

বিয়ে
কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, রীতি ও সংস্কৃতির বহুস্তরীয়
ইতিহাস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিয়েকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা প্রচলিত আছে, যা অন্য সংস্কৃতির
মানুষের কাছে বিস্ময়কর বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তেমনই এক ব্যতিক্রমী বিবাহরীতি
দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে বিয়ের পর টানা ৭২
ঘণ্টা নবদম্পতিকে টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়।
এই
অদ্ভুত রীতিটি মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে বসবাসকারী 'তিদোং' নৃগোষ্ঠীর
ঐতিহ্য। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিবাহপ্রথাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হলেও তিদোং
জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কোনো নিষ্ঠুর নিয়ম নয়; বরং এটি দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা, ধৈর্য,
পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতীক।
তিদোংরা
একটি অস্ট্রোনেশীয় নৃগোষ্ঠী, যাদের বসবাস সাবাহ, কালিমান্তান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায়।
তিদোং সমাজে বিয়ে মানে শুধু দু’জন মানুষের মিলন নয়; এটি দুই পরিবার,
কখনো কখনো গোটা সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বন্ধন।
এই
রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। সেখানে
তারা বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারে না এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে মানা
হয় টয়লেট ব্যবহার। এই তিন দিনে খাবার ও পানীয়ও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হয়, যাতে শরীরের
প্রাকৃতিক চাহিদা কমে। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকেন, যাতে কেউ নিয়ম ভাঙতে
না পারে।
এই
কঠোর নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তিদোং সমাজে ধারণা করা হয়, বিয়ের পর প্রথম তিন
দিন এই নিয়ম মেনে চলতে পারলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও কলহমুক্ত।
বিপরীতে নিয়ম ভঙ্গ করলে সংসারে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে বলে মনে
করা হয়। তাই এই তিন দিনকে অনেকেই ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখেন।
একসময়
বিয়ে ছিল পারিবারিক ও সামাজিক জোটের প্রতীক। সেই বন্ধনকে অটুট রাখতে নানা শপথমূলক আচার
চালু হয়, যা সময়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক রীতিতে রূপ নেয়। ৭২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞাও সেই
ঐতিহ্যেরই অংশ।
তবে
আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব
বা মলত্যাগ বন্ধ রাখা শরীরের জন্য ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা সুপ্রতিষ্ঠিত। সে কারণে
বর্তমানে অনেক তিদোং পরিবার এই রীতিকে শিথিলভাবে পালন করে।
আধুনিক
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রভাবে তিদোং সমাজেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন
প্রজন্ম আগের মতো কঠোরভাবে এই নিয়ম অনুসরণ না করলেও এটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারণ
এই রীতি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও বিয়ের উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আবহের
সঙ্গে এখনো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।
মন্তব্য করুন


টানা
তিন দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে গাইবান্ধায় দুটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের উপস্থিতিতে
সীমিত পরিসরে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। জেলার দুটি ফিলিং স্টেশনে প্রশাসনের কঠোর
নজরদারিতে মোটরসাইকেলে তেল দেওয়া শুরু হলেও শর্তের কারণে নতুন জটিলতায় পড়েছেন অনেক
চালক।
সোমবার
(২৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ‘আর রহমান ফিলিং’
স্টেশনে তেল সরবরাহ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের উপস্থিতিতে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ
নিশ্চিত করা হয়।
এর
আগে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ডিবি রোডের এসএ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে সদর
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়।
জেলা
প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে তেল নিতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে হেলমেট পরা, ড্রাইভিং
লাইসেন্স প্রদর্শন এবং মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। অন্যথায় তেল দেওয়া
হচ্ছে না, বরং জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে চালকদের।
প্রশাসনের
পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া যাবে।
এতে করে একদিকে তেলের অপচয় ও মজুত বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে কালোবাজারি নিয়ন্ত্রণে
আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। তেল দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে
শত শত বাইকার পাম্পে ভিড় করেন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল পাননি। বিশেষ
করে যারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনেননি, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে।
এ
সময় এসিল্যান্ড মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংকট নিরসনে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি
গাড়িতে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করে জ্বালানি দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে চালকদের হেলমেট, ড্রাইভিং
লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। অন্যথায় তেল দেওয়া হবে না এবং তাদেরকে
জরিমানার আওতায় নেওয়া হবে বলেও জানান এসিল্যান্ড।
এসএ
কাদির অ্যান্ড সন্স পাম্পের ম্যানেজার মঞ্জরুল কাদির খোকন বলেন, বিকেলের দিকে ৪০০০
লিটার পেট্রোল এসেছে এবং তারপর একটি ডিজেলের গাড়িও এসেছে। তিন দিন বন্ধ থাকার পর প্রশাসনের
সহায়তায় আজ এই তেল দিতে পারছি আমরা।
তবে,
অপেক্ষমাণ একাধিক বাইকার জানান, হঠাৎ করে এমন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় তারা প্রস্তুত ছিলেন
না। কেউ কেউ দুপুর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তেল না পেয়ে ফিরে গেছেন।
আরজু
নামের এক যুবক বলেন, শুনেছি বিকেল ৩টায় তেল দেওয়া হবে তখন থেকেই কাদিরিয়া পাম্পে অপেক্ষায়
আছি। কেবল টোকেন দেওয়া শুরু করেছে। অনেক বড় লাইন কখন পাব জানি না।
রুম্মান
নামের অপর এক যুবক বলেন, হেলমেট তো আছেই। কিন্তু কাগজপত্র দেখে তেল দেওয়ার বিষয়টি জানি
না। হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। বাইকে তেলও নেই।
অন্যদিকে,
পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতাদের
দাবি, এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ক্ষোভ জানাচ্ছেন অনেকে।
তবে,
পাম্প মালিকদের দাবি, সংকটের অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত চাহিদা এবং কিছু অসাধু চক্রের
তৎপরতা। তারা বাইকে একাধিক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে নিয়ে পরে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এ কারণে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ছাড়া তেল বিক্রি করা তাদের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এর
আগে একইদিন দুপুরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পাম্প মালিকদের জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়,
প্রতিটি পাম্পে জ্বালানি বিতরণের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ উপস্থিত থাকবে।
একই সঙ্গে হেলমেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল না দেওয়ার নির্দেশনা
জারি করা হয়।
গাইবান্ধা
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বলেন, তেল
সংকটে জেলার সবগুলো পাম্পই বন্ধ তবে বিকেলের দিকে জেলা শহরের কাদিরিয়া পাম্পে তেল দেওয়া
শুরু হয়েছে।
এছাড়া
তিনি বলেন, আমার এখানে (রহমান ফিলিং স্টেশন) ঈদের আগের দিন থেকে পাম্প বন্ধ থাকার পর
আজ একগাড়ি অকটেন ও ডিজেল এসেছে। রাত ৮টা থেকে বিক্রি শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত অন্যান্য
পাম্প বন্ধ রয়েছে। তেল পেলে তারাও বিতরণ শুরু করবে।
গাইবান্ধার
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার বলেন, গাইবান্ধায় তেলের সংকট ও কালোবজারে বিক্রিসহ
সামগ্রিক বিষয়ে আজ পাম্প মালিকপক্ষের সঙে জরুরি মিটিং করেছে জেলা প্রশাসন। সংকট নিরসনে
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক
করতে সংশ্লিষ্ট ডিপো ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে। প্রয়োজন
হলে লিখিত উদ্যোগও নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য,
এর আগে সীমিত আকারে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা, পরে ১০০ টাকার জ্বালানি দেওয়া হলেও পরিস্থিতির
অবনতি হওয়ায় গত এক সপ্তাহের মধ্যেই জেলার ১৭টি পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে
দুই পাম্পে সরবরাহ শুরু হলেও জেলার সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যান্য পাম্পে সরবরাহ চালু না হওয়া পর্যন্ত ভোগান্তি কমার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন


ধর্ম-বর্ণ ও মতের পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের সব মানুষ একই পরিবারের সদস্য বলে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে বিমানবন্দরে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, তখন বলেছিলাম আমরা একটা পরিবার। আমাদের নানামত, নানা ধর্ম থাকবে, নানা রীতিনীতি থাকবে কিন্তু আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। এটাতে জোর দিয়েছিলাম। আমাদের শত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা পরস্পরের শত্রু নই। আমাদের জাতীয়তা, পরিচয়ের প্রশ্নে এক জায়গায় চলে আসি। আমরা বাংলাদেশি, এক পরিবারের সদস্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শপথ গ্রহণের পরে শুনতে আরম্ভ করলাম, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। তখন মনটা খারাপ হয়ে গেল। এর পরপরই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গেলাম। সেখানেও বললাম, আমরা একই পরিবারের সদস্য।
তিনি বলেন, সব দাবিদাওয়া বাদ দিলেও একটা দাবি পরিষ্কার আমাদের সকলের সমান অধিকার, বলার অধিকার, ধর্মের অধিকার, কাজকর্মের অধিকার। সেটা এসেছে সংবিধান থেকে। নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেটা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, শুনলাম এখনো সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হচ্ছে।
তাই আমি সবাইকে নিয়ে বসলাম, এটা থেকে কীভাবে উদ্ধার করা যায়।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সেটা পুরো জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছিল। তখন তৃপ্তি পেলাম, একটু তো কাজ করেছি।
ভুল তথ্যের বিষয়ে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আবার নতুন কথা, হামলা হচ্ছে, অত্যাচার শুরু হচ্ছে। বিদেশি গণমাধ্যম বলব না প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, এটা হচ্ছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি, কী হচ্ছে? সবদিকে দেখলাম এটা হচ্ছে না। এক খবরে বলা হচ্ছে, আরেক খবরে বলা হচ্ছে হচ্ছে না, তথ্যের মধ্যে ফারাক আছে। এটা ঠিক না। এটার অবসান হতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যে তথ্য পাচ্ছি তা ভুল হতে পারে। তথ্যের ওপর বসে থাকার কিছুই নাই, এটার অর্থ অন্ধের মতো বসে থাকা। ভেতরে গিয়ে দেখতে হবে। খোঁজ নিতে হবে তথ্যের গরমিল কেন? তাতে ওরা যা বলছে, তা কি মিথ্যা প্রচার? না আমরা যা বলছি তা মিথ্যা প্রচার। সত্যটা কোথায়।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যের কোনো ফারাক নেই। সেখানে সঠিক তথ্য কীভাবে পাব, সেটা আমাদের জানার। প্রকৃত তথ্য, অনেক সময় সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা করে লাভ নেই। কর্তা যা চায়, সেভাবে বলে। আসলটা মন খুলে বলতে চাই না। আমরা আসল খবরটা জানতে চাই। সেই প্রক্রিয়াটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এত বড় দেশে যেকোন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু প্রকৃত তথ্য জানতে চাই। তাৎক্ষণিক খবর পেলে যাতে সমাধান করা যায়। যেদিক থেকেই দোষী দোষীই। তাকে বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, প্রথম কথাটা হলো না হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা। আর হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। আমি যা বলছি, তা দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে। আমরা এক পরিবারের মানুষ হিসেবে সামগ্রিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। সেখানে তথ্য ও প্রতিকার হলো বড় বিষয়।
তিনি বলেন, আমি পেলাম তথ্য কিন্তু প্রতিকার পেলাম না। সমস্যা হয়ে গেলে সমাধান করতে হবে। আজকের আলোচনা খোলাখুলি, আমরা সবাই আলোচনা করব। আমাদের লক্ষ্যে কোনো গোলমাল নেই। তথ্য প্রবাহ কীভাবে পাব, দোষীকে কীভাবে ধরব, যাতে সবাই সঠিক তথ্যটা পেয়ে যায়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এমন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই, যার নাম দিয়েছি নতুন বাংলাদেশ। এটা আমাদের করতে হবে। আপনাদের কথা বলে সন্তুষ্ট করে আজকের মতো বিদায় দিলাম তা নয়। এটা দ্রুত করতে হবে। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে দেখলে হবে না, আমাদের বর্তমানেই করতে যেতে হবে।
সংখ্যালঘু সমস্যার বিষয়ে অবাধ, সত্য তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, সে বিষয়ে ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ চান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কীভাবে নিরাপদে সংগ্রহ করব, যে তথ্য দিচ্ছে সে যেন বিব্রত না করে তাও নিশ্চিত হতে হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। বিএনপির অফিশিয়াল ফেইসবুক পেইজেও এ বিষয়ে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে কার্যালয়ের গঠন ও কার্যাবলী বিষয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী। সভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে আছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সেই সরকারের অংশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার তখনি ভালো করবে যখন আপনারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা এই দেশকে আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা বলে মনে করি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যও আমাদেরকেই কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের একটি মেনিফেস্টো থাকে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। তাই মেনিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ক্রীড়াসহ মেনিফেস্টোতে উল্লিখিত সকল এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারী কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সহযোগিতা চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন নিরাপদ বোধ করে। তিনি বলেন, আমরা সকলে যদি একসাথে কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারব। এছাড়া দেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে গোপনীয়তার বিষয়গুলো মেনে চলার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন। এছাড়া জাতিকে একটি সুশৃংখল জায়গায় নিয়ে আসতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সরকারি নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান ও মাহ্দী আমিন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন দপ্তর সংস্থার প্রধানগণ, কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করলে ব্যয় কিছুটা বাড়বে, তবে বাজেট নিয়ে কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে। স্পর্শকাতর ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বরাদ্দ দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে করা একটি চ্যালেঞ্জ হলেও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা উচিত। পৃথিবীর অনেক দেশেই একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনি আরও জানান, পরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। চালের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সাম্প্রতিক বৃদ্ধি মোকাবিলায় নন-বাসমতি চাল আমদানি করা হবে, সাধারণত যেটির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টনের কম হয় না। দেশের ব্যবসায়ীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে এভাবে পণ্যের দাম বাড়ে না; এর সমাধান প্রশাসনের চেয়ে রাজনৈতিক সরকারের হাতে বেশি কার্যকর।
মন্তব্য করুন


৮০২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগে ইসির চিঠি
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে সারাদেশে ২৮ নভেম্বর (মঙ্গলবার) থেকে ৮০২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য বলা হয়েছে।
চিঠিতে জানানো হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর আওতায় আচরণবিধি প্রতিপালনার্থে প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় প্রয়োজনীয় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে আর এ লক্ষ্যে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় ২৮ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা প্রয়োজন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিভাগীয় কমিশনারের পরামর্শক্রমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা উল্লিখিত সংখ্যার কম-বেশি করতে পারবেন। এছাড়া প্রত্যেক জেলায়, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীন ১/২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতিরিক্ত হিসেবে নিয়োজিত রাখতে হবে। যাতে জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো স্থানে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
চিঠিতে ইসি আরো জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের ২ দিন পর পর্যন্ত অথবা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে বিশেষ করে বিজিবি বা অনুরূপ বাহিনীর প্রতি টিম বা প্লাটুনের সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করা হবে। ওই সময় আচরণবিধি প্রতিপালন সংক্রান্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা হ্রাস করার প্রয়োজন হবে।
চিঠিতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি প্রতিপালনে উপরের বর্ণনা মোতাবেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।
মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ছাড়াও ভোটগ্রহণের কয়েকদিন আগে থেকে ভোটগ্রহণের পর পর্যন্ত কিছু সংখ্যক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেও নিয়োজিত করার প্রয়োজন হবে।
এছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ধরনের বিষয়ে চিঠিতে ইসি জানায়, প্রতি উপজেলায় ১ জন, তবে ১৫টি ইউনিয়নের অধিক (পৌরসভাসহ) ইউনিয়ন বিশিষ্ট উপজেলায় ২ জন, জেলা সদরের এ ক্যাটাগরির পৌরসভায় ১ জন, তবে ৯ ওয়ার্ডের অধিক হলে ২ জন। আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১১, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৫, চট্টগ্রাম সিটিতে ১০, খুলনা সিটিতে ৬, গাজীপুর সিটিতে ৪ এবং অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে ৩ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে হবে।
মন্তব্য করুন


সাভারে
পরিত্যক্ত ‘সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার’ থেকে আবারও উদ্ধার হলো আগুনে পোড়া
দুইটি পোড়া মরদেহ।
রবিবার
(১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার থানা রোড মহল্লায় অবস্থিত ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি
সেন্টারের টয়লেটের ভেতরে মরদেহ দুটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
পুলিশের
প্রাথমিক ধারণা, নিহতদের একজন নারী এবং অপরজন ছেলে শিশু হতে পারে। তবে মরদেহ দুটি পুড়ে
যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, সাভার কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রসাব করার জন্য কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে
প্রবেশ করলে পোড়া মরদেহ দেখতে পেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সাভার
মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
সাভার
মডেল থানার ওসি (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এর
আগেও একই কমিউনিটি সেন্টার থেকে একাধিক অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনো কোনো ঘটনার রহস্য
উদঘাটন হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানী
ঢাকার সকালটা আজ ছিল ধূসর। ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে জিয়া উদ্যান। প্রকৃতি যেন নিজেই নীরব
শোকে আচ্ছন্ন। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার বুক চিরে একটি জায়গায় ভিড়, আবেগ, ভালোবাসা আর
মানুষের দীর্ঘশ্বাস-বেগম খালেদা জিয়ার কবর।
দাফনের
চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্মৃতির টান কমেনি। বরং কুয়াশাকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে মানুষ
ছুটে আসছেন প্রিয় নেত্রীর সমাধিস্থলে। কেউ ফুল হাতে, কেউ শুধু নিঃশব্দ দোয়া নিয়ে।
আজ
সমাধিস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর নানা প্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা
থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সারিবদ্ধভাবে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও স্কুল-কলেজের
শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় নেত্রীকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
ফুলে
ঢেকে যাচ্ছে কবরের বেদি। কেউ মাথা নিচু করে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ চোখ বন্ধ করে
দোয়ায় মগ্ন। পাশের মাইক থেকে ভেসে আসছে পবিত্র কোরানের তিলাওয়াত। সেই ধ্বনি যেন কুয়াশার
মধ্যেও হৃদয়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
কবরের
পাশে স্থাপিত ছোট মঞ্চে মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা কোরআন পাঠ করছেন। বাতাসে ভেসে থাকা
সেই আয়াতের সুর পুরো পরিবেশকে আরও ভারী ও আবেগময় করে তুলেছে।
বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়া আমাদের কাছে
শুধু রাজনৈতিক নেত্রী নন-তিনি আমাদের বিশ্বাস, সাহস আর ভালোবাসার নাম। তাঁর আদর্শেই
রাজনীতির পথে এসেছি। তাই তাঁর কবরেই বারবার ফিরে আসি।”
রায়েরবাগ
থেকে আসা রাফিউল বাসসকে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন নির্ভেজাল নেত্রী। তিনি
নিজের জন্য কিছু চাননি, বরং আজীবন দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন। আজ এখানে এসে মনে
হচ্ছে- আমরা আমাদের নেত্রীর কাছে অতি সামান্য হলেও ঋণ শোধ করছি।”
এক
তরুণ কর্মী কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকক্ষণ নীরবে। তিনি বাসসকে বলেন, “খালেদা জিয়ার
চলে যাওয়া এখনো বিশ্বাস করতে পারি না। যখন বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই তাঁকে দেখে আসছি।
তাঁর বক্তব্য শুনেছি, মিছিলে হেঁটেছি। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”বিএনপির
পাশাপাশি সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুলেল শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
কুয়াশার
শহরে এই কবর আজ শুধু একটি সমাধি নয়। এটি হয়ে উঠেছে ভালোবাসা, রাজনীতি আর স্মৃতির এক
নীরব মিলনস্থল- যেখানে মানুষ বারবার ফিরে আসে, চোখ ভেজায়, মন হালকা করে।
এই
কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ হারানো নেত্রীকে খোঁজে, কেউ নিজের বিশ্বাসকে নতুন করে শক্ত
করে। কেউ আবার সন্তানের হাত ধরে দেখিয়ে দেয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কুয়াশা
যত ঘনই হোক, মানুষের হৃদয়ের এই টানকে ঢেকে রাখতে পারে না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার
আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে গত
৩০ ডিসেম্বর ভোরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মন্তব্য করুন


আসন্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ
ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার
টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
আজ
মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা
শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার
উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল
আলম উপস্থিত ছিলেন।
আজাদ
মজুমদার বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে
আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা
হচ্ছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত
করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ এই বরাদ্দ
দেওয়া হয়েছে।
তিনি
জানান, বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা
স্থাপন করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি
করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সব জেলায়
এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় তা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
উপ-প্রেস
সচিব আরও জানান, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
এর মধ্যে গাজীপুর জেলা উল্লেখযোগ্য। গাজীপুরে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ
হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে ইতিমধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি
স্থাপন করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন
হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আজাদ
মজুমদার বলেন, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ
নেই। এসব কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে হলেও ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে
হবে।
এদিকে
ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে
ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় আলোচনা হয়েছে। ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা
রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক
পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে
আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে, নাকি একাধিক
অংশে পুনর্গঠন করা হবে—এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত
হয়নি।
শফিকুল
আলম চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন,
ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরও
জোরদার অভিযান চালানো হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন
পরিচালনা করা হবে।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস বলেছেন, নারীদের সম্ভাবনা ও কর্মদক্ষতাকে উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করে উন্নত
বাংলাদেশ গড়ার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ
করে যাচ্ছে।
উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন
করতে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশের নারীরা- এ কথা উল্লেখ করে
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এটাই
হোক আমাদের অঙ্গীকার।’
‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে
আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক
নারী দিবস। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান
করে। নারী অধিকার রক্ষায় এই দিনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতি বছর
উদযাপিত হয়। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়:‘অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন-নারী ও কন্যার
উন্নয়ন’। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষায় ছাত্র-শ্রমিক-জনতা যে গণ-অভ্যুত্থান
সংগঠিত করেছিল গত জুলাই-আগস্টে তার সম্মুখ সারিতে ছিল নারী। লক্ষ লক্ষ ছাত্রী বিভিন্ন
ক্যাম্পাসে দমন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়েছে। একাধিক নারী এই গণ-অভ্যুত্থানে
শাহাদত বরণ করেছেন। আমি এই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারীদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি
এবং জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’ দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তারা
এগিয়ে যাচ্ছে সর্বক্ষেত্রে। নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে মহিলা
ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। নির্যাতিত, দুস্থ ও অসহায়
নারীদের জন্য শেল্টার হোম, আইনি সহায়তা দিতে
‘মহিলা সহায়তা কেন্দ্র’, কর্মজীবী মহিলাদের আবাসন ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থান
সৃষ্টির লক্ষ্যে সহায়তা ও ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে
ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অদম্য মেয়েরা
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর অর্জনকে স্বীকৃতি
দিতে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ ও ‘বেগম রোকেয়া পদক’ প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বিএনপি’র
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রণয়নের
যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।
আজ
শনিবার ( ২৭ ডিসেম্বর ) দুপুর ১টায় ভোটার নিবন্ধন
কার্যক্রম সম্পন্ন করতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ
ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) পৌঁছান তিনি।
এরপর
যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে দুপুর ১ টা ১৮ মিনিটের দিকে ইটিআই ভবন থেকে বের হয়ে যান
তারেক রহমান।
এদিকে
তারেক রহমানের ভোটার হতে আইনগত কোন বাধা নেই বলে বাসসকে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার
(ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
ইসি
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে বলেন, ‘ভোটার তালিকা আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন
কোনো ব্যক্তিকে যে কোন সময় ভোটার করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই।’
মন্তব্য করুন