

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোছাঃ মরিয়ম মুন মুঞ্জুরি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লেটিরকান্দা গ্রামের রুক্কু মিয়া ও কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের কৈলাটি গ্রামের রুবিনা আক্তারের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে শুরু থেকেই দম্পতির মধ্যে বনিবনা ছিল না এবং প্রায়ই কলহের অভিযোগ উঠত।
একপর্যায়ে অভিমান করে রুবিনা আক্তার বাবার বাড়িতে চলে যান। ২০২১ সালের ১৫ মে স্বামী রুক্কু মিয়া স্ত্রীকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য কৈলাটি গ্রামে যান। সেই রাতে রুবিনা আক্তার ধারালো কুড়াল দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। নিহত রুক্কু মিয়ার ছোট ভাই মো. আসাদ মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি রুবিনা আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসেম বলেন, “এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মামলার সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি শক্ত ও ইতিবাচক বার্তা যাবে। আমরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি।”
মন্তব্য করুন


চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।
শনিবার (১ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে
পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারি মাসের নির্ধারিত
দামেই এই মাসে জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মার্চ মাসে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে
জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে বিদ্যমান দাম অনুযায়ী প্রতিলিটার ডিজেল ও কেরোসিন ১০৫
টাকা, পেট্রোলের দাম ১২২ টাকা ও অকটেনের দাম ১২৬ টাকা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে
জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করেছে সরকার। সেই থেকে প্রতি
মাসে নতুন দাম ঘোষণা করে আসছিল সরকার। তবে চলতি মাসে এর ব্যতিক্রম ঘটলো।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম
লিটারপ্রতি এক টাকা বাড়িয়ে এই দাম নির্ধারণ করেছিল সরকার।
মন্তব্য করুন


সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শোক বার্তায় তিনি বলেন, জাতি একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদকে হারালো।
আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান- জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
বার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। চিকিৎসক ও জনসেবক হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সুদীর্ঘ ও বহুল সম্মানিত কর্মজীবনের কথা স্মরণ করেন তিনি।
ডা. বদরুদ্দোজা দেশের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক হিসেবে সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিটিভিতে তার ‘আমার ডাক্তার’ অনুষ্ঠানটি কোটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় ছিল।
‘রাজনীতিতেও একই নিষ্ঠা নিয়ে এসেছিলেন ডা. বদরুদ্দোজা। পাঁচবারের সংসদ সদস্য হিসেবে নব্বইয়ের দশকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সংসদে তার বক্তব্য সব মতের রাজনীতিবিদদের কাছে প্রশংসনীয় ছিল,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
ডা. বদরুদ্দোজা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করেছেন। তিনি তার উদারতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
ডা. বদরুদ্দোজার জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সবাইকে জনগণ ও গণতন্ত্রের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা সাহসী যোদ্ধা ও ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
শুক্রবার এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
শোকবার্তায় জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একজন নির্ভীক সম্মুখযোদ্ধা, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং দৃঢ়চেতা সংগঠক। অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান নিপীড়িত ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ছিল অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উৎস।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শরিফ ওসমান হাদি মানুষের হৃদয়ে সাহস, দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও বীরত্বের যে দীপ্তি জ্বালিয়েছেন, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে তাঁর অবদান তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রাখবে।উপদেষ্টা বলেন, তাঁর অকাল প্রয়াণ জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর আদর্শ, সাহস ও দেশপ্রেম থেকে প্রেরণা লাভ করবে।উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি গত বৃহস্পতিবার রাতে আনুমানিক রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মন্তব্য করুন


পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় তো বটেই, সব সংস্করণের ক্রিকেট মিলিয়েই পাকিস্তানের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয়।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত যেন নতুন এক ইতিহাস গড়ারই অগ্রপথিক হলেন। এমন বর্ণিল সাফল্যের দিনে ঢাকা থেকে নিশ্চয়ই অভিনন্দনসিক্ত অনেক ফোন পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মধ্যে একটি ফোনকল নিশ্চিতভাবেই আলাদা।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও যে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁকে। মাঠে দাঁড়িয়েই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের জন্য ম্যাচের পরই নাজমুল ও তাঁর ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে মুঠোফোনে প্রধান উপদেষ্টা অধিনায়ককে বলেছেন, ‘আমার ও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন। পুরো জাতি তোমাদের নিয়ে গর্বিত।’
দেশে ফেরার পর বাংলাদেশ দলকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ড. ইউনূস।
বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়ে একই পোস্ট দেওয়া হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজেও।
রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে জয়। এরপর আজ একই মাঠে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ২–০ তে সিরিজও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
মন্তব্য করুন


বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ (২৬ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জল, স্থল ও আকাশ পথে উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
দ্রুততার সাথে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও ত্রাণ বিতরণের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ ১৫টি হেলিকপ্টার সর্টির মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এখানে উল্লেখ্য যে, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ১১ জন মুমূর্ষ রোগীকে উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে স্থানান্তর ও ২৪ জন ব্যক্তিকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হতে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়।
প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ৪,৮৩৯ প্যাকেট ত্রান, ৫০,৪০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি, ৫০০ মোবাইল ফোন ও এক লাখ পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সিলেট, চট্টগ্রাম,ফেনী সদর, ফাজিলপুর, ছাগলনাইয়া, সোনাগাজী, পরশুরাম ও মধুগ্রাম এলাকায় সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মন্তব্য করুন


গতকাল দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে তার দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে ২টি বিদেশি পিস্তল এবং ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেল গ্রেফতারের প্রাক্কালে স্থানীয় জনগণ কর্তৃক মারধরের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
অপরদিকে পৃথক একটি অভিযানে, রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায় একজন হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িত থাকার এবং হত্যার অভিযোগে মামলা দায়েরকৃত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির তথ্যের উপর ভিত্তি করে, সংঘর্ষের ঘটনাস্থল মোল্লাকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে থানা থেকে লুটকৃত ১টি শটগান ও ১ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যেকোনো তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা যে কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট প্রদান করুন।
মন্তব্য করুন


আজ শনিবার (৩০ আগষ্ট) চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড
উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ছিন্নমুল এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি দেশীয় অস্ত্র তৈরীর কারখানার
সন্ধান পায়।
উক্ত কারখানা হতে চারজন সন্ত্রাসীসহ ৬ টি দেশীয়
অস্ত্র, খালি কার্তুজ ৩৫ রাউন্ড, তাজা কার্তুজ ৫ রাউন্ড, চাইনিজ কুড়াল ১ টি, ছুরি
২০ টি, ওয়াকিটকি চার্জারসহ ২ টি, মেগাফোন ১ টি, প্যারাসু্ট ফ্লেয়ার ৪টি এবং
অন্যান্য অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সদস্যদের নিকটস্থ থানায় পুলিশের নিকট হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি, নিরাপত্তা ও
স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সন্ত্রাস দমনে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত
থাকবে।
মন্তব্য করুন


এবার
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন তাজনূভা জাবীন।
আজ
রোববার (২৮ ডিসেম্বর ) দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক
পোস্টে তাজনূভা জাবীন এ কথা জানান।
তাজনূভা
জাবীন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ঢাকা-১৭ আসনে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি।
ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা করতে গিয়ে সংকটে
পড়েছে এনসিপি। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
জামায়াতের
সঙ্গে এনসিপির সমঝোতার বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত হওয়ার পর গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দল থেকে
সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তাসনিম জারা। তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক
পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
এর
আগে গত বৃহস্পতিবার দলটি থেকে পদত্যাগ করেন এনসিপিতে জামায়াতবিরোধী অংশের নেতা হিসেবে
পরিচিত মীর আরশাদুল হক।
মন্তব্য করুন


রমজান
মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। স্কুল খোলা
রাখার ব্যাপারে আগের জারি করা প্রজ্ঞাপনও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের
করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আজ এ আদেশ দেন।
রবিবার
(১০ মার্চ) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ
আদেশ দেন।
এর
আগে রমজানের প্রথম ১৫ দিন মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল এবং প্রথম দশ দিন প্রাথমিক
স্কুল চালু রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে রমজানের
প্রথম ১০ দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ক্লাস চলবে। জোহরের নামাজের জন্য
সোয়া একটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে।
অন্যদিকে
রমজান উপলক্ষ্যে ৭ মার্চ থেকে সারা দেশের সব মাদরাসা ছুটি শুরুর কথা ছিল। তবে স্কুল-কলেজে
ছুটি ঘোষণার পর মাদরাসার ছুটির তালিকাও সংশোধন করে সরকার। এতে ১৫ দিন ছুটি কমানো হয়।
সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাদরাসায় ক্লাস-পরীক্ষা ২১ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়।
দেশের তিনটি সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল
মাদ্রাসায় শ্রেণি কার্যক্রমও চলবে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত,
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১১ বা ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে।
মন্তব্য করুন


ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের একটি নবপ্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজে অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হওয়াকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রবল বিরোধিতার মুখে কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসা শিক্ষার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলার শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের অনুমোদন বাতিল করে দেয়।নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করা এই মেডিকেল কলেজের প্রথম ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ৪২ জন মুসলিম, সাতজন হিন্দু এবং একজন শিখ ধর্মাবলম্বী ছিলেন। কলেজটি একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়ায় এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো আপত্তি তোলে এবং ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চাপের মধ্যেই সরকার কলেজটির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেয়।বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের ভক্তদের অনুদানে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। আন্দোলন জোরালো হলে স্থানীয় বিজেপি নেতারাও উপরাজ্যপালের কাছে আবেদন জানান, যেন কলেজটিতে শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি সীমিত করা হয়।এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এনএমসি হঠাৎ করে কলেজটির অবকাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরে। তাদের দাবি ছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক, হাসপাতালের শয্যা এবং গবেষণাগারের ঘাটতি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক প্রতিষ্ঠিত সরকারি মেডিকেল কলেজের তুলনায় এখানে আধুনিক ল্যাব ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ ছিল।ভারতের নিয়ম অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হলে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কেন্দ্রীয় মেধা তালিকার মাধ্যমে কলেজ বরাদ্দ পেতে হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা সম্পূর্ণভাবে মেধার ভিত্তিতেই এই কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না।তবে কট্টর হিন্দু সংগঠনগুলো মেধার বিষয়টিকে উপেক্ষা করে ধর্মের প্রশ্নে কলেজ বন্ধের দাবি জানায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলেজটি চালুর সময় এনএমসি যখন অনুমোদন দিয়েছিল তখন অবকাঠামো নিয়ে কোনো আপত্তি তোলা হয়নি। শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ ঘাটতির অভিযোগ ওঠা সন্দেহজনক।এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং তাদের রাজ্যের অন্যান্য মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে মানুষ নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে, সেখানে কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার আন্দোলন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।মানবাধিকারকর্মী ও ছাত্র সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, উচ্চশিক্ষায় এ ধরনের সাম্প্রদায়িক বিভাজন অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে শুধু শিক্ষাব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং মেধাবী তরুণদের মনেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হয়।
মন্তব্য করুন