

শীত শেষ বাড়ছে দিনের তাপমাত্রা।
শুক্রবার রাতে দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরেরে এক পূর্বাভাসে জানা গেছে আগামী ৫ দিনে বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আর মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের অবস্থান দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।
এ অবস্থায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
আর বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই সময়ের শুরুতে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
মন্তব্য করুন


আগামীকাল (২৬ নভেম্বর) রবিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ।
এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফল হস্তান্তরের পর বেলা ১১টায় স্ব স্ব কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে একযোগে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আর এবার শিক্ষার্থীরা কলেজে না গিয়ে ঘরে বসেই ফল দেখতে পারবে।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীরা কলেজ নোটিশ বোর্ড ছাড়াও বোর্ডের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে ।
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল জানতে শিক্ষার্থীকে প্রথমে www.educationboardresults.gov.bd এ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।সেখানে থাকা ফলাফল অপশনে ক্লিক করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সাবমিট করলেই শিক্ষার্থী তার রেজাল্ট শিট দেখতে পারবে।
ঢাকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে www.dhakaeducationboard.gov.bd রেজাল্ট ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন এন্ট্রি করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।
এছাড়াও পরীক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল পেতে মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজি অক্ষরে এইচএসসি (HSC) লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখতে হবে। এরপর ১৬২২২ নম্বরে সেন্ড করতে হবে। যেমন ঢাকা বোর্ডের একজন পরীক্ষার্থীকে- HSC DHA 123456 2023 লিখে পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে। সঙ্গে সঙ্গেই ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য,দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষা গত ১৭ আগস্ট শুরু হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম, মাদরাসা ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয় ২৭ আগস্ট।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ পরীক্ষার্থী।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-৯ সংসদীয়
আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা
করা হয়েছে।
আজ শনিবার বেলা
১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এ ঘোষণা দেন।
এতে তাৎক্ষনিক
প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তাসনিম জারা।
দুজনের স্বাক্ষর
নিয়ে সমস্যা থাকায় মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন জানতেন তিনি
ঢাকা-৯ এর ভোটার। কিন্তু জানার উপায় ছিল না তিনি এই আসনের ভোটার না।’
তাসনিম জারা আরও বলেন, ‘আরেকজন যার ব্যতিক্রম এসেছে তার কাছে যে জাতীয় পরিচয়পত্রের
কপি রয়েছে, তাতে তিনি ঢাকা-৯ এর ভোটার। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বলছে তিনি এই আসনের ভোটার
নন।’
স্বাক্ষরকারী দুজনের জানা না থাকায় এমনটা হয়েছে জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, ‘তাদের
জানা ছিল তারা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। সে অনুযায়ী স্বাক্ষর দিয়েছেন। আর নির্বাচন কমিশনও
ভোটারদের আসন জানার কোনো উপায় রাখেনি।’
গত ২৯ ডিসেম্বর তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র
জমা দেন।
তফসিল অনুযায়ী গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। ৪ জানুয়ারির মধ্যে
বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি থাকলে ৫ থেকে ৯
জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয়
সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
হলফনামার তথ্য
অনুযায়ী, ডা. তাসনিম জারা পেশায় একজন চিকিৎসক। চাকরি থেকে তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩
হাজার ৩৩৩ টাকা।
এ ছাড়া দেশের
বাইরে তার আয় রয়েছে ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। তিনি আয়কর হিসেবে পরিশোধ করেছেন ৩৪
হাজার ৫৭ টাকা।
মন্তব্য করুন


মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারত বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেবে—এমন দাবি করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভিন্ন কিছু বললেও তিনি আলোচনা ও তথ্য জেনেই এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে এনে বিচার কার্য সম্পন্ন করা সম্ভব এবং এ বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞও মনে করেন—আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা কঠিন নয়।বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ চাইলে একে অপরের পলাতক আসামিকে হস্তান্তর করতে পারে। তবে চুক্তিতে থাকা কয়েকটি ধারা প্রক্রিয়াটিকে জটিল করে তুলেছে, যার ব্যাখ্যার ওপরই প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা নির্ভর করছে।সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রেস সচিব শফিকুল আলম দাবি করেন—মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কামালকে ভারত ফেরত পাঠাবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা সরকারি যোগাযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রেস সচিবের উল্লেখ করা তথ্য সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ বা বার্তা পায়নি।তবুও শফিকুল আলম তার বক্তব্যে অনড়। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরে দেশে ঘটে যাওয়া গুম-খুনসহ ভয়াবহ অপরাধের নেপথ্যে কামালের সম্পৃক্ততা ছিল, এবং তিনি এই তথ্য পুরোপুরি জেনে তবেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন—এটি কেবল “ফেসবুক পোস্ট” নয়, বরং নির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রদত্ত মন্তব্য।
মন্তব্য করুন


ই-পাসপোর্ট পরিষেবায় পুলিশ ভেরিফিকেশন পদ্ধতি বাতিল করা
হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এক পরিপত্র জারির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
সুরক্ষা সেবা বিভাগ। এর মাধ্যমে এখন থেকে কোনো প্রার্থীকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল
আইডি (এনআইডি) কার্ডে থাকা তথ্য অনুযায়ী সরাবরাহ করা হবে ই-পাসপোর্ট।
এদিকে
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকাংশ সময়ই জাতীয় পরিচয়পত্র করার সুযোগ
থাকে না। এ জন্য এই দুই শ্রেণির নাগরিকদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে তাদের আবেদন নিরীক্ষার
মাপকাঠি হবে অনলাইনে নিবন্ধনকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদ। এবার তাহলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া
ই-পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া জেনে নেয়া যাক।
কাদের জন্য কোন নথি
প্রয়োজন
ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের বয়স
অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি দিতে হবে:
১৮ বছরের নিচে: অনলাইনে নিবন্ধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC,
ইংরেজি ভার্সন)।
১৮-২০ বছর: এনআইডি কার্ড বা
অনলাইনে নিবন্ধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC, ইংরেজি ভার্সন)
২০ বছরের বেশি: শুধুমাত্র এনআইডি কার্ড। তবে বিদেশি
মিশনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ জমা দিতে পারবেন।
শিশুদের ক্ষেত্রে: পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড।
ঠিকানার প্রমাণ: সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল (গ্যাস, বিদ্যুৎ
বা পানি)।
বিশেষ পরিস্থিতি: দত্তক বা অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অনুমোদন।
পেশাভিত্তিক প্রয়োজনীয় নথি
ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার: সংশ্লিষ্ট কারিগরি
সনদপত্র।
শিক্ষার্থী: সর্বশেষ শিক্ষাগত
যোগ্যতার সনদ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র/স্টুডেন্ট আইডি
বেসরকারি চাকরিজীবী: প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্র।
সরকারি চাকরিজীবী: সরকারি আদেশ (জিও), অনাপত্তি পত্র (এনওসি),
প্রত্যয়নপত্র, পিআরএল অর্ডার বা পেনশন বই।
কৃষক: জমির পর্চা।
ব্যবসায়ী: ট্রেড লাইসেন্স।
আবেদনের সময় জমা দিতে হবে
বায়োমেট্রিকের জন্য
নির্ধারিত সময়সহ আবেদনপত্রের সারাংশ (প্রিন্ট কপি)।
অনলাইনে নিবন্ধিত পূর্ণ
আবেদনপত্র (প্রিন্ট কপি)।
পাসপোর্ট ফি জমার রশিদ।
৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য
ল্যাব-প্রিন্টেড সদ্য তোলা ছবি (গ্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে)।
ধারাবাহিকভাবে
ই-পাসপোর্টের আবেদনের নিয়ম :
অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণ : প্রথমেই ইন্টারনেট ব্রাউজার
ওপেন করে সরাসরি www.epassport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। তারপর
‘অ্যাপ্লাই অনলাইন’ ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। এবা আঞ্চলিক ই-পাসপোর্ট কার্যালয় নির্ধারণ
করতে হবে। স্ক্রিনে ড্রপ ডাউন লিস্ট থেকে প্রার্থীর অবস্থানরত জেলা ও থানার নাম নির্বাচন
করতে হবে। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অধিভুক্ত ই-পাসপোর্ট কার্যালয়ের নাম নির্ধারিত হবে।
এছাড়া
আলাদাভাবে নিকটস্থ ই-পাসপোর্ট কার্যালয় চেনার জন্য প্রবেশ করতে পারেন এই লিঙ্কে- https://dip.gov.bd/site/page/4d4ea063-50df-46ee-a326-492d8ef2dbb0/-।
পাসপোর্ট
অফিস নির্ধারণের পর ই-পাসপোর্ট অনলাইন নিবন্ধন পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এ জন্য
প্রয়োজন একটি ই-মেইল ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে
একটি ব্যতিক্রম পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। তারপর অ্যাকাউন্ট খোলা হলে পরবর্তীতে ই-মেইল
বা মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে পারবেন।
আবেদন
ফর্মের প্রতিটি তথ্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী উল্লেখ করতে হবে। ন্যূনতম তারকা
চিহ্নিত তথ্যগুলো অবশ্যই সফলভাবে প্রদানের পর পাসপোর্ট ফি প্রদানের অপশন আসবে। ফি তাৎক্ষণিকভাবে
অনলাইনে পরিশোধ করা হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রশিদ নম্বর সংযুক্ত হবে। পরবর্তীতে বায়োমেট্রিক
নিবন্ধনের জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে হবে। স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যালেন্ডার থেকে উপলব্ধ
তারিখগুলো থেকে পছন্দসই একটি তারিখ নির্ধারণ করতে পারবেন প্রার্থী। এরপরই চূড়ান্ত পর্যায়,
যেখানে সাবমিট সম্পন্ন করার পর অ্যাপয়েনমেন্টসহ পুরো আবেদনের একটি সামারি প্রদর্শিত
হবে। এই সামারি এবং সাবমিটকৃত পুরো অনলাইন নিবন্ধনের প্রিন্ট কপি অন্যসব কাগজপত্রের
সঙ্গে সংযুক্তি হিসেবে জমা দিতে হবে।
ই-পাসপোর্ট ফি পরিশোধ: ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে
ফি পরিশোধের জন্য পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের অনুমোদিত কিছু পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে।
এসব হচ্ছে- ভিসা, মাস্টার ও অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেট, ইউপে,
ডিমানি, ওকে ওয়ালেট এবং এমবিএল রেইন্বো। আর অনুমোদিত ব্যাংকগুলো হচ্ছে- ব্যাংক এশিয়া,
ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আরব-বাংলাদেশ
ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক এবং মিডল্যান্ড ব্যাংক।
৫ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট আবেদনের খরচ: পাসপোর্ট বইয়ের পৃষ্ঠা, পাসপোর্টের
মেয়াদ ও বিতরণের সময়সীমার ভিত্তিতে ফি ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। মূলত রেগুলার, এক্সপ্রেস
এবং সুপার এক্সপ্রেস, এই তিন ক্যাটাগরিতে সরবরাহ করা হয় ই-পাসপোর্ট।
অধিকতর
দ্রুত সময়ে পাসপোর্ট পাওয়ার মাধ্যম হচ্ছে সুপার এক্সপ্রেস মাধ্যম। এতে বায়োমেট্রিক
সংগ্রহের তারিখ থেকে মাত্র ২ কার্যদিবসের পাসপোর্ট পাওয়া যায়। এক্সপ্রেস ক্যাটাগরিতে
বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের তারিখ থেকে ৭ থেকে সর্বোচ্চ ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া
যায়। আর রেগুলার ক্যাটাগরিতে সর্বাধিক সময়সীমা লাগে, যেখানে বায়োমেট্রিক প্রদানের দিন
থেকে ন্যূনতম ১৫ কার্যদিবস বা ২১ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।
আবেদনপত্রসহ নথিপত্র জমা ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া: উল্লেখিত সব কাগজপত্র
নিয়ে পূর্বনির্ধারিত দিন উপস্থিত থাকতে হবে পাসপোর্ট অফিসে। এদিন আবেদনকারীর ছবি তোলা,
হাতের আঙুলের ছাপ নেয়া হয়। বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ছবি উঠাতে প্রার্থীকে অবশ্যই
রঙিন পোশাক পরে আসতে হবে পাসপোর্ট অফিসে। সব কাজ শেষে প্রার্থীকে বিতরণের সম্ভাব্য
তারিখ সম্বলিত একটি স্লিপ দেয়া হবে। স্লিপটি আবেদনকারীর বায়ো নিবন্ধনের প্রমাণপত্র,
এ জন্য এটি পাসপোর্ট সংগ্রহের দিন অবশ্যই সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে।
অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাইয়ের উপায়: বায়ো নিবন্ধনের দিন
থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহের সম্ভাব্য দিনটির আগে পাসপোর্ট আবেদনের অবস্থা অনলাইনের মাধ্যমে
যাচাই করা যায়। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট কোন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তা দেখা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট
প্রিন্ট এবং তা সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত কিনা, সেটিও দেখা যায়। এ জন্য প্রবেশ করতে
হবে এই লিঙ্কে- https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status- লিঙ্কে।
পাসপোর্ট
অফিস থেকে দেয়া বিতরণ স্লিপে ১৩ সংখ্যার একটি অ্যাপ্লিকেশন আইডি রয়েছে। আবেদনের বর্তমান
অবস্থা যাচাইয়ের জন্য এই আইডি বা আবেদন ফর্মে থাকা ওআইডি (অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি)
ব্যবহার করতে হবে।
আগে
বায়োমেট্রিক দেয়ার কিছুদিন পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আবেদনকারীকে ফোন করা হতো। কিন্তু
এখন থেকে এই কার্যক্রম থাকছে না। ই-পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একদম প্রস্তুত হলে যথারীতি
আবেদনপত্রে উল্লেখিত ফোন নম্বর ও ই-মেইলে নির্দিষ্ট তারিখ সম্বলিত বার্তা পাঠানো হবে।
আর সেই তারিখে বিতরণ স্লিপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে
হাজির হতে হবে।
মন্তব্য করুন


১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় গান স্যালুট প্রদান করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি আর্টিলারি রেজিমেন্টের ছয়টি গান থেকে একযোগে ৩১ বার তোপধ্বনি ছোড়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের মহান বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হয়।
এই তোপধ্বনির মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁদের অসামান্য আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতি একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণ করছে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে।
মন্তব্য করুন


জাতীয়
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জুলাই বিপ্লবের দুইজন
ছাত্র প্রতিনিধি রয়েছেন। যদিও তারা আমাদের নাগরিক পার্টির কেউ নয়। তারা জুলাই আন্দোলনের
ছাত্র প্রতিনিধি। জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। কিন্তু তাদেরকে অপসারণ
করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
আজ
বুধবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদযাত্রা ও সমাবেশে এ কথা
বলেন তিনি।
নাহিদ
ইসলাম বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টের রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে অপসারণ করতে দেয়া হয়নি। আমরা আবারও
সংগঠিত হচ্ছি, আমাদের দাবি থেকে আমরা সরে দাঁড়াইনি। আবারও একই দাবি নিয়ে রাজপথে নামবো।
দাবি আদায় করেই ছাড়বো। গত ১ বছরে আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, আমাদের জুলাইয়ের
কার্যক্রমকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশের নতুন সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা
করতে দেয়া হয়নি। তবে আমরা দাবি থেকে সরে দাঁড়াই নাই। আবারও সংগঠিত হয়ে দাবি আদায় করেই
ছাড়বো। দেশে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যে বিপ্লব হয়েছিল, সে সন্ত্রাস
ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিপ্লবের পর আমাদের আবারও মাঠে নামতে হচ্ছে। নরসিংদীতে ভূমিদস্যুতা
ও চাঁদাবাজি রয়েছে, আমরা তাদেরকে নরসিংদী থেকে
বিতাড়িত করেই ছাড়বো।
এ
সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন নরসিংদী
জেলার আহ্বায়ক আওলাদ হোসেন জনি, কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, মুখপাত্র
সামান্তা শারমিন।
মন্তব্য করুন


শৈত্য প্রবাহের কারণে কমছে না শীতের দাপট। পৌষ মাসের শেষ দিনে হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ, মাঘ মাসের শুরুতেও কমেনি শীতের দাপট। তীব্র শীতে জবুথবু পাবনা সহ উত্তর অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা।
ঘন কুয়াশায় মেঘাচ্ছন্ন আকাশে সূর্যের দেখা না মেলায় দিনের বেলাতেও হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে পাবনা সহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে,রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের পাশাপাশি পাবনা, কুষ্টিয়া নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের কয়েক জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ: যা অব্যাহত থাকতে পারে আরও এক-দুই দিন।
রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনাও। শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সকাল থেকেই কুয়াশায় আচ্ছন্ন পাবনা সহ উত্তর অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা। ঘন কুয়াশার কারণে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না থাকায় কিছুদিন ধরে দিনে ও রাতের
তাপমাত্রার প্রায় একই রকম থাকায় শীতের অনুভূতি অনেকটাই বেড়ে গেছে। এটা প্রতিবছরই জানুয়ারি মাসে মাঝেমধ্যেই হয় এবং টানা তিন-চার দিন থাকে।এবছরও তার ব্যতিক্রম নয়, এই অবস্থা আরো
এক-দুই দিন থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ধারণা। তীব্র শীতে উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।ঘন কুয়াশা এবং মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে উত্তরের জেলাগুলোতে ছয় দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। এ ছাড়া তীব্র শীতে শীতজনিত রোগের
প্রকোপ বেড়েছে বহুগুণে। তীব্র শীতের কারণে বেশি বিপাকে আছে হতদরিদ্রর ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী, শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্বিষহ তাদের জীবন। কুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে
কাজিরহাট টু আরিচা, নাজিরগঞ্জ টু ধাওয়াপাড়া নৌ রুটের ফেরি সহ বিমান ও যান চলাচলে।
মন্তব্য করুন


ঢাকার
সাভারে ভবঘুরে পরিচয়ে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া সিরিয়াল কিলারের
পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর নিজেকে ‘মশিউর রহমান খান
সম্রাট’ বলে পরিচয় দিলেও তার প্রকৃত নাম সবুজ শেখ বলে নিশ্চিত
করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার
(২০ জানুয়ারি) ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান
এ তথ্য জানান।
পুলিশ
জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বড়
বোনের নাম শারমিন। তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া
ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের একাংশ বরিশাল এলাকায় বসবাস করে।
পুলিশের
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নাম ও পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে নারীদের সঙ্গে
শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পাতত সবুজ।
পরে
তাদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেত। ওই নারীরা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ
তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে সে তাদের হত্যা করত। এসব হত্যাকাণ্ডের
বিষয়ে আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আদালতে দেওয়া সবুজের তথ্যগুলোর সত্যতা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে।
তিনি
আরও জানান, সর্বশেষ ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে
তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে আসে সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর
সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনা ঘটলে প্রথমে যুবককে ভবনের দোতলায় নিয়ে
হত্যা করে। পরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে দুজনের মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে
গিয়ে একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
রোববার
(১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সবুজ শেখকে আটক করে পুলিশ। পরে সাভার
পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধারের
ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সোমবার
পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে হাজির করলে জিজ্ঞাসাবাদে সে ছয়টি হত্যাকাণ্ডে
জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে
১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে সবুজ শেখ ওরফে সম্রাটকে সোমবার রাতেই কারাগারে
পাঠানো হয়।
প্রাথমিক
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট ওরফে সবুজ প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন
রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে।
পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক
যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আরও এক নারীর
মরদেহ উদ্ধার হয় কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে। তাকেও সবুজ হত্যা করে বলে স্বীকার
করে।
সাভার
থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সম্রাট পাগল নন। অতিরিক্ত নেশা করার
কারণে কিছুটা মানসিক বিকারগ্রস্ত। মানুষ খুন করা তার নেশায় পরিণত হয়েছিল। তার ভাষায়,
হত্যাকে তিনি “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ”
বলে উল্লেখ করতেন।’
হেলাল
উদ্দিন আরও বলেন, ‘সাভারে আসার পর ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটিয়েছেন
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে।
২০২৫
সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধকে হত্যার পর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত
ভবনে চলে আসেন এবং ওই সেন্টারের নিচতলায় আস্তানা গাড়ে। এর পর থেকেই কমিউনিটি সেন্টারের
ভেতর থেকে একের পর এক লাশ উদ্ধার হতে থাকে। গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার
করা হয়। এ কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সেন্টারে নিয়মিতভাবে নজরদারি চালানো হতো। সম্রাটও
সন্দেহের বাইরে ছিলেন না। কিন্তু কোনো ক্লু বা প্রমাণের অভাবে তাকে আইনের আওতায় আনা
যাচ্ছিল না।’
হেলাল
উদ্দিন জানান, নজরদারির অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে কমিউনিটি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে
এক কিশোরীকে সম্রাটের (ছদ্মনাম) বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ সময় সম্রাট পাশেই
দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানতে চাইলে ওই কিশোরী সম্রাটকে তার ভাই বলে সম্বোধন করেন এবং তিন
দিন আগে কমিউনিটি সেন্টারে এসেছেন বলে জানিয়েছিলেন।
পরের
রাতেই (শনিবার রাত) ওই কিশোরীরসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট।
পরদিন রোববার দুপুরের পর তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে
খুনের সঙ্গে সম্রাটের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার
করা হয়।
গতকাল
সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয় খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার
কথা স্বীকার করেছেন।
হেলাল
উদ্দিন বলেন, ভবঘুরে ওই সিরিয়াল কিলার দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর
রাতে তার দেখা মিলত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা পদচারী-সেতুতে। যেসব ভবঘুরে বা পাগল নারী-পুরুষ
রাতে পদচারী-সেতুতে ঘুমাতেন, তাদের কাউকে কাউকে ফুসলিয়ে তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারে
নিয়ে আসতেন। যারা তার কথায় কমিউনিটি সেন্টারে আসতেন, তারাই খুনের শিকার হতেন।
জানতে
চাইলে সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, খুনি ধরা পড়েছেন এবং
খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। এখন ভিকটিম, অর্থাৎ যারা খুন হয়েছেন,
তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
আরমান
আলী আরও বলেন, ‘শুধু এই ছয় খুনই নয়, সম্রাট আরও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
তদন্ত চলছে। আশা করি, সব তথ্য বের হয়ে আসবে।’
গত
বছর ১৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আরও এক যুবককে হত্যা করেন সবুজ।
এর
আগে সাভারে ছয় খুনের ঘটনায় আটক হওয়ার পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই সিরিয়াল কিলার
খুনের দায় স্বীকার করে জানিয়েছেন ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে
দেখলেই তাদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ”
করে দিতাম।’
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
আগারগাঁওয়ে টিনশেডের একটি বাসায় বিস্ফোরণে একই পরিবারের সাতজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আজ
শনিবার ( ০৬ ডিসেম্বর ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগারগাঁও পাকা মার্কেট সড়ক এলাকার ওই বাসায়
এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধরা
হলেন, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মো. আব্দুল জলিল মিয়া (৫০), তার স্ত্রী আরনেজা
বেগম (৪০), ছেলে আসিফ (১৯), সাকিব (১৬), আসিফের স্ত্রী মনিরা (১৭) ও নাতনি ইভা (৬)
ও ইশা (৬)।
ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন হারুনুর রশীদ জানান, জলিলের ১২
শতাংশ, আরনেজার ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বাকিদের হাত-পা দগ্ধ হয়েছে।
এ
ছাড়া আট মাসের অন্তসত্বা এক নারীর হাত-পা দগ্ধ হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দিয়ে গাইনি বিভাগে
পাঠানো হয়েছে। জলিল ও আরনেজা বেগমকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে
অবজারভেশনে ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই
ঘটনায় প্রতিবেশী ফিরোজুল আলম (৩৫) ২১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। তাকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড
প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধদের হাসপাতালে নেওয়া জলিল মিয়ার
মেয়ের জামাই মো. আরফান মিয়া জানান, রাতে টিনশেড বাসায় পাশাপাশি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন
পরিবারের সাত সদস্য। ভোরের দিকে তার শাশুড়ি আরনেজা বেগম রান্না ঘরে রান্না করতে যান।
ম্যাচ
জ্বালাতেই টিনশেড বাসায় বিকট বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই সাতজনই দগ্ধ হন। তিনি ও তার স্ত্রী
জনিভা আক্তার পাশের কক্ষে ছিলেন। তার দুই মেয়ে ইভা ও ইশা তার নানার কক্ষে ছিল। আসিফের
স্ত্রী মনিরা আট মাসের অন্তসত্ত্বা।
তিনি
জানান, চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতায় দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে
নেন। বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণ থেকে এই আগুনের ঘটনা ঘটেছে।
দগ্ধ
আসিফ জানান, আগারগাঁও সরকারি কোয়ার্টারের বাসায় তারা ভাড়া থাকেন। গত দেড়মাস ধরে ঘরে
গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বাড়িওয়ালাকে বারবার বললেও কোনো প্রতিকার মেলেনি
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ
পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি থেকে পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি হয়েছেন ৩৩ কর্মকর্তা। এর মধ্যে
দুজনকে সুপারনিউমারারি ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
আজ
বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ পদোন্নতি প্রদান
করা হয়।
উপসচিব
মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসনের স্মারক মূলে উপ-পুলিশ
মহাপরিদর্শক (ডিআইজি, গ্রেড–৩) পদে পদোন্নতি প্রদান করা হলো। জারিকৃত
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এদিকে,
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি)
লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন