

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস রুটিন প্রকাশ করেছে । ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক শিফট ও দুই শিফটের স্কুলের জন্য আলাদা রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে।
২৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) মাউশি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এস এম জিয়াউল হায়দার হেনরির স্বাক্ষরিত এ রুটিন প্রকাশ করা হয়, যা প্রণয়ন করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর আগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন প্রকাশ করেছে ।
মাউশির প্রকাশ করা মাধ্যমিকের নতুন রুটিন অনুযায়ী, এক শিফটের স্কুলগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। আর দুই শিফটের স্কুলগুলো চলবে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। প্রথম শিফট সাড়ে ১২টায় শেষ হয়ে দ্বিতীয় শিফট শুরু হবে।
নতুন এ রুটিনে আরো বলা হয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে একই দিনের বিষয়গুলোর পিরিয়ড পারস্পরিক পরিবর্তন করা যাবে।
তবে রুটিনে দশম শ্রেণির অংশ ফাঁকা রাখা হয়েছে। স্কুলগুলোকে দশম শ্রেণির রুটিনের বিষয়গুলো নিজেদের মতো করতে হবে।
এদিকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ধারাবাহিকতায় আগামী বছর অষ্টম ও নবম শ্রেণিতেও নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে।
আর নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ থেকে শিক্ষার্থীদের ছয় পিরিয়ড ক্লাস হবে। তবে আগের শিক্ষাক্রমের দশম শ্রেণি শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে ৭ পিরিয়ড।
মন্তব্য করুন


আজ (২৭ নভেম্বর) নৌপরিবহন এবং শ্রম
ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সাথে ঢাকায়
নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাতকালে তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য
সম্পর্কের পাশাপাশি পর্যটন প্রসারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তারা মালদ্বীপের
সাথে বাংলাদেশের শিগগিরই জাহাজ চলাচল শুরু করার ব্যাপারে একমত হন।
সাক্ষাতকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের
সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক বিদোষ চন্দ্র বর্মন উপস্থিত
ছিলেন।
নৌ-উপদেষ্টা বাংলাদেশ থেকে পরিবেশবান্ধব
পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানী করতে মালদ্বীপকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, মালদ্বীপের সাথে বাংলাদেশের
সরাসরি জাহাজ চলাচল চালু হলে উভয় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত হবে।
মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনিন রশীদ
বলেন, বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ গ্রহণ করা
হবে। মালদ্বীপের ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক। উভয় দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ
আরো বৃদ্ধি করতে সরাসরি জাহাজ চলাচল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কন্টেইনার,
সাধারণ যাত্রী বা মালামাল পরিবহনের পাশাপাশি সমুদ্রপথে উভয় দেশের মধ্যে ক্রুজ সার্ভিস
চালু করার ব্যাপারেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশের পর্যটন বিকশিত হবে
বলেও হাইকমিশনার উল্লেখ করেন।
ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াৎ বাংলাদেশের মেরিন
একাডেমিগুলোতে প্রশিক্ষণের জন্য মালদ্বীপ থেকে ক্যাডেট প্রেরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন,
বাংলাদেশের মেরিন একাডেমিগুলোতে মেরিন বিষয়ক আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। মালদ্বীপের নিয়মিত ক্যাডেটরা এখান থেকে
উন্নতমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে।
শিউনিন রশীদ উপদেষ্টার এ প্রস্তাবকে
সমর্থন করে বলেন, মালদ্বীপ সরকার বাংলাদেশের সাথে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিনিময় কর্মসূচিতে
একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।
এছাড়াও মালদ্বীপের ব্যবসায়ীরা পণ্য
পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ট্রান্সশিপমেন্ট নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। দুই দেশের
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত ২০২৫
সালে অনুষ্ঠিতব্য আইএমও নির্বাচনে সি-ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দিতার বিষয়েও
মালদ্বীপের হাইকমিশনারকে অবহিত করেন।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক
দেশ। এ দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বিভিন্নভাবে নদ-নদীর উপর নির্ভরশীল। বিদ্যমান
তিনটি বৃহৎ সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি মাতারবাড়িতে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা
হচ্ছে। প্রায় চুয়ান্নটি প্রধান নদীবন্দর রয়েছে। হাজারের উপর নদ-নদী দেশজুড়ে জালের মতো
বিস্তৃত। দেশের দক্ষিণে বিশাল বঙ্গোপসাগরের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের
ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্বকে বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশের তৈরি জাহাজ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরকে আরো এগিয়ে নিতে এবং মেরিটাইম সেক্টরের
বৈশ্বিক পর্যায়ে অবদান রাখতে বাংলাদেশ আইএমও কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা এ বিষয়ে মালদ্বীপের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে,সেনা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে এ নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে ন্যস্ত করেছে ।
অন্যদিকে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসানকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আর এজন্যই তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা বন্ধ হচ্ছে। অর্থাৎ আজ রাত থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ইলিশ ধরায়।
ইলিশ সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুমে এ সময়কালে সারা দেশেই বন্ধ থাকছে ইলিশ শিকার, বাজারজাতসহ সব কার্যক্রম। এদিকে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌপুলিশসহ সংশ্লিষ্ট মহলের ব্যাপক প্রস্তুতিও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের এই ২২ দিনে মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মানদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গোপনে ইলিশ শিকার করে অসাধু জেলেরা। পদ্মার পাড়েই অস্থায়ী হাট বসিয়ে দেদারসে বিক্রি হয় সেই ইলিশ। এই সময়ে অবাধে বিপণনে বাধা থাকায় কিছুটা কম দামে ইলিশ বিক্রি হয়ে থাকে। শিবচরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ মাছ কিনতে পদ্মার পাড়ে ছুটে আসে।
আরেকটি সূত্র জানায়, মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর হয়ে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা নদীতে নামতে পারবেন না। এ সময়ে ইলিশ মাছ আহরণ ও বিক্রি করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানাসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এ বছর জেলেরা যাতে নদীতে নামতে না পারে সেই লক্ষ্যে জেলা-উপজেলা মৎস্য অফিস, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে। পদ্মার পাড়ে কোনো অস্থায়ী হাট বসলে দ্রুত তা ভেঙে দেওয়াসহ কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
মন্তব্য করুন


নারী ও শিশু নির্যাতন
আইনে ধর্ষণ মামলায় জামিন পাওয়ার অধিকার রাখবো না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক
উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
আজ রবিবার (৯ মার্চ)
আইন মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ
নজরুল বলেন, ধর্ষণ মামলায় যদি ৯০ দিনের মধ্যে বিচার না হয়, তাহলে এই মামলায় কাউকে জামিন
দেওয়া যাবে না। আগে ছিল ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার না হলে জামিন দেওয়া যেতো। এখন থেকে ধর্ষণের
মামলার ক্ষেত্রে কোনো জামিন দেওয়া হবে না। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে যদি কোনো রকমের
গাফলতি থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন নেয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন
সংযোজন করা হবে। ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে ডিএনএ
সার্টিফিকেট লাগতো। আমাদের দেশের সব জায়গায় ডিএনএ সার্টিফিকেট দেওয়ার সুবিধা নেই। এজন্য
ধর্ষণ মামলার বিচার অনেক দেরি হতো। এজন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে একটা সংশোধনী
আনবো যে, উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিচারক যদি মনে করে যে শুধু মাত্র মেডিকেল সার্টিফিকেটই
মামলার বিচার ও তদন্ত কার্যক্রম চালানো সম্ভব তাহলে সে রকম ব্যবস্থা নিতে পারবে, বলেন
উপদেষ্টা।
আইন উপদেষ্টা আর বলেন,
যেসব স্থানে আসামিরা হাতেনাতে ধরা পড়বে সেখানে ডিএনএ সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য সময়ক্ষেপণ
রোধকল্পে এই পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি। অতিদ্রুত জেলা পর্যায় ডিএনএ টেস্ট নেওয়ার জন্য
ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই দেশ আমাদের সবার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশ
সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন
সর্বজনীন উৎসব।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে
প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমি দেশের হিন্দু
ধর্মাবলম্বী সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের
উৎসবই নয়, এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের
আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই দেশ
আমাদের সকলের। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশ সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি। গত ৫ আগস্ট
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী
নির্বিশেষে সকলের ভাগ্য উন্নয়ন এবং সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত
ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। একইসঙ্গে
বাংলাদেশের সকল নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সব মিলিয়ে টানা ১০ দিনের ছুটি অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আজ
মঙ্গলবার (৬ মে) সচিবালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফলে
ছুটি শুরু হবে আগামী ৫ জুন, শেষ হবে ১৪ জুন। তবে ঈদের ছুটি শুরুর আগে ১৭ মে ও ২৪ মে
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার সব সরকারি অফিস খোলা থাকবে।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানান। একই পোস্টে তিনি সাইবার
সুরক্ষা অধ্যাদেশ অনুমোদন হওয়ার তথ্যও জানান।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পোস্টে বলেন, ক্যাবিনেট সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর
খসড়া অনুমোদন করেছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোট ১০ দিনের ছুটি থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছুটির জন্য আগামী ১৭ মে ও ২৪ মে, শনিবার সরকারি অফিস খোলা থাকবে।
চাঁদ
দেখা সাপেক্ষ আগামী ৭ জুন বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ হতে পারে। ঈদের আগের দুইদিন ও পরের
তিনদিন মিলিয়ে মোট ৬ দিনের ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।
এর
সঙ্গে নির্বাহী আদেশে ১১ ও ১২ জুনের ছুটি যোগ করা হয়েছে। এর পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার
সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এবার ৫ থেকে ১৪ জুন একটানা দশ দিনের দীর্ঘ ছুটি মিলছে সরকারি চাকরিজীবীদের।
মন্তব্য করুন


আজ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের অনলাইন আবেদন শুরু হয়েছে।
সকাল ৯টায় আবেদন কার্যক্রম শুরু হয় এবং আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত।
এনটিআরসিএর উপ-সচিব ওবায়দুর রহমান জানায় ,আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কেউ আবেদন করতে পারবেন না।
এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, আগ্রহী প্রার্থীরা www.ntrca.gov.bd ও www.ntrca.teletalk.com এ ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩ ধাপের বাছাইয়ের প্রথমেই দিতে হবে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের নির্ধারিত স্ব স্ব বিষয়ের ওপর পরীক্ষা দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
প্রার্থীদের প্রথম ধাপে ১০০ নম্বরের বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ ধাপে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এতে পাস নম্বর ৪০। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাবেন। ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত মোট নম্বর থেকে ০.২৫ নম্বর কাটা হবে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ, স্থান ও সময়সূচি পরবর্তীতে জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য অঞ্চলে হামলায় কারা জড়িত তাদের
বের করতে শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী
উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ।
ভূমি উপদেষ্টা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলে
সম্প্রীতি নষ্ট করতে বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যারা এসব হামলা চালিয়েছে তারা
কোত্থেকে এসেছে কেউ জানে না।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ের
স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যালয়ে মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য এফেয়ার্স হেলেন লাফেইভের
নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে বিশদ আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপদেষ্টা হাসান আরিফ বলেন, আমরা
ছাত্র-জনতা-শ্রমিকের ট্রাস্টি হিসেবে কাজ করছি। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা
করতে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশে এমন একটা পরিবেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু
নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রণালয়গুলো ব্যক্তি নির্ভর হওয়া উচিত না, সিস্টেম নির্ভর হওয়া উচিত। এমন একটা সিস্টেম
প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যাতে মন্ত্রী হিসেবে যে ব্যক্তিই আসনে অধিষ্ঠিত হোক না কেন, সিস্টেমের
কোনো ব্যত্যয় না ঘটে।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশীদের
জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি
আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১ টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বানের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত
শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ
এবং আটক বাংলাদেশীদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া
হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের
ব্যয় হ্রাস পায়।'
দুই
দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা
জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু
তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ
সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে
আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা
পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন এবং মালয়েশিয়া
সফরের আমন্ত্রণ জানান।’
তিনি
বলেন, তাঁর (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত
বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায়
আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।'
পিতা
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল। একইসঙ্গে
শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’
তিনি
বলেন, 'আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের
কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার
নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা,
অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।'
মালয়েশিয়ায়
তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়ার
সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি
বলেন, ‘আরও একবার মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার
জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।'
দ্বিপাক্ষিক
বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে আমার ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়
নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’
তিনি
বলেন, 'আজ আমরা বাংলাদেশ–-মালয়েশিয়া
সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই
দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর
মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। '
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-–মালয়েশিয়া
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
বৈঠকে
সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন
বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ
সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে
সহায়তা করবে।’
তিনি
বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন
অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক
ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।'
উল্লেখ্য,
বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত
একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে
অংশ নেন।
মালয়েশিয়ার
ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন
পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি
বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।'
তিনি
বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার
বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর
আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।'
দ্বিপক্ষীয়
বৈঠকের আলোচনায় ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি,
হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল
অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিলো বলে জানান
প্রধানমন্ত্রী।
তারেক
রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা
দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের
অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
রোহিঙ্গা
সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা
নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের
বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। '
বাংলাদেশ
আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার
বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের
সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। '
তিনি
বলেন, 'একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে
আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করছি।’'
বৈঠকে
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান
বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে
সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ
সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।'
মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের
আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে পারলে গর্ববোধ করবে।'
দুই
দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে
দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা
হয়।
বাংলাদেশ
প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রী আরিফুল হক, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব
আতিকুর রহমান রুমন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ
উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ শীর্ষক রেজোল্যুশন (প্রস্তাবনা) সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত
হয়েছে। ১১২টি দেশ এই রেজোল্যুশনটিতে কো-স্পন্সর করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
প্রথম মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে
শান্তির সংস্কৃতির ঘোষণা এবং এ বিষয়ক কর্মসূচি গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশ
‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজোল্যুশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করে আসছে, যা শান্তি
ও অহিংসার সংস্কৃতিকে উন্নীত করার জন্য আটটি বিশেষ ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে, সে অনুযায়ী
কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান রয়েছে এতে। এছাড়া সাধারণ পরিষদের সভাপতির
নেতৃত্বে ২০১২ সাল থেকে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি উচ্চ পর্যায়ের
ফোরামের আয়োজন করে আসছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার
(২ মে) জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত
বাংলাদেশের পক্ষে এটি উত্থাপন করেন। শুক্রবার (৩ মে) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন
এ তথ্য জানায়।
স্থায়ী মিশন বলছে, চলতি বছর
আলোচ্য রেজোল্যুশনটি একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কেননা এ বছরে শান্তির সংস্কৃতির ঘোষণা
এবং এ বিষয়ক কর্মসূচি ২৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।
প্রস্তাবনাটি উপস্থাপনের
সময় রাষ্ট্রদূত মুহিত বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে শান্তির সংস্কৃতির অব্যাহত
প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ বিশ্ব ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব এবং মানবিক মর্যাদা
অবজ্ঞার মুখোমুখি। এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহিংসতা থেকে উত্তরণে মানবমনে সম্প্রীতি
ও সহমর্মিতার ভাবকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, সমতা ও সব মানুষের সমমর্যাদার চেতনাকে সমুন্নত
করতে হবে এবং সর্বোপরি যুদ্ধের চেয়ে শান্তিকে অনেক বেশি লাভজনক করে তুলতে হবে।
যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের
নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির
ধারণা প্রবর্তনের বাংলাদেশের উদ্যোগটি আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। বৈষম্য,
বর্ণবাদী অসহিষ্ণুতা এবং পরাধীনতা আমাদের একটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করে।
এ কারণেই আমরা শান্তির প্রসারকে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি মৌলিক নীতিতে পরিণত করেছি।
এবারের রেজোল্যুশনে শান্তির
সংস্কৃতির ঘোষণা এবং এ বিষয়ক কর্মসূচির ২৫তম বার্ষিকী যথাযথভাবে পালন ও উদ্যাপনের
জন্য সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে দিনব্যাপী একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম আহ্বান করার জন্য
অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া এ রেজোল্যুশনে সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
এবং মিডিয়াসহ অন্যান্য অংশীজনদের শিক্ষা ও জনসচেতনতা সম্প্রসারণসহ অন্যান্য আয়োজনের
মাধ্যমে যথাযথভাবে এই বার্ষিকীটি পালনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রেজোল্যুশনটির বিবেচনার পূর্বে
শান্তির সংস্কৃতির ওপর সাধারণ পরিষদে একটি সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বহুসংখ্যক
সদস্য রাষ্ট্র বক্তব্য দেয়। এ সময় তারা শান্তির সংস্কৃতির ঘোষণা এবং এ বিষয়ক কর্মসূচি
বাস্তবায়নে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে।
সবশেষে প্রতিনিধি দলগুলো
জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির ধারণাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক
নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানায়।
মন্তব্য করুন