

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুটি দলের বিষয়ে শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি ১২টি দলের আবেদনের ওপর আরও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। তবে ৭টি দলের আবেদন ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিবন্ধনের জন্য মোট ১৪৩টি রাজনৈতিক দল আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২২টি দলের তথ্য মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে এখন পর্যন্ত দুটি দলকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় লীগ।
ইসি সচিব বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হবে। তবে চূড়ান্ত নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
ইসি জানায়, তিনটি রাজনৈতিক দল ইসির পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এগুলো হলো- বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি, জাতীয় জনতা পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাহজাহান সিরাজ)।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) লিখিত পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।
বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ফল প্রকাশ করে বলা হয়, আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) লিখিত পরীক্ষা গত ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ২ হাজার ৫৩৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়াও তৃতীয় পরীক্ষকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে ৩৪৫ জনকে।
উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এখন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মৌখিক পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি পরে জানানো হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেতে তিন ধাপে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
প্রথমত, আইনের উপর স্নাতক উত্তীর্ণের পরপরই আইনজীবী হিসেবে ন্যূনতম ১০ বছর পেশায় রয়েছেন এমন একজন সিনিয়রের অধীনে ইন্টিমেশন জমা দিতে হয়।
দ্বিতীয়ত, ইন্টিমেশন জমা দেওয়ার পর ছয় মাস অতিক্রম হলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ করে এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পান।
আর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভ করেন।
সবশেষে সনদ লাভের পর সংশ্লিষ্ট জেলা বার এ যোগদানের মধ্য দিয়ে আইন পেশা শুরু করতে পারেন।
আইনজীবী হিসেবে সনদ লাভের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।
মন্তব্য করুন


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতা আরও গভীর করবেন বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও গভীর করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আজ সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) দপ্তরের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ, যা হয়েছে তাতে আমরা খুবই খুশি। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি ৩১ জুলাই ঘোষিত ইউএসটিআরের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। ইউনূস এটিকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন।
বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল এবং তুলা ও সয়াবিনসহ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজ পণ্য আমদানি বাড়াতে বাংলাদেশের আগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া এলপিজি আমদানি, সিভিল এয়ারক্রাফট কেনা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং রোহিঙ্গা মানবিক সংকট নিয়েও কথা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়াতে প্রস্তুত। এতে আরও শুল্ক ছাড়ের পথ তৈরি হবে, যা দুই দেশের জন্য টেকসই ও লাভজনক বাণিজ্য অংশীদারত্বে সহায়তা করবে।
তিনি চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির খসড়া দ্রুত সই হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমাদের স্বার্থ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তাই এ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আশাব্যঞ্জক, যোগ করেন তিনি।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান ও ন্যায্য বাণিজ্য অনুশীলন রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আগামী দিনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ও স্বল্প সুদে ঋণপ্রবাহ বাড়ার আশা ব্যক্ত করে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দরজা যেন আরও প্রসারিত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করবে ইউএসটিআর টিমকে আশ্বস্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে ব্রেন্ডন লিঞ্চ বলেন, এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক থেকেই যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, তা আলোচনাকে সহজ ও ফলপ্রসূ করেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আলোচক দল পাঠিয়েছিলেন।’
তিনি শুল্কচুক্তি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতিগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, ইউএসটিআর দক্ষিণ এশিয়া পরিচালক এমিলি অ্যাশবি, এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মুরশেদ, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
মন্তব্য করুন


বিএনপির
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন, একটি রাজনৈতিক দল যেকোনোভাবে
ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষ পূরণে দলটি অনৈতিক পন্থা অবলম্বন
করছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
আজ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউট
কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
কোনো
দলের নাম উল্লেখ না করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা অতি উচ্চাভিলাষী। যেকোনোভাবে ক্ষমতায়
যেতেই হবে— এমন তাড়না তাদের মধ্যে রয়েছে। এই অভিলাষ পূরণে তারা অনৈতিক
পথ বেছে নিচ্ছে।
তিনি
দাবি করেন, বিভিন্ন স্থানে সাজানো ঘটনা এবং ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো অনিয়মের অভিযোগ
পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় নির্দিষ্ট একটি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন
আহমদ বলেন, “আমরা এসব ঘটনার নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে হলে সব রাজনৈতিক
দলকে নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি মেনে নেবে
না; বরং প্রত্যাখ্যান করবে।”
তিনি
আরও বলেন, ভিন্ন পথে বা অনৈতিক উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার যে চেষ্টা, তা দেশের গণতন্ত্রের
জন্য ক্ষতিকর। জনগণ এ ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে মন্তব্য
করেন বিএনপির এই নেতা।
মন্তব্য করুন


টালিউডের সুপারস্টার জিৎ অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর শুটিং আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, শুটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের সময় জীৎ হাতে আঘাত পান। তার শারীরিক অবস্থার কারণে এবং নিরাপত্তা বিবেচনা করে পরিচালক পথিকৃৎ বসু শুটিং স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
কীভাবে এই আঘাত ঘটে, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। পরিচালকও এখনও শুটিং পুনরায় শুরু করার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি।
ছবিতে জীৎ ঐতিহাসিক চরিত্র অনন্ত সিংহ-এর ভূমিকায় অভিনয় করছেন। সিনেমার মূল থিম অ্যাকশন ঘরানা এবং ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত। অনন্ত সিংহ ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
জিৎ-র বিপরীতে ছবিতে অভিনয় করেছেন টোটা রায় চৌধুরী, রজতাভ দত্ত, সোমনাথ করসহ আরও অনেকে। সিনেমার মুক্তির জন্য লক্ষ্য করা হয়েছে ১৫ আগস্ট, ২০২৬।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইস্যাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে নগরের দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে র্যাব-৭–এর একটি বিশেষ দল তাকে আটক করে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসাইন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
র্যাব ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চুরি ও ছিনতাইয়ের মাধ্যমে অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন শহিদুল। ভিড়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে মানুষের কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল তার প্রাথমিক কৌশল। পরবর্তী সময়ে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে গড়ে তোলেন একটি সশস্ত্র বাহিনী।
চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত শহিদুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদকসহ কমপক্ষে ২০টি মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যে উঠে এসেছে, তার একটি নিজস্ব *‘টর্চার সেল’*ও ছিল।
চাঁদা না দিলে গুলি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, চাঁদার টাকা না পেলে শহিদুল ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করত। গত ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশের বাদুড়তলা এলাকায় একটি গ্যারেজের সামনে তার সহযোগী মুন্নার গুলি চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এর আগেও গত বছরের ১০ নভেম্বর চান্দগাঁও থানার কাছাকাছি একটি মোটর গ্যারেজে চাঁদা না পেয়ে শহিদুল নিজেই গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় গ্যারেজ মালিকের কাছে প্রথমে ২০ লাখ টাকা এবং পরে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা। একই বছরের ১৯ অক্টোবর এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের ঘটনাতেও শহিদুল ও তার সহযোগীদের নাম উঠে আসে।
৩০ সদস্যের বাহিনী, রয়েছে বিদেশি অস্ত্র
পুলিশ ও র্যাব জানায়, শহিদুল প্রায় ৩০ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যারা মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিতে সক্রিয় ছিল। তার একাধিক সহযোগী বিভিন্ন মামলার আসামি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করতে পারেনি শহিদুলের কাছে মোট কত অস্ত্র রয়েছে। তবে গত অক্টোবর মাসে তার সহযোগীদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়, যেখানে তার বাহিনীর হাতে অস্ত্র দেখা যায়।
‘টর্চার সেলে’ পাওয়া যায় লুট হওয়া গুলি
চান্দগাঁও ও বহদ্দারহাট এলাকার একটি ভবনকে শহিদুল তার নির্যাতন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে আগেও তার বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার হওয়া কিছু গুলি ও খোসা থানার কাছ থেকে লুট হওয়া বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সেসময় পুলিশ জানায়, যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদের ওই নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে শারীরিকভাবে নিপীড়ন করা হতো। সেখানে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও নজরদারির সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
মেশিনে গণনা হতো চাঁদার টাকা
আরও জানা গেছে, শহিদুলের বাহিনী চাঁদাবাজি ও মাদক বিক্রির টাকা দ্রুত হিসাব করতে ব্যাংকে ব্যবহৃত টাকা গণনার যন্ত্র ব্যবহার করত। এক অভিযানে ওই যন্ত্রসহ নগদ অর্থ ও মাদক উদ্ধার করে পুলিশ।
শহিদুল ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা। পড়াশোনা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও থাকলেও কোনো আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তার সহযোগীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


জামালপুরে
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ইজিবাইকের ৪ যাত্রীর প্রাণ
গেলো । এ ঘটনায়
আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
সোমবার
(২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর টাঙ্গাইল মহাসড়কে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জামালপুর
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলগামী একটি কাভার্ডভ্যান দ্রুত বেগে জামালপুর শহরগামী একটি ইজিবাইককে চাপা দিলে ইজিবাইক যাত্রী রাশেদ মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ইজিবাইকের অন্য যাত্রী চাঁন মিয়া ও আরিফা খাতুন
পলি এবং অজ্ঞাত একজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত
চাঁন মিয়া সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নে বাসিন্দা, আর রাশেদ মিয়া
ও পলির বাড়ি সরিষাবাড়ী উপজেলায়।
এদিকে
গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর, সাদিকা, ফারজানা, সন্ধ্যা, শিশু আরশ এবং অজ্ঞাত আরও একজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাদের সবাইকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আহতদের
বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত এবং তিতপল্লা ইউনিয়নে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
জামালপুর
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই
চালক পালিয়ে যায়। কাভার্ডভ্যান আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অজ্ঞাতদের
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান ওসি।
মন্তব্য করুন


বগুড়া–নওগাঁ মহাসড়কে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক সোয়া আটটার দিকে আদমদীঘি উপজেলার পূর্ব ঢাকা রোডের বড় আখিড়া মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আরজিপাড়া আচলাই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৪২) ও তার ভাতিজা রাসেল মোল্লা (৩৫)। তারা দুজনই একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ফজলুল প্রামাণিকের ছেলে মিজু আহমেদ (২৪)।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে শিবগঞ্জ এলাকা থেকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় তিনজন যাত্রী নওগাঁর মান্দা উপজেলার দেলুয়াবাড়ি হাটে কচু বীজ কেনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা অত্যন্ত কম ছিল। অটোরিকশাটি বড় আখিড়া মোড়ে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা নওগাঁগামী একটি বাস অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি উল্টে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।ঘটনাস্থলেই রফিকুল ইসলাম ও রাসেল মোল্লার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও আদমদীঘি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহত মিজু আহমেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। দুর্ঘটনার পর অটোরিকশাচালক পালিয়ে যান।আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


পরিবারের
মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সায়েদ আহমেদ বিল্লাল (৩০)।
তার চোখে ছিল স্বচ্ছল জীবনের আশা। বুক ভরা ছিল পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু
সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
প্রবাস
জীবনের মাত্র চার বছরের মাথায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযাত্রা। থেমে
গেছে পরিবারের আশার আলো।
নিহত
সায়েদ আহমেদ বিল্লাল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বারবাড়িয়া ইউনিয়নের পাকাটি গ্রামের
বাসিন্দা পান ব্যবসায়ী মো: রুহুল আমিনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় চার বছর আগে তিনি
সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
পারিবারিক
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরে কর্মস্থল
থেকে ফেরার পথে রাস্তা পার হচ্ছিলেন সায়েদ আহমেদ বিল্লাল। এসময় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক
দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
সোমবার
(১২ জানুয়ারি) সকালে বিল্লালের সাথে থাকা প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর
খবর জানতে পারেন। এদিকে খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তার পরিবারসহ এলাকায় নেমে আসে শোকের
ছায়া।
নিহতের
স্বজনরা জানান, বিল্লাল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা
ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে বিল্লালের দেশে ফেরার কথা ছিল। তার
এই অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে
পরিবারের পক্ষ থেকে তার লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের তরুণদের রক্ষা করুন। তাহলে
আমরা সবাই এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা পাবে। যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা
বুঝে গেছে, তরুণ যোদ্ধারা তাদের পুনরুত্থানের পক্ষে ভীষণ রকম বাধা। এই অস্ত্রহীন, ভীতিহীন,
ব্যক্তিগত স্বার্থ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন— দৈনন্দিন এই চেহারার ছেলেমেয়েদের
নিয়ে তাদের সাংঘাতিক ভীতি। 'তাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচন আসার আগেই পথের এই বাধাগুলি
সরিয়ে ফেলা, নিজেদের রাজত্ব আবার কায়েম করা। তাদের বন্ধুরা যতদিন তাদের সঙ্গে আছে
ততদিন তারা এই স্বপ্ন দেখবে। নির্বাচন হয়ে গেলে তাদের বন্ধুরা সমর্থন জোগাতে বেকায়দায়
পড়বে। সেজন্যই এত তাড়াহুড়া। তারা চায় নির্বাচনের আগেই তাদের ফিরে আসা নিশ্চিত করতে।
নানা ভঙ্গিতে এটা তারা করবে। এই চোরাগোপ্তা খুন করার উদ্যোগ তার একটা রূপ। আরও কঠিনতর
পরিকল্পনা নিয়ে তাদের প্রস্তুতি আছে'— যোগ করেন তিনি।
মহান
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে
এসব কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি
আরও বললেন, দেশের সবাইকে জোর গলায় বলতে হবে, আমরা তরুণদের রক্ষা করবো। এখানে পুরনো
আমলের দাসত্ব মেনে যারা আছে, তাদেরকে দাসত্ব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ
নির্বাচন করে আমরা সবাই মিলে দেশের ওপর আমাদের পরিপূর্ণ দখল প্রতিষ্ঠিত করবো। সব রকমের
হিংসা, কোন্দল থেকে দেশকে বাঁচানোর কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন,
নির্বাচন অবধি আর বাকি মাত্র দু’মাস। আমরা তাদের (দেশ ছেড়ে পালানো শিক্ত)
ওপর নজর রাখবো এবং বাকি দিনের প্রতিটি দিন উৎসবমুখর করে রাখবো। যেহেতু আমাদের কিশোর-কিশোরী
তরুণ-তরুণীদের মনে কোনো ভয়ডর নেই, তাই তারা নির্বাচনের আগের দু’মাসের
প্রতিটি মুহূর্তকে উৎসবমুখর করে রাখবে।
মন্তব্য করুন


কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইকরামুল
হক সাজিদ মারা গেছেন। নিহত সাজিদের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলায়।
আজ বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকাল সোয়া ২টায়
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
জানা যায়, সাজিদ গত ৪ আগস্ট মিরপুরে
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘ
১০ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে মারা যান
তিনি।
সাজিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক হুমায়ুন কবির চৌধুরী ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও তার রুহের মাগফেরাত
কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন