

রাজবাড়ীর
কালুখালীতে নিখোঁজের পরদিন হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি পাটক্ষেত থেকে আসাদুল ইসলাম
(২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যার পর তার লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলার
চেষ্টা করা হয়।
সোমবার
(১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের সূর্যদিয়া
মাদ্রাসার পাশের পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে কালুখালী থানা পুলিশ।
এর
আগে রোববার রাত ১০ টার দিকে আসাদুল ইসলামের নিখোঁজের বিষয়টি থানায় অবগত করেন তার পরিবার।
আসাদুল
ইসলাম মদাপুর ইউনিয়নের বিলমানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে। তিনি বালিয়াকান্দির
মীর মশাররফ হোসেন ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী বলে দাবি
করেছেন জেলা জামায়াতে অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম।
জানা
গেছে, রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হন আসাদুল ইসলাম। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খোঁজাখুঁজি
করে সন্ধান না পেয়ে রাত ১০ টার দিকে স্থানীয় থানা পুলিশকে নিখোঁজের বিষয়টি অবগত করে
তার পরিবার।
সোমবার
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পাংশা
সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার দেবব্রত সরকার বলেন, সকালে পাটক্ষেতে থেকে নিখোঁজ হওয়া
আসাদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসাদুলকে হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা
হয়েছে। আসাদুলের লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
হত্যার কারণ উদঘাটন ও এরসঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রাজবাড়ী
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আসাদুল মদাপুর ইউনিয়নের
৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সেক্রেটারি ছিলেন। গতকাল বিকেলে সোনাপুর
হাটে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অবহিত করা
হয়। আজ সকালে একটি পাটক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।
মন্তব্য করুন


ওমানে
এসির বিষাক্ত গ্যাসে মারা যাওয়া চট্টগ্রামের চার ভাইকে বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের
সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল ১১টায় রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়
মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় তাদের জানাজা। হৃদয়বিদারক সেই জানাজায়
ইমামতি করেন বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই এনামুল হক।
প্রবাসজীবনের
স্বপ্ন নিয়ে একে একে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন পাঁচ ভাইয়ের চারজন। পরিবারের স্বচ্ছলতা
ফেরাতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেছেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ হয়ে গেল এক
রাতের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। প্রবাস থেকে দেশে ফিরলেন চার ভাই, তবে জীবিত নয় নিথর দেহ
হয়ে।
মঙ্গলবার
(১৯ মে) রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া
উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভোর
থেকে চার ভাইকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আশপাশের হাজারো মানুষ। পাশাপাশি রাখা
চারটি লাশবাহী খাটিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে
ছিলেন, কেউ আবার বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না একই পরিবারের চার ভাই একসঙ্গে চলে গেছেন।
জানাজার
আগে উপস্থিত মানুষের সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন একমাত্র জীবিত ভাই এনামুল
হক। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি শুধু বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন।”
পরে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার ভাইকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের
ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথম ওমানে যান। পরে একে একে অন্য
ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে
আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে ওঠেন। কয়েক বছর আগে দেশে জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণও শুরু
করেছিলেন তারা। পরিবারের দুই ভাই সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন, যার একজন মাত্র কয়েক মাস
আগে ওমানে গিয়েছিলেন।
রাঙ্গুনিয়া
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ দেশে পৌঁছানোর আগেই জানাজা
ও দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহত
প্রত্যেক প্রবাসীর পরিবার তিন লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে এবং দ্রুত সেই সহায়তা পৌঁছে
দেওয়ার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সময়ে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রবাসী
কল্যাণ মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
জানা
গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে
গাড়ির ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চার ভাই। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত
গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন


আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় কোথাও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস নেই। তাছাড়া কোথাও শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিদপ্তর এসব তথ্য জানিয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস খেকে জানায়, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
সকাল থেকে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। পাশাপাশি মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা ও দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময়ে সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা
চলছে, সতর্ক থাকুন।’
তিনি
বলেন, ‘আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক
থাকতে হবে। কারণ, দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।’
আজ
শনিবার ( ২৩ মে ) দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’
পুনঃখননের পর উপস্থিত নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসীদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা
বলেন।
পল্লবীতে
শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক,
হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটছে। এই ছোট্ট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম থেকে
আমরা বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি পেতে হবে।
আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে সব কিছু নিয়ম কানুন মেনেই করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘যে কোন অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়ম
কানুন আছে। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে
পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান বাহন চলাচল বন্ধ
করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে
তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায়
ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে, সেই অন্যায় যখন ঘটেছে
আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের আইনজীবী, আমাদের
দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। আজকে
যেই ব্যক্তিরা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদেরকে
আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে।’
তিনি
প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ
যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা
হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত
করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে
‘৯৬ সালে করেছিল, যেইভাবে ’৮৬ সালে করেছিল,
তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে। সুন্দর
ছোট ছোট লেজেও গজিয়েছে।’
তিনি
বলেন, ‘আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের
ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষ, গ্রামে বাস
করা মানুষের সকল প্রকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সেই স্বৈরাচারকে এই বাংলাদেশের মানুষ
ছাত্র-জনতা রাজপথে একত্রিত হয়ে তাদেরকে এই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন
করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয়
করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই
আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’
জনগণের
ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলে, ‘আজকে সময় এসেছে
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার। অন্যদিকে যারা ন্যায় বিচারকে, সঠিক বিচারকে,
বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের
জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি
বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এদেশের মালিক জনগণ। কিছু সংখ্যক মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ছড়াবে
আর তারা সফল হয়ে যাবে,মানুষের ভাগ্যে নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে
না। যারা জনগণের সাথে থাকবে জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে বাংলাদেশের জনগণ
তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যে কোন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।’
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা,
আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখব এবং যে কোন ষড়যন্ত্র
প্রতিহত করব আমরা ইনশল্লাহ।’
ময়মনসিংহ-৭
আসনে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এর
আগে প্রধানমন্ত্রী খাল পূনঃখনন স্থলে এসেই ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি নিজে খালের
কাছে গিয়ে কোদাল দিয়ে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি
খালের পাশে একটি তাল গাছের চারাও রোপণ করেন।
মন্তব্য করুন


বর্তমান
সরকার অতীতের সব সময়ের চেয়ে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী
আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রোববার (১৪ জুন) সকালে ইউনিসেফ আয়োজিত বাংলাদেশের শিক্ষা খাত
বিশ্লেষণ নিয়ে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী
বলেন, প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে স্কুলইউনিফর্ম প্রদান,
মিড ডে মিল চালুসহ নানামুখি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।
শিক্ষা
খাতের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে
তা সমাধানে কাজ করবে সরকার। একইসঙ্গে দেশের কোথাও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটলে তা বরদাস্ত
করবে না সরকার।
একই
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
মানসম্মত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে না— এমন দাবি তুলে অভিভাবকরা কিন্ডারগার্টেন
স্কুলের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সব ধরনের চেষ্টা করছে সরকার।
এ ছাড়া, প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সরকার নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মন্তব্য করুন


ইসলামাবাদের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক এগিয়ে
নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানের
আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ
ইউনূস।
ডি-৮ সম্মেলনের সাইডলাইনে আজ বৃহস্পতিবার
(১৯ ডিসেম্বর) মিসরের রাজধানী কায়রোর একটি হোটেলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ
শরিফের সঙ্গে বৈঠকের সময় অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, বিষয়গুলো বারবার আসছে। আসুন আমরা সামনে
এগিয়ে যেতে সেই বিষয়গুলোর ফয়সালা করি।
জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ
শরিফ বলেন, ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত বিষয়গুলো মীমাংসা
করেছে, কিন্তু যদি অন্যান্য অমীমাংসিত সমস্যা থাকে, তবে সেগুলো দেখতে পেলে তিনি খুশি
হবেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের
জন্য বিষয়গুলো চিরতরে সুরাহা করে ফেলা ভালো হবে।
তারা ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া
ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদের বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে সম্মত
হন।
এখানে প্রাপ্ত এক বার্তায় বলা হয়, দুই
নেতা চিনি শিল্প এবং ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার মতো নতুন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারিত করার
ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার ঘোষিত বৈদেশিক নীতির মূল বৈশিষ্ট্য সার্কের
পুনরুজ্জীবনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে শরিফের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস ২০২৬ সালের মধ্যভাগের
আগে ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার’ এবং সাধারণ নির্বাচন করতে তার সরকারের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ
করেন। তিনি বলেন, তিনি সংস্কারের বিষয়ে সংলাপের জন্য একটি ঐকমত্য গঠন কমিশনের নেতৃত্ব
দিচ্ছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ
ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান। শরিফ বলেন, আমরা
সত্যিই আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার অপেক্ষায় রয়েছি।
তিনি সার্কের পুনরুজ্জীবনে অধ্যাপক
ইউনূসের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আঞ্চলিক সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের সম্ভাবনা
নিয়ে কাজ করার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
অধ্যাপক ড. ইউনূস শরিফকে বলেন, এটি
একটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
সার্ক বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
ড. ইউনূস বলেন, আমি সার্কের ধারণার একজন বড় অনুরাগী। আমি ইস্যুটি নিয়ে কথা বলেই যাব।
আমি সার্ক নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন চাই। তিনি বলেন, যদিও তা কেবল একটি ফটোসেশনের জন্যেও
হয়, তবুও এটি একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের
রাষ্ট্র পরিচালিত চিনিকলগুলোকে আরও ভালোভাবে পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব
দেন। তিনি বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কারণে মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন,
ঢাকা এ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রায় এক দশক আগে পাঞ্জাবে
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই বিশ্বমানের বলে প্রশংসিত হয়েছিল। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের
সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার জন্য আমরা বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠাতে পারি।
অধ্যাপক ড. ইউনূস, শেহবাজ শরিফকে তার
সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা করেন পাকিস্তান ও বাংলাদেশ এই প্রচেষ্টা অব্যাহত
রাখবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে
সিদ্দিকী।
সিদ্দিকী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দারকে ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং তিনি সেই
প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূসকে তার সুবিধামতো সময়ে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
মন্তব্য করুন


জাবিতে
(জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার
অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার
(১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা
ঘটে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের
মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী
শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা জানান, রাত ১১টার দিকে ওই শিক্ষার্থী রাস্তা দিয়ে একা যাচ্ছিলেন।
এ সময় এক ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন
এলাকায় পৌঁছালে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীর গতিরোধ করেন।
শিক্ষার্থী
তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮তম ব্যাচের ছাত্র এবং
পাশের ‘বিশমাইল’ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন।
কথা
বলার মাঝপথেই আচমকা কাপড় দিয়ে ভুক্তভোগীর গলা পেঁচিয়ে তাঁকে সড়কের পাশে অন্ধকার স্থানে
নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি। শিক্ষার্থীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত
ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে পথচারীরা তাঁকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে
নিয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়
চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর হোসেন জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে
প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও
মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
ঘটনার
পর রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা কার্যালয়ে প্রক্টোরিয়াল বডি, জাকসু
নেতৃবৃন্দ এবং নারী শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন।
ফুটেজে
একজন ব্যক্তিকে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তবে অন্ধকারের কারণে
এবং দূরত্ব বেশি থাকায় এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ
বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত
ন্যাক্কারজনক ও দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি। পুরো ক্যাম্পাস নজরদারির
আওতায় রয়েছে, আশা করছি দ্রুতই অপরাধীর পরিষ্কার ছবি ও পরিচয় পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়
প্রশাসন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া
শুরু হয়েছে।’
এদিকে,
ঘটনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সাধারণ
শিক্ষার্থীরা। তাঁরা ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি
অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
বকশীগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড
দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এই
মামলার আরও এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার
(৬ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক
মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা
মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম ও আছমত।
অন্যদিকে,
আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস
দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক জানান, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে
আসামিরা বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় এক গৃহবধূকে অপহরণ করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে
নিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বকশীগঞ্জ থানায় নারী
ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়।
মামলায়
৯ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত
ও অন্যান্য উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ
সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড
দিয়েছেন।
অন্যদিকে,
আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
মন্তব্য করুন


২০২৬
বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত কিংবা ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোল; ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনো তা একদম তরতাজা।
মাঠের সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল
বিশ্বের দুই সেরা শক্তির মুখোমুখি লড়াই নিয়ে নতুন করে সুর ছড়িয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে যখন আধিপত্য ধরে রাখার পরীক্ষা, আর্জেন্টিনার সামনে তখন বিশ্বকাপের হারের হিসাব চুকানোর মোক্ষম সুযোগ। বহুল আলোচিত উয়েফা-কনমেবল ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি ঘিরে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে ফুটবল প্রাঙ্গণ।
ইএসপিএন
আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী,
দুই মহাদেশের সেরা দুই দলের এই মহারণ এ
বছরের শেষেই মাঠে গড়াতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের ঐতিহ্যবাহী লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই
হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ। শোনা যাচ্ছে, কাতার সরকার ইতোমধ্যেই এই কাঙ্ক্ষিত ম্যাচটি
আয়োজনের স্বত্ব বাগিয়ে নিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান
ফুটবল সংস্থা (উয়েফা ও কনমেবল) এখনো
আনুষ্ঠানিকভাবে দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।
মূলত
২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরুর আগেই চলতি বছরের মার্চ মাসে কাতারে এই ম্যাচটি হওয়ার
কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি
ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাধ্য হয়ে আয়োজকরা সূচি বাতিল করেন। পরবর্তীতে বিকল্প হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাবেউ কিংবা দুই দেশের মাটিতে হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলার প্রস্তাব উঠলেও দলগুলোর সম্মতির অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ভাগ্যচক্রে
সেই স্থগিত ম্যাচই দু দলকে এনে
দাঁড় করিয়েছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ মঞ্চের ফাইনালে। যেখানে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে ১০ জনের দলে
পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ১-০ গোলে
হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন।
১৯৭০
ও ৮০-র দশকের
ঐতিহ্য ফিরিয়ে ২০২২ সালে উয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে
হারিয়ে নতুন সংস্করণের প্রথম ফিনালিসিমা ট্রফিটি জিতেছিল আলবিসেলেস্তারা। এবার যদি নভেম্বরে প্রস্তাবিত এই ম্যাচটি বাস্তবায়িত
হয়, তবে একদিকে যেমন থাকবে লা রোহাদের বিশ্বসেরার
তকমা আরও পোক্ত করার লড়াই, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে থাকবে স্প্যানিশ কৌশলের জবাব দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধার করার মোক্ষম সময়।
মন্তব্য করুন


কপ ২৯ সম্মেলনের আগে ন্যায়সংগত জলবায়ু
অর্থায়নের জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আজ রাজধানীর পরিবেশ অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত
‘রোড টু বাকু: কপ ২৯ - বাংলাদেশে সিএসওগুলোর জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত অবস্থান’ শীর্ষক
এক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন ও প্রশমন কৌশলগুলো ন্যায়সংগত হতে হবে এবং সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ
জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংকট মোকাবেলায় একশ’ বিলিয়ন ডলার
প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাড়াতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অর্থ সাহায্য কিছু আর্থিক সমস্যার
সমাধান করলেও প্রকৃত জলবায়ুর ক্ষেত্রে ন্যায় বিচার হবে না।
পরিবেশ উপদেষ্টা বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা
১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের আশাবাদ পুন:ব্যক্ত
করেন।
তিনি অভিযোজন পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ
করেন এবং তরুণদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে
তুলে ধরা এবং উচ্চাভিলাষী প্রশমন উদ্যোগ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন
তিনি।
তিনি কপ ২৯ সম্মেলনের আগে বাংলাদেশে
নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
উক্ত সেমিনারে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
ড. আবদুল হামিদ, এনএসিওএমের নির্বাহী পরিচালক
ড. এস এম মুনজুরুল হান্নান খান, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ
কবির বক্তব্য রাখেন। এতে বিভিন্ন সিএসও, জলবায়ু কর্মী এবং নীতি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল কপ ২৯ সম্মেলনের
আগে বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের একটি একক অবস্থান গঠন করা।
পরে কপ ২৯ সম্মেলনে জোরালো এডভোকেসির
আহ্বান জানানো হয়, যাতে বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর
কণ্ঠস্বর শোনা যায়।
মন্তব্য করুন


সিরাজগঞ্জের
কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলা কৃষি
কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা করা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার কৃষকদের মাঝে ভেজাল সার বিতরণের
ঘটনায় আলোচনায় আসেন এই কর্মকর্তা।
সোমবার
(২৯ জুন) সকালে বিষয়টি তাকে বদলির নিশ্চিত করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের
উপপরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা।
এর
আগে রোববার এক অফিস আদেশে রতন চন্দ্র বর্মনকে খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা
হিসেবে বদলির আদেশ জারি করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
অফিস
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কামারখন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মনকে আগামী
১লা জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান করতে
হবে অন্যথায় ২ জুলাই থেকে তিনি স্ট্যান্ড রিলিজ বলে গণ্য হবেন।’
গত
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের
কামারখন্দে গাছের চারা ও সার বিতরণে জৈব সারের পরিবর্তে পলিথিন মেশানো মাটি, ময়লা-আবর্জনা
বিতরণের অভিযোগ তোলেন কৃষকরা। এই ঘটনায়, ‘২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে পলিথিন মেশানো
ভেজাল সার বিতরণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে ইত্তেফাক
অনলাইন।
পরদিন
বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জহুরুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট
তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের
অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) আনোয়ার সাদাত, সদর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মেরাজ হোসেন
মিসবাহ। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বেধে দেয়
জেলা প্রশাসন।
মন্তব্য করুন