

স্ত্রীর
করা যৌতুক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভীর রাহী।
বুধবার
(১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপসের শর্তে জামিন
আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর
করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের
আইনজীবী হারুন অর রশীদ।
গত
৮ মার্চ ৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ এনে রাহীর বিরুদ্ধে মামলা করেন তার স্ত্রী
ফাহিমা বিনতে মাহবুব পুস্পিতা। মামলার পর আদালত রাহীকে ১৫ এপ্রিল হাজির হওয়ার জন্য
সমন জারি করেন। তবে ওইদিন তিনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বাদীপক্ষ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি
পরোয়ানার আবেদন করে। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আজ
আদালতে আত্মসমর্পণের পর রাহীর পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী ইশতিয়াক শাহরিয়ার। তিনি
আদালতে বলেন, প্রেমের সম্পর্কের পর ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে রাহী ও পুস্পিতা বিয়ে করেন।
পারিবারিক মনোমালিন্যের কারণে পুস্পিতা বাসা ছেড়ে চলে যান এবং পরে মামলা করেন। বর্তমানে
উভয় পক্ষই সংসার করতে চান। তাই আপসের স্বার্থে আগামী ৯ জুন পর্যন্ত জামিন চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ৭ আগস্ট ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে রাহী ও পুস্পিতা বিবাহবন্ধনে
আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে পুস্পিতাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা
হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ৫০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন
করা হয়। পরে তিনি ৯৯৯-এ ফোন দিলে তাকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় জিডি করেন পুস্পিতা।
এছাড়া
গত ১ মার্চ রাতে লালবাগ হোস্টেলের সামনে দেখা করতে ডেকে গাড়ি কেনার জন্য ৫০ লাখ টাকা
যৌতুক দাবি করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি
দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা খাওয়ার পর ভুলবশত ফেলে যাওয়া বিদেশি শিশুকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায় শিশুটিকে হস্তান্তর করেন। এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুটির নাম নাফিসা বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তারা সপরিবারে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ঘুরতে এসেছেন।
পুলিশ জানায়, পাকিস্তানের কাশ্মীরের নাগরিক সালমান পরিবার নিয়ে শনিবার কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছিলেন। সপরিবারে সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় নাশতা করেন। নাশতা শেষে ভুলে শিশু নাফিসাকে হোটেল জাইতুনে রেখে চলে যায় তারা।
রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিদেশি পরিবারটি প্রায় ১৫ জন সদস্য নিয়ে দুটি গাড়িতে করে এসে জাইতুন রেস্তোরাঁয় বসে নাশতা করছেন। এ সময় তারা গল্প-আড্ডায় মেতে ছিলেন।
জাইতুন রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, পাকিস্তানের কাশ্মীরের একটি পরিবার শনিবার সকালে দুটি গাড়িতে করে এসে প্রায় ১৫ জন সদস্য রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। তারা চলে যাওয়ার সময় ভুলবশত শিশুটিকে রেখে চলে যান। বাচ্চাকে হেফাজতে নিয়ে সদর দক্ষিণ থানায় জানালে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে প্রশাসন শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। সদর দক্ষিণ থানার ওসি রকিকুল ইসলাম বলেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে সমাজসেবা অফিসারের মাধ্যমে পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আসেন। আইন অনুযায়ী শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, আমরা প্রথমে শুনেছিলাম শিশুটির পরিবার কাশ্মিরের। কিন্তু পরিবারের লোকজন শিশুটিকে নিতে এলে জানতে পারলাম তারা পাকিস্তানি। পাকিস্তান থেকে পরিবারের সদস্যরা এসেছেন বাংলাদেশে ঘুরতে। শনিবার দুটি গাড়িতে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন সবাই। সকালে তারা কুমিল্লার জাইতুন রেস্টুরেন্টে নাস্তা করেন। নাস্তা শেষ করে পাকিস্তানি পরিবারটি দুটি গাড়িযোগে যাচ্ছিলেন। একটিতে শিশুর বাবা-মা এবং অপরটিতে শিশুর দাদা-দাদি ছিলেন। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল দাদা-দাদির গাড়িতে শিশু নাফিসা এবং দাদা-দাদির ধারণা ছিল শিশু নাফিসা তার বাবা-মায়ের গাড়িতে উঠেছে। উভয়ের ভুলে পাকিস্তানি শিশু নাফিসা হোটেল জাইতুনে রয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল এলাকায় গিয়ে শিশু নাফিসাকে দেখতে না পেয়ে কুমিল্লার দিকে রওয়ানা দেয় পাকিস্তানি পরিবারটি। পরে উপজেলা সমাজসেবা অফিস সেই পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করলে তারা জাইতুন রেস্টুরেন্টে এসে শিশুটিকে নিয়ে পুনরায় কক্সবাজারের দিকে রওনা দেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায়
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়।
এর আগে এদিন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
মো. তৌহিদ হোসেন এবং অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক
করে প্রতিনিধিদলটি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব দপ্তরের
ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডোনাল্ড লুসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রবিষয়ক
উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে ভালো লেগেছে। আমরা আমাদের অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, মানবাধিকার সমুন্নত
রাখা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের
পর বাংলাদেশ সরকার ও ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি)
মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। যার আওতায় সুশাসন, সামাজিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক খাতে বাংলাদেশকে
২০২.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের
রাজস্ব ও অর্থ দপ্তরের আন্তর্জাতিক অর্থায়নবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট
নেইম্যানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসে। এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে
যোগ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট
সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। দিল্লি সফর শেষে তিনি একই দিন বিকেলে ঢাকায় পৌঁছেন।
মন্তব্য করুন


নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট কার্ড তৈরির অ্যাপ 'নৈপুণ্যর' আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
গতকাল বুধবার এ অ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে অ্যাপটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অ্যাপটির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, ঢাকা ১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. কামাল হোসেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ, সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, বিশিষ্ট সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম, সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, এ অ্যাপটি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংগ্রহ করতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ অ্যাপটিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। একইসঙ্গে এ অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুত করবে।
জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালুকৃত মূল্যায়ন পদ্ধতির তথ্য সংরক্ষণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুতের জন্য ‘নৈপুণ্য’ নামের অ্যাপটি উন্নয়ন করা হয়েছে। এটুআইয়ের কারিগরি সহায়তায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এর দায়িত্বে রয়েছে।
অনুষ্ঠানে এনসিটিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ অ্যাপে শিক্ষকদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমেই বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নির্বাচন করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। প্রধান শিক্ষকদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে অ্যাপে লগইন করা ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড পাঠানো হয়েছে। তা ব্যবহার করে প্রধান শিক্ষকরা অ্যাপে লগইন করতে পারবেন। শিক্ষক ব্যবস্থাপনা অপশন থেকে শিক্ষকদের যুক্ত করা যাবে এবং বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নির্বাচন করা যাবে। কোনো শিক্ষককে যুক্ত করা হলে তার মুঠোফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড চলে যাবে। যা দিয়ে ওই শিক্ষক অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে লগইন করতে পারবেন। এতে শিক্ষার্থীদের শিখনকালীন মূল্যায়ন ও সামষ্টিক মূল্যায়নের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে৷ এটি ব্যবহার করেই সক্রিয়ভাবে রিপোর্ট কার্ড প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরো বলছেন, এ অ্যাপে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীর শিখণকালীন ও সামস্টিক মূল্যায়নের (পরীক্ষা) তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অ্যাপে সংরক্ষিত তথ্য শিক্ষার্থীর একটি আইডিতে সংরক্ষিত থাকবে। যা পরবর্তী শ্রেণিতেও শিক্ষকরা দেখতে পারবেন।
জানা গেছে, নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের তথ্য সংরক্ষণ ও রিপোর্ট কার্ড তৈরির অ্যাপ ‘নৈপুণ্য’ গত শনিবার শিক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এ অ্যাপে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুল ও মাদরাসার রেজিস্ট্রেশন করতে স্কুল ও মাদরাসাগুলোর প্রধানদের বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যশোর-খুলনা
মহাসড়কে তিনটি যানবাহনের সংঘর্ষে নারী, শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজন গুরুতর
আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার
(২৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চাউলিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে কাভার্ড ভ্যান,
ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা
হলেন, যশোর সদর উপজেলার ঘুনি পূর্বপাড়ার মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ
আইয়ুব আলী (৪৩), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া গ্রামের সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪), তার
চার বছরের সন্তান সৌভিক সাহা এবং চাউলিয়া গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে আনোয়ার আলী
(৭০)।
পুলিশ
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুলনা থেকে যশোরমুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান চাউলিয়া
ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও একটি ইঞ্জিনচালিত
ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ড ভ্যানে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক
চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা মারা যান।
দুর্ঘটনায়
গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন
অবস্থায় আনোয়ার আলী ও সৌভিক সাহার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তি হলেন, মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মশিয়ার
রহমানের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন (২৮)। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মৃত
আনোয়ারের ছেলে জামাল হোসেন জানান, তার বাবা ভ্যানে করে যাত্রী নিয়ে মহাসড়ক ধরে গন্তব্যে
যাচ্ছিলেন। পথে কাভার্ডভ্যান, ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।
এতে তার বাবা মারা যান।
এদিকে,
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ করে এবং কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছু সময়ের জন্য যশোর-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
হয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং
দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
যশোর
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পর পরই কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালককে
আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার ব্যাপারে
মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে।
যশোর
জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের
জন্য লাশগুলো হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা
করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ
ব্যাপারে নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ
করছে। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


জামালপুরের
ইসলামপুর উপজেলায় জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করে এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন
পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৭০)।
বুধবার
(৫ আগস্ট) নিজ বাড়িতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ
অংশ নিয়ে খাবার গ্রহণ করেন। আব্দুস সামাদ ওই গ্রামের মৃত শুকর আলীর ছেলে।
স্থানীয়
বাসিন্দা দানেছ আলী জানান, আব্দুস সামাদের সংসারে তিন মেয়ে ও চার ছেলে রয়েছে। মেয়েদের
বিয়ে দিয়েছেন, ছেলেদের কেউ আলাদা সংসার করছেন, আবার কেউ পড়াশোনা করছেন। বয়স ও শারীরিক
দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে তিনি নিজের সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
নেন। একই সঙ্গে তার মনে প্রশ্ন জাগে, মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা চল্লিশার আয়োজন যদি
না করে। সেই ভাবনা থেকেই পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জীবিত অবস্থায় নিজেই চল্লিশার আয়োজনের
সিদ্ধান্ত নেন।
অনুষ্ঠানে
অংশ নেওয়া লালচাঁন মিয়া বলেন, জীবিত একজন মানুষ নিজের চল্লিশার আয়োজন করেছেন । এটি
সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা। আয়োজনে উপস্থিত হয়ে তারা আনন্দের সঙ্গে খাবার গ্রহণ করেছেন।
আব্দুস সামাদের ছেলে সামিউল বলেন, বাবার ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের সবাই
এ আয়োজনের সঙ্গে একমত হয়েছেন। মেয়ে সাজেদাও জানান, বাবার মনের সংশয় দূর করতেই পরিবারের
সদস্যরা এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।
আব্দুস
সামাদ বলেন, বয়সের ভারে আমি এখন শারীরিকভাবে দুর্বল। নামাজ-ইবাদত ছাড়া তেমন কোনো কাজ
করতে পারি না। তাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই আয়োজন করেছি। অনুষ্ঠানের
জন্য তিনি প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি গরু এবং ২০ হাজার টাকা মূল্যের
একটি খাসি ক্রয় করা হয়েছিল বলে জানান।
মন্তব্য করুন


ভেনেজুয়েলায়
ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিখোঁজ আর্জেন্টাইন ফুটবলারের। এমন সংবাদ ছাপা
হয়েছিল দু’দিন আগে। অবশেষে খবর এলো, আর্জেন্টিনার সেই ফুটবলারের স্ত্রী
এবং সন্তানরা আর বেঁচে নেই। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছে তারা।
আর্জেন্টাইন
ডিফেন্ডার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ভেনেজুয়েলার
শীর্ষস্থানীয় ক্লাব দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা। ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন ত্রেহোর স্ত্রী ইয়ানিনা
মারানেয়া এবং তাদের দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহো।
ভেনেজুয়েলার
ইয়ারাকুই অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে তাদের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনটি
ধ্বসে পড়ে। ভবন ধ্বসের পর পরিবারটিকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে উদ্ধারকারী দল তাদের
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ঘটনার
সময় ত্রেহো ঘটনাস্থলে ছিলেন না। ভেনেজুয়েলা লিগে খেলেন ত্রেহো। সামনের ম্যাচের প্রস্তুতির
জন্য ক্লাবের সঙ্গে রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন।
এক
বিবৃতিতে দেপোর্তিভো লা গুয়াইরা জানায়, ‘ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা খেলোয়াড় লুকাস ত্রেহোর
স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেয়া এবং তার সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়া ত্রেহোর মর্মান্তিক প্রয়াণে
গভীর শোক প্রকাশ করছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং লুকাস ও তার সকল প্রিয়জনের
প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
ত্রেহোর
পরিবার উপকূলীয় এলাকা প্লায়া গ্রান্দেতে অবস্থান করছিল, যা দুটো ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। সেখানেই তাদের বসবাস করা আবাসিক ভবনটি ধ্বসে পড়ে।
পরিবারের
সদস্য, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং পেশাদার উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় স্ত্রী ও সন্তানদের
খুঁজে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। কিন্তু শেষ
পর্যন্ত সেই অনুসন্ধান শেষ হয় শোকাবহ পরিণতিতে।
মৃত্যুর
খবর নিশ্চিত হওয়ার আগে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক পোস্টে তিনি পরিবারের খোঁজ চেয়ে লিখেছিলেন,
‘প্লায়া গ্রান্দেতে আমাদের ভবনটি ধ্বসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।
দয়া করে তাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং কেউ যদি তাদের দেখে থাকেন, তাহলে এই বার্তাটি
ছড়িয়ে দিন। আমি বিশ্বাস করতে চাই, তারা ভবনের ভেতরে ছিল না। দয়া করে আমার পরিবারের
জন্য প্রার্থনা করুন।
শনিবার
জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই ডাবল ভূমিকম্পে প্রায়
৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ পর্যন্ত ১৪০০’রও
বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতিসংঘের
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, জনসংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য বিশ্লেষণ করে
তারা ধারণা করছে, ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ
৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।
মন্তব্য করুন


রেখে যাবো
সংসারে কিছু কিছু নয়,সব কিছুই রেখে যেতে হয়,
সাজানো গোছানো কিংবা অগোছালো ঘরদোর,
আত্মীয় -পরিজন,বন্ধু-স্বজন,সন্তান-সন্ততি মায়াডোর।
কিছু অপূর্ণ আশা,কিছু অসমাপ্ত কাজ
রেখে যাওয়া ভালো জীবনের সিম্ফনিতে নিঃশব্দে নীরবে,
তারপর
হারিয়ে যাওয়া ছায়াপথে।
ফেলে তো যেতেই হবে মায়াময় ধুলোমাখা চিরচেনা পথ,
সে পথেই পড়ে রবে সংসারের অভ্রভেদী রথ।
শ্রাবণের বৃষ্টির জন্য কাছে রেখে যাবো
বুকের ভেতর জমানো কান্নার সমুদ্দুর।
তীব্র শীতে উষ্ণতার জন্য রেখে যাবো
ভালবাসার রোদ্দুর।
আমার অন্তিম অর্ঘ্য রেখে যাবো
মায়াবী অসামান্য পৃথিবীতে।
ক্ষীণ আশার দীপ জ্বেলে রাখি-
প্রজন্মান্তরে সুখের সোনালী কুটির হবে আমার এ ভিতে।
মল্লিকা বিশ্বাস
মন্তব্য করুন


সিলেটের
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে এবার ৩৪ দিনে পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার
৬৭২ টাকা। এ ছাড়া দুই ভরি এক রতি স্বর্ণ, ১৫ ভরি দুই আনা রৌপ্য এবং ১৯টি দেশের বৈদেশিক
মুদ্রাও পাওয়া গেছে। সংবাদআর্কাইভ
শনিবার
(১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে গণনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট
সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এর
আগে, শনিবার সকাল ১০টায় মাজারের তিনটি দানের ডেগ ও তিনটি দানবাক্স সিলগালা অবস্থায়
খোলা হয়।
গণনা
শেষে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, দানবাক্স ও ডেগ থেকে মোট ৭০ লাখ ৮৮
হাজার ৬৭২ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুই ভরি এক রত্তি স্বর্ণ এবং ১৫ ভরি ২ আনা
রৌপ্য পাওয়া গেছে।
তিনি
জানান, দানবাক্স থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, ব্রিটিশ পাউন্ড ৩১ পাউন্ড
১১ পয়সা, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ২৪৮ রুপি, পাকিস্তানি রুপি ৬০ রুপি, সৌদি রিয়াল ৭০
রিয়াল, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ৮৩ রিঙ্গিত, মার্কিন ডলার ৪ ডলার, নেপালি রুপি ১০০ রুপি,
ওমানি মুদ্রা ১০০০ বায়সা ও ১ রিয়াল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৬৪ দিরহাম ২২ সেন,
ইরাকি দিনার ২৫০ দিনার, তুর্কি লিরা ৯০ লিরা, ভিয়েতনামের ডং ১০০০ ডং, জাপানি ইয়েন
১০০০ ইয়েন, কাতারি রিয়াল ১১২ রিয়াল ৫০ পয়সা, লেবাননের পাউন্ড ১০ পাউন্ড, মিশরীয়
পাউন্ড ১০ পাউন্ড, ইউরো ৪০ পয়সা, বাহরাইনি মুদ্রা ১ পয়সা এবং কানাডীয় ডলার ১ ডলার।
এর মধ্যে ভারতীয় রুপির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ২৪৮ রুপি।
জেলা
প্রশাসক জানান, নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির পৃথক হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের
কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত,
গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার
আলম। পরবর্তীতে তার নির্দেশে ১৮ জুন পুরাতন তিনটি ডেগে সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানো
হলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থার মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার
করে নেয় সরকার।
তবে,
প্রত্যাহারের আদেশ হলেও গত ২২ জুন সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের
প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য
ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউজে
এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী
স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এক
মাসের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত জমা দেওয়ার কথা বললেও গঠনের পর প্রায়
দেড় মাস পার হয়ে গেলেও কমিটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা দিতে
পারেনি।
মন্তব্য করুন


বরিশালের
বাকেরগঞ্জে বোমাসদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন।
উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নে দুধল মৌ গ্রামে আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের
উদ্ধার করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন–
হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি ও বোনের ছেলে ফাহিম।
আহতের
স্বজনেরা জানিয়েছেন, সকালে বাসার পাশে বের হন ওই তিনজন। এসময় নতুন একটি বাজারের ব্যাগ
ও কিছু চিপসের প্যাকেট দেখতে পেয়ে তারা সেটি আনতে গেলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনই
দগ্ধ হয়ে পাশের নদীতে ঝাপ দেন। পরে সেখান থেকে তাদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের
ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ
জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থল
পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মাঝে ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি দরজা খুলে দিয়েছে ভারত।
বলা হচ্ছে প্রবল বৃষ্টির কারণে দেশটির বিহার ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে বন্যা ও পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সোমবার এই বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্টি হওয়া বন্যা পরিস্থিতি ও ভূমিধসের বিষয়ে বাংলাদেশকে আগেই তথ্য জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে ভারত। ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্প সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ বলছে, বিহার ও ঝাড়খণ্ডে বিপুল বৃষ্টি হওয়ায় ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্পের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে পানির চাপ সামলাতে ফারাক্কা বাঁধের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে একদিনে বাংলাদেশে ১১ লাখ কিউসেক পানি প্রবেশ করবে।
এর ফলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের মুর্শিদাবাদসহ বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পে যে পরিমাণ পানি আসছে, সেই পরিমাণ পানি ছাড়া হয়েছে। ফারাক্কা বাঁধ এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৭৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধে পানির অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে পানি বেশি হওয়ায় তা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, পানি না ছাড়া হলে ফারাক্কা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফারাক্কা বাঁধ কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিবেশি দুই রাজ্য—বিহার, ঝাড়খণ্ডে বন্যা দেখা দেওয়ায় ফারাক্কা বাঁধে পানির চাপ রয়েছে। তবে নেপালের পাহাড় থেকে এখনও কোনও পানি নেমে আসায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ফারাক্কা বাঁধ এলাকায় বিপৎসীমা থেকে ৭৭ দশমিক ৩৪ মিটার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গেট খুলতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফিডার ক্যানেলে পানির পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর ফারাক্কা বাঁধের অবস্থান। বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ১৯৬২ সালে এই বাঁধের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই বাঁধের কাজ শেষ হয় ১৯৭০ সালে। ফারাক্কা বাঁধের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল।
দেশটির ওই সংবাদমাধ্যম বলেছে, ফারাক্কা বাঁধ প্রকল্পের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় দৈনন্দিন পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়ছে। এদিকে এই পানি ছাড়ার ফলে গঙ্গা থেকে পানি ঢুকছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়। বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। বিহার, ঝাড়খণ্ড-সহ গঙ্গার উচ্চ অববাহিকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় গঙ্গায় হু হু করে পানি বাড়ছে।
মন্তব্য করুন