

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গরমে অসুস্থ
হয়ে পড়েছিল একজন রিকশাচালক, ট্রাফিক পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে রক্ষা পেল রিকশাচালকের
প্রাণ। প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালানো অবস্থায় হঠাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে সড়কে পড়ে
যান ওই ব্যক্তি। এমন ঘটনা দেখে ট্রাফিক পুলিশরা দ্রুত গিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার
দিকে যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ঘটে এমন ঘটনা। জানা যায়, সেখানে দায়িত্বরত
ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর পবিত্র বিশ্বাস। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রাবাড়ী মোড়ে দায়িত্বরত
অন্যান্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় রিকশাচালকের মাথায়, চোখে ও মুখে পানি ছিটিয়ে
দেন। এরপর পুলিশ বক্স থেকে নিয়মিতভাবে সাধারণ জনগণের জন্য বিলি করা পানি ও স্যালাইন
অসুস্থ রিকশাচালককে খাওয়ালে তিনি ক্রমাগত সুস্থ হয়ে সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসেন।
সুস্থ হওয়ার পর রিকশাচালক জানান, তিনি
রিকশা চালাচ্ছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে হঠাৎ তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তখন
তিনি চলন্ত রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান। পুলিশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য তিনি তার প্রাণ
ফিরে পেয়েছেন। তা না হলে হয়তো হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যুও হতে পারতো।
এ সময় তিনি ট্রাফিক পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা
প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন


রাজধানীর
ওয়ারী থানায় প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান
নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’
তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান
শাহাদাতের আদালত এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের
আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর
আগে, আসামিকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার
তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান।
আবেদনে
বলা হয়, এই মামলায় তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি নিশাদুজ্জামান নিশাদকে জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদ
উদ্দিন আফ্রিদির সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত স্বার্থে আসামিকে
গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
আদালতে
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি
করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি
শেষে আদালত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি অনলাইন প্রতারক
চক্র ভুক্তভোগী বাদীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন।
এরপর
তারা বিভিন্ন ধাপে টাকা বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে। শুরুতে অল্প পরিমাণ অর্থ ফেরত দিয়ে
বিশ্বাস অর্জনের পর ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। পরে মুনাফাসহ অর্থ ফেরতের আশ্বাস
দিলেও ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
ওই
ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যূতি অজ্ঞাতনামা আসামি করে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করেন।
উল্লেখ্য,
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ।
এরপর
তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে
হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা চলমান।
মন্তব্য করুন


প্রধানমন্ত্রীর
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা
মাহদী আমিন বলেছেন, দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
কেবল ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে থাকবে না। বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা
উন্নয়ন এবং সুনাগরিক তৈরির অন্যতম সূতিকাগারে পরিণত হবে।
রোববার
(৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর
এই উপদেষ্টা বলেন, গত সাড়ে তিন মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে,
তার ভিত্তি প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী ভিশন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি
ম্যানিফেস্টো। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদ নির্ভর না করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক
এবং জীবনঘনিষ্ঠ করতে হবে।
তিনি
বলেন, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ,
ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কলাবোরেশন
শক্তিশালীকরণ, এপ্রেন্টিসশীপ ও ইন্টার্নশীপের সুযোগ বৃদ্ধি, ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠা
ও তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসার, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’
কর্মসূচি, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগ এবং পরিবেশ ও জনকল্যাণমূলক
কর্মকাণ্ড হিসেবে খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব
উদ্যোগের উদ্দেশ্য একটি যোগ্য, দায়িত্বশীল এবং আত্মনির্ভরশীল তরুণ প্রজন্ম গড়ে তোলা।
প্রতিমন্ত্রী
পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
দায়িত্বে রয়েছেন।
মাহদী
আমিন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
অতি স্বল্প সময়ে যে অগ্রগতি ও অর্জনের স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই পরিবর্তনের বার্তা নতুন আশার সঞ্চার করছে এবং উচ্চশিক্ষা
ব্যবস্থায় ইতিবাচক সংস্কারের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ধারাবাহিকতা বজায়
থাকলে এই অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।
তিনি
বলেন, প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, নির্বাচিত সরকারের কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন এতো
গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতির মধ্যে। দেশের সর্বাধিক শিক্ষার্থী, অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪০ লাখ ছাত্র-ছাত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ২,২৮৫টি কলেজে অধ্যয়ন করে। নারীর ক্ষমতায়নকে প্রস্ফুটিত
করে, কেবল এই বছরে বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে ৪ লক্ষেরও বেশি ছাত্রী। প্রতিবছর সর্বাধিক
সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে বের হয়ে আসে। এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে,
সেই গ্র্যাজুয়েটদের বড় একটি অংশ কর্মসংস্থান খুঁজে পায়না, ফলে শিক্ষিত বেকারত্বের বেড়াজালে
বন্দি হয়ে পড়ে। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তন মানে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন
নয়; বরং সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং লক্ষ-লক্ষ পরিবারের
ভাগ্যের পরিবর্তন। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুরো জাতির বিনির্মাণ ও অগ্রগতির প্রশ্ন।
মাহদী
আমিন বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাজধানীকেন্দ্রিক কোনো
প্রতিষ্ঠান নয়। এটি সারা দেশজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক। শহর থেকে
মফস্বল, জেলা থেকে উপজেলা, একদম তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ
মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাহন হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।
তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তিশালীকরণ মানে
প্রধানমন্ত্রীর যে রাজনৈতিক দর্শন, অর্থাৎ তৃণমূলের শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় সম্ভাবনার
বিকাশ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে সুদৃঢ়
করা।
প্রধানমন্ত্রীর
এই উপদেষ্টা বলেন, জনগণের সরকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট সমস্যার দ্রুত সমাধান
এবং মানসম্মত শিক্ষার সম্প্রসারণে বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের
পরীক্ষা ও ফলাফল প্রক্রিয়ায় ডিজিটাইজেশন, এবং বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ
ক্যাম্পাসে সেশনজট অপসারণকে প্রাধান্য দিয়ে একটি গৌরবময়, আধুনিক ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে
রূপান্তরের লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যার ইতিবাচক ফল শিগগিরই পাওয়া যাবে।
তিনি
বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় আমরা এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা বিনির্মাণ
করতে চাই, যেখানে উদ্দীপ্ত শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন দেশপ্রেম, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং
মানুষের প্রতি মমত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হবে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সক্ষমতা ও ব্যবহারিক
জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে ক্লাব
ভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন- বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাকে
উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ
নিশ্চিতকরণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট নিয়মিত আয়োজন করা হবে। শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট
অর্জনের মাধ্যম হবে না। বরং তা হবে প্রশিক্ষিত, কর্মদক্ষ, সৃজনশীল ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন
নাগরিক তৈরির প্রধান ভিত্তি।
তিনি
বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়নের সেই পথযাত্রায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের কাছে শুধুই একটি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়। বরং গণমানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষা ও অনুভূতির প্রতীক। কারণ, ১৯৯২
সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত
এই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, সাধারণ মানুষের
দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষায় বৈষম্যহীনতার মাধ্যমে সমতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষার মাধ্যমে জাতির অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা।
দেশনেত্রীর
পরিকল্পনার যথার্থতা আমরা আশেপাশের দেশগুলোর দিকে তাকালেই দেখতে পাই। বিভিন্ন দেশের
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তাদের ন্যাশনাল ডেভলপমেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
National শব্দটি সেখানে কেবল নামের অংশ নয়; বরং জাতীয় উৎকর্ষ, চরিত্র গঠন ও নেতৃত্বের
প্রতীক।
তিনি
বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময়ে রাষ্ট্র কাঠামোর অন্যান্য অংশের মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকেও
ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, ধুলিস্যাৎ করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যকেও।
দেশের সর্ববৃহৎ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এমনভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যেখান থেকে কর্মসংস্থান
ও স্বনির্ভরতার সুযোগ ছিল অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ও হতাশাজনক। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে
জাতীয় ঐতিহ্য, তারুণ্যের অপার সম্ভাবনা ও গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে
নিয়ে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী
কর্মপরিকল্পনা। আমরা বিশ্বাস করি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুনভাবে তার ঐতিহাসিক দায়িত্ব
পালন করবে। দেশের প্রান্তিক জনপদ থেকে উঠে আসা লক্ষ-লক্ষ শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রিধারী
নয়; বরং কর্মদক্ষ, সৃজনশীল, প্রযুক্তিবান্ধব ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে
তুলবে। তারা হবে আগামীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং
জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক,
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ প্রমুখ।
মন্তব্য করুন


প্রায়
দুই বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বসবাস গ্রামের
শতবর্ষী কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে আস্তানা গড়ে তুলেছেন গয়াছ মিয়া (৩৫) নামে এক হত্যা
মামলার প্রধান আসামি। মাথায় সাদা পাগড়ি, হাতে লোহার রড- নিজেকে ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’
পরিচয় দিচ্ছেন গয়াছ মিয়া। স্থানীয়রা বলছেন, এই আস্তানা ঘিরে চালানো হয় মাদকসেবন ও নানা
অসামাজিক কর্মকাণ্ড।
জানা
গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া প্রায় এক বছর ধরে
গ্রামের শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের একটি বড় গাছের নিচে বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি দোতলা
ঘরে বসবাস করছেন। মাথায় সাদা পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করেন। নিজেকে পরিচয়
দেন একজন ‘পীর’ হিসেবে।
২০২০
সালের ৪ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করেন গয়াছ মিয়া।
এতে জাকির হোসেন নামে একজন নিহত হন। গুরুতর আহত হন জিহান মিয়া নামে আরেকজন। পরে পুলিশ
গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। কিছুদিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এলাকাবাসীর
অভিযোগ, ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়ে কবরস্থানের নির্জন জঙ্গলে তিনি
আস্তানা গড়ে তুলেছেন। সেখানে গাঁজা-মদের আসরসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
এতে করে স্থানীয় বাসিন্দা, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি
হয়েছে।
গত
১৭ জুন এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার
(ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে গয়াছ মিয়ার আস্তানা উচ্ছেদ, কবরস্থান রক্ষা এবং মসজিদের
সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানানো হয়।
বাজিতপুর
গ্রামের এক বাসিন্দা গণমাধ্যমকে, গয়াছ মিয়া কবরস্থানে আস্তানা গড়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র
নিয়ে চলাফেরা করেন। তার ভয়ে এলাকার চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা
করে।
সদর
ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, হত্যা মামলার প্রধান
আসামি হিসেবে পরিচিত গয়াছ মিয়া জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কবরস্থান এলাকার জঙ্গলে বসবাস
শুরু করেন। তার হাতে প্রায়ই লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা ওই পথ
দিয়ে যাতায়াতে ভয় পাচ্ছে।
বাজিতপুর
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় মাদকসেবী
ও জুয়াড়িদের আনাগোনা দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয়দের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজিতপুর
জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, পবিত্র কবরস্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয়
ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এদিকে
নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়াছ মিয়া। তার দাবি, স্বপ্নে এক অলি-আউলিয়ার
নির্দেশ পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি কোনো মাদক বা জুয়ার আসর পরিচালনা করেন
না। বরং আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় কাটান এবং মানুষের উপকারের চেষ্টা করেন।
তিনি
আরও দাবি করেন, কিছু লোক তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে এবং ভিটেমাটি বিক্রি করে দিয়েছে।
ফলে আশ্রয়হীন হয়ে তিনি কবরস্থানের জঙ্গলে বসবাস করছেন।
গয়াছ
মিয়ার ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া জাকির হোসেনের বাবা রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনা
নিয়ে গয়াছ আমার ছেলেকে খুন করেছে। কিন্তু বুঝতে পারছি না কীভাবে মাত্র দুই বছর পরই
সে জামিনে বের হয়ে গেল? এখন এলাকায় আমাকে দেখলেই সে নানা হুমকি-ধমকি দেয়, অকথ্য গালমন্দ
করে। আমার এক ছেলে খুন হয়েছে, তাই ভয়ে এখন আর কিছু করতে চাই না। ছোট ছেলে গ্রিস থেকে
কিছুদিন আগে বাড়িতে এসেছে, তাকেও সে হুমকি দিয়েছে।
গয়াছ
মিয়ার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং জমি দখলের দাবির বিষয়ে তিনি জানান, তার ঘরবাড়িতে কেউ
আগুন দেয়নি এবং জায়গা-জমিও কেউ জোরপূর্বক বিক্রি করেনি।
দোয়ারাবাজার
থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে বলেন, কিছু লোকজন গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে
মাদকসংক্রান্ত ও অন্যান্য অভিযোগ করেছেন। আবার অনেকে বলছেন তিনি বন বিভাগের জায়গায়
আছেন। জায়গার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে। আর মাদকের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে
আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি অনেক আগের ঘটনা। খোঁজখবর
না নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না।
এ
বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ সাংবাদিকদের
বলেন, থানার ওসি এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব
তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন


সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শোক বার্তায় তিনি বলেন, জাতি একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় রাজনীতিবিদকে হারালো।
আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান- জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
বার্তায় শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। চিকিৎসক ও জনসেবক হিসেবে বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সুদীর্ঘ ও বহুল সম্মানিত কর্মজীবনের কথা স্মরণ করেন তিনি।
ডা. বদরুদ্দোজা দেশের একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক হিসেবে সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিটিভিতে তার ‘আমার ডাক্তার’ অনুষ্ঠানটি কোটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয় ছিল।
‘রাজনীতিতেও একই নিষ্ঠা নিয়ে এসেছিলেন ডা. বদরুদ্দোজা। পাঁচবারের সংসদ সদস্য হিসেবে নব্বইয়ের দশকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সংসদে তার বক্তব্য সব মতের রাজনীতিবিদদের কাছে প্রশংসনীয় ছিল,’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন।
ডা. বদরুদ্দোজা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দেশের সেবা করেছেন। তিনি তার উদারতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।
ডা. বদরুদ্দোজার জীবন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সবাইকে জনগণ ও গণতন্ত্রের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
মন্তব্য করুন


শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভবন অবকাঠামোতে শৃঙ্খলা আনতে নতুন করে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন প্রমুখ।
নির্মাণে ত্রুটি ও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে ভবনে আগুন লাগে জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, আগুন লাগার মূল কারণ বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট। যে ইলেকট্রিক ক্যাবল ব্যবহার করা হয় তার মান ভালো না, এই ক্যাবলের মান যেন ভালো হয় সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া অনেকগুলো ভবনের অবকাঠামো ভালো না। রানা প্লাজায় যে ঘটনা ঘটেছিলো, ভবনটা ধসে পড়ে। তার অবকাঠামোর পরিকল্পনা পাস করা হয় নাই। সেখানেও আমরা ব্যবস্থা করছি।
বিএসটিআইকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একটা প্রতিরোধমূলক অবকাঠামো করা প্রয়োজন। ঘটনা ঘটার আগে যেন আমরা তা প্রতিরোধ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, অগ্নি নির্বাপণের যন্ত্রপাতি আগে আমদানি করতে হতো। তবে ইসাব (ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জানিয়েছে এখন ফায়ার বল ও ক্যাবল দেশে তৈরি করছে। কিছুটা আমরা এক্সপোর্টও করছি। দেশে এই ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। নতুন আইন করছি সেটা হলো বাংলাদেশ বিল্ডিং কোড। আইন অনুযায়ী রেগুলেটরি অথরেটি তৈরি হবে, সেটা এখনো হয় নাই। তবে তা তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করবো। এটা হয়ে গেলে প্রতিরোধমূলক কাজগুলো ওই রেগুলেটরি অথরিটির মাধ্যমে করবো।
ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর আয়োজন করছে ইসাব। প্রদর্শনীতে বিশ্বের ৩০টি দেশের শতাধিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে, যারা তাদের ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটির অত্যাধুনিক পণ্যগুলো প্রদর্শন করছে।
ইসাব সভাপতি নিয়াজ আলি চিশতি বলেন, দেশের অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে অগ্নি ঝুঁকিসহ নিরাপত্তার বিষয়টি ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে অগ্নি নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম অগ্নি ঝুঁকি কমাতে নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ এ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, অগ্নি নিরাপত্তার সরঞ্জামগুলো দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য এ খাতে উদ্যোক্তার নীতি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।
মন্তব্য করুন


নেকবর হোসেন , কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদক বিক্রির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।সোমবার (১৮ মে) রাতে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১১ কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু।
গ্রেপ্তার আসামির জহির ইসলাম ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জাপর আলীর ছেলে। নিহত হিজড়ার নাম এনামুল হক শিশির (২৯)।
র্যাব জানায়, গত ১৩ মে সকালে বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি টিনশেড বাসায় এনামুল হক শিশির (২৯) নামে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তির হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে ভোরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেখানে জহিরকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু জানান, নিহত শিশির ও আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করতেন। তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। তারা নিহত শিশির ও আসামিদের বিরুদ্ধে পূর্বের মাদক মামলাও রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও বাকি কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অনেক এলাকায় আজ সোমবার ছিল কুয়াশায় ঢাকা। রাজধানীতে এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে আজ সকালে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রায় সব জেলাসহ মোট ২১ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে সূর্য উঁকি দিলেও কুয়াশার কাটাতে পারেনি সেভাবে। ফলে শীত জেঁকে ধরেছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেছেন, আজ ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ঢাকায় এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াম কমেছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জনিয়েছে, গতকাল রবিবার দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। আগামী পরশু বুধবার দেশের কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে।
আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে, আট দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল একযোগে তিন স্থানে। সেই স্থানগুলো হলো রাজশাহী, ঈশ্বরদী ও বদলগাছী। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মন্তব্য করুন


ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১১ নারীকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে
পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে তাদের আটক করা
হয়।
বিষয়টি
নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম মিয়া জানান, গোপন
তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ওই নারীদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবার বাড়ি জেলার
নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল গ্রামে।
পুলিশের
দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া নারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রী সেজে চলাচল করতেন।
সুযোগ বুঝে নারী যাত্রীদের গলার চেইন, কানের দুলসহ স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
রেলওয়ে
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন
থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো
হয়েছে।
এ
ধরনের অপরাধ দমনে রেলওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান
তিনি।
মন্তব্য করুন


কুমিল্লাকে
বিভাগ করার দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার
বেলা দেড়টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত পথসভায় কুমিল্লা
বিভাগ চেয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এ
ঘোষণা দেন।
তিনি
বলেন, “এই দাবিটি যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, ইনশাল্লাহ সেটি বাস্তবায়ন হবে।”
একই
সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে অল্প কিছুদিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর
সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন সরকারপ্রধান।
বেলা
সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী পথসভা মঞ্চে উঠলে সমর্থকরা মুহুর্মুহু করতালির মাধ্যমে তাকে
অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
পথসভায়
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন কুমিল্লাবাসীর তরফে ‘কুমিল্লা’
নামে কুমিল্লা বিভাগ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন। এ সময় কর্মীরা
তুমুল করতালি দিয়ে কৃষিমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।
একইভাবে
স্থানীয় সংসদ সদস্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লাকে বিভাগ
করা, কুমিল্লা সদর হাসপাতালকে আড়াইশ’ বা তিনশ’
শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান।
প্রধানমন্ত্রীর
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান চাঁদপুরে
যাচ্ছেন। পথিমধ্যে এই পথসভায় অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।”
এদিন
সকাল ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ব্যানার-ফেষ্টুন নিয়ে এই পথসভায় সমবেত
হতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে লক্ষীপুর বাজার মাঠের পথসভাটি হাজারো নেতাকর্মীর
উপস্থিতিতে সমাবেশে রূপ নেয়।
সরকারপ্রধান
এদিন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারের ‘খোর্দ্দ খাল’
পুনঃখনন এবং সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুলি গ্রামে বিশ্ব খাল পুনঃখনন
কাজের সূচনা করবেন।
এরপর
চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন তারেক রহমান। এছাড়া চাঁদপুর ক্লাবে
স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
মন্তব্য করুন


বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার মিরপুরে গুলিবিদ্ধ তাহের মোক্তার হোসেন এর ছেলে মোঃ রাফি হোসেন (১৪) এর ঢাকা সিএমএইচে সফল অস্ত্রপ্রচার করা হয়।
রাফি হোসেন গত ১৯ জুলাই ডান কাঁধে গুলিবদ্ধ হন এবং তার ডান কাঁধের হাড় ও ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এপ্রেক্ষিতে, তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে অপারেশন করা হয়। পরবর্তীতে কিছু জটিলতা দেখা দিলে হৃদরোগ ইনিস্টিউট ও ঢাকা সিএমএইচ এর চিকিৎসকগণের আলোচনার ভিত্তিতে তাকে গতকাল (২৫ আগস্ট ২০২৪) দিবাগত রাতে ঢাকা সিএমএইচ এ আনা হয় এবং দ্রুততার সাথে দীর্ঘ ৬ ঘন্টা সময় ধরে সিএমএইচের ভাস্কুলার টিম কর্তৃক সফলভাবে কৃত্রিম রক্তনালী সংযোজনের মাধ্যমে অস্ত্র প্রচার করা হয়। বর্তমানে মোঃ রাফি হোসেন আশঙ্কা মুক্ত।
অপরজন মিরপুর কলেজের ছাত্র হারুন মিয়া এর ছেলে মোঃ মমিন হোসেন (২৩) গত ১৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে গুলিবিদ্ধ হয় এবং গুলিটি তার মেরুদণ্ডের পিছনে আটকে যায়। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে তাকে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয় এবং ল্যাপারস্কপির মাধ্যমে ২৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অপারেশন করে গুলি বের করা হয়। বর্তমানে মোঃ মমিন হোসেন ভালো আছে।
মন্তব্য করুন