

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নূর জাহান। মৃত্যুর সময় তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আজ বুধবার ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার গর্ভে থাকা অনাগত শিশুটিও মারা গেছে।
নূর জাহান ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামীর নাম জোবায়ের হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোছাগাড়া গ্রামে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে নূর জাহানের বিয়ে হয়। নূর জাহান ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার স্বামী জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘আগামী মাসে আমাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কথা ছিল। গত শুক্রবার আমার স্ত্রীর সামান্য জ্বর আসে। পরে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে কুমিল্লায় চিকিৎসায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। তাই তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে তার মৃত্যু হয়।’
এদিকে নূর জাহানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষসহ বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ভূঞা বলেন, আমাদের প্রিয় ছাত্রী নূর জাহান অত্যন্ত ভদ্র মেয়ে ছিলেন। লেখাপড়ার বাইরেও বিভাগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করতেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত। আজ বাদ জোহর গ্রামের বাড়িতে জানাজায় কলেজের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাসার ভুইয়া বলেন, একজন মেধাবী ছাত্রীর এ অকালমৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক। আমরা কলেজ পরিবার এ ছাত্রীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


জাপানের
বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয়ের পর স্বভাবসুলভ শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী দেখা গেল
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পরও ম্যাচে ফিরে আসার ব্যাপারে
তার মনে কোনো সন্দেহ ছিল না জানিয়েছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। সঙ্গে প্রতিপক্ষের
জন্য ব্রাজিল বসের প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা—তার দল দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
ম্যাচের
অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট জাপানি গোলরক্ষক জিওন সুজুকিকে
পরাস্ত করে জালে জড়ালে উল্লাসে মেতে ওঠে ব্রাজিল শিবির, আর তাতেই ভেঙে যায় জাপানি সমর্থকদের
হৃদয়। এই জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের রাউন্ড অব ৩২-র বাধা টপকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল
সেলেসাওরা।
ম্যাচ
শেষে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতিতে আমি খেলোয়াড়দের ধৈর্য ধরতে
বলেছিলাম, কারণ আমি জানতাম আজ হোক বা কাল আমরা গোল পাবই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ছিল আমাদের খেলার গঠন ও কৌশল বজায় রাখা। আমরা জানি আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি এবং আমাদের
এই ধারা বজায় রাখতে হবে।’
ম্যাচের
প্রথমার্ধে কাইশু সানোর গোলে লিড নিয়েছিল জাপান। বিপরীতে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স এতটাই
অগোছালো ছিল যে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকে তাদের বিদায়
নেওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বের হয় রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধের
প্রথমে ক্যাসেমিরো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর অন্তিম মুহূর্তে মার্তিনেল্লির সেই
জয়সূচক গোল। ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর এই প্রথম বিশ্বকাপের
কোনো নকআউট ম্যাচে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল।
নিজেদের
রণকৌশল নিয়ে আনচেলত্তির ব্যাখ্যা, ‘শুরুতে আমরা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষের
রক্ষণভাগে ঢোকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ওদের মার্কিং খুব শক্ত থাকায় তা কাজ করেনি।
তাই বিরতির পর আমরা বক্সে ক্রস বাড়িয়ে আক্রমণ করার কৌশল নিই। এটি আমাদের খেলার একটি
ইতিবাচক বিবর্তন। শুরুতে জায়গা পেতে কষ্ট হলেও পরে আমরা সমস্যাটির দারুণ সমাধান করতে
পেরেছি।’
ম্যাচে
আরও একটি চমক জমিয়ে রেখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান বস। তিনি জানান, ‘আমি নেইমারকে বলে রেখেছিলাম,
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা সমতায় ফিরতে না পারলে আমি তাকে মাঠে নামাব।’ তবে আপাতত ৩৪ বছর বয়সি এই তারকার বিশ্বকাপ যাত্রা
কেবল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলা ১৫ মিনিটেই সীমাবদ্ধ
রইল।
প্রথমার্ধে
জাপানের আধিপত্যের কথা মেনে নিলেও, আনচেলত্তির মতে এটিই ছিল গ্রুপ পর্বের যেকোনো ম্যাচের
চেয়ে ব্রাজিলের সেরা পারফরম্যান্স। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের খেলা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে
পরিপূর্ণ ম্যাচ। মরক্কোর বিরুদ্ধে ড্র হওয়া ম্যাচটির মতো এবার আমরা প্রথমার্ধে খেই
হারিয়ে ফেলিনি। ফুটবলে আপনাকে ভুগতে হবেই, এটাই নিয়ম। এতে নতুন কিছু নেই। কষ্ট সহ্য
করা যেমন খেলার অংশ, তেমনি স্বস্তি পাওয়াটাও এর অংশ।’
এদিকে ম্যাচ হেরেও আত্মবিশ্বাসী জাপানের হেড কোচ হাজিমে মোরিয়াসু।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা-২০২৪ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গত বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, বিএসপি, এসইউপি, এনডিসি, পিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
গত ১৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ হতে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সেনা অঞ্চলের মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশন দল চ্যাম্পিয়ন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশন দল রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশন এর কর্পোরাল মোঃ সোলাইমান তনু শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় এবং ১১ পদাতিক ডিভিশন এর এনসি (ই) রবিন চন্দ্র দাস শ্রেষ্ঠ নবীন খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সকল অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যামের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা, খেলাধুলার মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় সুলভ মনোভাবের বিকাশ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরো মজবুত হবে।
মন্তব্য করুন


সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান
আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ফাঁসির আসামিকে নিয়ে রায় দিয়েছেন
যেখানে বলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে কোনো ফাঁসির আসামিকে কনডেম সেলে
নেয়া যাবেনা ।
রুল শুনানিতে আদালত এ বিষয়ে
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও এস এম শাহজাহান বিশেষজ্ঞ মত নেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি
জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শুনানি করেন। আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ শিশির
মনির। রুল শুনানি শেষে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত
হওয়ার আগে দণ্ডিত বা দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ২
সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা কারাগারের কনডেম সেলের
তিন কয়েদি। তারা হলেন- সাতকানিয়ার জিল্লুর রহমান, সুনামগঞ্জের আব্দুল বশির ও খাগড়াছড়ির
শাহ আলম। ওই রিট শুনানি করে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার
আগে দণ্ডিতদের কনডেম সেলে রাখা কেন আইনত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ
প্রাপ্তদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা সংক্রান্ত কারাবিধির ৯৮০বিধিটি কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা
করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সেই সঙ্গে কনডেম সেলে রাখা বন্দিদের কী ধরনের
সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রতিবেদন চান আদালত।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা
অনুসারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির
৪১০ ধারা অনুসারে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামি হাইকোর্টে
আপিল করার সুযোগ পান। হাইকোর্ট বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল
বিভাগে আবেদন করতে পারেন।
আপিল বিভাগের রায়েও মৃত্যুদণ্ড
বহাল থাকলে সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা)
আবেদন করার সুযোগ আছে। এ ছাড়া সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৃত্যু-দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি
রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। ক্ষমার এই আবেদন রাষ্ট্রপতি যদি নামঞ্জুর
করেন অথবা দণ্ডিত যদি আবেদন না করেন তাহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারে সরকার।
অথচ বিচারিক আদালতে মৃত্যু দণ্ডাদেশের পরপরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কনডেম সেলে বন্দী
রাখা হচ্ছে।
রিটকারী আইনজীবী মোহাম্মদ
শিশির মনির বলেন, বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক সাজা কার্যকর করার
আইনগত বিধান নেই। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন
নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের
১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এসব প্রক্রিয়া
শেষ করতে ১০-১২ বছর পার হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার
পরই সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নির্জন কনডেম সেলে বন্দী রাখা হয়। অথচ অনেকের পরবর্তীতে
সাজা কমে। অনেকে খালাসও পান। রুল শুনানি শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।
মন্তব্য করুন


রোববার (৩১ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে একটি সার্কুলার জারি করে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে।
আগামী শুক্র, শনি ও রোববার (৫, ৬ ও ৭ এপ্রিল) ৩দিন ব্যাংক খোলা থাকবে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কারখানার কর্মীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার সুবিধার্থে পোশাকশিল্প এলাকায় । তবে পূর্ণ দিবসের বদলে ওই তিনদিন সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোতে নির্ধারিত সময়ে লেনদেন চলবে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী/কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও রপ্তানি বিল ক্রয়ের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ঈদের আগের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ৫, ৬ ও ৭ এপ্রিল সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে।
এলাকাগুলো হলো—ঢাকা মহানগরী, সাভার, ভালুকা, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম। এসব এলাকার তফসিলি ব্যাংকের তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ছুটির দিন সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত শাখার অফিস সময়সূচি হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এর মধ্যে ৫ এপ্রিল (শুক্রবার) লেনদেন হবে সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এবং অফিস চলবে ৩টা পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। লোকসান কমাতে কৃষকরা কোমর সমান পানিতে নেমে যতটুকু সম্ভব অপরিপক্ব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন।
ভান্তি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল হক বলেন, প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছিলেন। হঠাৎ গোমতীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তার পুরো ক্ষেত এখন পানির নিচে।
আরেক কৃষক আবদুল জলিল বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে ভেসে গেছে। তাদের মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও আশপাশের এলাকার অন্তত শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক সোহেল মিয়া বলেন, লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক, চালকুমড়া, মূলাসহ বিভিন্ন সবজি পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব উদ্ধার করে বাজারে বিক্রির চেষ্টা করছেন তারা। তবে বাজারে অপরিপক্ব সবজির সঠিক দাম না পাওয়ায় লাখ লাখ টাকার ফসল ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আমি নিজেও মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছি। মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জরিপ করা হচ্ছে; তা শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে
বৈঠকে করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস। বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’জানিয়েছেন জো বাইডেন।
মঙ্গলবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতিসংঘের
সদর দপ্তরের নির্ধারিত সভা কক্ষে বৈঠকটি হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ভেরিফায়েড
ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারকে
‘পূর্ণ সমর্থন’
জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের
ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৈঠকে ড. ইউনূস বিগত সরকারের আমলে সকল
ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাহসী ভূমিকা ও বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ
অবদানের কথা জো বাইডেনকে জানান।
অধ্যাপক ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, দেশ
পুনর্গঠনে তার সরকারকে অবশ্যই সফল হতে হবে। এসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেকোনো
সাহায্যে বাংলাদেশ সরকারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম
অধিবেশনে যোগ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় তাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব
অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূসকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৯তম অধিবেশনে যোগদান করায় শুভেচ্ছা জানিয়েছে
জাতিসংঘ। প্রধান উপদেষ্টা এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ সফর করছেন যখন বাংলাদেশ জাতিসংঘের
সদস্য পদ লাভের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে
(সাবেক টুইটার) শেয়ার করা ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুইন লুইস এক বার্তায় বলেন,
এ বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। প্রধান উপদেষ্টা
ড. ইউনূস সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ায় আমার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু
হওয়ার পর ভাষণ দেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বব্যাপী এমন এক
চ্যাঞ্জেলের মুখে রয়েছি যা আগে কখনো দেখিনি। বৈশ্বিকভাবেই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে
হবে। যুদ্ধ বেড়েই চলছে এবং তা শেষ হওয়ার কোনো উপায় দেখছি না।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া জাতিসংঘের ৭৯তম
সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা এমন এক সময় জড়ো হচ্ছেন, যখন ইউরোপ, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে
সংঘাত বেড়েই চলেছে। এ ছাড়া রয়েছে গাজা যুদ্ধ এবং ইউক্রেন ও সুদানে সংঘাত। আশা করা হচ্ছে
এ অধিবেশনে বিশ্বনেতারা যুদ্ধ বন্ধে তাদের কণ্ঠ জোরালো করবেন।
জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো
বাইডেন মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। জাতিসংঘে এটি তার চতুর্থ এবং
শেষ ভাষণ। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ ভাষণে বাইডেন বর্তমান বৈশ্বিক সংকট তুলে ধরবেন।
ইউএনজিএতে অংশগ্রহণ উপলক্ষে ড. ইউনূস
এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান হিসেবে এটি ড. ইউনূসের প্রথম
যুক্তরাষ্ট্র সফর।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন চার উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন চার উপদেষ্টার শপথ গ্রহণ শেষে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
নতুন উপদেষ্টাদের দপ্তর বন্টনসহ হলো বর্তমান উপদেষ্টাদের দপ্তর দায়িত্বেও পুন:বন্টন ।
নতুন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন লে. জে. জাহাংগীর আলম চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।
সরকার পদত্যাগের পর সারাদেশে বিভিন্ন থানায় হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ
জনতা। থানা ও ফাঁড়িতে হামলার পর অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। গত ৪ সেপ্টেম্বর
থেকে লুট ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে যৌথবাহিনী। আর এ অভিযানে এখন পর্যন্ত
বিভিন্ন ধরণের ১১১ টি অস্ত্র উদ্ধার ও ৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে
এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের
মধ্যে একে-৪৭ একটি, রিভলবার ৭টি, পিস্তল ৩০টি, রাইফেল ৯টি, শটগান ১৫টি, পাইপগান ৩টি,
শুটারগান ১৬টি, এলজি ১৫টি, বন্দুক ৫টি, গ্যাসগান একটি, চাইনিজ রাইফেল একটি, এয়ারগান
একটি, এসবিবিএল ৩টি, এসএমজি ৩টি ও একটি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার রয়েছে।
উল্লেখ্য, যৌথ অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,
পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী,
কোস্টগার্ড এবং র্যাব রয়েছে।
মন্তব্য করুন


জামাল
উদ্দিন (৪৯) নামে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে রাতের আঁধারে রাস্তার পাশে ফেলে গেছেন স্ত্রী
ও সন্তানেরা। যে স্ত্রী-সন্তানের সুখের জন্য পরিবার ছেড়ে দীর্ঘ ১২ বছর মাথার ঘাম পায়ে
ফেলে প্রবাসে কাটিয়েছেন, সেই স্ত্রী-সন্তানেরাই গত শনিবার (১ আগস্ট) রাতে তাকে রাস্তার
পাশে ফেলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার
দিবাগত রাতে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালমেঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে রোববার দিনের
বেলায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি সবার নজরে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
করেছে।
জানা
যায়, ওই ব্যক্তির নাম জামাল উদ্দিন (৪৯)। তিনি কালমেঘা গ্রামের ফজর আলীর ছেলে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, ২৫ বছর আগে তিনি নিজ গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাশবাড়ি
দক্ষিণ পাড়া, ইয়ার উদ্দিন মোড় এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে জীবিকার
তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান এবং সেখানে প্রায় ১২ বছর কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়দের
দাবি, প্রবাসজীবনে উপার্জিত টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। কয়েক বছর আগে কিডনি
জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় আট মাস আগে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে
ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসা ও দেখভাল নিয়ে পরিবারে অবহেলার অভিযোগ
ওঠে।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, শনিবার গভীর রাতে জামাল উদ্দিনকে তার পৈতৃক ভিটার পাশের সড়কে ফেলে রেখে যান
তার স্ত্রী রিনা আক্তার ও সন্তানেরা। পরে রাতে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মানবেতর অবস্থায়
পড়েন। পরবর্তীতে কালমেঘা গ্রামের উত্তর-পূর্ব পাড়ায় তার ভাতিজি ইসমতারার বাড়িতে আশ্রয়
দেওয়া হয়।
এ
বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশাররফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি
জানার পর স্থানীয়রা এগিয়ে এসে জামাল উদ্দিনকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন।
জামাল
উদ্দিনের বড় ভাই সোহরাব আলী সোমবার বিকেলে বলেন, আমার ভাইকে আমি অনেক আগেই সাবধান
করেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না যেতে। কিন্তু সে এলাকার কারও কথা শোনেনি। আজ শুনতে পেলাম,
তার স্ত্রী-সন্তানেরা অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। এর চাইতে পৃথিবীতে
আর কষ্টের জীবন কী হতে পারে? ছোট ভাই জামাল খুবই অসুস্থ, কোনো কথা বলতে পারে
না।
স্থানীয়রা
অসুস্থ জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
জানিয়েছেন।
এদিকে
অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, আমার স্বামীকে আমি কয়েক মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি।
তার সঙ্গে এখন আর আমার কোনো সম্পর্ক নেই। রাতের বেলায় তিনি কীভাবে ওই এলাকায় পৌঁছালেন,
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
ঘটনার
বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) আশরাফুল আলম জানান, ইতোমধ্যে উপজেলা
সমাজসেবা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নাটোরের
বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়ারী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটাপাড়া গ্রামে বান্ধবীর বাড়িতে আসে
এক কথিত চীনা নাগরিক। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বর মর্যাদা দেন স্কুলছাত্রী
সাদিয়া। মেয়ের বিদেশি বন্ধুকে বাড়িতে থাকতে দেন সাদিয়ার বাবা কৃষক সাদ্দাম হোসেন।
কথিত
ওই চীনা নাগরিক নিজেকে সুবেজ নামে পরিচয় দেন। নিয়ে আসেন সাদিয়ার জন্য উপহারও। সাদিয়ার
স্বজন ও প্রতিবেশীরাও অত্যন্ত আন্তরিকতায় গ্রহণ করেন তাকে। সরল বিশ্বাসে সাধ্যমতো চলে
কথিত ওই বিদেশির আদর-আপ্যায়ন।
তার
আগমনের কথা প্রচার হলে সেই বাড়িতে জমায়েত হন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে ছুটে যান সংবাদকর্মীরাও।
কিন্তু সংবাদকর্মীদের দেখে ক্ষুব্ধ হন কথিত ওই চীনা নাগরিক।
তিনি
সাদিয়াকে জানান, সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন না। সংবাদকর্মীরা চাইলে তিনি পাসপোর্ট
দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি সন্দেহ হলে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ওই নাগরিকের ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। তার ছবিসহ সংবাদও প্রকাশ হয়।
আর এতেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
স্থানীয়রা
জানান, বৃহস্পতিবার কথিত ওই চীনা নাগরিক আসার পর শনিবার রাতে ওই বাড়িতে ঢাকা থেকে আসেন
সামিলা নামে এক তরুণী।
সামিলা
জানান, ওই ব্যক্তি তার স্বামী। কিছুদিন আগে একইভাবে তার সঙ্গেও পরিচয় হলে সুবেজ ঢাকায়
এসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর কয়েকদিন থেকে তাকে কিছু না জানিয়েই সুবেজ নিজ দেশে ফিরে
যায়। এরপর সুবেজ তাকে জানান, তার হাতে টাকা না থাকায় তিনি আসতে পারছেন না। অথচ এখন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে তিনি এখানে চলে এসেছেন, তাই আমি এখানে এসেছি।
বিষয়টি
জানাজানি হওয়ার পর রোববার ভোরেই সামিলাসহ ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান কথিত ওই চীনা নাগরিক।
ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অল্পের জন্য প্রতারণার হাত থেকে
বাঁচল স্কুলছাত্রী সাদিয়া। নাটোর মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সাধারণ
সম্পাদক জাহানারা বিউটি জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে হঠাৎ কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ
নয়।
মন্তব্য করুন