

ইনকিলাব
মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির বিদেশে চিকিৎসায় যত অর্থ প্রয়োজন, তা অর্থ মন্ত্রণালয়
থেকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ঢাকায় ইতোমধ্যে এয়ার
অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে এবং তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ইনকিলাব
মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির বিদেশে
চিকিৎসার সব ব্যয় অর্থ মন্ত্রণালয় বহন করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন
আহমেদ। সোমবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ
উপদেষ্টা বলেন, “কালকে হাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে, তো আমরা রেডি। এই যে হাদির ব্যাপারে,
বাইরে পাঠাবে; কালকে যখন আমাদেরকে মেসেজ দিল; আমরা বলেছিলাম, টাকা-পয়সা কোনো ব্যাপার
না। উই উইল গিভ অ্যালোকেশন। যা হোক ওটা ম্যানেজ হয়ে গেছে।”তিনি
আরও বলেন, “হাদির জন্য যখন বলেছে যে—বাইরে পাঠানো হবে; সো অবভিয়েসলি টাকার
ইনভলভমেন্ট আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা বলেছি, যাই লাগে—হয়তো
হেলিকপ্টার নিতে হবে বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিতে হবে। কিন্তু লাকিলি অর্থ মন্ত্রণালয়
তাদের নিজস্ব বাজেট থেকে দিচ্ছে।”
সালেহউদ্দিন
আহমেদ বলেন, “এই ব্যাপারে কোনো দ্বিধা ছিল না। যখন ডিসিশন নিয়েছে, বোর্ড যখন বলেছে,
তখন ইমিডিয়েটলি গভর্নমেন্ট টুক ইট আপ। এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে, আমরা বলে
দিয়েছি—যেকোনো সময় আমরা ইসে করব।”
শরীফ
ওসমান বিন হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিতে গালফস্ট্রিম জি-১০০ সিরিজের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স
সোমবার বেলা ১১টা ২২ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছেছে। ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করেই তাকে সিঙ্গাপুর
জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হবে।
প্রধান
উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, হাদির উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার দুদিন ধরে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড
ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করেছে। রোববার এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসক দলের পরামর্শ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য,
গত শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত রিকশায় থাকা শরীফ ওসমান বিন
হাদিকে একটি মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। গুলিটি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায়
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’
বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বিএনপি’র
চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ধানের শীষ যতবার দেশ পরিচালনা করেছে ততবার দেশের উন্নয়ন
হয়েছে।
আগামী
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচন। সারাদেশের মানুষ জানে বগুড়ার মাটি বিএনপি’র ঘাঁটি। আপনারা প্রমাণ করে দেখাবেন
বগুড়ার মাটি শুধু বিএনপি’র ঘাঁটি নয়, বগুড়ার মাটি বিএনপি’র
শক্তিশালী ঘাঁটি। আমি আপনাদেরই সন্তান। বহু বছর পর মোকামতলায় এসেছি। আপনারা আমার জন্য
দোয়া করবেন।’
গতকাল
শুক্রবার বিকেলে বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রাকালে মোকামতলা বাসস্ট্যান্ড চত্বরে
এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক
রহমানের আগমনের সংবাদে জুম্মার নামাজের আগে থেকেই স্থানীয় হাজার হাজার নেতা-কর্মী আর
উৎসুক জনতার উপস্থিতিতে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় মোকামতলা চত্বর।
বন্দর
এলাকাসহ মহাসড়কের দু’ধারে নারী-পুরুষ অপেক্ষা করতে যায়।
তারেক রহমানও তার গাড়ি বহর থেকে হাত নাড়িয়ে উপস্থিত জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে
বগুড়া-২ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থী ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মীর শাহে
আলমকে সাথে নিয়ে তিনি মহাস্থানগড়ে আরেকটি পথসভায় দাঁড়িয়ে হযরত শাহ্ সুলতান বলখী মাহীসওয়ার
(রহঃ) এর মাজার জিয়ারত করেন। এছাড়াও তারেক রহমান শিবগঞ্জ এলাকার মহাস্থানগড় থেকে বগুড়ার
সীমান্তপথ রহবল পর্যন্ত যাওয়ার পথে মীর শাহে আলমের সমর্থক ও জনসাধারণ দাঁড়িয়ে যান।
দীর্ঘ
প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলা বগুড়ায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে
তিনি দাঁড়িয়েছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে। সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে গিয়ে
তিনি আহ্বান জানিয়েছেন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে প্রতিটি মানুষ আত্মমর্যাদা নিয়ে
বাঁচতে পারবে।
শুক্রবার
দুপুর ১২টার দিকে বগুড়া শহরের একটি হোটেলে সিএসএফ গ্লোবালের আয়োজনে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন
শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটির উদ্যোক্তা
ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন আমরা সকলে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ
গড়ার চেষ্টা করি। যে বাংলাদেশে কমবেশি প্রতিটি মানুষের মর্যাদা তৈরি হবে এবং আত্মমর্যাদা
নিয়ে প্রত্যেকে বেঁচে থাকতে পারবে।’
বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অনেকের
মধ্যে এমন অনেক গুণ আছে, যা আমাদের অনেকের নেই। সামাজিক, রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় সকল
অবস্থান
থেকে যদি আমরা এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াই, তবে আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ তাদের মধ্যে
থেকে অনেক প্রতিভাবান মানুষ বের করে আনতে পারবে।’
তিনি
আরও বলেন, ‘তাদের জন্য খুব বেশি কিছু করার প্রয়োজন নেই, শুধু একটু সুযোগ করে দেয়া যাতে
তারা আর দশজনের মতো স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে এবং নিজেদের বিকশিত করতে পারে। কারণ,
তারা আমাদের বাইরের কেউ নয়, তারা আমাদেরই অংশ। আমাদের প্রত্যেকের পরিবারের মধ্যেই হয়তো
এমন কেউ না কেউ আছে।’
এ
সময় তারেক রহমান উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন আজকের এই দিনে আমরা
শপথ নিই, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন
মানুষের পাশে দাঁড়াব এবং তাদের সহযোগিতা করব।’
অনুষ্ঠানে
প্রথমবারের মতো বগুড়ায় বক্তব্য রাখেন ডা. জুবাইদা রহমান। আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট
পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অনুষ্ঠানে
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দেয়া হয়। তারেক রহমান শিশুদের সঙ্গে
কথা বলেন, তাদের খোঁজ খবর নেন এবং শিশুদের পরিবেশনায় গান উপভোগ করেন। এ সময় আবেগঘন
পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে তিনি মহাস্থানগড়ে
হজরত শাহ সুলতান বলখী মাহী সওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা
করেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি;
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তিনি বলেন , নির্বাচনে ষড়যন্ত্র হতে পারে তাই সকাল বেলায় ভোট কেন্দ্রে আসলে হবে না। বাড়িতে তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে এসে জামাতে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে এসে ভোট দিতে দাঁড়াতে হবে। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোটের বাক্স পাহাড়া দিতে হবে। রবিবার রাত পৌনে ১১টায় জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ফুলতলী মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রায় ২৩ মিনিটের বক্তব্যে তারেক রহমান খাল কাটা, বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, দরিদ্র জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সেবায় হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণের উন্নয়ন এবং ভাগ্যের পরিবর্তন করা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ২০২৪ সালে এই স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মানুষ আবারো জীবন দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলেরই ৪১৯ জন মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর বাইরে আরো সহস্রাধিক মানুষ জীবন দিয়েছে। জুলাই যোদ্ধারা আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যখন ছিল নারীদের ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থা করেছে। বহু কৃষকের ঋণ মওকুফ করেছে। বিএনপি দেশের এবং মানুষের উন্নয়নে বিশ্বাসী। বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে কিভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়। কিভাবে ছাত্রদের বা যারা তরুণ যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হয়। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাব। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে আমরা কাজ করব। তিনি বলেন, আমরা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করতে চাই না। আমরা মানুষের উন্নয়নের কথা বলতে চাই। কিভাবে উন্নয়ন করতে হয় সেই পরিকল্পনা মানুষের সামনে তুলে ধরছি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ যে আশা নিয়ে ৫ আগষ্ট দেশের একটি পরিবর্তন করেছিল সেই লক্ষ্যে দেশকে স্বনির্ভর ও দেশের মানুষকে ভালো রাখতে বিএনপি ভোট দিতে হবে। আগামি ১২ ফেব্রুযারি কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ উপকৃত হবে এমন কাজ করবে। কিন্তু তারা আমাদের ভালো কাজেরও সমালোচনা করছে। নির্বাচনী শ্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘করবো কাজ গরবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কুমিল্লা-৬ আসনে দলের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা-৭ আসনের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ, চাঁদপুর-১ আসনের প্রার্থী এহসানুল হক মিলন, চাঁদপুর সদর আসনের ফরিদ উদ্দিন মানিক, চাঁদপুর-৫ আসনের হারুনুর রশিদ, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, দলের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ
মন্তব্য করুন


ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি। এর পাঁচ দিনের মাথায় সরকার গঠন করছে
তারেক রহমানের নেতৃত্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলটি।
আজ
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার
সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
নতুন
সরকারের মন্ত্রিপরিষদে ডাক পেয়েছেন ঢাকা- ৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক
প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের
শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে
ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট।
মঙ্গলবার
(১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার
সদস্যরা। তাদের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলো।
নতুন
মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন, এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য
ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু,
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান,
আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল,
ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ
সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম, আমিনুল হক (টেকনোক্রেট)।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি ;
দুপুরে কুমিল্লা নগরের ধর্মসাগরপাড়ের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন কুমিল্লা-৬( আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লাা সেনানিবাস এলাকা) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার আগেই তাঁর প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসানের দপ্তরে গিয়ে সেটি অনুমোদন করিয়ে নেন। এর ফলে ইয়াছিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের (ইয়াছিন) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।প্রত্যাহারপত্রে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন উল্লেখ করেন, আমি মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ আসনে একজন বৈধ সংসদ সদস্য প্রার্থী। আমি বর্তমানে অনিবার্য ও ব্যক্তিগত কারণে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে চাই। এমতাবস্থায় নির্বাচন কমিশনের বিধি ও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে স্বেচ্ছায় আসন ২৫৪ কুমিল্লা-৬ নির্বাচনী এলাকা থেকে আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। উপরোক্ত বিষয় বিবেচনা কওে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদনটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।
এর আগে আজ সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ উপজেলা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ও কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন, কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় , জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের সামনে নির্বাচন থেকে সওে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তখন বলেছিলেন তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীর রাজনৈতিক আবহ এখন যেন কেবলই এক অনুভূতিতে সিক্ত—সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা। গত কয়েকদিন ধরে কান্দিরপাড় থেকে বিভিন্ন মাদ্রাসা, দলীয় কার্যালয় থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঘর—সব জায়গায় প্রতিফলিত হচ্ছে এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রার্থনার ধ্বনি। আর এই নিরন্তর দোয়ার আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কুমিল্লা–৬ আসনের প্রভাবশালী নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, বরং ধর্মপ্রাণ এক মানুষ হিসেবে তার এই দোয়ার ধারাবাহিক প্রয়াস যেন কুমিল্লার বহু মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ছিল এই কর্মসূচির টানা ৬ষ্ঠ দিন। দুপুরের পর এতিম ও দুস্থ শিশুদের জন্য খাবার বিতরণ করা হয়। এরপর বিকেলে কান্দিরপাড়স্থ বিএনপি কার্যালয়ের ভেতর জমকালো কোনো আয়োজন নয়—সরল কিন্তু গভীর এক ধর্মীয় পরিবেশ। ছোট্ট জায়গার ভেতরে মানুষের কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত এবং পরে সম্মিলিত দোয়া—“হে আল্লাহ… আমাদের নেত্রীকে সুস্থতা দান করো…”
এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা ও সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএ বারী সেলিম, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ রতন, মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান ছুটি, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, জেলা যুবদলের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রুমান হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সৈয়দ মেরাজ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিরুল পাশা সিদ্দিকী রাকিব, জেলা যুবদলের সদস্য–সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব, যুগ্ম-আহবায়ক সালমান সাইদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য–সচিব এ কে এম শাহেদ পান্না, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাজ্জাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ রানা, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী জোবায়ের আলম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ধীমানসহ অঙ্গ–সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দোয়ার অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাজী ইয়াছিনের এই ধারাবাহিক দোয়ার আয়োজন কেবল রাজনৈতিক আনুগত্য প্রকাশ নয়—এটি একজন মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। হাজী ইয়াছিনের এই ব্যাকুলতা নিছক আনুষ্ঠানিক আহবান নয়—এটি হৃদয়ের তাগিদ থেকে উৎসারিত। তিনি নিজের ব্যক্তিগত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে যেভাবে এতিম শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছেন এবং প্রতিদিন দোয়া–কোরআনখানি আয়োজন করছেন—তা আমাদের সকলের কাছে অনুপ্রেরণামূলক।
এদিকে বিকালে নগরীর কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদল, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ মসজিদে জেলা ছাত্রদল এবং দলীয় কার্যালয়ে জেলা ও মহানগর যুবদল দেশনেত্রী বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার আয়োজন করেন।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামীকাল (৫ আগস্ট) মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় জাতীয়
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন।
বাংলাদেশ
টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
প্রধান
উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন


নতুন দল গঠন করে নেতৃত্বে আসা ও সরকার থেকে
পদত্যাগের বিষয়ে এ সপ্তাহের শেষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও
সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানিয়েছেন ।
ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর রাত ১০টার দিকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান, আমি এ বিষয়ে আমার অবস্থান ব্যক্ত করেছি মিডিয়ার বিভিন্ন জায়গায়। তবে বিভিন্ন সংবাদপত্র বা মিডিয়ায় যেভাবে তথ্য আসছে আমি মনে করি যে এভাবে আসা উচিত না। কারণ আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেটা প্রকাশের আগেই, কোনো ধরনের অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের তথ্যগুলো ছড়ানো উচিত হচ্ছে না।
নাহিদ ইসলামের কাছে প্রশ্ন ছিল- ছাত্র জনতার
নেতৃত্বে একটি নতুন দল আসছে, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি নতুন দল আপনার নেতৃত্বকে
বেছে নিয়েছে, তারা চায় আপনি সেই দলের নেতৃত্ব দেন। সে ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান
কী? সেই দলে যদি আপনি যেতে চান তাহলে উপদেষ্টার পর থেকে সরে আসতে হবে- সে বিষয়ে
আপনি কী ভাবছেন?
প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাইরে যারা আছে, বৈষম্যবিরোধী নাগরিক কমিটি তারা একটা রাজনৈতিক দলের উদ্যোগের কথা বলেছে অনেক আগেই, ফেব্রুয়ারির মধ্যে। আমি আমার জায়গাতে বলেছি যে, সেই দলে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা হয়তো আমার থাকতে পারে। তো সেটা হলে আমি সরকার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেই সেটি করবো। সে বিষয়ে আমি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। কিন্তু সেটা সম্ভাবনা আছে। হয়তো এ সপ্তাহের শেষে আমি এ বিষয়ে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাদের সবাইকে জানাতে পারব।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের
পতনের পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের
উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন মো. নাহিদ ইসলাম।
মন্তব্য করুন


আগামী
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিন বেলা পৌনে
১২টায় তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার
কথা রয়েছে। এরপর তাকে সংবর্ধনা জানাতে ৩০০ ফিটে জনসমাবেশ আয়োজন করবে বিএনপি।
তারেক
রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিমানবন্দরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার
( ১৮ ডিসেম্বর ) সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন
বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির
প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলা পাভেল, প্রধান নিরাপত্তা
কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. শামসুল ইসলাম। এ সময় তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পরিদর্শন করেন।
মন্তব্য করুন


নির্বাচন
কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, ভোটের মাঠে তিন স্তরে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা
মোতায়েন থাকবে। সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ।
আজ
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে আইন শৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠক
শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব তথ্য জানান।
ইসি
সচিব বলেন, এখন থেকে প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে বসা হবে। আইনশৃঙ্খলা
রক্ষার মূল দায়িত্বে থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যান্য বারের মতো তারাই নীতিমালা
ও দিকনির্দেশনা (কীভাবে কাজ করবেন, কী করবেন না) প্রদান করবে। সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ
ও সমন্বয় করবে নির্বাচন কমিশন। এজন্য একটি পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করা হবে। তিনি বলেন,
অপতথ্য মোকাবিলায় ইউএনডিপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয়, সিআইডি
এবং অন্যান্য তথ্যযাচাই সক্ষম সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যোগাযোগ কৌশলে দ্বিমুখী
প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। ওপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে ওপরে। অর্থাৎ তৃণমূল থেকেও তথ্য
উপরে যাবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে; শুধু নির্দেশনা ওপর থেকে নিচে নয়।
আখতার
আহমেদ জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন পরিকল্পনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—
স্থায়ী মোতায়েন, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তাকর্মী এবং বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী বা অস্থায়ী
চেকপোস্ট (মোবাইল চেকপোস্টসহ)। মোবাইল ইউনিটগুলো ঘুরে ঘুরে নজরদারি করবে। একটি ইউনিট
কতটি কেন্দ্র দেখবে, তা সংশ্লিষ্ট বাহিনী ভৌগোলিক অবস্থান, সড়কসংযোগ ইত্যাদি বিবেচনায়
নির্ধারণ করবে। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স প্রধান রিজার্ভ শক্তি হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।
এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত চলাচল ও প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুত
থাকবে। এনটিএমসি এবং পূজার সময় ব্যবহৃত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কাজে লাগানো হবে।
ইসি
সচিব বলেন, সবসময় একটি বিকল্প পরিকল্পনা (‘এ’ কার্যকর না হলে) প্রস্তুত রাখতে হবে,
যাতে একই সঙ্গে দুই-তিনটি স্থানে সমস্যা হলে তা মোকাবিলা করা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামের
মতো সীমিত নেটওয়ার্কের স্থানে ইন্টারনেট সুবিধা সেবাদাতাদের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। হারানো বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে
গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে। সন্ত্রাসীদের নজরদারি করে প্রয়োজনে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি
আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
থাকবে। সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং তারা তা
প্রয়োগ করবে। বিদেশ থেকে আসা পোস্টাল ভোটের জন্য এয়ারপোর্ট ও তেজগাঁও ডাক বাছাই কেন্দ্রে
দ্বিগুণ নিরাপত্তা দিতে হবে। বাছাই থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো, সংরক্ষণ
ও গণনা—সব পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি
সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে যেন কোনো
আপ্যায়ন গ্রহণ না করেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে যানবাহনের
সংকট মোকাবিলায় দপ্তরের যানবাহন অধিগ্রহণ বা ভাড়ায় সংগ্রহের বিষয়ে বাহিনী বাস্তবসম্মত
সমাধান দেবে।
মন্তব্য করুন


সৌদি
আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন বিষয়ক ওআইসি নির্বাহী কমিটির বৈঠকের ফাঁকে কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এসব বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান
পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জেদ্দায়
পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার; সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ওয়ালিদ এ আলখারিজি; তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়া; ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ড. ভারসেন ওহানেস ভার্তান আগাবেকিয়ান এবং গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরিং মোদু এনজির
সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছেন ড. খলিলুর রহমান। উল্লেখ্য, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই
নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে
বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে
দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে রাজনৈতিক
স্থিতিশীলতা আসবে এবং উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। তারা ফিলিস্তিন
ইস্যুতে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনের প্রশংসা করেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের
সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।
পাকিস্তানের
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত বছর
নিজের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন ইসহাক দার। তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
শাহবাজ শরীফ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে ঢাকা সফর করার
অপেক্ষায় রয়েছেন। নতুন সরকারের অধীনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ
করেন তিনি।
তুরস্কের
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ-তুরস্কের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে
ধরেন উভয়পক্ষ। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হন। রোহিঙ্গাদের
প্রতি অব্যাহত সমর্থনের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর। উভয়পক্ষই
এই সংকট দ্রুত সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
রমজানের
পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে আমন্ত্রণপত্র
দেন ড. রহমান। সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমান শিগগিরই সৌদি আরব সফর করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের
আমন্ত্রণ জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সৌদি
আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগ তৈরি
করেছে। অন্যদিকে ড. খলিলুর বাংলাদেশে সৌদি
বিনিয়োগের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার
বিষয়েও একমত হন উভয়পক্ষ। পাশাপাশি ওআইসি সচিবালয়ের কার্যকারিতা বাড়াতে গৃহীত সংস্কার
উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন চান সৌদির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলখারিজি।
ফিলিস্তিনের
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে
রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অটল
সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ড. খলিলুর। বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সমর্থনের প্রশংসা করেন
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আরব-ইসলামিক ব্লক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির
পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলেও আশ্বাস দেন। গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সেরিং মোদু এনজির সঙ্গে বৈঠকে ড. রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার অব্যাহত সমর্থনের
জন্য ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক
বিচার আদালতে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
আগামী
এপ্রিলে বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে
যৌথভাবে একটি ইভেন্ট আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। এছাড়া, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের
সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে আফ্রিকার দেশগুলোর সমর্থনের আশ্বাস দেন এনজি।
বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত
ছিলেন।
মন্তব্য করুন