

নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে যানবাহনসহ ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও থ্রিপিস উদ্ধার করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)। রোববার ভোরে কুমিল্লা সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও সদর উপজেলা থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিজিবি।
বিজিবি জানায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওতাধীন শিবেরবাজার বিওপি'র বিশেষ টহলদল এবং আদর্শ সদর উপজেলার আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে সীমান্তের ৬ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চৌয়ারা বাজার এবং ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালপাড়া নামক স্থানে বিজিবি টহল দল কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় যানবাহনসহ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, রেডবুল এবং মুভ মলম আটক করে। আটককৃত মালামালের সর্বমোট মূল্য ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


মাঠের
লড়াই শেষ হলেও ফুটবলের গল্প থেমে থাকে না। অনেক সময় ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে
আলোচিত। কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার জন্যও তেমনই এক স্মরণীয় মুহূর্ত এনে দিয়েছেন
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ
শেষ হওয়ার পর লিওনেল মেসির সঙ্গে কয়েক মুহূর্ত কথা বলার আশায় তার কাছে এগিয়ে যান কেপ
ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। তবে নিজের কথা বলার আগেই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের আচরণে মুগ্ধ
হয়ে যান তিনি।
ভোজিনিয়ার
ভাষ্য, তিনি কাছে যেতেই মেসি তাকে জড়িয়ে ধরেন। এরপর আর্জেন্টাইন তারকা বলেন, ‘তুমি
খুব প্রতিভাবান। তুমি একজন অসাধারণ গোলকিপার। তোমার দেশের মানুষের তোমার জন্য গর্ব
করা উচিত।’
মেসির
প্রশংসাকে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন ভোজিনিয়া। তিনি
বলেন, এমন একজন ফুটবলারের মুখে নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক কথা শোনা সত্যিই বিশেষ অনুভূতি,
যা তিনি কখনো ভুলবেন না।
মেসির
প্রশংসার জবাবে ভোজিনিয়াও তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বলেন, ‘ধন্যবাদ, লিও। আপনিই
সেরা।’
এরপর
তিনি মেসির কাছে একটি বিশেষ অনুরোধ করেন জার্সি বদল করা যাবে কি না। ভোজিনিয়ার দাবি,
মেসি হাসিমুখেই সেই অনুরোধে সাড়া দেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। টানেলের ভেতরে তোমাকে এটা
দেব।
একজন
ফুটবলারের কাছে প্রিয় তারকার সঙ্গে জার্সি বিনিময় নিঃসন্দেহে স্মরণীয় অর্জন। আর
তার সঙ্গে যদি যোগ হয় প্রশংসা ও আন্তরিক আলিঙ্গন, তাহলে সেই মুহূর্ত আরও বিশেষ হয়ে
ওঠে। ভোজিনিয়ার কাছেও ঘটনাটি তেমনই। তার ভাষায়, এই ধরনের মুহূর্ত হৃদয়ে আজীবন খোদাই
হয়ে থাকে।
জয়-পরাজয়ের
হিসাবের বাইরে ভোজিনিয়ার জন্য এই ম্যাচটি ছিল স্বপ্নপূরণের উপলক্ষ। ছোটবেলা থেকে যাকে
অনুসরণ করে বড় হয়েছেন, সেই লিওনেল মেসির প্রশংসা পাওয়ার পাশাপাশি তার জার্সিও উপহার
হিসেবে পেয়েছেন তিনি। একজন নিবেদিত মেসি-ভক্তের কাছে এর চেয়ে মূল্যবান স্মৃতি খুব কমই
হতে পারে।
মন্তব্য করুন


মেহেরপুরের
গাংনী উপজেলায় গরুবোঝাই একটি ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে উজ্জ্বল হোসেন (৩৫)
নামে এক চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রলিতে থাকা আরো ১০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার
(৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রাইপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত
উজ্জ্বল হোসেন মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।
আহতরা
হলেন— মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী গ্রামের ইসমাইল হোসেন (৪৫),
সাবদার আলী (৫০) ও রফিকুল ইসলাম (৫০); চকশ্যামনগর গ্রামের কবির হোসেন (৫০), ওসমান আলী
(৪৮) ও ইসরাফিল হোসেন (৫০); যাদবপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন (৩৫); বামনপাড়া গ্রামের রাজা
হোসেন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৩৫); এবং রাধাকান্তপুর গ্রামের লিটন আহমেদ (৩৫)।
আহত
শহিদুল ইসলাম জানান, তারা মেহেরপুর থেকে গরুবোঝাই ট্রলি নিয়ে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা
পশুর হাটে যাচ্ছিলেন। পথে রাইপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে
যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালক উজ্জ্বল হোসেন নিহত হন এবং ট্রলিতে থাকা অন্যরা আহত হন। দুর্ঘটনার
পর স্থানীয়রা ট্রলিটি সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে দড়ি কেটে ট্রলিতে থাকা গরুগুলো
বের করে আনা হয়। আহতদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
গাংনী
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাসুদুর রহমান
বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই উজ্জ্বল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক
চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গাংনী
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, গরুবোঝাই ট্রলি
উল্টে একজন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন


লক্ষ্মীপুরের
রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, তার মা ও ছোট বোনকে কুপিয়ে
হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের আরেক সদস্য। বৃহস্পতিবার (২৫
জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনায় এলাকায় চরম
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে স্থানীয়রা ধরে গণপিটুনি দিলে তারও
মৃত্যু হয়।
নিহতরা
হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার
(৯)। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারকে (১৭) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের
দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ
ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে পরিবারের কর্তা মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে
মারা যান। এরপর শাহিনুর বেগম তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রায়পুরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস
করছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা লক্ষ্মীপুরে থাকতেন।
ঘটনার
সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে এক যুবক বাসায় প্রবেশ করে মা ও তিন মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা
চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারী
পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া করে আটক করে গণপিটুনি দেয়। হাসপাতালে
নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। নিহত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (৩৫) বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায়।
নিহতদের
প্রতিবেশী এবং রায়পুর স্টেশন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মারিয়া
মুন্নী জানান, সায়মা সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তিনি কোন বিভাগে
অধ্যয়ন করছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।
রায়পুর
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, “হাসপাতালে মোট পাঁচজনকে
আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক
অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো
অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।”
রায়পুর
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, হাসপাতালে
আনার আগেই দুই মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাদের মা। নিহতদের
শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে
পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার
ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
লক্ষ্মীপুরের
পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
স্থানীয়দের হামলায় আমাদের ছয় থেকে সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।”
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা
হচ্ছে। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, নিহত তিনজনের মরদেহ
হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহত এক কিশোরীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
চাঞ্চল্যকর
এ হত্যাকাণ্ডে পুরো রায়পুরজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে গভীর বেদনার জন্ম দিয়েছে। হত্যার
পেছনের কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের
মধ্যে নির্বিঘ্ন নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের
নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ (৭ অক্টোবর) কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর উপর বিদ্যমান পুরাতন
সেতুর পাশে ১১,৫৬০.৭৭ কোটি টাকার নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প অনুমোদন করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত
চলতি অর্থবছরের (অর্থবছর ২৫) তৃতীয় ও অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন
দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংকালে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, দিনের বৈঠকে
মোট আনুমানিক ২৪ হাজার ৪১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া
হয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে ৭,৭৪৬.৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প
সহায়তা থেকে ১৬,০১২.৩৩ কোটি টাকা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৫৩.৯৫ কোটি
টাকা আসবে।
অনুমোদিত চারটি
প্রকল্পের মধ্যে দু’টি নতুন ও দু’টি সংশোধিত প্রকল্প। এছাড়া বৈঠকে ব্যয় না বাড়িয়ে সাতটি
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয়
২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রেল-কাম-সড়ক সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে ।
মোট ১১,৫৬০.৭৭
কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে ৪,৪৩৫.৬২ কোটি টাকা আসবে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে
এবং বাকি ৭,১২৫.১৫ কোটি টাকা আসবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) এবং ইকোনমিক
ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটিজ (ইডিপিএফ), কোরিয়া থেকে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান,
কালুরঘাটে বিদ্যমান সেতুটি পুরনো ও জরাজীর্ণ হওয়ায় এ ব্যাপারে নতুন প্রকল্পের কথা বিবেচনা
করা হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার কক্সবাজারকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর
করতে চায়। এছাড়াও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সংলগ্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের
জন্যও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এ জন্য সরকার মনে করেছে, এ ক্ষেত্রে একটি নতুন
প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত।
পরিকল্পনা কমিশনের
একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে নির্বিঘ্ন
ও নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ
তৈরি করা। রেলপথ মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে পুরানো ও জরাজীর্ণ কালুরঘাট
সেতু দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারে না। এছাড়া মাতারবাড়ী
গভীর সমুদ্র বন্দর চালু হলে, এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি এ রুটের
গুরুত্বও বাড়বে। ইতোমধ্যেই দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর মাধ্যমে ঢাকা ও কক্সবাজারের
মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। ফলে পর্যটন নগরীর সঙ্গে নির্বিঘ্নে যোগাযোগ
নিশ্চিত করতে বিদ্যমান পুরাতন সেতুর পাশে কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক
সেতু নির্মাণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে
এবং এইভাবে কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে অনুমোদিত হয়েছে।
বর্তমানে দেশের
আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। প্রস্তাবিত
প্রকল্পটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে নির্বিঘ্ন
রেল যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সেতুটি নির্মিত হলে, এই অঞ্চলের বিভিন্ন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও বিশেষ অর্থনৈতিক
অঞ্চলে অবস্থিত কল-কারখানার পাশাপাশি শিল্প প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম
হবে। মূল প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৭০০ মিটার রেল-কাম-রোড ব্রিজ নির্মাণ,
৬.২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ, ২.৪০ কিলোমিটার সড়ক ভায়াডাক্ট, ৪.৫৪ কিলোমিটার বাঁধ,
১১.৪৪ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ এবং আনুষঙ্গিক কাজ।
অতিরিক্ত ৬,৫৭৩.৯৬
কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের অনুমোদন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা
বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। প্রকল্পটির ভূ-রাজনৈতিক দিকও রয়েছে। তিনি বলেন, এই বন্দরের
অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ভারতের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন,
মাতারবাড়ী বন্দরে প্রয়োজনীয় কাজ এখনো শুরু হয়নি এবং বন্দরের উন্নয়নে রাস্তা নির্মাণ
করা হবে।
সভায় অনুমোদিত
অন্য দুটি প্রকল্প হল- সাজেক রোড কানেক্টিভিটি, প্রকল্প-২: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর
মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, ৩৭৬.৯৯ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ে দ্বিতীয় সংশোধিত ও ৫,৯০১.২২২
টাকা দিয়ে রেসিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইইউটিডিপি)।
মন্তব্য করুন


চাল বিক্রি করার জন্য এখন থেকে বস্তায় ধানের জাত ও মিল গেটের মূল্য লিখতে হবে। সেই সঙ্গে লিখতে হবে উৎপাদনের তারিখ ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম। এমনকি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান (জেলা ও উপজেলা) উল্লেখ করতে হবে। থাকবে ওজনের তথ্যও। চালের উৎপাদনকারী মিল মালিকদের গুদাম থেকে বাণিজ্যিক কাজে চাল সরবরাহের প্রাক্কালে চালের বস্তার ওপর উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান/চালের জাত উল্লেখ করতে হবে। বস্তার ওপর এসব তথ্য কালি দিয়ে লিখতে হবে।
চাল উৎপাদনকারী মিল মালিকের সরবরাহ করা সব প্রকার চালের বস্তা ও প্যাকেটে ওজন (৫০/২৫/১০/৫/১) উল্লেখ থাকতে হবে। করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে মিল গেট দামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান চাইলে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে পারবে।
এ বিষয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখা থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
এমন নির্দেশনা সোমবার (১৪ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে।
ইতোমধ্যে নির্দেশনার কপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক, সব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, সব উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষর করা এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের চাল উৎপাদনকারী কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে বাজারে একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে ও দামে বিক্রি হচ্ছে।
চালের দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে গেলে বা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে মিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পছন্দমতো জাতের ধানের চাল কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে চালের বাজারমূল্য সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ধানের নামেই যাতে চাল বাজারজাতকরণ করা হয় তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এর ব্যত্যয় ঘটলে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬ ও ধারা ৭ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনটির ধারা-৬-এর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রয়েছে। আর ধারা-৭-এর শাস্তি হিসেবে রয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান।
মন্তব্য করুন


বন্যার্তদের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে ৬ষ্ঠ দিনের মতো চলছে গণত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম। এতে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। যে যা পারছেন অর্থ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করছেন।
মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, সকাল থেকেই, নানা শ্রেণিপেশার মানুষ নগদ অর্থ, ওষুধ, পোশাক ও ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করছেন। আর এই কার্যক্রম চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। বন্যার্ত ও অসহায় মানুষদের সহযোগিতায় নগরীর সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে সাড়া দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।
প্রসঙ্গত, এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায়
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার ৫ম দিন সন্ধ্যা ৬টা অব্দি সংগৃহীত
অর্থের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এতে জানানো
হয়, আজ মোট সংগ্রহ হয়েছে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা।
মন্তব্য করুন


প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, জাতির প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। তবে সবাই এক বিষয়ে একমত, সেটি হলো গ্রহনযোগ্য নির্বাচন।
আর ঐক্যমত কমিশন যদি সব দলের থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আচরনবিধি পালনের বিষয়ে লিখিত নেয়, তাহলে ইসির কাজ সহজ হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন আলোচনায় নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনকে একটি চ্যলেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
মানুষের মনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সামনে আমাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে, আমরা সেটি প্রতিষ্ঠা করবো।
এসময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, দেশকে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এই নির্বাচনে কর্তৃপক্ষের কোনো প্রভাব দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে হানাহানি দেখতে চাই না, রাতের সিলমারা দেখতে বা শুনতে চাই না। এছাড়াও কর্তৃপক্ষের প্রভাব দেখতেও চাই না। শুধুমাত্র একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই।
নির্বাচনে কোন অনিয়ম হলে দায় কমিশন এড়াতে পারে না উল্লেখ করে নির্বাচনার কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন,
জুলাই আগস্ট বীরদের রক্তের সাথে যেন বেইমানি না হয সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, সেই প্রথম পরীক্ষায় হবে আগামী নির্বাচন।
রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্তব্য করুন


হামে
আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ৩৫২ শিশুর প্রত্যেক পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ
দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।
রোববার
(১০ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবীর পল্লব জনস্বার্থে এ রিট দায়ের
করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
দুই মাসের কম সময়ে হাম ও উপসর্গে দেশে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩৫০। একই সময়ে আক্রান্ত ছাড়িয়েছে
৪৭ হাজার। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৯ হাজারের বেশি শিশু। গত ১৫ মার্চ থেকে
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এ তথ্য।
স্বাস্থ্য
অধিদফতর জানিয়েছে, এরমধ্যেই চলমান টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সারা দেশে ১
কোটি ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ৯০৮ শিশু হাম-রুবেলার টিকা পেয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ।
সারা দেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এই কার্যক্রমের আওতায় টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা
নির্ধারণ করেছিল সরকার।
মন্তব্য করুন


ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের দাউদকান্দির টামটা এলাকায় একটি অদ্ভুত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৬
আগস্ট) সকালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া একটি মাইক্রোবাসের ভিডিও করতে গিয়ে আরেকটি
মাইক্রোবাস বাসের চাপে খাদের কিনারে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা
জানান, প্রথম মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ার পর পেছনের মাইক্রোবাসের চালক ভিডিও করার চেষ্টা
করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দিলে দ্বিতীয় মাইক্রোবাসটিও
দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে গাড়িতে যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, চালকদের অসাবধানতার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং গাড়ি দুটি
উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন


বরিশাল
সদর উপজেলার চরমদি ইউনিয়নে এক অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তার কষ্টের উপার্জনে গড়া মাছের
খামারে বড় ধরনের নাশকতার অভিযোগ উঠেছে। পেনশনের টাকায় বাড়ির পাশের তিনটি পুকুরে মাছ
চাষ শুরু করার মাত্র দুই দিনের মাথায় দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলেছে
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী
অবসরপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম মজুমদার জানান, দীর্ঘ চাকরিজীবন শেষে সম্প্রতি
তিনি অবসর নেন। অবসরের পর পাওয়া পেনশনের অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগ করে তিনি বাড়ির পাশের
তিনটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ও বড় মাছ অবমুক্ত করেন। অবসরজীবনে মাছ চাষের
মাধ্যমে বাড়তি আয়ের একটি স্বাবলম্বী উৎস গড়ে তোলাই ছিল তার লক্ষ্য।
কিন্তু
মাছ ছাড়ার মাত্র দুই দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কে বা কারা তার তিনটি
পুকুরেই সুকৌশলে বিষ প্রয়োগ করে। বুধবার সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, পানির
ওপরে ভেসে উঠেছে বিপুল পরিমাণ মৃত মাছের পোনা ও বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ। এই আকস্মিক
নাশকতায় তার প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে
এমন অমানবিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একজন অবসরপ্রাপ্ত
মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে গড়ে তোলা উদ্যোগ এভাবে ধ্বংস করে দেওয়ায় তারা হতবাক। স্থানীয়রা
দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা
নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ
বিষয়ে চরামদ্দি পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভুক্তভোগী আবুল কালাম মজুমদার এ
ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের
সঙ্গে তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন