

পানি
সম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার
কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি জেলায় এ কার্যক্রম শুরু
হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
(৭ মে) সকাল পৌনে ৮টায় উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদিতে খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন
কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
পানি
সম্পদ মন্ত্রী বলেন, খাল খনন ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটি কর্মসূচি।
সেই
ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
অনুযায়ী নতুনভাবে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। খাল খননের মাধ্যমে নতুন জাগরণ সৃষ্টি
হয়েছে।’
তিনি
আরো বলেন, ‘খাল খননের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে,
গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে, কৃষির উন্নয়ন ও পরিবেশগত উন্নয়ন হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর
আমরা নতুনভাবে এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ভবিষ্যতেও আরো খাল খনন কার্যক্রম শুরু হবে।
খাল
খননে প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেসব স্থানে বড় অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সেগুলো
আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। পরে মন্ত্রী কাজলী নদী পরিদর্শন করেন এবং
নদীতে কলকারখানার বর্জ্য দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময়
উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো.
মেনহাজুল আলম পিপিএম, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, এবং উপজেলা প্রকৌশলী সামিউল আরেফিন।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও কমেনি শীতের দাপট। বইছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ। হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলা। কনকনে ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অপর দিকে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবি ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। শীত উপেক্ষা করে বাড়ী থেকে বের হলেও কাজ পাচ্ছে না অনেকে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুর্যের দেখা মিলছে না। দিনের অধিকাংশ সময় থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। এ সময় উওরীয় হিমেল হাওয়ায় ঠাণ্ডার তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। শীত ও কনকনে ঠান্ডায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশিসহ - শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের মিরাজুল বলেন, এই ঠান্ডায় বাইরে কাজ করতে যাচ্ছি। খুবই সমস্যা হচ্ছে,দুদিন ধরে সর্দি-কাশিতে ভুগছি। শীতকালে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোয় মুসকিল হয়েছে। অভাবের সংসার, ছেলেদের গরমের কাপড় কিনবো তাও পারছি না।
কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান বলেন, ধরলা নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়ন। এখানকার মানুষ বেশীরভাগ দিনমজুর। এখানে এ যাবত সরকারিভাবে ৩১০ টি কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি। যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জানুয়ারি মাস জুড়েই তাপমাত্রা এরকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ মাসের ২৫ তারিখের পর তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।
মন্তব্য করুন


খাগড়াছড়িতে ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে
মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৫ মে) ভোরে জেলার দীঘিনালা,
রামগড় ও মাটিরাঙ্গায় এসব ঘটনা ঘটে।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বজ্রপাতে টিনের
ঘরে আগুন লেগে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। ভোরে দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নের মধ্যবেতছড়ি গ্রামে
এ ঘটনা ঘটে।
বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- দীঘিনালার মধ্যবেতছড়ির
মো: ছাদেক মিয়ার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০) ও তার ছেলে হানিফ মিয়া (৮)। ঘটনার সময় হাসিনা
বেগমের স্বামী ছাদেক মিয়া বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা
ঘরের আগুন নিভিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, ভোরে ভারি বৃষ্টির
সঙ্গে বজ্রপাতে ছাদেক মিয়ার মাটির ঘরের টিনের চালে আগুন লেগে যায়। এ সময় ঘরের ভেতরে
থাকা তার স্ত্রী হাসিনা বেগম ও ছেলে হানিফ মিয়া আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে মারা যান। তবে
এ সময় সঙ্গে থাকা তার আরেক ছেলে মো: হাফিজ (১১) প্রাণে বেঁচে যায়।
দীঘিনালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) মো: নুরুল হক জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া
হবে।
এদিকে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বজ্রসহ ঝড়বৃষ্টির
সময় বাড়ির উঠানে থাকা দুটি গরুসহ গনেজ মারমা (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ভোরে
রামগড়ের দুর্গম হাজাছড়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে নিহত গনেজ মারমা দুর্গম হাজাছড়া
গ্রামের বাসিন্দা কংজ মারমার ছেলে।
একইদিন মাটিরাঙ্গায় বজ্রপাতে সুমিকা
ত্রিপুরা (২৭) নামে এক গৃহিণী নিহত হন। এসময় তার দুই ছেলে আহত হয়। এছাড়া তার ঘরে থাকা
তিনটি ছাগল মারা যায়। সুমিকা ত্রিপুরা মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের শশীকারবারী পাড়ার
বাসিন্দা সুশেন ত্রিপুরার স্ত্রী। তার দুই ছেলে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
চিকিৎসাধীন আছে।
বেলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমত
উল্যাহি বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, এ মৃত্যু বড়ই মর্মান্তিক। মাটিরাঙ্গা
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র সংস্কারে দলের
প্রস্তাব প্রকাশ করেছেন। দলটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য
রাখা, পুলিশের জন্য স্বাধীন কমিশন গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্র
সংস্কারে সেক্টর অনুযায়ী আলাদা আলাদা ১০টি প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে দলটি।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত 'রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা' শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রস্তাব তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন,
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অবদানের
কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। নিহত এবং আহতদের জন্য দোয়া কামনা করেন। অনুষ্ঠান
পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক মতিউর রহমান
আকন্দ।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, এই ১০ প্রস্তাব শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য। নির্বাচিত কোনো সরকারের জন্য নয়।
এই সরকারের কাছে তাদের মোট ৪১টি প্রস্তাব
আছে, যার মধ্যে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গণমাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের
সংস্কারের প্রস্তাবগুলো হলো--
১.
আইন ও বিচার
● উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য
সুষ্ঠু ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
● বিচার বিভাগ থেকে দ্বৈত শাসন দূর
করতে হবে।
● বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে
পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
● আইন মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা করে সুপ্রিম
কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে
বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধনী ও গণমানুষের মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যশীল আইন
প্রণয়ন করতে হবে।
● ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ওসকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।
● বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে বিভাগীয়
পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● নিম্ন আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত
করার জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে।
● সকল ফৌজদারি মামলা তদন্তের জন্য স্বাধীন
তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
● দেওয়ানি মামলার জন্য সর্বোচ্চ ৫
বছর এবং ফৌজদারি মামলাসমূহ সর্বোচ্চ ৩ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান করতে হবে।
২.
সংসদ বিষয়ক সংস্কার
● সংসদের প্রধান বিরোধীদল থেকে একজন
ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করতে হবে।
● সংসদীয় বিরোধী দলীয় নেতার নেতৃত্বে
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
● সংসদে বিরোধী দলীয় সদস্যদের পর্যাপ্ত
সময় দিতে হবে।
৩. নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার
● জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক
ব্যবস্থা (Proportional Representation-PR) চালু করতে হবে।
● সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত করতে হবে।
● নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার
জন্য বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যাত ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে।
● কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি
ছাড়ার কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
● স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে
সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।
● অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার
জন্য সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল
করতে হবে।
● নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার
নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি
গঠিত হবে।
● জাতীয় সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে
অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
● ঘওউ- ব্যবস্থাপনা নির্বাচন কমিশনের
অধীনে আনতে হবে।
৪. আইনশৃঙ্খলা সংস্কার
ক) পুলিশ বাহিনীর সংস্কার
● ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ
আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে।
● পুলিশ সদস্যদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি
এবং চাকরিচ্যুতির জন্য স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করতে হবে।
● নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির
ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার
দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
● পুলিশ ট্রেনিং ম্যানুয়ালের মধ্যে
ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক অনুশাসন অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।
● পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার
বাতিল করতে হবে।
● রিমান্ড চলাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে
আসামি পক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিলা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের
উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
● বিচার বিভাগীয় সদস্যদের দ্বারা পুলিশ
ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকতে হবে।
● পুলিশের ডিউটি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
উন্নত করতে হবে।
● ‘পুলিশ আইন’ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের
মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে হবে।
খ)
র্যাব বিষয়ক সংস্কার
● র্যাব ও অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীর
প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।
● গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র্যাবে কাজ
করেছে তাদেরকে স্ব স্ব বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরকে পুনরায় র্যাবে নিয়োগ
দেয়া যাবে না।
● বিচারবহির্ভূত সকল প্রকার হত্যাকাণ্ড-
বন্ধ করতে হবে।
● র্যাবের সামগ্রিক কার্যক্রম মনিটরিং-এর
জন্য সেল গঠন করতে হবে। কোনো র্যাব সদস্য আইনবহির্ভূত কোনো কাজে জড়িত হলে এই সেল তার
বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবে।
● মিডিয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন
ও অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার
● জনবল নিয়োগ, বদলি, পদায়নে তদবির,
সুপারিশ ও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
● যে কোনো চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি থেকে
শুরু করে নিয়োগ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ না করে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
● সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে
করতে হবে।
● চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২
বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর
নির্ধারণ করতে হবে।
● চাকরির আবেদনে সকল ক্ষেত্রে বয়সসীমার
বৈষম্য নিরসন করতে হবে।
● সকল সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে
বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়। এ জন্য প্রয়োজনীয়
মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে।
● চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য
দূর করতে হবে।
● বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি
চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের
নিয়োগ বাতিল করতে হবে।
৬.
দুর্নীতি
● দুর্নীতি দমন কমিশনে পরীক্ষিত সৎ,
ন্যায়পরায়ণ, দক্ষ ও যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে।
● রাষ্ট্রের সকল সেক্টরে জবাবদিহিতা
নিশ্চিত করতে হবে।
● দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে
নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে।
● বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত
অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
● মন্ত্রণালয় ভিত্তিক দুর্নীতি দমন
কমিশন গঠন করতে হবে।
● দুর্নীতি দমন কমিশনের আইন সংস্কার,
জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে।
● রাষ্ট্রীয় ও জনগণের সম্পদ অবৈধভাবে
ভোগ দখলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুস্পষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৭.
সংবিধান সংস্কার
● রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে
ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত করতে হবে।
● একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি
প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
৮.
শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার
ক) বিরাজমান সমস্যার আলোকে শিক্ষা সংস্কার
প্রস্তাব
● ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক
এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসেবে বলবৎ রাখতে হবে। অষ্টম শ্রেণির পাবলিক
পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে হবে।
● পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের
বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সাথে তুলে ধরতে হবে।
● সকল শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে ধর্মীয়
মূল্যবোধবিরোধী উপাদান বাদ দিতে হবে।
● সকল শ্রেণিতে নবী করিম সা. এর জীবনীসহ
মহামানবদের জীবনী সংবলিত প্রবন্ধ সংযোজন করতে হবে।
● স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা
করতে হবে। বিদ্যমান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে সরকারীকরণ করতে হবে।
● প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে একটি করে কামিল
মাদরাসাকে সরকারীকরণ করতে হবে।
● কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে সাধারণ
শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করতে হবে।
● Department of Higher Education নামে
একটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।
● শিক্ষা সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত শিক্ষা
কমিশনের সকল ধারা তথা সাধারণ, আলিয়া, কওমীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
খ)
সংস্কৃতি সংস্কার
● জাতির ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রাম ও
মূল্যবোধের আলোকে বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
● জাতির ঐতিহাসিক দিনগুলোকে স্মরণীয়
করার লক্ষ্যে বিশেষ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তা পালনের ব্যবস্থা
করতে হবে।
● নাটক, সিনেমাসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক
অনুষ্ঠানগুলো অশ্লীলতামুক্ত করতে হবে। নাটক, সিনেমা ও বিভিন্ন কন্টেন্টে বিভিন্ন ধর্ম,
বিশেষ করে ইসলামকে হেয় করা থেকে বিরত থাকার বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
● প্রাণীর মূর্তিনির্ভর ভাস্কর্য নির্মাণ
না করে দেশীয় প্রকৃতি, ঐতিহ্যকে বিভিন্ন চিত্রাঙ্কন-ভাস্কর্যে তুলে আনতে হবে।
● সকল গণমাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম
প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।
৯.
পররাষ্ট্র বিষয়ক সংস্কার
● পররাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল
গণতান্ত্রিক দেশের সাথে সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে
হবে।
● জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল,
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
● আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহের সাথে বাণিজ্যিক
সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।
● অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে বিগত সরকারের
আমলে সম্পাদিত সকল চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে।
● বাংলাদেশকে আসিয়ান জোটভুক্ত করার
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
● শক্তিশালী SAARC পুনর্গঠনের উদ্যোগ
গ্রহণ করতে হবে।
● কোনো দেশের সাথে চুক্তি অথবা সমঝোতা
চুক্তি হলে পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে সেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক উত্থাপন করে বিস্তারিত
আলোচনা পূর্বক তা অনুমোদন করতে হবে।
১০. ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার
● ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে (ইফাবা)
রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
● ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিকে স্বতন্ত্র
সংস্থা বা দপ্তরে রূপান্তর করতে হবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
● ইসলামিক মিশনকে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের
অধীনে স্বতন্ত্র সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর
প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
● হজ্জ ও উমরার খরচ কমানোর জন্য কার্যকর
উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
● ইসলামিক ফাউন্ডেশনে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যেখানে দেশের বরণ্যে আলেমগণ সম্পৃক্ত থাকবেন।
● বিতর্কিত সকল বই বাতিল ও প্রকাশনা
বন্ধ করতে হবে।
● সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় কার্যক্রম
পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয়
নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, আ ন ম শামসুল ইসলাম, এটিএম মাছুম, সাইফুল আলম খান মিলন,
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, এহসানুল মাহবুব
জুবায়ের, নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হলো।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত
পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ
পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ এম এম নাসির উদ্দীন। এ পদে বিএনপি যে দুজনের নাম প্রস্তাব
করেছিল, সেই তালিকায় তার নাম ছিল।
নির্বাচন কমিশনার পদে যে চারজন নিয়োগ
পেয়েছেন তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অবসরপ্রাপ্ত
জেলা ও দায়রা জজ আবদুর রহমানেল মাসুদ, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের
১১৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
অন্যান্য কমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এ আদেশ অবিলম্বে
কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
এ এম এম নাসির উদ্দীন জ্বালানি ও খনিজ
সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। তিনি ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে
অবসরে যান। বিসিএস ১৯৭৯ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন তিনি।
মন্তব্য করুন


কপ ২৯ সম্মেলনের আগে ন্যায়সংগত জলবায়ু
অর্থায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত
‘রোড টু বাকু: কপ ২৯ - বাংলাদেশে সিএসওগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অবস্থান’ শীর্ষক
এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও প্রশমন কৌশলগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে এবং সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় একশ’ বিলিয়ন ডলার
প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অর্থ সাহায্য কিছু আর্থিক সমস্যার
সমাধান করলেও প্রকৃত জলবায়ুর ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার হবে না।
পরিবেশ উপদেষ্টা বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা
১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের আশাবাদ পুন:ব্যক্ত
করেন।
তিনি অভিযোজন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ
করেন এবং তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে
তুলে ধরা এবং উচ্চাভিলাষী প্রশমন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন
তিনি।
তিনি কপ ২৯ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশে
নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উক্ত সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ড. আবদুল হামিদ, এনএসিওএমের নির্বাহী পরিচালক
ড. এস এম মুনজুরুল হান্নান খান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ
কবির বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন সিএসও, জলবায়ু কর্মী এবং নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল কপ ২৯ সম্মেলনের
আগে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের একটি একক অবস্থান গঠন করা।
পরে কপ ২৯ সম্মেলনে জোরালো এডভোকেসির
আহ্বান জানানো হয়, যাতে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর
কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ (১৪ নভেম্বর) বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের তৈরি
খাতে আরও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করার প্রয়াসে শ্রম খাতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করবে।
এখানে
প্রাপ্ত এক খবরে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে কপ-২৯ বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনের
ফাঁকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র
সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের
সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করার সময় অধ্যাপক ইউনূস তাকে বলেন, ‘শ্রম ইস্যুটি আমাদের
সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের অন্যতম এবং আমরা সকল শ্রম সমস্যার সমাধান করতে চাই।’
থেরেসা
মে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রম ইস্যুতে কাজ করার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে মানব পাচার ও অভিবাসন ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন।
অধ্যাপক
ইউনূস আইনি মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে অভিবাসন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি
ঝুঁকি ও অনিয়মিত অভিবাসন কমিয়ে দেবে এবং মানব পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ
করবে।
অধ্যাপক
ইউনূস থেরেসা মেকে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের সময় বাংলাদেশী তরুণদের আঁকা গ্রাফিতি ও ম্যুরাল
বিষয়ক বই আর্ট অফ ট্রায়াম্ফের একটি অনুলিপি উপহার দেন।
এ
সময় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব ও মুখ্য
সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, তুরস্ক এবং আজারবাইজানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আনামুল
হক উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


তথ্য
ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো চাপ নেই।
এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমকে সাহসের সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে
হবে।
আজ মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দৈনিক
সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা
মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, সঠিক তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচার না হওয়ায় গুজব ও অপতথ্যের দ্বারা
মানুষ প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছে। গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যমকেই অগ্রণী ভূমিকা
পালন করতে হবে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা শহিদ ও আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের
গল্প গণমাধ্যমে প্রচার করতে হবে। আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের জনস্মৃতিতে রাখতে গণমাধ্যমকে
দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিগত
ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনা করে উপদেষ্টা মো: নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই সময় অনেক গণমাধ্যমকর্মী
ভয়ে সত্য ঘটনা প্রকাশ করতে পারেননি। এখন সেই সময় কেটে গেছে।
উপদেষ্টা
ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম ও দুর্নীতিসহ সকল অপকর্মের তথ্য গণমাধ্যমে প্রচারের জন্য সাংবাদিকদের
প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জনগণের কাছে সঠিক
তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সরকার গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
গণমাধ্যমের
সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণমাধ্যমের সংস্কারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কমিশন
গঠন করেছে। কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের সংস্কার করা হবে।
মতবিনিময়
সভায় পত্রিকার সম্পাদকগণ বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ
নেই, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য আশীর্বাদ। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের কার্যকর
ভূমিকা রয়েছে।
তারা
বলেন, গত ১৬ বছর গণমাধ্যম সঠিক ভূমিকা পালন করলে দেশে ফ্যাসিবাদের উত্থান হতো না।
মতবিনিময়
সভায় ইংরেজি পত্রিকার জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়।
মতবিনিময়
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের
মহাপরিচালক আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান
আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ফাঁসির আসামিকে নিয়ে রায় দিয়েছেন
যেখানে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে
নেয়া যাবেনা ।
রুল শুনানিতে আদালত এ বিষয়ে
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও এস এম শাহজাহান বিশেষজ্ঞ মত নেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি
জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানি করেন। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ শিশির
মনির। রুল শুনানি শেষে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত
হওয়ার আগে দণ্ডিত বা দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ২
সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলের
তিন কয়েদি। তারা হলেন- সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও খাগড়াছড়ির
শাহ আলম। ওই রিট শুনানি করে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার
আগে দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখা কেন আইনত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ
প্রাপ্তদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা সংক্রান্ত কারাবিধির ৯৮০বিধিটি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা
করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে কনডেম সেলে রাখা বন্দিদের কী ধরনের
সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চান আদালত।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা
অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির
৪১০ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে
আপিল করার সুযোগ পান। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল
বিভাগে আবেদন করতে পারেন।
আপিল বিভাগের রায়েও মৃত্যুদণ্ড
বহাল থাকলে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা)
আবেদন করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৃত্যু-দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। ক্ষমার এই আবেদন রাষ্ট্রপতি যদি নামঞ্জুর
করেন অথবা দণ্ডিত যদি আবেদন না করেন তাহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে সরকার।
অথচ বিচারিক আদালতে মৃত্যু দণ্ডাদেশের পরপরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কনডেম সেলে বন্দী
রাখা হচ্ছে।
রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ
শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করার
আইনগত বিধান নেই। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন
নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের
১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া
শেষ করতে ১০-১২ বছর পার হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার
পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে বন্দী রাখা হয়। অথচ অনেকের পরবর্তীতে
সাজা কমে। অনেকে খালাসও পান। রুল শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।
মন্তব্য করুন


আজ মেডিকেল কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে।
যা চলবে আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গতকাল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে ২৪ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে।আর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায়, শেষ হবে বেলা ১১টায়।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় লিখিত ১০০টি প্রশ্নের প্রতিটি ১ নম্বর করে মোট (এইচএসসি বা সমমান সিলেবাস অনুযায়ী) ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।বিষয়ভিত্তিক বিভাজন পদার্থবিদ্যা ২০, রসায়নবিদ্যা ২৫, জীববিজ্ঞান ৩০, ইংরেজি ১৫ ও সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ) ১০ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম পেলে অকৃতকার্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।ভর্তি পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের কম পেলে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
জানা যায়, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ৫ হাজার ৩৮০টি আসন রয়েছে। বেসরকারি মেডিকেলের জন্য আসন রয়েছে ৬ হাজার ৩৪৮টি।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামে বিপিএলের অনুশীলনের সময় মোস্তাফিজুর রহমান উইন্ডিজ ক্রিকেটার ম্যাথিউ ফোর্ডের হাঁকানো বলের আঘাতে মাথায় চোঁট পেয়েছেন । সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর আজ দলের অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন মোস্তাফিজ। তারই পাশের নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ফোর্ড। ক্যারিবীয় এই ক্রিকেটারের হাঁকানো একটি বল এসে আঘাত করে টাইগার পেসারের মাথায়। এতেই মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এসময় তার মাথা থেকে রক্ত পড়তে দেখা যায়।
আঘাত পাওয়ার পর শুরুতে দলের ফিজিও দেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতিতির গুরুত্ব বুঝে মাঠের ভেতর অ্যাম্বুলেন্স এনে দ্রুত তাকে ইম্পেরিয়াল হাসাতাপালে পাঠানো হয়।
কুমিল্লার মিডিয়া ম্যানেজার খান নয়ন গণমাধ্যমকে বলেন, দেখছেন তো মাথায় লেগেছে। এরপর বসে ছিল মাঠে, যদিও রক্ত বের হয়েছে বেশ খানিকটা। তবে সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছে। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। তার সঙ্গে দলের দায়িত্বে থাকা সকলেই গেছে।
মোস্তাফিজের অবস্থা নিয়ে এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স কর্তৃপক্ষ। তবে জানা গেছে, আপাতত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এই পেসারকে। হাসপাতালে নিয়ে করা হচ্ছে স্ক্যান। মূলত স্ক্যান রিপোর্টের উপরই বোঝা যাবে তার অবস্থা।
উল্লেখ্য, বিপিএলের এবারের আসরে এখন পর্যন্ত কুমিল্লার হয়ে ৯ ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফিজ। বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।
মন্তব্য করুন