

জাতীয়
নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি
বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৮০-এর দশক নিয়ে একটা ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। এ সরকারও
মনে হয় ৮০-এর দশকে ফিরে যাবে। কারণ তারা গ্যাস-বিদ্যুৎ বাদ দিয়ে দিচ্ছে। সরকার ট্রেন্ডের
সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছে।
বুধবার
বিকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে
তারুণ্যের রাজনৈতিক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির
বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় ছাত্রশক্তি ববি শাখা এ সভার আয়োজন করে।
নাহিদ
ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি, সরকার ইতিবাচকভাবে ট্রেন্ডের সঙ্গে থাকুক। পুরো পৃথিবী সামনের
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে কোনোভাবে পিছিয়ে না যায়, এটা সবার প্রত্যাশা।
সরকারি
চাকরির ভাইভা পরীক্ষায় নাম্বার বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি
চাকরির ভাইবা পরীক্ষায় ৪০০ শতাংশ নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচিত হওয়ার আগে বলেছিলেন- ভাইবা মার্ক হচ্ছে দলীয় নিয়োগের সুযোগ। সাধারণ চাকরির
পরীক্ষায় ভাইভার মার্ক ২০০ নম্বর এবং বিসিএসে ৫০ নম্বর করা উচিত। আর তারা যখন সরকারে
আসে তখন উল্টো পথে যাচ্ছে।
তিনি
বলেন, আমরা বলে দিতে চাই, এরকম কাজ ভুলেও করতে যাবেন না। কোটা ইস্যু নিয়ে শেখ হাসিনা
দিল্লিতে আছে, আর ভাইভা ইস্যু আপনাদের কোথায় পাঠাবে, তা আপনারা নিজেরাও টের পাবেন না।
ফলে রাজনৈতিক কারণে এ ধরনের হুটহাট সিদ্ধান্ত নেবেন না। যদি আপনাদের কাছে এটা যথাযথ
যুক্তি থাকে তাহলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করুন, যৌক্তিক সংস্কার করুন; তা আমরাও
চাই।
জুলাই
অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই বছর অতিবাহিত
হয়েছে। এ সময়জুড়ে অন্তর্বর্তী সরকার শেষে এখন নির্বাচিত সরকার রয়েছে। নির্বাচিত সরকারের
অনেক প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করতে পেরেছে, তা আপনারা বিচার করবেন।
সভায়
আরও বক্তব্য দেন- এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, সদস্য
ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী আবু সাঈদ
মুসা।
ববি
শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলালের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এসএম ওয়াহেদুর
রহমানের সঞ্চালনায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ‘৩৬ জুলাই’
শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন নাহিদ ইসলাম।
মন্তব্য করুন


ফুটবল
ইতিহাসের সেই চিরপরিচিত দৃশ্য, আরও একবার জাদুকরী ফ্রি-কিকে লিওনেল মেসির ট্রেডমার্ক
গোল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বমঞ্চে আজ জর্ডানের বিপক্ষে
মাঠে নেমে স্রেফ ইতিহাস ওলটপালট করে দিলেন লিওনেল মেসি।
রোববার
(২৮ জুন) ম্যাচের ৬০তম মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজকে তুলে নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে
যখন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠে নামান। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই
মাহেন্দ্রক্ষণ ধরা দিল। এক দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে জর্ডানের জাল কাঁপিয়ে আর্জেন্টিনাকে
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসের অমরত্বের পাতায় সম্পূর্ণ এককভাবে
নিজের নাম লিখিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৭টি
ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন।
এই
গোলের আগে বিশ্বকাপের টানা ৬ ম্যাচে গোল করার কীর্তি নিয়ে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট
ফন্টেইন (১৯৫৮) এবং ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষাসনে বসা ছিলেন
মেসি। জর্ডানের প্রাচীর ভেঙে সেই সাত দশকের পুরনো রেকর্ডকে একাই নিজের করে নিলেন এই
আর্জেন্টাইন জাদুকর।
এর
আগে, ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর দলের রণকৌশলে বড় ট্রিপল পরিবর্তন এনেছিলেন স্কালোনি।
গোলদাতা জিওভানি লো সেলসো এবং তরুণ নিকো পাজকে তুলে নিয়ে মাঝমাঠ ও আক্রমণের ধার বাড়াতে
থিয়াগো আলমাদা ও আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকে মাঠে নামানো হয়। তবে সব আলো কেড়ে নিলেন
বেঞ্চ থেকে উঠে আসা অধিনায়ক মেসি। জর্ডানের বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পেতেই পুরো মেটলাইফ
স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে, আর পরের মুহূর্তেই মেসির চেনা জাদুতে বল যখন জালের
ঠিকানা খুঁজে নেয়, তখন রেকর্ড বুক নতুন করে লেখার আনন্দে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা।
মন্তব্য করুন


আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী তিন মাস আবহাওয়া পরিস্থিতিতে কি হতে পারে, সে বিষয়ে আগাম বার্তা দিয়েছে ।
অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এ পূর্বাভাসে দেশে আগামী তিনি মাসে শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড়, মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ এবং বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের পশ্চিম, উত্তর, উত্তরপশ্চিমাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ৪ থেকে ৮ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা অথবা মাঝারি ধরণের কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। এর বাইরেও এই সময়ের মধ্যে দেশে ৩ থেকে ৫টি মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আগামী তিন মাসে সামগ্রিকভাবে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৩টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। যার মধ্যে একটি নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। তবে আগামী তিন মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে।
এছাড়া, আগামী তিন মাসের মধ্যে মৃদু তাপপ্রবাহ অর্থাৎ দেশের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে। সেই সঙ্গে মাঝারি ধরণের অর্থাৎ ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে প্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলেও জানায় সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন


প্রবল
বৃষ্টিপাতের জেরে মিয়ানমারের একটি পরিত্যক্ত জেড পাথরের খনিতে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ
ধসে পড়ে। এ সময় সেখানে মূল্যবান পাথর বা পাথরের অংশবিশেষের খোঁজ করছিলেন কয়েকজন মানুষ।
তাদের মধ্যে পাঁচ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এখনো
১৫ জন নিখোঁজ আছেন। ধারণা করা হচ্ছে তারা ধসে পড়া আবর্জনার নিচে চাপা পড়ে আছেন। আজ
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ব গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা
এএফপি। মিয়ানমারের খনিজ আহরণ খাতে বিধিনিষেধ মেনে না চলার প্রবণতা আছে। বিশেষত, উত্তর
কাচিন রাজ্যে। ওই এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেড পাথরের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেশী
চীনসহ এশিয়ার অনেক দেশে ধর্মকর্ম ও অন্যান্য কাজে মূল্যবান এই পাথরের বিশেষ কদর আছে।
২০২১
সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সুচির গণতান্ত্রিক সরকারের পতনের পর থেকেই
মিয়ানমারে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে আছে।
বর্তমানে
মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি মূল্যবান পাথরের খনি বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কবলে আছে। তারা এসব
খনি থেকে আহরিত সম্পদ থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে নিজেদের যুদ্ধের অর্থায়ন করে।
রোববার
কাচিন-এর হাকান্ত টাউনশিপে ফ্লাডলাইটের আলোতে প্রায় ২০জন অনিবন্ধিত জেড আহরণকারী কাজ
করছিলেন। আকস্মিক ভূমিধসে তারা চাপা পড়েন বলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের খবরে জানানো
হয়।
গ্লোবাল
নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানায়, ‘বেশ কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পুরনো খনিটির
ভেতর থাকা আবর্জনার স্তূপগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।‘অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ আছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য খনন কার্যক্রম চলছে’,
জানায় পত্রিকাটি। বর্ষাকালে মিয়ানমারের খনিগুলোতে
এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই হয়।
মন্তব্য করুন


শীতকে
উপেক্ষা করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় নারী-পুরুষসহ সকল বয়সী মানুষের
ঢল নেমেছে। কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউবা মাটিতে বসে উৎসবমুখর পরিবেশে উপভোগ করছেন ঘোড়দৌড়
প্রতিযোগিতা। গ্রামের একটি ফসলের মাঠে অতিথিদের বসার স্টেজ। তার সামনে মাঠের চারপাশে
দড়ি দিয়ে গোল চত্বর চিহ্নিত করে, তার চারপাশ দিয়ে ঘুরছে ঘোড়ার দল। মাঠের এক পাশে নানা
রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
মঙ্গলবার
পড়ন্ত বিকালে এমন চিত্র দেখা যায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর
গ্রামে। সেখানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ফুলবাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে তিনটি
গ্রুপে ২০ জন খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ ঘোড়া নিয়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
দুপুরের পর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ওই এলাকায়
তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে পেরেও খুশি দর্শকরা।
প্রধান
অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান
ফিজার এমপি। খেলা শেষে এ প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীদের
মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


তিস্তাসহ
বিভিন্ন নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একমত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইংয়ের বৈঠকে
এ ঐকমত্য হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
চীনের
রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উপ-প্রেস
সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহায়তা কামনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি সম্পদের
যথাযথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকারের চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে পানিসম্পদ
ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর
দপ্তর জানায়, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে
চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা চান। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি কুওইং ইতিবাচক সাড়া দিয়ে
বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিস্তা
মহাপরিকল্পনা হল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা;
যার মূল লক্ষ্য—নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ,
সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ।
এই
পরিকল্পনার আওতায় নদীর দুই তীর সংরক্ষণ, খনন ও প্রশস্তকরণ, জলাধার ও ব্যারেজ উন্নয়ন,
এবং আধুনিক সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি কমানো
এবং বর্ষায় বন্যার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।
প্রকল্পটি
বাস্তবায়িত হলে রংপুর অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নদীভাঙন
কমবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক শিল্প ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে।
তবে
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন। উজানে ভারতের পানি
ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাংলাদেশে তিস্তার পানিপ্রবাহ মৌসুমভেদে ব্যাপকভাবে
ওঠানামা করে। ফলে প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করছে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর
পানি বণ্টন চুক্তির ওপর।
২০১৬
সালে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি
সমীক্ষা চালিয়ে এই মহাপরিকল্পনার নকশা চূড়ান্ত করে।
পরে
ভারতও ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে এই প্রকল্পে যুক্ত হতে এবং অর্থায়নে প্রবল আগ্রহ
প্রকাশ করে, যার ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্পটি ঝুলে যায়।
২০২৪
সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী
সরকার পুনরায় চীনের অর্থায়নেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। ২০২৯ সালের মধ্যে
প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
পাঁচ
বছর মেয়াদি প্রথম ধাপের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা (৭৫০ মিলিয়ন
ডলার)। এর মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বা ৫৫০ মিলিয়ন ডলার চীনের কাছে ঋণ হিসেবে
চাওয়া হয়েছে এবং বাকি অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মেটানো হবে।
এ
প্রকল্পের বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার
প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকার আশা করছে।
২০০৫
সালে সই হওয়া দুই দেশের সমঝোতা স্মারক এবং চীনা পানি বিশেষজ্ঞদের গত বছরের বাংলাদেশ
সফরের প্রসঙ্গ টেনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।
বাংলাদেশের
নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীন সরকারের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রী লি কুওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা কাজে
লাগাতে পারে।
বাংলাদেশের
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং এ খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান
জানান চীনের এ মন্ত্রী।
বৈঠকে
উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী
এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র
বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী
আমিন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
মন্তব্য করুন


বিয়ের
আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকালে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন আহমেদ আনাস বাপ্পি
(২২)। শুক্রবার (২১) ছিল বৌভাতের আয়োজন। কিন্তু সেই আনন্দ আর স্থায়ী হলো না। গভীর রাতে
স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন আনাস। এতে বিয়ের রাতেই বিধবা
হলেন নববধূ সাইরা খাতুন (১৮)।
বৃহস্পতিবার
দিবাগত রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া
এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।
পরিবার
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাস ও সাইরা খাতুনের বিয়ে পড়ানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে আনাসের বাড়িতে তুলে আনা হয়। সাইরা উপজেলার
ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শুক্রবার দুপুরে নববধূকে
ঘিরে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এজন্য বাড়িতে অতিথিদের খাবারের স্থান ও প্যান্ডেল তৈরির
কাজ চলছিল রাত পর্যন্ত।
আনাসও
সেখানে উপস্থিত থেকে কাজের তদারকি করছিলেন। রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড
ফ্যান সরাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত
তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনাসের
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিয়ের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িতে
ছিল বিয়ের আনন্দ ও অতিথিদের কোলাহল, রাত পেরোতেই সেখানে শুরু হয় কান্না ও আহাজারি।
স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নববধূ সাইরা।
স্থানীয়
ইউপি সদস্য মিলন হোসেন বলেন, স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আনাসের মৃত্যু
হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে তার বিয়ে পড়ানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনা হয়।
শুক্রবার বৌভাতের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই এমন দুর্ঘটনায় সব আনন্দ মাটি হয়ে
গেছে।
দৌলতপুর
থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ সার্বিক পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য করুন


এলিট ফোর্স র্যাবের অতিরিক্ত
মহাপরিচালক (এডিজি, অপারেশনস) হলেন কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।
র্যাবের একাধিক সূত্র এ
তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেছে তিনি বর্তমান এডিজি মাহাবুব আলমের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
কর্নেল মোমেন বর্তমানে প্রতিরক্ষা
গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরে কর্মরত আছেন। আর মাহাবুব আলম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি
পেয়ে নিজ বাহিনীতে ফেরত যাচ্ছেন। এরপর তিনি গাজীপুরে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি
লি.-এ পরিচালক হিসেবে যোগ দিবেন।
এর আগেও র্যাবে বিভিন্ন
দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল্লাহ আল মোমেন। সর্বশেষ তিনি র্যাব-১ এর অধিনায়ক ছিলেন। দীর্ঘদিন
এ দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন তিনি। গত বছরের জুনে তিনি লে. কর্নেল থেকে পদোন্নতি
পেয়ে কর্নেল হন এবং নিজ বাহিনীতে ফিরে যান।
আব্দুল্লাহ আল মোমেন বিভিন্ন
সময়ে র্যাবে আরও কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেন। র্যাব-১২ অধিনায়ক, র্যাব-২ কোম্পানি
কমান্ডার এবং র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখায় উপপরিচালক হিসেবে কাজ করেন তিনি।
র্যাবে ভালো কাজের স্বীকৃতি
হিসেবে তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম) অর্জন
করেন।
আগামী বুধবার মোমেন তার দায়িত্ব
বুঝে নিতে পারেন।
র্যাব-১-এ দায়িত্ব পালনকালে
মোমেনের বেশ কটি অভিযান আলোচিত হয়। রাজধানীর উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একটি
অংশ কেনাবেচায় জড়িত গোলাম ফারুক নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করেন তিনি। ট্রান্সজেন্ডার
নারী বিউটি ব্লগার সাদ মুআ-কে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ফুয়াদ আমিন ইশতিয়াক
ওরফে সানিসহ তার দুই সহযোগীকে আটকও তার নেতৃত্বে হয়।
দেশের প্রথম ‘মাদক বিজ্ঞানী’ওনাইসী
সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদকে গুলশান থেকে আটক; মানব পাচার, করোনা সার্টিফিকেট নিয়ে বিদেশগামীদের
সঙ্গে প্রতারণা, সিকিউরিটি কোম্পানি খুলে প্রতারণা, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সহজের
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিমকে আটকসহ বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দেন র্যাব-১-এর
এই সাবেক অধিনায়ক।
এছাড়া অবৈধভাবে ভারতে কিডনি
কেনাবেচা চক্রের মূলহোতা শহিদুল ইসলাম মিঠুকে গ্রেফতার করেন মোমেন।
সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা
কিছুদিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশেও (বিজিবি) সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে
৪৬ বিজিবির অধিনায়ক থাকাকালে তিনি একজন সহকর্মীর (সৈনিক) জীবন বাঁচাতে নিজেই চালকের
আসনে বসে অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। অধিনায়ক হিসেবে সহকর্মীর প্রতি
এমন সহানুভূতিশীলতা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং বেশ প্রশংসিত হন তিনি।
জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল
মোমেন ১৯৯৭ সালে ৩৬ বিএম লং কোর্সে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। কর্মজীবনে
তিনি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন
করেন। শান্তিরক্ষা মিশনে লাইবেরিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোতে কাজ করেন এই সেনা কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় দুই যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শুয়াগাজী বাজারের নিকটবর্তী রাহাত পাম্পের পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত মদিনা পরিবহনের একটি বাস সামনে থাকা সিডিএম পরিবহনের একটি বাসের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় একজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুয়াগাজী এলাকায় দুই বাসের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চলছে।
মন্তব্য করুন


অবশেষে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন
একসময়ের আলোচিত ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম।
নিজের পদোন্নতির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে সারওয়ার আলম নিজেই জানিয়েছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, তিনবার বঞ্চিত
হওয়ার পর আজ উপসচিব পদে পদোন্নতি পেলাম। আলহামদুলিল্লাহ্। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর
যিনি সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।
২০২১ সালের ৭ মার্চ প্রশাসনের ৩৩৭ জন
সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয় সরকার। কিন্তু পদোন্নতিবঞ্চিত হন ২৭তম
বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের আলোচিত এ কর্মকর্তা।
বিসিএস ২৭তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডার
হিসেবে ২০০৮ সালের নভেম্বরে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন সারোয়ার আলম। ২০১৪ সালের ১ জুন
সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি। সে অনুযায়ী এ পদে প্রায় সাত বছরসহ মোট
১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসন ক্যাডার হিসেবে কর্মরত থাকলেও সেসময় পদোন্নতিবঞ্চিত
হন সারওয়ার আলম।
২০২২ সালে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার
কারণে তিরস্কার সূচক লঘুদণ্ডের শাস্তি পেয়েছিলেন সেসময়ের র্যাবের আলোচিত এ নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট। এর আগে ২০২১ সালের ৩০ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং তার কাছে
কৈফিয়ত তলব করা হয়। তবে সারওয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনে কোনো লিখিত বক্তব্য দেননি।
তার পদোন্নতি না পাওয়ার ঘটনাটি ওই সময়ের
বেশ আলোচিত বিষয় ছিল। তখন মো. সারওয়ার আলম বলেছিলেন, আমার পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি
বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে অনেক সরকারি কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা
অবাক হয়েছেন। তবে এটাই বাস্তবতা।
এদিকে আজ (মঙ্গলবার) সারোয়ার আলমসহ
উপসচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছেন ১১৭ কর্মকর্তা।
সারওয়ার আলম ২৭তম বিসিএসে ক্যাডার সার্ভিসে
যোগদান করেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়াশোনা শেষ
করেন। ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় সারওয়ার।
সৎ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত
পাওয়া সারওয়ার আলম র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র্যাব) যোগদানের পর থেকে সব সময়
আলোচিত ছিলেন। কর্মদক্ষতা আর নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে গেছেন বারংবার। ব্যক্তিস্বার্থ নয়,
বরং তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন দেশ ও জনগণের স্বার্থকে। স্বার্থান্বেষী মহল তার কাজে অসন্তুষ্ট
থাকলেও জনগণ তাকে অফুরান ভালোবাসা দিয়ে বরণ করে নিয়েছে।
১৯৮৩ সালে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় বাড়ির
পাশের ইসমাইল মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ১৯৯৩ সালে পাকুন্দিয়া পাইলট
উচ্চবিদ্যালয় (বর্তমান পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) থেকে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম
বিভাগ পেয়ে ভর্তি হয় কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে।
১৯৯৫ সালে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি
কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন প্রাণিবিদ্যা
বিভাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর
পাস করেন তিনি। সারওয়ার আলম ২০০৮ সালে ২৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন প্রশাসনে।
মন্তব্য করুন


জন্মনিবন্ধনে মা হিসেবে যার নাম, সমাজে পরিচয়ও যার মেয়ে হিসেবে। কোলে-পিঠে করে বড় করেছেন, নাম লিখিয়েছেন নামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, দিয়েছেন নিজের পরিবারের পরিচয়। কিন্তু ১৫ বছর পর সেই নারীই জানালেন—‘সে আমার মেয়ে নয়’। এরপর শুরু হয় এক কিশোরীর পরিচয় বদলের প্রক্রিয়া। বদলে যায় জন্মনিবন্ধন, সংশোধন হয় শিক্ষাগত নথি, প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে তার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।
অনুসন্ধানে
জানা গেছে, রাজশাহীর আলোচিত এ ঘটনার পেছনে রয়েছে দত্তক গ্রহণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব,
উত্তরাধিকার সম্পত্তি এবং আইনি জটিলতার এক বিস্ময়কর গল্প, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে
ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল (১৮) নামের এক তরুণীর পরিচয়ের লড়াই।
২০০৮
সালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়ে একটি শিশুর জন্মনিবন্ধন
করা হয়। সেই নিবন্ধনে শিশুটির নাম লেখা হয় ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল। মা হিসেবে উল্লেখ
করা হয় রাজশাহীর প্রখ্যাত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শিপ্রা চৌধুরীর নাম এবং বাবা হিসেবে লেখা
হয় তার স্বামী ডা. ওবায়দুর রহমানের নাম।
এরপর
থেকে পায়েলের পরিচয় ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তিনি ডা. শিপ্রা চৌধুরীর মেয়ে হিসেবেই পরিচিত
ছিলেন পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের কাছে। রাজশাহীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা,
অভিজাত পরিবেশে বেড়ে ওঠা, চিকিৎসক মায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ—
সব মিলিয়ে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মতোই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর।
কিন্তু
২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এসে সেই পরিচয়ের ভিত্তিটাই যেন ভেঙে পড়ে। পারিবারিক বিভিন্ন
টানাপোড়েনের এক পর্যায়ে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন পায়েল।
একসময় তাকে জানানো হয়, তিনি আসলে ডা. শিপ্রা চৌধুরীর গর্ভজাত সন্তান নন। বরং তিনি একজন
পালিত সন্তান। শুধু তাই নয়, তাকে আরও বলা হয়, তার প্রকৃত বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ
উপজেলায় এবং তার আসল বাবা একজন রাজমিস্ত্রি।
হঠাৎ
করেই এমন কথা শুনে নিজের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্নের মুখে পড়েন পায়েল। তিনি জাগো নিউজকে
বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে উনাদের কাছেই বড় হয়েছি। পরিবারের সদস্য বলতে তারাই ছিল আমার
সবকিছু। বাবা আলাদা থাকতেন, ভাইও দেশের বাইরে ছিলেন। ফলে আমার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু
ছিলেন মা। কিন্তু একসময় তার আচরণ বদলে যেতে থাকে। পরে তিনি আমাকে বলেন, আমি তার নিজের
মেয়ে নই, আমি পালিত সন্তান। কথাগুলো শুনে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ এতদিন যে
পরিচয়ে বড় হয়েছি, সেটাই যদি সত্য না হয় তাহলে আমি আসলে কে?’
পায়েলের
দাবি, ‘মৌখিকভাবে সম্পর্ক অস্বীকার করার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকেনি। এরপর তার জন্মনিবন্ধনসহ
বিভিন্ন নথিপত্রে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে তার জন্মনিবন্ধনের তথ্য
সংশোধন করা হয়। পাশাপাশি একাডেমিক কাগজপত্রেও পরিবর্তন আনা হয়। এমনকি ২০১০ সালে নিজের
মেয়ে পরিচয়ে পায়েলের নামে যে জমি দান করা হয়েছিল, সেটি ফেরত চেয়েও মামলা করা হয়।
পায়েল
বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক লাগে, যেসব নথি তারাই তৈরি করেছিলেন, সেগুলো কীভাবে পরিবর্তন করা
হলো আমি জানি না। আমার এনআইডি কার্ডে এক তথ্য, জন্মনিবন্ধনে আরেক তথ্য, শিক্ষাগত কাগজপত্রে
আবার ভিন্ন তথ্য। এসব কারণে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কলেজে ভর্তি হওয়ার
সময়ও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। আমার পড়াশোনার এক বছর নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো নানা জায়গায় পরিচয়
প্রমাণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ি।’
রাজশাহী
সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারির
দিকে ডা. শিপ্রা চৌধুরী তাদের অফিসে এসে দাবি করেন, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল তার নিজের
সন্তান নন। তখন তারা জানতে চান, যদি সন্তান না হন তাহলে জন্মনিবন্ধনের সময় কেন মা হিসেবে
স্বাক্ষর করেছিলেন?
তিনি
বলেন, ‘আমরা তাকে বলেছিলাম, আপনি যদি এখন বলেন মেয়েটি আপনার সন্তান নয়, তাহলে আগে যে
তথ্য দিয়েছেন সেটি তো বিভ্রান্তিকর। বিষয়টি আমাদের কাছেও অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শিপ্রা চৌধুরী সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি।
তবে
তার পুত্রবধূ শাম্মী এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আবেগের বশে এবং কাউকে না জানিয়ে
শাশুড়ি পায়েলকে নিজের মেয়ে পরিচয়ে জন্মনিবন্ধন করিয়েছিলেন। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে
এটি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হয়নি। দত্তক গ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্রও ছিল না।
জন্মনিবন্ধনে আমার শ্বশুরের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল অথচ তিনি বিষয়টি জানতেন না। পরে
ভুল বুঝতে পেরে শাশুড়ি নথিপত্র সংশোধনের উদ্যোগ নেন।’
এদিকে
গোপন সূত্রে জানা যায়, ক্লাউডিয়া চৌধুরী পায়েল একটি ছেলেকে ভালোবাসেন। তবে সেই ছেলেকে
পছন্দ নয় ডা. শিপ্রা চৌধুরীর। এজন্যই তিনি পায়েলের আসল পরিচয় বলে দেন।
ঘটনার
আরেকটি নাটকীয় দিক সামনে আসে নতুন জন্মনিবন্ধনে যুক্ত হওয়া মা-বাবার বক্তব্যে। সংশোধিত
নিবন্ধনে পায়েলের বাবা-মা হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুল মিয়া ও টগরী
বেগমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে
টগরী বেগম দাবি করেন, পায়েল তাদের জৈবিক সন্তান নন।
তিনি
বলেন, ‘এটি সত্য নয়। এলাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করলেই বিষয়টি জানতে পারবেন। আমাদের নাম
কীভাবে ব্যবহার করা হলো সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’
অন্যদিকে
বাবুল মিয়ার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় ডা. শিপ্রা চৌধুরী আমার
মেয়েকে নিয়ে যান। তখন বলা হয়েছিল ভবিষ্যতে যেন আমার কোনো দাবি না থাকে। একটি কাগজে
স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল মেয়েটি তাদের পরিচয়েই বড় হবে। এখন এত বছর পর কেন
তাকে অস্বীকার করা হচ্ছে, সেটি আমি বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহমানও একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি ছোটবেলায় ডা.
ম্যাডাম এসে বাচ্চাটি নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন বাবুলের পরিবারকে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে বাচ্চার
ওপর কোনো দাবি করা যাবে না। এমনকি দেখতে যেতেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। এখন হঠাৎ করে
পরিচয় অস্বীকার করার কারণ আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়।’
মোবারকপুর
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী বলেন, আমাদের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র
নেওয়া হয়েছিল। সেটি পরে কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে আমরা নিশ্চিত নই। তবে শুনেছি ওই
নথির ভিত্তিতেই জন্মনিবন্ধনের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। আমার জানামতে শিশুটিকে অনেকটা
স্থায়ীভাবেই অন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
আইনি
দৃষ্টিকোণ থেকে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে রাজশাহীর সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জমসেদ আলী
বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় পায়েল ডা. শিপ্রা চৌধুরীর ঔরসজাত সন্তান নন, তাহলে তিনি উত্তরাধিকার
আইনে ওয়ারিশ হবেন না। তবে দীর্ঘদিন একটি পরিচয়ে বড় করার পর সেই পরিচয় অস্বীকার করে
তার ক্ষতি করা হলে ক্ষতিপূরণ দাবি করার সুযোগ থাকতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মেয়েটি
আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।’
অনুসন্ধানে
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই পরিচয় পরিবর্তনের পেছনে উত্তরাধিকার সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক
বিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কেউই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা
বলতে নারাজ।
মন্তব্য করুন