

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মোথাজুরী এলাকায় ঘটেছে চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। গত রোববার (২৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে পারিবারিক কবরস্থান থেকে নিজের মায়ের মরদেহ তুলে এনে ঘরে মশারি টানিয়ে লেপ-কাঁথা দিয়ে ঢেকে রাখেন সজিব হোসেন নামের এক যুবক। বিষয়টি জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরিবার, স্থানীয়দের বর্ণনা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খোদেজা বেগম স্বামী আনতাজ আলীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে সজিবকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাবা না থাকার সুযোগে সজিব ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রায়ই মায়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
গত শনিবার দুপুরে মা-ছেলের মধ্যে তীব্র ঝগড়ার এক পর্যায়ে মানসিক যন্ত্রণা ও অভিমানে খোদেজা বেগম গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কিন্তু রাতের আঁধারে সজিব একাই কবর খুঁড়ে মায়ের মরদেহ তুলে এনে নিজ ঘরে নিয়ে আসে। মশারি টানিয়ে লেপ-কাঁথা দিয়ে মরদেহ ঢেকে রাখেন তিনি। সোমবার সকালে কবরস্থানে গিয়ে কবর খোলা দেখতে পায় স্থানীয়রা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা খোঁজ নিতে শুরু করেন। পরে জানা যায়, সজিব ঘর বন্ধ করে রেখেছে এবং তার আচরণেও অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশ করে। ভেতরে মশারির নিচে লেপ-কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায় খোদেজা বেগমের মরদেহ। তখন মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
এ ঘটনার আগের রাতেই সজিব তার মামা আব্দুল মান্নান মিয়াকে ফোন দিয়ে মাকে কেন দাফন করা হয়েছে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দাফন কাজে অংশ নেওয়া স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পায়।
খোদেজার ভাই আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, সজিব আমাকে ফোন করে বলেছে—মাকে কেন মাটিতে দিলাম। সে আমাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। আমরা এখন ভয়ে আছি।
ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুরুজ জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ আবার পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক উৎসব-২০২৪ এর জন্য পৃথক ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,প্রাথমিকের বই উৎসব হবে ঢাকা মিরপুরে। আর মাধ্যমিকের বই উৎসব হবে কুমিল্লায়। উৎসব শুরু হবে সকাল ১০টায়।
নিয়মানুযায়ী, এক দিন আগে অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে নতুন এই পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর পরদিন পহেলা জানুয়ারি পৃথক পৃথক ভেন্যুতে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহমেদ বলেন,প্রাথমিকের বই উৎসব এবার মিরপুরের ন্যাশনাল (সকাল-বিকাল) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হবে। এটা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাশেই অবস্থিত।
আর মাধ্যমিকের বই উৎসব সম্পর্কে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো বছরের প্রথম দিন বই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিকের বই উৎসব কুমিল্লার সোয়াগঞ্জ তোফাজ্জল আহমেদ চৌধুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হবে।
বই ছাপানোর অগ্রগতি বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকের সব বই গত ৪ ডিসেম্বর উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এছাড়া নতুন কারিকুলামের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রায় সব বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। অষ্টম শ্রেণির সব বই গত মঙ্গলবার প্রেসে দেওয়া হয়েছে। আর নবম শ্রেণির বিজ্ঞানের একটি বই গত শনিবার প্রেসে দিয়েছি। সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের আরেকটি বই আজ সোমবার প্রেসে যাবে।
জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩৫৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি পাঠ্যবই ও শিক্ষক সহায়িকা (টিজি) বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৩০ লাখ ৮০ হাজার ২০৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ৬১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৮টি পাঠ্যবই। প্রাথমিকে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এক কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৪ জনকে দেওয়া হবে ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার ৬৯৭টি পাঠ্যবই। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮৫ হাজার ৭২২ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ২ লাখ ৫ হাজার ৩১টি পাঠ্যবই। এছাড়া প্রাথমিক স্তরের ইবতেদায়ি প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৬০৮ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ২ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭৬টি পাঠ্যবই।
মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭টি পাঠ্যবই। দাখিল ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৮ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হবে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪২টি পাঠ্যবই। ইংরেজি ভার্সনের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হবে ১১ লাখ ৭২ হাজার ৫৭টি পাঠ্যবই। কারিগরি ট্রেডের জন্য ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৩৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ করা হবে ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭০২টি পাঠ্য বই। এসএসসি ভোকেশনালের ৬ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৭৯ হাজার ২৯৫টি পাঠ্য বই দেওয়া হবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে ৭২৮টি বই। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮টি শিক্ষক সহায়িকা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


বয়স
মাত্র ৯ বছর, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অরিনা। দুই মাসের চেষ্টায় নিজের হাতে নির্ভুলভাবে
লিখেছে পবিত্র কোরআন শরিফ। ১১৪টি সুরা সংবলিত ৩০ পারার কোরআন শরিফটি দেখে বোঝার উপায়
নেই, এটি ছাপা না হাতে লেখা।
খুলনা
মহানগরীর খালিশপুরের গোয়ালখালী এলাকার ব্যবসায়ী মো. শুকুর আলী খান ও রাশিদা বেগম দম্পতির
ছোট মেয়ে অরিনা সাফা খান। তার বয়সী শিশুরা যখন খেলাধুলা আর মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত, সেই
সময়ে নিজের হাতে কোরআন লিখেছে অরিনা। সমগ্র কোরআন শরিফ লেখা শেষ করেছে মাত্র ২ মাসে।
হাতে
লেখার কারণে এ কোরআন যেন আরও যত্ন, ভক্তি ও আন্তরিকতায় মোড়া। শিশু অরিনা কাজটি করেছে,
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়।
খুলনার
বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিনা। ৪র্থ শ্রেণিতে
পড়ার সময়ও নিজের হাতে পবিত্র কোরআন লিখে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছিল। কোরআনের হাফেজ না হয়েও
সুরেলা কণ্ঠে অসংখ্য সুরা মুখস্ত তেলাওয়াত করে অরিনা। ইসলামী গান গেয়েও অনেক পেয়েছে
পুরস্কার অরিনা।
অরিনার
মা রাশিদা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই অরিনার বড় বোন আরবি ভাষা লিখতে ও শিখিয়েছে তাকে।
সেই থেকে আরবি লেখা প্রিয় হয়ে ওঠে তার। বড় হয়ে গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়
অরিনা, আসতে চায় সবার উপকারে।
মন্তব্য করুন


রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বসবাসরত সকল নাগরিককে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিবেন না।
মন্তব্য করুন


পৌষ
মাসের শেষ দিন পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের সাকরাইন উৎসবে মেতে ওঠার দিন। এ উৎসবের মূল
আকর্ষণ ঘুড়ি উড়ানো।
রবিবার
(১৪ জানুয়ারি) পৌষের শেষ দিন। ঐতিহ্যের আলোয় পৌষের শেষদিনকে রঙিন করতে মাতোয়ারা পুরান
ঢাকাবাসী। তাই উৎসব ঘিরে পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে ঘুড়ি বেচাকেনার উৎসব। শিশু, তরুণ,
বৃদ্ধরা কিনছেন ঘুড়ি, নাটাই, সুতা। চলছে সুতায় মাঞ্জা দেওয়ার কাজ। পুরান ঢাকায় চলছে
ঘুড়ি বেচাকেনার ধুম। দোকানে দোকানে হরেক রকমের ঘুড়ি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। রঙ-বেরঙের ঘুড়ি
আর নাটাই-সুতা সারি সারি করে সাজিয়ে রেখেছেন দোকানিরা। বাজারে বিভিন্ন নামের ঘুড়ি পাওয়া
যাচ্ছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম- চোখদার, চশমাদার, কাউটাদার, লাভবার্ড, পঙ্খিরাজ, প্রজাপতি,
চক্ষুদার, ঈগল, সাদাঘুড়ি, চার বোয়া, দুই বোয়া, টেক্কা, লাভঘুড়ি, তিন টেক্কা, মালাদার,
দাবা ঘুড়ি, বাদুড়, চিল, অ্যাংগ্রি বার্ডস হরেক রঙের ঘুড়ি। এসব নাটাই মিলবে ৫০০ থেকে
তিন হাজার টাকার মধ্যে। সেসব সুতার মধ্যে রক সুতা, ডাবল ড্রাগন, কিংকোবরা, ক্লাক ডেবিল,
ব্লাক গান, ডাবল গান, সম্রাট, ডাবল ব্লেট, মানজা, বর্ধমান, লালগান ও টাইগার অন্যতম।
জানা
যায়, রবিবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঐতিহ্যবাহী উৎসব সাকরাইন শুরু হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা
পর্যন্ত ঘুড়ি ওড়ানোর পাশাপাশি বাড়িতে বাড়িতে চলবে পিঠাপুলির উৎসব।
মন্তব্য করুন


এক
সময় কট্টর ডানপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ও ইসলামভীতির প্রভাবাধীন ব্রিটিশ সাংবাদিক রবার্ট
কার্টার আজ একজন আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মুসলিম।
সম্প্রতি
এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি নিজের জীবনের এই আমূল পরিবর্তনের গল্প তুলে ধরেন। তার ভাষায়,
ইসলাম গ্রহণ ছিল তার জীবনের জন্য এক ধরনের ‘জীবনরক্ষাকারী অভিজ্ঞতা’।
ইসলামিক
প্ল্যাটফর্ম ‘৫পিলার’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রবার্ট
কার্টার জানান, কিশোর বয়সে তিনি ছিলেন পথহারা ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
কাজ
শেষ হয়নি, আরেকবার যুবক হয়ে লড়তে হবে: জামায়াত আমিরকাজ শেষ হয়নি, আরেকবার যুবক হয়ে
লড়তে হবে: জামায়াত আমির
একটি
ভাঙা পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং যথাযথ অভিভাবক কিংবা আদর্শ ব্যক্তিত্বের অভাব তাকে গভীর
বিভ্রান্তির মধ্যে ঠেলে দেয়।
তিনি
বলেন, ১৪ বা ১৫ বছর বয়সে তিনি কট্টর ডানপন্থী চিন্তাধারা ও তথাকথিত ব্রিটিশ মূল্যবোধ
দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তবে সেই সময় এসব মূল্যবোধের প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য তার কাছে
স্পষ্ট ছিল না।
পশ্চিমা
সমাজে চলমান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটের দিকেও ইঙ্গিত করেন এই নওমুসলিম সাংবাদিক।
তার মতে, এমন কিছু বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বর্তমানে স্কুল পর্যায়
পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এর ফলে মানুষ নিজের পরিচয়, এমনকি লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও সংশয়ের মধ্যে
পড়ছে।
রবার্ট
কার্টারের জীবনের মোড় ঘুরে যায় যেদিন তিনি প্রথমবার পবিত্র কোরআন হাতে নেন। তার ভাষায়,
সেটিই ছিল তার জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়ার দিন। তিনি বলেন, প্রোপ্যাগান্ডা ও ঘৃণার আবরণের
আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তিনি তখন আবিষ্কার করতে শুরু করেন।
একই
সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং অনেক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম
বিষাক্ত ইসলামোফোবিক বয়ান ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বে ভরা, যা মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে
রাখছে।
ইসলাম
গ্রহণের মুহূর্তটিকে নিজের জীবনের প্রকৃত সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন রবার্ট কার্টার।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, শাহাদা পাঠের দিন তার মনে হয়েছিল তিনি যেন নতুন করে জন্ম
নিয়েছেন। এই বিশ্বাসই তাকে একটি আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছে।
ভ্রান্ত
ধারণা, ঘৃণা ও বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে সত্যের পথে ফিরে আসার এই গল্প শ্রোতাদের মধ্যে
গভীর সাড়া ফেলেছে। রবার্ট কার্টারের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এনেছে কোরআনের
প্রভাব এবং আত্মিক পরিবর্তনের শক্তিকে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি ;
কুমিল্লার বুড়িচং থানার পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে বুড়িচং থানায় কর্মরত এসআই মোঃ রাকিবুল হাসান, এএসআই মোঃ শাহ পরান এবং সঙ্গীয় ফোর্স মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২নং বাকশিমুল ইউনিয়নের কোদালিয়া এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজাসহ মোঃ ইসহাক (৩৬) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ইসহাক বুড়িচং থানার বাড়ি কোদালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।
থানা সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত গাঁজা ও গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মামলার তদন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন


এশিয়ান
নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনসের (আনফ্রেল) একটি নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল প্রধান উপদেষ্টা
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
আজ
বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাত সদস্যের
সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রোহানা হেট্টিয়ারাচ্ছি ।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সাধারণত
বাজারে এক জোড়া লাউয়ের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা হলেও সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে এক জোড়া লাউ
বিক্রি হয়েছে অবিশ্বাস্য ১৮ হাজার ২০ টাকায়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) উপজেলার পঞ্চগ্রাম
কাইমা মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার তহবিলে সহায়তার উদ্দেশ্যে গত শুক্রবার মাহফিল চলাকালীন
কাইমা গ্রামের আব্দুল লতিফ এবং পার্শ্ববর্তী কেজাউড়া গ্রামের এক ব্যক্তি দুটি লাউ দান
করেন। শনিবার সকালে মাহফিল শেষে দানকৃত জিনিসপত্রগুলো প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হয়।
নিলাম
শুরু হতেই লাউ দুটিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় চরম প্রতিযোগিতা। একাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি
নিলামে অংশ নিয়ে দাম বাড়াতে থাকেন। দীর্ঘ দরকষাকষির পর শেষ পর্যন্ত ১৮ হাজার ২০ টাকায়
লাউ দুটি কিনে নেন এক ব্যক্তি।
মাদ্রাসার
মোতাওয়াল্লি মাওলানা নূর উদ্দিন বলেন, "এটি কোনো সাধারণ কেনাবেচা নয়, বরং মাদ্রাসার
প্রতি মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ। এই টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক
কাজে ব্যয় করা হবে।"
মাদ্রাসা
পরিচালনা কমিটির সদস্য এ কে কুদরত পাশা বলেন, কওমি মাদ্রাসা মানুষের দানেই পরিচালিত
হয়। দুটি লাউয়ের এই দাম কেবল মাদ্রাসাপ্রেমিদের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের
প্রতি সাধারণ মানুষের এমন আবেগ ও সম্পৃক্ততার উদাহরণ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি
করেছে।
মন্তব্য করুন


বন্যার্তদের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে ৬ষ্ঠ দিনের মতো চলছে গণত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম। এতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। যে যা পারছেন অর্থ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, সকাল থেকেই, নানা শ্রেণিপেশার মানুষ নগদ অর্থ, ওষুধ, পোশাক ও ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছেন। আর এই কার্যক্রম চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। বন্যার্ত ও অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় নগরীর সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার ৫ম দিন সন্ধ্যা ৬টা অব্দি সংগৃহীত
অর্থের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এতে জানানো
হয়, আজ মোট সংগ্রহ হয়েছে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার
ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট
জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি
দেন।
উপদেষ্টা
বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্ট
গার্ড সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না। কোনো ব্যক্তি,
দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি
বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট
গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন
করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যে
১০০ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।’
তিনি
কোস্ট গার্ড সদস্যদের অবদান তুলে ধরে বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপত্তা
নিশ্চিতকরণ, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান, মানবপাচার, ডাকাতি
ও জলদস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমের
অনুষ্ঠানে
দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্যদের পদক দেওয়া হয়।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক
রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন