

রাজবাড়ীর
বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীর পাঠানো ডিভোর্সের কাগজ হাতে পাওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত
হয়ে তানভীর রণক (২৮) নামে এক যুবক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার
(২৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়
তার মৃত্যু হয়।
নিহত
তানভীর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের গোসাই গোবিন্দপুর গ্রামের ইব্রাহিম শেখ ও কনিকা বেগমের
ছেলে। তিনি আগে বিদেশে ছিলেন।
স্বজনদের
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট রাজবাড়ী আদালতে ফাতেমা (২৩) নামে এক তরুণীর সঙ্গে তানভীরের
বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকাসহ টাঙ্গাইলে অবস্থান করছিলেন। পরে ফাতেমার পরিবারের অনুরোধে
তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তানভীরের
স্বজনদের অভিযোগ, বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর ফাতেমাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে
তানভীরের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। স্ত্রীকে সংসারে ফিরিয়ে আনার আশায় তানভীর
ওই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে জমি বিক্রির উদ্যোগ নেন। সাত শতাংশ জমি বিক্রির দলিল
করার কথাও তিনি বলেছিলেন। এর মধ্যেই তার কাছে ডিভোর্সের কাগজ পাঠানো হয়।
পরিবারের
ভাষ্যমতে, রোববার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী
এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তানভীর প্রথমবার কীটনাশক পান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে
প্রথমে যশোরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার
একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে আবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি
করা হয়।
সোমবার
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোবাইল ফোনে স্ত্রীপক্ষের পাঠানো ডিভোর্সের কাগজ দেখতে
পান তানভীর। স্বজনদের দাবি, বিষয়টি জানার পর তিনি আরও ভেঙে পড়েন। এরপর সন্ধ্যা ৭টার
দিকে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে তিনি ফের কীটনাশক পান করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
নেওয়া হলেও রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ
ঘটনায় তানভীরের পরিবারের পক্ষ থেকে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন
অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্ত্রীপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বালিয়াকান্দি
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো
অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তানভীরের
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও দায় আছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া
যাবে।
মন্তব্য করুন


আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
সভায় ৩৯ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা ব্যয় সংবলিত ৪৪ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানান সভায় ৩৬ টি এবং টেবিলে ৯টি প্রকল্প উপস্থাপিত হয়। এর মধ্যে ১টি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা সচিব সত্যজিৎ কর্মকার ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো-শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প; তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ১২৩টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প; চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগকারী সড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প।
ইলিয়টগঞ্জ-মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর জেলা মহাসড়কটি যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প; রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়ক হতে মাদানী এভিনিউ সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; সাতক্ষীরা-সখিপুর-কালীগঞ্জ মহাসড়ক এবং কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প; চার লেনে উন্নীত ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের (এন-১) (দাউদকান্দি-চট্টগ্রাম অংশ) চার বছরের জন্য পারফরম্যান্স-বেজড অপারেশন ও দৃঢ়করণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ভাঙ্গা-যশোর-বেনাপোল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প; গাবতলী সিটি পল্লীতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ক্লিনারবাসীদের জন্য বহুতলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকা পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; বর্ধিত ঢাকা পানি সরবরাহ রেজিলিয়েন্স প্রকল্প; ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন রাস্তা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প; বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অধিকতর উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (আরএমইউ) স্থাপন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; মুগদা মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প; সাপোর্টিং ইমপ্লিমেন্টেশন অব দ্য মাদার অ্যান্ড চাইল্ড বেনিফিট প্রোগ্রাম প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, উন্নয়ন এবং আনুষঙ্গিক কাজ বাস্তবায়ন প্রকল্প; আইসিটি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণের জন্য নেকটারের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রকল্প; উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেনটিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট; যমুনা নদী টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্প-১ দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন (কম্পোনেন্ট ৩) প্রকল্প; মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ এর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা প্রকল্প।
সুগন্ধা নদীর ভাঙ্গন হতে ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষা প্রকল্প; সমগ্র দেশে শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্ব) প্রকল্প; প্রাণী সম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প; আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প; মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প; বঙ্গবন্ধু পিয়েরে এলিয়ট ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণায় সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প; পার্বত্য চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প; মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
মন্তব্য করুন


আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনীকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা
অনুযায়ী একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী
হিসেবে গড়ে তুলতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি
অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী
আজ দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার
প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ প্রত্যয় ব্যক্ত
করেন।
মন্ত্রী
বলেন, যারা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সাথে
দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে, যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত
হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরস্কার
বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং সমসাময়িক
ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মতিঝিল
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উল্টো রথযাত্রা বা কোনো বিশেষ
ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়েছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি কাকতালীয়। তিনি বলেন, ডিএমপি'র বোম্ব ডিসপোজাল
ইউনিটের তৎপরতায় তা নিষ্ক্রিয় করা
হয়েছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সাবেক
রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ পত্র সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেকোনো নাগরিক
বা রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রতিবাদ প্রকাশের
অধিকার রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক সুরক্ষা
(ইমিউনিটি) পেয়ে থাকেন, তা বলবৎ থাকবে।
তাছাড়া আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এসএসএফ (SSF), পিজিআর (PGR) ও পুলিশ বাহিনীর
সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।
এ
বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়া সংক্রান্ত
প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা
পড়ায় তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পুলিশ পদক প্রদান করা হবে।
পুরস্কার
প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও অতিরিক্ত সচিব
(রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড.
জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের
মধ্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থাপনা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসান। অনুষ্ঠানে দুটি ভিন্ন সাহসিকতা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের
স্বীকৃতিস্বরূপ নয় জন পুলিশ
সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে
থানার যৌথ প্রচেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যে
প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় যে সাতজন পুলিশ
সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়, তাঁরা হলেন যথাক্রমে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জয়নাল আবেদীন, এএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মোঃ রাজিকুল
ইসলাম, কনস্টেবল মোঃ শাহীনুর ইসলাম ও আজমীর হোসেন
এবং পুলিশ টেলিকম সংস্থার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর এসআই (নিরস্ত্র)
মোঃ মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মোঃ
বুলবুল আহমেদ।
ট্রাফিক
সার্জেন্ট কর্তৃক ছিনতাইকারী গ্রেফতারের ঘটনায় পুরস্কৃত দু'জন পুলিশ
সদস্য হলেন যথাক্রমে ডিএমপি'র ট্রাফিক মিরপুর
বিভাগের পল্লবী জোনের সার্জেন্ট এম এস মাহমুদ
আলি ও সার্জেন্ট মোঃ
তুহিনুর রহমান তুহিন।
মন্তব্য করুন


বাগেরহাটের
খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নিয়ে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার
করা হয়েছে।
মঙ্গলবার
(২ জুন) ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের
সদস্যরা।
ঘাটের
পাশে থাকা দোকানি বিনা বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে
কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে।
মাজারের
প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ
মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ দাফন
ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর
আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘির
পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে কুমিরটি শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) টেনে নিয়ে
যায়। এ সময় চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা মাজার এলাকায় নৌকা নামিয়ে
উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে
অংশ নেন।
স্থানীয়রা
জানান, রাতে ওই ঘাটে অনেক মানুষ ছিল। মেয়েটি গোসলে নামার পরই কুমিরটি তাকে টেনে নিয়ে
যায়। ঘটনার পর চিৎকার হলেও কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যেতে পারেননি।
শিশু ফাতেমা আক্তার মাজারে থাকা এক ভবঘুরে মানসিক
প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি মাজার সংশ্লিষ্টরা
ও পুলিশ প্রশাসন।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
পর্যায়ের অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে ঘিরে লিঙ্গপরিচয় নিয়ে বিতর্কের পর তাদের
সব পদক বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। নতুন অ্যাডহক
কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জান্নাত
বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট এবং কবিতা রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর হয়ে খেলেছেন।
২৮ বছর বয়সী জান্নাত থ্রো ইভেন্টে এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টে অংশ নিতেন।
তাদের
বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর লিঙ্গ নির্ধারণে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
সহযোগিতা চেয়েছিল অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ
২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করে।
গত
১১ মে বোর্ডের কার্যক্রম শেষ হয়। ১৬ মে ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়
মেডিকেল বোর্ড।
প্রতিবেদন
অনুযায়ী, জান্নাত ও কবিতার রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নারীদের জন্য নির্ধারিত সীমার
তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া যায় ১৯ দশমিক
৬৬ ন্যানোমোল/লিটার। আর কবিতা রায়ের মাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল/লিটার।
ওয়ার্ল্ড
অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলেটের
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২ দশমিক ৫ ন্যানোমোল/লিটারের নিচে থাকতে হয়।
বাংলাদেশ
অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের
ভিত্তিতে দুই অ্যাথলেটকে নারী হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযুক্ত বিবেচনা করা
হয়নি। এ কারণে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাদের অর্জিত সব পদক বাতিল করা হয়েছে।
তিনি
জানান, জান্নাতের কয়েকটি স্বর্ণসহ মোট নয়টি পদক রয়েছে। অন্যদিকে কবিতার পদক রয়েছে প্রায়
চারটি। এসব পদক সংশ্লিষ্ট ইভেন্টের পরবর্তী বৈধ প্রতিযোগীদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী পুনর্বণ্টন
করা হবে।
আলী
ইমাম তপন আরও বলেন, দুই অ্যাথলেটকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নারী বিভাগে
তারা আর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে মোহাম্মদ আজাদ নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোহাম্মদ আজাদ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।
এ দিকে রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের স্বজনদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আজাদের সঙ্গে স্ত্রী তানিয়া বেগমের পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তার স্ত্রী তানিয়া বেগমের হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। নিহত তানিয়া বেগম তিন সন্তানের জননী ছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে তার জামাতা মোহাম্মদ আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে তানিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উঠে আসে।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর তারা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার
দেবীদ্বারে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে আনিসুর রহমান (৩৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যুর
খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ছোটনা গ্রামের
পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই গ্রামের মিন্নত আলীর ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় আনিসুর রহমানকে ঘরের ভেতর শিকলবন্দি করে
রাখা হয়েছিল।
রাতে
তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো
ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শিকলবন্দি থাকায় আনিসুর বের হতে পারেননি
এবং আগুনে দগ্ধ হন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।
অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।
শরিফুল
ইসলাম নামের এক স্থানীয় জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরের আসবাপত্র পুড়ে যায়, শিকলবন্দি
আনিসকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পুড়ে যাওয়া ঘর থেকে বাইরে আনা হলেও তাকে হাওপাতালে
নেওয়া হয়নি।
দেবীদ্বার
থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, অগ্নিকাণ্ডে একজন দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার সংবাদ পেয়ে
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।
মন্তব্য করুন


দেশজুড়ে
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আগামী ৩ দিনে ৬ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী
বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায়
প্রবাহিত হতে পারে। সোমবার (২২ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পানি
উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
এতে
বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি
ভারী এবং রংপুর, সিলেট ও ঢাকা বিভাগে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত
হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা ও অরুণাচল প্রদেশেও ভারী থেকে
অতি ভারী বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ দিনও
দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,
আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী এবং পরবর্তী ৩ দিন মাঝারি ধরনের
ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বন্যা
পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা
নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৫ দিনও এসব নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত
থাকতে পারে। তবে তা বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া আগামী ৩ দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের
সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে এই সময়ে এসব নদীর পানি সিলেট
ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে
স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি
পেয়েছে। তবে এই সময়ে তিস্তা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২ দিন এসব নদীর পানি
বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই অবস্থায় আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব নদীর
পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত
হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই
ও কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩ দিনও এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে
এবং নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে
পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
বন্যা
পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট
বিভাগের সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। তবে খলাই ও খোয়াই
নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিনও বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্যদিকে গত ২৪
ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি
সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী
নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। তবে এসব নদীর পানি আগামী ৩ দিন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।
মন্তব্য করুন




উন্নত চিকিৎসার জন্য
শিগগিরই যুক্তরাজ্যে যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি
ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত
চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, বিএনপি
চেয়ারপারসনের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে লন্ডনের কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা রয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাকে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে
বিদেশে পাঠানো হবে, সেখানে সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যে
তীব্র শীত পড়ার আগেই তাকে সেখানে নিতে চান চিকিৎসকরা। খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে বিশেষায়িত
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি
অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ) জানিয়েছে, গত ৩৮ দিনে দেশে বজ্রপাতে
৩৫ জন কৃষকসহ অন্তত ৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংগঠনটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল
মাসে বজ্রপাতে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে নারী ১১ জন এবং পুরুষ ২০ জন। চলতি
মাসের ১ থেকে ৮ মে পর্যন্ত বজ্রপাতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ জন নারী
এবং ৩৪ জন পুরুষ।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) প্রকাশিত এসএসটিএফের
গবেষণা সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে একদিনে বজ্রপাতে ১১ জন নিহত ও ৯ জন
আহত হয়েছে। বজ্রপাতের ক্ষেত্রে কৃষকরা কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারেন- সে বিষয়েও
আলোকপাত করা হয়েছে।
সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান,
মানিকগঞ্জের সিংগাইর, ঢাকার নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিদর্শন করেছেন সংগঠনটির
সদস্যরা। এ সময় ৫০০ জন করে কৃষক নিয়ে দল তৈরি করে বজ্রপাত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা
করেছেন।
এসএসটিএফের সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা
বজ্রপাতের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে মাঠে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকারের প্রতি
অনুরোধ জানান।
এ ছাড়াও মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ৪ মাস
বজ্রপাত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি কিছু পরামর্শও দিয়েছে কৃষকদের
জন্য। সেগুলো হলো:
*মাঠে কাজ করার সময় আকাশে কালো মেঘ
দেখে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া।
*বৃষ্টির সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া
থেকে বিরত থাকা।
*খোলা আকাশের নিচে কাজ করার সময় জুতা
পরতে হবে।
*বজ্রপাতের সময় মাঠে কাজ করার সময়
শুয়ে পড়ুন।
ফোরামের সভাপতি ড. কবিরুল বাশার জানান,
বজ্রপাত বাড়ার পেছনে দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্রমবর্ধমান
প্রভাব এবং বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গাছ কাটা, বিশেষ করে মাঠের উঁচু গাছ কাটা। গাছপালা
না থাকলে খোলা স্থানে বা মাঠে মানুষের ওপর আঘাত হানে বজ্রপাত। অধিকাংশ মানুষ মনে করেন
ঝড়ের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়াই ভালো। কিন্তু এটা ঠিক না। ঘরবাড়ি বা স্থাপনায়
আশ্রয় নিতে হবে মানুষকে।
মন্তব্য করুন