

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ শামসুল ইসলাম বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাবাডি খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। কিন্তু এই খেলাটি আমাদের জাতীয় খেলা। অথচ কাবাডি হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির খেলার তালিকা থেকে। এই কাবাডিকে রক্ষা করতে হবে। গ্রাম-বাংলার জনপ্রিয় কাবাডি খেলার ঐতিহ্য রক্ষায় আমাদেরকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার (২৪মে) সকাল ১০টায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের আয়োজনে আন্তঃকলেজ কাবাডি প্রতিযোগিতা উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কুমিল্লা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে আন্তঃকলেজ কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্রীড়া নৈপুন্যে গড়বো দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ”ক্রীড়াঙ্গন’ স্লোগানে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড আয়োজিত আন্তঃকলেজ কাবাডি প্রতিযোগিতার ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু সালেহ মোঃ তারিক মাহমুদ,জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সুমন কুমার মিত্র। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের উপ-সচিব (একাডেমি) ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাফায়েত মিয়া।সভাপতিত্ব করেন কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মোঃ নূরুন্নবী আলম।
উপস্থাপনায় ছিলেন সাংবাদিক আবুল হাসনাত বাবুল ও ক্রীড়া সংগঠক দরুল হুদা জেনু।
আন্তঃকলেজ কাবাডি প্রতিযোগিতায় ৯টি কলেজ অংশগ্রহণ করে। কলেজগুলো হলো- ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ, সোনার বাংলা কলেজ,কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ, শশীদল আলহাজ মুহাম্মাদ আবু তাহের কলেজ,ক্যান্টনমেন্ট কলেজ,মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, কুমিল্লা রেসিডেন্সিয়াল কলেজ, চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ। একই দিনে বিকেলের পর্বে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের উপ-সচিব (একাডেমি) ও ক্রীড়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাফায়েত মিয়া।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।
"জয় জগন্নাথ... জয় জগন্নাথ..."—হাজারো কণ্ঠের একযোগে উচ্চারিত এই ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টা-করতাল ও মহাহরিনাম সংকীর্তনের সুরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ আর সর্বজনীন সম্প্রীতির অপূর্ব মিলনে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর পবিত্র উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব। এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসবের।
দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। ফুল, আলোকসজ্জা ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত মন্দির এবং সুদৃশ্য রথ যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ ভক্তিভরে অংশ নেন এই মহোৎসবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পরিণত হয় সৌহার্দ্য, মানবতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
কুমিল্লার জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির এবং ঠাকুরপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর-নিতাই মন্দিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজার্চনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব পালিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীর শ্রী শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শুরু হয় পূজার্চনা, দর্শন-আরতি, বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন-কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এতে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জগন্নাথদেবের দর্শন গ্রহণ করেন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ধন্য মনে করেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। উদ্বোধন করেন ইসকনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসূফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
ধর্মসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির ইসকন কুমিল্লার সহ-সভাপতি শ্রীমান ভদ্র নিমাই দাস ব্রহ্মচারী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামলকৃষ্ণ সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন- মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান রূপচন্দ্র শ্যাম দাস ব্রহ্মচারী। উদ্বোধনী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন শ্রীমান সদা শিব সিংহ দাস ব্রহ্মচারী এবং সভাপতিত্ব করেন শ্রীমান সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী।
ধর্মসভা শেষে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত উল্টো রথযাত্রা। কীর্তনের তালে তালে হাজারো ভক্ত রথের রশি ধরেন। "হরে কৃষ্ণ, হরে রাম" এবং "জয় জগন্নাথ" ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লার প্রধান সড়ক। করতাল, মৃদঙ্গ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে সুসজ্জিত রথ। দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ কেউ ভক্তিভরে রথকে প্রণাম জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের রশি স্পর্শ করা কিংবা রথ টানার সুযোগ পাওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাই নারী-পুরুষ, শিশু, যুবক ও প্রবীণ—সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে রথ টেনে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগ, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অনন্য প্রকাশ।
শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা, মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক সর্বজনীন সম্প্রীতির বন্ধনে রূপ দেয়।
উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে বক্তারা বলেন, রথযাত্রার সময় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবী মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে পুনরায় নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন। এই প্রত্যাবর্তনই উল্টো রথযাত্রা হিসেবে উদযাপিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ করলে ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ হয় এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সৌভাগ্য বয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার সভাপতি শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী) বলেন, "শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তির এক অনন্য বার্তা বহন করে। সকলের অংশগ্রহণেই এই মহোৎসব আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক অংশগ্রহণই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম শক্তি। রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে সহনশীলতা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকরা জানান, ভক্তদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পুরো মহোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
নয় দিনব্যাপী এই রথযাত্রা মহোৎসবজুড়ে পূজার্চনা, ধর্মসভা, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা, মানবসেবা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনশেষে যখন জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর রথ পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে আসে, তখন ভক্তদের কণ্ঠে আবারও ধ্বনিত হয়—"জয় জগন্নাথ"। প্রার্থনায় মুখরিত হয় চারদিক। হাজারো ভক্তের বিশ্বাস, এই পবিত্র প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন আশীর্বাদ, নতুন আশা এবং মানবকল্যাণের এক চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। কুমিল্লার এবারের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে ভক্তি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অবিস্মরণীয় মহামিলনমেলায়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুর নাম সিমরান (৬ মাস)। সে কুমিল্লা নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শিমুল মিয়ার কন্যা। এই সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন হামের উপসর্গ নিয়ে সিমরানকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়মিত ও সময়মতো টিকা গ্রহণ না করানো এবং অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই মূলত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আশার কথা হলো, আগের তুলনায় বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নতুন রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ১৩৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চিকিৎসকরা শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ফুসকুড়ি বা র্যাশ, কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে আন্দোলনের নামে গ্রাহক ভোগান্তি, রাষ্ট্রবিরোধী আচরণ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ১৫৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী।
শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিল্টন ঘোষ ওই মামলা করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আসামি করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে আন্দোলন করে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে লাখ লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
আটককৃতরা হলেন- কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার বাইমানা গ্রামের নূরুল আনোয়ারের ছেলে সহিদুল ইসলাম (২৬), চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার কামানকান্দি মাথাভাঙ্গা গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে নূর মোহাম্মদ (২৮), চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারি উপজেলার খন্দকিয়া গ্রামের সিকদার চৌধুরীর ছেলে ফয়সাল চৌধুরী (৩৭), নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার পবনপুর তারাবো গ্রামে ফরিদ উদ্দিনের ছেলে তানভীর আহমেদ (৩৩), ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলা সদরের খায়রুল কবিরের ছেলে মিজানুর রহমান সাগর (৩০)। তারা সকলে চান্দিনাস্থ কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কর্মকর্তা।
সন্ধ্যার পর দ্বিতীয় দফা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন করাকালে চান্দিনার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেড়াও করে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। এ সময় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করে। পরে দায়ের হওয়া মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নাজমুল হুদা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনকালে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় আন্দোলনকারীরা। এতে সমিতির আওতাধীন চার উপজেলার লাখ লাখ গ্রাহকের ভোগান্তি দেখা দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ আমরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করি। সন্ধ্যার পর আবারো তারা দুই ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কার্যালয় ঘেড়াও করে। এ সময় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে নাশকতা, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত করায় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মামলা করেন। ওই মামলায় তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হতে শনিবার রাতে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো: ডিএমপি ঢাকা জেলার মিরপুর থানার ৬৮নং জনতা হাউজিং, শাহ আলীবাগ এলাকার মৃত ওসমান গনির ছেলে মাঃ ইমামুল হক @শুক্কুর এবং কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর থানার পূর্ব মুক্তার পোল, ০৬ নং ওয়ার্ড এর মৃত দানু মিয়ার ছেলে দিদারুল আলম (৫০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় জানায়, তারা উভয়েই একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তারা সাধারণ পেশার আড়ালে এসকল মাদকদ্রব্যের পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত ০১ নং আসামী মোঃ ইমামুল হক শুক্কুর ড্রাইভার পেশার আড়ালে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিল। এই চক্রটি পারস্পারিক যোগসাজসে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট সহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের বড় আকারের চালান দীর্ঘদিন যাবৎ ট্রাক, পিকআপ, কার্ভাড ভ্যান সহ অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের পণ্যদ্রব্য পরিবহনের আড়াঁলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কুমিল্লা ও ঢাকা সহ পাশর্^বর্তী জেলা সমূহে সরবরাহ করে থাকে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় আরো জানায় এই বিপুল পরিমান ইয়াবা এর চালান ঢাকাসহ পাশর্^বর্তী বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে গোয়েন্দা কার্যক্রম ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর আভিযানিক দল মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য মোঃ ইমামুল হক @শুক্কুর ও দিদারুল আলম’দ্বয়কে গ্রেফতার পূর্বক তাদের দেখানো মতে সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার এলাকার ঢাকা চট্রগ্রাম মহাসড়ক হতে গ্রেফতার করে ০১ টি ব্যাগে সর্বমোট ৪০,০০০ পিস উদ্ধার করে যার আনুমানিক মূল্য ০১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্তদের বিষয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসংক্রান্তে জড়িত অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মজিবুর রহমান পাবেল:
কুমিল্লা নিউমার্কেটে নিত্যপণ্যের বাজারে
তদারকি অভিযান চালিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ
অধিদপ্তর ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকালে কুমিল্লা নিউমার্কেটে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মোঃ আছাদুল ইসলাম এই অভিযান পরিচালনা করেন। চলমান বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে সবজিসহ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি তদারকি করতে এ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় ভোক্তা অধিকার বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়।
এ সময় সহযোগিতা করেন স্যানিটারি
ইন্সপেক্টর একে আজাদ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর,কুমিল্লার
সহকারী পরিচালক মোঃ আছাদুল ইসলাম জানান, অভিযানে মসলা, সবজি, কাচামরিচ, ডিম, ফার্মেসী
প্রভৃতি বিষয়ের ওপর তদারকি করা হয়। অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
করা হয়। জনস্বার্থে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


পৃথক দুইটি অভিযানে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নোয়াগাও চৌমুহনী ও পদুয়ার বাজার এলাকা হতে ০৫ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১, সিপিসি-২।
গত ৩১ মে ২০২৪ ইং তারিখ বিকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নোয়াগাও চৌমুহনী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আসামী ১। মোঃ শরীফ হোসেন (২৫), ২। মোঃ শহীদুল ইসলাম (২৬) এবং ৩। মোঃ শিপন মিয়া (২০) নামক ০৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আসামীদের হেফাজত হতে চাঁদাবাজির ৬,১৬০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে গত ৩১ মে ২০২৪ ইং তারিখ বিকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২ একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন পদুয়ার বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে আসামী ১। মোঃ নাসির উদ্দিন (৪০) ও ২। মোঃ আব্দুল রহিম (৩৮) নামক ০২ জন চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় আসামীদের হেফাজত হতে চাঁদাবাজির ৩,১৬০/- টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী ১। মোঃ শরীফ হোসেন (২৫) কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার দৌলতপুর গ্রামের মোঃ নাসির উদ্দিন এর ছেলে, ২। মোঃ শহীদুল ইসলাম (২৬) কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার বাগমারা গ্রামের মৃত জহির মিয়া এর ছেলে, ৩। মোঃ শিপন মিয়া (২০) কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানার লক্ষীপুর গ্রামের মোঃ খায়ের মিয়া এর ছেলে, ৪। মোঃ নাসির উদ্দিন (৪০) কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত দুলা মিয়া এর ছেলে এবং ৫। মোঃ আব্দুল রহিম (৩৮) কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার দুতিয়াপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম এর ছেলে।
আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, তারা সকলেই চাঁদাবাজ চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানা ও এর আশ-পাশের বিভিন্ন রাস্তায় অটো, সিএনজি ইত্যাদি পরিবহনের ড্রাইভার ও হেলপারদের নিকট হতে ক্ষয়ক্ষতি ও গুরুতর আঘাতের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলপূর্বক টাকা গ্রহণ করে আসছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর পৃথক অভিযানে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম
ও সদর দক্ষিন এলাকা হতে ইয়াবা ও গাঁজা সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।
৪ মে রাতে র্যাব-১১,
সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম
থানাধীন পূর্ব কাশিপুর এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে মোঃ সুমন
মিয়া (২৮) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ সময় আসামীর কাছ থেকে ৫ কেজি গাঁজা
উদ্ধার করা হয়।
পৃথক অন্য একটি অভিযানে
৪ মে রাতে র্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কুমিল্লা
জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন জগপুর (পশ্চিম পাড়া) এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা
করে। উক্ত অভিযানে আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) নামক একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। এ
সময় আসামীর কাছ থেকে ৪২ পিস ইয়াবা ও ১২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা
হলো, ১। মোঃ সুমন মিয়া (২৮) কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার পূর্ব কাশিপুর গ্রামের
মোঃ আঃ মালেক এর ছেলে এবং ২। আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিন মডেল থানার
জগপুর (পশ্চিম পাড়া) গ্রামের মৃত সরাফত আলী এর ছেলে।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত
আসামীদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা
হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা ও ইয়াবা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী
ও মাদক সেবীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে। র্যাব-১১ এর মাদক বিরোধী
ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির
বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন ।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল:
কুমিল্লা টমছম ব্রিজ বাজারে অনিয়মের
অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর,
কুমিল্লা।
আজ ডিমসহ নিত্যপণ্যের বাজারে তদারকি
কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় অনিয়মের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
করা হয় এবং একটি পরিমাপক যন্ত্র বিনষ্ট করা হয়। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট
ও প্যাম্পলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা
অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো: আছাদুল ইসলাম।
এ তদারকি কার্যক্রমে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রতিনিধি, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর একে আজাদ এবং জেলা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
মন্তব্য করুন




কুমিল্লা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের জানাজা জেলা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় শতাধিক আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) জুমার নামাজের পর এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় উপস্থিত আইনজীবীরা আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এরপর তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলার কাজিরগাঁও এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
কুমিল্লা নগরীর মোগলটুলি এলাকায় গত ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। এরপর ১০ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় মারা যান তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম ভুইয়া তার বক্তব্যে বলেন, আবুল কালাম আজাদ একজন বিচক্ষণ আইনজীবী ছিলেন। তাঁর এমন মৃত্যুতে তিনি শোক প্রকাশ করে যারা তাঁকে হত্যা করেছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আ হ ম তাইফুর আলম বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের নিমর্মতার বলি হয়েছেন আমাদের সহকর্মী আবুল কালাম আজাদ। তাকে নগরীর মোগলটুলি এলাকায় নিমর্মভাবে পিটিয়ে ও গুলি করে আহত করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্য হয়। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমরা এই ঘটনায় জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিকেলে নগরীর প্রতিটি সড়কে বিজয় মিছিলের পাশাপাশি বেশ সহিংসতা চলে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আদালতে হামলার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যাই আমি, আমার ছেলে শাফিউল হক আলভী, আরফানুল হক অবরিন এবং অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। এরপর তারা মাগরিবের নামাজ পড়তে নগরীর মোগলটুলী এলাকায় পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা ও গুলি করা হয়। এ ঘটনায় আবুল কালাম আজাদ আহত হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
এ সময় বক্তব্য দেন পিপি জহিরুল ইসলাম সেলিম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুর রশীদ ইয়াছিন।
জানাযার নামাজ শেষে আইনজীবী আবুল কালাম আজাদের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ উপজেলার কাজিরগাও এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
মন্তব্য করুন