

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নিজ বসতঘর থেকে এক দম্পতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- স্বামী সিরাজউদ্দিন খান (৭৫) এবং স্ত্রী আকলিমা বেগম (৬৫)। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজউদ্দিনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পেয়ারপুর গ্রাম সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর খেয়া (নৌকা) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সেখানেই নদীর তীরে একটি ঝুপড়ি ঘরে আকলিমাকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। প্রতিদিনের ন্যায় তিনি ফজরের নামাজে না যাওয়ায় স্থানীয়রা ভোর ৬ টার দিকে তার বাড়িতে খোজ নিতে যান। ঘরের সামনে গিয়ে অনেক ডাকাডাকি করার পরও কোন সারশব্দ না পেয়ে ভিতরে ঢুকে চৌকিতে আকলিমাকে ও নিচে সিরাজ উদ্দিনের মরদেহ দেখতে পান। সিরাজ উদ্দিনের গলার নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ এবং আকলিমার শরীরেও রক্তাক্ত চিহ্ন রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সিরাজউদ্দিনের গলার নিচে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ এবং আকলিমার শরীরে রক্তাক্ত চিহ্ন দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
মহিপুর থানার ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সিআইডি টিম ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঢাকা কলেজের সাবেক জিএস ও বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত আওয়াল খাঁনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার কাশারীখোলা মাদ্রাসা মাঠে স্বরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক এমএ আউয়াল খানের সভাপতিত্বে ওই শোক সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সহ গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাক খান সফরি, একরামুল হক বিপ্লব, এডভোকেট জিয়া উদ্দিন জিয়া, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি আহসান উদ্দিন খান শিপন, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি টিপু মোল্লা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
কুমিল্লায় বাস চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে বাস মালিক সমিতি। এতে জেলার প্রায় ৪০টি সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে নগরীর জাঙ্গালিয়া, শাসনগাছা ও চকবাজার বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে কুমিল্লা-ঢাকা, কুমিল্লা-চট্টগ্রাম, কুমিল্লা-সিলেট, কুমিল্লা-চাঁদপুরসহ অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কগুলোতে বাস চলাচল বন্ধ থাকে।
জানা গেছে, জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল থেকে কুমিল্লা-চাঁদপুর সড়কে আইদি পরিবহন চলাচল বন্ধের দাবিতে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। পরিবহন নেতাদের দাবি, কুমিল্লা নগরীর তিনটি বাস টার্মিনাল ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচল করে। তবে আইদি পরিবহন যথাযথ রুট পারমিট ছাড়াই টার্মিনাল ব্যবহার করতে চাইছে।
এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেককে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
আইদি পরিবহণের চেয়ারম্যান মীর পারভেজ আলম অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে তাদের বাস চলাচল শুরু হয়। কিন্তু শুরু থেকেই কুমিল্লা বাস মালিক গ্রুপের একটি সিন্ডিকেট তাদের চলাচলে বাধা দেয়। এ কারণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন রুট পারমিট দেয়নি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বাধ্য হয়ে জাঙ্গালিয়া বাস টার্মিনাল বন্ধ রেখে দুই কিলোমিটার দূরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে বাস সার্ভিস চালু করা হয়। আইনি কোনো বাধা না থাকলেও এখনো কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা বাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, আইদি পরিবহণ চাঁদপুর জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি পেলেও কুমিল্লা থেকে রুট পারমিট নেয়নি। এর পরও তারা কুমিল্লার বাস টার্মিনাল ব্যবহার করতে চাচ্ছে।
তিনি জানান, একাধিকবার তাদের বাধা দেওয়া হলেও বিজয় দিবসের দিন হঠাৎ করে কিছু বাস টার্মিনালে আনা হয়। বুধবারও সেখান থেকে বাস চলাচল করেছে। বৃহস্পতিবার আবার বাস আনার চেষ্টা করলে সকাল থেকে নগরীর তিনটি টার্মিনাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
মন্তব্য করুন


শিক্ষা, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে নিবেদিত সংগঠন “আমরা কুমিল্লার তরুণ প্রজন্ম” আদর্শ-সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জি এম হেলাল এবং সদস্য সচিব হয়েছেন মো: রাজিবুল ইসলাম। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদর্শ- সদর উপজেলায় তারা সমাজসেবা, শিক্ষা প্রসার এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করে গঠনমূলক কাজ করতে চায়। অচিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
আহ্বায়ক জি.এম হেলাল বলেন, “আমরা আদর্শ-সদর উপজেলায় আর্তমানবতার সেবায় কাজ করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।” সদস্য সচিব মো: রাজিবুল ইসলাম বলেন, “কমিটি গঠনের পরপরই আমরা একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করব এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ শুরু করব।”
নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
যুগ্ম আহ্বায়ক : মো: জালাল হোসাইন, মো:আলামিন, মো: মহিউদ্দিন ফরহাদ, জোবায়ের আহমেদ হ্রদয়, ইসমাইল হোসেন শুভ, নূর মোহাম্মদ জীবন, শামসুল আরেফিন জিসান ও মো: আফ্রিদি, সদস্য: মো: রাকিবুল ইসলাম, আনোয়ার রেজা সাকি, রুহুল আমিন হাসান রাব্বি, আহফাজুল কবির নেজামি, এনামুল হক জিসান, মো: কাইয়ুম হোসেন ও মো: মাহফুজুর রহমান
সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক পিয়ারে মাহবুব এবং জেলা সদস্য সচিব সাজ্জাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনালে বাংলাদেশের সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয় ৩য় রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এসোসিয়েশন অব ইউনির্ভাসিটিজ অব এশিয়া এন্ড প্যাসিফিক এর আয়োজনে গত ৮ ও ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় আন্তার্জাতিক ইংলিশ স্টুডেন্ট ডিবেট কম্পিটিশনের আয়োজন করা হয় ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অবস্থিত রিজাল টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে। প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের মোট ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেন।
কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মনির হোসেনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো: আরাফাত কবির, তাফহিমুল ইসলাম স্বপ্ন এবং মাহির তাজওয়ার আকাশ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে ফিলিপাইনে পদার্পন করেন। প্রথমবার অংশগ্রহন করেই নামকরা ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে লড়াই করে সেরা পাঁচ-এ অবস্থান করে নেন কুমিল্লার সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ৩য় রানার আপের গৌরব অর্জন করেন টিম-সিসিএন।
বুধবার অনুষ্ঠিত ফাইনাল রাউন্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেন ফিলিপাইনের রিজাল টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, ফার্স্ট রানার আপ ফিলিপাইনের ভিসায়াস স্টেট ইউনিভার্সিটি, দ্বিতীয় রানার আপ বাংলাদেশের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৩য় রানার আপ কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কুমিল্লার সবুজে ঘেরা কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভাকাঙ্খীরা আনন্দিন, উচ্ছ্বসিত। বিশ্ব জয় করার এ যেন অনন্য প্রেরণা।
সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ড. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী অনুভূতি ব্যাক্ত করে জানান, সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আন্তর্জাতিক মানের সিলেবাসে পাঠদান করে আসছি। ফিলিপাইনে আমাদের বিতার্কিক টিমটির আজকের অর্জিত সফলতা তারই অংশ বিশেষ। সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মানের বেশ কয়েকটি সেমিনার করে থাকি এবং আমাদের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। সর্বোপরি আমরা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণামূলক করে একাডেমিক সিলেবাস সাজিয়েছি এবং তা বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর। তিনি আরো বলেন-আজকের অর্জন অনাগত দিনে বিশ্বপরিমন্ডলে সিসিএন-এর বিচরণ বৃদ্ধি পাবে, সফলতার ঝুলি আরও পূর্ণ হবে। আমাদের স্বপ্ন আকাশ সমান। সিসিএন-ইউএসটি ডিবেট টিম সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিশেষত তিনজন বিতার্কিক নিহাদ, স্বপ্ন ও আকাশের প্রতি আমাদের অশেষ শুভকামনা ও কৃতজ্ঞতা।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ একাধিক মামলার আসামি মো. জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আমেরিকার তৈরি একটি নতুন ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার জসিম উদ্দিন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের মৃত মোখলেছুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আলম শাহ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন ও উপপরিদর্শক সঞ্জয় সিকদারের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জসিম উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়।
তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
মন্তব্য করুন


মন্তব্য করুন


মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় আরমান
খান নামের এক স্কুলছাত্র ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (১২ মে) সন্ধ্যায় নড়াইলের
কালিয়া উপজেলার কালিয়া পৌরসভার গোবিন্দনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আরমান খান গোবিনগর
গ্রামের হান্নান খানের ছেলে।
নিহত আরমান খান (১৬) কালিয়া সরকারি
পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আরমান এর
আগেও একবার মোটরসাইকেল কিনে না দেওয়ায় বিষ পান করেছিলেন। সে সময় তার বাবা তাকে একটি
মোটরসাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। সেই মোটরসাইকেলটি পুরাতন হাওয়াই আবারও একটি মোটরসাইকেল
কিনে দিতে পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন আরমান। কিন্তু তার দাবি পরিবার মেনে না
নেওয়ায় কয়েক দিন ধরে বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। পরে আজ সন্ধ্যায়
নিজ ঘরে সাউন্ডবক্স চালিয়ে নিজের বেল্ট দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা
করেন আরমান।
কালিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কমিশনার
প্রদীপ কুমার বর্মন বলেন, আরমান সবসময় ফিটফাট থাকতো। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক
ও টিকটকে ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতো। অনেকেই তাকে টিকটকার আরমান নামে চিনতো। তার পিতা
হান্নান খান পেশায় একজন অটোচালক। তার পক্ষে সব আবদার সবসময় মেনে নেওয়া আসলেই সম্ভব
ছিল না।
কালিয়া থানার এসআই টিপু সুলতান বলেন,
মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর
মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে
তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলের ক্ষমতায় আসার পর দেশের নেতৃত্ব এককভাবে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, বিভেদের রাজনীতি নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের ভিত্তি।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলের সমন্বয়ে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জামায়াতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিগত সরকারগুলোর কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় একদল বলেছিল, ১০ টাকা দরে চাল দেবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি তা পেয়েছে? তিনি বলেন, জনগণ আর এমন রাজনৈতিক প্রতারণা দেখতে চায় না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের নিরাপদ চলাচল ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক চাকরি এবং যুবকদের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া বগুড়া সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কোনো স্থান থাকবে না।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
সঙ্গে বক্তব্য রাখেন—বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী এবং বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন


মজিবুর
রহমান পাবেল,
প্রতিবেদক:
কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও সিটি কর্পোরেশন) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নারীদের নেতৃত্বে বিশাল বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর ধর্মসাগরপাড়স্থ অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূবালী চত্তরে অবস্থান কর্মসূচিতে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভে প্রায় আট হাজার নারী অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা “ইয়াছিন ভাইয়ের মনোনয়ন ফেরত চাই”, “৮ এর প্রার্থী ৬ এ কেন–মানিনা মানবো না”, “আমি কে তুমি কে, ইয়াছিন ভাই ইয়াছিন ভাই”সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নারী নেত্রী ও অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমাদের নেতা ইয়াছিন ভাই, তার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা তার পাশে আছি।” তারা জানান, এই আন্দোলনের মাধ্যমে নারীরা শুধু ক্ষোভ নয়, বরং রাজনৈতিক সচেতনতা ও নেতৃত্বের দাবি জানাচ্ছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয় ছিলেন না, অন্যদিকে হাজী ইয়াছিন দীর্ঘদিন তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। তার সহায়তায় অনেক নেতা-কর্মী আইনি ও মানবিক সহায়তা পেয়েছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাজী ইয়াছিনের ত্যাগ ও অবদান বিবেচনা করে তার মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়াই হবে তৃণমূলের দাবি ও প্রত্যাশা। অন্যথায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভাজন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


তমা রাণী সরকার নামে ১৮ বছর বয়সী কলেজ পড়ুয়া এক তরুণী পুরুষে পরিণত হয়েছেন।
শরীরের হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। তার পুরুষের রূপান্তরিত হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তমা ওই গ্রামের সুধান্ন সরকারের মেয়ে। তিনি রাজশাহী মহানগর সুজা-উজ-দৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুদিন ধরে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন তাকে দেখতে বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।
তমার বাবা সুধান্ন সরকার বলেন, হিন্দু ধর্মের কিছু রীতিনীতি থাকায় রূপান্তরিত তমা সরকারের নাম এখনও পরিবর্তন করা হয়নি। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার নাম পরিবর্তন করা হবে।
তমা সরকার বলেন, ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষার দুই সপ্তাহ আগে থেকে হঠাৎ করেই আমার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। লজ্জা ও ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাইনি। এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। পরবর্তী সময়ে রাজশাহী সুজা-উজ-দৌলা সরকারি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হই। কিছুদিন পর তার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি বান্ধবীদের জানাই। এক সময় আমার পরিবারও বিষয়টি জানতে পারে। পরে আমার বাবা-মা আমাকে রাজশাহীর বিশেষজ্ঞ এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে আমার শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হই। আর বর্তমানে আমি পুরোপুরি পুরুষের রূপান্তরিত হয়েছি।
তমার মা শিখা রাণী বলেন, আমার একটা মেয়ে একটা ছেলে ছিল। সে বড় মেয়েটাকেও ভগবান ছেলে করে দিয়েছেন।
তরুণী পুরুষে পরিণত হওয়া বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান জানান, হরমোন পরিবর্তনের কারণে এ রকম শারীরিক পরিবর্তন হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
মন্তব্য করুন