

তিন দিনের সফরে ভারতে এসেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। শুক্রবার গভীর রাতে তিনি কলকাতায় পৌঁছান। বিমানবন্দরের বাইরে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক ভক্তের উপস্থিতি ছিল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়াম ও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে এক নজর দেখতে জনসমাগম যে ব্যাপক হবে, তা ছিল অনুমেয়। তবে ভক্তদের সেই উচ্ছ্বাস শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় একপর্যায়ে তা স্থগিত করতে হয়। মাত্র প্রায় ২০ মিনিট মাঠে উপস্থিত ছিলেন মেসি, ফলে অনেক দর্শক কাছ থেকে তাকে দেখার সুযোগ পাননি।এ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা যায়। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দূর থেকে কেবল ঝাপসা একটি অবয়বই চোখে পড়েছে। আবার এক ভক্ত জানান, নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে মেসিকে দেখতে এসেছিলেন তিনি।মেসি স্টেডিয়াম ত্যাগ করার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ দর্শকরা সল্টলেক স্টেডিয়ামের ভেতরে ভাঙচুর চালান। চেয়ার উপড়ে ছোড়া হয়, ডাগআউটের ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো স্টেডিয়ামটি যেন কোনো বড় ধরনের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার রূপ নেয়।একই ধরনের বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও। কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ ঘটনার পর মেসির ভারত সফরের মূল আয়োজক শতদ্রুকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। মেসির সফরসূচি অনুযায়ী পরবর্তী গন্তব্য হায়দরাবাদ, এরপর মুম্বাই ও দিল্লি যাওয়ার কথা থাকলেও আয়োজকের গ্রেপ্তারের কারণে এসব অনুষ্ঠান আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি মেসি ও তার ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি লেখেন, সল্টলেক স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনায় তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ঘটনার দ্রুত তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।
মন্তব্য করুন


ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের চালক আলমগীরের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আটক দুজন হলেন মো. মিলন ও হাবিবুর রহমান হাবিব।
আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর অদূরে সাভারের হেমায়েতপুরের জাদুর চর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলিবর্ষণের দিন বাইকচালক আলমগীরের সঙ্গে আটক দুই সহযোগীর মধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ ছিল। ওই দিন আলমগীরের ফোন থেকে মিলনের নম্বরে ৭৪ বার এবং হাবিবের সঙ্গে ৫২ বার কথা বলার তথ্য পাওয়া গেছে, যা কিলিং মিশনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও শনাক্ত করেছে র্যাব। ওই মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নানকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। রোববার তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-২ জানায়, আটক হান্নানের বাড়ি মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় হলেও তার স্থায়ী ঠিকানা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হান্নান একাধিকবার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। কখনো বলেছেন মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন, আবার কখনো বলেছেন সেটি গ্যারেজে ছিল—তবে কোনো দাবির পক্ষেই তিনি প্রমাণ দিতে পারেননি।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেলটির নম্বর (৫৪-৬৩৭৫) শনাক্ত করা হয় এবং বিআরটিএ থেকে যাচাই করে মালিকানা নিশ্চিত করা হয়। হান্নান হামলার প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের পূর্বপরিচিত হলেও দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই বলে দাবি করেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, ফয়সাল তার ঘনিষ্ঠজন এবং জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পল্টনে বক্স কালভার্ট রোড দিয়ে রিকশায় যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলযোগে এসে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গভীর করবেন বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও গভীর করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) দপ্তরের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, যা হয়েছে তাতে আমরা খুবই খুশি। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ৩১ জুলাই ঘোষিত ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ইউনূস এটিকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল এবং তুলা ও সয়াবিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজ পণ্য আমদানি বাড়াতে বাংলাদেশের আগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া এলপিজি আমদানি, সিভিল এয়ারক্রাফট কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়েও কথা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত। এতে আরও শুল্ক ছাড়ের পথ তৈরি হবে, যা দুই দেশের জন্য টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্য অংশীদারত্বে সহায়তা করবে।
তিনি চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়া দ্রুত সই হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমাদের স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তাই এ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আশাব্যঞ্জক, যোগ করেন তিনি।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আগামী দিনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ও স্বল্প সুদে ঋণপ্রবাহ বাড়ার আশা ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দরজা যেন আরও প্রসারিত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে ইউএসটিআর টিমকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রেন্ডন লিঞ্চ বলেন, এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক থেকেই যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আলোচনাকে সহজ ও ফলপ্রসূ করেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আলোচক দল পাঠিয়েছিলেন।’
তিনি শুল্কচুক্তি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ইউএসটিআর দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক এমিলি অ্যাশবি, এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মুরশেদ, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ঋণ সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। এসময় বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বলেন, চলতি অর্থবছরে তার সংস্থা বাংলাদেশের জন্য দুইশ’ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন অর্থায়ন করতে পারবে। এই অর্থ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, বন্যা মোকাবিলা, দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বায়ুর মান বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
জরুরিভাবে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন ক্ষেত্রে সহায়তা করা হবে উল্লেখ করে আবদৌলায়ে সেক বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এবং যতটা সম্ভব আপনাদের সহায়তা করতে চাই।
বৈঠকে নতুন ঋণ সহায়তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংস্থাটি সরকারের চলমান বিদ্যমান প্রকল্পে প্রায় একশ’ কোটি ডলারের অতিরিক্ত একশ’ কোটি ডলারের তহবিল পুনর্বিন্যাসের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান জানান, অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক এবারের অর্থবছরে বাংলাদেশকে সহজশর্তে ঋণ এবং মঞ্জুরি মিলিয়ে প্রায় তিনশ’কোটি মার্কিন ডলার প্রদান করবে, যার মাধ্যমে বিদ্যমান প্রকল্পসমূহের তহবিল পুনর্বিন্যাসও করা হবে।
সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাংলাদেশের তরুণ সম্প্রদায় এবং দেশটির জন্য ‘মহৎ কাজ’হবে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বলেন, প্রতিবছর যে ২০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, তারাও এর সুফল পাবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরক্টেরকে উদ্দেশে করে বলেন, ১৫ বছরের অপশাসন থেকে ঘুরে দাঁড়াতে আমরা যে নতুন যাত্রার সূচনা করেছি তাকে এগিয়ে নিতে এবং সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকের ঋণ তহবিলসমূহের শর্তাবলী নমনীয় হতে হবে। আমাদের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে। আমাদের এখন বড় ধাক্কা দেওয়ার প্রয়োজন এবং ছাত্রদের যে স্বপ্ন রয়েছে তা পূরণে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন,
আমি আপনাদের বলবো- আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের টিমের অংশীদার হোন। গত ১৫ বছরে শেখ
হাসিনার শাসন আমলে দুর্নীতিবাজরা অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে কয়েক বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। পাচার হওয়া এসব অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি বিশ্বব্যাংককে কারিগরি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রধান বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সহায়তা করতে সম্মত হন। তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পেরে খুশি হবো। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে পরিসংখ্যানগত তথ্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা তৈরি, কর আহরণে অটোমেশন চালু এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সহায়তা করতে চায়। বাংলাদেশ তার প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত এবং মোটা দাগের সংস্কার করার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না। একবার এ সুযোগ হারালে কখনো তা আর ফিরে আসবে না।
আবদৌলায়ে সেক জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের শহিদদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি ঢাকার দেয়ালে তরুণদের আঁকা বর্ণিল গ্রাফিতি ও ম্যুরাল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন উল্লেখ করে বলেছেন, ৩০ বছরের চাকরি জীবনে অন্য কোথাও এমন দেখিনি।
মন্তব্য করুন


ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে গত অক্টোবরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যদের মতে, আগুনের উৎস ছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট।
আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) তদন্ত কমিটির সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। পরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন,
“তদন্ত প্রতিবেদনে নাশকতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আগুনের উৎস ছিল বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট।”
গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজের আমদানি অংশে আগুন লাগে এবং টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে। এতে প্রায় সব আমদানিকৃত মালামাল পুড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ ১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে স্বরাষ্ট্রসচিবকে প্রধান করে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবার সেই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মন্তব্য করুন


ভিশন ২০৩০’ কর্মপরিকল্পনার আওতায় ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে ক্রিকেট অঙ্গনে নিজেদের ভিত্তি মজবুত করতে চায় সৌদি আরব। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের পথ অনুসরণ করে বিভিন্ন টেস্ট খেলুড়ে দেশ থেকে ক্রিকেটার সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দল গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি।এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটার ও কোচ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সৌদি আরব। তবে তাদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।ক্রিকেটবিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি বিসিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটার পাঠানোর অনুরোধ জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রায় দুই মাস আগে তাঁর কাছে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।এ প্রসঙ্গে বিসিবি প্রধান আরও জানান, সৌদি আরব পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগ থেকেই ক্রিকেটার ও কোচ চেয়েছিল। তবে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থের সঙ্গে আপস করে এমন সহযোগিতা করা সম্ভব নয় বলেই তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে সৌদি আরব ইতোমধ্যে গলফ, ফর্মুলা ওয়ান এবং ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের মতো বড় উদ্যোগে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। এবার আইসিসি ও এসিসির সহায়তায় উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রিকেটে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করাই তাদের নতুন লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
কুমিল্লার কোতোয়ালী মডেল থানায় অস্থায়ী ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।বুধবার (২৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়।জানা যায়, বহুল প্রত্যাশিত মডেল ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কোতোয়ালী মডেল থানার পুরোনো ভবন ভাঙার প্রস্তুতি চলছে। নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে থানার নিয়মিত প্রশাসনিক ও দাফতরিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এই অস্থায়ী ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, “অস্থায়ী এই অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ আরও উন্নত হবে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতারা আগের তুলনায় দ্রুত, নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা পাবেন।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে নতুন স্থাপনা নির্মিত হলে থানার সার্বিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে।
থানা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ফোর্স সদস্যদের জন্য উপযোগী আবাসন এবং কার্যকরী অফিস পরিবেশ নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনবান্ধব পুলিশিং এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে এই অস্থায়ী ভবন সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন কর্মকর্তারা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম, ডিবি ওসি মোঃ আবদুল্লাহসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম নগরের কদমতলীর টিডি রোডের বহুতল ভবন চেয়ারম্যান বাড়ির ভেতরে কম্বলের গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরের দিকে কোতোয়ালি থানার কদমতলীর পোড়া মসজিদ এলাকায় ভবনটির পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে সহায়তা দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটির ভেতর থেকে ধোঁয়া ও দাউদাউ আগুন বের হচ্ছে। আশপাশের এলাকাজুড়ে মানুষের ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তীব্র তাপ ও ধোঁয়ার কারণে বেশ কয়েকবার পিছিয়ে আসতে হয়েছে।
আগুনের তীব্রতায় ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আগুনের উৎস ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন


ঢাকা থেকে বরিশালের মুলাদীগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মহারাজ-৭ নোঙর করে রাখা একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় পড়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে নদীর তীরঘেঁষা অবস্থায় থাকা মালবাহী জাহাজটি সময়মতো নজরে না আসায় লঞ্চটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে লঞ্চের বাম পাশের দোতলা অংশের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে জিহাদ হোসেন নামের এক শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। লঞ্চে থাকা এক যাত্রী আবু বকর ছিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার পর দোতলার যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে নিচতলায় নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লঞ্চটি আবার মুলাদীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
মন্তব্য করুন


দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।
একই সঙ্গে শক্তিশালী কমিশন গঠনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে হামলার বিচারও দাবি করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কার্যালয়ে আয়োজিত হিন্দু-বৌদ্ধসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জামায়াতের পক্ষ থেকে এসব দাবি উপস্থাপন করেন দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, হিন্দুদের সুরক্ষায় জামায়াত দুটি দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম দাবি হলো: রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দু সম্প্রদায়কে সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো একটা দল বা কোনো একটা লোক দাড়ি-টুপি পরে লাঠি হাতে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা খুবই বেমানান দেখায়। আমরা মনে করি এখন যেহেতু সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজে ফিরেছে, এখন সরকারের উদ্যোগে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। আমাদের দ্বিতীয় দাবি হলো: স্বাধীন কমিশন করে হিন্দুদের ওপর হামলা-নির্যাতনের বিচার দাবি জামায়াতের। জামায়াতে ইসলামীকে হিন্দুবিদ্বেষী দল বলে ধারণা করা হয়। এটা এক ধরনের অপপ্রচার ছাড়া কিছুই না। পাশাপাশি হিন্দুদের ব্যবহারেও একটি অপপ্রচার দেশে আছে, সেটি হলো হিন্দু মানেই মনে করা হয় আওয়ামী লীগ। জামায়াতকে যেমন হিন্দুবিরোধী অপপ্রচার দেওয়া হয়েছে, তেমনি হিন্দুদেরও আওয়ামী লীগের একটা ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য হিন্দুদেরও যেমন জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধে কাজ করতে হবে, তেমনি জামায়াতকেও হিন্দু মানেই আওয়ামী লীগ ‘তকমা’ দূরীকরণে কাজ করতে হবে। জামায়াত হিন্দুদের ওপর আঘাতে বিশ্বাস করে না। আঘাত হিন্দু হোক, মুসলমান হোক দুই ধর্মেই নিষিদ্ধ। আমি নিজে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার এমপি ছিলাম। আমাকে হিন্দুরাও অনেক ভোট দিয়েছিল, তারা আমাদের বিশ্বাস করে। আমাদের ওপর তাদের পুরোপুরি আস্থা আছে। এটা আমার আদর্শিক দায়িত্ব।
হিন্দু-বৌদ্ধসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বাইরেও যদি আপনারা আপনাদের নিরাপত্তায় জামায়াতকে প্রয়োজন মনে করেন, রাত ৩টা বা ৪টা যেকোনো সময়েই আমাদেরকে ফোন করবেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব।
মন্তব্য করুন


আগামী
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) যে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।
আজ
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষা উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. সি আর আবরার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ ঘোষণা দেন।
মন্তব্য করুন