

পিরোজপুরের
নেছারাবাদে প্রায় ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে নৌপুলিশ।
সোমবার
(৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভরতকাঠি বেলুয়ানদীতে দৈহারী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো.
নিয়াজ মোর্শেদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে একটি ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ ওই মাংসসহ তাদের
গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা
হলেন, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার খাসতবক গ্রামের সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. খলিল (৪১)
এবং একই উপজেলার তাফালবাড়িয়া গ্রামের চান মিয়া মাঝির ছেলে বাবুল ফরাজি (৪২)।
নেছারাবাদের
দৈহারী পুলিশ ফাঁড়ির নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে
সোমবার দুপুরে উপজেলার বেলুয়া নদীর ভরতকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এসময়
একটি ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২২০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে মাংস বহনের
সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খলিল ও বাবুল ফরাজিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘদিন
ধরে বরগুনার পাথরঘাটা এলাকা থেকে বিভিন্ন নৌপথে নেছারাবাদে অবৈধভাবে হরিণের মাংস আনার
অভিযোগ রয়েছে। কাঠবোঝাই, গোলপাতাবোঝাই এমনকি মাছ ধরার ট্রলারেও এসব মাংস পরিবহন করা
হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে নেছারাবাদের বিভিন্ন স্থানে থাকা কথিত চোরাকারবারিদের
কাছে এসব মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সময়ের অভিযানে হরিণের মাংস বিক্রির সঙ্গে
জড়িত কয়েকজন আটক হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এই অবৈধ বাণিজ্য।
অভিযোগ
রয়েছে, চোরাই পথে আনা এসব মাংসের একটি অংশ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করায় পচা অবস্থায় বাজারজাত
করা হয়। আবার কখনো হরিণের মাংসের সঙ্গে শিয়ালের মাংস মিশিয়ে গোপনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি
করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নেছারাবাদ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে
একটি মাছ ধরার ট্রলারে ২২০ কেজি হরিণের মাংসসহ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে
দুজনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল আদালতে তাদেরকে পাঠানো হবে বলেও জানান
তিনি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে চলছে।
আজ সোমবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে তেজগাঁও কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার বৈঠক চলছে।
এ বৈঠকে সমসাময়িক ইস্যু ও অর্থনৈতিক খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের
নতুন ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার
(৩ মার্চ) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান জে আর টাওয়ার নামের নতুন
এ ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।
নতুন
ভবন উদ্বোধন শেষে প্রধান উপদেষ্টা এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেন।
প্রধান
উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও আলী ইমাম মজুমদার,
আঞ্জুমান মুফিদুলের সভাপতি মুফলেহ আর. ওসমানী ও সহ-সভাপতি গোলাম রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছেন, রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো
সম্পূর্ণ ‘অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম’। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে
অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে নিয়মিত মামলা রুজু করা
হচ্ছে।
রোববার
(২৬ জুলাই) রাতে মোবাইল ফোনে ঢাকা পোস্টকে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ
সুপার মাসুদ আলম বলেন, আলীনগরের যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশ মিলিয়ে
প্রায় তিনশ সদস্য রয়েছেন। তাদের জন্য পাশের ডিপটিউবওয়েলের সংযোগস্থলে বিষ বা বিষজাতীয়
কিছু পুশ করেছিল দুর্বৃত্তরা। পরে অপারেটর সকালে পানি ও টাংকি চেক করতে গিয়ে দুর্গন্ধ
পেয়ে সবাইকে সতর্ক করেন।
তিনি
আরও বলেন, রাস্তা কেটে দেওয়া বা ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো এই ধরনের বারবার ঘটনা সম্পূর্ণ
অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম (সাবভার্সিভ অ্যাক্টিভিটিজ)। দেশের ও সরকারের বাহিনীর বিরুদ্ধে
অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
রাষ্ট্রের
ভেতরে ‘আলাদা রাষ্ট্র’ খ্যাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল
সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এলাকাছাড়া করতে দফায় দফায় এমন জঘন্য নাশকতা
চালাচ্ছে অপরাধী চক্র। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) সকালে পুলিশ ক্যাম্প ও স্থানীয় একটি
স্কুলের যৌথ পানি সরবরাহের পাইপলাইনে সুপরিকল্পিতভাবে কীটনাশক বা বিষ প্রয়োগের পর তিন
পুলিশ সদস্য অসুস্থ হলে বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এর
আগে, জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদ্য প্রতিষ্ঠিত ক্যাম্প লক্ষ্য করে
মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত ও
অভিযান বাধাগ্রস্ত করতে মূল সড়কের বিভিন্ন অংশ বুলডোজার দিয়ে কেটে ফেলা হয়, যাতে সাঁজোয়া
যান বা দ্রুতগতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে না পারে। এমনকি সে সময় সশস্ত্র
হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন চৌকির দেওয়াল ও বিভিন্ন অবকাঠামোও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পাহাড়ি
এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ও যৌথ বাহিনীকে হটাতে এর আগেও ক্যাম্প লক্ষ্য
করে গুলিবর্ষণ এবং বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়ার মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল
চক্রটি।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের
ভাঙ্গা উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ
উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত
শিক্ষককে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সোমবার
(২২ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট নেছারিয়া দাখিল মাদরাসায়
এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক আমির হোসেন ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মাদরাসা ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে
উপহার দেওয়ার কথা বলে তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটি বিষয়টি
পরিবারের সদস্যদের জানালে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সোমবার
সকালে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ
সময় শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের
চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় মাদরাসার সামনে থাকা কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও
ঘটে।
মাদরাসা
পরিচালনা কমিটির সদস্য জাকির হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার মাদরাসা ছুটির পর এক শিক্ষার্থীকে
উপহার দেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে
আজ মাদরাসায় আলোচনা করতে বসলে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে শিক্ষকদের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির
সৃষ্টি হয়।
মাদরাসার
ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আমির হোসেন আমাকে ফোন করে জানান,
পড়াশোনা না করায় শিক্ষার্থীদের শাসন করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলাকালে কয়েকজন
বহিরাগত এসে আমার ওপর হামলা চালায়।
এ
বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এক শিক্ষার্থীর
সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে এক শিক্ষককে আটকে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে
অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবকের অভিযোগের
ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আলু বোঝাইকৃত ট্রাকের চাপায় বাকিয়ার মল্লিক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জালাল মিয়া (৬৭) নামের অপর বৃদ্ধ আহত হয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়েছে।
নিহত ব্যক্তি বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামের মৃত হানিফ মল্লিকের ছেলে।
থানা ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কানখরদী গ্রামের বৃদ্ধ বাকিয়ার মল্লিক (৬৫) ও জালাল মিয়া নামে দুইজন কানখরদী বাসস্ট্যান্ড মসজিদ থেকে নামাজ শেষে শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬ টার দিকে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় বোয়ালমারীগামী আলু বোঝাইকৃত (ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-০২৪৯) ট্রাক মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে কানখরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাকিয়ার মল্লিক ও জালাল মিয়াকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই বাকিয়ার মল্লিক মারা যায়। দুর্ঘটনায় আহত জালাল মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
তবে ঘাতক ট্রাকটি বোয়ালমারী বাজারে কাঁচাবাজারের আড়তে ট্রাকটি রেখে চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ আড়ত থেকে ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়েছে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক
আব্দুর রশিদ বলেন, মাঝকান্দী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের কানখরদীতে আলু বোঝাইকৃত
ট্রাকের চাপায় একজন নিহত এবং অপরজন আহত হয়েছেন। ট্রাকটিকে বোয়ালমারী বাজারের আলুর
আড়ত থেকে জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা
প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন


রংপুরে
একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পর বাসার বাথরুমে গোসল করেন অভিযুক্তরা। এরপর ডাইনিং টেবিলে
বসে খেজুর ও শসা খান। সেখানেই ইয়াবা সেবন করেন তারা-এমনটাই জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন
পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
রোববার
(২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
এর
আগে, রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার জনকে হত্যার ঘটনায় মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুই যুবককে
গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ ভোরে নগরের মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের বাড়িও একই এলাকায়।
এর
আগে, শনিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা
স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী
ভোলা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছোট ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২) মরদেহ
উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার পরও দীর্ঘ সময় ওই বাড়িতেই ছিলেন
দুই যুবক। হত্যাকাণ্ড শেষে তারা বাসার বাথরুমে গোসল করেন। এরপর ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর
ও শসা খান। সেখানেই ইয়াবা সেবন করেন। পরে জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হলে বাড়ি
থেকে স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যান তারা।
ডিআইজি
মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, রংপুর মহানগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাছুয়াপাড়া এলাকায় সাবেক
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে ভোলা, মেয়ে প্রার্থী
চক্রবর্তী ও ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়মকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর রংপুর
মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিআইডি, ডিবিসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা, গণমাধ্যমকর্মী
ও সমাজকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য
উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি
বলেন, গণপতি চক্রবর্তী একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো
কলহ বা বিরোধ ছিল না। পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি
চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যাতায়াত করত। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা ওই ছাদে বসে ইয়াবা
সেবন করছিল। এ সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে যান। তিনি খালি গায়ে ছিলেন এবং কাঁধে
গামছা ছিল। ছাদে বসে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করেন। তখন নিজেদের পরিচয়
যাতে প্রকাশ না পায়, সে জন্য দুই আসামি তার গলায় থাকা গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যার সময় তার বাচার চেষ্টার শব্দ শুনে স্ত্রী
প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সিঁড়িতে তাকেও গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা
করা হয়। তার চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে আসেন। তাকেও গামছা
পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। আসামিদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তী সহজে মারা যাচ্ছিলেন
না। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে চার থেকে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। একপর্যায়ে রশি দিয়ে তার
গলা ও মুখ পেঁচিয়ে জোরে টান দেওয়া হয়। এতে তার চোয়াল ভেঙে যায় এবং চোখ বেরিয়ে আসে।
তিনি
উল্লেখ করেন, এরপর নিচতলায় গিয়ে ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছর বয়সী শিশু প্রিয়মকে হত্যা করা হয়।
শিশুটির গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যার পর একপর্যায়ে বালিশ চাপা দেওয়া হয়। প্রিয়মের বয়স
আমার ছোট সন্তানের সমান। এ হত্যাকাণ্ডের কথা বলতে গিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। প্রিয়মকে
হত্যার কারণও আমরা জানতে পেরেছি। সিদ্ধার্থের ছোট ভাই অপূর্বের সঙ্গে প্রিয়মের বন্ধুত্ব
ছিল। তারা একসঙ্গে খেলাধুলা করত। প্রিয়ম আসামিদের চিনত। এ কারণে সিদ্ধার্থ সিদ্ধান্ত
নেয়, প্রিয়মকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে। এরপর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুজন মিলে শিশুটিকে
হত্যা করে।
তিনি
বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরও আসামিরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে। সকাল হলে তারা বাড়ির বাথরুমে
গোসল করে। প্রথমে সিদ্ধার্থ এবং পরে মুগ্ধ গোসল করে। এরপর তারা ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর
খায়। সেখানে থাকা এক পিস ইয়াবা তারা সেবন করে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া
গেছে। খুনের পর তারা শসাও খেয়েছিল। ফ্রিজ থেকে নেওয়া একটি শসার অর্ধেক অংশ পাওয়া গেছে।
তাদের বক্তব্যের সঙ্গে এই আলামতও মিলে গেছে। খুনের পর তারা উত্তেজিত ছিল এবং শসা খেয়েছিল
বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।’
সংবাদ
সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, এরপর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় তারা বাড়ি থেকে বের হয়। তখন
মুসল্লিরা নামাজে ব্যস্ত থাকায় রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল। তারা ওই সুযোগে বাড়ি থেকে কিছু
স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে সেগুলো মন্দিরের পেছনের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়।
আসামিদের দেখানো মতে আজ এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানের
কারিগর। সে পিকে পাল জুয়েলার্সে প্রায় আট বছর ধরে স্বর্ণের কাজ করে। ফলে কোনটি স্বর্ণ
আর কোনটি ইমিটেশন, তা সে চেনে। ঘটনাস্থলে একটি চুরি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়া
যায়। তখন আমাদের ধারণা হয়, স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
পরে সেই ধারণা সঠিক প্রমাণিত হয়।
এতে
বলা হয়, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখাতে এবং তদন্ত ভিন্ন খাতে নিতে আসামিরা ইচ্ছাকৃতভাবে
বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করে। বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোনও তারা ডিটারজেন্ট মেশানো
পানিতে বালতির মধ্যে ভিজিয়ে রাখে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ফোনে যেন কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট
না থাকে, সে জন্য তারা এ কাজ করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত
পুরো ঘটনাটি ঘটে। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পরে সেগুলো
পরিত্যক্ত জায়গায় রেখে দেয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পরস্পরের আত্মীয়। তারা মামাতো ভাই। ঘটনার আগে সীমান্ত
নামে একজনের বাসায় বসেও তারা ইয়াবা সেবন করে। সীমান্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।
এরপর তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়ে ইয়াবা সেবন করে। মুগ্ধ সিটি বাজারের রামনাথের
মাছের দোকানে কাজ করে। তার বাসার সামনে প্রশান্ত নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ী রয়েছে। তার
কাছ থেকেই তারা ইয়াবা কিনত। প্রতি পিস ইয়াবার দাম ছিল ৩৫০ টাকা।
আসামিরা
যে ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যাতায়াত করত, সেটি দেবুদের ভবন। তারা ওই
ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যেত। গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রীকে তারা
‘কাকি’ বলে ডাকত। গণপতি চক্রবর্তীকে ‘স্যার’
বলে সম্বোধন করত। তাঁর মেয়ের সঙ্গে তাদের খুব একটা কথা হতো না। তবে ছোট শিশু প্রিয়মের
সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল এবং খেলাধুলার সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ
জানান, দুই আসামিকেই আমরা গ্রেপ্তার করেছি। আজ ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার
দুজন হলেন শ্রীমুগ্ধ ওরফে মুগ্ধ, বয়স ২৩ বছর, পিতা কানুদাস ও মাতা সেনারী দাস এবং সিদ্ধার্থ
দাস, বয়স ১৯ বছর, পিতা বিনয়চন্দ্র দাস ও মাতা পাপড়ি দাস। দুজনেরই বাড়ি মাছুয়াপাড়া এলাকায়।
চারজনকে একের পর এক হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার
তদন্তে আমরা বিভিন্ন আলামত পেয়েছি। খেজুরের বিচি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অর্ধেক খাওয়া শসা পাওয়া গেছে। একটি চুরি আগুন দিয়ে পরীক্ষা করার আলামত পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করেই আমরা তদন্তে অগ্রগতি পেয়েছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার
করতে সক্ষম হয়েছি। ঘটনার শুরু থেকেই এটি হত্যা নাকি ডাকাতি—তা
নিয়ে আমাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। সে কারণে আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের
ক্ষেত্রে আমরা সতর্কতার সঙ্গে এগিয়েছি। এত দ্রুত সময়ে আসামিদের শনাক্ত করতে পারা আমাদের
তদন্ত দলের বড় সাফল্য।
সংবাদ
সম্মেলনে পুলিশ বলেন, এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলার নম্বর ৪৩। দণ্ডবিধির
৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পুলিশের পক্ষ
থেকে চার্জশিট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। প্রকৃত আসামিদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ঘটনাটি
অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর হওয়ায় আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন
করেছি। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি পদক্ষেপ বিবেচনা করে নিতে হয়েছে। তাই সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে
গণমাধ্যমকে জানানো সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ ধরনের
কোনো তথ্যও আমাদের তদন্তে আসেনি।
মন্তব্য করুন


গৃহায়ন
ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন (Ambassador Brent T. Christensen)।
আজ
সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার
দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আবাসন খাত,
জাতীয় বিল্ডিং কোড, নগর উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং পাবলিক
প্লেস ও পার্কের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা
হয়।
সৌজন্য
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, তাঁর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের হাউজিং
সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট
(BESRI)’ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে
উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব
মো. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী
মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
মার্কিন
প্রতিনিধিদলের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এরিক গিলান (Mr. Eric
Geelan), পলিটিক্যাল অফিসার জশ পোপ (Mr. Josh Pope) এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক
ডিপ্লোমেসি সেকশনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন


মেহেরপুরে
মাটি কাটার সময় ছয়টি মাইনসদৃশ বস্তু ও কয়েকটি ধাতব বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার
(৮ আগস্ট) দুপুরে জেলার গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে পরিত্যক্ত এক জমি থেকে বস্তুলো
পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি সুরক্ষার জন্য ঘিরে রেখেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা
জানান, বেতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান কালুর একটি পরিত্যক্ত জমিতে দুপুরে
মাটি কাটার কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা। মাটি খোঁড়ার একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মাটির নিচে বেশ
কয়েকটি বক্স ও মাইনসদৃশ বস্তুর সন্ধান পান। বিষয়টি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে গাংনী
থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জায়গাটি কর্ডন করে
রাখে।
গাংনী
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিমুল কুমার দাস জানান, উদ্ধারের পর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার
স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিসপোজাল
ইউনিটকে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত
করতে পারবে যে এর ভেতর কোনো সক্রিয় বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে কি না।
উদ্ধার
করা বস্তুর সময়কাল সম্পর্কে তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে বস্তুগুলো ১৯৭১
সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া হতে পারে। কারণ উদ্ধার
হওয়া মাইনসদৃশ ধাতব বস্তুগুলোর ওপর ‘১৯৬৭’ সাল খোদাই করা রয়েছে। ফলে এগুলো পাকিস্তান
আমলের বিস্ফোরক বা সামরিক সরঞ্জাম হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপের
শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল। নিজেদের টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর কান্না ধরে
রাখতে পারেননি নেইমার জুনিয়র। ম্যাচ শেষে জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার কথাও জানান তিনি।
এর একদিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছেলে নেইমারকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন
একটি দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন তার বাবা নেইমার সিনিয়র।
২০২৬
বিশ্বকাপের জন্য নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে চূড়ান্ত দলে একবারই ডাক পান নেইমার।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নামার পর নরওয়ের বিপক্ষে প্রায় ৩০ মিনিট
খেলেন তিনি। সেই ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে নিজের নবম
গোলের দেখা পান।
ইনস্টাগ্রামে
দেয়া দীর্ঘ বার্তায় ছেলে নেইমারের ফুটবলজীবনের শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত নানা স্মৃতি
তুলে ধরেন তার বাবা। তিনি লেখেন, ‘বাবা, কী অসাধারণ এক যাত্রা! কত সুন্দর একটি পথ;
যেখানে ছিল চ্যালেঞ্জ, ছিল কষ্ট, কিন্তু ছিল ঈশ্বরের অশেষ আশীর্বাদও।’
তিনি
বলেন, ছোটবেলা থেকেই নেইমারের মধ্যে ভিন্ন কিছু দেখেছিলেন। তার ভাষায়, ‘ওটা শুধু প্রতিভা
ছিল না, ছিল একটি উদ্দেশ্য।’
নেইমারের
বাবা জানান, জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাদের পরিবার নিজেদের বিশ্বাস
ও খ্রিস্টান ধর্মীয় মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েছে। অনেক সময় প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে
কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও তারা বিশ্বাস রেখেছেন, আর সেই বিশ্বাসের প্রতিদানও পেয়েছেন।
ছেলের
ক্যারিয়ারের প্রতিটি ধাপের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, প্রথম গোল, প্রথম সাফল্য, পেশাদার
ফুটবলে অভিষেক, বড় বড় স্টেডিয়াম, শিরোপা, ব্রাজিল জাতীয় দল এবং বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি;
সবকিছুরই সাক্ষী তিনি। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন একজন বাবা হিসেবে প্রতিটি মুহূর্তে
সন্তানের পাশে থাকতে পারা।
বার্তার
একপর্যায়ে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তিনি অনুরোধ করেন, ‘বাবা, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবারও
বল পায়ে খেলার আনন্দ খুঁজে নাও, মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি
সুযোগ দিয়েছেন।’
তিনি
আরও লেখেন, ‘সমালোচনা, প্রত্যাশা কিংবা জীবনের নানা চাপ নিজের কাঁধে বহন করো না। সব
সিদ্ধান্ত মানুষের হাতে থাকে না, কিছু সিদ্ধান্ত শুধুই ঈশ্বরের। আজকের একটি সিদ্ধান্ত
তোমার পুরো জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে না। একটি স্বপ্ন পূরণ না হলেও তার মানে এই নয় যে সেটি
শেষ হয়ে গেছে।’
ভবিষ্যৎ
নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে নেইমারের বাবা বলেন, ‘সামনের দিনগুলোকে ভয় পেয়ো না। আজকে বাঁচো,
অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও, পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর
ছেড়ে দাও।’ বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, ট্রফি, গোল কিংবা খ্যাতির
চেয়েও তিনি দেখেছেন ঈশ্বরের অলৌকিক আশীর্বাদ। তার বিশ্বাস, নেইমারের জীবনে আরও অনেক
সুন্দর অধ্যায় এখনও লেখা বাকি।
শেষে
আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, ‘মনে রেখো, পৃথিবী তোমাকে ভালোবাসার আগেই ঈশ্বর তোমাকে ভালোবেসেছেন।
আর বাবা হিসেবে আমি সবকিছু আবারও করতে প্রস্তুত; প্রতিটি সফর, প্রতিটি ত্যাগ, প্রতিটি
নির্ঘুম রাত, প্রতিটি দুশ্চিন্তা এবং প্রতিটি প্রার্থনা।’
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে একটি ডাবল কেবিন পিকআপভ্যান থেকে ৪৭ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনের অভিযোগে মো. নুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।
আটককৃত আসামি নুরুল ইসলাম (৪৫) পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাতারবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গিরাখালী ডাকঘর এলাকার হাজীখালী বাজারের মৃত আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা-গোমতী টোল প্লাজা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-১১-৮৮৮২ নম্বরের একটি ডাবল কেবিন পিকআপ জব্দ করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ি থেকে ৪৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পালাশ জানান, আটককৃত আসামি নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা রয়েছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
মন্তব্য করুন