

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে কুমিল্লার তিতাস থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তিতাস থানাধীন বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৩০)। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ছোট কাজরা গ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে।
র্যাব-১১-এর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালানোর চেষ্টা করে তারা। বন্দীদের কয়েকজন কারাগারের লকআপের গেট ভাঙচুর করে বের হয়ে ভবনের সিঁড়িতে থাকা লোহার অ্যাঙ্গেল খুলে তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় কারাগারের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কারারক্ষীদের মধ্যে ২৫ জন গুরুতর আহত হন। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ কয়েকজন বন্দী কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ১৯৯ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৪। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৮, ১৪৯, ৩৫৩, ২২৪, ৪২৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৪৩৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
র্যাব জানায়, কারাগার থেকে পালানোর ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল শনিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকার মতিঝিল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি। মামলাটির নম্বর ৯১(৩)০৫ এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা ওই মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মুন্সীগঞ্জের
গজারিয়ায় কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাসের যাত্রীদের ড্রাইভারসহ
কয়েকজন মিলে মারধর করেছেন। এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলায়
বাসের অন্তত চারজন যাত্রীর মাথা ফেটে গেছে।
এই
ঘটনায় আহতরা হলেন, সোহেল (২৬), সিয়াস (২১), হাসিনা আক্তার (৪৫), নাসিমা বেগম (৪৮)।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বাসে উঠে লোহার রড
বা দণ্ডজাতীয় কিছু দিয়ে পিটিয়ে যাত্রীদের রক্তাক্ত করছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়,
হামলায় দুই নারীসহ চারজনের মাথা ফেটে গেছে। সে সময় ভুক্তভোগী যাত্রীরা বাঁচার জন্য
আকুতি জানাচ্ছিলেন।
ঘটনার
নেপথ্য কারণ নিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিয়ামি এয়ারকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লা থেকে
ঢাকায় আসার পথে কুমিল্লার মাধাইয়া এলাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই
আরোহী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনা ঘটার পর বাসের যাত্রীরা চালককে বাস থামাতে বাধ্য করেন।
সে সময় বাস চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বেশ বাকবিতণ্ডা হয়। চালক গাড়ি থামালে স্থানীয় উৎসুক
জনতা তাকে মারধর করে এবং পুলিশ এসে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়। সে সময় সুযোগ বুঝে চালক
কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গজারিয়ায় তার নিজ বাড়িতে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর পরিবহন
কর্তৃপক্ষ অন্য একটি বাস পাঠিয়ে আটকে পড়া যাত্রীদের ঢাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
এদিকে
পূর্ববর্তী বাসের চালক স্থানীয় কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মহাসড়কের গজারিয়া অংশের বাউশিয়া
পাখির মোড় এলাকায় আগে থেকেই ওত পেতে থাকেন। আটকে পড়া যাত্রীরা নতুন বাসে করে বিকেল
পৌনে পাঁচটার দিকে ওই এলাকায় পৌঁছালে আগের বাসের চালক বাসটি থামানোর সিগন্যাল দেন।
বাসটি থামামাত্রই তিনি সঙ্গীদের নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং দুর্ঘটনায় বাধা দেওয়া যাত্রীদের
ওপর হামলা চালান। পরবর্তীতে যাত্রীরা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে গজারিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ
ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী
বাসযাত্রী সাফায়েত হোসেন বলেন, এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলাম আমরা। মিয়ামি এয়ারকন
পরিবহনের একজন চালক গজারিয়ায় গাড়ি থামিয়ে আমাদের সহযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়েছেন।
হামলায় চার-পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দোষীদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
গজারিয়া
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে
আসা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সোহেল নামে একজনের
অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ
বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ঘটনাটি
অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। খবর পাওয়া মাত্রই
আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আহতদের উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
পাঠাই। এ ঘটনায় জড়িতরা যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় সেজন্য ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ
দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশীদের
জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি
আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১ টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে
এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বানের কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশী কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত
শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ
এবং আটক বাংলাদেশীদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, 'আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া
হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের
ব্যয় হ্রাস পায়।'
দুই
দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। প্রথমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা
জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বক্তব্য রাখেন। পরে তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু
তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন।
সংবাদ
সম্মেলনের শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারিতে
আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম যে শুভেচ্ছা বার্তা
পেয়েছিলাম, তা ছিল প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের। তিনি আমাকে অভিনন্দন এবং মালয়েশিয়া
সফরের আমন্ত্রণ জানান।’
তিনি
বলেন, তাঁর (আনোয়ার ইব্রাহিম) আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিত
বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায়
আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।'
পিতা
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯৭৯ সালে মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বলেন, ‘সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল। একইসঙ্গে
শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।’
তিনি
বলেন, 'আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের
কথাও স্মরণ করছি। তাঁর সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার
নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করেছিল।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা,
অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।'
মালয়েশিয়ায়
তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং আতিথেয়তা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়ার
সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি
বলেন, ‘আরও একবার মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার
জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।'
দ্বিপাক্ষিক
বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
সঙ্গে আমার ব্যাপক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়
নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।’
তিনি
বলেন, 'আজ আমরা বাংলাদেশ–-মালয়েশিয়া
সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই
দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর
মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। '
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ-–মালয়েশিয়া
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
বৈঠকে
সংস্কৃতি বিষয়ক সমঝোতা স্মারকসহ সন্ত্রাসবাদ দমন
বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ
সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,
‘এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে
সহায়তা করবে।’
তিনি
বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন
অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক
ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।'
উল্লেখ্য,
বৈঠকের পর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক
স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত
একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে
অংশ নেন।
মালয়েশিয়ার
ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন
পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি
বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা। আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ
গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি।'
তিনি
বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার
বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর
আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।'
দ্বিপক্ষীয়
বৈঠকের আলোচনায় ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি,
হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল
অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর এবং অন্যান্য উচ্চমূল্য সংযোজন খাত অন্তর্ভুক্ত ছিলো বলে জানান
প্রধানমন্ত্রী।
তারেক
রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা
দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের
অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
রোহিঙ্গা
সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা
নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের
বিষয়ে মালয়েশিয়ার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। '
বাংলাদেশ
আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার
বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের
সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে। '
তিনি
বলেন, 'একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে
আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করছি।’'
বৈঠকে
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান
বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে
সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ
সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।'
মালয়েশিয়ার
প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ আমি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের
আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে পারলে গর্ববোধ করবে।'
দুই
দেশের দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান। মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। বৈঠকে
দুই দেশের দ্বি-পক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা
হয়।
বাংলাদেশ
প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রী আরিফুল হক, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব
আতিকুর রহমান রুমন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


ফেনীতে
অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ দাফনের একমাত্র স্থান ফেনী পৌর কবরস্থান। সেখানে অজ্ঞাত ব্যক্তির
মরদেহ পৌরসভার ময়লার গাড়িতে করে কবরস্থানে নিয়ে গোসল-জানাজা ছাড়াই দাফন করা অভিযোগ
উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ
রয়েছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে অজ্ঞাত
মরদেহগুলো নিয়ে যাওয়া হয় পৌর কবরস্থানে। মরদেহ বহনের উপযুক্ত যানবাহনের পরিবর্তে মরদেহ
নেওয়া হয় পৌরসভার ময়লার গাড়িতে। এরপর গোসল-জানাজা ছাড়াই দাফর করা হয়।
সরেজমিনে
দেখা যায়, কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় পুরো এলাকাজুড়ে নেই সীমানা প্রাচীর। নিরাপত্তার
জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নেই। কবরস্থানের ভেতরে গরু ও ছাগলের অবাধ বিচরণ।
সন্ধ্যার
পর অনেকটা অন্ধকার ও নির্জন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে দিন-রাত
কবরস্থানে বসে মাদকসেবী ও তাসের আড্ডা বসে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, ফেনী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সুলতান পুরো এলাকায় ১৯৬৬ সালে তৎকালীন
মহকুমা প্রশাসক সরকারি এই কবরস্থানের জায়গা নির্ধারণ করেন। নাম দেওয়া হয় মুসলিম
কবরগাহ। সে থেকে গত ৬০ বছরে এখানে হাজার হাজার পরিচিত-অপরিচিত মানুষের মরদেহের স্থান
হয়েছে।
বিশেষ
করে ফেনীর উপর দিয়ে রেল, সড়ক, মহাসড়ক বয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্ঘটনায়
নিহত বেওয়ারিশ মরদেহের ঠিকানা এখানে। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষকে
দাফন করা হয় এই কবরস্থানে। ফেনী শহরতলীর সুলতানপুরে অবস্থিত এই পৌর কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ
ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। সঠিকভাবে দাফন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
স্থানীয়
জনসাধারণের দাবি, অজ্ঞাত মরদেহ পরিবহনে ময়লার গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত একটি আলাদা
ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গোসল ও জানাজার মতো ধর্মীয়
ও মানবিক আনুষ্ঠানিকতাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার দাবি তাদের।
এদিকে
কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা ফেনী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে তাদের
সামর্থ্য যেটুকু সেটুকুর আলোকে তারা কাজ করছেন। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাত পরিচয়
মানুষকে দাফন করা হয় এই গোরস্থানে। কবরস্থানটিকে আরো উন্নত করার জন্যও তাদের পরিকল্পনা
রয়েছে।
এ
বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, ময়লার গাড়িতে একটি বেওয়ারিশ
লাশ নিয়ে দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ২০২৩ সালের লিখিত পরীক্ষা আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত।
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩এর প্রথম গ্রুপের (রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগ) আওতাধীন জেলাসমূহের লিখিত পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত জানান, সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সংক্রান্ত সকল প্রকার সামগ্রী ইতোমধ্যে জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, তিনটি বিভাগের ১৮টি জেলায় (রংপুর ৮, বরিশাল ৬, সিলেট ৪) এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৯৭ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩৫টি ও কক্ষের সংখ্যা ৮ হাজার ১৮৬টি।
পরীক্ষা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের ০২৫৫০৭৪৯৬৯ নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।
মন্তব্য করুন


ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের দাবি দীর্ঘ ৪০ বছর পর পূরণ হতে যাচ্ছে।
এমপিওভুক্তির প্রস্তাবের ফাইলে শেষদিন বুধবার (৫ মার্চ) স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ফলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা এমপিওভুক্ত হচ্ছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫১৯ ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৬ হাজারের বেশি শিক্ষকের ভাগ্য খুলছে।
আজ বিদায়ী বক্তব্যে বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ নিজেই। আজ বুধবার (৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শেষ কর্মদিবসে সেই ফাইলে স্বাক্ষর করে গেছেন বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা। সেই ফাইল এখন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। তার সম্মতি মিললে মে মাসের মধ্যে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেতে পারেন।
তিনি বলেন, দেশে অনেক ইবতেদায়ী মাদ্রাসা আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো অনানুষ্ঠানিক। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানের নথি (রেজিস্ট্রেশন) আছে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলের মতো তারা বাংলা, ইংরেজি, গণিত পড়াচ্ছে। অবকাঠোমো, শিক্ষক থাকার পরও তাদের এমপিওভুক্ত করা হয়নি। তাদেরকে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব। সেই কাজ আমি করে দিয়েছি।
এদিকে আজ বঙ্গভবনে নতুন শিক্ষা উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানে এই শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি অর্থ বিভাগের সচিবকে অবহিত করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা। এ সময় অর্থ সচিব প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি মিললে টাকা ছাড় করার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস থেকে ইবতেদায়ী শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার জন্য কাজ করছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ। সারা দেশে এডুকেশনাল ইনস্টিটিউট আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকারী নম্বর আছে (ইআইআইএন) এমন ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসাকে এমপিও করার ফাইল প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে।
এ নিয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, বিদায়ী উপদেষ্টা এই ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। ফাইলটি এখন প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়ের অনুমতির জন্য পাঠানো হবে। তিনি সদয় অনুমতি দিলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করা হবে।
কতদিন লাগতে পারে- জানতে চাইলে সচিব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি বছরের বাজেট বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন। মে মাসের বেতন যেন শিক্ষকরা পান সেই চেষ্টা চালাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির তৃতীয় সভায় তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগামী জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারিখ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। বিশ্ব ইজতেমা কীভাবে ভালোভাবে হতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আপনারা জানেন, বিশ্ব ইজতেমায় এখন দুটি গ্রুপ হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে মতেরও পার্থক্য আছে। আমরা তাদের সঙ্গে বসব, যাতে তারা সবাই ঐকমত্যে এসে ভালোভাবে (ইজতেমা) করতে পারে। এটি খুবই ভালো একটা আয়োজন, আমাদের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য বিরাট অনুষ্ঠান। এখানে বহু হুজুর যান এবং বহু দিকনির্দেশনা আসে। আমরা তাদের অনুরোধ করব। আমরা তাদের বলব, আপনাদের নিজেদের মধ্যে যে সমস্যাটা রয়েছে, তা নিজেরা সমাধান করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো। আর যদি নিজেরা সমাধান করতে না পারেন, তাহলে আমরা বসতে পারি, কীভাবে সমাধান করে আয়োজনটি ভালোভাবে করা যায়, সে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে করণীয়; বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয়; সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ; অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সচেষ্ট হওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গকারী ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করা, বিভিন্ন অপরাধী ও আন্দোলন-সমাবেশে উসকানিদাতাদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়াও রাস্তায় সমাবেশ না করে দাবি-দাওয়া সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি বা কমিশনে পেশ করা, জনভোগান্তি দূর করতে শাহবাগের পরিবর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা ও সমাবেশ আয়োজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের এ বিষয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জনসাধারণকে জানানো, জামিনে মুক্তি পাওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অপরাধে লিপ্ত হলে দ্রুত গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া ইত্যাদি সিদ্ধান্ত হয়।
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা এবং কমিটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন । আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সদস্যরা এতে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দুই
আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স (যাবতীয় নথি)
হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার
(৯ জুন) বিচারিক আদালত থেকে এ নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার (৭ জুন) ঢাকা
মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে
ট্রাইব্যুনাল বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৬৮ ধারা অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
না হওয়া পর্যন্ত গলায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
একইসঙ্গে
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে এই মৃত্যুদণ্ড
কার্যকর হবে। এ ছাড়া আসামি সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা
করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনি উত্তরাধিকারকে দিতে বলা হয়েছে।
জরিমানা
অনাদায়ে সংশ্লিষ্ট কালেক্টরেট অফিসকে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করে বিক্রির
মাধ্যমে ওই অর্থ রামিসার আইনি উত্তরাধিকারদের প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে আরও
বলা হয়েছে, আসামিরা ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২৮ ধারার বিধান অনুযায়ী
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায়
এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক
অহিদুজ্জামান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে
পাঠানো হয়।
১
জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষে ১৬
জন সাক্ষ্য দেন এবং একদিনেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায়
আসামিদের পরীক্ষা করা হয়।
১৯
মে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে আসামি সোহেল রানা
পালিয়ে যায়। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ স্বপ্না খাতুনকে হেফাজতে নেয় এবং নারায়ণগঞ্জের
ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রামিসার
বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২১ মে আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দি দেন।
ভিকটিম
রামিসার বাবা পরিবারের সঙ্গে পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং
বনানীতে একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করতেন। রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয়
শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মন্তব্য করুন


রোজার মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বুড়িচং থানার ওসি মহোদয় এবং থানা পুলিশ সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে নিমসার বাজারে বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বৃহস্পতিবার হওয়া এ অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার লেবু, শসা, কাঁচা মরিচ,ধনে পাতা, আলু, পেঁয়াজ প্রভৃতি পণ্যের দাম যাচাই করেন। কাঁচাবাজার এর
পাশাপাশি দোকানগুলোতেও রশিদ এর মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয় এর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, লেবু ২০-৬০ টাকা হালি, কাচা মরিচ ২৬ টাকা, শশা ৩০ টাকা, খিরা ১২-১৫ টাকা , টমেটো ৫-৮ টাকা , আলু ১৬-১৮ টাকা, লাউ ১৮-২০ প্রতি পিস, পেঁয়াজ দেশি (মেহেরপুর) ১৮-২০ টাকা, পেয়াজ দেশি (পাবনা,নওগা) ২৫-৩০ টাকা, ডিম হালি ৩৩-৩৪ টাকা, চিচিংগা ১৫ টাকা, গাজর ১৫-২০ টাকা, বেগুন ৬০-৬৫/- (উন্নতমানের বড় সাইজ), চিকন বেগুন ৩০-৩৫ টাকা এবং সিম ২০-২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তবে অভিযান পরিচালনাকালীন সময়ে এটাও বলে দেওয়া হয় যে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার অনিয়ম বা মূল্য কারসাজি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের দিক নির্দেশনা
বাস্তবায়নে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন
(র্যাব)।
মঙ্গলবার
(২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
তিনি
জানান, যত নাশকতা ও সহিংসতা হচ্ছে বা মামলা হচ্ছে, সেই আসামিদের আমরা দ্রুত আইনের আওতায়
নিয়ে আসছি। সাম্প্রতিক সময় নির্বাচন কমিশনের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের অস্ত্র
উদ্ধার বেগবান হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ১০টির বেশি বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার, বেশ
কিছু দেশিয় অস্ত্র, গাড়িসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছি। যারা নির্বাচনের সহিংসতা করার
চেষ্টা করছে বা নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে তাদের আইনের আওতায়
নিয়ে এসেছি। প্রায় ১০ জনের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের দিক নির্দেশনা বাস্তবায়নে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে আমরা
কাজ করে যাব।
মন্তব্য করুন


কুড়িগ্রামের
উলিপুরে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মুনতাহা (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার থেতরাই
ইউনিয়নের বসুনিয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি কিশোরপুর গ্রামের বাসিন্দা
শহিদুল ইসলামের মেয়ে।
এলাকাবাসী
জানান, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে শিশু মুনতাহা বাড়ির পাশের পুকুরের পানিতে
পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলেপ উদ্দিন গোসল করতে পুকুরে নামলে তার
পায়ে কোনো একটি বস্তু স্পর্শ করে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পানিতে
ডুব দিয়ে পানির নিচ থেকে মুনতাহাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা করেন।
উলিপুর
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দীক বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ ব্যাপারে
খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন