

মজিবুর রহমান পাবেল, প্রতিবেদক:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় বাসের মালিক ইউসুফ মাঝিকে (৫১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে তাঁকে রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউসুফ মাঝির বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সিডিএম পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। বাসে আগুন লেগে যায় এবং পাশের মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলে, বাসের যাত্রী এক শিশু ও এক নারী নিহত হন। আরও ২৬ জন যাত্রী আহত হন।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ইউসুফ মাঝিকে রোববার কুমিল্লা আদালতে নেওয়া হয়। এরপর আদালতের বিচারক তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুতির এক মাস পূর্তিতে দিনটিকে
স্মরণীয় করে রাখতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘শহীদী মার্চ’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পৌনে ৪টায়
মার্চটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু হয়। এর আগে বেলা ২টা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিভিন্ন হল এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল
নিয়ে বিভিন্ন টিএসসির দিকে আসতে থাকে। এ সময় তাদের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিভিন্ন
স্লোগান দিতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে
শুরু হয়ে এই মার্চ নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, কলাবাগান, ধানমন্ডি, সংসদ ভবন, ফার্মগেট,
কারওয়ান বাজার, শাহবাগ হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ হবে।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) দুপুরে ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মার্চে শহীদদের স্মরণ
করে ছবি, উক্তিসহ বিভিন্ন স্মারক নিয়ে ছাত্র-জনতাকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেওয়ার আহ্বান
জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা নিজ
জায়গা থেকে শহীদী মার্চে অংশ নেবে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরসহ দেশের প্রতিটি
জেলা ও উপজেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শহীদী মার্চ পালনের কথা জানান। সরকার পতনের এক
মাস পূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনের শহীদদের
ছবি থাকতে পারে। যে কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব কথা প্ল্যাকার্ডে
থাকতে পারে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কী চাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
কাছে কী চাই- এসবও থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন


চট্টগ্রামের
সাতকানিয়ায় দীর্ঘ ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এনি
আক্তার নামের এক নারী।
সোমবার
(৮ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর পিপলস হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের মধ্যে তিনজন কন্যা ও
দুই পুত্র।
চিকিৎসকদের
পরামর্শে ইন্ট্রা ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতি গ্রহণ করেছিলেন এনি আক্তার ও তার স্বামী।
বহু বছর চিকিৎসা গ্রহণ করেও ব্যর্থ হওয়া এই দম্পতির জন্য ঘটনা মানবিক দিক থেকে ব্যাপক
আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পাঁচ নবজাতকই নগরীর পার্ক ভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা
কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিন শিশুর ওজন যথাক্রমে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম,
১ কেজি ৫০০ গ্রাম ও ১ কেজি ৪০০ গ্রাম। বাকি দুই কন্যাশিশুর ওজন ১ কেজি করে যা তুলনামূলক
কম হওয়ায় তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। নবজাতকদের ন্যূনতম ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে
রাখা হবে।
রাঙামাটি
মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি জানান,
এনি আক্তার বহু বছর ধরে নিঃসন্তান থাকার কষ্টে ছিলেন। তাদের সংসার পর্যন্ত ভেঙে যাওয়ার
উপক্রম হয়েছিল। আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও কষ্ট করে চিকিৎসার ব্যয় বহন করেছেন
তারা। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম সত্যিই ব্যতিক্রমী ঘটনা।
মা
এনি আক্তার বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সাতকানিয়ায় ছোট ব্যবসার সঙ্গে
যুক্ত এনি আক্তারের স্বামী সন্তানের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও, দীর্ঘদিন
পর একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের আগমনে উচ্ছ্বসিত পরিবার।
মন্তব্য করুন


ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার পদ্মা নদীতে বাল্কহেডে কাজ করার সময় নিখোঁজ হওয়া শ্রমিক আরিফ হোসেনের লাশ ছয় দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিলার চর এলাকায় নদীর পাড়ে একটি গাছের ডালে আটকে থাকা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত আরিফ হোসেন (৪৫) আলফাডাঙ্গা উপজেলার শৈলমারী গ্রামের মৃত মজিবার শেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন। আরিফ বাল্কহেডে সুকানীর কাজ করতেন।স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে কাজের সময় দুর্ঘটনাবশত আরিফ পদ্মা নদীতে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। খবর পেয়ে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ফরিদপুর থেকে ডুবুরি দলও যুক্ত হয়। তবে প্রচণ্ড শীত, তীব্র স্রোত এবং নদীর প্রায় ৩৮ ফুট গভীরতার কারণে উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে ওঠে।নিখোঁজের ছয় দিন পর নিহতের ছোট ভাই তারেক মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে নদীর পাড়ে গাছের ডালে মরদেহ আটকে থাকতে দেখে চরভদ্রাসন ফায়ার স্টেশনে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস ও নৌপুলিশের দল এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জায়েদ হোসাইন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। চরভদ্রাসন ফায়ার স্টেশনের মাস্টার মুর্তজা ফকির কালবেলা বলেন, “নিখোঁজ ব্যক্তির সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ায় উদ্ধার কাজে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। ঠান্ডার কারণে মরদেহ ভেসে উঠতেও সময় লেগেছিল।”চরভদ্রাসন থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, নৌপুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। নিহতের ভাই থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন


সদ্যসমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে বড় ধরনের প্রবাহ দেখা গেছে। এ মাসে দেশে এসেছে মোট ৩২২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১০ কোটি ৪১ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, গত ডিসেম্বর মাসে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে আসে প্রায় ২৯৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ব্যাংকভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো পেয়েছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বাধিক ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
তারিখভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে এসেছে ৪৭ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২১ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পাঠানো হয়েছে ৫৭ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। ১৪ থেকে ২০ ডিসেম্বর এসেছে ৬৬ কোটি ৪৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার, ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে আসে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং মাসের প্রথম ছয় দিনে প্রবাসীরা পাঠান ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
এর আগের মাসগুলোর চিত্রেও ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। গত নভেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স আসে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবরে এই অঙ্ক ছিল ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এছাড়া আগস্ট ও জুলাই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা টাকার অঙ্কে ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স অর্জনের রেকর্ড।
মন্তব্য করুন


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনে
জয়ী হলে কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক
মাদরাসা মাঠে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে রাজশাহীতে পদ্মা
ব্যারেজ নির্মাণ করব। আমের জন্য হিমাগার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু
হওয়া খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে গৃহীত
বিশাল সেচ প্রকল্পগুলো উত্তরবঙ্গের কৃষিকে সমৃদ্ধ করেছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘পদ্মা নদীকে কেন্দ্র করে যে বিশাল
সেচ প্রকল্পের নিজস্ব বাজেট ছিল প্রায় এক হাজার কোটি টাকা, গত ১৬ বছরে সেটি পরিকল্পিতভাবে
থামিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে আজ সেই প্রকল্প বন্ধপ্রায়। আমাদের লক্ষ্য হলো এই ঐতিহাসিক প্রকল্পটিকে
আবার পূর্ণ শক্তিতে সচল করা।’
বিএনপি চেয়ারম্যান উত্তরবঙ্গের কৃষকদের আশ্বস্ত করে
বলেন, ‘এই সেচ ব্যবস্থা শুধু রাজশাহীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই প্রকল্পের সুবিধা
রাজশাহী থেকে শুরু করে সেই পঞ্চগড় পর্যন্ত কৃষকরা যেন পায়, সেই ব্যবস্থা আমরা করব।
উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বাড়বে, আর কৃষক হাসলে হাসবে
বাংলাদেশ। আমরা চাই উত্তরের প্রতিটি প্রান্তরে সেচের পানি পৌঁছে যাক, যাতে আমাদের মায়েরা
ও কৃষানিরা সমৃদ্ধির মুখ দেখতে পান।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের সব মহিলাকে ফ্যামিলি কার্ডের
পাশাপাশি সব কৃষকদের একটি কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কৃষিঋণ, সার, বীজসহ সব
কৃষি উপকরণ পৌছে দেওয়া হবে। রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল ভোকেশন্যাল ট্রেনিং ইন্সটিউট
প্রতিষ্ঠা করা হবে।
কৃষি নির্ভর যেসব ইন্ডাস্টি প্রতিষ্ঠা করা হবে, সেখানে
সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু, হারুন উর -রশীদ, অ্যাডভোকেট
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবু সাইদ চাঁদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


ঢাকা থেকে বরিশালের মুলাদীগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি মহারাজ-৭ নোঙর করে রাখা একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় পড়ে অন্তত ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে নদীর তীরঘেঁষা অবস্থায় থাকা মালবাহী জাহাজটি সময়মতো নজরে না আসায় লঞ্চটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে লঞ্চের বাম পাশের দোতলা অংশের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে জিহাদ হোসেন নামের এক শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। লঞ্চে থাকা এক যাত্রী আবু বকর ছিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার পর দোতলার যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে নিচতলায় নেমে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন। কিছু সময় পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে লঞ্চটি আবার মুলাদীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
মন্তব্য করুন


আগামীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়বে এবং এসব সয়ে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করতে গিয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিন সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক শুদ্ধাচার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।
কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সামনে খুব ভালো সময় না, বরং কঠিন সময় আসছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধটা আমাদের বিশাল ক্ষতি করছে। সামনে তেলের দাম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বেড়ে যাবে। আমাদের এসব সয়ে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের সরবরাহ কিছুটা কম হতে পারে, কিন্তু সেই অজুহাতে পাম্প ভাঙচুর করা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আমরা 'মব' বা উশৃঙ্খল জনতাকে কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কাউকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।
এরপর কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ঝড়-বৃষ্টিতে গম ও আলুর যে ক্ষতি হয়েছে তা আমরা বুঝি। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলস কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে কয়েক কোটি নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং সেচ সুবিধার জন্য গোটা দেশে ২০ হাজার খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সমালোচনা করে এরপর তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা দেশের মানুষ পছন্দ করে না। সৎ পথে থেকে হালাল রুজি খেয়ে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেই পরকালে মুক্তি পেতে হবে, কেবল কথার মায়াজালে ধোঁকা দেওয়া যাবে না।
এসময় খাল ও নদী পুনঃখনন প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন এলজিআরডি মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সব প্রজেক্ট সময়মতো ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়াও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


নোয়াখালীর
চাটখিল উপজেলায় নতুন টিউবওয়েলে পানির সঙ্গে গ্যাস বের হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
টিউবওয়েলের মুখে দিয়াশলাই ধরতেই আগুন জ্বলে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহল ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়
সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য এক মাস আগে
তার বসতঘরের পাশে ৬০ ফুট গভীর একটি টিউবওয়েল স্থাপন করেন। টিউবওয়েল স্থাপনের পর থেকেই
পানির সঙ্গে এক ধরনের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পানি বের হওয়ার সময় বুদ বুদ শব্দ করে।
এ কারণে পানি ব্যবহার করতে পারছিল না পরিবারটি। বিষয়টি পরীক্ষা করতে আব্দুল মতিন ও
তার পরিবারের সদস্যরা দিয়াশলাই জ্বালালে টিউবওয়েলের মুখে আগুন জ্বলে ওঠে। এ ঘটনার খবর
দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম
উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এদিকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ঝুঁকি নিরূপণ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আব্দুল
মতিন বলেন, প্রথমে আমরা বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে গ্যাসের গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হলে লাইটার
দিয়ে পরীক্ষা করি, তখনই আগুন জ্বলে ওঠে। আমরা এখন আতঙ্কে আছি। দ্রুত পরীক্ষা করার জন্য
প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।
এ
বিষয়ে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে নজরে এসেছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব
নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও
তিনি জানান।
মন্তব্য করুন


ইন্সপেক্টর
জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সুহেল দাউদ
(Suhel Daud)-এর নেতৃত্বে এফবিআই'র চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল আজ বুধবার (১১ মার্চ)
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সৌহার্দ্যপূর্ণ
পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে প্রতিনিধিদলের প্রধান বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি,
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, সাইবার কমপ্লেইন সেন্টার স্থাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তদারকি,
আর্থিক অপরাধ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ
করেন।
আইজিপি
প্রতিনিধিদলের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে এফবিআই'র সঙ্গে পিবিআই, সিআইডি, এটিইউ এবং সিটিটিসিসহ
বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর
গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতকালে
উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় বাংলাদেশ
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন


সারাদেশে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম ও সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ ১৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ।
কয়েকটি চক্র রেলস্টেশনে কর্মরত অসাধু কর্মচারী, সহজ ডটকমের অসাধু কর্মকর্তা, সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করতো । এছাড়া সংরক্ষণ করা জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো এসব চক্র।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে র্যাব -৩।
গ্রেফতাররা হলেন- ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা মো. সেলিম (৫০), তার প্রধান সহযোগী মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম (৬২), অবনী সরকার সুমন (৩৫), মো. হারুন মিয়া (৬০), মো. মান্নান (৫০), মো. আনোয়ার হোসেন ওরফে ডাবলু (৫০), মো. ফারুক (৬২), মো. শহীদুল ইসলাম বাবু (২২), মো. জুয়েল (২৩) ও মো. আব্দুর রহিম (৩২)।তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তম চন্দ্র দাস (৩০), তার প্রধান সহযোগী মো. মোর্শিদ মিয়া ওরফে জাকির (৪৫), আব্দুল আলী (২২) ও মো. জোবায়েরকে (২৫) গ্রেফতার করা হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক হাজার ২৪৪টি আসনের টিকিট, ১৪টি মোবাইল ফোন এবং টিকিট বিক্রির নগদ ২০ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।তিনি বলেন, অনলাইনে বা রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে টিকিট পাওয়া না গেলেও কালোবাজারে বেশি দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়। টিকিট কালোবাজারিরা বিভিন্ন কৌশলে ট্রেনের টিকিট অগ্রিম সংগ্রহ করে অবৈধভাবে নিজেদের কাছে মজুত করে রেখে সাধারণ যাত্রীদের কাছ দেড় থেকে দুই গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ট্রেন চলাচল শুরু হয় এবং এই রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস নামের দুটি ট্রেন যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ এই ভ্রমণে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার জন্য এ রুটে ট্রেনের টিকিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। টিকেটের চাহিদা বেশি থাকায় টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্যও বেড়ে যায়; অনলাইনে বা কাউন্টারে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় এই রুটের ট্রেনের টিকিট। কিন্তু কালোবাজারিদের কাছে ২-৩ গুণ দামে টিকিট বিক্রি হতে দেখা যায়।চাহিদা অনুযায়ী টিকিট না পাওয়ার এবং টিকিট কালোবাজারিরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচিত হয়। ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও কালোবাজারিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ১৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কিছু তথ্য প্রদান করেছে ।
স্টেশনে কুলি, টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা সেলিম এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশনে উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা উত্তমের নেতৃত্বে এ চক্রটি সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে মহানগর প্রভাতী, তূর্ণা নিশিথা, চট্টলা এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি করে আসছিল। গ্রেফতার সেলিম এবং উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা প্রথমত ট্রেনের কাউন্টারে বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ যাত্রী, রেলস্টেশনের কুলি, স্টেশনের আশেপাশের এলাকার টোকাই, রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করত।
যাত্রীদের এনআইডি সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে কাটা হতো টিকিট:
এক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেককে চারটি করে টিকিট সংগ্রহ করার বিনিময়ে ১০০ টাকা করে দেওয়া হতো। এছাড়াও কাউন্টারে থাকা কিছু অসাধু টিকিট বুকিং কর্মচারীদের দিয়ে বিভিন্ন সাধারণ যাত্রীদের টিকিট কাটার সময় এনআইডি সংগ্রহ করে রাখে এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে সংরক্ষণকৃত প্রতিটি এনআইডি দিয়ে চারটি করে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে থাকে।
প্রতিদিন ৫০০ টিকিট সংগ্রহ করতো তারা:
এভাবে তারা প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক টিকিট সংগ্রহ করতো। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাউন্টারে নিজেরা লাইনে দাড়িয়ে এবং কৌশলে লাইনে অপেক্ষমান টিকিটপ্রত্যাশী সাধারণ যাত্রীদের এনআইডি ব্যবহার করে চারটি টিকিট কিনে তিনটি টিকিট নিজেরা তার কাছ থেকে টাকা দিয়ে টিকিটগুলো কিনে নিতো।
সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ:
র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ঈদ, পুজা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিশেষ ছুটির দিনকে উপলক্ষ করে গ্রেফতাররা রেলস্টেশনে কর্মরত কিছু অসাধু কর্মচারী এবং অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সার্ভার রুম ও আইটি সদস্যদের সহযোগিতায় তাদের কাছে সংরক্ষিত জনসাধারণের এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে এমনকি সার্ভার ডাউন করে তারা অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতো।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটানো হতো:
কমান্ডার মঈন বলেন, পাশাপাশি গ্রেফতাররা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে অনলাইনে টিকিট কেটে সেগুলো তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতো। গ্রেফতাররা স্টেশনে থাকা তাদের সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে কাউন্টার থেকে স্ট্যান্ডিং টিকেট সংগ্রহ করতো। এসব টিকিটের মূল্য কাউন্টারের বুকিং কর্মচারীদের সঙ্গে তারা ভাগ করে নিতো। ফলে রেলওয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে গ্রেফতাররা অবৈধভাবে বিভিন্ন পন্থায় বিপুল সংখ্যক ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতো।
গ্রেফতারকৃত সেলিম ও উত্তমের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা উপযুক্ত সময় বুঝে সংগ্রহকৃত টিকিট নিয়ে রেলস্টেশনের ভেতরে অবস্থান করে। রেলস্টেশনে এসে টিকিট না পাওয়া সাধারণ যাত্রীদের কাছে গ্রেফতাররা টিকিট বিক্রির জন্য ঘুরাঘুরি করে এবং বেশি দামে টিকিট বিক্রি করে। এছাড়াও ট্রেন ছাড়ার সময় যত সন্নিকটে আসতে থাকে তাদের মজুত করা কালোবাজারি টিকিটের দাম তত বাড়তে থাকে এবং সুযোগ বুঝে অনেক ক্ষেত্রে টিকিটের দাম দিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়।
ঈদের সময় ৪ গুণ দামে টিকিট বিক্রি:
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রেফতাররা প্রতিটি টিকেট ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে বিক্রি করে। প্রতিটি টিকিট তারা দেড় গুণ থেকে দুই গুণে বিক্রি করে এই লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ পায় গ্রেফতাররা নিতো এবং বাকি ৫০ শতাংশ কাউন্টারে থাকা বুকিং কর্মচারী ও তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহজ ডটকমের কর্মচারী-কর্মকর্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হতো।
৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে সেলিম:
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার সেলিম দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি সেলিম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় টিকিট কালোবাজারির দায়ে সাতটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগও করেছেন তিনি। সে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় আবার টিকিট কালোবাজারির কার্যক্রমে লিপ্ত হয়।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারিতে জড়িত কাশেম:
তিনি বলেন, গ্রেফতার আনোয়ার হোসেন ওরফে কাশেম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি গ্রেফতার সেলিমের অন্যতম প্রধান সহযোগী। মূলত তার দায়িত্ব ছিল কাউন্টার থেকে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা। এর আগে তিনি মাদক মামলাসহ একাধিক মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।
এছাড়াও গ্রেফতার অবনী সরকার ও হারুন মিয়ার দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। একইভাবে মান্নান এবং আনোয়ার ওরুফে ডাবলুর দায়িত্ব ছিল সিলেট এলাকার কাস্টমার সংগ্রহ করা। ফারুক এবং শহীদুল ইসলাম বাবুর দায়িত্ব ছিল ভৈরব ও কিশোরগঞ্জের কাস্টমার দেখাশোনা করা। জুয়েল এবং আব্দুর রহিমের দায়িত্ব ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আখাউড়ার যাত্রী সংগ্রহ করা। এছাড়াও গ্রেফতারদের সবার বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির মামলা রয়েছে।
১৫ বছর ধরে টিকিট কালোবাজারি করেছে উত্তম:
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার উত্তম প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত। তিনি বিমানবন্দর রেলস্টেশনের টিকিট কালোবাজারি চক্র উত্তম সিন্ডিকেটের মূলহোতা। তার সহযোগী গ্রেফতার আলী ও ফারুকসহ রাজধানীর আশকোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রেলস্টেশন এলাকায় সবসময় অবস্থান করে টিকিট কালোবাজারি চক্র গড়ে তোলে।
উত্তমের বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারির দায়ে চারটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছেন।পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবারও টিকিট কালোবাজারির কাজে লিপ্ত হন।
মন্তব্য করুন