

নওগাঁর
মহাদেবপুরে নিজ বাড়ির গলিতে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন অলিফ চন্দ্র দত্ত (৫০) নামে
এক স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী। এ সময় তার কাছ থেকে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬ লাখ টাকা
ছিনতাই করে নিয়ে গেছে।
সোমবার
(৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে উপজেলা সদরের
দুলালপাড়ায় হামলার ঘটনা ঘটে। পরে রাত সোয়া ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।
নিহত
অলিফ চন্দ্র দত্ত দুলালপাড়া গ্রামের মৃত শুনিল চন্দ্র দত্তের ছেলে এবং মহাদেবপুর বাজারের
দত্ত জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী।
অলিফের
ছোট ভাই প্রশান্ত চন্দ্র জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাদেবপুর বাজার থেকে
দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন অলিফ। বাড়ির গলিতে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা পেছন
থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এ সময় তার কাছে থাকা ৬ ভরি স্বর্ণালংকার,
নগদ ৬ লাখ টাকা ও দোকানের হিসাব-নিকাশের খাতাপত্র নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এতে
গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়েছিলেন অলিফ। পরে তার আরেক ভাই তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে
দেখে চিৎকার করলে স্বজনরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মহাদেবপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে
চিকিৎসাধীন রাত সোয়া ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত
এবং কী কারণে তাকে আক্রমণ করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত
ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
রাজশাহী
রাজপাড়া থানা পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে। এ বিষয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা
প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
পটিয়ায় ৫ বছরের শিশুকে ঘরে নেওয়ার পর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায়
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহা (১৯)।
আদালতে
জবানবন্দিতে তিনি জানান, তার বাবাকে শিশু জায়হানের বাবা অপমান করেছিল। এই ক্ষোভে শিশুকে
তিনি হত্যা করেছেন। ৩ দিন রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাখাওয়াত হোসেনের আদালতে তাকে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি
দেন। আদালতে নিহা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন
বলে জানা গেছে।
জানা
যায়, গত বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ফরহাদ আসামিদের রিমান্ডের আবেদন
জানান। শুনানি শেষে আদালত প্রধান আসামি সাদিয়া সুলতানা নিহার ৩ দিন এবং জিজ্ঞাসাবাদের
জন্য তার বাবা সাইফুল ইসলাম ও মা শাহনুর আকতারের ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড
শেষে মঙ্গলবার দুপুরে নিহাকে আদালতে নেওয়া হলে তিনি অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তার জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পটিয়া
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য
ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির মাধ্যমে জায়হান হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য ও কারণ
উদঘাটিত হয়েছে। নিহার বাবাকে জায়হানের বাবা অপমান করার কারণে ক্ষোভে এ হত্যাকাণ্ড বলে
তিনি স্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য,
গত ১৬ জুন পটিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়ায় নির্মমভাবে খুন হন সাইফুল ইসলামের
ছেলে শিশু জায়হান। ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের
ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার চেয়ে স্থানীয় লোকজন থানা ঘেরাও করে। ঘটনার একদিন পর নিহাসহ
তার বাবা-মাকে আসামি করে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে জায়হানের পরিবার।
মন্তব্য করুন


গ্রেপ্তারের
এক দিন পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নুরুল আলম নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের
এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে তার মৃত্যু হয়।
মৃত
নুরুল আলম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে
জানা গেছে।
কারাগার
সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে অসুস্থ বোধ করার পর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক)
হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সনদে কারণ হিসেবে শ্বাসকষ্টজনিত
জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম
কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে ২০২৪
সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার
করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে নেওয়ার পর তিনি অসুস্থ
হয়ে পড়েন। বুধবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো
হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি
আরও বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে যখন কারাগারে আনা হয়, তখন তিনি সুস্থ ছিলেন।
তার শরীরে কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। রাতেও কোনো অসুবিধার কথা তিনি জানাননি।
ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সাতকানিয়া
থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার
করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। থানায় যতক্ষণ ছিলেন, তিনি সুস্থ–সবল
ছিলেন। তাকে কেউ মারধর করেনি। মঙ্গলবার বিকেলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
মন্তব্য করুন


একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার মন্নাস আলী ছিলেন ২০ বছরের তরুণ। সেসময়
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সেটি তার পেটে লাগে। প্রচুর রক্তক্ষরণ
হয়; কিন্তু তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
সেই
সময় থেকে গুলিটি তার পেটেই ছিল। সারাজীবন এজন্য তাকে অনেক ভোগান্তি ও কষ্ট পোহাতে হয়েছে।
কিন্তু টাকার অভাব আর ভয়ের কারণে গুলিটি আর বের করা হয়নি।
এখন
যন্ত্রণা অসহ্য পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ৫৫ বছর পর শনিবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মন্নাস আলীর গুলিটি বের করেছেন।
মন্নাস
আলীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তিনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব
দেওয়া দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) তানজিরুল
ইসলাম রায়হান। মন্নাস আলীর বাড়ি উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের হরিয়াউন্দ গ্রামে।
স্বজনরা
বলেন, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময়
গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করে মাটিচাপা
দেন।
এর
প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে হামলা চালায়।
হামলার সময় তারা অর্ধশতাধিক মানুষকেও আটক করে। পরে তাদেরকে একটি ঘরের ভেতরে আটকে রেখে
বাইরে থেকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি করা হয়।
এতে
অধিকাংশই নিহত হন। মাত্র কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে পারেন। মন্নাস আলীও তাদের
মধ্যে একজন ছিলেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি গুলি তার পেটে
বিদ্ধ হয়।
মন্নাস
আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, “বাবা বেশিরভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা
করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় বাবার শরীর থেকে গুলিটি
বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।”
মন্নাস
আলীর পুত্রবধূ হামিদা খাতুন বলেন, “আমার শ্বশুর সব সময় বলতেন, তার শরীরে গুলি রয়েছে।
আজ গুলি বের করার পর আমরা নিজের চোখে সেটি দেখলাম। বাবা বলতেন, মৃত্যুর পর যেন গুলি
বের না করে তাকে দাফন করা হয়। আল্লাহ আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন, আজ গুলিটি বের
হয়েছে।
দুর্গাপুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, “টাকার অভাবে তিনি
এতদিন চিকিৎসা নিতে পারেননি। আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারটি করেছি।”উদ্ধার
হওয়া গুলির বিষয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান চিকিৎসক।
মন্তব্য করুন


পাবনায় কারাগারে থাকা কয়েদিদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
তারা হলেন—জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তৌফিক ইমাম খান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু, গয়েশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহার হোসেন মুতাই এবং আসাদুজ্জামান সুইট। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হামলা ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার আসামি।
এ ঘটনায় শাস্তিস্বরূপ পাঁচ আসামিকে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) অন্য জেলার কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পাবনা জেলার জেল সুপার মো. ওমর ফারুক বলেন, কয়েকদিন ধরেই কারাগারে থাকা অন্য সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছিলেন তারা। সবশেষ ৩ মার্চ বিকেলে এই পাঁচ কয়েদি কারাগারের অন্য কয়েদিদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাদের গায়ে হাত তোলেন।
এ ঘটনার পরে শাস্তিস্বরূপ কয়েদি তৌফিক ইমাম, শেখ লালু ও আসাদুজ্জামান সুইটকে রাজশাহী এবং মুতাই ও অন্যজনকে নওগাঁ জেলা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
পাবনা জেলার জেল সুপার আরো বলেন, বিগত সময়ে তারা বাইরে যেমন বেপরোয়াভাবে কথাবার্তা বলেছেন ও চলেছেন, কারাগারেও তেমনই চলছিলেন। ফলে ঝামেলাটা বাঁধে। অন্য কয়েদিদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও কারাগারে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৪ মার্চ বিকেলে তাদের রাজশাহী ও নওগাঁ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
মন্তব্য করুন


ধানমন্ডিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বাদ এশা ধানমন্ডি সাত নম্বর বায়তুল আমান মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।
প্রথম জানাজার নামাজে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা আগামীকাল শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় হাইকোর্ট চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত হাসান আরিফের মেয়ে দেশে ফেরার পর দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার মেয়ে আগামী রোববার (২২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় দেশে পৌঁছাবেন।
হৃদরোগে আক্রান্ত হলে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে ধানমন্ডি ল্যাব এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ল্যাব এইড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা চৌধুরী মেহের এ খোদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ শুক্রবার বিকেলে ল্যাব এইড হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
এ এফ হাসান আরিফ ২০০১ থেকে ২০০৫ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৭-২০০৮ সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার জন্ম ১৯৪১ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের কলকাতায়। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর স্নাতক ও এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
কলকাতা হাইকোর্টে ১৯৬৭ সালে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ঢাকায় এসে বাংলাদেশ হাইকোর্টে কাজ শুরু করেন হাসান আরিফ।
মন্তব্য করুন


সিলেটের
বিয়ানীবাজারে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্রেতার ঘুষিতে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যবসায়ী।
শনিবার (১১ জুলাই) রাত ৮টার উপজেলার বিবিরাই বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত
আলী হোসেন (৩৮) বিবিরাই পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বিবিরাই বাজারে ব্যবসা
করতেন। অভিযুক্ত ক্রেতার নাম শাহিনুর রহমান (৩৩)। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়
ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে ডিজেল কিনতে আলী হোসেনের দোকানে যান শাহিনুর
রহমান। এ সময় আলী হোসেন তার কাছে আগের বকেয়া টাকা চান। এ নিয়ে প্রথমে দুজনের মধ্যে
কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে গড়ায়। শাহিনুর ঘুষি দিলে আলী হোসেনের
নাকে লাগে। তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। পরে স্থানীয় মানুষেরা আহত আলী হোসেনকে উদ্ধার
করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ
ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে জানিয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, নিহত ব্যক্তির লাশ
ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য করুন


ছাত্র আন্দোলনে আহতদের মধ্যে ১০০ জন
পুলিশের চাকরি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সিআইডির প্রধান
কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সিআইডিতে
আজকে আমার একটা নরমাল ভিজিট ছিল। আমার সঙ্গে আইজিপি ছিলেন। আমরা অনেক বিষয়ে কথা বলেছি।
আপনারা জানেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকে নিহত এবং আহত হয়েছেন। যারা আহত
হয়েছেন তাদের কর্মসংস্থানের একটা ব্যবস্থা কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা এই বিষয়ে একটা প্রপোজাল পাঠিয়েছি। যারা আহত হয়েছে তাদেরকে পুলিশে
চাকরি দেওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সবাইকেতো আর পুলিশে নেওয়া যাবে না, তবে একেকজন একেকভাবে
আহত হয়েছেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আহতদের মধ্যে ১শ’ জনকে আমরা পুলিশ বাহিনীতে নিব।
আমরা দ্রুত এই বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করব। আমরা আপাতত ১শ’ জন আহতকে দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি,
পরবর্তীতে আমরা এই সংখ্যাটা আরো বাড়াব। আমরা আপাতত পুলিশে শুরু করছি পরবর্তীতে আমরা
আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল ডিপার্টমেন্টে এটা করে দিব। ট্রাফিক ব্যবস্থার একটা সমস্যা রয়ে
গেছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আমরা এক হাজার ছাত্রকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে প্রপোজাল পাঠিয়েছিলাম।
এখন পর্যন্ত ৪শ’ জন শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আরো একটি প্রপোজাল পাঠিয়েছিলাম
যে, বিভিন্ন বাহিনীতে যারা অবসরে গিয়েছেন তাদের নিয়োগ দিয়ে ট্রাফিক শৃঙ্খলায় নিয়োজিত
করা। তবে অবসরপ্রাপ্তরা এই বিষয়ে রেসপন্স খুব কম দিয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম তারা অনেকে
আসতে চাইবে। তবে আমরা আপাতত ৫০-৬০ জনের মত পেয়েছি। আমরা চেয়েছিলাম অন্তত ৫শ’ জন দিয়ে
শুরু করি।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সঙ্গে ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনার বিষয়টা কেমন হবে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা যেন পড়াশোনা
ঠিক রাখতে পারে সেজন্য তাদেরকে আমরা সময়টা কম দিয়েছি। তারা যেন পড়াশোনাও করতে পারে
এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। তাদের সম্মানী দেওয়া হচ্ছে।
তারা রাস্তায় ২-৩ ঘণ্টা কাজ করবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের
আমলে সব থেকে বড় সমস্যা ছিল মানি লন্ডারিং। মানি লন্ডারিং নিয়ে আমি সিআইডি প্রধানকে
সব থেকে বেশি ইন্সট্রাকশন দিয়েছি। আমি সিআইডি প্রধানকে বলেছি যে, তিনি যেন দ্রুত বাংলাদেশ
ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরির ঘটনার প্রতিবেদন দেন। বিগত সরকারের আমলে মানি লন্ডারিং সব
থেকে বেশি হয়েছে। আমি সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছি মানি লন্ডারিং এর মামলাগুলোর প্রতিবেদন
যেন দ্রুত দেয়া হয়। তদন্তের
নামে সময়ক্ষেপন করে লাভ নেই। আমি একটা রিপোর্ট চাই যে কারা কারা মানিলন্ডারিং এর সঙ্গে
জড়িত। সেটা আমি সিআইডিকে বলেছি। যদি তদন্তের নামে দুই তিন বছর চলে যায় তাহলে তো এটার
কোন কার্যকারিতা থাকে না।
মন্তব্য করুন


বগুড়ায়
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতার বিরুদ্ধে কয়েকজন ছাত্রী ও নারী শিক্ষকদের উত্ত্যক্ত
এবং তাদের অশালীন কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবাদে
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে তাকে জুতা পেটা করেছেন। পরে তিনি ভবিষ্যতে আর
এমন কাজ করবেন মর্মে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়েছেন।
গত ২৪ মে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
ওই
নেতা বগুড়ায় অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডের
ছাত্র। তার নাম আলী আজম সাব্বির খান। এ প্রসঙ্গে
টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম ইমদাদুল হক বলেন, এটা একটি সাধারণ ঘটনা। ওই ছাত্রকে বহিষ্কার করা হবে। জানা যায়, জেলা এনসিপি
ওই নেতাকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও তিনদিনের কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে
জানা গেছে, বগুড়া শিবগঞ্জের দহিলা গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে এনসিপি নেতা আলী আজম
সাব্বির খান বগুড়া টিটিসিতে তিন মাসের ড্রাইভিং ও আরএসি ট্রেডে ভর্তি হন। তিনি নিজের
ট্রেডের পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেডের অন্তত ২০ জন ছাত্রীকে মোবাইল ফোন ও সরাসরি নানাভাবে
উত্ত্যক্ত ও অশালীন কুপ্রস্তাব দেন। শুধু তাই নয়; প্রতিষ্ঠানের অন্তত ছয়জন নারী শিক্ষককেও
একই ধরনের কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে নিষেধ করলে তিনি তাদের
এনসিপির সমন্বয়ক পদের ভয় দেখান। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা টিটিসির অধ্যক্ষের কাছে বিচার
দাবি করেন। পরে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এরপরও এনসিপি নেতা সংশোধন
হননি। তিনি প্রতিষ্ঠান ছুটির দিন গত ২৪ মে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচারণ
ও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে জুতাপেটা করেন। এরপর ভবিষ্যতে
এমন কাজে জড়িত থাকবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পান। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের
মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নারী শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের হয়রানির
সঙ্গে জড়িত সাব্বিরকে আইনের আওতায় এনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ
ঘটনার পর জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত বার্তায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের
অভিযোগে সাব্বিরকে সংগঠনের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও শোকজ করা হয়েছে।
আগামী
তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা এনপিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ ও সদস্য সচিব
সুলতান মাহমুদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফোন না ধরায় এ নেতাদের
বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনুচ্ছিক জেলা এনসিপির এক দায়িত্বশীল
নেতা আলী আজম সাব্বির খানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন




শনিবার (২ মার্চ) সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা ধীরগতিতে ইন্টারনেট সেবা মিলবে।
কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৪) সিস্টেমের সিঙ্গাপুর প্রান্তে রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সারাদেশে ইন্টারনেটে ধীরগতি থাকবে। তবে কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের (সি-মি-উই-৫) মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো চালু থাকবে।
বিএসসিপিএলসি কর্তৃপক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সময় গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কক্সবাজারে দেশের প্রথম সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৪) সিস্টেমের সিঙ্গাপুর প্রান্তে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করবে কনসোর্টিয়াম। এ কাজের জন্য ২ মার্চ শনিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রায় ১২ ঘণ্টা সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সংযুক্ত সার্কিটগুলো আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। ফলে বিএসসিপিএলসির গ্রাহকরা সাময়িকভাবে ইন্টারনেটে ধীরগতির সম্মুখীন হতে পারেন বা ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন