল এবং হাঁটা সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।
অভ্যর্থনা
জানানোর জন্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অবস্থানের কথাও জানিয়েছে দলটি।
সংগঠনের
নাম ও অবস্থান:
>মহানগর
উত্তর বিএনপি, বিমানবন্দর থেকে লা মেরিডিয়ান হোটেল।
>ছাত্রদল,
লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে খিলক্ষেত।
>যুবদল,
খিলক্ষেত থেকে হোটেল র্যাডিসন।
>মহানগর
দক্ষিণ বিএনপি, হোটেল র্যাডিসন থেকে আর্মি স্টেডিয়াম।
>স্বেচ্ছাসেবক
দল, আর্মি স্টেডিয়াম থেকে বনানী কবরস্থান।
>কৃষকদল,
বনানী কবরস্থান থেকে কাকলী মোড়।
>শ্রমিক
দল, কাকলী মোড় থেকে বনানী শেরাটন হোটেল।
>ওলামা
দল, তাঁতী দল, জাসাস, মৎস্যজীবী দল, বনানী শেরাটন হোটেল থেকে বনানী কাঁচাবাজার।
>মুক্তিযোদ্ধা
দল ও সব পেশাজীবী সংগঠন, বনানী কাঁচাবাজার থেকে গুলশান-২।
>মহিলা
দল, গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ রোড।
>বিএনপি
জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা, গুলশান-২ গোলচত্বর থেকে গুলশান অ্যাভিনিউ রোড।
>বিভিন্ন
জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী, যার যার সুবিধামতো স্থানে অবস্থান করবেন।
মন্তব্য করুন


সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সরকারি চাকরিতে
পুলিশ ভেরিফিকেশন বিধিমালা চূড়ান্ত করেছে ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পিএসসি সূত্রে জানা গেছে
, সরকারি চাকরি (প্রার্থীর প্রাক-পরিচয় যাচাই) বিধিমালা-২০২৫ চূড়ান্ত করেছে
প্রতিষ্ঠানটি। বিধিমালা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বিসিএসসহ সকল সরকারি
চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে এই বিধি প্রযোজ্য।
এছাড়াও, নন-ক্যাডার বিধিমালা-২০২৩ সংশোধনের জন্য
কমিশনের দ্বিতীয় বিশেষ সভায় আলোচনা চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদের
পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নিয়েও কমিশন আলোচনা চলছে।
মন্তব্য করুন


পৃথক দুইটি অভিযানে কুমিল্লা কর্তৃক কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বাতিশা বাজার ও মিয়াবাজার এলাকা হতে ২৯৯ বোতল স্কাফ, ১২.৮ কেজি গাঁজা ও ১০৯ বোতল ফেন্সিডিল’সহ চারজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
নিয়মিত টহলের অংশ হিসাবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৭ নভেম্বর শুক্রবার রাতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন বাতিশা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ২৯৯ বোতল স্কাফ, ৬০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২.৮ কেজি গাঁজা’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলো: কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার কালিকাপুর গ্রামের মৃত সাচ্চু মিয়া এর ছেলে মোঃ ইমরান হোসেন (২৯) এবং একই গ্রামের মোঃ আব্দুল মান্নান এর ছেলে মোঃ ইসলাম (২৮)।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ১৮ নভেম্বর শনিবার রাতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন মিয়াবাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ৪৯ বোতল ফেন্সিডিল ও ১০ কেজি গাঁজা’সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয় হলো: নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার দৌলতপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক এর ছেলে মোঃ রনি (৩০) এবং একই থানার ধরপদ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের গিয়াস উদ্দিন এর ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন (৫০)। এসময় মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লা’সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কাফ, ফেন্সিডিল, গাঁজা’সহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে যে রিউমার বা কথাবার্তা
শোনা যাচ্ছে, অনেকেই শুনতে চাচ্ছেন আমাদের থেকে, কথা হচ্ছে এ বিষয়ে এর আগেও আমরা স্পষ্টভাবে
বলেছি যে এখনই রাজনৈতিক দল খোলার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে
যা আছেন তাদের ক্ষমতার অভিলাস নেই।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও
বলেন, আপনারা জানেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছেন তাদের পেশাগত জীবন আছে। সবাই
সেখানে ফিরে যেতে চাই। দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা
যথাযথভাবে পালন করা, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফল ঘটিয়ে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে
গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর
তেরখাদিয়া এলাকায় জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এসব
কথা বলেন।
উপদেষ্টা আসিফ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
বলেন, আমরা যে সংস্কারের কথা বলেছি, সেটা ছিল এক দফা সংস্কার। শেখ হাসিনার সরকারের
পতন হয়েছে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এক দফার মূল অংশ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ। এই
ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের জন্য যে সংস্কারগুলো অত্যাবশ্যকীয় সেগুলো করার ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই হয়েছে। জনগণ নির্বাচন বা ক্ষমতার
পালাবদলের জন্য অভ্যুত্থানে আসেনি। যদি আসত তাহলে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই আসত
বলে আমি মনে করি। অভ্যুত্থান হয়েছে স্পষ্টভাবে এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিলুপ্তের জন্য।
যে ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে যদি এটার সংস্কার করে দিয়ে যেতে না পারি তাহলে যে দলই ক্ষমতায়
আসুক স্বৈরতান্ত্রিক একটা সিস্টেমের মধ্যে সে নিজেও স্বৈরাচার হতে বাধ্য হবে। সে কারণে
আমরা মনে করি, দেশের জনগণ যেভাবে দেশকে গড়তে চাইবে, পুনর্গঠনের যে প্রস্তাবনা মানুষের
মধ্য থেকে আসবে সেটার বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান
পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, শ্রম
ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জান, আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুওমো
পুটিআইনেন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, রাজশাহী নগরীর তেরখাদিয়া
এলাকায় ১৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহীতে নবনির্মিত জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ এশিয়ায় পেশাগত স্বাস্থ্য
ও নিরাপত্তা বিষয়ক একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হতে চলেছে। দেশের শিল্প কলকারখানাসমূহে নিরাপদ
কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে এই প্রতিষ্ঠানটি।
মন্তব্য করুন