

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, ঢাকার মূল সড়কে কোনো রিকশা চলাচল করতে পারবে না।
তিনি বলেন, রিকশা চলাচল করবে অভ্যন্তরের সড়কে। ব্যাটারিচালিত
অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ডেসকোর সহায়তায় এসব রিকশা চার্জিং
পয়েন্ট ও উৎপাদনের ওয়ার্কশপ বন্ধ করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) রাজধানীর আসাদগেট এলাকায় ব্যাটারিচালিত
অবৈধ রিকশা চলাচল বন্ধে পরিচালিত অভিযানে এসব কথা বলেন তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
(ডিএনসিসি) যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মূল সড়কে চলাচলরত প্রায়
৩০টি ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ করা হয়।
ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, এক সমীক্ষায় দেখা গেছে
২০ শতাংশ দুর্ঘটনা এই ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে শহরের নারী ও শিশুরা। এগুলো কোনো নীতিমালা বা যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায়
রেখে তৈরি করা হয়নি। প্রায়ই দেখা যায় পথচারীদের ওপর উঠে যাচ্ছে, অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে
প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ও সড়কে গণপরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা
ফেরাতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বুয়েটের সহায়তায় এরই মধ্যে ব্যাটারিচালিত নিরাপদ
রিকশার নকশা করে কয়েকটি কোম্পানিকে প্রস্তুতের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই মাসের মধ্যে
ডিএনসিসি রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষণ শেষে উত্তীর্ণরাই বৈধ
লাইসেন্স পাবে এবং অনুমোদিত কোম্পানির তৈরি রিকশা শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় চালাতে পারবে।
এক এলাকার বৈধ রিকশা অন্য এলাকায় যেতে পারবে না। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ভাড়াও নির্ধারিত
থাকবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হবে। চলমান রিকশা নিয়ে যে বাণিজ্য
রয়েছে তা বন্ধ করা হবে।
উক্ত অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক
নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম বদরুদ্দোজা, ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক
প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম, ডিএমপির ও ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন


রংপুরে
একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পর বাসার বাথরুমে গোসল করেন অভিযুক্তরা। এরপর ডাইনিং টেবিলে
বসে খেজুর ও শসা খান। সেখানেই ইয়াবা সেবন করেন তারা-এমনটাই জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন
পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
রোববার
(২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
এর
আগে, রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার জনকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুই যুবককে
গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ ভোরে নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের বাড়িও একই এলাকায়।
এর
আগে, শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা
স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী
ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২) মরদেহ
উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পরও দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতেই ছিলেন
দুই যুবক। হত্যাকাণ্ড শেষে তারা বাসার বাথরুমে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর
ও শসা খান। সেখানেই ইয়াবা সেবন করেন। পরে জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি
থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যান তারা।
ডিআইজি
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, রংপুর মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে প্রার্থী
চক্রবর্তী ও ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়মকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মী
ও সমাজকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য
উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি
বলেন, গণপতি চক্রবর্তী একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো
কলহ বা বিরোধ ছিল না। পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি
চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাতায়াত করত। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা ওই ছাদে বসে ইয়াবা
সেবন করছিল। এ সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে যান। তিনি খালি গায়ে ছিলেন এবং কাঁধে
গামছা ছিল। ছাদে বসে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন। তখন নিজেদের পরিচয়
যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য দুই আসামি তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার বাচার চেষ্টার শব্দ শুনে স্ত্রী
প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা
করা হয়। তার চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসেন। তাকেও গামছা
পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। আসামিদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তী সহজে মারা যাচ্ছিলেন
না। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে রশি দিয়ে তার
গলা ও মুখ পেঁচিয়ে জোরে টান দেওয়া হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে।
তিনি
উল্লেখ করেন, এরপর নিচতলায় গিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
শিশুটির গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যার পর একপর্যায়ে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। প্রিয়মের বয়স
আমার ছোট সন্তানের সমান। এ হত্যাকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। প্রিয়মকে
হত্যার কারণও আমরা জানতে পেরেছি। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব
ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। প্রিয়ম আসামিদের চিনত। এ কারণে সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত
নেয়, প্রিয়মকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এরপর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুজন মিলে শিশুটিকে
হত্যা করে।
তিনি
বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরও আসামিরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে। সকাল হলে তারা বাড়ির বাথরুমে
গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ এবং পরে মুগ্ধ গোসল করে। এরপর তারা ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর
খায়। সেখানে থাকা এক পিস ইয়াবা তারা সেবন করে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া
গেছে। খুনের পর তারা শসাও খেয়েছিল। ফ্রিজ থেকে নেওয়া একটি শসার অর্ধেক অংশ পাওয়া গেছে।
তাদের বক্তব্যের সঙ্গে এই আলামতও মিলে গেছে। খুনের পর তারা উত্তেজিত ছিল এবং শসা খেয়েছিল
বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।’
সংবাদ
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা বাড়ি থেকে বের হয়। তখন
মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত থাকায় রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। তারা ওই সুযোগে বাড়ি থেকে কিছু
স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে সেগুলো মন্দিরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়।
আসামিদের দেখানো মতে আজ এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানের
কারিগর। সে পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করে। ফলে কোনটি স্বর্ণ
আর কোনটি ইমিটেশন, তা সে চেনে। ঘটনাস্থলে একটি চুরি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়া
যায়। তখন আমাদের ধারণা হয়, স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
পরে সেই ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়।
এতে
বলা হয়, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে এবং তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে
বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে। বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোনও তারা ডিটারজেন্ট মেশানো
পানিতে বালতির মধ্যে ভিজিয়ে রাখে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট
না থাকে, সে জন্য তারা এ কাজ করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত
পুরো ঘটনাটি ঘটে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে সেগুলো
পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পরস্পরের আত্মীয়। তারা মামাতো ভাই। ঘটনার আগে সীমান্ত
নামে একজনের বাসায় বসেও তারা ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
এরপর তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে। মুগ্ধ সিটি বাজারের রামনাথের
মাছের দোকানে কাজ করে। তার বাসার সামনে প্রশান্ত নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। তার
কাছ থেকেই তারা ইয়াবা কিনত। প্রতি পিস ইয়াবার দাম ছিল ৩৫০ টাকা।
আসামিরা
যে ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যাতায়াত করত, সেটি দেবুদের ভবন। তারা ওই
ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যেত। গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রীকে তারা
‘কাকি’ বলে ডাকত। গণপতি চক্রবর্তীকে ‘স্যার’
বলে সম্বোধন করত। তাঁর মেয়ের সঙ্গে তাদের খুব একটা কথা হতো না। তবে ছোট শিশু প্রিয়মের
সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল এবং খেলাধুলার সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ
জানান, দুই আসামিকেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি। আজ ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার
দুজন হলেন শ্রীমুগ্ধ ওরফে মুগ্ধ, বয়স ২৩ বছর, পিতা কানুদাস ও মাতা সেনারী দাস এবং সিদ্ধার্থ
দাস, বয়স ১৯ বছর, পিতা বিনয়চন্দ্র দাস ও মাতা পাপড়ি দাস। দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়।
চারজনকে একের পর এক হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার
তদন্তে আমরা বিভিন্ন আলামত পেয়েছি। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অর্ধেক খাওয়া শসা পাওয়া গেছে। একটি চুরি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই আমরা তদন্তে অগ্রগতি পেয়েছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার
করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার শুরু থেকেই এটি হত্যা নাকি ডাকাতি—তা
নিয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। সে কারণে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের
ক্ষেত্রে আমরা সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছি। এত দ্রুত সময়ে আসামিদের শনাক্ত করতে পারা আমাদের
তদন্ত দলের বড় সাফল্য।
সংবাদ
সম্মেলনে পুলিশ বলেন, এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪৩। দণ্ডবিধির
৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পুলিশের পক্ষ
থেকে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ঘটনাটি
অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন
করেছি। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ বিবেচনা করে নিতে হয়েছে। তাই সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে
গণমাধ্যমকে জানানো সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ ধরনের
কোনো তথ্যও আমাদের তদন্তে আসেনি।
মন্তব্য করুন


পার্বত্য অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের
উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন,
দেশের মোট আয়তনের এক দশমাংশ এলাকায় পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাই পার্বত্য
অঞ্চলকে পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেন, পার্বত্য জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে
স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে নানামুখী সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এতে বেকারত্ব
হ্রাস পাবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জীবনযাত্রার উন্নতি ও সামাজিক বৈষম্য
দূর হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল অধিবাসীর জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির
অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আবশ্যক। প্রতি বছরের মতো এবারও
‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিবস-২০২৪’
পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল
জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। ১৯৯৭ সালের এই দিনে বাংলাদেশ সরকার
এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এর মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এটি একটি
রাজনৈতিক চুক্তি ছিল যা শান্তি চুক্তি নামেও পরিচিত। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের
মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে
বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দিবস-২০২৪’-এর
সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
মন্তব্য করুন


সহধর্মিণী
রাহাত আরা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের সরকারি বাসভবনে উঠেছেন নবনির্বাচিত
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার
(২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বঙ্গভবনে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের
একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল তাকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে অশ্বারোহী দলের এসকর্টে রাষ্ট্রপতির
গাড়ি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে পৌঁছায়।
সেখানে
রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেয় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস
দল। এরপর বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে
শুভেচ্ছা জানান।
শুভেচ্ছা
জানান রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ
জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।
আনুষ্ঠানিকতা
শেষে রাষ্ট্রপতি তার কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য
সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে নিজ কার্যালয়ে বসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন।
এ সময় তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন।
এর
আগে শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা
ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাষ্ট্রপতির
দায়িত্ব নেওয়ার আগে মির্জা ফখরুল স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী
হিসেবে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে বসবাস করতেন।
মন্তব্য করুন


কক্সবাজারের
পেকুয়া উপজেলার একটি এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে মুশফিকুর রহিম নামে দেড় বছর বয়সী
এক শিশুর মৃত্যু ঘটে।
শনিবার
(১১ জুলাই) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুটির পিতা
নাছির উদ্দিন, যিনি ওই এলাকার একজন প্রবাসী।
এটি
জানা গেছে যে, বন্যার কারণে নাছিরের ঘরের মধ্যে প্রায় হাঁটুপানি উঠে গিয়েছিল। উঠানেও
কোমরপানি ছিল। এই অবস্থায়, নাছিরের স্ত্রী ঘরে শিশুটিকে রেখে বাইরে কোনও কাজে ব্যস্ত
ছিলেন। এক পর্যায়ে, মায়ের অগোচরে শিশুটি বন্যার পানিতে পড়ে ডুবে যায় এবং স্রোতের সঙ্গে
ভেসে যায়।
অনেক
খোঁজাখুঁজির পর শিশুটিকে প্রায় ১২০ ফুট দূরে পাওয়া যায়। তারপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুটির
মৃত্যুর বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত
করেন। তিনি জানান, উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
পল্লবীতে আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের
করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী
স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ
রোববার (০৭ জুন ) বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক
মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ
পিটার গোমেজ। এর আগে পৌনে ১১টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় ৩১ বছর বয়সী সোহেল ও ২৬ বছর বয়সী
স্বপ্নাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায়
রাখা হয় এবং পরে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
দেশব্যাপী
ব্যাপক জনরোষ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের পর ঘটনার মাত্র ১৯
দিনের মাথায় আদালত এই মামলার রায় দিলেন। ট্রাইব্যুনাল মাত্র পাঁচটি শুনানিতে বিচার
শেষ করেছেন। গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয় এবং তার পরের দিনই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
৪
জুন যুক্তিতর্ক শেষ করার সময় প্রসিকিউশন প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩১) এবং তার স্ত্রী
ও সহ-আসামি স্বপ্না খাতুনের (২৬) মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন। প্রসিকিউশনের যুক্তি, সাক্ষীদের
জবানবন্দি ও জেরার মাধ্যমে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
তবে
আসামিপক্ষ সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে দাবি করেছে যে, চার্জশিট প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং হত্যার কাজে ব্যবহৃত কথিত অস্ত্রটির ফরেনসিক পরীক্ষা
করা হয়নি।
এই
মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারে এত দ্রুত রায়
ঘোষণা করার কথা তারা স্মরণ করতে পারছেন না। গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী
সোহেলের ঘর থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ
উদ্ধার করা হয়।
পরদিন
প্রতিবেশী সোহেল, স্বপ্না ও অজ্ঞাত পরিচয় এক ব্যক্তিকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা
করেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে তার ঘরে
নিয়ে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীরা জানান, পরে সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে এবং অপরাধ
ধামাচাপা দিতে লাশ টুকরো করার চেষ্টা করে।
গত
২৪ মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত
নষ্টের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে স্বপ্নার বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান
এবং স্বামীকে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।কয়েক ঘণ্টা পরেই আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে
স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে ছাত্র-শিক্ষক সমাজ আবার তাঁদের চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা ফিরে পেয়েছেন। এর সঙ্গে এখন যোগ করতে হবে বিশ্ব-বিজ্ঞানে অবদান রাখার সক্ষমতা। আকাক্সক্ষাকে উচ্চে রেখে দৈনন্দিন পঠন-পাঠন গবেষণার মাধ্যমেই সেটি অর্জিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার
(৭ নভেম্বর) ঢাকায় ‘বোস-আইনস্টাইন পরিসংখ্যানের শতবর্ষ উদযাপন : ঢাকার উত্তরাধিকার’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন
তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ এবং সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ ইন ন্যাচারাল সায়েন্সেস, ঢাবি যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবের ফসল। তাই আমরা বিশ্ব-বিজ্ঞানে অবদান রাখতে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার এবং উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির সকল প্রয়াস নিতে প্রস্তুত রয়েছি। এই কাজে নিবেদিত সবার কাছ থেকে চাহিদা, পরামর্শ আসতে হবে। নিজের ওপর আস্থা থাকলে এটি আমরা পারবো- যেমন আস্থা সত্যেন্দ্রনাথ বসুর ছিল বলে তিনি সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়েও আইনস্টাইনকে লিখতে পেরেছিলেন। ১৯২৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর আবিষ্কারের পরিবেশ যেভাবে গড়ে ওঠেছিলো, আজও সেভাবেই গড়ে উঠবে। এর কোন বিকল্প নেই। আমাদের তরুণদের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করতে হবে যে আমরাই বিশ্ব। আজ আমরা সেই আকাঙ্খারই শতবার্ষিকী পালন করছি। বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে বাংলাদেশের ইতিহাসের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আজ আমরা আমাদের দেশের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একজন উজ্জ্বলতম তারকার মহত্তম অবদানের শতবার্ষিকী উদযাপন করতে এসেছি। যিনি ১৯২৪ সালের এমন একটি সময়ে তাঁর আবিষ্কার বোস-আইনস্টাইন কোয়ান্টাম স্ট্যাটিসটিক্সের জন্য বিজ্ঞান ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। আর তিনি এটি করেছিলেন আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নবীন অধ্যাপক হিসেবে কার্জন হলের একটি কামরায় বসে, আজো যেটি পদার্থবিদ্যার ছাত্র-শিক্ষকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখরিত। তাঁর আবিষ্কারের গুরুত্বের কারণে পৃথিবীর নানা দেশের পদার্থবিদগণ এই শতবার্ষিকী উদযাপন করছেন। কিন্তু আমাদের জন্য এই আবিষ্কারের মর্মটাই আলাদা। পদার্থবিদরা বলেন, বিংশ শতাব্দীর ওই পর্যায়ে পদার্থবিদ্যায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিলো কোয়ান্টাম থিওরির মাধ্যমে, এটি ছিল তার মধ্যে একটি বড় সংযোজন। এর মাধ্যমে বসু বিশ্ব-বিজ্ঞানের মানচিত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, আমাদের ঢাকা নগরীকে উজ্জ্বলভাবে চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন। আজ আমরা যখন ছাত্র-জনতার একটি সর্বাত্মক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশকে নতুন ভাবে গড়ার প্রয়াস নিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়কে তার যথাযথ চর্চার জায়গায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছি, তখন পরিবর্তনের দিগদর্শিকা হিসেবে উদযাপনের জন্য বসুর আবিষ্কারের এই শতবার্ষিকীর থেকে যথাযথ বিষয় আর কী হতে পারে? আমাদের বিপ্লবের নায়ক ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রেরণা হিসেবেও বা এর থেকে বড় গৌরবের স্মরণও আর কী হতে পারে? ১৯২৪ সাল অনেক পেছনে রেখে এসেছি। কালের পরিক্রমায় বসুর আবিষ্কারটি কি এতটুকু ম্লান হয়েছে? পদার্থবিদরা বলছেন মোটেই না। যার প্রমাণ এই আবিষ্কারের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য প্রমাণ করে সৃষ্ট বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে ২০০১ সালে। এ নিয়ে গবেষণা চলছেই।
তিনি উল্লেখ করেন, সারা দুনিয়ার পদার্থবিদ্যার ছাত্ররা জানে যাবতীয় পদার্থ-শক্তি সব কিছুর একেবারে মূলে যে মৌলিক কণিকাগুলো এদের শ্রেণী বিভাজনে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে বসুর থিওরির দ্বারা ঠিক করে দেয়া নির্দেশিকা।
প্রধান উপদেষ্টা
আরও বলেন, সত্যেন্দ্রনাথ বসু শিক্ষার সর্বস্তরে, বিশেষ করে উচ্চতর বিজ্ঞান শিক্ষায় বাংলা ভাষা প্রচলনের জন্য তর্ক বিতর্ক করছেন, বাংলায় বই লিখছেন, পত্রিকা বের করছেন, নিজের পাঠদানে বাংলা ব্যবহার করছেন। শহরের সাহিত্যানুরাগী সংস্কৃতিসেবীদের কয়েকজনকে নিয়ে নিয়মিত বৈঠকি আড্ডা গড়ে তুলেছেন। পঞ্চাশের দশকের শেষের দিকে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখনকার ঢাকার সঙ্গে বসুর ঢাকারই মিল বেশি ছিল। কাজেই পরিবেশটি বেশ কল্পনা করতে পারি, ঢাকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। সেই শান্ত ছোট শহরকে, সেই সবুজ রমনাকে আর ফেরত আনা যাবে না, কিন্তু সেই গৌরবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা অবশ্যই ফেরত আনতে পারি, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশে। বোস- আইনস্টাইন তত্ত্বের শতবার্ষিকীতে একথা আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার
ভি ম্যান্টিটস্কি।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁও
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে ম্যান্টিটস্কি রুশ ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে তার
দায়িত্বপালনের তিন বছরের বেশি ঘটনাবহুল সময়ের কথা স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টাকে রূপপুর
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং জানান এই কেন্দ্রে আগামী
বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে তারা আশা করছেন। প্রকল্পটি মূলত রাশিয়ার অর্থায়ন ও
কারিগরি বা বিশেষজ্ঞ সহায়তায় বাস্তবায়ন হচ্ছে।
সাক্ষাতে তারা বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়াত্ত
কোম্পানি গাজপ্রমের অনুসন্ধান কার্যক্রম, রাশিয়া থেকে গম ও সার রপ্তানি এবং রূপপুর
প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যু ও জ্বালানি
খাতে রাশিয়ার সহায়তা এবং বাংলাদেশে গম ও সার সরবরাহে রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার রূপপুর
প্রকল্পের অর্থ পরিশোধের বিষয় সমাধান করবে। তিনি বাংলাদেশে রাশিয়ার আরো বিনিয়োগকে স্বাগত
জানান।
উভয় দেশের যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব
আরোপ করে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা একসাথে কাজ করব।’
এ সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি
বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. আবুল হাসান
মৃধা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের আজ শেষ সময়
।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ
১৫ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু ১৭ এপ্রিল। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
আপিল ১৮ থেকে ২০ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি ২১ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়
২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ ২৩ এপ্রিল, আর ১৫২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৮ মে।
প্রথম ধাপের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করবেন আপিল
কর্তৃপক্ষ হিসেবে জেলা প্রশাসক।
দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফশিলও ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
দ্বিতীয় ধাপের তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ এপ্রিল শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাই
২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা
প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ২ মে। আর ১৬১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ
হবে ২১ মে।
তবে এবারই প্রথমবারের মতো অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান বাধ্যতামূলক করা
হয়েছে। তা ছাড়া মনোনয়নপত্রে লিঙ্গ হিসেবে ‘হিজড়া’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ হিজড়ারা
চাইলে হিজড়া পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। অন্য নির্বাচনে এই বিধান আগেই করা
হয়েছিল। উপজেলায় তা সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে এত দিন
২৫০ জন ভোটারের সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হতো। কিন্তু এবার সে বিধান
বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ভোটারদের সমর্থনসূচক সইয়ের তালিকা আর
দিতে হবে না।
এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কোনো পদে একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে আবার
ভোট করার বিধান ছিল। এখানে এবার সংশোধনী আনা হয়েছে। একাধিক প্রার্থী সমান ভোট পেলে
ফলাফল নির্ধারণ করা হবে লটারিতে।
প্রসঙ্গত, এবার দেশের ৪৮১টি উপজেলায় ভোট হবে চারটি ধাপে। বাকি দুই ধাপের তফশিল
এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মন্তব্য করুন


বরগুনার
পাথরঘাটায় বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে এক যুবদল নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে
উপজেলার হাতেমপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওই
যুবদল নেতার নাম মো. আতিকুর রহমান শাহিন (৪০)। তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মৃত গনি
মিয়ার ছেলে। তিনি পাথরঘাটা পৌর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গেছে, সকালে বাড়ির সামনে থাকা মসজিদে পাম্পের মাধ্যমে পানি দেওয়ার সময়
অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন শাহিন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে স্বজনরা দ্রুত তাকে
উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক
তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে পাথরঘাটা থানার ওসি এনামুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর
মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন

