

নেপাল
ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নতুন বিপদের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের
লহেন্দে নদীর উজানে তৈরি হওয়া একটি অস্থায়ী হ্রদ যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে সতর্ক
করেছে চীন। হ্রদের পানির রং ক্রমেই গাঢ় হয়ে আসাকে সম্ভাব্য বিপদের ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ
করেছে দেশটি।
নেপালের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক বার্তায় চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিন
আগে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর হ্রদটি তৈরি হয়। শুক্রবার পর্যন্ত এতে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার
পানি জমা হয়েছে। পানির উচ্চতাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
চীনের
বার্তায় বলা হয়েছে, ‘গত পরশুদিন তৈরি হওয়া হ্রদের পানির রং ক্রমাগত গাঢ় হচ্ছে। এর অর্থ,
হ্রদটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।’
তবে
হ্রদটি ভেঙে গেলেও পানির প্রবাহ খুব বেশি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে চীন। দেশটির
হিসাব অনুযায়ী, বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে নদীতে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ ঘনমিটার
পানি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর পানি কিছুটা বাড়লেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম
বলে মনে করছে চীন।
উজানের
অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে গেলে ভাটির এলাকার নদীর পানি বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী
বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
হিমবাহ
ধসে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের কারণে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়ে ওই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। চীনের
অংশে চোচেন নদী এবং নেপালের অংশে পুরেপু নদীর মিলনস্থলের কাছে হ্রদটি তৈরি হয়েছে বলে
জানিয়েছে চীন।
চীনের
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হ্রদটির পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। এরই মধ্যে এতে
প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে
পারে বলেও এর আগে সতর্ক করেছিল চীন।
হ্রদটি
ভেঙে গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কতটা হতে পারে, তা জানতে বন্যার পানির প্রবাহ নিয়ে মডেলিংও
করেছে চীন। দেশটির হিসাব অনুযায়ী, বাঁধের কোনো অংশ ভেঙে গেলে নদীব্যবস্থায় সর্বোচ্চ
৫০০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ডে পানি প্রবাহিত হতে পারে। তবে পানি নদীর তীরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ
থাকবে বলে চীনের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হ্রদটির
পরিস্থিতি ড্রোন ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার হ্রদটি উপচে লহেন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে পানি পড়তে শুরু করে। তবে দুপুর
নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম
সিসিটিভি।
এর
মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্বেগ বেড়েছে নেপালে। বুধবারের আকস্মিক বন্যায় দেশটির
বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে নেপালে অন্তত ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
তিব্বতে মারা গেছেন অন্তত সাতজন। বন্যার পর উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন করে হ্রদ ভেঙে
পড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি
আজ মঙ্গলবার (১২ মে)সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
'ট্রান্সফর্মিং হাইয়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্সি’
শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
তিনি
বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বৈশ্বিক মান বজায় রাখতে পারছে কিনা
এমন একটি প্রশ্ন অনেকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হচ্ছে, একবিংশ শতাব্দীতে
শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ অর্জনের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি
আরো বলেন, ‘র্যাঙ্কিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন এবং উদ্ভাবন
এই বিষয়গুলোকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। সে ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান কোথায় এ বিষয়গুলো
নিয়ে আমাদের শিক্ষাবিদগণ নিশ্চয় আরো চিন্তাভাবনা করবেন। শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগ না দিলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমাদের টিকে থাকা কষ্টকর
হয়ে পড়বে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন চতুর্থ
শিল্প বিপ্লবে পা দিয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান এই সময়ে এ আই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা,
রোবটিক্স ও অটোমেশন, ইন্টারনেট অব থিংস, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, সাইবার
সিকিউরিটি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডাটা, ম্যাটেরিয়াল
সায়েন্স, ন্যানো টেকনোলজি, পঞ্চম প্রজন্মের ওয়্যারলেস প্রযুক্তি, এসব উন্নততর প্রযুক্তি
একদিকে আমাদের চিন্তার জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছে, অন্যদিকে শাসন করছে মানুষের কর্মক্ষেত্র
বা কর্মসংস্থান। এর ফলে নিত্যনতুন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রথাগত চাকুরির বাজারে বেকারত্ব
বাড়াচ্ছে যেমন তেমনি তৈরি করছে নিত্য নতুন কর্মসংস্থানও।'
তারেক
রহমান বলেন, 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কর্মসংস্থানের নতুন বাজারে
প্রবেশ করতে হলে আমাদের মুখস্ত বিদ্যা এবং
সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদা
অনুযায়ী আমাদের প্রচলিত ধারার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘কারণ, শিক্ষা শুধু ব্যক্তির পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর
শিক্ষা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা
তৈরিরও প্রধান নিয়ামক। ফলে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থাকে অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের
মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলতে হবে। কারিকুলাম প্রণয়নে শিল্পখাতের চাহিদাকে অন্তর্ভুক্ত
করতে হবে।'
তিনি
বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিশ্ববাসীর সামনে যে বার্তাটি স্পষ্ট করেছে, সেটি হলো শিক্ষা
কেবল স্কুল-কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে জ্ঞানের চর্চা
কেবল একটি নির্দিষ্ট বিষয়েই আবদ্ধ নয়। বরং আমরা দেখি, ডাটা সায়েন্সের সাথে বায়োলজি
বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাথে হয়তো সমাজবিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটছে। এই সংযোগের ফলে জ্ঞানের
সীমানা প্রতিনিয়ত প্রসারিত ও গতিশীল হচ্ছে। এই পরিবর্তনের গতি প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের
নিবিড় সম্পর্ক থাকা জরুরি।’
শিক্ষা
কারিকুলাম ঢেলে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হয়। উচ্চশিক্ষা নিয়েও অনেককে বেকার থাকতে হয়।
অর্থাৎ বেকারত্বের সংখ্যা উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি। এর কারণ সম্পর্কে নানামত রয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে অনেকেই একমত একাডেমিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে না
পারাই শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশির অন্যতম কারণ।'
তিনি
বলেন, 'প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে
সাজানো এখন সময়ের দাবি। নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন
সম্ভব নয়। সময়োপযোগী শিক্ষা কারিকুলাম ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।
এ কারণেই বর্তমান সরকার একাডেমিক সিলেবাসকে সময়োপযোগী করার কাজ শুরু করেছে।'
বিশেষ
করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে বর্তমান সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ
এবং ইন্ড্রাষ্ট্রি-একাডেমিয়া বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ
করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর
সঙ্গে স্থানীয় শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক স্থাপন করে এই কার্যক্রম শুরু
করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীগণ পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষা লাভ
করে শিক্ষার্থী অবস্থাতেই কর্মদক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ফলে শিক্ষা জীবন শেষে
তাকে আর বেকার থাকতে হবে না '
তিনি
বলেন, 'কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণ করতে প্রতিযোগিতামূলক
প্রক্রিয়ায় সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট প্রদান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর উদ্দেশ্য
হচ্ছে, ক্যাম্পাস থেকে ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তৈরি করা। ফলে এই উদ্যোক্তারা নতুন এবং
সৃজনশীল ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়ন করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় কর্মদক্ষতা অর্জনের ফলে এমনও হতে পারে তিনি আর চাকুরির
জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই একজন উদ্যোক্তা
হিসেবে আরো কয়েকজনের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সরকার
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইন্সস্টিটিউট’,
সায়েন্স পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের
ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান মেলা, ইনোভেশন ফেয়ার, প্রোডাক্ট সোর্সিং ফেয়ারসহ
এ ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা বিষয়ক আয়োজনকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। শুধু উচ্চশিক্ষার
ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলপর্যায় থেকেই সরকার শিক্ষা কারিকুলামে কারিগরি এবং ব্যবহারিক শিক্ষা
বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে। '
প্রধানমন্ত্রী
বৃটিশ লেখক টম উইনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আজকের এই কর্মশালার বিষয়বস্তুর সঙ্গে ব্রিটিশ
লেখক 'গুডউইন' যিনি বিশেষ করে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে 'বিজনেস স্ট্রাটেজিস্ট এন্ড এনালিস্ট'
হিসেবে স্বনামধন্য, তার একটি বিখ্যাত মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
তিনি বলছেন, বিশ্বে বহুল ব্যবহৃত ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই।
বিশ্বে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সোশ্যাল মিডিয়া 'ফেসবুক' নিজে কনটেন্ট তৈরি করে না। বিশ্বের
বৃহত্তম অনলাইন বিজনেস প্লাটফর্ম 'আলিবাবা'র কোনো 'মজুদ পণ্য' নেই।
বিশ্বের
সবচেয়ে বড় আবাসন প্রোভাইডার 'এয়ারবিএনবি’র নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই।'
অর্থাৎ ইনোভেটিভ আইডিয়া দিয়ে তারা যার যার ক্ষেত্রে বিশ্ব শাসন করছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো
মূলত: এক একটি 'স্মার্ট ইন্টারফেস'। তারা সেবা দিচ্ছে না, বরং যারা সেবা দিতে চায় এবং
যারা সেবা নিতে চায়, তাদের এক জায়গায় নিয়ে আসছে। এটিই প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান।
শিক্ষার্থীদের
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবন কিংবা
গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার অর্থ বরাদ্দ দেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি জানি,
ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশেই যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই তাদের অনেকেই কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের
'গবেষণা এবং উদ্ভাবন' কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। এ জন্যই অনেকে
বলে থাকেন, ‘শিক্ষার্থীরা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ, আর এলামনাইরা হলো তার মেরুদণ্ড।'
তিনি
বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বর্তমানে যারা দেশে-বিদেশে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে ও অর্থ-বিত্তে
প্রতিষ্ঠিত সেসব এলামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা ও গবেষণা' উন্নয়নে সম্পৃক্ত
করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য আমি উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাই।'
মেধাভিত্তিক
দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের সামর্থ সীমাহীন না হলেও
সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অবশ্যই আমাদের পক্ষেও নতুন কিছু করা সম্ভব।
আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও প্রচুর মেধাবী মানুষ রয়েছেন যারা সুযোগ বা সুবিধা পেলে তাদের
পক্ষেও বিশ্বমানের কিছু করা অসম্ভব নয়। মেধা পাচার রোধ করে মেধার বিকাশ ও মেধার লালন
করে আমরা ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চাই। '
ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচারের
বিরুদ্ধে আমাদের তারুণ্য বারবার রাজপথে নেমে এসেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, 'স্বাধীনতাপ্রিয়
গণতন্ত্রকামী জনগণ বারবার অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল হয়েছে। এভাবেই দীর্ঘ দেড় দশকের
বেশি সময় পর হাজারো প্রাণের বিনিময়ে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এই সরকার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ
বিনির্মাণ করতে চায়। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং
সমাজ গড়তে চায়।'
তিনি
বলেন, 'জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল ভিত্তি হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে
শিক্ষা, গবেষণা, মেধা, যোগ্যতা এবং সৃজনশীলতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।'
প্রধানমন্ত্রী
বলেন, ‘আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের
সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে। আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা
চাই, যা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকেও আলোকিত করবে। সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বার্থে
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষকে আমরা অবশ্যই আলিঙ্গন করবো।'
তিনি
বলেন, 'তবে আমরা যেন আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক
মূল্যবোধ হারিয়ে না ফেলি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী পেশাজীবী তথা
সকল শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতি সতর্ক ও সজাগ থাকার আহবান জানাচ্ছি।'
অনুষ্ঠানে
প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ক্রেস্ট উপহার দেন কমিশনের চেয়ারম্যান
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।
ইউজিসির
চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল
হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক,
ইউজিসির সচিব ফখরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


ইউএনডিপি
বাংলাদেশের আইনি ও বিচারিক সংস্কার, সংবিধান সংশোধনসহ সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ
সহযোগিতা করতে চায় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার
(২৫ আগস্ট) মন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে জাতিসংঘ
উন্নয়ন কর্মসূচি’র (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন
রড্রিক্স সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ সহযোগিতার কথা জানান।
মঙ্গলবার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
জানানো হয়, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সাংবিধানিক সংস্কার, রোহিঙ্গা
শরণার্থীদের সহায়তা, পুলিশের সামর্থ্য বৃদ্ধি, গুজব ও অপতথ্য রোধে প্রাতিষ্ঠানিক ও
প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার
আইনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এতে
বলা হয়, বৈঠকে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, অগ্রাধিকার
ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই। তিনি মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন,
‘আপনি সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন জেনে আমরা আনন্দিত।
আপনি চাইলে আমরা এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে আগ্রহী।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির ধারাবাহিক সহায়তার ভূয়সী
প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত
মিয়ানমার নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ইউএনডিপি'র সহায়তার কথা উল্লেখ করে আবাসিক প্রতিনিধি
জানান, ক্যাম্প এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষা (যেমন- পাহাড় ধস প্রতিরোধ) এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক
বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি
কাজ করে যাচ্ছে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান অবকাঠামোর যথোপযুক্ত
উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন চাই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেখানে নতুন করে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ
করতে চাই না।’
আবাসিক
প্রতিনিধি জানান, ইউএনডিপি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে নাগরিক
অধিকার সংরক্ষণ, সংঘাত ও বিরোধ নিষ্পত্তি-সহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। মন্ত্রীও
এ সময় পুলিশের দক্ষতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি'র সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির
অপব্যবহার প্রতিরোধ প্রসঙ্গে আবাসিক প্রতিনিধি বলেন, ‘বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে
বিভিন্ন গুজব, অপতথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এগুলো কার্যকরভাবে রোধে আমরা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে
কাজ করছি। এ ক্ষেত্রে আমরা প্রযুক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দিতে চাই, যাতে কোনো
লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা যায়।’
মন্ত্রী
এ বিষয়ে বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ইতোমধ্যে পাশ হয়েছে। আপনারা এ আইনের সফল বাস্তবায়নে
লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করতে পারেন।
বিজ্ঞপ্তিতে
আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত মানবাধিকার কমিশন আইন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী
জানান, 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬'-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে
এবং জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এটি পাশ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি
বলেন, আইনটি প্রণয়নে ইউএনডিপি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি মিশন, উন্নয়ন অংশীদার,
পত্রিকার সম্পাদক ও আইনজীবী-সহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের
সামাজিক মনস্তত্ত্ব ও ধর্মীয় অনুভূতিকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আশা করা যায়, এটি একটি
যুগোপযোগী ও গ্রহণযোগ্য আইন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
বৈঠকে
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশে কোনো গুম বা বিচারবহির্ভূত
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।
এ
সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন
২০২৬'-এর খসড়াও মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করেছে।
আন্তর্জাতিক
গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সঠিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে আবাসিক প্রতিনিধি
বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সবসময় বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। তিনি বলেন,
বাংলাদেশ একটি উদার ও ধর্মীয় সহনশীল দেশ এবং ইউএনডিপি এ ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাস্তবায়নেও
কাজ করতে আগ্রহী।
সাক্ষাৎকালে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন
আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রোগ্রাম
ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপ সাপোর্ট স্পেশালিস্ট সাইফ ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে
শপথ নিয়েছেন আরও চারজন। তাঁরা হলেন ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, ড. মুহাম্মদ
ফাওজুল কবির খান ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
আজ শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার
দিকে বঙ্গভবনে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় আরও
উপস্থিত ছিলেন, কয়েকজন উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, তিন বাহিনীর প্রধান,
বেসামরিক ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের
আকার প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১ জনে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন


ফটিকছড়িতে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রচারণামূলক লিফলেট তৈরির অভিযোগে দলটির স্থানীয় একজন
নারী নেত্রী এবং এক কম্পিউটার অপারেটরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে যুবদল ও ছাত্রদলের
নেতাকর্মীরা।
সোমবার
(৮ জুন) রাতে উপজেলা সদরের এএইচ শপিং কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা
হলেন, উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুমি আক্তার
এবং কম্পিউটার অপারেটর উজ্জ্বল।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, কম্পিউটার অপারেটর উজ্জ্বলের দোকানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির প্রচারণামূলক
লিফলেট প্রস্তুত করার খবর পেয়ে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত
হন।পরে তারা সুমি আক্তার ও উজ্জ্বলকে আটক করে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর
করেন।
ফটিকছড়ি
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে
গ্রেপ্তার দুজনকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঘটনার
সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা করতে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আসন্ন রমজানে ও গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে সব ধরনর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যমুনা সেতু পশ্চিম সিরাজগঞ্জ সয়দাবাদ ৬৮ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট পরির্দশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি, গ্যাস, কয়লা ক্রয়ের ডলার সংস্থান ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বাৎসরিক মেইনটেন্যান্স সম্পন্ন করা হয়েছে। কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যদি অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা না ঘটে তাহলে এবার বিদ্যুতের কোন সমস্যা হবে না।
এ
সময় জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. ফারুখ হোসেন, সিরাজগঞ্জ ৬৮
মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্লান্টের প্রকল্প পরিচালক মো. তানভীর রহমানসহ বিদ্যুৎ বিভাগের
কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই দিনে অনুষ্ঠিত তিনটি বিষয়ের পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ১০৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এদিন কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৯৩টি কেন্দ্রে মোট ৭২ হাজার ২৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭০ হাজার ১৫৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। বাকি ২ হাজার ১০৫ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৯১ শতাংশ।
উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও জানান, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কুমিল্লায় ৭০৯ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩০১ জন, চাঁদপুরে ১২৮ জন, ফেনীতে ১৮২ জন, নোয়াখালীতে ৫৭২ জন এবং লক্ষ্মীপুরে ২১৩ জন ছিলেন।
এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কুমিল্লায় একজন, নোয়াখালীতে তিনজন এবং ফেনীতে একজনসহ মোট পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ময়মনসিংহের
মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে লজিং শিক্ষক ও স্থানীয়
একটি মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, ওই ঘটনার পর কিশোরী
বর্তমানে প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
পুলিশ
জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খেরুয়াজানী
ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। তিনি উপজেলার ভিটিবাড়ী
গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় ধর্ষণের
অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলার
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী কিশোরীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী হওয়ায়
তাদের বাড়িতে লজিং থাকতেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব
পালন করতেন। কিশোরীর বাবা-মা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করায় তিনি গ্রামের বাড়িতে
দাদির সঙ্গে বসবাস করতেন।
অভিযোগে
বলা হয়েছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর রাতে পড়াশোনার সময় কিশোরীর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ
করেন আব্দুল্লাহ। পরে বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ভয় ও সামাজিক
লজ্জার কারণে দীর্ঘদিন ঘটনাটি গোপন রাখে কিশোরী।
কয়েক
মাস পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার দাদির সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া
হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সে ২৭ সপ্তাহের, অর্থাৎ প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনার কথা জানায় কিশোরী এবং অভিযুক্তের নাম প্রকাশ
করে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তার বাবা থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী
কিশোরী বলেন, লোকলজ্জার ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু বলিনি। এখন আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আমার সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মুক্তাগাছা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের
অবস্থান শনাক্ত করে এর আগে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হলেও তিনি আত্মগোপনে
ছিলেন। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো
হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার
আবেদনও আদালতে করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


যশোরের
কেশবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আরাফাত হোসেন (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি কেশবপুর উপজেলার কাস্তা গ্রামের রুস্তম আলী খানের ছেলে। বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুর
খাদ্য গুদামের সামনে এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে । AirTravel
জানা
গেছে, এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি মোটরসাইকেলযোগে কেশবপুরে আসছিলেন। সকাল
৯টার দিকে কেশবপুর খাদ্য গুদামের সামনে পৌঁছালে একটি আলমসাধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ
হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নেওয়ার পথে ডুমুরিয়া
এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আরাফাত
হোসেন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্ভাবনাময় একজন তরুণ। তাঁর এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু
পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ
বাড়িতে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীর মুরাদপুর এলাকায় র্যাব-১১ এর মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তার হেফাজত থেকে ৬৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত নারী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন।
র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ জুন দিবাগত রাতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার ২য় মুরাদপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কবরী আক্তার (৩২) নামের এক নারীকে আটক করা হয়। পরে তার দখলে থাকা মাদকদ্রব্য তল্লাশি করে ৬৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কবরী আক্তার কুমিল্লা সদর উপজেলার ২য় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং রুবেল মিয়ার স্ত্রী বলে জানিয়েছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে স্থানীয় ও আন্তঃজেলা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি এবং খুচরা মূল্যে বিক্রি করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোকে ব্যবহার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত কবরী আক্তারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
মন্তব্য করুন


ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সহকারী শিক্ষক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিল করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদনের শুনানির জন্য ২ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত।
সোমবার (৩ মার্চ) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি সুপারিশপ্রাপ্ত এ শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে মেধার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
গত
বছরের ৩১ অক্টোবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে তৃতীয় ধাপে ঢাকা ও
চট্টগ্রাম বিভাগের (তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া) চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ
হন ৬ হাজার ৫৩১ জন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য করুন