

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
কুমিল্লা সদর গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯১৩৫ পিছ ইয়াবার এক মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।
শনিবার (১৬মে) রাতে জেলার সদর উপজেলার গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রাকিব হোসেন (২০) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার গাজীপুর গ্রামের নূর আলম এর ছেলে।
র্যাব সুত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার সদর উপজেলার গাজীপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে| উক্ত অভিযানে মোঃ রাকিব হোসেন নামে ১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আসামীর হেফাজত হতে ৯১৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়|
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক সাদমান ইবনে আলম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে| র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়| মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে রবিবার সকালে থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


মাগুরা
সদর উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কোদালিয়া শ্রীরামপুর গ্রামে কাকা-ভাতিজার সংঘর্ষে ইটের
আঘাতে আরব আলী সত্তর নামে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আরব আলী ওই এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।
সোমবার
(১৫ জুন) বিকালে শ্রীরামপুর উত্তরপাড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক
বিষয় নিয়ে কাকা ও ভাতিজার মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময়
উভয়পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। প্রতিবেশী ইয়াকুব সংঘর্ষ দেখতে
এসে ইটের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুরুতর
আহত অবস্থায় তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রিন্স
মজুমদার মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির পাশে কাকা-ভাতিজার
মধ্যে মারামারি চলছিল।
ঘটনাস্থলে
প্রতিবেশী ইয়াকুব গেলে ইটের আঘাতে নিহত হন। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ
(ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি।
মন্তব্য করুন


প্রায়
৩৮ বছর আগে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা জাবেদ
আলী অবশেষে ফিরে এসেছেন নিজের গ্রামে। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর তার আকস্মিক প্রত্যাবর্তনে
পরিবার ও এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে আলোড়ন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, বামন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাবেদ আলী প্রায় চার দশক আগে পারিবারিক
অভিমানের জেরে বাড়ি ছাড়েন। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। দীর্ঘ সময়
ধরে খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনরা একপর্যায়ে ধরে নিয়েছিলেন তিনি আর
বেঁচে নেই।
গত
সোমবার হঠাৎ নিজ গ্রামে ফিরে আসেন ৭০ বছর বয়সী জাবেদ আলী। তবে তিনি সরাসরি নিজের বাড়িতে
না উঠে বড় ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান নেন। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের সঙ্গে
দেখা হলেও তাদের মধ্যে কোনো কথোপকথন হয়নি।
জাবেদ
আলী জানান, বাড়ি ছাড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে শেষ পর্যন্ত মানিকগঞ্জে স্থায়ী
হন। সেখানে জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। দ্বিতীয় সংসারও গড়েছিলেন, তবে তার দ্বিতীয় স্ত্রী
কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে সেখানে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
তিনি
বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়া না জানা এবং যোগাযোগের মাধ্যমের
অভাবে তা সম্ভব হয়নি। আর্থিক ও ব্যক্তিগত নানা কারণে এতদিন বাড়ি ফেরা হয়নি বলেও জানান
তিনি।
অন্যদিকে,
স্ত্রী রুশিয়া খাতুন বলেন, স্বামী চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ বছর একাই সন্তানদের লালন-পালন
করেছেন। এই সময়ে তিনি কোনো খোঁজখবর বা আর্থিক সহায়তা পাননি। তাই পারিবারিক ও আর্থিক
বিষয়গুলোর সমাধান ছাড়া তাকে গ্রহণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে
জাবেদ আলীর ফিরে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা
জানিয়েছেন, পরিবারের মধ্যে বিদ্যমান জটিলতা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সবাই আশা করছেন, দীর্ঘদিনের বিচ্ছেদ শেষে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নতুন করে সম্পর্কের
বন্ধন গড়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন


ভোলার
চরফ্যাশনের শশীভূষণে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জলিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তির লাশ
দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে দুই স্থানে
দুইবার কবর খুঁড়ে দাফন করতে পারেনি।
এ
নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
হয়। শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার
সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় ৪টি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার
দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
সন্তানদের
অভিযোগ, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে
যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরেই লাশ দাফনে বাধা দেন সন্তানরা। পরে বাধ্য হয়ে
পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ
স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পুনরায় বাধা দেন।
এ
ছাড়া লাশ আঙিনায় রেখে ভাই-বোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর
পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব
হয়নি। পুলিশের সামনেই কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত
করার চেষ্টা করে সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজা
শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানায়, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ ওই বাড়িতে।
এক
পর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি
এবং মারধর বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শশীভূষণ
থানা পুলিশকে খরব দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি
ও স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে শান্ত করে দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে জলিলের
লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে একজন মৃত
ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই
এমন ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন


কুষ্টিয়ার
কুমারখালীতে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) মক্তব থেকে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের
ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী নারী ও
শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলা করেন। মামলায় এক কিশোরকে (১৬) আসামি করা হয়। সে চলতি
বছর একটি মাদ্রাসা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এর আগে, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার
দিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ,
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়ির পাশে একটি মক্তব পড়তে গিয়েছিল।
সেখানে অভিযুক্ত কিশোরের ছোট বোনও পড়ে। রোববার সকালে ভারী বৃষ্টির কারণে পড়া শেষ হলেও
তারা মসজিদেই অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোর ছাতা নিয়ে তার ছোট বোনকে বাড়িতে
নিয়ে আসে। এরপর সে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে নিয়ে রওনা হয়। তবে
তাকে বাড়িতে না নিয়ে মক্তবের পাশের একটি জরাজীর্ণ টিনশেডের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময়
এক পথচারী ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে ঘরে গেলে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়।
স্থানীয়
মাতব্বর প্রথমে বিষয়টি বিয়ের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগীর
বাবা জানতে পেরে বিকেলে থানায় যান এবং লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ ভুক্তভোগীকে হেফাজতে
নিয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠায় এবং রাত ১০টার দিকে
মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
এদিকে
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কিশোর পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মা অসুস্থ
থাকায় কথা বলতে রাজি হননি।
কুমারখালী
থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার
অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন




রমজান
মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্কুল খোলা
রাখার ব্যাপারে আগের জারি করা প্রজ্ঞাপনও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের
করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজ এ আদেশ দেন।
রবিবার
(১০ মার্চ) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ
আদেশ দেন।
এর
আগে রমজানের প্রথম ১৫ দিন মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল এবং প্রথম দশ দিন প্রাথমিক
স্কুল চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রমজানের
প্রথম ১০ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ক্লাস চলবে। জোহরের নামাজের জন্য
সোয়া একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে।
অন্যদিকে
রমজান উপলক্ষ্যে ৭ মার্চ থেকে সারা দেশের সব মাদরাসা ছুটি শুরুর কথা ছিল। তবে স্কুল-কলেজে
ছুটি ঘোষণার পর মাদরাসার ছুটির তালিকাও সংশোধন করে সরকার। এতে ১৫ দিন ছুটি কমানো হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদরাসায় ক্লাস-পরীক্ষা ২১ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়।
দেশের তিনটি সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল
মাদ্রাসায় শ্রেণি কার্যক্রমও চলবে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত,
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১১ বা ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে।
মন্তব্য করুন


চাঁপাইনবাবগঞ্জ
পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ায় ছাত্রীর বাড়ি থেকে মরিয়ম বেগম (৫৫)নামে এক গৃহ শিক্ষিকার
বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার
(১৯ মে) সকালে জাতীয় জরুরিসেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ
সময় তার মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন এবং কানের দুল ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের
পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত মরিয়ম স্থানীয়ভাবে গৃহশিক্ষিকা
হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সোমবার (১৮ মে) দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
মরিয়ম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উজ্জ্বলপাড়ার মোসাদ্দেক হোসেনের স্ত্রী। এসপি গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে মরিয়ম
বেগম চৌকাপাড়ার মো. রুবেল ও সুমি খাতুনের বাড়িতে যান তাদের দুই সন্তানকে প্রাইভেট পড়াতে।
এরপর
আর বাড়ি ফিরে আসেননি। রাতেই মরিয়মের এক সন্তান সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)
করেন। মঙ্গলবার সকালে জরুরিসেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ রুবেল ও সুমি দম্পতির বাড়ি থেকে
মরিয়মের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।
তিনি
আরও জানান, ৯৯৯-এ কল করেছিলেন রুবেল নিজেই। তবে লাশটি সেখানে পাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য রুবেল ও সুমিকে আটক করেছে পুলিশ।। তবে তাদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা
করা হচ্ছে, স্বর্ণের কানের দুলের জন্য মরিয়মকে হত্যা করা হয়েছে। রুবেল ও সুমির দেওয়া
তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একজন স্বর্ণকারের কাছ থেকে মরিয়মের স্বর্ণের দুটি দুল উদ্ধার
করেছে। গতকাল ওই স্বর্ণকারের কাছে দুল দুটি বিক্রি করেছিলেন সুমি। পুলিশ ওই স্বর্ণকারকেও
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মরিয়মের
ছেলে মারুফ হোসেন বনি বলেন, সোমবার রাতেও মাকে খুঁজে না পেয়ে রুবেলের বাড়ি গিয়েছিলাম।
কিন্তু সে সময় তারা জানান যে প্রাইভেট পড়ানো শেষে তার মা চলে গেছেন।
মন্তব্য করুন


গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে কুমিল্লার তিতাস থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তিতাস থানাধীন বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন (৩০)। তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার ছোট কাজরা গ্রামের মো. তারা মিয়ার ছেলে।
র্যাব-১১-এর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকালে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বন্দীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু করে। একপর্যায়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে পালানোর চেষ্টা করে তারা। বন্দীদের কয়েকজন কারাগারের লকআপের গেট ভাঙচুর করে বের হয়ে ভবনের সিঁড়িতে থাকা লোহার অ্যাঙ্গেল খুলে তা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় কারাগারের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কারারক্ষীদের মধ্যে ২৫ জন গুরুতর আহত হন। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেনসহ কয়েকজন বন্দী কারাগারের দেয়াল টপকে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে ১৯৯ জনের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগর পুলিশের কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করে। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৪। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৮, ১৪৯, ৩৫৩, ২২৪, ৪২৭, ৩৩২, ৩৩৩, ৪৩৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
র্যাব জানায়, কারাগার থেকে পালানোর ওই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল শনিবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোয়াজ্জেম হোসেন ঢাকার মতিঝিল থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি। মামলাটির নম্বর ৯১(৩)০৫ এবং দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা ওই মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।
২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান এবং বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে আসছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার দ্রুত বিচার ও দোষীদের কঠোর
শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ
বুধবার (২০ মে) সকালে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে এক পোস্টে তিনি এই দাবি জানান।
পোস্টে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি
নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনও বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের
চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন। তুমি চলে গেছ-তোমার
চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে
থাকবে।’
তিনি
আরও লেখেন, ‘তুমি চলে গেছ-তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই
চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর
শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তা’আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে
কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। আমিন।’
এর
আগে, গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর
সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়।
শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে। এ ঘটনায় সোহেল রানা (৩৪) এবং তার
স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


নতুন শিক্ষাক্রমে বিভাগ
বিভাজন (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য) নেই। ফলে নবম শ্রেণিতেও একই পাঠ্যবই পড়ছে সব
শিক্ষার্থী।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর)
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচির মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার সাক্ষরকৃত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা থেকে জানা গেছে, নবম শ্রেণির
শিক্ষার্থীর যখন দশম শ্রেণিতে উঠবে, তখন বিভাগ বিভাজনের সুযোগ পাবে। তারা আগের
নিয়মে যেন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সেজন্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিও
প্রণয়ন করা হবে।
নির্দেশনায় আরো বলা
হয়েছে, ২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা
(২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য) নেওয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা
অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে প্রণীত সংশোধিত ও পরিমার্জিত
পাঠ্যপুস্তকগুলো (অর্থাৎ ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ
করা হবে।
এতে আরও বলা হয়, যেসব
শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে, তাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর
আলোকে প্রণীত শাখা ও গুচ্ছভিত্তিক সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকগুলো (২০২৩
শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত) প্রদান করা হবে। এসব শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলিয়ে দুই
শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি শেষে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
করবে।
‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রণীত বিজ্ঞান,
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এ পাঠ্যপুস্তকগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি
প্রণয়ন করা হবে, যেন শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচিটি সম্পন্ন
করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত
হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাবিদ, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ,
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও
অভিভাবক প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে,
যা ২০২৬ সাল থেকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।
মন্তব্য করুন