

মুন্সীগঞ্জ
সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনে
একটি মসজিদ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে
ওই মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেছিলেন মুসল্লিরা। কিন্তু ফজরের নামাজ পড়তে এসে তারা দেখেন, মসজিদটির আর কোনো অস্তিত্ব
নেই।
পদ্মার
ভাঙনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায়
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে
সরেজমিনে এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে।
ভাঙন
ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আগে থেকেই বালুর বস্তা ফেলে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থার বড় একটি অংশও
ধসে গেছে। এরপরও ভাঙন ঠেকাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা
ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই রাকিরকান্দি
এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি পদ্মার গর্ভে চলে যায়।
মাদরাসার
ছাত্র সোহেল বলেন, ‘আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে
মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।’ স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদুর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে নদী গভীর হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে।
মাদানী
কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, ‘আমাদের এখানে ৫ বছর ধরে
নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে
যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়ি-ঘর, মসজিদ সব পদ্মায় বিলীন
হয়ে যাচ্ছে।’সদর উপজেলার পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকাতেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীর স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয়
মো. হোসেন লিটন খান বলেন, ‘আমরা এই এলাকার লোকজন
পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিলো,
সেটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হোক।’
স্থানীয়
জামাল বলেন, নদীটি আগে তুলনামূলক ছোট ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে
আশপাশের বহু বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এতে মানুষের জীবন ও বসতির নিরাপত্তা
অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এবার মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে।
এদিকে
রোববার বিকেলে ভাঙনকবলিত দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি
কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জের জেলা
প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা
বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকাতে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
জেলা
প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, ‘এই এলাকার ভাঙনরোধে
আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।’
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি
কামরুজ্জামান রতন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে রয়েছে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
মুন্সীগঞ্জ
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, পদ্মা
নদীতে পানির স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে পাউবো তাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের প্রচারণা ও মিছিল করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনার আলোকে মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে।
এতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুসারে কোনো নির্বাচনী এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরুর আগের ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন বা তাতে যোগদান না করার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি সকাল ৮টায়। এ হিসাবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ৯ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
পরিপত্রে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ভোটকেন্দ্রের ৪শত গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না।
মন্তব্য করুন


দেশে
২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭৩০
জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৫ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৫।
সোমবার
(২৭ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে
জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই
সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য
অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত
হয়েছে ১ হাজার ১০৫টি শিশু।
গত
১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ৭ হাজার ৬৫৪
রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র
পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৪৬৭ জন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ,
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রথম ধাপে ৪১৮ প্লাটুন
বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ মে) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা
মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল
ইসলাম জানান, বুধবার (৮ মে) অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ১ম ধাপে স্থানীয় বেসামরিক
প্রশাসনকে সহায়তায় দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি। ‘ইন এইড টু দ্য পাওয়ার’ এর আওতায় ৬ মে
থেকে ১০ মে পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে
তারা।
মন্তব্য করুন


চলমান বন্যায় দেশে ১১ জেলায়িই হয়েছে। এ ছাড়াও ৫৬ লাখ ৩৭৫ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে
চলমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এ তথ্য জানান।
ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, এখন
পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টিই আছে। ১১ জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা
৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৫ জন। পানিবন্দি পরিবার ১২ লাখ ৭ হাজার ৪২৯টি। এখন পর্যন্ত বন্যায়
মোট ২৭ জন মারা গেছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ১০ জন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে ৫ জন, খাগড়াছড়িতে
একজন, নোয়াখালীতে ৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন এবং কক্সবাজারে তিনজন
মারা গেছেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস শিক্ষার্থীদের নতুন
এক বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন
অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নতুন কিছু গড়ার সক্ষমতা রাখি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হয়।
সমাবর্তন ভাষণে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, আমরা চাইলে আমাদের মতো
করে এক নতুন বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি। তবে, তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই স্বপ্ন থাকা দরকার-
কেমন পরিবেশ ও সমাজ তারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় সেই সম্পর্কে।
গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পটভূমি স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা
বলেন, বর্তমানে যে সভ্যতা চলছে তা একটি ধ্বংসাত্মক অর্থনীতির সভ্যতা।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে অর্থনীতি তৈরি করেছি তা মানুষের জন্য নয়,
বরং ব্যবসার জন্য।’ তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসাকেন্দ্রিক
এই সভ্যতা আত্মঘাতী এবং তা টিকবে না।
অধ্যাপক ড. ইউনূস আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে
এসে আনন্দিত। তিনি স্মরণ করেন, ১৯৭২ সালে চবিতে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
তিনি ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ এবং কীভাবে গ্রামীণ ব্যাংক চট্টগ্রামে
দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের সহায়তা করতে গঠিত হয়েছিল তা তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম হয়েছিল চবির অর্থনীতি
বিভাগে।
অনুষ্ঠানে, চবি কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক ইউনূসকে ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে
দারিদ্র্য বিমোচন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য সম্মানসূচক
ডক্টরেট অব লিটারেচার (ডি লিট) উপাধিতে ভূষিত করে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহিয়া আখতার অধ্যাপক ইউনূসের
হাতে ডি লিট সনদ তুলে দেন।
সমাবর্তনে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং বিশ্ববিদ্যালয়
মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফয়েজসহ অন্যান্যরাও বক্তব্য রাখেন।
চবি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন
খান এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
চবি আজ দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সমাবর্তনের আয়োজন করে, যেখানে
২২,৫৮৬ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন


আজ
৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ২২ শ্রাবণ, বিশ্বকবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার
জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রবীন্দ্রনাথের
৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ
ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পরে
প্রকাশিত হয়। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান
গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনে
অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথের
প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত
রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র
রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি।
দেবেন্দ্রনাথ
ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী
দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন ১৪তম। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখে কলকাতার
জোড়াসাঁকোর ঐতিহ্যবাহী ঠাকুর পরিবারে তার জন্ম। বাংলার প্রকৃতি, নদী ও সাধারণ মানুষের
জীবনযাত্রা তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
তার
রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। সব মিলিয়েই রবীন্দ্রনাথ
ঠাকুর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাঙালির
হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন।
প্রয়াণবার্ষিকী
উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে গীতিনাট্য ‘শ্যামা’ মঞ্চস্থ করবে জাতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের মূল কথাই ছিল সংস্কার। তার সরকার নির্বাচনের আগে সেই সংস্কার করতে বদ্ধপরিকর।
আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাই’। তার সরকার দুর্নীতি দমন করেছে, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে বিনিয়োগ সহজ করেছে এবং শ্রম আইনের বিষয়ে আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত উইকস জানান, সুইডেনের সরকার ইউনূস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং পুলিশের সংস্কার, বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন পুনর্গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করে।
নিকেলাসউ উইকস বলেন, 'আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই পরিবর্তনকালে আমাদের পূর্ণ সমর্থন আপনার সঙ্গে রয়েছে।'
বৈঠককালে তারা জুলাই-আগস্ট বিপ্লব, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, বাংলাদেশের সুইডিশ বিনিয়োগ এবং গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়েছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, বিশেষ করে সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর উচ্চ প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে। 'দাবিদাওয়া মেটানো একটি বড় কাজ। আমরা চেষ্টা করছি, তবে খুব সতর্কও রয়েছি,' তিনি বলেন।
এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শাহীনা গাজী।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজার
বিমানবন্দরে পাচারকালে ১০ হাজার ইয়াবাসহ যাত্রীবেশী এক নারীকে আটক করেছে বিমানবন্দরের
কর্মিরা।
রোববার
( ২১ জুন ) সকালে বিমানবন্দরে ঢাকাগামী যাত্রীদের ব্যাগসহ অন্যান্য মালামাল তল্লাশীর
সময় ওই যাত্রীর ব্যাগে ইয়াবা পাওয়া যায় বলে জানান, বিমানবন্দরটির ম্যানেজার মোহাম্মদ
গোলাম মুর্তুজা।
আটক
নারী জেসমিন আক্তার (৩৭) চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়নহাট এলাকার মৃত হারুন
মিয়ার মেয়ে।
বিমানবন্দর
কর্মিদের বরাতে গোলাম মুর্তুজা বলেন, সকালে কক্সবাজার থেকে নভোএয়ারের ঢাকাগামী প্রথম
ফ্লাইট (VQ-922) এর এক নারী যাত্রী বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর হোল্ড লাগেজ স্ক্যানিং
করা হচ্ছিল। এসময় বিমানবন্দর স্ক্যানিংয়ের দায়িত্বরত কর্মিরা লাগেজটিতে সন্দেহজনক বস্তুর
উপস্থিতির সংকেত পান। পরে যাত্রীর ল্যাপটপ ব্যাগের দুই পাশের শকপ্রুফ ফোমের ভেতরে বিশেষ
কৌশলে সেলাই করে রাখা সন্দেহজনক বস্তুগুলোর প্যাকেট বের করা হয়।
“ পরে ব্যাগের ভিতর থেকে বের করা প্যাকেটগুলো
খুলে পাওয়া যায় ৯ হাজার ৮২৫ টি ইয়াবা। এসময় ঘটনাস্থলেই ব্যাগটি বহনকারি ওই নারী যাত্রীকে
আটক করা হয়। “
উদ্ধার
করা ইয়াবাসহ আটক নারীকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে
বলে জানান বিমানবন্দরের এ ম্যানেজার।
মন্তব্য করুন


পঞ্চম
দিনের মতো রাঙামাটিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাঘাইছড়িতে কাচালং নদীর পানি বৃদ্ধি
পেয়ে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে ৩০টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি
হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
বাঘাইছড়ি
পৌর এলাকার মধ্যমপাড়া, মাস্টারপাড়া, মুসলিম ব্লক, হাজীপাড়া, এফ ব্লক ও পূর্ব লাইল্যাঘোনা
এলাকা পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া সাজেক, মারিশ্যা, বঙ্গলতলী, রূপকারী, খেদারমারা,
বাঘাইছড়ি, সারোয়াতলী ও আমতলী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
জেলা
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং
বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জেলায় ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে জেলার ৪৪টি
আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলাতেই প্রায়
আড়াই হাজার পানিবন্দি মানুষ রয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ
করা হচ্ছে।
এদিকে
জেলায় এ পর্যন্ত ৯৭টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম
সড়কের সাপছড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের মাটি সড়কে পড়ে যাওয়ায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ
ছিল।
অন্যদিকে,
সাজেকে ঘুরতে যাওয়া পাঁচ শতাধিক পর্যটক দ্বিতীয় দিনের মতো সেখানে আটকা পড়েছেন। দীঘিনালা-সাজেক
সড়কের পাঁচটি স্থানে পানি উঠে যাওয়ায় তারা সাজেক ত্যাগ করতে পারছেন না।
এছাড়া
দ্বিতীয় দিনের মতো জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
কাপ্তাইয়ে
আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের মধ্যে বিজিবি জোনের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করেন জোন কমান্ডার
লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী।
এদিকে
পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন
করেন। এ সময় তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


ভারী
বৃষ্টিপাত ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার
ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার
(১৩ জুন) সকাল ৯টায় শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালি নদীর পানি
বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সোমেশ্বরী ও মহারশি নদীর পানিও
বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।
অন্যদিকে
ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং নালিতাবাড়ী
পয়েন্টে ৩২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে
পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঝিনাইগাতী সদর বাজারে পানি ঢুকেছে এবং ক্রমান্বয়ে পানি
বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার
বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢল বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে
বর্ডার রোডসহ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।
গত
২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে
নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার এবং শেরপুর পয়েন্টে
৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এছাড়া
মহারশি নদীর বিভিন্ন স্থানে পানি বাঁধ ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও কোথাও বাঁধের
পাশে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ
বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, বৃষ্টিপাত
কমে গেলে ঢলের পানি নেমে যাবে। এখন পর্যন্ত বাঁধ ভাঙার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে
বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণ করছি এবং কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন