

জাপানের
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দৈনিক মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমান। তার এই দাবি দেশজুড়ে ব্যাপক
আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, বহুদিন পর
এবারই প্রথম তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন।
গত
বুধবার (২২ জুলাই) দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার
জাপানে ‘সমুদ্র দিবস’ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকলেও তিনি বিশ্রাম
নেননি। নীতিমালা সংক্রান্ত নথিপত্র পড়েছেন আর জমে থাকা হাজার হাজার ই-মেইলের জবাব দিয়েছেন।
অবসরের সামান্য সময়ে নিজের অন্তর্বাস ইস্ত্রি করেছেন, ছেঁড়া স্কার্ট সেলাই করেছেন এবং
জ্যাকেটের ঢিলা বোতাম ঠিক করেছেন বলেও জানান তিনি।
তাকাইচির
এই পোস্ট ইতোমধ্যে তিন কোটিরও বেশিবার দেখা হয়েছে। তবে নিজেকে পরিশ্রমী ও সাধারণ মানুষ
হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা উল্টো ফল দিয়েছে। কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য, পর্যাপ্ত
ঘুমের প্রয়োজনীয়তা এবং অতিরিক্ত কাজের ঝুঁকি নিয়ে এখন জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিরোধী দলের আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবে মানুষের
বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা নষ্ট হতে পারে। এতে জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ঝুঁকি তৈরির আশঙ্কা
রয়েছে।
আরেক
বিরোধী নেতা হিরোইউকি কোনিশি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাজ প্রতিটি নথির খুঁটিনাটি পড়া
নয়। বরং নীতির দিকনির্দেশনা ঠিক করাই তার প্রধান দায়িত্ব। জনতাবাদী রক্ষণশীল দলের নেতা
ইউইচিরো তামাকি মন্তব্য করেছেন, তাকাইচি নিঃসন্দেহে পরিশ্রমী। তবে বিশ্রাম নেওয়াও একটি
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
টোকিওর
ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়োকো ইওয়ামা বলেন, আগের
অনেক প্রধানমন্ত্রী গৃহস্থালির কাজে স্ত্রীর ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু তাকাইচিকে নিজেই
এসব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
নিক্কেই
পত্রিকায় প্রকাশিত এক লেখায় ইওয়ামা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন একটি সহায়ক ব্যবস্থা
থাকা উচিত, যাতে তিনি ব্যক্তিগত গৃহস্থালির কাজের চাপে না পড়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পুরোপুরি
মনোযোগ দিতে পারেন। এতে সমাজে নারীর অগ্রগতিও ত্বরান্বিত হবে।
তাকাইচি
বর্তমানে সংসদের গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগে নিজের আইনগত অগ্রাধিকারগুলো পাস করাতে ব্যস্ত।
একই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়া ইয়েন, অর্থনৈতিক চাপ এবং সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তা হ্রাসের মতো
চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করছেন তিনি।
জাপান
দীর্ঘ কর্মঘণ্টার সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। অনেক কর্মী দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করেন।
অতিরিক্ত সময় অফিসে থাকা অনেক ক্ষেত্রে আনুগত্যের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়। সাম্প্রতিক
বছরগুলোতে অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর ঘটনা, যা ‘কারোশি’
নামে পরিচিত, বেশ কয়েকবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৬ সালে বিজ্ঞাপন সংস্থা ডেনৎসুর এক তরুণ
কর্মীর মাসে ১০০ ঘণ্টার বেশি অতিরিক্ত কাজের পর আত্মহত্যা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল।
এরপর সরকার অতিরিক্ত কাজের সর্বোচ্চ সীমা মাসে ৪৫ ঘণ্টা নির্ধারণ করে। নব্বইয়ের দশক
থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় তাকাইচি কঠোর কর্মনিষ্ঠাকেই নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি
হিসেবে গড়ে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, আমি কাজ করব, কাজ করব,
কাজ করব, কাজ করব এবং কাজ করব।
মন্তব্য করুন


সারা
দেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আগামী ৩০ জুনের
মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে
জমি সুরক্ষিত রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে,
কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই নাগরিকরা এখন ঘরে বসে land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে
তাদের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট
ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে।
ভূমি
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে
(land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত
সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে
তা পরিশোধ করা যাবে।
মন্ত্রণালয়ের
বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি
সুরক্ষিত রাখুন।
নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে।
সাধারণত
সরকারি অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে
এই সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়। অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন
ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ছে না, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ
দুটোই সাশ্রয় করছে।
ভূমি
মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।
মন্তব্য করুন


নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
কুমিল্লার বহুল আলোচিত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়'-এর শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিহার আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়ের জামিন আবেদন আবারো নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ২৩ জুন (মঙ্গলবার) দুপুরে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ (চতুর্থ) আদালতের বিচারক মো. সামছুল আলম দীর্ঘ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শরীফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট তাফসীরুল আলম এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত জেলা পিপি মো. মোস্তফা জামান জসিম ও মো. ইকরাম হোসেনসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অপরদিকে, আসামিপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ সালাউদ্দিনসহ আরও দুজন আইনজীবী জামিনের পক্ষে তাদের তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন। শুনানির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক ও বাদানুবাদে আদালতের এজলাস সাময়িক উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক সবাইকে শান্ত হওয়ার নির্দেশ দেন এবং আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ সময় আদালতের এজলাসে নিহত ফারিহার বাবা ও মামলার বাদী মো. হানিফ এবং মা কোহিনূর বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, গত ১০ মে কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে আসামি মেহেদী হাসান হৃদয় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০ মে একই আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে কারাগারে থাকা অবস্থায় এর আগেও একবার জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর হয়েছিল। জেলা জজ আদালতেও এবার তার জামিন মেলেনি।
মামলার ফাইলিং আইনজীবী তাফসীরুল আলম জানান যে, ঘটনাটি দেশজুড়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং এটি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড যা তারা আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। আসামির জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ন্যায়বিচারের পথ সুগম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে আদালতের এই আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার চূড়ান্ত রায়ে ন্যায়বিচার পেতে প্রশাসন ও সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন নিহত ফারিহার বাবা মো. হানিফ ও মা কোহিনূর বেগম।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের স্বামী ও শ্বশুরের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ফারিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। ফারিয়ার পরিবার সেই টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয় এবং এ নিয়ে একাধিকবার ফারিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
মন্তব্য করুন


তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা।
"জয় জগন্নাথ... জয় জগন্নাথ..."—হাজারো কণ্ঠের একযোগে উচ্চারিত এই ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টা-করতাল ও মহাহরিনাম সংকীর্তনের সুরে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লা নগরী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, আনন্দ আর সর্বজনীন সম্প্রীতির অপূর্ব মিলনে লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর পবিত্র উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব। এর মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসবের।
দুপুরের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের ঢল নামে। ফুল, আলোকসজ্জা ও বর্ণিল সাজে সজ্জিত মন্দির এবং সুদৃশ্য রথ যেন এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, তরুণ-বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ ভক্তিভরে অংশ নেন এই মহোৎসবে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পরিণত হয় সৌহার্দ্য, মানবতা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায়।
কুমিল্লার জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির এবং ঠাকুরপাড়াস্থ শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ গৌর-নিতাই মন্দিরভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজার্চনা, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ধর্মসভা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মহোৎসব পালিত হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে নগরীর শ্রী শ্রী গুন্ডিচা মন্দিরে সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই শুরু হয় পূজার্চনা, দর্শন-আরতি, বিশ্বশান্তি কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, ভজন-কীর্তন এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ। কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী এতে অংশ নেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জগন্নাথদেবের দর্শন গ্রহণ করেন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ধন্য মনে করেন।
দুপুরে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্টজন, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ। উদ্বোধন করেন ইসকনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসূফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমুখ।
ধর্মসভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জগন্নাথপুর শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির ইসকন কুমিল্লার সহ-সভাপতি শ্রীমান ভদ্র নিমাই দাস ব্রহ্মচারী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক শ্রী শ্যামলকৃষ্ণ সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন- মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান রূপচন্দ্র শ্যাম দাস ব্রহ্মচারী। উদ্বোধনী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করেন শ্রীমান সদা শিব সিংহ দাস ব্রহ্মচারী এবং সভাপতিত্ব করেন শ্রীমান সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী।
ধর্মসভা শেষে শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত উল্টো রথযাত্রা। কীর্তনের তালে তালে হাজারো ভক্ত রথের রশি ধরেন। "হরে কৃষ্ণ, হরে রাম" এবং "জয় জগন্নাথ" ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে কুমিল্লার প্রধান সড়ক। করতাল, মৃদঙ্গ ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে সুসজ্জিত রথ। দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ এ দৃশ্য উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে স্মরণীয় মুহূর্ত ধারণ করেন, আবার কেউ কেউ ভক্তিভরে রথকে প্রণাম জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথের রশি স্পর্শ করা কিংবা রথ টানার সুযোগ পাওয়া পরম সৌভাগ্যের বিষয়। তাই নারী-পুরুষ, শিশু, যুবক ও প্রবীণ—সবাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে রথ টেনে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করেন। অনেকের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আবেগ, আনন্দ ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির অনন্য প্রকাশ।
শোভাযাত্রায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুমিল্লা জেলা, মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবটিকে এক সর্বজনীন সম্প্রীতির বন্ধনে রূপ দেয়।
উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পর্কে বক্তারা বলেন, রথযাত্রার সময় শ্রী শ্রী জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবী মূল মন্দির থেকে গুন্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে পুনরায় নিজ মন্দিরে প্রত্যাবর্তন করেন। এই প্রত্যাবর্তনই উল্টো রথযাত্রা হিসেবে উদযাপিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মহোৎসবে অংশগ্রহণ করলে ঈশ্বরের বিশেষ কৃপা লাভ হয় এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি, কল্যাণ ও সৌভাগ্য বয়ে আসে।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), কুমিল্লার সভাপতি শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (সুদর্শন জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী) বলেন, "শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি ভক্তি, সম্প্রীতি, মানবকল্যাণ ও বিশ্বশান্তির এক অনন্য বার্তা বহন করে। সকলের অংশগ্রহণেই এই মহোৎসব আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।"
তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক অংশগ্রহণই সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম শক্তি। রথযাত্রার মতো ধর্মীয় উৎসব সমাজে সহনশীলতা, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
আয়োজকরা জানান, ভক্তদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পুরো মহোৎসব শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
নয় দিনব্যাপী এই রথযাত্রা মহোৎসবজুড়ে পূজার্চনা, ধর্মসভা, মহাহরিনাম সংকীর্তন, ভজন-কীর্তন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে ভক্তদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা, মানবসেবা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও বিশ্বশান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
দিনশেষে যখন জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রাদেবীর রথ পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে আসে, তখন ভক্তদের কণ্ঠে আবারও ধ্বনিত হয়—"জয় জগন্নাথ"। প্রার্থনায় মুখরিত হয় চারদিক। হাজারো ভক্তের বিশ্বাস, এই পবিত্র প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই নতুন আশীর্বাদ, নতুন আশা এবং মানবকল্যাণের এক চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সমাজের সর্বস্তরে। কুমিল্লার এবারের উল্টো রথযাত্রা মহোৎসব তাই শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে ভক্তি, ঐতিহ্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক অবিস্মরণীয় মহামিলনমেলায়।
মন্তব্য করুন


আওয়ামী
লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাবেক সংসদ
সদস্য, চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে
ক্লাস নিচ্ছেন প্রাণ গোপাল।
সম্প্রতি
কলেজটির ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি
জানা যায় ।
ওই
ভিডিওতে দেখা যায়, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত একটি আধুনিক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে
বক্তব্য রাখছেন। তার পেছনে থাকা ডিজিটাল বোর্ডে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিত
হচ্ছিল। শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন।
প্রাথমিক
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তিনি টনসিল বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো একটি বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের
ক্লাস নিচ্ছিলেন।
শনিবার
(২৭ জুন) ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজের এক স্টাফ নার্স জানান, বাংলাদেশি চিকিৎসক
ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত তাদের শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে তিনি এখানে
কতদিন ধরে কাজ করছেন তা সেই নার্স জানেন না।
গত
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের
বহু মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের মতো ডা. প্রাণ গোপাল দত্তও আত্মগোপনে চলে যান। দেশে তার
বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো সঠিক
তথ্য না থাকলেও, ত্রিপুরার এই মেডিকেল কলেজের ভিডিওটি সামনে আসার পর নিশ্চিত হওয়া গেল
যে তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য,বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমান নাম- বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের
(বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত
২০১২ সালে চিকিৎসা শাস্ত্রে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে
তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বর্তমানে
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দেশে কার্যত নিষিদ্ধ ও দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী যখন
পলাতক বা কারাবন্দী, তখন ভারতে ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের এই শিক্ষকতা পেশায় ফেরার ভিডিওটি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন


এইচএসসি
পরীক্ষা স্থগিত না করে শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’
বলে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ (Broiler Chicken Party) নামে একটি
প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ফেসবুকে এই নামে একটি পেজ খোলার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
‘We are the broiler generation:
Insulted by words, United by purpose’ স্লোগানে খোলা ফেসবুক পেজটিতে সন্ধ্য সাড়ে ৬টা
পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ জন ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া পেজটিতে ‘They called us
Broiler Chicken, We became a Movement’ স্লোগানও দেখা গেছে।
মঙ্গলবার
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত পেজটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন অনুসারী যুক্ত হয়েছেন। মূলত
শিক্ষার্থীদের কটাক্ষ করে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও বার্তার প্রতিবাদ হিসেবে এই ব্যঙ্গাত্মক
প্ল্যাটফর্মটি আত্মপ্রকাশ করেছে।
অনলাইন
অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, এই উদ্যোগটি ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র
(সিজেপি) আদলে তৈরি। গত মে মাসে ভারতের এক উচ্চপদস্থ ব্যক্তি তরুণদের ‘ককরোচ’
বা ‘পরজীবী’ বলে উল্লেখ করার পর সে দেশে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে
ওই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে উঠেছিল।
এদিকে
ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ
শিক্ষার্থীরা আজ দিনভর রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন।
বিকেল
পৌনে পাঁচটার দিকে সিটি কলেজের পরীক্ষার্থী মো. মিরাজ হোসেন আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আলটিমেটাম দেন।
তিনি
বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং তার অসংগতিপূর্ণ
বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
শিক্ষার্থীদের
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-গত ১৩ জুলাই বৈরী পরিবেশে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া
এবং আগামীকালের পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন রুটিন প্রকাশ করা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জরুরি বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে।
মন্তব্য করুন


চলতি
বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
সোমবার
(০৮ জুন) সচিবালয়ে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া
শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয় ও
বিভাগের অন্যান্য আয়োজন বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী
বলেন, আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। এটি পরিমার্জনের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম চলমান
রয়েছে। আগামী বছর ৪টি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন
করা হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের
পরিকল্পনা রয়েছে।
সংবাদ
সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা
শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক
(ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক
শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।
রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায়
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বৈঠকটি শুরু হয়।
এর আগে এদিন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
মো. তৌহিদ হোসেন এবং অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক
করে প্রতিনিধিদলটি।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব দপ্তরের
ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডোনাল্ড লুসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রবিষয়ক
উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে ভালো লেগেছে। আমরা আমাদের অংশীদার বাংলাদেশের সঙ্গে
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, মানবাধিকার সমুন্নত
রাখা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অন্যদিকে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের
পর বাংলাদেশ সরকার ও ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউএসএআইডি)
মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। যার আওতায় সুশাসন, সামাজিক, মানবিক ও অর্থনৈতিক খাতে বাংলাদেশকে
২০২.২৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের
রাজস্ব ও অর্থ দপ্তরের আন্তর্জাতিক অর্থায়নবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট
নেইম্যানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা আসে। এই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে
যোগ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট
সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। দিল্লি সফর শেষে তিনি একই দিন বিকেলে ঢাকায় পৌঁছেন।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর
চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামে সরকারি খাস জায়গায় এক মাদক ব্যবসায়ীর
গড়ে তোলা কুঁড়েঘরে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছে। ছোট্ট কুঁড়েঘর হলেও সেখানে বসানো
হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং পুরো আস্তানাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক
নজরদারি ক্যামেরা।
স্থানীয়দের
অভিযোগ, এই মাদক আস্তানার মূলহোতা ববিতা আক্তার সুমাইয়া (৩৫)। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায়
থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, একসময়
ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সহায়তায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের
সহযোগিতায় তা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ
সূত্রে জানা যায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তাকে
পূর্বে কয়েক দফা ইয়াবাসহ আটক করা হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কার্যক্রমে জড়িয়ে
পড়েন।
স্থানীয়দের
মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বেদে পল্লীকে কেন্দ্র করে অবাধে মাদক বিক্রির কারণে
এলাকার ছাত্র ও যুবসমাজ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা এই মাদক চক্রের পেছনের গডফাদারদের
আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
চাটখিল
পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বি কে হানিফ বলেন, অভিযুক্তের প্রভাব এতটাই বেশি যে পুলিশ,
সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা কিংবা সাধারণ মানুষ—কেউই তার বিরুদ্ধে সহজে অবস্থান নিতে
পারছে না। বহিরাগত উপস্থিতি টের পেলেই তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে।
পুলিশ
জানায়, ববিতা আক্তার সুমাইয়ার নামে থানায় সাতটি মামলা রয়েছে এবং তাকে ছয়বার আটক করা
হয়েছে। প্রতিবার জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করেন। তাকে ধরতে গিয়ে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয়দের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
চাটখিল
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মোন্নাফ জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
রয়েছে এবং সম্প্রতি তাকে আটকও করা হয়েছিল। তবে তার এ ধরনের বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি
আগে জানা ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন


নিত্য প্রয়োজনীয়
পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর ২টি কাঁচাবাজার তদারকি
করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি টিম।
আজ শুক্রবার
(১১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুরে শাহআলী সিটি কর্পোরেশন মার্কেট কাঁচাবাজার ও
শনির আখরা কাঁচাবাজারে তদারকি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদারকি কার্যক্রম চলাকালে টিম দুটি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে
মোট চার হাজার ৫শ’টাকা জরিমানা করে।
শাহ্আলী সিটি
কর্পোরেশন মার্কেট কাচাঁবাজার তদারকি টিমের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র
সহকারী সচিব মোছা. ফুয়ারা খাতুন।
এ সময় নিত্য প্রয়োজনীয়
পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, আলু, ডিম, সবজি ও মুরগীর বাজারে তদারকি করা হয়।
টিমের সদস্যরা
মূল্য তালিকা হালনাগাদ করাসহ সকল পণ্য ক্রয় ও বিক্রয়ের রশিদ যাচাই করেন।
এছাড়াও মূল্য
তালিকা সঠিকভাবে না টাঙানো, যথাযথভাবে না লেখা ও সংরক্ষণ না করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে
সতর্ক করার পাশাপাশি এক হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করে।
এ সময় দোকান মালিক ও ভোক্তারা তদারকি টিমকে জানান,
গত কয়েক দিনের তুলনায় ডিমের দাম হালি প্রতি পাঁচ টাকা কমেছে।
অপরদিকে রাজধানীর
শনিরআখড়ার কাঁচাবাজারে ডিম, পিঁয়াজ, কাঁচামরিচ, মুরগী ও চালসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয়
পণ্যের ক্রয়মূল্য ও বিক্রি মূল্য যাচাই করা হয়।
এ সময় মুরগী,
চাল, আলু, পিঁয়াজসহ ও অন্যান্য পণ্যের হালনাগাদ মূল্য তালিকা টাঙানোর বিষয়ে তাগিদ দেওয়া
হয় ।
এ সময় কয়েকটি
প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স না থাকা ও মূল্য তালিকা টাঙানো না থাকায় তিন
হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ অভিযানে বাণিজ্য
মন্ত্রণালয় ও তার আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


গৃহায়ন
ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন (Ambassador Brent T. Christensen)।
আজ
সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যকার
দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাংলাদেশের আবাসন খাত,
জাতীয় বিল্ডিং কোড, নগর উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং পাবলিক
প্লেস ও পার্কের উন্নয়নসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা
হয়।
সৌজন্য
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, তাঁর দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের হাউজিং
সেক্টরের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী বাংলাদেশে ভূমিকম্পজনিত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট
(BESRI)’ প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে
উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব
মো. আব্দুল মতিন, যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী
মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী।
মার্কিন
প্রতিনিধিদলের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পলিটিক্যাল কাউন্সিলর এরিক গিলান (Mr. Eric
Geelan), পলিটিক্যাল অফিসার জশ পোপ (Mr. Josh Pope) এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পাবলিক
ডিপ্লোমেসি সেকশনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
মন্তব্য করুন