

২০২৬
বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত কিংবা ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোল; ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে এখনো তা একদম তরতাজা।
মাঠের সেই উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফুটবল
বিশ্বের দুই সেরা শক্তির মুখোমুখি লড়াই নিয়ে নতুন করে সুর ছড়িয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে যখন আধিপত্য ধরে রাখার পরীক্ষা, আর্জেন্টিনার সামনে তখন বিশ্বকাপের হারের হিসাব চুকানোর মোক্ষম সুযোগ। বহুল আলোচিত উয়েফা-কনমেবল ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি ঘিরে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে ফুটবল প্রাঙ্গণ।
ইএসপিএন
আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী,
দুই মহাদেশের সেরা দুই দলের এই মহারণ এ
বছরের শেষেই মাঠে গড়াতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের ঐতিহ্যবাহী লুসাইল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই
হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ। শোনা যাচ্ছে, কাতার সরকার ইতোমধ্যেই এই কাঙ্ক্ষিত ম্যাচটি
আয়োজনের স্বত্ব বাগিয়ে নিয়েছে। তবে ইউরোপীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান
ফুটবল সংস্থা (উয়েফা ও কনমেবল) এখনো
আনুষ্ঠানিকভাবে দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।
মূলত
২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরুর আগেই চলতি বছরের মার্চ মাসে কাতারে এই ম্যাচটি হওয়ার
কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি
ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাধ্য হয়ে আয়োজকরা সূচি বাতিল করেন। পরবর্তীতে বিকল্প হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাবেউ কিংবা দুই দেশের মাটিতে হোম-অ্যান্ড-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলার প্রস্তাব উঠলেও দলগুলোর সম্মতির অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ভাগ্যচক্রে
সেই স্থগিত ম্যাচই দু দলকে এনে
দাঁড় করিয়েছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ মঞ্চের ফাইনালে। যেখানে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে ১০ জনের দলে
পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ১-০ গোলে
হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে স্পেন।
১৯৭০
ও ৮০-র দশকের
ঐতিহ্য ফিরিয়ে ২০২২ সালে উয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে
হারিয়ে নতুন সংস্করণের প্রথম ফিনালিসিমা ট্রফিটি জিতেছিল আলবিসেলেস্তারা। এবার যদি নভেম্বরে প্রস্তাবিত এই ম্যাচটি বাস্তবায়িত
হয়, তবে একদিকে যেমন থাকবে লা রোহাদের বিশ্বসেরার
তকমা আরও পোক্ত করার লড়াই, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সামনে থাকবে স্প্যানিশ কৌশলের জবাব দিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পুনরুদ্ধার করার মোক্ষম সময়।
মন্তব্য করুন


নারায়ণগঞ্জের
সিদ্ধিরগঞ্জে পেছন পেছন এসে ঘরে ঢুকে ১৭ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসা
শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা বৃহস্পতিবার রাতে বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ
থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত
শিক্ষকের নাম ওমায়ের আহমেদ (২০)। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১নং ওয়ার্ডের
মিজমিজি পাগলাবাড়ি এলাকার হেদায়েত উল্লাহর ছেলে।
অভিযোগপত্রে
উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণীর ছোট ভাই (নাসিক) ১নং ওয়ার্ডের পাগলাবাড়ী আন-নাবিল
ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার নাজেরা শাখার শিক্ষার্থী। সে নিয়মিত তার ভাইকে নিয়ে মাদ্রাসা
থেকে আসা-যাওয়ার পথে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ওমায়ের আহমেদ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
তবে ভুক্তভোগী তরুণী ওই শিক্ষকের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হচ্ছিল না।
গত
১২ জুলাই বিকালে তরুণী তার ভাইকে মাদরাসায় খাবার দিয়ে ফেরার সময় অভিযুক্ত তাকে ফলো
করে আসছিলেন। একপর্যায়ে মেয়েটি নিজের বাসায় প্রবেশ করামাত্রই মেয়েটিকে জোরপূর্বক ঘরে
নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন।
এ
ঘটনার পর ওই তরুণী ঘুমের ওষুধ ও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
তরুণীর
নানা বলেন, মেয়ের বাবা একজন দিনমজুর। ঘটনার সময়ে মেয়ের মা এক বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিল।
ফলে ফাকা বাড়িতে ঢুকে ওই মাদরাসাশিক্ষক আমার নাতনিতে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনার পর লজ্জা
ও ক্ষোভে মেয়েটি আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে
ভর্তি করে।
তিনি
জানান, অভিযুক্তের ভাইয়েরা মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে এসে মীমাংসার কথা বলেছেন। ধর্ষণকাণ্ড
ধামাচাপা দিতে মেয়েটির ভাইদের হত্যা করবে বলবে হুমকি দিয়েছিল। মেয়ের আপন ভাই ও খালাতো
ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে করে বলে তিনি জানান।
আন-নাবিল
ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্তের বড় ভাই জুবায়েরকে ফোন করা হলে
তিনি বলেন, বিষয়টির জন্য আমাকে থানার দায়িত্বশীল একজন ফোন করে থানায় বসার জন্য বলেছেন।
আমরা ওসি সাহেবের উপস্থিতিতে থানায় বসবো।
সিদ্ধিরগঞ্জ
থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, এ ঘটনায় উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হবে। পরিস্থিতির
উপর পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম থাকবে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী
লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ
সদস্য, চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে
ক্লাস নিচ্ছেন প্রাণ গোপাল।
সম্প্রতি
কলেজটির ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি
জানা যায় ।
ওই
ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে
বক্তব্য রাখছেন। তার পেছনে থাকা ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত
হচ্ছিল। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন।
প্রাথমিক
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তিনি টনসিল বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো একটি বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের
ক্লাস নিচ্ছিলেন।
শনিবার
(২৭ জুন) ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের এক স্টাফ নার্স জানান, বাংলাদেশি চিকিৎসক
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত তাদের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে তিনি এখানে
কতদিন ধরে কাজ করছেন তা সেই নার্স জানেন না।
গত
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের
বহু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তার
বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সঠিক
তথ্য না থাকলেও, ত্রিপুরার এই মেডিকেল কলেজের ভিডিওটি সামনে আসার পর নিশ্চিত হওয়া গেল
যে তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য,বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান নাম- বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
(বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত
২০১২ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে
তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বর্তমানে
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশে কার্যত নিষিদ্ধ ও দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী যখন
পলাতক বা কারাবন্দী, তখন ভারতে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের এই শিক্ষকতা পেশায় ফেরার ভিডিওটি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন


শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন, রমজানের ছুটি সমন্বয় করতে আগামী বছর থেকে প্রয়োজনে শনিবার স্কুল খোলা রাখা যেতে পারে বলে ।
মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব মতের মানুষের বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনার প্রতি সম্মান রেখে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নসহ সব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে মন্ত্রণালয়। রমজানের ছুটি সমন্বয় করতে আগামী বছর থেকে প্রয়োজনে সারা বছর শনিবার স্কুল খোলা রাখা যেতে পারে।
এ বছর রমজানে স্কুল ছুটির আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল মন্ত্রণালয়। রমজানের আগের দিন তারা আপিল করে বসে।
আর এরপরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হয়। শুনানিতে স্কুল খোলা রাখার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিন। উচ্চ আদালতের আদেশ স্থগিত না করে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) আপিল বিভাগে শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
পরে রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।
মন্তব্য করুন


প্রায়
দুই বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বসবাস গ্রামের
শতবর্ষী কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে আস্তানা গড়ে তুলেছেন গয়াছ মিয়া (৩৫) নামে এক হত্যা
মামলার প্রধান আসামি। মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে লোহার রড- নিজেকে ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’
পরিচয় দিচ্ছেন গয়াছ মিয়া। স্থানীয়রা বলছেন, এই আস্তানা ঘিরে চালানো হয় মাদকসেবন ও নানা
অসামাজিক কর্মকাণ্ড।
জানা
গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া প্রায় এক বছর ধরে
গ্রামের শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের একটি বড় গাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি দোতলা
ঘরে বসবাস করছেন। মাথায় সাদা পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করেন। নিজেকে পরিচয়
দেন একজন ‘পীর’ হিসেবে।
২০২০
সালের ৪ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করেন গয়াছ মিয়া।
এতে জাকির হোসেন নামে একজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন জিহান মিয়া নামে আরেকজন। পরে পুলিশ
গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এলাকাবাসীর
অভিযোগ, ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়ে কবরস্থানের নির্জন জঙ্গলে তিনি
আস্তানা গড়ে তুলেছেন। সেখানে গাঁজা-মদের আসরসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি
হয়েছে।
গত
১৭ জুন এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার
(ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে গয়াছ মিয়ার আস্তানা উচ্ছেদ, কবরস্থান রক্ষা এবং মসজিদের
সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
বাজিতপুর
গ্রামের এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে, গয়াছ মিয়া কবরস্থানে আস্তানা গড়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র
নিয়ে চলাফেরা করেন। তার ভয়ে এলাকার চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা
করে।
সদর
ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, হত্যা মামলার প্রধান
আসামি হিসেবে পরিচিত গয়াছ মিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে বসবাস
শুরু করেন। তার হাতে প্রায়ই লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ওই পথ
দিয়ে যাতায়াতে ভয় পাচ্ছে।
বাজিতপুর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় মাদকসেবী
ও জুয়াড়িদের আনাগোনা দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজিতপুর
জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, পবিত্র কবরস্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয়
ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এদিকে
নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়াছ মিয়া। তার দাবি, স্বপ্নে এক অলি-আউলিয়ার
নির্দেশ পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি কোনো মাদক বা জুয়ার আসর পরিচালনা করেন
না। বরং আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় কাটান এবং মানুষের উপকারের চেষ্টা করেন।
তিনি
আরও দাবি করেন, কিছু লোক তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ভিটেমাটি বিক্রি করে দিয়েছে।
ফলে আশ্রয়হীন হয়ে তিনি কবরস্থানের জঙ্গলে বসবাস করছেন।
গয়াছ
মিয়ার ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া জাকির হোসেনের বাবা রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনা
নিয়ে গয়াছ আমার ছেলেকে খুন করেছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না কীভাবে মাত্র দুই বছর পরই
সে জামিনে বের হয়ে গেল? এখন এলাকায় আমাকে দেখলেই সে নানা হুমকি-ধমকি দেয়, অকথ্য গালমন্দ
করে। আমার এক ছেলে খুন হয়েছে, তাই ভয়ে এখন আর কিছু করতে চাই না। ছোট ছেলে গ্রিস থেকে
কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছে, তাকেও সে হুমকি দিয়েছে।
গয়াছ
মিয়ার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং জমি দখলের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, তার ঘরবাড়িতে কেউ
আগুন দেয়নি এবং জায়গা-জমিও কেউ জোরপূর্বক বিক্রি করেনি।
দোয়ারাবাজার
থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু লোকজন গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে
মাদকসংক্রান্ত ও অন্যান্য অভিযোগ করেছেন। আবার অনেকে বলছেন তিনি বন বিভাগের জায়গায়
আছেন। জায়গার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে। আর মাদকের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে
আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অনেক আগের ঘটনা। খোঁজখবর
না নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না।
এ
বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ সাংবাদিকদের
বলেন, থানার ওসি এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব
তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি
আজ (১ অক্টোবর ২০২৪) ইসিবি চত্ত্বরে ঢাকা জেলার জন্য স্থাপিত মেডিকেল ডিসপেনসারিতে
উপস্থিত হয়ে ভিডিও টেলি কনফারেন্স (ভিটিসি) এর মাধ্যমে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় নতুন
করে স্থাপিত আরও ৩০টি মেডিকেল ডিসপেনসারির শুভ উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সাথে মতবিনিময়
করেন।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের
কল্যাণার্থে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড কর্তৃক সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী,
বিমান বাহিনী এবং সেনাকল্যাণ সংস্থার অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩১টি মেডিকেল
ডিসপেনসারি পরিচালিত হচ্ছে।
আজ আরও ৩০টি নতুন মেডিকেল ডিসপেনসারির কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে দেশের ৬১টি জেলায় অবসরপ্রাপ্ত ১,৫৫,২৬৪ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তদ্বীয় পরিবারবর্গের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির বিষয়টি আরও সহজতর হবে।
উল্লেখ্য, অবশিষ্ট ৩টি জেলায় সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত মেইন ড্রেসিং স্টেশন (এমডিএস) হতে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণ ও তদ্বীয় পরিবারবর্গ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন। প্রতিটি জেলায় মেডিকেল ডিসপেনসারি স্থাপনের ফলে তাদের অর্থ ও সময় উভয়ই বাঁচবে এবং দূর-দূরান্ত থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের ঔষধ সংগ্রহের সমস্যাও অনেকাংশে লাঘব হবে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গের চিকিৎসা সেবায় সিএমএইচ সমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাইভেট হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রেশন ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক এ বিষয়ে আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও পরিবারবর্গের জীবনযাত্রার মান বহুলাংশে উন্নত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন জেলার বেসামরিক প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ (ভিটিসির মাধ্যমে), সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণ ও তাদের পরিবারবর্গ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


টাঙ্গাইলের
কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের মধ্যে ১০ জনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহতরা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি
গ্রামেরই সাতজন রয়েছেন।
একই
সময়ে সাতজনের মৃত্যুর খবরে ভারশোঁ ইউনিয়নের রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের
ছায়া। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় পুরো এলাকা ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় লোকজন
নিহতদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
নিহতরা
হলেন, উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), বাদশা মিয়া (৩০), আব্দুল বারিক
(২০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), মাইনুর ইসলাম (৩০), সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া
গ্রামের সহোদর মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২২) এবং মশিদপুর গ্রামের সুজন আলী
(৩৫)।
জানা
গেছে, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। তারা সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্লাস্টিকের তৈরি
বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করতেন। পাশাপাশি নারীদের চুল ও পুরোনো মোবাইল ফোন সংগ্রহের কাজও
করতেন।
জীবিকার
তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া
বাসায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি
করতে তারা রাজশাহীগামী একটি রড বোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে
দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
রাজেন্দ্রবাটি
গ্রামের ফিরোজ হোসেন জানান, উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে এ এলাকার শতাধিক যুবক বছরজুড়ে হরেক
পণ্যের ব্যবসা করেন। ঈদের সময় বাসে বাড়ি ফিরতে জনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা
গুনতে হয়। অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে অনেকেই পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করেন। তারাও একইভাবে
ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
হঠাৎ
দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নিহত বাদশা মিয়ার স্ত্রী সাবিনা খাতুন।
একমাত্র মেয়ে রাহী মনিকে নিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। তাকে সান্ত্বনা দিতে
গিয়ে স্বজনরাও কান্না থামাতে পারছেন না।
কান্নাজড়িত
কণ্ঠে সাবিনা খাতুন বলেন, বাড়ি ফেরার পথে স্বামীর সঙ্গে কয়েকবার কথা হয়েছে। মেয়ের জন্য
নতুন জামা আর মেহেদী কেনার কথাও বলেছিল। রাত ১০টার দিকে শেষ কথা হয়। সকালে তার মৃত্যুর
খবর পাই।
নিহত
তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে
মানুষের ফেলে দেয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো।
ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই এক সঙ্গে বাড়ি আসছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা
শুরু করে।
এ
বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বাসসকে বলেন, দুর্ঘটনায়
নিহত সবার পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে
পুলিশ।
মন্তব্য করুন


জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দ্বিতীয় ধাপে জেলা প্রশাসক , পুলিশ সুপার এবং বিভাগীয় কমিশনারদের প্রশিক্ষণ দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে করতেই প্রশিক্ষণের জন্য নতুন করে আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। ইটিআই-এর মহাপরিচালক এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠি সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়।
গতকাল ইসি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে
নিউইয়র্কে যাবেন । এ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
আগামী ২২-২৭ সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত এ সফর করবেন তিনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো.
তৌহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সাত
সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে রয়েছেন- ড. ইউনূসের মেয়ে দিনা আফরোজ ইউনূস, এসডিজি
বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত বাংলাদেশের
বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য,
দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম,
প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব শাব্বীর আহমদ, বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা তিথি।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মো. তৌহিদ হোসেন জানান, প্রধান উপদেষ্টা
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছেন সেটার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ
অধিবেশনে যোগ দিতে সংক্ষিপ্ত সফরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.
মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে যাবেন। তবে তিনি খুব সংক্ষিপ্ত সফর করে চলে আসবেন।
ওয়াশিংটনে গেলে হয়ত আরও
কিছু কাজ হতে পারত কিন্তু তিনি অল্প সময়ে খুব তাড়াতাড়ি নিউইয়র্ক থেকে ফিরে আসবেন।
সেখানে কার সঙ্গে বৈঠক হবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা তো
গেলে হবেই। কিছু কিছু কথা বার্তা হচ্ছে। কিছু বৈঠক হবে এটুকু বলতে পারি। তবে
স্পেসিফিক বলতে পারি না। সব ক্ষেত্রে সব হেড অব স্টেট যান এমনটা তো নয়। নিউইয়র্কে
যে ফরমেট সেভাবে হবে। ওয়াশিংটনে তো তিনি যাবেন না।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এই দেশ আমাদের সবার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশ
সব মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি এখন
সর্বজনীন উৎসব।
বুধবার (৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজা উপলক্ষে
প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমি দেশের হিন্দু
ধর্মাবলম্বী সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের
উৎসবই নয়, এটি এখন সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের
আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
আমাদের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এই দেশ
আমাদের সকলের। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশ সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি। গত ৫ আগস্ট
ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী
নির্বিশেষে সকলের ভাগ্য উন্নয়ন এবং সমান অধিকার সুনিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত
ও সুখী-সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। একইসঙ্গে
বাংলাদেশের সকল নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি।
মন্তব্য করুন


ঝিনাইদহের
কালুখালিতে রানী ও সিনিয়া একই ক্লাসে পড়াশোনা করে। পড়াশোনা নিয়ে তাদের মাঝে প্রতিদ্বন্দীতা
শুরু হয়। এর মধ্যে রানী অসুস্থ হয়ে পড়লে রটে যায় সিনিয়া তাকে কালো জাদু করেছে। এই অজুহাতে
ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
রোববার
(২৮ জুন) দুপুরে এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কালুখালি মধুপুর
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয়
বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, একটা মেয়ে অসুস্থ সেখানে আরেকটা মেয়ের দোষ কোথায়? আসলে
শিক্ষকদের উদাসিনতায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
নাম
প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আধুনিকযুগে ছেলেমেয়েরা কী শিখছে? এ
ঘটনায় একদিকে যেমন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সম্মানহানি হলো অন্যদিকে সিনিয়া নামের মেয়েটার
লেখাপড়া সংকটে পড়লো।
এ
ব্যাপারে কালুখালি মধুপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন,
এ ব্যাপারে আমরা (শিক্ষকরা) কিছুই জানি না। ক্লাস শুরুর আগেই ছাত্র-ছাত্রীরা এ কাজ
করেছে।
এ
ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখার
জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বলেছি। তারপর বিষয়টি দেখবো।
আধুনিকযুগে
শিক্ষার্থীদের কালোজাদু নিয়ে মাবন্ধনের নেপথ্যে অন্য ঘটনা থাকতে পারে বলে মনে করছেন
স্থানীয় সচেতন মহল। তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন