

৬
বছর বয়সী এক শিশুর লাশ ফেলে পালিয়েছেন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা
এক ব্যক্তি। হাসপাতালে আসার পর পুলিশকে নুরনবী
নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ওই শিশুটির বাবা পরিচয় দেন। তিনি জানিয়েছিলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী
কাজলা এলাকায় বাসার পাশে ভ্যানের ধাক্কায় আহত হয়েছিল শিশুটি।
শুক্রবার
(১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঢাকা
মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সকালে নূরনবী নামে এক ব্যক্তি শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তখন তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দেন এবং জানান তার বাসা যাত্রাবাড়ী কাজলা এলাকায়। সকালে বাসার সামনের রাস্তায় একটি ভ্যানের ধাক্কায় আহত হয়েছে শিশুটি। পরে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় নূরনবী নামে ওই ব্যক্তি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের
চিকিৎসক ও নার্সরা জানান, সকাল ১০টার দিকে জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর রুমে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
মারা যায় শিশুটি। এর পরপরই তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ওই ব্যক্তি উধাও হয়ে যায়। এরপর
থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নুরনবীর বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ১ নম্বর
ওয়ার্ডে বলে জানিয়েছিলেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা-২০২৪ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, বিএসপি, এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
গত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ হতে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সেনা অঞ্চলের মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশন দল চ্যাম্পিয়ন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশন দল রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশন এর কর্পোরাল মোঃ সোলাইমান তনু শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এবং ১১ পদাতিক ডিভিশন এর এনসি (ই) রবিন চন্দ্র দাস শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যামের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, খেলাধুলার মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় সুলভ মনোভাবের বিকাশ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরো মজবুত হবে।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সঙ্গী গৃহকর্মী
ছিলেন ফাতেমা বেগম। এভারকেয়ার হাসপাতালে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছায়ার মতো খালেদা জিয়ার
পাশে ছিলেন তিনি। সেই ছায়াসঙ্গী ফাতেমাকে চিরবিদায় জানালেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক
প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
রাজনীতির
ইতিহাসে যেখানে নেতা, আন্দোলন, ক্ষমতা ও কারাগারের গল্প বারবার উঠে আসে। সেখানে অনেক
সময় আড়ালে থেকে যায় কিছু নীরব মুখ। আলোয় না থেকেও যারা ইতিহাসের সাক্ষী হন। বেগম খালেদা
জিয়ার জীবনে সেই নীরব সাক্ষীর নাম ফাতেমা বেগম।
দেড়
দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহকর্মীর পরিচয় ছাড়িয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়ার একান্ত
সঙ্গী। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ, গৃহবন্দিত্বের দীর্ঘ সময়, হাসপাতালের নিঃসঙ্গ রাত
কিংবা বিদেশ সফরের নীরব করিডর সবখানেই নিঃশব্দে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
ফাতেমা
বেগমের জন্ম ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহ-মাদার গ্রামে। রফিকুল ইসলাম ও মালেকা
বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব
কাঁধে নিতে হয় তাকে। একই ইউনিয়নের কৃষক মো. হারুন লাহাড়ির সঙ্গে বিয়ের পর মেঘনা নদীর
চরে কৃষিকাজ করেই চলছিল সংসার।
তাদের
সংসারে জন্ম নেয় মেয়ে জাকিয়া ইসলাম রিয়া ও ছেলে মো. রিফাত। তবে ২০০৮ সালে ছেলের বয়স
মাত্র দুই বছর থাকতেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তার স্বামী। এক মুহূর্তে বদলে যায় জীবনের
পথচলা। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ফিরে যান বাবার বাড়িতে। কিন্তু মুদি দোকানি বাবার সামান্য
আয় সংসারের ব্যয় মেটাতে না পারায় কঠিন সিদ্ধান্ত নেন ফাতেমা। সন্তানদের গ্রামে রেখে
কাজের খোঁজে ঢাকায় পাড়ি জমান।
২০০৯
সালে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি কাজ পান বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে। সেখান
থেকেই শুরু হয় এক দীর্ঘ সহযাত্রা। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক নেত্রীর দৈনন্দিন
জীবনের নীরব সাক্ষী হয়ে ওঠেন তিনি। বাথরুমে নেওয়া–আসা, ওষুধ খাওয়ানো, শারীরিক দুর্বলতায়
হাত ধরে রাখা এসব কাজ তার কাছে শুধু দায়িত্ব ছিল না, ছিল সম্পর্কের দায়।
২০১৪
সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচির সময় গুলশানের বাসভবনের সামনে
বালুভর্তি ট্রাক দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়। গাড়িতে উঠেও বেরোতে না পেরে ফিরোজার দোরগোড়ায়
দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন খালেদা জিয়া। পুলিশের চাপের মধ্যে শরীরের ভার সামলাতে
না পারার মুহূর্তে নীরবে তার হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন ফাতেমা। ক্যামেরার ফ্রেমে
ধরা পড়ে যায় সেই মানবিক দৃশ্য।
২০১৮
সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে আইনজীবীরা আবেদন করেন,
তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম যেন সঙ্গে থাকতে পারেন। আদালতের অনুমতিতে ছয় দিন পর তিনি
নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়াই
স্বেচ্ছায় হয়ে ওঠেন কারাবন্দি।
২০২১
সালের এপ্রিল মাসে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া।
যখন মহামারির ভয়ে প্রিয়জনের কাছেও যেতে মানুষ দ্বিধায় ছিল, তখন ফাতেমা ছিলেন অবিচল
সেবিকা হয়ে, সাহস হয়ে, ছায়া হয়ে।
সবশেষ
লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার সময়ও খালেদা জিয়ার সঙ্গেই ছিলেন তিনি। আগের বিদেশ সফরগুলোতেও
নীরবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফাতেমা
বেগম কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, কোনো পদও ছিল না। তবু ইতিহাসের কঠিন মুহূর্তগুলোতে
তার উপস্থিতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। তিনি প্রমাণ করে গেছেন সব সম্পর্ক ক্ষমতার নয়, কিছু সম্পর্ক
শুধু দায়িত্ব আর মানবিকতার। রাজনীতির কোলাহলের ভিড়ে তিনি ছিলেন এক নীরব নাম। কিন্তু
সেই নীরবতাই তাকে আলাদা করে চিহ্নিত করে।
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক
মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড সার্জনসকে (বিসিপিএস)
কার্যকরী ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন।
(২৪ জুন) সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস এন্ড
সার্জনস (বিসিপিএস)-এর নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের সাক্ষাৎ এর বিষয়টি নিয়ে
ব্রিফ করে ।
প্রেস সচিব জানান, বিসিপিএস এর কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাতকালে বিসিপিএস-এর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব
দেন। তিনি বিসিপিএস এর একাডেমিক কার্যক্রম ও ডিগ্রি প্রদানের সার্বিক প্রক্রিয়া রাষ্ট্রপতিকে
জানান।
বিসিপিএস এর কার্যকরী ভূমিকা রাখা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসা মানুষের অন্যতম
মৌলিক অধিকার। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে চিকিৎসা বিজ্ঞানেও
দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার
পাশাপাশি হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ারও তাগিদ দেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরি
করা গেলে চিকিৎসা সেবার জন্য বিদেশমুখীতার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি মূল্যবান বৈদেশিক
মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। জনগণও কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।
অধ্যাপক সহিদুল্লা জানান, বিসিপিএস থেকে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৮১৫ জন চিকিৎসক ফেলাশিপ
(এফসিপিএস) এবং ৩ হাজার ৭৯১ জন চিকিৎসক মেম্বারশীপ (এমসিপিএস) লাভ করেছেন। বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৬ জুন রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে যুক্তরাজ্যের
রয়েল কলেজগুলোর আদলে বিসিপিএস প্রতিষ্ঠা করেন।
এই কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য
ভূমিকা রাখছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের আজ শেষ সময়
।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ
১৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়
২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।
প্রথম ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল
কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফশিলও ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
দ্বিতীয় ধাপের তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ এপ্রিল শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাই
২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা
প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ
হবে ২১ মে।
তবে এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে। তা ছাড়া মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ হিসেবে ‘হিজড়া’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ হিজড়ারা
চাইলে হিজড়া পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। অন্য নির্বাচনে এই বিধান আগেই করা
হয়েছিল। উপজেলায় তা সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে এত দিন
২৫০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হতো। কিন্তু এবার সে বিধান
বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটারদের সমর্থনসূচক সইয়ের তালিকা আর
দিতে হবে না।
এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে আবার
ভোট করার বিধান ছিল। এখানে এবার সংশোধনী আনা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে
ফলাফল নির্ধারণ করা হবে লটারিতে।
প্রসঙ্গত, এবার দেশের ৪৮১টি উপজেলায় ভোট হবে চারটি ধাপে। বাকি দুই ধাপের তফশিল
এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মন্তব্য করুন


কাজ দেওয়ার আশ্বাস দেখিয়ে তিন রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় অপহরণ চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আটক ব্যক্তির নাম মো. বাবু (২৩)। তিনি রামুর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের লম্বরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নুরুল আবছারের ছেলে।পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা যায়, শনিবার সকালে দিনমজুরির কাজের কথা বলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তিন রোহিঙ্গা যুবককে তাদের ক্যাম্প থেকে বাইরে নিয়ে আসে। পরে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদের চোখ ও মুখ বেঁধে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় দুই যুবকের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।তৃতীয় যুবকের মুক্তিপণের টাকা নিতে গেলে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে অপহরণে জড়িত চার থেকে পাঁচজন পালিয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয় লোকজন মো. বাবুকে ধরে সন্ধ্যা আনুমানিক আটটার দিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয়।এদিকে অপহরণে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে আরও দুজনের নাম উঠে এসেছে—এরশাদুল্লাহ ও জালাল।রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গা যুবকদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিজ নিজ ক্যাম্পে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন


রাজধানী
ও আশপাশের জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা
হয়েছে।
১৯
নভেম্বর (রোববার) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ২৮ প্লাটুনসহ সারা দেশে ২৩৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
(বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি প্লাটুন স্ট্যান্ডবাই
রয়েছে।
মন্তব্য করুন


যাত্রীদের জিম্মি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের
রানিং স্টাফদের কর্মসূচি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) ট্রেন চলাচল
বন্ধের পর সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করতে এসে এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বলেন, স্টাফদের দাবির বিষয়ে আমাদের আলোচনার দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা
তাদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করব এবং অর্থ বিভাগেও তাদের এ দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করব।
যাত্রীদের ভোগান্তি যাতে কম হয় সেজন্য ইতোমধ্যে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি।
এরপরও কোনো যাত্রী যদি স্টেশনে আসেন তাদের সুবিধা বিবেচনা করে আমরা বিআরটিসি বাসের
ব্যবস্থা করে দিয়েছি। যাতে রেলের যে রুটগুলো আছে সেখানে যাত্রীরা যেতে পারেন।
রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির
খান বলেন, স্টাফদের যে দাবি মাইলেজ অ্যালাউন্সের দাবি, তা দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
তাদের এ দাবির অনেক অংশ আমরা ইতোমধ্যে পূরণ করেছি। বাকি দাবিগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা
করতে প্রস্তুত আছি। রেলতো কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি না, এখানে আলোচনার সুযোগ আছে। রেল
বন্ধের ফলে কিন্তু সরকারের অসুবিধা হচ্ছে না, অসুবিধা সাধারণ যাত্রীদের হচ্ছে। আমরা
চাই এর সমাধান দ্রুত হোক। কারণ সামনে ইজতেমা আছে।
পরিদর্শনকালে বিআরটিসির চেয়ারম্যান
তাজুল ইসলাম বলেন, কমলাপুর ও এয়ারপোর্ট স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ১০টি করে মোট ২০টি গাড়ি
প্রস্তুত আছে। প্রয়োজন হলে বাস আরও বাড়ানো হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রেলপথ সচিব মো.
ফাহিমুল ইসলাম, রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ এর প্রভাবে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়া, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচর সহ বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার রাত থেকে হালাকা থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষন হচ্ছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট বৈরি আবহাওয়ার কারণে হাতিয়ার সাথে সারাদেশের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শুক্রবার ভোর থেকে হাতিয়ার মেঘনা নদীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক ফুট জোয়ার বেড়েছে। গতকাল বিকেল থেকে মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরা ট্রলারগুলো তীরে ফিরে এসেছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে ভার্চুয়ালি মিটিং করেছেন জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, দূর্যোগ মোকাবেলার জন্য জেলায় ৪৮৫টি আশ্রয়ন কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। যেখানে ৩ লাখ ৪৮ হাজার উপকূলীয় এলাকার লোকজন আশ্রয় নিতে পারতেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিপিপি ৮৩৮০ জন, দুই শতাধিক রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবী, ১০১টি মেডিকেল টিম ও দূর্যোগ পরবর্তী সময়ের জন্য ৪৭৯ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ২৪লাখ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একুশে পদক গ্রহণ করলেন
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল
১১টা ৩০ মিনিটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই বিশেষ সম্মাননা তার হাতে তুলে দেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পদক
গ্রহণের পর ববিতা মিলনায়তনে উপস্থিত ভক্ত ও সুধীজনদের সঙ্গে সময় কাটান এবং হাসিমুখে
সবার সঙ্গে ছবি তোলেন। পুরো সময় তার পাশে থেকে সহযোগিতা করেন তার ছোট বোন ও জনপ্রিয়
চিত্রনায়িকা চম্পাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
রাষ্ট্রের
এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত ববিতা বলেন, ‘অবশেষে একুশে পদক পেলাম। আমাকে
এই সম্মানে ভূষিত করায় রাষ্ট্র, দেশের মানুষ এবং দর্শকদের প্রতি আমি মন থেকে কৃতজ্ঞ।
সিনেমার মাধ্যমে মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি তাদের কাছে ঋণী।’ববিতা
তার এই অনন্য অর্জন উৎসর্গ করেছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও শহীদ বুদ্ধিজীবী জহির রায়হানকে।
তিনি
বলেন, ‘জহির রায়হান স্যারের হাত ধরেই আমার চলচ্চিত্রে আসা। তাই এই সম্মাননা আমি তাকেই
উৎসর্গ করছি।’
মন্তব্য করুন


১৪
ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। কেউ ফুল দিয়ে ভালোবাসা জানায়, কেউ উপহার দিয়ে। কিন্তু
ভালোবাসার প্রকৃত অর্থ কি শুধুই কিছু মুহূর্তের আনন্দ? নাকি প্রিয় মানুষকে বাঁচাতে
নিজের জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার নামই সত্যিকারের ভালোবাসা? মৃত্যুর দুয়ারে দঁড়িয়ে থাকা স্বামীর
সংকট মুহূর্তে হাত ছাড়েননি তার জীবনসঙ্গী। নিজের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দান করে
স্বামীকে নতুন জীবন দিয়ে ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন স্ত্রী।
হাসপাতালের
বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন বরিশাল নগরীর বাসিন্দা আবদুর রহমান। তার দুটি কিডনিই
অচল হয়ে গেছে। হাসপাতালের করিডোরে তখন অনিশ্চয়তার ভারী বাতাস। ডাক্তাররা জানিয়ে দেন
রহমানকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। চিকিৎসার জন্য জীবনের
উপার্জিত অর্থ তুলে দিয়েছিলেন ভাইয়ের হাতে। কিন্তু সেই ভাই রক্তের বাধনকে ছিন্ন করে
লোভে পড়েন অর্থের। অসুস্থ ভাইকে হাসপাতালে রেখে টাকা-পয়সা নিয়ে সটকে পড়েন তিনি।
সে
সময় দিশেহারা রহমানের স্ত্রী মেসাম্মাত তানজিলা, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে নিরুপায়। কি
করে বাঁচাবে তার স্বামীকে। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয় নিজের একটি কিডনি দিয়ে তার প্রিয়
জীবন সঙ্গীকে ফিরিয়ে আনবেন তার ভালোবাসার সংসারে। ছোট ছোট দুটি সন্তান মায়ের কাছে রেখে
সুদূর ভারতের ভেলোরে দীর্ঘ ৮মাস একাই জীবন মরণ যুদ্ধে লড়াই করে ভোলাবাসার মানুষকে নিয়ে
ফেরেন দেশে। করুণ এই ভালোবাসার কথা গুলো যেন স্বরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। তাই আজও রহমান
ও তানজিলার সংসার কাটছে অফুরন্ত ভালোবাসায়।
জানতে
চাইলে স্ত্রী মোসাম্মাত তানজিলা বলেন, বিয়ের পর থেকে স্বামীর সংসারে অবহেলিত ছিলেন
তানজিলা। স্বামীর কাছ থেকে পায়নি ভালোবাসা। স্বামী নিজে তার উপার্জিত অর্থ পরিবারের
আপন লোকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু তারাই স্বামীকে ফেলে চলে যায় অনত্র। নিজের
স্বামীকে বাঁচাতে দিন রাত এক করে জমানো টাকা আর শরীরের কিডনি দিয়ে ফিরিয়ে আনেন স্বামীকে। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীকে নিজের জীবনের চেয়েও
বেশি ভালোবাসি। স্বামীকে হারাতে চাইনি তাই নিজের কিডনি দিয়ে তাকে আবার ফিরিয়ে এনেছি।
বর্তমানে আমি স্বামীর ভালোবাসা পাচ্ছি। তিনি এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আমি আমার
স্বামীকে নিয়ে সুখেই আছি।
১৪
ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এই দিনে অনেকেই ভালোবাসার মানুষকে ফুল, চকলেট কিংবা
উপহার দেন। কিন্তু রহমান ও তার স্ত্রীর গল্প মনে করিয়ে দেয় ভালোবাসা শুধু প্রকাশের
নয়, ত্যাগের নামও ভালোবাসা। ভালোবাসা মানে শুধু পাশে থাকা নয়, প্রয়োজনে নিজের ভেতরের
শক্তিটুকু উজাড় করে দেওয়া।
আবদুর
রহমানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি নতুন জীবন পেয়েছি আমার স্ত্রীর কারণে। সে না
থাকলে আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। আমি তার কাছে সারাজীবন ঋণী।
ফুল
শুকিয়ে যায়, উপহার হারিয়ে যায় কিন্তু ভালোবাসার জন্য দেওয়া এক টুকরো জীবন চিরকাল অম্লান
হয়ে থাকে। তাই তো ভালোবাসা সবসময়ই সুন্দর।
মন্তব্য করুন