

আজ রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। ‘বহুভাষায় শিক্ষার প্রসার: পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তির জন্য সাক্ষরতা’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালিত হচ্ছে এ বছরের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।
দিবসটি উপলক্ষে এক বাণীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আনুষ্ঠানিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘শিক্ষা মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদ্যাপনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের জনগণকে শিক্ষা ও সাক্ষরতার বিষয়ে সচেতন ও উৎসাহী করে তোলা এবং তাদের মানবসম্পদে রূপান্তর করা। মাতৃভাষায় সাক্ষরতা অর্জনের পাশাপাশি এক বা একাধিক ভাষা শেখার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শিশু, কিশোর ও তরুণদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনমান, জাতীয় উন্নয়ন ও শান্তি ত্বরান্বিত করতে আমাদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। এ বছরের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য সেই লক্ষ্যই তুলে ধরছে। শিক্ষা জাতি গঠনের প্রধান বাহন এবং শিক্ষার প্রথম ধাপ হলো সাক্ষরতা।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাসাক্ষরতার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে বলেন।তিক সাক্ষরতা দিবসে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে
এবারের সাক্ষরতা দিবসে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমি জেনে আনন্দিত যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৪ উদ্যাপন করছে।
বিশ্বব্যাপী ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস (আইএলডি) উদ্যাপন করা হচ্ছে ১৯৬৭ সাল থেকে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি
আজ মঙ্গলবার (১২ মে)সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
'ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’
শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা
এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে
শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন
এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো
নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর
হয়ে পড়বে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ
শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার
সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল
সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি
একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র
বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরির বাজারে বেকারত্ব
বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।'
তারেক
রহমান বলেন, 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে
প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং
সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা
অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর
শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা
তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের
মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।'
তিনি
বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা
কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা
কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি
বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের
সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের
নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’
শিক্ষা
কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়।
অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না
পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।'
তিনি
বলেন, 'প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে
সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন
সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।'
বিশেষ
করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ
এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ
করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু
করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ
করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে
তাকে আর বেকার থাকতে হবে না '
তিনি
বলেন, 'কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক
প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য
হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং
সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরির
জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা
হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’,
সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের
ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ
এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার
ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলপর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। '
প্রধানমন্ত্রী
বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ
লেখক 'গুডউইন' যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে 'বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট'
হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই।
বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া 'ফেসবুক' নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের
বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম 'আলিবাবা'র কোনো 'মজুদ পণ্য' নেই।
বিশ্বের
সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার 'এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।'
অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো
মূলত: এক একটি 'স্মার্ট ইন্টারফেস'। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং
যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।
শিক্ষার্থীদের
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা
গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি,
ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের
'গবেষণা এবং উদ্ভাবন' কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে
বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।'
তিনি
বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে
প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা' উন্নয়নে সম্পৃক্ত
করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।'
মেধাভিত্তিক
দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও
সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের
পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন
করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। '
ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের
বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'স্বাধীনতাপ্রিয়
গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের
বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ
বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং
সমাজ গড়তে চায়।'
তিনি
বলেন, 'জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে
শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের
সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা
চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।'
তিনি
বলেন, 'তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক
মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা
সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।'
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসির
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল
হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক,
ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতিও এই প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হবে। এই সরকারের একটি প্রাথমিক তালিকা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আমরা সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত নিলেও এই সরকারে অন্য কারও নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমরা ১০ থেকে ১৫ জনের নাম প্রস্তাব করেছি। যেখানে নাগরিক সমাজসহ ছাত্র প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই তালিকাটি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।
বৈঠকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকার সাহ্রি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে এ সময়সূচি। ২ মার্চ প্রথম রোজার সাহ্রির শেষ সময় ভোর ৫টা ৪ মিনিট ও ইফতারির সময় ৬টা ২ মিনিট।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন আরও জানায়, দূরত্ব অনুযায়ী ঢাকার সময়ের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৯ মিনিট যোগ করে অথবা ৯ মিনিট বিয়োগ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সাহ্রি ও ইফতার করবেন।
রোজা | মার্চ | বার | সাহরি শেষ | ফজর শুরু | ইফতারের সময় |
*০১ | ২ মার্চ | রোববার | ৫-০৪ মি. | ৫-০৫ মি. | ৬-০২ মি. |
০২ | ৩ মার্চ | সোমবার | ৫-০৩ মি. | ৫-০৪ মি. | ৬-০৩ মি. |
০৩ | ৪ মার্চ | মঙ্গলবার | ৫-০২ মি. | ৫-০৩ মি. | ৬-০৩ মি. |
০8 | ৫ মার্চ | বুধবার | ৫-০১ মি. | ৫-০২ মি. | ৬-০৪ মি. |
০৫ | ৬ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৫-০০ মি. | ৫-০১ মি. | ৬-০৪ মি. |
০৬ | ৭ মার্চ | শুক্রবার | ৪-৫৯ মি. | ৫-০০ মি. | ৬-০৫ মি. |
০৭ | ৮ মার্চ | শনিবার | ৪-৫৮ মি. | ৪-৫৯ মি. | ৬-০৫ মি. |
০৮ | ৯ মার্চ | রোববার | ৪-৫৭ মি. | ৪-৫৮ মি. | ৬-০৬ মি. |
০৯ | ১০ মার্চ | সোমবার | ৪-৫৬মি. | ৪-৫৭ মি. | ৬-০৬ মি. |
১০ | ১১ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪-৫৫ মি. | ৪-৫৬মি. | ৬-০৬ মি. |
১১ | ১২ মার্চ | বুধবার | ৪-৫৪ মি. | ৪-৫৫ মি. | ৬-০৭ মি. |
১২ | ১৩ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪-৫৩ মি. | ৪-৫৪ মি. | ৬-০৭ মি. |
১৩ | ১৪ মার্চ | শুক্রবার | ৪-৫২ মি. | ৪-৫৩ মি. | ৬-০৮ মি. |
১৪ | ১৫ মার্চ | শনিবার | ৪-৫১ মি. | ৪-৫২ মি. | ৬-০৮ মি. |
১৫ | ১৬ মার্চ | রোববার | ৪-৫০ মি. | ৪-৫১ মি. | ৬-০৮ মি. |
১৬ | ১৭ মার্চ | সোমবার | ৪-৪৯মি. | ৪-৫০ মি. | ৬-০৯ মি. |
১৭ | ১৮ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪-৪৮ মি. | ৪-৪৯মি. | ৬-০৯ মি. |
১৮ | ১৯ মার্চ | বুধবার | ৪-৪৭ মি. | ৪-৪৮ মি. | ৬-১০ মি. |
১৯ | ২০ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪-৪৬ মি. | ৪-৪৭ মি. | ৬-১০ মি. |
২০ | ২১ মার্চ | শুক্রবার | ৪-৪৫মি. | ৪-৪৬ মি. | ৬-১০ মি. |
২১ | ২২ মার্চ | শনিবার | ৪-৪৪ মি. | ৪-৪৫মি. | ৬-১১ মি. |
২২ | ২৩ মার্চ | রোববার | ৪-৪৩ মি. | ৪-৪৪ মি. | ৬-১১ মি. |
২৩ | ২৪মার্চ | সোমবার | ৪-৪২ মি. | ৪-৪৩ মি. | ৬-১১ মি. |
২৪ | ২৫ মার্চ | মঙ্গলবার | ৪-৪১মি. | ৪-৪২ মি. | ৬-১২মি. |
২৫ | ২৬ মার্চ | বুধবার | ৪-৪০ মি. | ৪-৪১মি. | ৬-১২মি. |
২৬ | ২৭ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ৪-৩৯ মি. | ৪-৪০ মি. | ৬-১৩মি. |
২৭ | ২৮মার্চ | শুক্রবার | ৪-৩৮ মি. | ৪-৩৯ মি. | ৬-১৩মি. |
২৮ | ২৯মার্চ | শনিবার | ৪-৩৬ মি. | ৪-৩৮ মি. | ৬-১৪মি. |
২৯ | ৩০ মার্চ | রোববার | ৪-৩৫ মি. | ৪-৩৬ মি. | ৬-১৪মি. |
৩০ | ৩১ মার্চ | সোমবার | ৪-৩৪ মি. | ৪-৩৫ মি. | ৬-১৫মি. |
রমজানের সাহ্রি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৫
মন্তব্য করুন


মাইলস্টোন স্কুল দুর্ঘটনায় প্রিয় বড় বোনকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়ে তাহসিন আব্দুল্লাহ। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বড় বোনকে খুঁজতে। কারও কাছ থেকে শুনেছিল, স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন। সেগুলো নিয়ে বোনের ক্লাসের সামনে অপেক্ষাও করেছিল। কিন্তু বোনের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। সেই থেকে তার মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসিও আর দেখা যেতো না।
তবে
গত ২৭ জুলাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী আয়োজনে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে
আয়োজিত অনুষ্ঠানে যেন দেখা মিললো অন্য এক তাহসিনের। হাজারও শিশুর ভিড়ে স্কুলড্রেস পরা
এক কিশোরের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দুটি হাত আর চোখেমুখে ফুটে
ওঠা উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। ক্যামেরাবন্দি সেই ছবিটি মুহূর্তেই
ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
পরবর্তীতে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন, ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক
পারিবারিক ইতিহাস। বিষয়টি জানার পর তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে
তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরই
ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে
সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। পরিবারে তার নার্সারিতে
পড়ুয়া আরও একটি ছোট বোন রয়েছে।
সাক্ষাৎকালে
প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায়, তা জানতে চান।
জবাবে তাহসিন জানায়, সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে
চায়, যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে এবং মানুষ আকৃষ্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রী
তার এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা এবং নিজের
স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়,
তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলসহ বিশেষ
উপহার তুলে দেন তাহসিনের হাতে।
সাক্ষাৎ
শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত।
এমন একটি সুযোগ পাবে, তা সে কল্পনাও করেনি। পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ।
সে বলে, স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হওয়ার গল্প শোনানোর জন্য
সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তাহসিন
আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন। তাই তার
মোটেও নার্ভাস লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছে সে। সেখানে রাখা
গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানায় তাহসিন। বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিও তুলেছে সে। মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো
তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকালে
উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর
একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান
সানী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ
আমান উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর
সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।
মন্তব্য করুন


উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে প্রথমবার সচিবালয়ে এসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টায় সচিবালয়ে আসেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ড. ইউনূসকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে এখন অনুষ্ঠিত পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকগুলো রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে হয়েছে। এই প্রথম সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৯তম অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের
বৈঠকে যোগদানের জন্য তাঁর চার দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে আজ ভোরে দেশে ফিরেছেন।
প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর সফরসঙ্গীদের
বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট ভোর ৩টা ৩২ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
এসে পৌঁছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল
আলম এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় (নিউইয়র্ক
সময়) ফ্লাইটটি নিউইয়র্কের জেকেএফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস মার্কিন প্রেসিডেন্ট
জো বাইডেনসহ ১২টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের
সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সাইডলাইনে ৪০টি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সময় শুক্রবার
(২৭ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেয়া ছাড়াও ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন
প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর বাইডেনের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
এছাড়া তিনি অন্যান্যের মধ্যে জাতিসংঘ
মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
শেহবাজ শরীফ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং নেদারল্যান্ডস’র প্রধানমন্ত্রী ডিক শুফের সাথে দ্বিপাক্ষিক
বৈঠক করেন।
নিউইয়র্ক অবস্থানকালে প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট
উরসুলা ভন ডের লেয়েন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, মার্কিন পররাষ্ট্র
মন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিঙ্কেন, জাতিসংঘের হাইকমিশনারের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনার ফিলিপ্পো
গ্র্যান্ডি, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ ও ইউএসএইডের প্রশাসক সামান্থা
পাওয়ার সাক্ষাত করেন।
প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্কে জাতিসংঘ
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন।
তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম
অধিবেশনে যোগ দিতে ২৩শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছান।
মন্তব্য করুন


নতুন বছর- ২০২৫ উপলক্ষে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (১ জানুয়ারি) খ্রিষ্টীয় নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নতুনের আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে, নব উদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।
নতুন বছরের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির নতুন শিখরে আরোহণে অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।’
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার লাখো শহীদের রক্ত ও গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতাকে সর্বদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করছে। আমরা দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এবং যেকোনো সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করবো।’
নতুন বছরে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও জোরদার হোক এই কামনা করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘খ্রিষ্টীয় নতুন বছর ২০২৫ সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদের দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আব্দুল হাফিজ প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক দায়িত্ব পালনে প্রধান উপদেষ্টাকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদান করবেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে থাকা অবস্থায় তিনি উপদেষ্টা পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উল্লেখ্য যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে তিনি জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সময় তরুণ বিপ্লবীদের আঁকা বর্ণিল ও বিচিত্র গ্রাফিতি ঘুরে দেখেছেন।
এসময় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ
নজরুল, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ
সহকারী মাহফুজ আলমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই জুলাই-অগাস্ট মাসে ছাত্রদের নেতৃত্বে বৈষম্য
বিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য শহর ও নগরের দেয়ালে তরুণ শিক্ষার্থীদের
আঁকা সেরা গ্রাফিতি নিয়ে একটি আর্টবুক প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
সে অনুযায়ী ‘দি আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামে একটি আর্টবুক প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ ও ভারত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১০টি সমঝোতা স্মারক ও নথি
সই করেছে ।
শনিবার (২২ জুন) দুপুরে নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তাদের উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই
হয়।
এর মধ্যে পাঁচটি নতুন সমঝোতা স্মারক সই, তিন সমঝোতা স্মারক নবায়ন এবং ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্র হিসেবে যৌথ কার্যক্রমের দুটি নথিতে সই করে উভয় দেশ।
‘ডিজিটাল অংশীদারত্ব’ এবং ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সবুজ অংশীদারত্ব’ বিষয়ক দুটি সমন্বিত রূপকল্পকে সামনে রেখে কাজ করবে ভারত এবং বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দুই যৌথ কার্যক্রমের নথি সই করে বাংলাদেশ।
এ দুটি হলো—বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল অংশীদারত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা এবং
টেকসই ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সবুজ অংশীদারত্বের বিষয়ে অভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা বিষয়ক
নথি সই।
নতুন পাঁচটি সমঝোতা স্মারক হলো—বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সুনীল অর্থনীতি ও
সমুদ্র সহযোগিতার বিষয়ে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক; ভারত মহাসাগরের ওশানোগ্রাফির
ওপর যৌথ গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের বিওআরআই ও ভারতের সিএসআইআরের মধ্যে
সমঝোতা স্মারক; বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগের ওপর সমঝোতা স্মারক; যৌথ ছোট
স্যাটেলাইট প্রকল্পে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি
মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভারতের ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথোরাইজেশন সেন্টারের মধ্যে
সমঝোতা স্মারক এবং ডিফেন্স স্টাফ কলেজের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা বিষয়ে সমঝোতা স্মারক।
নবায়নকৃত তিন সমঝোতা স্মারক হলো—মৎস্যসম্পদ সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক; দুর্যোগ
ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং স্বাস্থ্য ও ওষুধ খাতে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা
স্মারক।
এর আগে সকাল ৯টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তাকে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মোটর বহরকে পাহারা দিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের গেট থেকে ফোরকোর্টে নিয়ে যায়।
এরপর এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার
দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সশস্ত্র সালাম গ্রহণের
পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড অব অনার পরিদর্শন করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাইন অব
প্রেজেন্টেশনে দুদেশের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের
পরিচয় করিয়ে দেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনের এ কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের জাতির পিতা
মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাট যান। সেখানে তিনি মহাত্মা গান্ধীর সমাধিসৌধে
পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে শেখ হাসিনা হায়দ্রাবাদ হাউসে যান। সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদীর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
মন্তব্য করুন