

টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে একের পর এক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন, কক্সবাজার শহরে একজন, পেকুয়ায় একজন শিশু এবং মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগরে আরও এক নারী রয়েছেন। এসব ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার পাহাড়ঘেরা এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রবিবার
(৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প
এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এরপর সোমবার
(৬ জুলাই) দুপুরে পেকুয়ায় এবং মঙ্গলবার দুপুরে দরিয়ানগরে আরও দুটি পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি
ঘটে।
সবচেয়ে
হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের
ডি-৬ ব্লকে। রাত দেড়টার দিকে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের
বসতঘরের ওপর। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে পুরো ঘর। খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস
ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী
হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের
১০ সদস্য তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। অলৌকিকভাবে সাতজন প্রাণে বেঁচে গেলেও তারা আহত হন।
উখিয়া
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী
দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় অভিযান পরিচালনা করে। তিনজনের মরদেহ
উদ্ধার এবং আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।’’
এই
ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাত ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা
ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে মোহাম্মদ
রশিদের ছেলে।
এর
প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১১
ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন—আব্দুর
রাজ্জাকের দুই মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩) এবং মোহাম্মদ রশিদের দুই
ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।
অন্যদিকে
রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে স্থানীয়
বাসিন্দা আলী আকবর নিহত হন।
কক্সবাজার
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, ঘরচাপা পড়া অবস্থায় একই পরিবারের
তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত আলী আকবরকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা মুরা
আলিম্যার ঝিরি এলাকায় পাহাড়ধসে মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে
কলিম উল্লাহর ছেলে। শিশুটির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
মঙ্গলবার
দুপুরে কক্সবাজার সদরের দরিয়ানগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়
শিশুসহ আরও চারজন আহত হয়েছেন।
কক্সবাজার
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৬টা
পর্যন্ত জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে দুপুর
৩টা পর্যন্ত আরও ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনের বাকি সময়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার
পাশাপাশি কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি
বলেন, ‘‘বর্তমানে চট্টগ্রাম অঞ্চল বৃষ্টিপাতের প্রধান ‘হটস্পট’।
এর প্রভাব কক্সবাজারেও পড়ছে। বিশেষ করে কুতুবদিয়া, চকরিয়া হয়ে চট্টগ্রামমুখী এলাকায়
বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বেশি। উপকূলীয় অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।’’
কক্সবাজারের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার বলেন, ‘‘পাহাড়ধসের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া
মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে
হস্তান্তর করা হবে। তিনি সবাইকে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান
জানান।’ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ও করিম উল্লাহ
বলেন, ‘‘বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের জীবন আতঙ্কে ভরে ওঠে। পাহাড় কেটে তৈরি ঢালে বাঁশ, ত্রিপল
ও অস্থায়ী উপকরণ দিয়ে নির্মিত ঘরগুলো ভারি বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কখন
পাহাড় ধসে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে—এই ভয় নিয়েই প্রতিদিন কাটাতে হয়। ইতোমধ্যে
অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে, অনেকের ঘরবাড়িও ধসে গেছে।’’
শুধু
রোহিঙ্গা ক্যাম্প নয়, কক্সবাজার সদর, রামু ও উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ঘেরা এলাকায় প্রায়
তিন লাখ মানুষ এখনও পাহাড়ের পাদদেশ ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছেন। টানা বৃষ্টিতে
এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
শরণার্থী
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘ক্যাম্পের
বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ও কিছু রোহিঙ্গার অবৈধ পাহাড় কাটার কারণে বহু স্থান অত্যন্ত
ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বারবার সতর্ক করা হলেও একটি অসাধু চক্র পাহাড় কাটা বন্ধ করেনি।’’
তিনি
বলেন, ‘‘এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, অনেকটাই মানবসৃষ্ট বিপর্যয়। যারা অবৈধভাবে পাহাড়
কেটে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া
প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন


পুলিশ
মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঈদে যাত্রীদের
কাছ থেকে গণপরিবহন বা ট্রেনে বাড়তি ভাড়া আদায় করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার
(২৯ মার্চ) রাজারবাগে পুলিশ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আজান, কিরাত ও রচনা প্রতিযোগিতার
বিজয়ীর মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কথা বলেন।
এসময়
কেউ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করলে, প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯
নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন করে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান আইজিপি।
আইজিপি
বলেন, যাত্রী সাধারণকে অনুরোধ করবো আপনারা কোনো ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করবেন না। আমরা কিছুদিন
আগেও সমন্বয় সভা করেছি। ১ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পুলিশের সব ইউনিটকে নিয়ে একটি
সমন্বয় সভা হবে। এরই মধ্যে রেল মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে।
এসব সভার মাধ্যমে আমরা সমন্বয়ের কাজটি সেরে নিচ্ছি। ঢাকাসহ বিভিন্ন রেঞ্জ ডিআইজিদের
আমরা ব্রিফ করবো। ডিএমপি কমিশনার ঢাকা মহানগরীর সমন্বয় করবেন। ঈদ যাত্রাকে নিরাপদ ও
ঝুঁকিমুক্ত করতে নৌ-পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ তাদের প্রস্তুতি
নিচ্ছে। পাশাপাশি জেলা পুলিশও প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার ঈদের ছুটি একটু লম্বা হবে। এজন্য
পর্যটন স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় হতে পারে। তাই সার্বিকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিতের
জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। সরকার বহুমুখী উন্নয়ন করছে, রাস্তা অনেক প্রস্থ
হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মাদারীপুরের শিবচরে নিজ ক্লিনিকের নার্সকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শিবচর ইউনাইটেড হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে শিবচরের বাহাদুরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আপেল মাহমুদ শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার পশ্চিম সেনেরচর এলাকার মৃত চান মিয়া শিকদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে এর আগে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিবচর ইউনাইটেড হাসপাতালে কর্মরত একজন নার্সকে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের মালিক আপেল মাহমুদ কুপ্রস্তাব দিতেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ওই নার্স হাসপাতালে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সেদিন বাড়ি ফেরার পথে তার গতিরোধ করে আপেল মাহমুদ জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তাকে তুলে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে কক্সবাজার নিয়ে যান।
সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে তাকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন।
পরে ২৫ ডিসেম্বর তাকে শিবচর এনে একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে ভুয়া বিয়ের নথি তৈরি করে ওই নার্সকে ছেড়ে দেন আপেল মাহমুদ। এ ঘটনার পর গত ৩০ ডিসেম্বর নার্সের পরিবার শিবচর থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে মামলা না নেওয়ায় মাদারীপুর আদালতের দ্বারস্থ হন ভুক্তভোগী পরিবার।
আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি শিবচর থানায় আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার পর আপেল মাহমুদ পলাতক ছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে শিবচর থানার এসআই রেনুকা আক্তারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শিবচরের পাঁচ্চর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক মালিক আপেল মাহমুদকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়
শিবচর থানার ওসি মো. রতন শেখ (পিপিএম) বলেন, ধর্ষণ মামলার আসামি আপেল মাহমুদের নামে এর আগেও শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক নার্সকে ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
কসবা উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা বন্দুকের গুলিতে
কলেজছা্ত্রসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে। মরদেহ
দুটি দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তৎপরতা শুরু করেছে।
নিহতরা
হলেন কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর বাতানবাড়ি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে মো.
মোরছালিন (২০)। তিনি স্থানীয় শাহআলম ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। মারা যাওয়া অপরজন
একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেন।
শুক্রবার
(০৯ মে) বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার
রাত সোয়া ১১টার দিকে কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তের ভারত অংশে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে কসবার প্রায় ১৫
বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত
পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে।
পরে
ভারত থেকে চোরাই মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের
টহল দল তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি
ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে
বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের
মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু
হয়। আহত অপরজন একই ইউনিয়নের মানিক্য মুড়ি গ্রামের নবীর হোসেনও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা
যায়।
বিজিবি
জানায়, আহত দুজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে
বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক
বিএসএফ কমান্ডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে
কাজ করছেন। একইসঙ্গে বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট পাঠানো এবং ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রক্রিয়া
চলমান রয়েছে।
বিজিবির
৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, বিএসএফের
গুলিতে দুজন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত
শেষে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ
অব্যাহত রয়েছে।
কসবা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহত মুরসালিন
কলেজছাত্র। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বিজিবি।
মন্তব্য করুন


ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায়।
শুক্রবার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আর মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েক জায়গায় ঝড়ো বৃষ্টি ছাড়াও আজ সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
এছাড়াও আগামীকাল শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কয়েক জায়গায় দমকা, ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অংশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


বিশ্বকাপের
ম্যাচের ফলাফল নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক
আলোচনায় এসেছে ‘জ্যোতিষী’ বিড়াল মিলু। একের পর এক ভবিষ্যদ্বাণী
মিলে যাওয়ায় ভক্তদের কাছে এখন বেশ পরিচিত নাম
এটি।
যদিও
শনিবার আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে প্রথমবারের মতো তার পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে,
তবুও ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচকে ঘিরে আবারও নতুন ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছে মিলু।
মিলুর
মতে, রবিবার (৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে
অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে
নেবে ব্রাজিল।
এবারের
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি ম্যাচের ফল নিয়ে মিলুর পূর্বাভাস এর আগে সঠিক ছিলো। ফলে
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের অনেকেই এই পোষ্য বিড়ালটির ভবিষ্যদ্বাণীর ওপর বেশ আস্থা রাখতে
শুরু করেছেন।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে এক সমর্থক লিখেছেন, ‘জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়লেও আমি
মিলুর ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হয়েছে। এবারও তার ভবিষ্যদ্বাণী
মিলবে বলে আশা করছি।’
মিলুর
মালিক নাতান পিনহেইরো জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে তিনি দুটি একই ধরনের বাটিতে খাবার রাখেন।
প্রতিটি বাটির পেছনে মুখোমুখি দুই দলের পতাকা লাগানো থাকে। এরপর মিলুকে ছেড়ে দেওয়া
হলে সে যে বাটি থেকে খাবার খায়, সেই দলকেই সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ধরা হয়।
তবে
মিলুর এই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে বিড়ালটিকে
নির্দিষ্ট বাটির দিকে পরিচালিত করেন। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাতান। তিনি পুরো
প্রক্রিয়ার ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছেন, এতে কোনো ধরনের কারসাজির সুযোগ নেই এবং মিলুই
নিজের পছন্দে বিজয়ী দল নির্বাচন করে।
শনিবার
আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে প্রথমবারের মতো মিলুর ভবিষ্যদ্বাণী ভুল হলেও, ব্রাজিল-নরওয়ে
ম্যাচে তার নতুন পূর্বাভাস কতোটা সঠিক হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। যদি মিলুর ভবিষ্যদ্বাণী
আবারও মিলে যায়, তবে ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘জ্যোতিষী’
বিড়ালটির জনপ্রিয়তাও আরও এক ধাপ বাড়বে।
মন্তব্য করুন


শীতকে
উপেক্ষা করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় নারী-পুরুষসহ সকল বয়সী মানুষের
ঢল নেমেছে। কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউবা মাটিতে বসে উৎসবমুখর পরিবেশে উপভোগ করছেন ঘোড়দৌড়
প্রতিযোগিতা। গ্রামের একটি ফসলের মাঠে অতিথিদের বসার স্টেজ। তার সামনে মাঠের চারপাশে
দড়ি দিয়ে গোল চত্বর চিহ্নিত করে, তার চারপাশ দিয়ে ঘুরছে ঘোড়ার দল। মাঠের এক পাশে নানা
রকম খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা।
মঙ্গলবার
পড়ন্ত বিকালে এমন চিত্র দেখা যায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর
গ্রামে। সেখানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
হয়। ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় ফুলবাড়ী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে তিনটি
গ্রুপে ২০ জন খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ ঘোড়া নিয়ে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
দুপুরের পর থেকে দূর-দূরান্ত থেকে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ওই এলাকায়
তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। খেলা দেখতে পেরেও খুশি দর্শকরা।
প্রধান
অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান
ফিজার এমপি। খেলা শেষে এ প্রতিযোগিতায় তিনটি বিভাগে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীদের
মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়।
মন্তব্য করুন


ভোলার
চরফ্যাশনের শশীভূষণে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জলিল পণ্ডিত নামের এক ব্যক্তির লাশ
দাফনে বাধা ও সন্তানদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। লাশ দাফনকে কেন্দ্র করে দুই স্থানে
দুইবার কবর খুঁড়ে দাফন করতে পারেনি।
এ
নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
হয়। শনিবার (২০ জুন) উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার
সূত্রে জানা গেছে, মৃত জলিল পণ্ডিত তার জীবদ্দশায় ৪টি বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তার
দুই স্ত্রী ও সাতজন ছেলে-মেয়ে রয়েছে।
সন্তানদের
অভিযোগ, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ছোট স্ত্রীর মেয়ে খাদিজা আক্তারের নামে দলিল করে
যান। এই সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরেই লাশ দাফনে বাধা দেন সন্তানরা। পরে বাধ্য হয়ে
পরিবারের লোকজন নিজ বাড়ির উঠানে দ্বিতীয়বার কবর খোঁড়েন। কিন্তু সেখানেও মৃতের চতুর্থ
স্ত্রী ও সেই ঘরের সন্তানরা পুনরায় বাধা দেন।
এ
ছাড়া লাশ আঙিনায় রেখে ভাই-বোনদের মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর
পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব
হয়নি। পুলিশের সামনেই কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসী পরিস্থিতি শান্ত
করার চেষ্টা করে সন্তানদের বুঝিয়ে মৃত জলিল পণ্ডিতের লাশ নিজ বাড়ির আঙিনায় জানাজা
শেষে তড়িঘড়ি করে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানায়, দাফনকে কেন্দ্র করে কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ ওই বাড়িতে।
এক
পর্যায়ে লাশ বাড়ির উঠানে রেখে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি
এবং মারধর বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে শশীভূষণ
থানা পুলিশকে খরব দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের উপস্থিতিতেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি
ও স্থানীয়রা উভয় পক্ষকে শান্ত করে দীর্ঘ আলোচনার পর বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে জলিলের
লাশ দাফন করা হয়।
এদিকে
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে একজন মৃত
ব্যক্তির দাফন বিলম্বিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই
এমন ঘটনাকে মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গরমে অসুস্থ
হয়ে পড়েছিল একজন রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল রিকশাচালকের
প্রাণ। প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালানো অবস্থায় হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে সড়কে পড়ে
যান ওই ব্যক্তি। এমন ঘটনা দেখে ট্রাফিক পুলিশরা দ্রুত গিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার
দিকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ঘটে এমন ঘটনা। জানা যায়, সেখানে দায়িত্বরত
ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পবিত্র বিশ্বাস। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্বরত
অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রিকশাচালকের মাথায়, চোখে ও মুখে পানি ছিটিয়ে
দেন। এরপর পুলিশ বক্স থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ জনগণের জন্য বিলি করা পানি ও স্যালাইন
অসুস্থ রিকশাচালককে খাওয়ালে তিনি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসেন।
সুস্থ হওয়ার পর রিকশাচালক জানান, তিনি
রিকশা চালাচ্ছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন
তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পুলিশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি তার প্রাণ
ফিরে পেয়েছেন। তা না হলে হয়তো হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যুও হতে পারতো।
এ সময় তিনি ট্রাফিক পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে জাপানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, জাপান সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক— এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
কিমিনোরি বলেন, ‘আমরা এই তিনটি স্তম্ভের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমে টোকিওর ‘দৃঢ় সমর্থনের’ কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
অধ্যাপক ড. ইউনূস উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রাখায় জাপানের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সম্পর্ক সবসময় খুব শক্তিশালী ছিল।’
সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে জাপানি কোন কোম্পানিও চলে যায়নি। তারা এখানে থাকতে আগ্রহী।’
তিনি নিক্কেইয়ের বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ওই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূস জাপানের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন এবং তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাতে পারবেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপের প্রশংসা করে জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, টোকিও এই বৈঠককে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।
অধ্যাপক ইউনূস মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘের গ্যারান্টিযুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা তৈরির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, যেখানে সংঘাত শেষ হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে তাদের বাড়িতে ফেরার পূর্বে সাময়িকভাবে পুনর্বাসিত করা যেতে পারে।
সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে
আগামী কয়েক দিন বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে একই সময়ে দেশের অন্তত ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত
থাকতে পারে।
বুধবার
(১৭ জুন) আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আগামী
২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং
রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও
বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি
থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা
প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এ
সময় মানিকগঞ্জ, নীলফামারী, রাজশাহীসহ খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে
যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
পরবর্তী
কয়েক দিনের পূর্বাভাস, দেশের বেশিরভাগ বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের
সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে
পারে, তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত।
একই
ধরনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতা থাকবে, কিছু এলাকায় ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের অনেক স্থানে
দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ
দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন