

মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই প্রতিপাদ্যে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে চাঁদপুরের কচুয়ায় পরিস্কার পরিচ্ছনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে পরিষ্কার-পরিছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিস্কার পরিচ্ছনতা কার্যক্রমে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাহিদ ইসলাম, একাডেমি সুপারভাইজার কেএম সোহেল রানা, আইসিটি অফিসার মোশারফ হোসেন, সহকারী সমাজসেবা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন,কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আতাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ উল্যাহ সহ বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে এক ঝাঁক স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় অংশগ্রহনে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পরিষ্কার-পরিছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কচুয়া উপজেলার নেতৃবৃন্দ,পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র কার্যক্রম, দগ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের পুর্নবাসন কার্যক্রম এর সুবিধাভোগী তরুণ-তরুণীদের এবং বেসরকারী এতিমখানার প্রতিনিধি পরিস্কার পরিচ্ছনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন। । তাছাড়া জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণের মাধ্যমে পরিছন্ন কচুয়া উপজেলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উক্ত পরিছন্নতা কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন


প্রচণ্ড গরমে দেশব্যাপী জারি রয়েছে তিন দিনের জন্য সতর্কতামূলক হিট
অ্যালার্ট। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে যশোরে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা
মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও এদিন ছিল
৪০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দাবদাহে দেশের বিভিন্ন
স্থানে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। তীব্র দাবদাহের কারণে হিটস্ট্রোক বা
সানস্ট্রোকে সারা দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই যখন অবস্থা, তখন গরমের দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এদিন
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর
কোনোটিরই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ছিল না।
এছাড়া ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে ২১ ডিগ্রি, বাহরাইনের রাজধানী মানামার
তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি, ইরানের তেহরানে ২৬ ডিগ্রি, সিরিয়ার আলেপ্পোতে ২৫ ডিগ্রি,
তুরস্কের আঙ্কারায় ১১ ডিগ্রি, ইরাকের বসরাতে ৪০ ডিগ্রি, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে
২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সৌদির জেদ্দাতে ৩৩ ডিগ্রি, কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে ৩৬
ডিগ্রি, ওমানের মাস্কাটে ২৮ ডিগ্রি, ইয়েমেনের রাজধানী সানাতে ২৫ ডিগ্রি এবং
ইসরায়েলের তেলআবিবে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়াভিত্তিক অ্যাপ ‘অ্যাকুওয়েদার’-এর তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব
আমিরাতের আবুধাবিতে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জর্ডানের রাজধানী
আম্মানের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি, ইরাকের বাগদাদের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি, লেবাননের
রাজধানী বৈরুতের তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি, কাতারের দোহারে তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি,
তুরস্কের ইস্তাম্বুলের তাপমাত্রা ছিল ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ
অন্য সময়ের রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে। এপ্রিলের পাশাপাশি এবার মে মাসও উষ্ণতম মাস হতে
যাচ্ছে। মে মাসে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে
দেশের আবহাওয়া বিভাগ।
একনজরে দেখে নিন হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলো
প্রচণ্ড মাথাব্যথা : হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এ
ছাড়া গরমে মানুষের মাইগ্রেন ট্রিগার করতে পারে। এটি হিটস্ট্রোকের অন্যতম একটি
লক্ষণ হতে পারে।
বেশি তৃষ্ণা অনুভব ও অতিরিক্ত ঘামানো : হিটস্ট্রোকের আগে অনেক বেশি তৃষ্ণা অনুভব হবে, সেইসঙ্গে
ডিহাইড্রেটেড এবং আড়ষ্টতা অনুভব হতে পারে। শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার জন্য অতিরিক্ত
ঘাম তৈরি করতে পারে।
হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পাওয়া : হিটস্ট্রোকের আগে হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে।
শ্বাসকষ্ট : হিটস্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ হলো শ্বাসকষ্ট এবং দ্রুত ও ভারী
শ্বাস-প্রশ্বাসও।
দুর্বলতা ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া : তীব্র গরমের কারণে শরীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কাজ করে। এতে শরীরে
ক্লান্তি ও দুর্বলতা তৈরি হয়। ব্যক্তি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে। এগুলো হিটস্ট্রোকের
লক্ষণ।
পেশিতে ব্যথা : হিটস্ট্রোকের আগ মুহূর্তে পেশিতে ব্যথা অনুভব হতে পারে। যদিও
সাধারণ ব্যথা ভেবে অনেকে এটাকে তেমন গুরুত্ব দেয় না।
কথা জড়িয়ে যাওয়া : হিটস্ট্রোকের আগে যেসব লক্ষণ দেখা যায়, তারমধ্যে একটি হলো কথা
জড়িয়ে যাওয়া। ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করতে পারে।
বমি বমি ভাব : মাথাব্যথা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও হাইপারভেন্টিলেশন থেকে অক্সিজেনের
অভাব ইত্যাদির কারণে হিটস্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব হতে পারে।
বিরক্তি-বিভ্রান্তি : মাত্রাতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোকের আগে মানুষ বিরক্ত বোধ
করতে পারে, রাগান্বিত হতে পারে, অযৌক্তিক কথা বলতে পারে এবং এমনকি প্রলাপ বকতে
করতে পারে।
ঘাম না হওয়া : হিটস্ট্রোকের আরেকটি লক্ষণ হলো প্রচণ্ড গরমেও ঘাম না হওয়া।
সাধারণত এর মানে হচ্ছে, শরীরে ঘাম হওয়ার মতো পানি আর নেই বা শরীরের প্রাকৃতিক শীতল
প্রক্রিয়াটি কাজ করছে না।
চিকিৎসকদের মতে, হিটস্ট্রোক এড়াতে শরীর হাইড্রেট রাখার কোনো বিকল্প
নেই। তাপমাত্রা বেশি হলে ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক পরে ঘরের বাইরে যেতে হবে।
সূর্যের আলো থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাস ব্যবহার করা। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ
পানি পান করতে হবে। তবে কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী শপিং মল ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজায় অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেগা র্যাফেল ড্র-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। মার্কেটের পঞ্চম তলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। হাফেজ ইয়াকুব আলীর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে মোট ১০১ জন ভাগ্যবান বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়, যার মধ্যে আকর্ষণীয় পুরস্কার হিসেবে ছিল পাঁচটি মোটরসাইকেল।
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ মঞ্জুরুল আলম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমিতির প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট আবদুল মমিন ফেরদৌস, উপদেষ্টা আলহাজ্ব শাহ মোঃ আলমগীর খান এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ নুরে আলম ভূইয়া। সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সাংবাদিক মোঃ এমদাদুল হক সোহাগের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মালিক সমিতির উপদেষ্টা মোঃ মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা দোকান মালিক সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ জাকির হোসেন, সহসভাপতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মামুনুর রশীদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হাসান মোর্শেদ, অর্থ সম্পাদক মিয়া বাতেন এবং প্রচার সম্পাদক মোঃ মোতাহের হোসেন। এছাড়াও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুর রব ভূইয়া লিটন, জাকির হোসেন-১, মাহবুবুর রহমান মামুন, সোহাগ শেখ ও জাকির হোসেন-২ সহ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও বিপুল সংখ্যক ক্রেতা-সাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)গত ৩১ মার্চ বেসরকারি
স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিলো
এ ধাপে এবার মোট ৯৬ হাজার ৭৩৬ পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে
স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪৩ হাজার ২৮৬ পদে এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ৫৩ হাজার
৪৫০ পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আজ বুধবার (১৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগের
আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন গ্রহণ চলবে ৯ মে পর্যন্ত। আর ১০ মে রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদনের
ফি দেওয়া যাবে।
অনলাইনে আবেদন ফি দেওয়া সংক্রান্ত নিয়ম টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড
এর http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে এবং এনটিআরসিএ এর www.ntrca.gov.bd ওয়েবসাইটে
স্বতন্ত্রভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে জারিকৃত
সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন হতে হবে। প্রার্থীকে কেবলমাত্র
তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত বিষয় সংশ্লিষ্ট পদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে
পারবে।
কিন্তু আবেদনকারী মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে চূড়ান্ত সুপারিশ বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে
আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী আবেদনকারী প্রার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে ৩৫ বছর বা
তার কম হতে হবে।
প্রত্যেক আবেদনকারী নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী একই পর্যায়ে (স্কুল/কলেজ) একটি মাত্র
আবেদন করতে পারবেন। একজন প্রার্থী শূন্য পদের তালিকা থেকে তার আবেদনে সর্বোচ্চ ৪০টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পছন্দ দিতে পারবেন। এই পছন্দ প্রদানের পর কোন প্রার্থী যদি তার
পছন্দ বহির্ভূত দেশের যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে ইচ্ছুক হন তবে তাকে
e-Application ফরমে প্রদর্শিত Other Option নামক বক্সে Yes Click করতে হবে। যদি ইচ্ছুক
না হন তবে No Click করতে হবে।
কোনো প্রার্থীর যদি স্কুল ও কলেজ উভয় পর্যায়ের সনদ থাকে এবং তিনি যদি উভয়
পর্যায়ের পদে আবেদন করেন তবে প্রথমে তাকে কলেজ পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। কলেজ পর্যায়ে
নির্বাচিত না হলে স্কুল পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে। কলেজ পর্যায়ে নির্বাচিত হলে স্কুল
পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে না।
সব আবেদনের জন্য আবেদনকারীকে নির্ধারিত এক হাজার টাকা ফি প্রদান করতে হবে। নির্ধারিত
ফি পরিশোধ না করলে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
তবে যারা একবার ইতিমধ্যে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা পরবর্তীতে আর দেশের কোন
স্কুলে (এমপিওভুক্ত/ইনডেক্সধারী) সমপদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।
তবে স্কুল পর্যায়ে যদি কোনো নিবন্ধন সনদধারী (এমপিওভুক্ত/ইনডেক্সধারী) প্রাপ্ত
প্রার্থীর কলেজ পর্যায়ের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ থাকে এবং তিনি যদি কলেজ পর্যায়ে এমপিওভুক্ত
না হন তবে তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদে উল্লিখিত কলেজ পর্যায়ের পদে ও প্রতিষ্ঠানে আবেদন
করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া ॥
নতুন বছরের শুরুতে বই পেয়ে খুশি কোমলমতি
শিক্ষার্থীরা। বই পেয়ে আনন্দে মেতে উঠেন মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে। কোমলমতি
শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেখে উচ্ছাসিত ও আনন্দমুখর সময় কাটান মাদ্রাসার শিক্ষক ও
অভিভাবক। মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দহুলিয়া গ্রামে অবস্থিত জামি’আ
দারুত তাওহীদ মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়।
তাওহীদ একাডেমী এন্ড ইসলামিক সেন্টারের আয়োজনে এসব বই বিতরণ করা হয়েছে।
এসময় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
আকরামুজ্জামান,সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল মালেক মিয়াজী, রিয়াজ হোসেন, তাওহীদ একাডেমী এন্ড
ইসলামিক সেন্টারের সেক্রেটারী হাজী মো. দুলাল মিয়া,সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান,রাসেল
হোসেন,শাহ জালাল মিয়া,মাদ্রাসার শিক্ষক,অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সহ আরো অনেকে উপস্থিত
ছিলেন। এদিকে নতুন বই পেয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা খুশি।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ,কুড়িগ্রাম :
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় অটো রিক্সা চালক আকিদুল হত্যার আসামি সনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবিতে উপজেলা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দুপুর ১২ টায় রাজিবপুর উপজেলা চত্বরে রাজিবপুর রাষ্ট্র সষ্কার আন্দোলনের সভাপতি আবু সাইদের সভাপতিত্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিপন মাহমুদের সঞ্চালনায় বক্তব্যে নিহত আকিদুল ইসলামের মা ভানু বেগম (৪৭) বলেন, অটো রিক্সা চালিয়ে আমাদের সংসার চলত। হঠাৎ একদিন আমার ছেলে বাড়ি ফেরেনি। পরে নদী থেকে আমার ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অটোরিকশাও ফিরে পাইনি। কেন আমার ছেলেটাকে হত্যা করা হলো, কি অপরাধ করেছিল আমার ছেলে। এক মাস হয়ে গেল আমার ছেলে হত্যার কোন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। আমরা গরিব বলে কি ছেলে হত্যার বিচার পাব না? গ্রেফতার এবং আসামিদের সনাক্তর দাবিতে কান্নার জড়িত কন্ঠে ভানু বেগম বলেন ২০ দিনের মধ্যে আমার ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও সনাক্ত করার জোর দাবি জানান।
আকিদুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম খাতুন (২৩) বলেন এক মাস হয়ে গেল আমার স্বামীর হত্যার কোন বিচার পাইনি। কোন আসামিও গ্রেফতার হয়নি। পুলিশে মামলার কোন অগ্রগতি আমাদের জানায়নি। গরিব বলে কি আমরা বিচার পাব না। দয়া করে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের শনাক্ত করুন।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সদস্য সচিব সুজন মাহমুদ, রাজিবপুর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম মুক্তির ডাক আহবায়ক বিদ্যুৎ সরকার প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


মো: মাসুদ রানা,কচুয়া:
চাঁদপুরের কচুয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনায় ও কচুয়া উপজেলা বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন মিয়াজীর নেতৃত্বে রবিাবর বিকালে উপজেলা যুবদলের আয়োজনে উত্তর পালাখাল মোড় এলাকায় প্রায় শতাধিক গরীব অসহায় রোগীদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষুধ বিতরন করা হয়।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মাসুদ প্রধানীয়ার পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির প্রধান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক মকবুল হোসেন মিয়াজী,সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহসিন প্রধান,জেলা যুবদলের সদস্য সেলিম মাসুদ প্রধান,উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক মিজানুর রহমান স্বপন,যুগ্ন আহ্বায়ক কাউছার আহমেদ,হান্নান প্রধান সহ আরো অনেকে।
এসময় পালাখাল মডেল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন, বিতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদ ভূঁইয়া,উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য সুমন সরকার,কামাল মিয়াজী,সোহেল রানা,উপজেলা যুবদল নেতা আলী হোসেন,তাফাজ্জল হোসেন তপু, সাচার ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক,সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক আবু তাহের,সদস্য মানিক মিয়াজী, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রধান,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ফরহাদ তালুকদার,সাংগঠনিক সম্পাদক আবরার কুদ্দুস প্রধানীয়া,পাথৈর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মিয়াজী,সদস্য সচিব ডানিয়ান মজুমদার,বিতারা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস ছামাদ,সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক গাজী মিয়া,সদস্য সচিব মোস্তফা,যুবদল নেতা কামাল গাজী,আবুল খায়ের,পালাখাল মডেল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মহসিন মিয়া,যুগ্ন আহ্বায়ক আনিসুর রহমান পাঠান,পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন,সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন,যুগ্ন আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন,কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কাহার সাঈদ,আব্দুল কাদের,মোস্তফা প্রধান,সদর দক্ষিন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল হাসান,কড়ইয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ,সদস্য সচিব হানিফ,যুবদল নেতা আক্তার বেপারী প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা সদর এলাকায় মুরাদনগর মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস নামে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা নিপা অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জয়ন্ত, মুরাদনগর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহাদাত হোসেন ও মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি টিম।
এ নিয়ে জানা গেছে, মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস নামের প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন (লাইসেন্স) বিহীন। এখানে চিকিৎসা সেবা ও রোগ নির্ণয়ের মতো বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। বিভিন্ন রোগের পরীক্ষার নামে নেওয়া হতো অতিরিক্ত টাকা। কেবল তাই নয়, দক্ষ টেকনিশিয়ানও নেই প্রতিষ্ঠানটিতে।এছাড়া ব্যবহার করা হতো মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট।
সোমবার বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম ওই ডায়গনস্টিক সেন্টারে অভিযানে গিয়ে ওইসব অনিয়ম দেখতে পায়। নিবন্ধন না নিয়ে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা হচ্ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও গেলে করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাসরিন সুলতানা নিপা বলেন, উপজেলায় লাইসেন্স বিহীন প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


‘আজকের দিনেও তোমার যন্ত্রণা নিতে পারছি
না। আমার পরিবার থেকে যে যৌতুকের টাকা তোমাদের দিয়েছে, সেগুলো শোধ করে দিও। তুমি আমাকে
বাঁচতে দিলে না। পোস্টমর্টেম করিয়ে
আমার সব যন্ত্রণা ধুয়ে-মুছে আমাকে কবরে পাঠিও।’
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাতে ছিল রীমা আক্তার এর মেহেদী অনুষ্ঠান। প্রেমের পরিণতি হিসেবে বিয়ের মাত্র এক দিন আগে ‘আত্মহত্যা’র পথ বেছে নেওয়া রীমা আক্তার (২০) এ কথা লিখে গেছেন।
চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। রীমা উপজেলার হাইদগাঁও এলাকার হীরা তালুকদারবাড়ির বাচা মিয়ার মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত মিজানুর রহমানের সঙ্গে রীমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মিজানুর একই এলাকার মফিজুর রহমানের ছেলে। উভয় পরিবার ছেলেমেয়ের সম্পর্ক জেনে পারিবারিকভাবেই আজ শুক্রবার বিয়ের তারিখ ঠিক করে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ছিল তাদের মেহেদী অনুষ্ঠান। বিকেল ৫টায় রীমার বিউটি পারলারে যাওয়ার কথা ছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে দুপুরে রীমা ও মোরশেদ মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে কথা বলেন কয়েক দফা। এর পরপরই দরজা বন্ধ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রীমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, রীমার লাশ উদ্ধারের পর পাশেই কাগজে
একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়।
সেখানে হবু স্বামীকে উদ্দেশ্য করে রীমা লিখেছেন, ‘প্রিয় শখের পুরুষ, তুমি করো তোমার বিয়ে, অনেক ভালোও বেসেছ এবং অতিরিক্ত যন্ত্রণাও দিয়েছ। আমি পারছি না এত যন্ত্রণা নিতে। বাকি জীবনটা সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারলাম না। তুমি আমাকে বাঁচতে দিলে না। আমার পরিবার থেকে যৌতুকের যে টাকা তোমাদের দিয়েছে, সেগুলো শোধ করে দিও।’পোস্টমর্টেম করিয়ে আমার সব যন্ত্রণা ধুয়ে-মুছে আমাকে কবরে পাঠিও।’
রীমার চাচা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘তিন দিন আগে যৌতুক হিসেবে আমরা ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি ছেলের পরিবারকে। এর পরও ছেলে রীমাকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে মেহেদী অনুষ্ঠানের দিন।’
রীমার ভাই আজগর হোসেন জানিয়েছেন, তার বোনের কাছে যৌতুক হিসেবে ফুল সেট ফার্নিচার, টিভি, ফ্রিজ ও বিয়ের খরচ হিসেবে টাকা দাবি করেন মিজানুর রহমান মোরশেদ। উভয়ের প্রেমের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যৌতুক দাবি করায় তাঁর বোন অপমানিত হয়ে রাগে-ক্ষোভে আত্মহত্যা করেন। রীমা পটিয়া সরকারি কলেজে অনার্সের মেধাবী ছাত্রী ছিল। ছেলে যে এতটা যৌতুকলোভী হবে আমরা জানতাম না। প্রাণ দিয়ে আমার বোন তার মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে। অথচ আমরা এত দিন তা বুঝতে পারিনি। মৃত্যুর আগে আমার বোন সুইসাইড নোটে এসব লিখে রেখে গেছে।
পটিয়া থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তরুণীর আত্মহত্যার বিষয়টি দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল:
কুমিল্লার ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি (যুদ্ধসমাধি)
থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
তাদের দেহাবশেষ জাপানে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে জাপানের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যদের একটি ফরেনসিক
বিশেষজ্ঞ দল ওই ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। যেটি
শেষ হবে আগামী ২৪ নভেম্বর।
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম
পাশে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান
হিসেবে পরিচিত। সেখানে রোববার বিকেল পর্যন্ত খনন করা হয়েছে ১০টি সমাধি। জাপানের বিশেষজ্ঞ
ফরেনসিক টিমকে সহায়তা করছেন বাংলাদেশ সরকার। পুলিশি নিরাপত্তায় খনন কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের ৭৩৭জন বীর সৈনিককে ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ১৯৬২ সালে একজন সৈনিকের দেহাবশেষসহ সমাধির মাটি তার স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে
নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ২৪ জন জাপানি সৈনিকের মরদেহ রয়েছে। গত বুধবার থেকে খনন কাজ
শুরু হয়।
সমাধিস্থলের মাটি খুঁড়তেই মিলছে দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈনিকদের মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড়। সেগুলো অত্যন্ত
যত্নসহকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশন এই যুদ্ধ সমাধি ক্ষেত্র
তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।
সমাধিস্থলের খননকাজে জাপানের প্রতিনিধিদের
সহায়তা করছেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.)
কাজী সাজ্জাদ আলী জহির (বীর প্রতীক)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কবর (সমাধি) শনাক্তকরণ, দেহাবশেষ
সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ সরিয়ে আনার কাজটিও করেছেন
তিনি। জাপানের প্রতিনিধিদলের পক্ষে পুরো কর্মযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, ‘জাপান
সরকার ২০১৩ সালে আমাকে তাদের দূতাবাসে ডেকেছিল এই ২৪ জাপানি সৈনিকের দেহাবশেষ সরিয়ে
নেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ওই সময়ে সেটি সম্ভব হয়নি। গত বছর থেকে তারা বিষয়টি
নিয়ে আবারও যোগাযোগ করে। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জাপান সরকার আমাদের সরকারের কাছে চিঠি
লেখে এবং কমনওয়েলথের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এই কাজ শুরু করেছে। এখানে জাপানের পক্ষ থেকে
সাতজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যারা এ কাজে অত্যন্ত দক্ষ। তাদের ছয়জন জাপানি ও
একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই সমাধিগুলো ৮১ বছরের পুরোনো। এরই মধ্যে খনন করে আমরা
১০ জনের দেহাবশেষ সমাধি থেকে উত্তোলন করতে পেরেছি।’
দেহাবশেষে কী কী পাওয়া যাচ্ছে, জানতে
চাইলে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘৮১ বছর পর খুব বেশি কিছু পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা
প্রতিটি সমাধির দুই ফুটের মতো খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে খুঁড়ছি। বাকিটা ম্যানুয়ালি
অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খনন করা হচ্ছে। কোনোটিতে তিন ফুট, আবার কোনোটিতে ছয় ফুট খননের
পর দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যেগুলো খনন করা হয়েছে, সেসব সমাধিতে মাথার খুলি,
শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় পাওয়া যাচ্ছে। তবে যা-ই পাচ্ছি, সবকিছুই জাপানের বিশেষজ্ঞ
দল যত্নসহকারে সংরক্ষণ করছে।’
তিনি বলেন, আমরা এক তরুণ সৈনিকের দেহাবশেষ
তুলতে গিয়ে মাথার খুলির মধ্যে বুলেটের চিহ্ন পেয়েছি। রেকর্ড অনুযায়ী ওই সৈনিকের বয়স
২৮ বছর ছিল। আমার তখন বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করেছে। এত তরুণ বয়সে পৃথিবী থেকে চলে গেছে
সে। এখানে জাপানের সৈনিকদের ২৪ সমাধির মধ্যে ২০টির নাম-পরিচয় আছে। বাকি চারটির পরিচয়
শনাক্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি। নিশ্চয়ই তারা (জাপানের প্রতিনিধিদল) দেহাবশেষ নিয়ে গেলে
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হবে।’
কমনওয়েলথ ওয়ার গ্রেভস কমিশনের পক্ষে
দায়িত্ব পালন করা কান্ট্রি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আবদুর রহিম সবুজ বলেন, গত বুধবার সকাল
থেকে জাপানের প্রতিনিধি দল কার্যক্রম শুরু করে। এখানে সমাহিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় নিহত বিশ্বের ১৩টি দেশের।
মন্তব্য করুন