

আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
এর আগে গত (০১ ডিসেম্বর ) সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধানবান্ধি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
সংঘর্ষে ব্যবহৃত পিস্তলসহ ২ রাউন্ড গুলিও পরে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার তুষার মন্ডল ঈশ্বরদী উপজেলার ভেলুপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে।
পাবনা–৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তোলা তুষারের ছবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, তুষার জামায়াতকর্মী।
তবে জামায়াত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৭ নভেম্বর ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি মোড়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় তুষার মন্ডল প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। সংঘর্ষের পর বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি ২ টি মামলা হয়।
ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে ধানবান্ধি এলাকা থেকে তুষারকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরদীর ভেলুপাড়ায় বালুর নিচে পুঁতে রাখা পিস্তল ও ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে তুষার পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর সংঘর্ষে প্রদর্শিত আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটির প্রতিনিধি দল।
আজ
সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন আসনটিতে
বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম।
সকাল থেকেই সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে
এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয়।
মনোনয়নপত্র
জমা দেওয়া শেষে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, আল্লাহর রহমতে আমরা
সুন্দরভাবে তারেক রহমানের মনোনয়নপত্রটি জমা দিতে পেরেছি। দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের যে নেতাকে
তারা প্রবাস জীবনে বাধ্য করেছিল, আজ আল্লাহর রহমতে জনগণের দোয়ায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এই নির্বাচনের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি।
আব্দুস
সালাম বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার দিন নগরবাসী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বরণ
করে নিয়েছেন, সে জন্য আমরা নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। ঠিক একইভাবে আগামী ফেব্রুয়ারির
১২ তারিখের নির্বাচনেও ঢাকা-১৭ আসন এলাকার জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের নেতার পক্ষে
ভোট দেবে বলে আমরা আশা করি। তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে একটি ভোটের জন্য
অপেক্ষা করছে। নতুন প্রজন্ম গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। নতুন প্রজন্মের সব
ভোট ধানের শীষের পক্ষে হোক, এটাই আমরা আশা করি।
তিনি
বলেন, এখনও যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা ভেদ করে একমাত্র বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলই এই দেশের
সব জনগণের পক্ষে কথা বলবে।
এ
সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাকা
মহানগর উত্তর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী আমিনুল হক, মহানগর উত্তর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি
মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন
জুয়েলসহ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক
নেতা-কর্মী।
বিএনপি’র
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা-১৭ আসনকে ঘিরে দলটির প্রস্তুতি বেশ কিছুদিন ধরেই
চলছিল। দেশে ফেরার পর গত শনিবার তারেক রহমান
ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হন। এরপর থেকেই বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা তাকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে
নির্বাচন করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। গুলশান-বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকা নিয়ে
গঠিত ঢাকা-১৭ আসন। এই আসনে বিএনপি’র
জোটসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের
নির্বাচন করার কথা শোনা যাচ্ছিল।
তবে
তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার
ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি’র চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
করা হয়। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনটি
আসন— বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন
বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সিটি
করপোরেশনসমূহের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে পাঁচ হাজার টাকা করে ঈদ উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক কর্মীকে এ টাকা প্রদান করা হয়। রবিবার
(১৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ সচিবালয়ে নিজ কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের
মেয়র ও অন্যান্য সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ
সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী
মীর শাহে আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ অন্যান্য সিটি
করপোরেশনসমূহের প্রশাসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের
প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দেশের শহরগুলোকে
পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের
এই নিরলস পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
তিনি
আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে।
পাশাপাশি
নগর সেবায় নিয়োজিত সকল কর্মীর কল্যাণে সরকার ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক
উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।
মন্তব্য করুন


দেশবাসীর
প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো একনজর দেখা আর জানাজায় অংশ নেওয়ার ব্যাকুলতা নিয়ে ঢাকার
পথে সর্বস্তরের লাখো মানুষ। বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ, যে যেভাবে পারছেন, গতকাল মঙ্গলবার
রাত থেকেই রাজধানীর পথ ধরেছেন।
আজ
বুধবার সকাল হতে না হতেই সেই জনস্রোত মিশতে শুরু করেছে মানিক মিয়া এভিনিউতে।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই
দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী এই যাত্রা শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এই
স্রোত আরও জোরালো হয়। রাতে ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের নেতাকর্মীরা নদীপথে
সদরঘাটে এসে পৌঁছান। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা
ট্রেন ও বাসগুলোতেও ছিল তুলনামূলক ভিড়। সবার গন্তব্য একটাই, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা।
তীব্র
শীত উপেক্ষা করে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায়
জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে সংসদ ভবন চত্বর ও এর
আশপাশের সড়ক। অনেকে ফুটপাতেই রাত কাটিয়েছেন প্রিয় নেত্রীর জানাজায় সামনের কাতারে থাকার
আশায়।
জাতীয়
বার্তা সংস্থা বাসসের কথা হয় বাষট্টি বছর বয়সী কৃষক সাত্তার মিয়ার সাথে। লাঠিতে ভর
দিয়ে তিনি সুদূর বগুড়া থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাতেই ঢাকায় পৌঁছান। থাকবার জায়গা না থাকায়
তীব্র শীত উপেক্ষা করে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তায়। ভেজা চোখে
তিনি বলছিলেন, ‘ম্যাডাম হামাগের মা। ওনারে শেষবারের মতো দেখমু না, তা কি হয়? শরীর চলে
না, তাও মনের জোরে আসছি। ওনার জানাজায় শরিক হতে পারলেই শান্তি।’
সরেজমিনে
দেখা গেছে, সমবেত মানুষের চোখেমুখে গভীর শোকের ছায়া। দলীয় কার্যালয় ছাড়াও সড়কগুলোতে
উড়ছে কালো পতাকা। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে আজ ভোর থেকেই মিছিল নিয়ে আসছেন নেতাকর্মীরা।
তাছাড়া দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ শেষবারের মত শ্রদ্ধা জানাতে মানিক মিয়ার
পথ ধরেছেন।
আজ
দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত
হবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব এই জানাজায় ইমামতি করবেন। এরপর পূর্ণ রাষ্ট্রীয়
মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে
সমাহিত করা হবে।
গতকাল
মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল
করেন (ইন্নানিল্লাহে........রাজিউন) দেশের তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রী। জীবনের শেষ মুহূর্তে
পাশে ছিলেন তাঁর বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
মন্তব্য করুন


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার বিদায়ী ক্যাবিনেট বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন।পোস্টে তিনি লিখেছেন, গত ষোলো মাস তাকে নানাভাবে শেখার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন তিনি। বাধা, হুমকি কিংবা চাপ—সবকিছু উপেক্ষা করে কাজে অবিচল থাকার কথাও উল্লেখ করেন।তিনি আরও জানান, আল্লাহর রহমত ও মানুষের সমর্থনে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনায় অটল থাকার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন উদ্যোগ, কাজ এবং সিদ্ধান্তে প্রশংসা যেমন এসেছে, সমালোচনাও ছিল। তবে মানুষের চোখে যে চূড়ান্ত ফলাফল দেখা যায়, তার পেছনের পরিশ্রম ছিল অনেক বেশি কঠিন—এ কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তার ভাষায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর নীতিতে স্থির থাকার কারণে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরূপতার মুখে পড়তে হয়েছে, ভবিষ্যতেও এর মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবুও মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও আস্থা তাকে শক্তি জোগায়, আর সেই কারণেই এসব ভয় তাকে আর দমাতে পারে না।
মন্তব্য করুন


বিএনপি
চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ড সবুজ সংকেত দিলেই
ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে কাতারের রয়েল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
বিএনপি
চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে
কাতারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনিই এই বিষয়ে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
এনামুল
হক চৌধুরী বলেন, ‘ম্যডামের মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে কাতারের রয়েল অ্যাম্বুলেন্স
বাংলাদেশ আসবে। তারা এখন সেইভাবে প্রস্তুত আছেন। মেডিকেল বোর্ড যখনই সিদ্ধান্ত জানাবে
তখনই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার
জন্য লন্ডন নিয়ে যাবে। সবকিছুই কাতার কর্তৃপক্ষ অ্যারেজমন্ট করেছে।’
জার্মানি
থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আনার বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নই, কাতার
কর্তৃপক্ষই জার্মানি থেকে একটি অত্যাধুনিক এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের অ্যারেজমেন্ট করে দিচ্ছে।
এনামুল
হক জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য রয়েল কর্তৃপক্ষের
তত্ত্বাবধায়নে সবকিছু করা হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু নেই।
বিএনপি
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থা আগের মতই আছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা ক্রিটিক্যাল
কেয়ার ইউনিটে বেগম খালেদা জিয়াকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
একাধিক
চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপারসন এখনও ফ্লাই করার সক্ষমতা অর্জন
করেননি। সেজন্য লন্ডন যাত্রা বিলম্ব হচ্ছে।
তারা
আরও জানান, গত দু’দিনে মেডিকেল বোর্ড কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করেছে। সেগুলোর প্রতিবেদনও তারা পর্যালোচনা করছেন। গতকাল (শুক্রবার) দু’দফা
মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক হয়। প্রতিদিনই বোর্ডের সভায় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত
প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
গত
২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চকিৎসাধীন আছেন বেগম খালেদা জিয়া।
অধ্যাপক
শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে মেডিকেল বোর্ড তাঁর
চিকিৎসা দিচ্ছে। তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও সেই বোর্ডের সদস্য।
বেগম
খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যেতে শুক্রবার ডা. জুবাইদা ঢাকায় এসে
পৌঁছান।
মন্তব্য করুন


ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে
রাজশাহীতে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটের
দিকে ঢাকার একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
তবে বিমান থেকে নামার সময় তারেক রহমান নিজেই লাগেজ
নিয়ে নেমেছেন। এমন একটি ছবি কালবেলার ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন করে তারেক রহমান
ইতোমধ্যেই বেশকিছু ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড করেছেন। যার জন্য তিনি প্রশংসায় ভাসছেন। মানবিক
এই নেতা এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাজধানীর মহাখালীতে কড়াইলবাসীর আয়োজনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল শুরুর আগে এক হুজুর মঞ্চের সামনে
এগিয়ে এলে বসার জন্য চেয়ার প্রয়োজন হয়। তখন তারেক রহমান নিজের ব্যবহৃত চেয়ারটি এগিয়ে
দেন।
ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা
নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। শুধু তাই নয়, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বেশ কয়েকজন নেতা
তাকে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতে গেলে তিনি সেটি করতে দেননি। এমন নানা প্রশংসিত কাজ করে
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আর আজ রাজশাহী
বিমানবন্দরে বিমান থেকে নামার সময় নিজের লাগেজ নিজে বহন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন
তিনি।
দুপুর ২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী
সমাবেশে উপস্থিত হন। এই জনসভায় রাজশাহী জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও
নাটোরের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিএম মাঠে নির্বাচনী
জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ জনসভায় জয়পুরহাটের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে
নিজ জেলা বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারেক রহমান বগুড়ায়
আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। রাত সাড়ে ৮টায় রাতযাপনের
উদ্দেশে তিনি হোটেল নাজ গার্ডেনে চলে যাবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা
ময়দানে কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়। সকাল থেকেই
রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানা-উপজেলা ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন
এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হন। মানুষের ঢলে মাদ্রাসা ময়দান
ও আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল থেকেই রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানা ও উপজেলা
থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। মিছিলে নানা ধরনের
স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ময়দান। সংসদ সদস্য প্রার্থীদের বড়
বহর মাঠে প্রবেশ করলে উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। বিপুল মানুষের চাপে সমাবেশস্থলের আশপাশের
সড়কে যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। অনেক তরুণকে প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার আশায় গাছ,
উঁচু দেয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপর উঠে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ-
সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা ময়দান পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী। মাঠ ও আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। সভামঞ্চের
সামনে ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আকাশে ড্রোন
উড়তে দেখা গেছে, যার মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলের ক্ষমতায় আসার পর দেশের নেতৃত্ব এককভাবে নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, বিভেদের রাজনীতি নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি হবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের ভিত্তি।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ১০ দলের সমন্বয়ে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জামায়াতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিগত সরকারগুলোর কর্মকাণ্ডকে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় একদল বলেছিল, ১০ টাকা দরে চাল দেবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি তা পেয়েছে? তিনি বলেন, জনগণ আর এমন রাজনৈতিক প্রতারণা দেখতে চায় না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের নিরাপদ চলাচল ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মানজনক চাকরি এবং যুবকদের জন্য কার্যকর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া বগুড়া সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল বৈষম্যহীন ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্যেই নতুন বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কোনো স্থান থাকবে না।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।
সঙ্গে বক্তব্য রাখেন—বগুড়া-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী দবিবুর রহমান, বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী এবং বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-১৬
আসনে বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক বলেছেন, এই আসনে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিরাজ করছে
এবং গণসংযোগে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বিএনপি জনগণের দল।
সোমবার
(২৬ জানুয়ারি) মিরপুর-৬ নম্বর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার পঞ্চম দিনের গণসংযোগে তিনি
একথা বলেন।
জামায়াতের
প্রার্থী ও তাদের সহযোগীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বলে
অভিযোগ করেন আমিনুল হক। পাশাপাশি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত
করার অপচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আমিনুল
হক বলেন, এসব অনিয়মের জবাব জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে দেবে।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু এলাকায় শিশুদের খেলাধুলায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে
তিনি বলেন, বিএনপি একটি খেলাধুলাবান্ধব ও মানবিক সমাজ গড়তে চায় এবং শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার
সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
জনসংযোগকালে
আমিনুল হক মিরপুর এলাকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার
কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ও পানির লাইন পুনঃখননের মাধ্যমে
আধুনিক সংযোগ নিশ্চিত করা হবে।
পাশাপাশি
এলাকার কাঁচারাস্তা ও ভাঙা গলি সংস্কারের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আশ্বাস
দেন তিনি।
তরুণদের
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, কারিগরি শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং অনলাইন
জব ফেয়ারের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে শিক্ষিত বেকারদের আত্মনির্ভরশীল
করা হবে।
গণসংযোগকালে
তিনি একটি মানবিক ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ধানের শীষ
প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন


মুরাদুল ইসলাম মুরাদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
আসন্ন ১২ ফ্রেবুয়ারী জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম–৪(চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর) সংসদীয় আসনে সৃষ্টি হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। একই আসনে সাবেক স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
এই আসনে জাতীয় পার্টি (এ) থেকে প্রার্থী হয়েছেন কে এম ফজলুল মন্ডল। অপরদিকে তার সাবেক সহধর্মিণী মোছা.শেফালী বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর মনোনয়নে। ব্যক্তিগত জীবনে বিচ্ছিন্ন হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে একই সংসদীয় আসনে তাদের মুখোমুখি অবস্থান ২৮-কুড়িগ্রাম–৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিকে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত একই পরিবারের সদস্যরা একই রাজনৈতিক আদর্শে যুক্ত থাকলেও সাবেক স্বামী–স্ত্রীর ভিন্ন দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। এতে করে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা যেমন তীব্র হচ্ছে, তেমনি ভোটের মাঠে বাড়ছে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আলোচনা।
এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ভোটার বিষয়টিকে ব্যতিক্রমী ও কৌতূহলোদ্দীপক হিসেবে দেখছেন। তবে অধিকাংশ ভোটারই জানান, তারা পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় না এনে প্রার্থীদের রাজনৈতিক অবস্থান, যোগ্যতা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
২৮-কুড়িগ্রাম–৪ আসনটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় এলাকা। এখানে একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও সাবেক স্বামী–স্ত্রীর ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যানারে নির্বাচন করাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় পার্টি (এ)-এর প্রার্থী কে এম ফজলুল মন্ডল বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে শেফালী আক্তারের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আমার সাবেক স্ত্রী। তিনি আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরি ছেড়ে দেওয়ার তিন বছরও পূর্ণ হয়নি। কীভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধতা দিলেন, তা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী মোছাঃ শেফালী বেগমের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে,২৮- কুড়িগ্রাম–৪ আসনের এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং সাবেক স্বামী–স্ত্রীর মুখোমুখি লড়াইয়ের কারণে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত নির্বাচনী অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের রায়ে ২৮- কুড়িগ্রাম–৪ আসনের জনগণ কাকে তাদের সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন এবং এই আলোচিত লড়াইয়ের শেষ পরিণতি কোন দিকে গড়ায়।
মন্তব্য করুন


পাবনা-১
ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচনের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন
কমিশন (ইসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) আসন ২টির নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন
জারি করে ইসি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসনের সীমানাসংক্রান্ত জটিলতায়
এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে
বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা জেলার দুটি আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচনি
এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ আসনের সীমানা সংক্রান্ত একটি মামলার কারণে আগামী ১২
ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত
নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন
কমিশন সচিবালয়ের স্মারক নম্বর-১৭,০০,০০০০,০৩৪,৩৬,০০৯,২৫-৩৬৭ অনুযায়ী জানা যায়, সীমানা
নির্ধারণ সংক্রান্ত সিএমপি নং ১১০৫/২০২৫ মামলায় আপিল বিভাগ গত ৫ জানুয়ারি যে আদেশ প্রদান
করেছেন, তার প্রেক্ষিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
মন্তব্য করুন