

নারায়ণগঞ্জের
রূপগঞ্জে ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এসময় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রোববার (৮ ডিসেম্বর)
দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার তারাব পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের
মধ্যে তারাব পৌরসভার বরাব ছাপরা মসজিদ এলাকার আল ইসলামের ছেলে শহিদুল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ
অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় ৩ রাউন্ড গুলির খোসা
উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়
ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলার তারাব পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর এলাকার
মৃত সুজাত আলীর ছেলে সাকিবুল হাসান রূপগঞ্জ মানবাধিকার সংস্থার সদস্য হয়। এ নিয়ে তার
নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে একই এলাকার আবু দায়েন প্রধানের ছেলে
মাহিম চুদলিংপং লিখে কমেন্ট করেন। এরই জের ধরে রাত ১১টার দিকে সাকিবুল হাসান ও মাহিমের
বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ২টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে
জড়ায়। এসময় উভয় লোকজনের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। এতে শহিদুল ইসলাম
নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া
হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও ৪ জন আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া
হয়েছে।
এ
বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে
দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ৫ জনের মতো আহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। দুই পক্ষের বিরুদ্ধে
মামলা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক
ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, সম্প্রীতির বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন
যাবৎ শান্তি ও সৌহার্দ্যের মধ্যে বসবাস করে আসছে।
আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরীস্থ
বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সমবেত ভক্ত
ও পূজারীদের উদ্দেশ্য এ কথা বলেন।
গণশিক্ষা উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায়
পোদ্দার বলেন, সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান উৎসবের সঙ্গে পালন করে
আসছে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্রের কাছে সকলেই সমান। অনেকে আশঙ্কা করেছিল দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে
পালন করা যাবে কিনা । এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে, কোন অসুবিধা হচ্ছে না। দুর্গাপূজা
সুন্দরভাবে পালন করা হচ্ছে। যদি আমরা সম্প্রীতি ও সংহতি ধরে রাখতে পারি, তাহলে দুষ্কৃতিকারীরা
তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি
নিবাস চন্দ্র মাঝি, সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র, উদযাপন পরিষদের স্টিয়ারিং কমিটির
চেয়ারম্যান তপন মজুমদার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক
প্রমিতা সরকার উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপদেষ্টা দু:স্থদের মধ্যে বস্ত্র
বিতরণ করেন।
মন্তব্য করুন


বৈঠকে
বসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এরআগে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের জন্য হোটেল ডোরচেস্টারে পৌঁছেন তারেক রহমান। এদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে বাসা থেকে রওনা হন তিনি।
এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপার্সনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক দুই ঘণ্টা ধরে চলবে। বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপসহ অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত নানা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টিও আসতে পারে আলোচনায়।
মন্তব্য করুন


আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ভোরে বেলগাছি সংলগ্ন খরার মাঠে সোহেল (২৫) নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা।
নিহত সোহেল বেলগাছি গ্রামের বকচরপাড়ার আসাবুল হকের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নিহতের বাবা আসাবুল হক জানান, স্থানীয় তাহেরের ছেলে ফারুকের সঙ্গে পেয়ারা বাগানের একটি পেয়ারা গাছের ডাল ভাঙা বা পেয়ারা খাওয়া নিয়ে সোহেলের বিরোধ হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয় এবং ফারুক সোহেলকে হত্যার হুমকি দেয়। এরই জেরে ফারুক আমার ছেলেকে জবাই করেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুর রহমান বলেন, ১ জন যুবককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছি।
মন্তব্য করুন


রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেছেন, ঘটনার নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত না হলে তার মতো আরও অসংখ্য পরিবার চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, “আমার জীবনে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি নেমে এসেছে, এমনটা আর কারও জীবনে যেন না আসে—এইটাই আমার একমাত্র চাওয়া।”বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সুরাইয়া বেগম জানান, এ ধরনের সহিংস ঘটনা অতীতেও ঘটেছে, এখনও ঘটছে এবং বিচার না হলে ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে। সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে বহু পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে।স্বামীর শেষ মুহূর্তের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত সুরাইয়া বেগম বলেন, “সেদিন সন্ধ্যায় সে শুধু বলেছিল—এক কাপ কফি বানিয়ে দাও, নামাজ পড়ে বের হব। ওই কথাটাই ছিল তার জীবনের শেষ কথা।”তিনি আরও জানান, বাইরে থাকলে মুছাব্বির সাধারণত ফোনে বেশি যোগাযোগ করতেন না কিংবা কার সঙ্গে আছেন, সেটাও জানাতেন না। তার মোবাইল ফোন নজরদারিতে ছিল বলেই এমন সতর্কতা অবলম্বন করতেন বলে ধারণা তার।কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নে সুরাইয়া বেগম বলেন, তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করতে পারছেন না। রাজনীতির সঙ্গে তিনি নিজে জড়িত ছিলেন না; সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনাই ছিল তার প্রধান দায়িত্ব।স্বামীর পেশাগত পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় দুই দশক ধরে মুছাব্বির পানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকায় এই ব্যবসার সূচনা তাদের হাতেই। ২০২০ সালে তিনি কাউন্সিলরের দায়িত্বও পালন করেন। কয়েক দিন আগেই মুছাব্বির জানিয়েছিলেন, দল যেভাবে নির্দেশ দেবে, সেভাবেই তিনি চলবেন।সুরাইয়া বেগম জানান, তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ছে, এক মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং বড় মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার কিছু পর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশের আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গলিতে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র ব্যক্তিরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও আহত হন।স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও আগের সরকারের সময়ে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছিল।তার ঘনিষ্ঠ পরিচিত মো. শাহিন জানান, দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুছাব্বির। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে স্টার কাবাবের পাশের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে।
মন্তব্য করুন


চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষককে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।শনিবার রাতে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।ভুক্তভোগী পরিবার এবং শাহরাস্তি মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে টার্গেট করেন মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক আব্দুল মালেক। তিনি ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেন এবং স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক ছাত্রী চিৎকার করার চেষ্টা করলে শিক্ষক আব্দুল মালেক তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।শিক্ষার্থীটি দ্রুত মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেও, অধ্যক্ষ তাকে উল্টো ধমক দেন এবং কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ। এতে কোনো প্রতিকার না পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীটি শাহরাস্তি মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে।এই ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য ইব্রাহিম খলিল মঞ্জু জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের কাছ থেকে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যক্ষ একরামুল হক মজুমদার যদি শুরুতেই বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতেন, তবে পরিস্থিতি এতটা গড়াত না। অধ্যক্ষের গাফিলতি ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ একরামুল হক মজুমদারের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং 'কোর্ট থেকে জানার' পরামর্শ দেন।শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন


আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক সদস্যদের মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, পুরো জাতি এখন নির্বাচনমুখী। গত ১৩-১৪ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে সেনা সদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে,এমন প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ট্রেনিং, পোস্টিং, প্রমোশনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনাটি সেনা সদস্যদের মনোবলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে আমরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থাকব।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠক করেছেন ।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন উপদেষ্টারা। পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণসহ অগ্রাধিকার করণীয় নিয়েও আলোচনা হয় এবং দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
উল্লেখ্য, পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়েছে দেশের নয়টি জেলা। বন্যাকবলিত জেলাগুলো হলো– ফেনী, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি। এসব জেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি ও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকা ফেনী-নোয়াখালীর উদ্দেশে ২৫০ উদ্ধারকারী নৌকা পাঠানোর বন্দোবস্ত করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ইতোমধ্যে ৫০-এর বেশি উদ্ধারকারী নৌকা রওনা দিয়েছে এবং সারাদিনে আরও দুইশ নৌকা যাওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়াও,
পদোন্নতি বঞ্চিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনসহ বেশ কিছু বিষয়ে
বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ
করেছে বিএনপি।
আজ রবিবার (১১ মে) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক
বিবৃতিতে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমরা প্রধান উপদেষ্টা সঙ্গে সাক্ষাৎকালে
তার হাতে দেওয়া পত্রে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল
হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছিলাম।
তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সর্বশেষ সাক্ষাৎকালেও
তার হাতে দেওয়া পত্রে আমরা পতিত ফ্যাসিবাদী দল ও সেই দলীয় সরকারের সঙ্গে যারাই যুক্ত
ছিল, তাদের বিচার দ্রুত করে দেশের রাজনীতির ময়দানকে জঞ্জালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছি।
আলোচনায় আমরা স্পষ্ট করে বলেছিলাম যে, আইনি প্রক্রিয়াতেই ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগকে
নিষিদ্ধ করা সম্ভব ও উচিত। বিভিন্ন সভা, সমাবেশে ও আলোচনায় আমরা আমাদের এসব দাবি বার
বার উত্থাপন করেছি।
উল্লেখযোগ্য যে, আমরা প্রশাসনিক আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের
বিরুদ্ধে বলেই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে
নিষিদ্ধ ঘোষণার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিএনপি।
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা আনন্দিত যে, বিলম্বে
হলেও গত রাতে (১০ মে) অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত করার এবং বিচারকার্য নির্বিঘ্ন করার স্বার্থে ফ্যাসিবাদী
দল আওয়ামী লীগ ও তার সঙ্গে যুক্ত সব সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায়
গুম, খুন, নিপীড়ন ও জনগণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন অপশাসন চালনাকারী ফ্যাসিবাদী দলের বিচার
করার সিদ্ধান্তকে আমরা সঠিক বলে মনে করি। তবে আমাদের দাবি মেনে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া
হলে চাপের মুখে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বিব্রতকর ও অনভিপ্রেত অবস্থায় সরকারকে পড়তে হতো
না। ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মনে
রাখবেন বলে আমরা আশা করি। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার বঞ্চিত জনগণ তাদের ভোটাধিকার
তথা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য গুম, খুন, জেল, জুলুম
সহ্য করেও অব্যহত লড়াই করেছে। তাদের সেই দাবি এখনও অর্জিত হয়নি। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার
সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণঅর দাবিও ক্রমাগত উপেক্ষিত হওয়ায় জনমনে যে ক্ষোভোর সৃষ্টি
হচ্ছে, সে ব্যাপারে সচেতন হওয়ার জন্য আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
মন্তব্য করুন


তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেছেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। পাশাপাশি
পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
আজ শনিবার (২১ ডিসেম্বর) প্রেস ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে
প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার বিষয়ক জাতীয় সংলাপে তিনি একথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ
ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের কথিত উন্নয়নকে চ্যালেঞ্জ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।
ওই আন্দোলনের মাধ্যমে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাথায় নিরাপদ সড়কের বিষয়টি গেঁথে
গিয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
পাশাপাশি পরিবহন খাতে রাজনৈতিক দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, যেসব কাঠামোগত উন্নয়ন মানুষের
জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সেসব উন্নয়ন অর্থহীন। তাই, আমাদের মৌলিক উন্নয়ন
পরিকল্পনায় ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রয়োজন।
সড়ক দুর্ঘটনাকে কাঠামোগত হত্যাকান্ড
হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক
ও কাঠামোগত দুর্বলতা অনেকাংশে দায়ী।
পরিবহন খাতে বহুমুখী সমস্যার বর্ণনা
দিয়ে তিনি বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।
এ সময়ে তথ্য উপদেষ্টা সড়ক নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যের বরাত
দিয়ে সংলাপে জানানো হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে সড়ক
দুর্ঘটনায় ৩৭ হাজার মানুষ নিহত ও ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সংলাপে আরও জানানো হয়, গণপরিবহন ৫৩
শতাংশ যাত্রী বহন করে, আর ব্যক্তিগত যানবাহন ১১ শতাংশ যাত্রী বহন করে। অথচ ব্যক্তিগত
যানবাহন ৭০ শতাংশ সড়ক দখল করে চলে। ৩০ শতাংশের কম জায়গায় চলে গণপরিবহন। এটি সাধারণ
মানুষের প্রতি চরম বৈষম্য।
সংলাপের শুরুতে সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা
প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি
আব্দুলাহ এম ফেরদৌস খান।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক
ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক
ফারুক ওয়াসিফ, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের
নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মন্তব্য করুন


ভারী বৃষ্টিপাতজনিত ভয়াবহ বন্যা এবং ভূমিধসে বিপর্যস্ত বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে দেশটির হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং বহু রাস্তাঘাট নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সরকার এক বিরল পদক্ষেপ নিয়েছে—বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত হাতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য। ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও হাতির ব্যবহার মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সুমাত্রা দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশে এক অভিনব দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বেসরকারি সংবাদমাধ্যম কমপাস টেলিভিশন জানিয়েছে, আচেহ-এর প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা (বিকেএসডিএ) বন্যায় রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়া অঞ্চলে চারটি হাতি পাঠিয়েছে। এই এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যায় বড় বড় গাছের গুঁড়ি এবং ধ্বংসস্তূপ জমে রাস্তা পুরোপুরি অচল হয়ে আছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাদা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে ভারী যন্ত্রাংশ নিয়ে ওই অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণেই বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হাতিদের ব্যবহার করা হচ্ছে গাছের গুঁড়ি ও ধ্বংসাবশেষ টেনে সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার জন্য। বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষ ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটিতে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৩২ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া এই দুর্যোগের ফলে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুহারা হয়ে পড়েছেন। সংস্থাটি আরও জানায়, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এই বাস্তুহারাদের উত্তর ও পশ্চিম সুমাত্রাসহ আচেহ অঞ্চলের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার এই চরম দুর্যোগের সময় প্রতিবেশী দেশ চীন সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। দেশটি ইন্দোনেশিয়ায় জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
মন্তব্য করুন