

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক এলাকায় আজ সোমবার ছিল কুয়াশায় ঢাকা। রাজধানীতে এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে আজ সকালে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রায় সব জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্য উঁকি দিলেও কুয়াশার কাটাতে পারেনি সেভাবে। ফলে শীত জেঁকে ধরেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেছেন, আজ ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ঢাকায় এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াম কমেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জনিয়েছে, গতকাল রবিবার দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। আগামী পরশু বুধবার দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।
আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে, আট দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল একযোগে তিন স্থানে। সেই স্থানগুলো হলো রাজশাহী, ঈশ্বরদী ও বদলগাছী। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পশুর হাটে বেশি দামে বিক্রির আশায় ছাগলকে জোরপূর্বক পানি খাইয়ে
ওজন বাড়ানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই অমানবিক ও প্রতারণামূলক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত
বাদশা মিয়া ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ।
জানা
যায়, বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার রূপসদী উত্তর বাজারের পশুর হাটের পেছনের একটি গলিতে
এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি একটি নলকূপের
সঙ্গে লম্বা পাইপ যুক্ত করে একের পর এক ছাগলকে জোর করে অতিরিক্ত পানি খাওয়াচ্ছেন।
সাময়িকভাবে ছাগলের ওজন বাড়িয়ে ক্রেতাদের ঠকিয়ে বাড়তি মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যেই
এমন নিষ্ঠুর পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়দের
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, অভিযুক্ত বাদশা মিয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর
ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইকান্দি (ফেরিঘাট) এলাকার বাসিন্দা। ভিডিওটি ভাইরাল
হওয়ার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মূল অভিযুক্ত বাদশা
মিয়াসহ তার সহযোগীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ
ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এই
অমানবিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করানো পশুর স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
এতে পশুর শরীরে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় ।
জেলা
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, 'পশুর ওজন বাড়ানোর
উদ্দেশ্যে জোর করে অতিরিক্ত পানি পান করানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।' তিনি আরও জানান,
এভাবে সাময়িকভাবে ওজন বাড়লেও সেটি প্রকৃত ওজন নয়, ফলে সাধারণ ক্রেতারা চরমভাবে প্রতারিত
হন।
এলাকাবাসী
ও হাটে আসা সাধারণ ক্রেতারা ঘটনাটিকে কেবল প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়, বরং প্রতারণার
এক অভিনব কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা এই প্রতারক চক্রের সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে পশুর হাটে এ ধরনের অসাধু কর্মকাণ্ড করার
সাহস কেউ না পায়৷
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


নাটোরের
বড়াইগ্রাম উপজেলার জোয়ারী ইউনিয়নের চর ভবানীপুর ভাটাপাড়া গ্রামে বান্ধবীর বাড়িতে আসে
এক কথিত চীনা নাগরিক। মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তৈরি হওয়া বন্ধুত্বর মর্যাদা দেন স্কুলছাত্রী
সাদিয়া। মেয়ের বিদেশি বন্ধুকে বাড়িতে থাকতে দেন সাদিয়ার বাবা কৃষক সাদ্দাম হোসেন।
কথিত
ওই চীনা নাগরিক নিজেকে সুবেজ নামে পরিচয় দেন। নিয়ে আসেন সাদিয়ার জন্য উপহারও। সাদিয়ার
স্বজন ও প্রতিবেশীরাও অত্যন্ত আন্তরিকতায় গ্রহণ করেন তাকে। সরল বিশ্বাসে সাধ্যমতো চলে
কথিত ওই বিদেশির আদর-আপ্যায়ন।
তার
আগমনের কথা প্রচার হলে সেই বাড়িতে জমায়েত হন গ্রামবাসী। খবর পেয়ে ছুটে যান সংবাদকর্মীরাও।
কিন্তু সংবাদকর্মীদের দেখে ক্ষুব্ধ হন কথিত ওই চীনা নাগরিক।
তিনি
সাদিয়াকে জানান, সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন না। সংবাদকর্মীরা চাইলে তিনি পাসপোর্ট
দেখাতেও অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি সন্দেহ হলে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ওই নাগরিকের ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন কয়েকজন সংবাদকর্মী। তার ছবিসহ সংবাদও প্রকাশ হয়।
আর এতেই ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
স্থানীয়রা
জানান, বৃহস্পতিবার কথিত ওই চীনা নাগরিক আসার পর শনিবার রাতে ওই বাড়িতে ঢাকা থেকে আসেন
সামিলা নামে এক তরুণী।
সামিলা
জানান, ওই ব্যক্তি তার স্বামী। কিছুদিন আগে একইভাবে তার সঙ্গেও পরিচয় হলে সুবেজ ঢাকায়
এসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর কয়েকদিন থেকে তাকে কিছু না জানিয়েই সুবেজ নিজ দেশে ফিরে
যায়। এরপর সুবেজ তাকে জানান, তার হাতে টাকা না থাকায় তিনি আসতে পারছেন না। অথচ এখন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে তিনি এখানে চলে এসেছেন, তাই আমি এখানে এসেছি।
বিষয়টি
জানাজানি হওয়ার পর রোববার ভোরেই সামিলাসহ ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান কথিত ওই চীনা নাগরিক।
ইউপি সদস্য কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অল্পের জন্য প্রতারণার হাত থেকে
বাঁচল স্কুলছাত্রী সাদিয়া। নাটোর মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের জেলা কমিটির সাধারণ
সম্পাদক জাহানারা বিউটি জানান, মোবাইল ফোনে পরিচয় থেকে হঠাৎ কাউকে বিশ্বাস করা উচিৎ
নয়।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি :
ঈদুল আজহার পর প্রথম কর্মদিবসে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অনুপস্থিত পেয়ে তিনি বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।প্রথমে সোমবার (১ জুন) সকালে কুমিল্লা জেলা সাব-রেজিস্টার কার্যালয় পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক। সেখানে নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে বেলা ১১টার দিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ে গিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখতে পান এমপি।
তার ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসেন জানান, পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, কুমিল্লা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রাক্কলনিক কর্মকর্তাসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুপস্থিত দেখতে পান এমপি।
এ সময় এমপি হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে কয়েকজন কর্মচারী তড়িঘড়ি করে স্বাক্ষর করেন। এমনকি একজনকে পাওয়া যায়, যিনি ঈদের আগে চার কর্মদিবসের স্বাক্ষর একসঙ্গে করেছেন। বিষয়টি এমপি তাৎক্ষণিক উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, বেলা ১১টা পর্যন্ত দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। অফিসের সাধারণ শাখা ছিল অপরিচ্ছন্ন। সরকারি অফিসের একটি কক্ষে গবাদিপশু রাখা হয়েছিল। এছাড়া ওয়াশরুমের কল খোলা থাকায় পানি পড়ে অফিস কক্ষের একটি অংশ ভেজা ছিল।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা কেউই ছুটি ছাড়াই অফিসে আসেননি। এমনকি বেলা ১১টায় দপ্তরে জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করতে দেখা যায়নি।’
সার্বিক অবস্থা তাৎক্ষণিক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শফিউল হক বলেন, ‘প্রাক্কলনিক কর্মকর্তা তারেক মোল্লা ছুটিতে রয়েছেন। আমার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়, এখানেও অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। আমি গাড়িতে কুমিল্লা অফিসে আসতেছি৷’
এছাড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন না হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন বিভাগীয় প্রকৌশলী
মন্তব্য করুন


রাষ্ট্র সংস্কারে আরও চারটি কমিশন গঠনের
সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই চারটি কমিশন হলো স্বাস্থ্য কমিশন, গণমাধ্যম কমিশন, নারী
বিষয়ক কমিশন ও শ্রমিক অধিকার কমিশন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) উপদেষ্টা
পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন,
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সরকারী মাহফুজ আলম ও প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।
এসময় উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান জানান,
সংস্কারের জন্য আরও চারটি কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য কমিশনের
প্রধান হিসেবে কাজ করবে জাতীয় অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ খান, শ্রমিক অধিকার কমিশনের কাজ
করবে সৈয়ত সুলতানউদ্দিন আহমেদ, গণমাধ্যম কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন
কামাল আহমেদ, নারী অধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন শিরিন হক। চাকরিতে
প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত কাজের প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা
করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত কী হয়, পরবর্তীতে সেটি জানানো হবে। এছাড়া শিক্ষা কমিশন নিয়ে
আলোচনা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার
কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার
কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করে সরকার। আর ৬ অক্টোবর
সংবিধান সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশিত হয়।
মন্তব্য করুন


মো. আজিজার রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খানসামায় রমজানের শুরুতেই সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপণ্যের
দাম লাগামহীন। বিশেষ করে ইফতার সামগ্রীতে ব্যবহৃত বেগুনি, শসা ও লেবু দ্বিগুণের বেশি
দামে বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি টাকা না দিলে মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। সেই সঙ্গে পেঁয়াজ,
কাঁচা মরিচ ও মাছ-মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, চার -পাঁচ দিনের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও এ
ক্ষেত্রে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়নি। মূলত প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে বিক্রেতারা
খেয়ালখুশিমতো দাম বৃদ্ধি করছেন।
জানা যায়, রমজানে ইফতার সামগ্রী
তৈরিতে ছোলা, বেগুনি, শসা, কাঁচা মরিচ, লেবু ও ভোজ্যতেলের চাহিদা বেশি থাকে। এর মধ্যে
বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বেগুনি, শসা ও লেবুর দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
খানসামা উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখানে প্রকারভেদে বেগুন কেজিপ্রতি ৬০-৭০
টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ২৫-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতো। তবে বাজারে স্থিতিশীল
রয়েছে খেজুর, ছোলা, চিড়া, মুড়ি, গুড় প্রভৃতি পণ্যের দাম।
শসা কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি
হচ্ছে, গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৫-৩০ টাকায়। লেবুর হালি গত সপ্তাহে ১৫-২০ টাকায় বিক্রি
হলেও এখন তা ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে পেঁয়াজ প্রতি কেজিতে ২৫-৩০ টাকা বৃদ্ধি
পেয়ে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ছোলা প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকা, বেসন কেজি মানভেদে
৮০-১২০ টাকায়, চিনি ১২০ টাকা ও খেসারির ডাল ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জানা যায়, রমজান ঘিরে পর্যাপ্ত
আমদানি হলেও বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট চলছে। অধিকাংশ দোকানে বোতলজাত তেল পাওয়া
যাচ্ছে না। যাদের দোকানে পাওয়া যায় সেখানেও নির্ধারিত দামের তুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে।
বোতলজাত সয়াবিন তেল সংকটে দাম বাড়িয়ে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে খোলা সয়াবিন
তেল।
অন্যদিকে উপজেলার পাকেরহাট বাজার ঘুরে জানা যায়, ব্রয়লার মুরগি কাটা কেজিপ্রতি ২৭০-২৮০ টাকা, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৭০-৩৮০ টাকা ও লেয়ার কাটা প্রতি কেজি
৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাল্পা
দিয়ে বাড়ছে মাছের দামও।
দিনমজুর রাসেল রানা জানান, রাজনৈতিক
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভেবেছিলাম এ বছর রমজানে বাজার স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু চাহিদা
বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গরুর মাংস ৭০০ টাকা দরে
বাজারে বিক্রি হচ্ছিল। সে কারণে মুরগিও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। বাজারে কোনো মনিটরিং
ব্যবস্থা নেই। সাধারণ মানুষকে বেশি দাম দিয়ে পণ্য কিনতে হয়।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার (৩ মার্চ)দুপুরে খানসামা
উপজেলার পাকের হাট, চেহেলগাজী বাজার, ও খানসামা
বাজারে মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)
কামরুজ্জামান সরকার, দিনাজপুর জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক
মোঃ বোরহান উদ্দিন,পুলিশ ও আনছারসহ মনিটরিং অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন দোকানে পণ্যের দাম,
মান, মূল্য তালিকা, পণ্যের সরবরাহ ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়। তবে ধারাবাহিক মনিটরিং
না থাকায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন ভুক্তভোগীরা।
দিনাজপুর জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক
মোঃ বোরহান উদ্দিন বলেন, রমজানে সিন্ডিকেটে যেন পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা না হয় সে জন্য
নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম হলে সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিচার ও পুলিশ বিভাগের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ হবে সুশাসন ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক।
আজ শনিবার যশোর পিটিআই মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি বলেন, পুলিশকে তদন্তের সময় সতর্কতা অবলম্বন
করতে হবে। যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি শাস্তি না পায়।
বিচারকদের উদ্দেশে এ সময় তিনি বলেন, জামিন দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার
আপনাদের নেই। নতুন বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম পুলিশ,
প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, এ রাষ্ট্র ট্রান্সফরমেশনের
মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামীর বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির কাছে নয়, আপনারা আইন ও
সংবিধানের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে কাদের পক্ষে
দাঁড়াবেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির
হায়দার, সিআইডির অতিরিক্ত আইজি মতিউর রহমান শেখ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
অতিরিক্ত সচিব আতাউর রহমান খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ১৬ জেলার
জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার, জেলা ও দায়রা জজ, সিনিয়র জুডিশিয়াল
ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পাবলিক প্রসিকিউটর,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৩২০ কর্মকর্তা
অংশ নেন।
মন্তব্য করুন


হঠাৎ ময়মনসিংহের নান্দাইল থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হলে শুক্রবার (১৪ মার্চ) ভোরে কর্মস্থল ত্যাগ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ছাড়াও তার নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছিল।
এদিকে ওসির কর্মস্থল ত্যাগের খবর দেরিতে পেয়ে কমপক্ষে ৩০ জন পাওনাদার বিচ্ছিন্নভাবে থানায় এসে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, নান্দাইল থানায় ওসি হিসেবে গত ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যোগ দিয়েছিলেন ফরিদ আহম্মেদ। এর পর থেকে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্য দিয়ে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক রাতেই তুচ্ছ ঘটনায় পাঁচটি অভিযোগ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রেকর্ডভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে এ ওসির বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি চুরি ছিনতাইসহ আইনশৃঙ্খলার
মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে পুরো উপজেলার আনাচে-কানাচে ইয়াবার কারবার, গ্রেপ্তার
বাণিজ্য চলছিল নির্বিঘ্নে।
বিভেদপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছিলেন না নান্দাইল থানার ওসি ফরিদ আহম্মেদ। অন্যদিকে মামলা নেওয়ার নামে বিচার প্রার্থীদের হয়রানি করা হচ্ছিল নিয়মিত।
এমন অবস্থায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে তাকে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পেয়ে ওসি ফরিদ সবকিছু গুছিয়ে আজ শুক্রবার ভোরে চলে যান জেলা শহর ময়মনসিংহে।
এসব বিষয়ে জানতে প্রত্যাহার হওয়া ওসি ফরিদ আহম্মেদের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।
জানতে চাইলে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার বলেন, ‘ওসির কাছে সাধারণ লোকজন টাকা পায়, এটি খুবই দুঃখজনক।’ এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
আর এক রাতে ৫টি মামলা রেকর্ডভুক্ত
হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাকে তো দুটির কথা বলা হয়েছিল। বাকিগুলো তো
জানাননি।’
মন্তব্য করুন


পাহাড়ি ঢল আর ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট
বন্যায় বিপর্যস্ত দেশের ৯ জেলা। এমন অবস্থায় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য
হটলাইন নম্বর চালু করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ফায়ার সার্ভিস
সদর দপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, সারা দেশের বন্যাকবলিত
এলাকার উদ্ধারকাজ বিষয়ে যেকোনো সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন নম্বর ১০২ এবং কেন্দ্রীয়
নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নিয়মিত ফোন নম্বর ০২২২৩৩৫৫৫৫৫ চালু থাকবে। পাশাপাশি মনিটরিং সেলে
সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ০১৭১৩-০৩৮১৮১ মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেও ফায়ার সার্ভিসের এ সংক্রান্ত সেবা নেওয়া যাবে।
মনিটরিং সেলের পাশাপাশি বন্যাকবলিত
এলাকার ফায়ার স্টেশনগুলো এবং বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষের মাধ্যমেও ২৪ ঘণ্টা দুর্যোগে উদ্ধারবিষয়ক
সেবা নেওয়া যাবে।
গতকাল বুধবার বিকেল ৫টা থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে
অধিদপ্তরে স্থাপিত এই মনিটরিং সেলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ভোলার
চরফ্যাশনের শশীভূষণে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জলিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তির লাশ
দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে দুই স্থানে
দুইবার কবর খুঁড়ে দাফন করতে পারেনি।
এ
নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
হয়। শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার
সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় ৪টি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার
দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
সন্তানদের
অভিযোগ, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে
যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরেই লাশ দাফনে বাধা দেন সন্তানরা। পরে বাধ্য হয়ে
পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ
স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পুনরায় বাধা দেন।
এ
ছাড়া লাশ আঙিনায় রেখে ভাই-বোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর
পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব
হয়নি। পুলিশের সামনেই কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত
করার চেষ্টা করে সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজা
শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানায়, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ ওই বাড়িতে।
এক
পর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি
এবং মারধর বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শশীভূষণ
থানা পুলিশকে খরব দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি
ও স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে শান্ত করে দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে জলিলের
লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে একজন মৃত
ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই
এমন ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন