

বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। এতে বাড়তে পারে বৃষ্টিপাতও।
শনিবার (১২ অক্টোবর) এমন তথ্য জানিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস।
ভারতের আবহাওয়া অফিস জানায়, ১৪ অক্টোবর দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে৷ পরবর্তীতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে এবং শক্তি বাড়িয়ে লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। পরেরদিন এটি রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে। এরপর ১৭ অক্টোবর এটি উপকূলে উঠে আসতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস মাসের শুরুতেই একটি ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। যদিও এখনও তারা ঝড়ের কোনো আভাস দেয়নি। তবে আগামী ৫ দিনে বৃষ্টিপাত বাড়ার কথা জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রাজশাহীর কাটাখালী এলাকা থেকে কিশোর গ্যাং ‘জনি বাহিনী’র প্রধানসহ ৯ জনকে আটক করেছে র্যাব। রাজশাহীর ভয়ংকর কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত জনি বাহিনী।
শনিবার (৮ জুন) দিনগত রাতে জনি বাহিনীর ৯ জনকে আটক করা হয় কাটাখালীর শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া থেকে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ধারালো চাকু ও ৩টি টিপ চাকু উদ্ধার করেছেন র্যাব।
র্যাব-৫ রাজশাহীর সিপিএসসি মোল্লাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের ৯ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো: জনি বাহিনীর প্রধান জনি ইসলাম (২৩), আবদুল মান্নান খাঁ (২০), আবু হানিফ (১৯), কুরমান আরী (২২), মাসুম আলী (২৭), মো. সাগর (২০), টিপু সুলতান (২০), নুরমান ইসলাম (২০) ও সুজন আলী (৩০)।
রোববার দুপুরে র্যাব-৫ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃতরা চাঁদাবাজি, জমিদখল ও ভাড়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এলাকায় তারা ‘জনি গ্যাং’ বা ‘জনি বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা রয়েছে বাহিনীর প্রধান জনির বিরুদ্ধে।
র্যাব-৫ এর সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জনি বাহিনীর সদস্যরা শনিবার রাতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় খবর পেয়ে জনি বাহিনী’র প্রধানসহ ৯ জনকে আটক করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যায় র্যাব।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার দুপুরে তাদের কাটাখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আটককৃতদের নামে মামলা দেওয়া হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


প্রধান
নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
জন্য হোপফুলি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
আজ
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সংসদ ভোট ও গণভোটের
মক ভোটিং পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এ সময় অন্য কমিশনাররা ও ইসির
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিইসি
বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে হলে ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হতে পারে। তাই সময় ব্যবস্থাপনা
দেখে প্রয়োজন হলে কেন্দ্র ও বুথ বাড়ানো হবে। আমরা অনুমানের ভিত্তিতে এগোতে চাই না।
বাস্তব অভিজ্ঞতা দেখে সিদ্ধান্ত নেবো। যদি মনে হয় বুথ বা পোলিং স্টেশন বাড়ানো প্রয়োজন,
আমরা তা করবো। খরচ নয়, ভোটারের সুবিধাই আগে।
তিনি
আরও বলেন, একজন ভোটার ভোট দিতে কত সময় নিচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটের কারণে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত
সময় কত, সব হিসাব আজকের অভিজ্ঞতা থেকেই বের হবে। যদি রিয়েল-টাইম মূল্যায়নে দেখা যায়,
বুথ বাড়ালে গণভোটসহ পুরো প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ করা সম্ভব—তাহলে
বাড়ানো হবে। মক ভোটিংয়ে অনেক ভোটার গণভোটের হ্যাঁ–না বুঝতে পারছিলেন না এ বিষয়ে সিইসি
বলেন, এটা স্বাভাবিক। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি। মাত্র গত মঙ্গলবার অধ্যাদেশ
হয়েছে, এরপরই আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ আমরা সবাই মিলে
ব্যাপক প্রচারণা চালাবো।
প্রধান
নির্বাচন কমিশনার বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্ন ‘বান্ডেল’।
আলাদা করে প্রতিটি প্রশ্নে হ্যাঁ–না, দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি আইনগত বাধ্যবাধকতা।
তিনি
আরও বলেন, সামগ্রিক আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। বাংলাদেশের
আইন–শৃঙ্খলা কখনোই শতভাগ নিখুঁত ছিল না। বিচ্ছিন্ন ঘটনা সব
সময়ই থাকে। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক উন্নত। সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়
করে কাজ করছি। হোপফুলি ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তখনই বিস্তারিত
তারিখ জানা যাবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যুবসমাজের জীবন উৎসর্গ এবং অদম্য
নেতৃত্বের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে যুগান্তকারি পরিবর্তন ঘটেছে। একটি বৈষম্যহীন সমাজ ও
সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে তারা জীবন দিয়েছে। তরুণদের এই স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে
তুলতে বিদেশী বন্ধুদের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা বিদেশী বন্ধুদের উদ্দেশে আরও বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা এই সুযোগ হারাতে চাই না। বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি বাস্তবায়নে আপনাদের সবার সমর্থন প্রয়োজন।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের
সদস্যপ্রাপ্তির ৫০তম বছর উদযাপন উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডোনাল্ড লুসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বাংলাদেশ ১৯৭৪
সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।
সংবর্ধনা আয়োজনে
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আরও ছিলেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ
আবদুল মুহিত, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ,
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম
প্রমূখ।
অধ্যাপক ইউনূসের
সঙ্গে আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো
নিয়ে লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
শিক্ষার্থীদের
আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। যারা নতুন বাংলাদেশের
স্বপ্ন দেখেছিল আমরা তাদের হতাশ করতে চাই না।
প্রাতিষ্ঠানিক
সংস্কারের মাধ্যমে একটি নতুন নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার সরকার কাজ করছে
বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ড. ইউনূস বলেন,
যুবসমাজের সামনে কোন স্বপ্ন ছিল না। স্বৈরাচার তাদের স্বপ্ন ও ভব্যিষতকে ধ্বংস করে
দিয়েছিল। তাই তারা স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পিছপা হয়নি।
মন্তব্য করুন


সামাজিক ব্যবসার (সোশ্যাল বিজনেস) রূপান্তর
সক্ষম শক্তি এবং এর মাধ্যমে ইতিবাচক টেকসই পরিবর্তন আনার শক্তিশালী উপায়ের ওপর গুরুত্ব
দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সামাজিক ব্যবসা শুধু বাংলাদেশ
নয়, বরং পুরো বিশ্বকে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এবং নতুন সভ্যতাও তৈরি করতে পারে। এই
ব্যবসার মাধ্যমে ‘একটি সুন্দর ও উন্নত বিশ্ব’ গড়ে তোলা সম্ভব, যা বর্তমানের হতাশা থেকে
মুক্তি এনে তাৎপর্যপূর্ণ রূপান্তর ঘটাতে পারবে।
আজ শুক্রবার সাভারের জিরাবো সামাজিক
কনভেনশন সেন্টারে দু’দিনের ‘সোশ্যাল বিজনেস ডে’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য
দিয়ে ১৫তম সামাজিক ব্যবসা দিবসের উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ
ইউনূস মূল বক্তা হিসেবে যোগ দেন।
ইউনূস সেন্টার ও গ্রামীণ গ্রুপ যৌথভাবে
১৫তম সামাজিক ব্যবসা দিবসের আয়োজন করেছে।
‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে
সর্বোত্তম পথ হলো সামাজিক ব্যবসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের সামাজিক ব্যবসা
দিবস উদ্যাপন করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর শক্তিশালী ও আবেগঘন
মূল বক্তব্যে সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিশ্ব একটি ভুল পথে চলছে এবং কেবল নিঃস্বার্থ,
ভালো কাজের জন্য স্বপ্নবান হওয়া এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই
ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পৃথিবীতে
সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একমাত্র সঠিক পথ হল সামাজিক ব্যবসা। এর মাধ্যমে
স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি তরুণদেরকে বৈশ্বিক পরিবর্তন আনার
আহ্বান জানিয়ে বলেন, উদ্যোক্তা হিসেবে ছোট থেকে শুরু করতে হবে, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে
এবং একসঙ্গে কাজ করে এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে হবে, যার বৈশিষ্ট্য হবে তিনটি শূন্য-‘শূন্য
দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য গড় কার্বন নিঃসরণ।
চাকরি প্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে
নিজেকে প্রস্তুত করার মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম দিন থেকেই যেন জানেন-তারা
চাকরির জন্য এখানে আসেনি। কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রদের স্বপ্ন দেখতে দেওয়া
হয় না। আমি বলি-শিক্ষা ব্যবস্থার প্রথম দায়িত্বই হলো-স্বপ্ন দেখার সুযোগ দেওয়া।’
ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে স্বপ্ন
দেখতে হবে। তারপর কীভাবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, সেই পথ খুঁজে বের করো।
একে অপরকে চ্যালেঞ্জ দাও। এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে সোশ্যাল বিজনেস শিক্ষার গুরুত্ব
আমাদের কাছে এত বড় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন,
তরুণদের বলবো, যদি তুমি একজন চাকরি প্রার্থী হও, তবে সেটি আমাদের জন্য লজ্জার। কারণ
আমরা তোমাকে নিজেকে আবিষ্কার করার মত সাহায্য করতে পারিনি।’ যদি তুমি নিজেকে আবিষ্কার
করো—তাহলে কখনোই চাকরি প্রার্থী থাকবে না। তুমি একজন উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।
ভারত-পাকিস্তান, ইরান-ইসরায়েল-ফিলিস্তিন
এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই বছরের প্রেক্ষাপট অতীতের
যেকোনো সময়ের চেয়ে খারাপ। আগের সোশ্যাল বিজনেস ডে‑গুলোতে আমরা অনুভব করতাম যে,পৃথিবী
একটা আশাব্যঞ্জক দিকে এগোচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম-বিশ্বে যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হচ্ছে। আমরা
আশা করেছিলাম-মানবজাতি এখন শান্তিতে বাস করবে। কিন্তু হঠাৎ করেই এই বছর নানা ভয়াবহ
ঘটনা ঘটতে শুরু করল। দরিদ্র মানুষ এই যুদ্ধে পিষ্ট হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিক ব্যবসার বার্তা কী-এই প্রসঙ্গ
উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরও বলেন, সামাজিক ব্যবসার একটি বার্তা হলো পৃথিবীকে
বদলে দেওয়ার বার্তা-এবং এর জন্য প্রয়োজন প্রতিটি জাতির অংশগ্রহণ, প্রতিটি জাতির উচিত
সেইসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা যেগুলো তারা এত বছর ধরে তুলে ধরেছেন। এবং এই বার্তাটি
খুবই সহজ, যা আমরা বারবার পুনরাবৃত্তি করে আসছি। বার্তাটি হলো—আমরা ভুল পথে চলছি। যদি
আমরা এই পথেই এগিয়ে যেতে থাকি, তাহলে আমাদের সবার জন্যই এক বিশাল বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
আমরা তার থেকে রক্ষা পাবো না।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্য একটি
পথ অনুসরণ করার খুবই সহজ উপায় রয়েছে এবং এর জন্য সবকিছু রাতারাতি ধ্বংস করার প্রয়োজন
নেই। ‘আপনি কেবল ধীরে ধীরে ভিন্ন এক পথে হাঁটতে শুরু করুন। ব্যাস, এটাই। এটা খুবই বাস্তবসম্মত
এবং সহজে বাস্তবায়নযোগ্য।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বারবার
বিশ্বকে যা বোঝাতে চেয়েছি তা হলো—পুরো পৃথিবী গড়ে উঠেছে মানুষের স্বার্থপরতার একমাত্রিক
ভিত্তির উপর এবং মানুষকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে স্বার্থপর সত্তা হিসেবে। আমরা এর বিরোধিতা
করছি। আমরা বলছি, হ্যাঁ, আমাদের ভেতরে স্বার্থপরতা আছে, তবে এটাও ভুলে যাবেন না যে
আমাদের ভেতর নিঃস্বার্থ মানসিকতাও আছে।
মন্তব্য করুন


সাবেক প্রধানমন্ত্রী
ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের জাতীয়
পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।
আজ বুধবার তিনি
ঢাকায় পৌঁছান। ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হাইকমিশনের
পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান সরকার ও
জনগণের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে সরদার আয়াজ সাদিক ঢাকা সফর করছেন।
এর আগে, ঢাকায়
নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশন জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে পাকিস্তানের
উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকায় আসবেন।
গত মঙ্গলবার
রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পাকিস্তানের
উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। পোস্টে তিনি লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার
জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসবেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।
উল্লেখ্য, সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাকিস্তান সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেল এবং অন্যান্য গণমাধ্যমকে নির্দেশ দিয়েছে, নির্বাচনী সংলাপ বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে কোনো দল বা প্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করে বক্তব্য বা কটূক্তি প্রচার না করার জন্য। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রচারে সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জনসংযোগ অধিশাখার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলসমূহ তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে নির্বাচনী পরিবেশে ভূমিকা রাখতে পারে।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান, সাক্ষাৎকার, টক শো বা নির্বাচনী সংলাপে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী, গণমাধ্যমে নির্বাচনী সংলাপে অংশ নেওয়া প্রার্থী বা দলের প্রতিনিধি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে আক্রমণ করতে পারবে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “সরকারি-বেসরকারি সব টেলিভিশন চ্যানেলে নির্বাচনী সংলাপ বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ প্রদান এবং কোনো দল বা প্রার্থীকে হেয়প্রতিপন্ন করে বক্তব্য বা কটূক্তি প্রচার না করার জন্য সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হলো।”
মন্তব্য করুন


সুপ্রিম
কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে
শপথ নিয়েছেন ।
আজ
রোববার ( ২৮ ডিসেম্বর ) সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি
মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
শপথ
গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক
মুহাম্মদ ইউনূস।
এছাড়া
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং সুপ্রিম
কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা
করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
অনুষ্ঠানটি
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করে।
এর
আগে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গত ২৩ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে
বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগের বিচারপতি
জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ
শপথের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে গেছেন। এদিন তাঁর চাকরির
মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়।
আইন
পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে আইনজীবী
হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে
অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে
নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর বিচারপতি হিসেবে তাঁকে স্থায়ী করা হয়।
২০২৪
সালের ১২ আগস্ট তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয়।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে
আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
মন্তব্য করুন


ধানমন্ডিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বাদ এশা ধানমন্ডি সাত নম্বর বায়তুল আমান মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।
প্রথম জানাজার নামাজে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় হাইকোর্ট চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত হাসান আরিফের মেয়ে দেশে ফেরার পর দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার মেয়ে আগামী রোববার (২২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় দেশে পৌঁছাবেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হলে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে ধানমন্ডি ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ল্যাব এইড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের এ খোদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ শুক্রবার বিকেলে ল্যাব এইড হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
এ এফ হাসান আরিফ ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৭-২০০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার জন্ম ১৯৪১ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের কলকাতায়। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর স্নাতক ও এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
কলকাতা হাইকোর্টে ১৯৬৭ সালে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ঢাকায় এসে বাংলাদেশ হাইকোর্টে কাজ শুরু করেন হাসান আরিফ।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে কুমিল্লা থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
করা হয়েছে। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফের পক্ষে
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন রমজানুল করিম নামের এক এনসিপি কর্মী।
গত ২৪ ডিসেম্বর
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার
পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় শুক্রবার রাতে।
আজ শনিবার কুমিল্লা
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাহেব আলী বিষয়টি গণমাধ্যমকে বিষয়টি
নিশ্চিত করেছেন।
আসিফ মাহমুদ
সজীব ভূঁইয়ার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলায়। মনোনয়নপত্রের রেজিস্ট্রারে আসিফ মাহমুদের বর্তমান
ঠিকানা হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিউ মার্কেট এবং স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে মুরাদনগর
উপজেলার আকবপুর উল্লেখ করা আছে।
জানা গেছে,
কুমিল্লা সদর উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকার রমজানুল করিম নামের একজন জাতীয় নাগরিক
পার্টির কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসিফ মাহমুদের পক্ষে বুধবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
করেন।
এনসিপির মুরাদনগর
উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মিনহাজুল হক বলেন, আসিফ মাহমুদ আমাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র
পাঠিয়েছেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী আসিফ মাহমুদ মুরাদনগর থেকেই নির্বাচন করবেন।
তিনি আরও বলেন,
জোট নিয়ে নাটকীয় কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তাই একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র কেনা হয়েছে।
পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত। এখনও হাতে সময় আছে।
এর আগে আসিফ
মাহমুদ ১০ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১০ আসন
থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। এরই মধ্যে ওই আসনে তিনি ভোটারও হয়েছেন। প্রচারণাও চালাচ্ছেন।
তবে মুরাদনগরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
মন্তব্য করুন