

কক্সবাজারের
টেকনাফে নাফ নদের মোহনা থেকে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে অপহরণ করেছে মিয়ানমারের
সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।
শনিবার
(২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর সংলগ্ন
নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
আটককৃত
জেলেরা হলেন— মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো.
রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০),
মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫),
মো. আবু তাহের (৪০), মো. আব্দুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাদের সবার বাড়ি টেকনাফের
শাহপরীর দ্বীপের মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামে।
শাহপরীর
দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর ফিরে আসা অন্য জেলেদের বরাত দিয়ে
জানান, ভোর ৪টার দিকে বেশ কিছু ইঞ্জিনচালিত নৌকা নাফ নদের মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল
সাড়ে ৭টার দিকে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের
মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিয়ে যায় তারা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে
বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
সাবরাং
ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, আরাকান আর্মির ক্রমাগত হুমকির মুখে নাফ নদী ও সাগরে
মাছ শিকার করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে মৎস্যজীবী পরিবারগুলোতে চরম
দুর্দিন নেমে আসবে। এ বিষয়ে তিনি সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
টেকনাফ
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, জেলে পরিবারের
পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানার পর অপহৃত জেলেদের
ফিরিয়ে আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিজিবি কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয়
জেলে সমিতির তথ্যমতে, গত দেড় বছরে সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে চার শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে
গেছে আরাকান আর্মি। এরমধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও এখনো ৩২টি
ট্রলারসহ ১৭২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি
৭৩ জন জেলেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
মন্তব্য করুন


প্রধান
উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ রোববার (৩ আগস্ট) নৌবাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী
ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৫' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
নৌবাহিনী
সদর দপ্তরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন হতে কমডোর, কমান্ডার হতে
ক্যাপ্টেন ও লেঃ কমান্ডার হতে কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন হতে এয়ার
কমডোর, উইং কমান্ডার হতে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এবং স্কোয়াড্রন লীডার হতে উইং কমান্ডার পদবিতে
কর্মকর্তাদের পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের
সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদ, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে নৌবাহিনী
ও বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা নির্বাচন করবেন।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে সংঘটিত মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে
১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
আন্তঃবাহিনী
জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
নির্বাচনী
পর্ষদ-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সেনা, সকল শ্রেণি-পেশার
মুক্তিকামী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে
আত্মত্যাগকারী সকল শহীদকে।
তিনি
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস, সংগ্রাম ও বীরত্বের কথা স্মরণসহ শান্তিকালীন
সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতীয় প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ভূয়সী
প্রশংসা করেন।
তিনি
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও নানা সংকটে বিশেষত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র
জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের নিরাপত্তা সংকটে আপামর জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা
নিয়ন্ত্রণ, দেশ গঠনে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে দেশের মানুষের ভালোবাসা ও
পরম নির্ভরতা অর্জন করায় নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানান।
প্রধান
উপদেষ্টা দেশের সমুদ্র সম্পদের সংরক্ষণ ও আহরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন,
ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র গভীর সমুদ্র বন্দরের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর
অবদান এবং সার্বিকভাবে সুনিল অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার ব্যাপারে
নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসাথে তিনি দেশের সুনীল অর্থনীতির বিকাশে চলমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ড,
মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এমআইডিএ) প্রতিষ্ঠা, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নসহ
দেশের সার্বিক উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের
ওপর আলোকপাত এবং এক্ষেত্রে নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক
ড. ইউনূস নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কর্তৃক দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ
অবদানসহ দেশমাতৃকার সেবায় ও সুরক্ষায় বাহিনী দ্বয়ের ভূমিকা ও সর্বোপরি সশস্ত্র বাহিনীর
আধুনিকীকরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনী দেশের সংবিধান
সমুন্নত রেখে যে কোন রাষ্ট্রীয় সংকটে এবং দুর্যোগে আর্তমানবতার সেবায় জনগণের পাশে
দাঁড়ানোর এই ধারা ভবিষতেও অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
তিনি
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক, মেধাবী, দক্ষ, পেশাদার, সৎ,
মানবিক এবং নৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন যোগ্য কর্মকর্তাদের নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পর্ষদকে
যথাযথ নির্দেশনা দেন।
প্রধান
উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি,
এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান,
বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি তাঁকে স্বাগত জানান।
নির্বাচনী
পর্ষদ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় নৌবাহিনী প্রধান এবং বিমান বাহিনী
প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
নৌবাহিনী
ও বিমান বাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা
ও দিকনির্দেশনা নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সকল সদস্যের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি
করেছে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও,
প্রধান উপদেষ্টার মূল্যবান দিকনির্দেশনায় নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে নেতৃত্ব প্রদানে
দেশপ্রেম, পেশাগত দক্ষতা, মানবিক ও অধিনায়কত্বের গুণাবলির মাপকাঠিতে দক্ষ ও উপযুক্ত
কর্মকর্তা নির্বাচনের মাধ্যমে সুদক্ষ বাহিনী গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন বাহিনী
প্রধানগণ ।
অনুষ্ঠানে
সংশ্লিষ্ট সামরিক ও বেসামরিক উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান
উপদেষ্টা নৌবাহিনী সদর দপ্তর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করে নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী
ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করেন ।
মন্তব্য করুন


‘ছায়া মন্ত্রিসভা’
গঠনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ
সজীব ভুঁইয়া।
আজ
রবিবার ( ১৫ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক
পোস্টে আসিফ মাহমুদ এ তথ্য জানান।
তিনি
লিখেছেন, ‘আমরা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
ছায়া
মন্ত্রিসভার কাজ কী হবে, তা আসিফ মাহমুদ পোস্টে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন,
‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং সার্বিক কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে কাজ করবে ছায়া
মন্ত্রিসভা।’
মন্তব্য করুন


মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে জাকার্তার একটি সাততলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দেশটির এক পুলিশ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সেন্ট্রাল জাকার্তার পুলিশ প্রধান সাসাত্যো পুরনোমো কন্দ্রো সাংবাদিকদের জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ভবনের ভেতরে কেউ আটকা পড়ে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার তথ্যমতে, ভবনের নিচতলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুতই তা ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ভবনের কিছু কর্মী দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন, আর অন্যরা বাইরে ছিলেন।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে টেরা ড্রোন ইন্দোনেশিয়ার কার্যালয় ছিল—যা আকাশ জরিপ ও বিভিন্ন শিল্পখাতে ড্রোনভিত্তিক সেবা প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি জাপানের টেরা ড্রোন করপোরেশনের ইন্দোনেশীয় শাখা।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনোভাবেই উদ্বিগ্ন নয় বিশ্বব্যাংক। বরং বাংলাদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় সংস্থাটি। অন্তর্বর্তী সরকারকে সব বিষয়ে সহায়তা দিয়ে পাশে থাকতে চায় বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। তিনি জানান, আমরা বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জেনেছি। যার ফলে আমরা বাংলাদেশের অর্থনীতির সংস্কারে কীভাবে সহযোগিতা করবো সেটিও আলোচনা করেছি। কারণ জটিল কিছু সংস্কার বাংলাদেশের প্রয়োজন। এখানে আর্থিক খাতে সংস্কার প্রয়োজন, বাণিজ্যে সংস্কার প্রয়োজন- আমরা এগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন, আমরা এখন এ দেশে বেসরকারি খাতে চাকরির বাজার সৃষ্টিতে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে যুবকরা এখানে বড় সম্পদ। এছাড়া এখানে জলবায়ু পরিবর্তন অনেক বড় ঝুঁকি, সেখানে অন্তর্বর্তীমূলক বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমরা বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক গড়তে কাজ করছি আর আমরা মোটেই বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। আমি অনেক দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এটি কখনোই আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের স্থবির অর্থনীতিকে চালু করার জন্য যত রকমের সহযোগিতা দরকার বিশ্বব্যাংক তা দেবে। আইএফসি ও বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। তারা বলেছে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারা যে কোনো কিছুই করতে পারে। নিয়মকানুন মেনে তারা বিনিয়োগ করবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থীদের জন্য শোক জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি এ সময়ে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সংস্কারেও পাশে থাকবে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন


জাতীয় নির্বাচন ইভিএম এ নয়, ব্যালটে
হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। এছাড়া কমিশন
যেকোনো সময় নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত আছে বলেও জানিয়েছেন সিইসি।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর
আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গণমাধ্যমের সাঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।
নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিইসি এসব কথা বলেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির
উদ্দীন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের জন্য আমরা প্রথম দিন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি।
প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের যে সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী নির্বাচন
পরিচালনার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেই প্রাধান্য
দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা
আসেনি।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে
বিদ্যমান ভোটার তালিকায় অনেক অসংগতি রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার
তালিকা তৈরি করা হবে। নতুন তালিকা তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
মৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, অনুপস্থিত বা বিদেশে থাকা ভোটারদের তথ্য যাচাই
এবং ডুপ্লিকেট ভোটার শনাক্ত করে তালিকা সংশোধনের কাজ করা হবে।
রোডম্যাপ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, প্রধান
উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হবে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা
করা হবে না, তবে নির্বাচন কমিশনের কাজের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা থাকবেই।
মন্তব্য করুন


সংগীতশিল্পী
জেফার রহমান ও উপস্থাপক রাফসান সাবাবের সম্পর্ক নিয়ে এক বছর ধরেই নানা গুঞ্জন চলছিল।
যদিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুজনই নিজেদের ‘ভালো বন্ধু’
হিসেবে পরিচয় দিয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরব ছিলেন।
তবে
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা। এই
দুজনের ঘনিষ্ঠজন এমন তথ্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে।
জানা
গেছে, গত শনিবার জেফারের নিজ বাসায় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
এর আগে ঘরোয়া আয়জনে ছোট করে তাদের গায়ে হলুদও অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে
আজ বুধবার রাজধানীর আমিনবাজারের এক রিসোর্টে হতে যাচ্ছে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এরই মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছে বিয়ের দাওয়াত
পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে থাইল্যান্ডে একসঙ্গে ভ্রমণের সময় তাদের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা আরো জোরালো হয়। সেসময় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেফার
মন্তব্য করেছিলেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তার বলার কিছু নেই।
রাফসান
সাবাব ২০২৩ সালের শেষ দিকে চিকিৎসক সানিয়া এশার সঙ্গে তার তিন বছরের দাম্পত্য জীবনের
ইতি টানেন।
মন্তব্য করুন


বিয়ে
কেবল একটি সামাজিক বন্ধন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বিশ্বাস, রীতি ও সংস্কৃতির বহুস্তরীয়
ইতিহাস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বিয়েকে ঘিরে এমন কিছু প্রথা প্রচলিত আছে, যা অন্য সংস্কৃতির
মানুষের কাছে বিস্ময়কর বা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। তেমনই এক ব্যতিক্রমী বিবাহরীতি
দেখা যায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে যেখানে বিয়ের পর টানা ৭২
ঘণ্টা নবদম্পতিকে টয়লেট ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়।
এই
অদ্ভুত রীতিটি মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে বসবাসকারী 'তিদোং' নৃগোষ্ঠীর
ঐতিহ্য। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিবাহপ্রথাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হলেও তিদোং
জনগোষ্ঠীর কাছে এটি কোনো নিষ্ঠুর নিয়ম নয়; বরং এটি দাম্পত্য জীবনের পবিত্রতা, ধৈর্য,
পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দীর্ঘস্থায়িত্বের প্রতীক।
তিদোংরা
একটি অস্ট্রোনেশীয় নৃগোষ্ঠী, যাদের বসবাস সাবাহ, কালিমান্তান ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায়।
তিদোং সমাজে বিয়ে মানে শুধু দু’জন মানুষের মিলন নয়; এটি দুই পরিবার,
কখনো কখনো গোটা সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বন্ধন।
এই
রীতি অনুযায়ী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নবদম্পতিকে একটি নির্দিষ্ট ঘরে রাখা হয়। সেখানে
তারা বাইরে যেতে পারে না, কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারে না এবং সবচেয়ে কঠোরভাবে মানা
হয় টয়লেট ব্যবহার। এই তিন দিনে খাবার ও পানীয়ও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হয়, যাতে শরীরের
প্রাকৃতিক চাহিদা কমে। আত্মীয়স্বজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকেন, যাতে কেউ নিয়ম ভাঙতে
না পারে।
এই
কঠোর নিয়মের পেছনে রয়েছে গভীর বিশ্বাস। তিদোং সমাজে ধারণা করা হয়, বিয়ের পর প্রথম তিন
দিন এই নিয়ম মেনে চলতে পারলে দাম্পত্য জীবন হয় দীর্ঘস্থায়ী, শান্তিপূর্ণ ও কলহমুক্ত।
বিপরীতে নিয়ম ভঙ্গ করলে সংসারে অশান্তি, দুর্ভাগ্য বা বিচ্ছেদের আশঙ্কা থাকে বলে মনে
করা হয়। তাই এই তিন দিনকে অনেকেই ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে দেখেন।
একসময়
বিয়ে ছিল পারিবারিক ও সামাজিক জোটের প্রতীক। সেই বন্ধনকে অটুট রাখতে নানা শপথমূলক আচার
চালু হয়, যা সময়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক রীতিতে রূপ নেয়। ৭২ ঘণ্টার এই নিষেধাজ্ঞাও সেই
ঐতিহ্যেরই অংশ।
তবে
আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব
বা মলত্যাগ বন্ধ রাখা শরীরের জন্য ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানে যা সুপ্রতিষ্ঠিত। সে কারণে
বর্তমানে অনেক তিদোং পরিবার এই রীতিকে শিথিলভাবে পালন করে।
আধুনিক
শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রভাবে তিদোং সমাজেও পরিবর্তন এসেছে। নতুন
প্রজন্ম আগের মতো কঠোরভাবে এই নিয়ম অনুসরণ না করলেও এটি পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। কারণ
এই রীতি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, পূর্বপুরুষের স্মৃতি ও বিয়ের উৎসবের ঐতিহ্যবাহী আবহের
সঙ্গে এখনো অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বিমান বাহিনীর
প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অসীম জাওয়াদ নামে এক পাইলট নিহত। এ ঘটনায় হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন রয়েছেন আহত কো-পাইলট।
আজ (৯ মে) দুপুর সাড় ১২টার দিকে পতেঙ্গার
বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে (নেভি হাসপাতাল) পাইলট জাওয়াদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের
উপকমিশনার (বন্দর) শাকিলা সোলতানা।
শাকিলা সোলতানা বলেন, বিমান বাহিনীর
বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানের পাইলট ও কো-পাইলট প্যারাসুট দিয়ে নেমে এলে তাদেরকে আহত
অবস্থায় উদ্ধার করে বানৌজা ঈসা খাঁ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১টার দিকে তাদের
মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসীম জাওয়াদ নামে একজনের মৃত্যু হয়। অন্যজনের চিকিৎসা চলছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক
গ্রুপ ক্যাপ্টেন তাসলীম আহমেদ জানিয়েছেন, অবতরণের সময় বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান
ওয়াইএকে১৩০ এয়ারফোর্স ট্রেনিং ফাইটার বিধ্বস্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন


উৎপাদক,
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে
সরকার।
রবিবার
(১৫ সেপ্টেম্বর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল
হকের সই করা চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ দাম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এতে
বলা হয়েছে, ডিম উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি পিস ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারি ১১ টাকা ০১ পয়সা
ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সোনালি মুরগি উৎপাদক
পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২৬০ টাকা ৭৮ পয়সা, পাইকারি ২৬৪ টাকা ৫৭ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে
২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি উৎপাদক পর্যায়ে কেজিপ্রতি
১৬৮ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারি ১৭২ টাকা ৬১ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১৭৯ টাকা ৫৯ পয়সা
নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ
বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সব বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ছাড়া বাংলাদেশ পোলট্রি
ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ব্রিডার্স
অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পোলট্রি
ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল, বাংলাদেশ পোলট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ, অ্যানিমেল
হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো ফিড ইনগ্রেডিয়েটস ইমপোর্টার্স
অ্যান্ড ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি/সাধারণকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মাগুরায় বাংলাদেশ
টেলিভিশনের মহাপরিচালক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান
জোহার মালিকানাধীন মাগুরার বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা।
গত শুক্রবার
রাত সাড়ে ১০টার পর শহরের জেলা জজ আদালতের সামনে অবস্থিত ‘জোহা ভবনে’ এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী
প্রতিবেশী তরুণ কুমার জানান, রাত ১১ টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত বোতলে পেট্রোল ভরে এনে
ভবনের পেছনের দিকে প্রবেশ করে। তারা মূল ফটক ও জানালার অংশে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত
পালিয়ে যায়। আগুন দেখে প্রতিবেশীরা এসে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার ব্যাপারে
তানভীর হাসান জোহা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা
বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার
দাবি জানাচ্ছি। জজ আদালতের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এ ধরনের হামলার পর স্থানীয়দের মধ্যে
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ব্যাপারে
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত
সংগ্রহ করেছে। এই নাশকতার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং
জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন