

হংকংয়ের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বুধবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ভবনের ভেতরে আরও কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হংকং ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট জানায়, অগ্নিকাণ্ডে চারজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। তবে এর আগে পুলিশ আটজন হতাহত হওয়ার তথ্য দিয়েছিল। সংখ্যার এই অমিলের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার নয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে একজন দমকলকর্মী থাকতে পারেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
দমকল বিভাগ জানায়, আগুন ভবনের বাইরের অংশে থাকা বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ধরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—ফলে মুহূর্তেই তীব্র শিখা ও ঘন ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে যায়।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সরাসরি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ল্যাডার ট্রাকের ওপর থেকে দমকলকর্মীরা ওপরের তলায় পানি ছুড়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অভিযানিক দল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল হালিম ইমন (৩৮) নামক একজন চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তার নিকট হতে ০১টি শট গান, ০২ রাউন্ড থ্রিনট থ্রি এ্যামোনিশন, ০২ রাউন্ড ৭.৬২ মিঃমিঃ ব্ল্যাংক এ্যামোনিশন, ০৬ রাউন্ড পিস্তলের এ্যামোনিশন, ০৭ রাউন্ড শর্ট গানের এ্যামোনিশন, ১১ রাউন্ড শর্ট গানের ফায়ারকৃত কার্তুজ, ০১টি চাইনিজ কুড়াল এবং ০২টি রাম দাসহ বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। উক্ত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে স্থানীয় পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন


পাবনার সুজানগরে রাস্তার পাশ থেকে মিলন হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার শান্তিপুর গ্ৰামের রাস্তার পাশ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিলন হোসেন (৩৮) সাঁথিয়া উপজেলার হইজোর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, (২৪ নভেম্বর )সোমবার রাতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর মিলনের কোনো খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। আজ (২৫ নভেম্বর )মঙ্গলবার সকালে সুজানগর উপজেলার শান্তিপুর গ্ৰামে রাস্তার পাশে ১ নাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত মিলনের বাবা আব্দুল জলিল বাদী হয়ে সুজানগর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে নিহত মিলনের বাবা অভিযোগ করেছেন, গত সোমবার রাতে ফোনে ডেকে নিয়ে যায় মিলনকে। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার করে ফেলে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সুজানগর থানার (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। কীভাবে, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন


ভুয়া র্যাব পরিচয়ে ডাকাতি
ও অপহরণের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় অভিযানে
উদ্ধার করা হয়েছে অপহৃত দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী এবং ভুয়া র্যাব চক্রের ব্যবহৃত সরঞ্জাম
ও একটি মাইক্রোবাস।
আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই)
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান
র্যাব-১০-এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- দিদার
(২৯), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মিন্টু গাজী (৪৫), মো. জামিল (৩২) এবং স্বপন খান (৪৫)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ
করা হয় ৪টি ‘র্যাব’ লেখা জ্যাকেট, ৩টি র্যাব ক্যাপ, ২ জোড়া হাতকড়া, ১টি স্টেনগান,
১টি পিস্তল সদৃশ গ্যাস লাইট, ২টি ওয়াকি-টকি সেট, ১টি পিস্তল কাভার, মোবাইল ফোন এবং
একটি মাইক্রোবাস।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী জয়দেব
আধ্য (৫৩) ও বিশ্বনাথ আধ্য (৫৭) সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তারা রাজধানীর তাঁতীবাজার
থেকে জুয়েলারি তৈরির যন্ত্রাংশ কিনে সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া
এক্সপ্রেসে করে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা দেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দার
জয়বাংলা মোড়ে পৌঁছালে একটি মাইক্রোবাস র্যাব পরিচয়ে বাসটি থামিয়ে দেয়। মাইক্রোবাস
থেকে র্যাব লেখা জ্যাকেট পরা ৩-৪ জন ব্যক্তি বাসে উঠে দুই ভাইকে জোরপূর্বক নামিয়ে
মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর তাদের চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
পাশাপাশি ছিনিয়ে নেওয়া হয় তাদের সঙ্গে থাকা নগদ ২,৭০০ টাকা ও কেনা যন্ত্রাংশ।
র্যাব-১০ এর একটি দল ঘটনাস্থলে
অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে এবং অপহৃত দুই ভাইকে
অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। অভিযানের সময় সাইফুল ইসলাম ও স্বপন খান পালানোর চেষ্টা করলে
উত্তেজিত জনতা তাদের ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। পরে র্যাব সদস্যরা তাদের সেখান থেকে
উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার
দিদারের বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টি মামলা, মিন্টু গাজীর বিরুদ্ধে ৩টি, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে
৩টি, জামিলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং স্বপন খানের বিরুদ্ধে রয়েছে চুরি, ডাকাতি,
অস্ত্র ও ৪টি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০
অধিনায়ক কামরুজ্জামান বলেন, বাসে ভ্রমণের সময় যাত্রা শুরু ও গন্তব্যস্থলে ভিডিও ধারণ
বা সিসিটিভি স্থাপন করলে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কেউ সন্দেহজনক আচরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯ নম্বরে কল করতে হবে অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


সরকার দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজের আট হাজার ৮০৭ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।
বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়,৮৮০৭ শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে স্কুলের সাত হাজার ৭১৪ জন এবং কলেজের এক হাজার ৯৩ জন।
মাউশি সূত্র আরো জানায়, প্রতি দুই মাস পর পর মাউশিতে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবার যারা হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই গত বছর নতুন এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী।
সভা সূত্রে বিস্তারিত জানা গেছে, স্কুল পর্যায়ের সাত হাজার ৭১৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর মধ্যে ঢাকার ৭২৭ জন, বরিশালের ৫৭৫ জন, ময়মনসিংহের এক হাজার ৩০৪ জন, খুলনার এক হাজার ৪৪৫ জন, চট্টগ্রামের ৭২৯ জন, কুমিল্লার ৬৬২ জন, রাজশাহীর ৭০২ জন, রংপুরের এক হাজার ১২৭ জন এবং সিলেটের ৪৪৩ জন রয়েছেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর লিগ পর্বে প্রতিদিন একই ভেন্যুতে দুটি করে ম্যাচ আয়োজন করা হবে, যা দর্শকরা একটি টিকিটেই উপভোগ করতে পারবেন। এবারের আসরে ম্যাচ দেখার জন্য টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিপিএল ম্যাচগুলোর সর্বনিম্ন থেকে সর্বোচ্চ সব ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেছে।
বিসিবি সূত্র জানায়, বিপিএলের দ্বাদশ আসরের পর্দা উঠবে ২৬ ডিসেম্বর। এর আগে ২১ ডিসেম্বর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। সিলেট পর্বে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে ২৮ ও ৩১ ডিসেম্বর কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে না।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আগ্রহী দর্শকদের অনলাইনের মাধ্যমেই টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ভেন্যুতে কোনো বুথে সরাসরি টিকিট বিক্রি করা হবে না। দর্শকরা www.gobcbticket.com.bd
ওয়েবসাইটে গিয়ে টিকিট কিনতে পারবেন।
টিকিটের মূল্য তালিকা অনুযায়ী,
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের (আপার ইস্ট, আপার ওয়েস্ট, লোয়ার ইস্ট ও লোয়ার ওয়েস্ট) প্রতিটি আসনের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ক্লাব হাউস (আপার) ক্যাটাগরির টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা।
বিসিবি আশা করছে, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দর্শকরা সহজেই মাঠে বসে বিপিএলের ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন


দীর্ঘ ১৮ বছর পর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বাবা জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে আসেন তারেক রহমান।
প্রথমেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে দু’হাত তুলে আল্লাহ-তায়ালার দরবারে মোনাজাত করেন তারেক রহমান। কবরের সামনে কিছু সময় তিনি নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং সূরা ফাতিহা পাঠ করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিবসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থাকাকালে ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে বাবার করবের উদ্দেশ্যে রওনা হন তারেক রহমান। লাল-সবুজ রঙে সাজানো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বিশেষ নিরাপত্তা-বেষ্টিত বাসে চড়ে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে আসেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার এই বাসেই তিনি বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থলে যান। গতকালের মতো আজকেও তারেক রহমান বাসের সামনে দাঁড়িয়ে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।
তারেক রহমানের আসা উপলক্ষে সকাল থেকেই ঢাকার শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী লক্ষ করা গেছে। কারো হাতে ছিল দলীয় পতাকা, কেউ ব্যানার ও পোস্টার হাতে মিছিল নিয়ে এসে একসঙ্গে জড়ো হন। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগান ধরেন— ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে; আজকের এই দিনে, জিয়া তোমায় মনে পড়ে; তারেক রহমান বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে।’
তারেক রহমানের বাবার কবর জিয়ারতকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আবেগও দেখা গেছে। তারা বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে জিয়াউর রহমান, যা বাস্তবায়ন করেছে বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের হাত ধরে তা এখন প্রস্ফুটিত হবে। নির্বাচন-কেন্দ্রিক জটিলতাসহ দেশের সকল ধোঁয়াশা তারেক রহমানের আগমনে তা কেটে গেছে।
নেতা-কর্মীরা জানান, এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং দলের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীকী মুহূর্ত।
শুক্রবার দুপুর ২টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন সেই বার্তাই বহন করে।’ তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনেরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মির্জা ফখরুল।
এ উপলক্ষে শেরেবাংলা নগর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। জিয়ার সমাধি ও আশপাশের সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বপালন করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরের আগেই জিয়া উদ্যান সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে জনসমাগম বাড়তে থাকে। নিরাপত্তাজনিত কারণে নেতা-কর্মীদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় পরিস্থিতি ছিল নিয়ন্ত্রিত।
গতকাল বৃহস্পতিবার তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে গতকাল বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে যেতে যানজট না থাকলে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। গতকাল তারেক রহমানের সেই পথে যেতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। কারণ, রাস্তার দুই ধারে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সারি, মানুষের ঢল।
কেবল নেতা-কর্মী নন, অনেকেই এসেছেন ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে একপলক দেখার কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাবর্তনের একটি স্মরণীয় দিনের সাক্ষী হতে। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ যেন লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
মাজার জিয়ারতের পর ৫টা ৫ মিনিটে তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
মন্তব্য করুন


প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, মাইক্রোক্রেডিটই
ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ।
তিনি মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করার
আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এনজিও ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে মাইক্রোক্রেডিটকে ব্যাংকিংয়ের ধারণা
গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধারণা গ্রহণ করেই ঋণগ্রহিতাকে সেবা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘মাইক্রোক্রেডিট এখনো এনজিও। এই এনজিও থেকে উত্তরণ
ঘটাতে হবে। এনজিও পর্যায়ে থেকে গেলে ব্যাংকিং মেজাজ আসবে না। মেজাজে আসতে হলে এটাকে
ব্যাংক হতে হবে। মাইক্রোক্রেডিট’র জন্য আলাদা আইন করতে
হবে।’
আজ শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটির (এমআরএ) নতুন ভবন উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের শুরুর সময়কার স্মৃতিচারণ করে প্রফেসর ইউনূস
বলেন, আমরা যখন গ্রামীণ ব্যাংক করলাম তখন আপত্তি উঠলো এটাকে ব্যাংক বলা যাবে কি না।
আমরা বললাম, আমাদেরটাই প্রকৃত ব্যাংক, তোমাদেরটা লোক দেখানো। ব্যাংক যে শব্দ থেকে উৎপন্ন
হয়েছে সেটা হলো ট্রাস্ট, তোমরা যেটা করছো সেটা ডিসট্রাস্ট। আমাদের ব্যাংকিং মানুষের
বিশ্বাসের ভিত্তিতে হয়েছে। জামানতবিহীন ব্যাংক, বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমরা টাকা দেই।
আজ এমন সময় আমরা আলাপ করছি যখন জামানতওয়ালা ব্যাংক, যারা নিজেদের প্রকৃত ব্যাংক বলে
দাবি করত তাদের অনেকে আজ হাওয়া। টাকা নিয়ে লোপাট। ব্যাংক শেষ। আর মাইক্রোক্রেডিটের
পরিসংখ্যান দেখেন। কেউ পয়সা নিয়ে পালায় নাই। এই হলো পরিহাস।’
মাইক্রোক্রেডিটই ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এটাই প্রকৃত ব্যাংকিং, আগামী দিনের ব্যাংকিং যেটাতে মানুষ
নিজের পরিচয়ে কাজ করবে, নিজের বিশ্বাসের ওপরে ব্যাংকিং চলবে, টাকার উপরে না।’
মাইক্রোক্রেডিটের জন্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে
প্রধান উপদেষ্টা নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যের
পর প্রত্যেক এনজিও চেষ্টা করলো একইরকম কিছু করতে। ক্রমে ক্রমে প্রসার হতে আরম্ভ করল।
নানারকমের নতুন নতুন জিনিস, নানা আইডিয়া নিজেদের সুবিধার জন্য ঢোকাতে আরম্ভ করল। এটা
ভবিষ্যতের জন্য খারাপ হবে মনে করে একটি রেগুলেটরি অথরিটির প্রয়োজন হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের
সঙ্গে যোগাযোগ করলাম, তারা বলল ‘আমাদের কাজ না’। অর্থ মন্ত্রণালয় শুরুতে
গুরত্ব দিল না, পরে বলল ‘আচ্ছা কী করতে হবে জানাও’। তখন আমরা বললাম, ‘রেগুলেটরি অথরিটি
হওয়া দরকার, কারণ যে হারে বাড়ছে বড় রকমের সমস্যা হতে পারে।
‘তৎকালীন গভর্নর ফখরুদ্দীন সাহেব আমাদের সমর্থন করলেন। কিন্তু
বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এটা হতে পারবে না। তারা ব্যাখ্যা চাইল। আমি বললাম, এটা বহু
দেশে বলেছি, এখনো বলি, গ্রামীণ ব্যাংকও ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংকও ব্যাংক। কিন্তু তফাত
অনেক। উদাহরণ দেই, আমেরিকান ফুটবলও ফুটবল। ইউরোপিয়ান ফুটবলও ফুটবল। কিন্তু খেলা ভিন্ন।
আপনি যদি ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেফারিকে দিয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলা চালাতে চান ইট উইল বি
অ্য ডিজাস্টার। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণ করবেন, সে তো ক্ষুদ্রঋণ
জানেই না। সে তো ইউরোপীয় ফুটবলের রেফারি,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
তিনি আরোও বলেন, ‘অবশেষে ফখরুদ্দীন সাহেব রাজি হলেন। গভর্নরকে
দিয়ে এটা পরিচালনা করানোর ব্যাপারেও তাঁকে রাজি করাতে হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে
এর অফিস করার আলোচনা ছিল। আমরা বললাম, আলাদা জায়গায় অফিস হতে হবে... আজকে নতুন ভবন
হলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা এটিকে বোঝার চেষ্টা করেছেন, নিয়মকানুন করেছেন। তারা
যদি অন্যান্য ব্যাংকের রেগুলেটরি নিয়মের ওপর এটা স্থাপন করত তাহলে মাইক্রোক্রেডিট সেদিনই
শেষ হয়ে যেত, আর খুঁজে পাওয়া যেত না। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন
জানাচ্ছি।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানান, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ
কে হবে এ নিয়ে শুধু বাংলাদেশ না, যে দেশেই মাইক্রোক্রেডিট হয়েছে সে দেশই সমস্যায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে বারে বারে বলে এসেছি তোমাদের এত কিছু
চিন্তা করতে হবে না। কারণ বাংলাদেশ এর সমাধান দিয়ে দিয়েছে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি
অথরিটি শুধু যে বাংলাদেশের জন্য কাজ করেছে তা না এটা আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশের জন্যে
সহায়ক হয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘রেগুলেটরের ওপর কড়া
না হয়ে ইউজার ফ্রেন্ডলি রেগুলেশন যেন হয় সেভাবে আইন করা, যেন কোনোকিছু চাপিয়ে না দেয়া
হয়। এমআরএ’কে এখন রেগুলশনের পাশাপাশি প্রমোশনাল অ্যাক্টিভিটিও দেখতে হবে।
সেভিংসের রিটার্ন, সার্ভিস চার্জ যেন সহজ হয় সেদিকে নজর দিন। উপকারভোগীদের জন্য যেন
সহজ হয়।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর তাঁর বক্তব্যে বলেন,
‘মাইক্রোক্রেডিট আজ অনেক দূর এগিয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের ১০ শতাংশ সমপরিমাণ সম্পদ
আছে মাইক্রোক্রেডিট সেক্টরে। সবচেয়ে বড় কথা, ব্যাংকিং খাতে যে জায়গাগুলোতে দুর্বলতা
আছে, মাইক্রোক্রেডিট সে জায়গায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। সদস্যদের সঞ্চয় বেড়ে ৬৮ হাজার
কোটি টাকার ওপর, পুঞ্জীভূত উদ্বৃত্ত বেড়ে ৬১ হাজার কোটি টাকার উপরে হয়েছে। এটা বড় অর্জন।
তারা নিজেদের সঞ্চয় ও উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলছে। বিদেশি সহায়তা, অনুদান নাই
বললেই চলে। দাতা তহবিল তিন হাজার কোটি টাকার মতো। এটা খুবই নগণ্য।’
‘বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি বাড়ছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে।
মাইক্রোক্রেডিটের শাখা আছে ২৬ হাজারের মতো। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের শাখা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এখানে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফরমাল সেক্টরের পদচারণা
বাড়ছে, বাড়বে। মাইক্রোফাইন্যান্স ইন্সটিটিউটটে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে
হবে। মাইক্রোক্রেডিট আরও ফাংশনাল করতে রেগুলেটরি অথরিটি ও বাংলাদেশ ব্যাংক একসঙ্গে
কাজ করবে,’ বলেন তিনি।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি নিয়ে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকারের
কাছে শিগগিরই নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান উপদেষ্টার
বিশেষ সহকারী ড. এম আনিসুজ্জামান চৌধুরী।
মন্তব্য করুন


জামালপুরে
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ইজিবাইকের ৪ যাত্রীর প্রাণ
গেলো । এ ঘটনায়
আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
সোমবার
(২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর টাঙ্গাইল মহাসড়কে জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জামালপুর
সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলগামী একটি কাভার্ডভ্যান দ্রুত বেগে জামালপুর শহরগামী একটি ইজিবাইককে চাপা দিলে ইজিবাইক যাত্রী রাশেদ মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে ইজিবাইকের অন্য যাত্রী চাঁন মিয়া ও আরিফা খাতুন
পলি এবং অজ্ঞাত একজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত
চাঁন মিয়া সদর উপজেলার তিতপল্লা ইউনিয়নে বাসিন্দা, আর রাশেদ মিয়া
ও পলির বাড়ি সরিষাবাড়ী উপজেলায়।
এদিকে
গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর, সাদিকা, ফারজানা, সন্ধ্যা, শিশু আরশ এবং অজ্ঞাত আরও একজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাদের সবাইকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আহতদের
বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত এবং তিতপল্লা ইউনিয়নে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
জামালপুর
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরপরই
চালক পালিয়ে যায়। কাভার্ডভ্যান আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অজ্ঞাতদের
পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান ওসি।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়া পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত সকল পদবির সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্যে দরবার নেন এবং দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। অতঃপর তিনি আর্মি মেডিকেল কলেজের একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শনসহ বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তিনি সকল পদবির সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে 'অফিসার্স অ্যাড্রেস' গ্রহণ করেন। এসময় তিনি তাঁর মূল্যবান বক্তব্যের শুরুতেই শহিদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ছারোয়ার নির্জন এর মৃত্যুতে মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, দেশমাতৃকার সেবায় তরুণ সাহসী এই সেনা কর্মকর্তার আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাঁর জন্য গর্বিত। এরপর সকলের উদ্দেশ্যে দেশের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং যৌথ বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি বিচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে নিরপেক্ষ ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশ ও জনগণের আস্থার প্রতীক। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান বিভিন্ন গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি সততা, সত্যনিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে সেনাবাহিনী প্রধান পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি রিজিয়নের নানিয়ারচর জোন সদর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে সেনাবাহিনী প্রধান স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন। দুর্গম পাহাড়ি সেনা ক্যাম্পে সেনাবাহিনী প্রধানের আগমন পার্বত্য চট্টগ্রামে মোতায়েনরত সেনাসদস্য এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল উঁচু করেছে। এছাড়াও তিনি পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ অসামরিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন।
এসময় জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার চট্টগ্রাম এরিয়া, সেনাসদরের চিফ কনসালটেন্ট জেনারেল, অ্যাডহক সিএসসি'সহ সেনাসদর ও চট্টগ্রাম এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাগণ, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার ও অন্যান্য পদবির সৈনিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


কিশোরগঞ্জের
ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি
দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে ।
আজ শনিবার সকাল
১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামের পূর্বপাড়া
ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উভয়পক্ষের আহতরা
হলেন, সেলিম মিয়া (৩৫), হজকরুনি (৪৫), জনিয়া বেগম (২৪), ইমন (২২) সাদ্দাম মিয়া (৩০),
সাজু (৫৪), সবুজ মিয়া (৩৩), শরীফ (২৫), মাহবুর (৩৪), পাবেল (২৬), ইকবাল মিয়া (৫১),
সালমান ফরাজি (১৭)। এছাড়া বাকি আহতরা স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে
ফিরে যান।
আহতদের মধ্য
গুরুতর অবস্থা থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সবুজ মিয়া, সাদ্দাম, সালমান ফরাজিকে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র
জানায়, ভৈরব উপজেলার মধ্যচর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় যুবকদের আয়োজনে একটি ফুটবল
টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়। এ ফুটবল খেলায় ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে ঈদগাহ মাঠে উপজেলার
ভাটিকৃষ্ণ নগর গ্রামের সঙ্গে মধ্যেচর গ্রামের যুবকদের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এ খেলা চলাকালে ভাটিকৃষ্ণনগর যখন পরপর দুটি গোল দেয় এর উত্তেজনার জেরে দুপক্ষের লোকজন
মধ্য মাঠেই মারামারি ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় মাতব্বরা পরিস্থিতি সামাল দেয়। শনিবার সকালে
ঘটনাটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন বৈঠকে বসলে এমন সময় মধ্যচর গ্রামের পূর্বপাড়া
ও পশ্চিমপাড়ার লোকজন দেশীয়অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার
পর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সেনাবাহিনী ও পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিমুলকান্দি
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আল আমিন বলেন, শুক্রবারের ফুটবল খেলায় গোল
দেওয়ার উত্তেজনায় দুপক্ষের মধ্য মারামারি ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে শনিবার সকালে ফের গ্রামের
দুপক্ষের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ভৈরব
থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ জানান, গত শুক্রবার বিকেলে ফুটবল
খেলাকে কেন্দ্র করে মধ্যচর গ্রামের দুপক্ষের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মন্তব্য করুন