

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাসন থানার কড্ডা বাজার এলাকার ব্রিজে ১টি বাস উল্টে ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কড্ডা ব্রিজের ওপর।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ১টি বাস ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। চালক ও হেলপার বাসের ভেতর থেকে তুরাগ নদে পড়ে যান। বাসের যাত্রীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত হয়েছেনবাসের চালক ও হেলপার।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সিদ্দিক বলেন, এ ঘটনায় অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি তাদের। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বাসটি ব্রিজ থেকে সরানোর কাজ করছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


প্রায় দেড়শ
বছরের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিক শেখ নাসের বিন রাদ্দান
আল রশিদ আল ওয়াদাইয়ের ইন্তেকাল করেছেন।
পরিবারের দাবি
অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১৪২ বছর। গত ১১ জানুয়ারি সৌদি আরবের দাহরান
আল এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের তথ্যমতে,
আধুনিক সৌদি আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও বহু আগে ঊনবিংশ শতকে আল রশিদের জন্ম
হয়েছিল। তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মরুপ্রধান সমাজ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক
সৌদি আরবের রূপান্তর এবং একাধিক সৌদি শাসকের শাসনকাল প্রত্যক্ষ করেছেন।
পরিচিতজনদের
ভাষ্যে, তাঁর দীর্ঘ জীবনের মূল ভিত্তি ছিল দৃঢ় ধর্মবিশ্বাস ও পরিবার। জীবদ্দশায় তিনি
৪০ বারেরও বেশি পবিত্র হজ পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি ১৩৪ জন সন্তান, নাতি-নাতনি ও
তাঁদের বংশধর রেখে গেছেন। তিনি সাত বিয়ে করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১১০ বছর বয়সে তিনি
শেষবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
মন্তব্য করুন


নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, বরং মানুষ
হিসেবে এবং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে সাংবিধানিক অধিকার চাওয়ার আহ্বান
জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে হিন্দু
সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন হামলার ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী
মন্দিরে সনাতন ধর্মালম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা করতে যাচ্ছি, যেখানে সবাই এক পরিবার। এটা হলো মূল জিনিস। এখানে
পরিবারের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা, বিভেদ করা, এটার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা মুসলমান,
হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে বিবেচিত নই; মানুষ হিসেবে বিবেচিত। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত
হোক। আপনারা যদি টেনে টেনে নিয়ে আসেন আমি ওমুক, আমি তমুক, এটা আবার পুরোনো জায়গায় চলে
গেলো। আপনারা বলেন যে আমি মানুষ, আমি বাংলাদেশের মানুষ, আমার সাংবিধানিক অধিকার এই,
আমাকে দিতে হবে। সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন। সব সমস্যার গোড়া হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো
পচে গেছে। এ কারণেই এসব গোলমাল হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করতে হবে। ন্যায়বিচার
হলে কে বিচার পাবে না আমাকে বলেন। কোন ধর্মের, কোন জাতের, আইনে কি বলা আছে যে মুসলমান
সম্প্রদায় হলে এই আদালতে হবে, হিন্দু হলে ওই আদালতে যাবে। সবার জন্য আইন একটা, কার
সাধ্য আছে সেখানে বিভেদ করে যে এ রকম একটা, ওই রকম একটা। এটা এমন রোগ, মূলে যেতে হবে।
আপনারা যদি বলেন আমাদের সংখ্যালঘুরা, এটা বললে মূল সমস্যা থেকে আমরা দূরে সরে যাচ্ছি।
আমাদের বলতে হবে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটা পেলে বাকস্বাধীনতা
প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটিই হলো আমাদের মূল লক্ষ্য।
সনির্বন্ধ অনুরোধ আপনারা বিভিন্ন খোপের (বিভেদ) মধ্যে চলে যাইয়েন না। এই খোপ হলে, খোপের
মধ্যে মারামারি-কাটাকাটি লেগে যাবে। এক হয়ে আসেন। এক আইন, আমাদের আইনি অধিকার দিতে
হবে। বলেন, আপনারা আইনি অধিকার পান না, বিচার হয় না। এটাই হলো আসল জিনিস। বিচারব্যবস্থা
আমাদের দিকে তাকায় না, পুলিশ আমাদের দিকে তাকায় না। কারণ, আমি অধিকারটা … করতে পারি
নাই। আমাদের নীতিটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি নাই। খোপ খোপ করতে আরম্ভ করবেন, তারাও
মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলাতে আমাদের আর নিয়ে যাইয়েন না। আমরা এসেছি, আমরা এক মানুষ,
আমাদের এক অধিকার। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। একটু সহযোগিতা করেন আমাদের,
একটু ধৈর্য্য ধরেন। কী করতে পারলাম, কী পারলাম না সেটা পরে বিচার কইরেন। যদি না পারি
আমাদের দোষ দেবেন।
এর আগে সনাতন ধর্মের ধর্মীয় নেতারা
বিভিন্ন সময় তাদের ওপর হামলার কথা তুলে ধরেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের কাছে এসব
সমস্যার স্থায়ী প্রতিকার চান। ড. মুহাম্মদ ইউনূস অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে ন্যায়
প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তাদের আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মূল কথাই ছিল সংস্কার। তার সরকার নির্বাচনের আগে সেই সংস্কার করতে বদ্ধপরিকর।
আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই’। তার সরকার দুর্নীতি দমন করেছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগ সহজ করেছে এবং শ্রম আইনের বিষয়ে আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত উইকস জানান, সুইডেনের সরকার ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পুলিশের সংস্কার, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করে।
নিকেলাসউ উইকস বলেন, 'আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই পরিবর্তনকালে আমাদের পূর্ণ সমর্থন আপনার সঙ্গে রয়েছে।'
বৈঠককালে তারা জুলাই-আগস্ট বিপ্লব, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশের সুইডিশ বিনিয়োগ এবং গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষ করে সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর উচ্চ প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে। 'দাবিদাওয়া মেটানো একটি বড় কাজ। আমরা চেষ্টা করছি, তবে খুব সতর্কও রয়েছি,' তিনি বলেন।
এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শাহীনা গাজী।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং ভাগনি যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে ৫ বছর, শেখ রেহানাকে ৭ বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শোনার আগেই আদালত এলাকা ঘিরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা। আদালতের গেট, বারান্দা ও প্রবেশপথজুড়ে পুলিশ, ডিবি ও বিজিবির অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। সন্দেহজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
দুদকের পক্ষ থেকে মামলার সমন্বয়কারী পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান রায়ের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণে আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের, তবে রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেছে।”
মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি ১০ কাঠার প্লট অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন। তখন শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হলেও পরে তদন্তের মাধ্যমে আরও দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।
অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, রাজউকের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ এবং তদন্তের পর যুক্ত হওয়া দু’জন—সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ৩১ জুলাই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে মোট ৩২ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অবশেষে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশে
নবনিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি আজ রোববার ঢাকায় রাষ্ট্রীয়
অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতে
উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক যোগাযোগ, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, বহুপাক্ষিক
সহযোগিতা এবং জনগণ-থেকে-জনগণ পর্যায়ের বিনিময়সহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন
দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস
উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস থাইল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ
করে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বকালীন সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ
করেন।
তিনি
আসিয়ানে (আসিয়ান) বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের কথা পুনর্ব্যক্ত
করেন। ১১ সদস্য বিশিষ্ট এই আঞ্চলিক জোটটি বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে একটি
গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এ বিষয়ে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সদস্যপদ
প্রার্থনায় সমর্থন দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ
ইতোমধ্যে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে
সংযোগ স্থাপন করবে।’
থাই
রাষ্ট্রদূত জানান, ব্যাংকক বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)
নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, এ চুক্তি বাংলাদেশে থাই বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ডের রানং
বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি নৌপথ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দুই
দেশের শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে আগামী ফেব্রুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে মার্চে এই
সেবা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান
উপদেষ্টা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও বেশি ভিসা ইস্যুর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ
করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিদের
যাতায়াত ক্রমেই বাড়ছে।
সাক্ষাতে
এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


মাইলস্টোন
স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে
হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
এরা আমাদের সবারই সন্তান। হঠাৎ করে চিরদিনের জন্য চলে গেল। আমরা অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত
করব। আর যারা আহত- আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি। সবাই তাদের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
আজ
সোমবার (২১ জুলাই) দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা এ কথা
বলেন।
হাসপাতালে
ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন,
হাসপাতালে সকলে ছুটে আসছে। আমরা সবার কাছে অনুরোধ করছি হাসপাতালে ভিড় করবেন না। কারণ
যারা আহত তাদের জন্য এটা ভালো না। তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধের শক্তি নেই। আমরা ভিড়
করলে, আমাদের শরীর থেকে কি রোগ তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এটা বলা মুশকিল। কাজেই দূরে
থেকে দোয়া করেন সবাই।
বিমান
বিধ্বস্তের এই ঘটনাকে ‘অবিশ্বাস্য’
আখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, আমার বলার কোনো ভাষা নেই। কিভাবে শুরু করব?
সেটাও বুঝতে পারছি না। আমার মতো সারাদেশের লোক আজকে হতবাক। এ রকম একটা কান্ড ঘটতে পারে।
আমরা কেউ কল্পনা করিনি। কারো ধারণার মধ্যে ছিল না। কিন্তু এই অবিশ্বাস্য ঘটনা আমাদেরকে
হঠাৎ করে গ্রহণ করতে হয়েছে।
বহু
শিশুর মৃত্যুতে সারা জাতি বাকরুদ্ধ মন্তব্য করে আবেগঘন ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন
স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে কচি শিশুদের উপরে পড়ল। আগুনে পুড়ে শিশুরা মারা গেল। মা-বাপদের
আমরা কি জবাব দেব? কি বলবো তাদেরকে? আমরা নিজেদেরকে তো জবাব দিতে পারছি না। অজানা শিশুদের
মুখ বারবার চোখে ভেসে উঠছে। সারা জাতি বাকরুদ্ধ ও শোকাহত বললে খুব কম বলা হবে। এই দুর্ঘটনার
রেশ এখনো কাটেনি। এখনো লাশ আসছে হাসপাতালে। এখনো হাসপাতালে মারা যাচ্ছে। মা-বাপ এখনো
খোঁজ নিচ্ছে আমার সন্তান কোথায়? তাকে আর কোনদিন চেনা যাবে কিনা? যাদের লাশ দেখছি তার
মধ্যে আমার সন্তান আছে কিনা। পৃথক করার তো কোন উপায় নেই।
শিশুদেরকে
স্মরণ করে অধ্যাপক ড. ইউনূস আরও বলেন,আমরা অবশ্যই এই ঘটনার তদন্ত করব। তদন্ত হবে, কিন্তু
এই নিস্পাপ শিশুগুলো আর ফিরে আসবে না।
প্রধান
উপদেষ্টা আরও বলেন, শিশুদের বাবা মা আত্মীয়স্বজন সবার কাছে আমাদের সহানুভূতি জানাচ্ছি।
বাংলাদেশের যত সন্তান আছে সবাই আপনাদের সন্তান। আপনারা নিজেদের মনকে সান্ত্বনা দেয়ার
চেষ্টা করুন। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। জাতির সমস্ত লোক আপনাদের সঙ্গে আছে।
অধ্যাপক
ইউনূস বলেন, ‘আমরা নিহত শিশুদের জন্য শোক দিবস
ঘোষণা করেছি। আগামীকাল শোক দিবসে আমরা সবাই মিলে তাদের কথা স্মরণ করব। তাদের আত্মার
শান্তি কামনা করব। আজ থেকে সবাই তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করব। আল্লাহ আপনাদেরকে
শান্তি দিন। নিহত শিশুদের জন্য দেশবাসী আমরা
সবাই দোয়া করছি। আল্লাহ এই শিশুদেরকে জান্নাতবাসী করুক।
মন্তব্য করুন


সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে । বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা বাড়িয়ে গেজেট জারি করা হয়েছে। নতুন এ দাম চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর ধরা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি আবাসিক, সিএনজিচালিত যানবাহন, সার ও চা শিল্পে ব্যবহার ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, যা ওই বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হয়।
সরকারি, আইপিপি ও রেন্টাল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের জন্য গ্যাসের পূর্ব মূল্য ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা যা বাড়িয়ে বর্তমান মূল্য করা হয়েছে ১৪ টাকা ৭৫ পয়সা।
ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট, স্মল পাওয়ার প্ল্যান্ট ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ছিল প্রতি ঘনমিটার ৩০ টাকা। এক্ষেত্রেও ৭৫ পয়সা বাড়িয়ে সেটা ৩০ টাকা ৭৫ পয়সা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভতুর্কি সমন্বয়ে বিদ্যুতের সঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে । গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, গ্যাসের দাম সমন্বয় গ্রাহক পর্যায়ে হচ্ছে না। বিদ্যুতের পর্যায় হচ্ছে। গ্যাসের আবাসিক পর্যায়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে দাম বাড়ছে না। শিল্পেও গ্যাসের দাম বাড়ছে না। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে গ্যাস দেওয়া হয় সেখানে আমরা কিছুটা সমন্বয় করছি।
তিনি বলেন যে গ্যাস বিদ্যুতে দেওয়া হয় সেখানে প্রতি ঘনমিটারে ৭৫ পয়সা বাড়বে, অর্থাৎ এটা ইন্টারনাল।
এ বছর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি আসবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ক্ষেত্রে ৬ হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি আসবে। এগুলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা সমন্বয়ে যাবো।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পার করছে। সবাইকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের গ্রাজুয়েশন সেরিমনিতে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে। বৈশ্বিক ও কৌশলগতভাবে এখন কঠিন সময় যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
সবাইকে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জাতীয় বিপর্যয় থেকে শুরু করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ সুনাম কুড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


পিরোজপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী যাত্রীবাহী একটি বাস থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড) জব্দ করেছে বিজিবি কুষ্টিয়ার-৪৭ সদস্যরা।
বুধবার (০২ অক্টোবর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টরের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, বুধবার (০২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কের যাত্রীবাহী বাস মেট্রোপলিটন পরিবহনে তল্লাশি করা হয়।
এসময় ৫০ মিলি লিটার এর ২০ বোতল ভারতীয় এলএসডি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এলএসডির আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তবে তল্লাশি চলাকালীন কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন


সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল
কোঅপারেশন অনকোলজির (এসএফও) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ঢাকায়
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন তিনি।
এ সময় তিনি সার্ক ফেডারেশন অব অনকোলজিস্টসের (এসএফও) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. এবিএমএফ
করিমের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের অভিজ্ঞতার কথা
উল্লেখ করেন।
এ সময় নিজের ছোটভাই বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক,
সমালোচক ও খ্যাতনামা টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে স্মরণ করেন অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাইয়ের ক্যান্সার শনাক্ত ও চিকিৎসার সময় তাঁর পুরো পরিবারকে কী
ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সেসব অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি। সেসময় ডা. করিম কীভাবে
তাঁর চিকিৎসায় সাহায্য করেছিলেন সে কথা উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ক্যানসার চিকিৎসায় যে প্রযুক্তিগত
সহায়তা প্রয়োজন, তা এখনো আমরা পাচ্ছি না। সার্ক যে ক্যান্সার চিকিৎসাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব
দিচ্ছে এটা অত্যন্ত জরুরি ও অনুপ্রেরণামূলক।
দক্ষিণ-এশিয়ার দেশগুলো সার্ককে সক্রিয়
করে তোলার মধ্য দিয়ে লাভবান হবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সার্ক আমার কাছে
বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই সার্ককে সক্রিয়
করার বিষয়ে বলেছি। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার কিছু ইস্যুর জন্য সার্ক সক্রিয় হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, আমি মনে করি, দুটি দেশের
মধ্যেকার সমস্যা অন্য দেশগুলোকে প্রভাবিত করা উচিত না। প্রতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা
যদি সাক্ষাৎ করেন, একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন তাহলে গোটা বিশ্বের কাছে বার্তা যায় যে
আমরা একসঙ্গে আছি। এটা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বিশ্বের কাছে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন
করবে এবং এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজকের কনফারেন্সের
মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে সার্ক সক্রিয় করতে আবারও আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন